শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬, ২ শ্রাবণ ১৪৩৩
শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬, ২ শ্রাবণ ১৪৩৩

ইরানে হামলা স্থগিত করলেন ট্রাম্প

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২১ মে, ২০২৬, ১০:৩০ পূর্বাহ্ণ
ইরানে হামলা স্থগিত করলেন ট্রাম্প

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, উপসাগরীয় দেশগুলোর অনুরোধে তিনি মঙ্গলবারের জন্য ইরানে নতুন সামরিক হামলা স্থগিত রেখেছেন, কারণ গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা চলছে’।
নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে তিনি জানান, কাতার, সৌদি আরব এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের নেতারা তাকে এ অনুরোধ করেছিলেন।

তিনি বলেন, তাকে জানানো হয়েছে যে এমন একটি চুক্তি হবে, যা যুক্তরাষ্ট্রের জন্য ‘খুবই গ্রহণযোগ্য’ হবে। একই সঙ্গে তিনি জোর দিয়ে বলেন, ইরানের কাছে কোনো পারমাণবিক অস্ত্র থাকবে না!’

তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, গ্রহণযোগ্য কোনো চুক্তি না হলে যুক্তরাষ্ট্র মুহূর্তের নোটিশে পূর্ণমাত্রার বৃহৎ হামলা চালাতে প্রস্তুত থাকবে।’

ইরানের একজন জ্যেষ্ঠ সামরিক কমান্ডার যুক্তরাষ্ট্রকে সতর্ক করেছেন, তারা যেন আবার কৌশলগত ভুল ও ভুল হিসাব’ না করে।

ট্রাম্পের এই নতুন ঘোষণা এমন এক সময়ে এলো, যখন তার জনপ্রিয়তা কমছে এবং জনমত জরিপে দেখা যাচ্ছে, যুদ্ধটি দেশে ক্রমেই অজনপ্রিয় হয়ে উঠছে।

সোমবার প্রকাশিত নিউ ইয়র্ক টাইমস/সিয়েনা জরিপ অনুযায়ী, ৬৪ শতাংশ ভোটার মনে করেন, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধে যাওয়ার সিদ্ধান্তটি ভুল ছিল।

জরিপে আরও বলা হয়েছে, প্রেসিডেন্ট হিসেবে ট্রাম্পের কাজের অনুমোদন হার মাত্র ৩৭ শতাংশ। এই ফলাফল ইঙ্গিত করছে যে, যুদ্ধ, অর্থনীতি ও অভিবাসনসহ বিভিন্ন ইস্যুতে জনগণের বাড়তে থাকা অসন্তোষের মধ্যে মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকানদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ অপেক্ষা করছে।

২৮ ফেব্রুয়ারি ইসরায়েলি ও মার্কিন বাহিনী ইরানের ওপর ব্যাপক বিমান হামলা শুরু করে। এর জবাবে তেহরান উপসাগরীয় বিভিন্ন দেশে অবস্থিত ইসরায়েলি ও মার্কিন লক্ষ্যবস্তুতে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়।

এক্ষেত্রে একটি বড় উদ্বেগ হলো, যুক্তরাষ্ট্রের নতুন হামলার পর ইরান কীভাবে প্রতিশোধ নিতে পারে—তা নিয়ে উপসাগরীয় আরব দেশগুলোর আশঙ্কা।

ধারণা করা হচ্ছে, ইরানের কাছে এখনো বিপুল সংখ্যক ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র রয়েছে, যা দিয়ে তারা প্রতিবেশী দেশগুলো, তাদের বিমানবন্দর, পেট্রোকেমিক্যাল স্থাপনা এবং এমনকি গ্রীষ্মের তীব্র তাপে পানীয় জলের প্রধান উৎস হিসেবে ব্যবহৃত লবণমুক্তকরণ কেন্দ্রগুলোতেও হামলা চালাতে পারে।

পরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প বলেন, এটি খুবই ইতিবাচক একটি অগ্রগতি, তবে দেখা যাক এর বাস্তব কোনো ফল হয় কি না।’

তিনি বলেন, আগেও এমন সময় এসেছে যখন আমরা ভেবেছিলাম চুক্তির খুব কাছাকাছি পৌঁছে গেছি, কিন্তু তা সফল হয়নি। তবে এবার পরিস্থিতি কিছুটা ভিন্ন।’

ট্রাম্প বলেন, ইরানের সঙ্গে একটি সমঝোতার খুব ভালো সম্ভাবনা’ রয়েছে। তিনি আরও বলেন, ‘তাদের ওপর ব্যাপক বোমাবর্ষণ না করেই যদি আমরা এটি করতে পারি, তাহলে আমি খুবই খুশি হব।’

এপ্রিল মাসে আলোচনার সুবিধার্থে যে যুদ্ধবিরতি হয়েছিল, তা মাঝেমধ্যে বিচ্ছিন্ন গোলাগুলি সত্ত্বেও মোটামুটি বহাল ছিল।

ইরান এখনো হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ ধরে রেখেছে। ফলে কার্যত এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ বন্ধ রয়েছে। বিশ্বে পরিবাহিত মোট তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের প্রায় ২০ শতাংশ এ পথ দিয়ে যায়।

ইরান জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার প্রতিক্রিয়ায় এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। ফলে বিশ্ববাজারে তেলের দাম ব্যাপকভাবে বেড়ে গেছে।

অন্যদিকে, তেহরানকে নিজেদের শর্ত মেনে নিতে চাপ দিতে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বন্দরগুলোর ওপর অবরোধ কার্যকর করেছে।

সোমবার গভীর রাতে ইরানের তাসনিম সংবাদ সংস্থা সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির বক্তব্য বলে যে মন্তব্য প্রকাশ করে, তাতে সতর্ক করা হয় যে নতুন যুদ্ধক্ষেত্র খুলে দেওয়া হবে, যেখানে শত্রুর অভিজ্ঞতা খুব কম এবং তারা অত্যন্ত দুর্বল অবস্থায় থাকবে।

তাসনিমের প্রকাশিত মন্তব্যগুলো ১২ মার্চের বক্তব্য থেকে পুনঃপ্রচার করা হয়েছে বলে মনে হয়। ইরানের কিছু সংবাদমাধ্যম আগের লিখিত বার্তাগুলো পুনরায় প্রকাশ করছে।

এর আগে সোমবার ইরান জানায়, তারা যুক্তরাষ্ট্রের সর্বশেষ প্রস্তাবের জবাব দিয়েছে এবং পাকিস্তানি মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে ওয়াশিংটনের সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে।

ইরানের গণমাধ্যম এর আগে জানিয়েছিল, যুক্তরাষ্ট্র তেহরানকে কোনো সুস্পষ্ট ছাড় দেয়নি।

রোববার ট্রাম্প সতর্ক করে বলেন, ‘ইরানের জন্য সময় দ্রুত ফুরিয়ে যাচ্ছে। তাদের দ্রুত এগোতে হবে, নইলে তাদের কিছুই অবশিষ্ট থাকবে না।’

কয়েক দিন আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেছিলেন, তেহরানের দাবিগুলোকে ‘সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য’ আখ্যা দিয়ে প্রত্যাখ্যান করার পর যুদ্ধবিরতি ‘অত্যন্ত সংকটাপন্ন অবস্থায়’ রয়েছে।

ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই জোর দিয়ে বলেন, তাদের দাবিগুলো ছিল ‘দায়িত্বশীল’ এবং ‘উদার’।

ইরানের আধা-সরকারি তাসনিম সংবাদ সংস্থার তথ্যমতে, তেহরানের দাবির মধ্যে ছিল—সব ফ্রন্টে অবিলম্বে যুদ্ধ বন্ধ করা, যা লেবাননে ইরান-সমর্থিত হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে চলমান ইসরায়েলি হামলার প্রতি ইঙ্গিত করে; ইরানি বন্দরগুলোর ওপর মার্কিন নৌ অবরোধ প্রত্যাহার; এবং ইরানের বিরুদ্ধে ভবিষ্যতে আর কোনো হামলা না চালানোর নিশ্চয়তা।

এ ছাড়া যুদ্ধের ক্ষয়ক্ষতির জন্য ক্ষতিপূরণ এবং হরমুজ প্রণালির ওপর ইরানের সার্বভৌম অধিকার স্বীকারের দাবিও এতে অন্তর্ভুক্ত ছিল বলে জানা গেছে।

ইরানের আধা-সরকারি ফারস সংবাদ সংস্থা রোববার জানায়, তেহরানের প্রস্তাবের জবাবে ওয়াশিংটন পাঁচটি শর্ত দিয়েছে।

এসব শর্তের মধ্যে ছিল—ইরান কেবল একটি পারমাণবিক স্থাপনা চালু রাখতে পারবে এবং তাদের উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত যুক্তরাষ্ট্রের কাছে হস্তান্তর করতে হবে।

শুক্রবার ট্রাম্প বলেন, ইরান যদি তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি ২০ বছরের জন্য স্থগিত রাখে, তবে তিনি তা মেনে নিতে পারেন। দুই দেশের মধ্যে এটি ছিল অন্যতম প্রধান বিরোধের বিষয়, এবং এ বক্তব্যে কর্মসূচির সম্পূর্ণ সমাপ্তির দাবি থেকে তার অবস্থানের পরিবর্তনের ইঙ্গিত পাওয়া যায়।

যুক্তরাষ্ট্র ও তাদের ইউরোপীয় মিত্ররা দাবি করে, ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের মাধ্যমে ইরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির চেষ্টা করছে। তবে তেহরান বারবার বলে আসছে, তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ উদ্দেশ্যে পরিচালিত হচ্ছে।

সূত্র: বিবিসি।

Ads small one

সাতক্ষীরায় ‘অদম্য জুলাই’ কর্মসূচিতে ছাত্রশিবিরের বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৭ জুলাই, ২০২৬, ৭:৫৯ অপরাহ্ণ
সাতক্ষীরায় ‘অদম্য জুলাই’ কর্মসূচিতে ছাত্রশিবিরের বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ

সংবাদদাতা: গণহত্যার বিচার, জুলাই সনদের পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন এবং জুলাই ঘোষণাপত্র কার্যকরের দাবিতে দেশব্যাপী ঘোষিত ‘অদম্য জুলাই’ কর্মসূচির অংশ হিসেবে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির সাতক্ষীরা জেলা শাখার উদ্যোগে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শুক্রবার (১৭ জুলাই) বিকেল সাড়ে ৪টায় কলারোয়া সরকারি কলেজ প্রাঙ্গণ থেকে বিক্ষোভ মিছিলটি শুরু হয়। মিছিলটি উপজেলার প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে উপজেলা চত্বরে সমাবেশের মাধ্যমে শেষ হয়।

সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির সাতক্ষীরা জেলা সভাপতি মো. জুবায়ের হোসেন। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের সাবেক জেলা সভাপতি মো. জিয়ারুল ইসলাম জিয়া। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন জেলা সেক্রেটারি মো. নাজমুল ইসলাম।

এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন জেলা অফিস সম্পাদক নাহিদ হাসান, জেলা অর্থ সম্পাদক আবু বক্কর সিদ্দিক, জেলা মাদ্রাসা সম্পাদক, জেলা বিজ্ঞান সম্পাদক ফয়সাল হোসেন, জেলা সহকারী অফিস সম্পাদক আহসান হাবীব ইমরোজ, কলারোয়া পৌর সভাপতি মোস্তাকিম বিল্লাহ, কলারোয়া পূর্ব সভাপতি আবু বকর সিদ্দিক, কলারোয়া পশ্চিম সভাপতি আবু রায়হানসহ জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের বিভিন্ন নেতাকর্মী।

সমাবেশে বক্তারা বলেন, শহীদ ও আহত ছাত্র-জনতার আত্মত্যাগের বিনিময়ে বর্তমান সরকার ক্ষমতায় এসেছে। তাই শহীদদের রক্তের সঙ্গে বেইমানি না করে অবিলম্বে জুলাই সনদের পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন এবং গণহত্যার বিচার নিশ্চিত করতে হবে।

তারা আরও বলেন, এসব দাবি বাস্তবায়ন না হলে ছাত্র-জনতা আবারও জুলাই অভ্যুত্থানের মতো ঐক্যবদ্ধ হয়ে রাজপথে নামতে বাধ্য হবে। ছাত্র-জনতা পুনরায় মাঠে নামলে সেই পরিস্থিতি সামাল দেওয়া সরকারের জন্য কঠিন হয়ে পড়বে বলেও বক্তারা মন্তব্য করেন।

সমাবেশে বক্তারা গণহত্যার বিচার, জুলাই সনদের পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন এবং জুলাই ঘোষণাপত্র দ্রুত কার্যকরের দাবি জানিয়ে এসব দাবিতে শান্তিপূর্ণ গণতান্ত্রিক কর্মসূচি অব্যাহত রাখার ঘোষণা দেন।

দৈনিক দৃষ্টিপাত সম্পাদক জি এম নূর ইসলামের সুস্থতা কামনায় দোয়া মাহফিল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৭ জুলাই, ২০২৬, ৭:৪০ অপরাহ্ণ
দৈনিক দৃষ্টিপাত সম্পাদক জি এম নূর ইসলামের সুস্থতা কামনায় দোয়া মাহফিল
নিজস্ব প্রতিনিধি: সাতক্ষীরা জেলা নাগরিক অধিকার ও উন্নয়ন সমন্বয় কমিটি এবং মাসজিদে কুবার উদ্যোগে দৈনিক দৃষ্টিপাত সম্পাদক, মাসজিদে কুবা ও সাতক্ষীরা জেলা নাগরিক অধিকার ও উন্নয়ন সমন্বয় কমিটির সভাপতি জি এম নূর ইসলামের দ্রুত সুস্থতা কামনায় দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শুক্রবার বাদ জুমা মাসজিদে কুবা প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত এ দোয়া মাহফিলে সভাপতিত্ব করেন মসজিদের প্রতিষ্ঠাতা উপদেষ্টা তৈয়ব হাসান। সঞ্চালনা করেন মসজিদের ইমাম মাওলানা মাহমুদুর রহমান। দোয়া পরিচালনা করেন প্রবীণ আলেম ও মসজিদের উপদেষ্টা হযরত মাওলানা মো. রজব আলী।
এ সময় বক্তব্য দেন মাসজিদে কুবার সহ-সভাপতি মাওলানা মাহমুদুল হাসান। বক্তারা বলেন, জি এম নূর ইসলাম দীর্ঘদিন ধরে সাংবাদিকতা, সামাজিক উন্নয়ন এবং নাগরিক অধিকার প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে আসছেন। তাঁর দ্রুত সুস্থতা কামনা করে মহান আল্লাহর কাছে বিশেষ মোনাজাত করা হয়।
দোয়া মাহফিলে মসজিদ কমিটির সদস্যবৃন্দ, সাতক্ষীরা জেলা নাগরিক অধিকার ও উন্নয়ন সমন্বয় কমিটির নেতৃবৃন্দ এবং স্থানীয় মুসল্লিরা উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে গত সপ্তাহে জি এম নূর ইসলামকে ঢাকার ধানমন্ডিস্থ পপুলার মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরবর্তীতে তাঁকে হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) নেওয়া হয়। বর্তমানে তাঁর শারীরিক অবস্থার কিছুটা উন্নতি হয়েছে বলে পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে।
দোয়া মাহফিল থেকে তাঁর দ্রুত ও পূর্ণ সুস্থতার জন্য দেশবাসীর কাছে দোয়া কামনা করা হয়।

বুদ্ধির খেলা দাবা/ প্রকাশ ঘোষ বিধান

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৭ জুলাই, ২০২৬, ৭:৩১ অপরাহ্ণ
বুদ্ধির খেলা দাবা/ প্রকাশ ঘোষ বিধান

প্রকাশ ঘোষ বিধান

দাবা খেলা মস্তিষ্কের জন্য অত্যন্ত কার্যকরী একটি ব্যায়াম। এটি মানুষের চিন্তাশক্তি, স্মৃতিশক্তি ও সমস্যা সমাধানের দক্ষতা বাড়িয়ে মানসিক বিকাশ ঘটায় এবং মনকে গভীরভাবে শাণিত করে। নিয়মিত দাবা খেললে মস্তিষ্কের কার্যকারিতা, সমস্যা সমাধানের দক্ষতা ও একাগ্রতা বৃদ্ধি পায়। এটি মানুষের দূরদর্শিতা এবং দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা করার ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে।

দাবা মস্তিষ্কের উন্নতি সাধন করে, একাগ্রতা ও মনোযোগ বৃদ্ধি করে। দাবায় প্রতিপক্ষের পরবর্তী চাল অনুমান করতে ও নিজের কৌশল সাজাতে গভীর মনোযোগের প্রয়োজন হয়, যা দৈনন্দিন জীবনের অন্যান্য কাজেও মনোযোগ বাড়াতে সাহায্য করে। বিভিন্ন চাল ও প্যাটার্ন মনে রাখার ফলে স্মৃতিশক্তি প্রখর হয় এবং আইকিউ বা বুদ্ধাঙ্ক বাড়াতে এটি ইতিবাচক ভূমিকা রাখে। দাবা খেলা শেখায় ঘোড়া, হাতি, মন্ত্রী ইত্যাদি দিয়ে সর্বোচ্চ কৌশল প্রয়োগ করতে হয়, যা বিশ্লেষণাত্মক ও যৌক্তিক চিন্তাশক্তি উন্নত করে।

প্রতি বছর ২০ জুলাই আন্তর্জাতিক দাবা দিবস পালিত হয়। ১৯২৪ সালের এই দিনে ফ্রান্সের প্যারিসে আন্তর্জাতিক দাবা ফেডারেশন গঠিত হয়। পরবর্তীতে ইউনেস্কো এর প্রস্তাবে ১৯৬৬ সাল থেকে ফিডে-এর উদ্যোগে দিনটি বিশ্বব্যাপী উদযাপিত হয়ে আসছে।

দাবা হলো প্রাচীন ও জনপ্রিয় একটি কৌশলগত বোর্ড গেম। ৬৪ খোপের একটি বোর্ডে দুজন খেলোয়াড় বিপরীত রঙের গুটি সাদা ও কালো গুটি দিয়ে খেলেন। এর মূল উদ্দেশ্য হলো নিজের রাজাকে সুরক্ষিত রেখে প্রতিপক্ষের রাজাকে এমনভাবে ফাঁদে ফেলা, যাতে পালানোর কোনো পথ না থাকে। দাবায় দুই খেলোয়াড়ের কাছে মোট ৩২টি ঘুঁটি থাকে। প্রতিটি গুটির চাল আলাদা। সৈন্য: সামনে সোজা এক ঘর যায়। প্রথম চালে দুই ঘরও যেতে পারে, কিন্তু অন্য গুটিকে কোণাকোণি মারে। নৌকা: সোজা বা পাশাপাশি যত ঘর খুশি যেতে পারে। ঘোড়া: এল আকারে আড়াই ঘর চলে এবং অন্য ঘুঁটির ওপর লাফিয়ে যেতে পারে। হাতি: কোণাকোণি যত ঘর খুশি চলতে পারে। মন্ত্রী: সোজা, পাশাপাশি ও কোণাকোণি যত ঘর খুশি যেতে পারে। রাজা: সব দিকে এক ঘর চলতে পারে।

দাবা খেলায় প্রতিটি চাল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একটি ভুল চালের কারণে পুরো ম্যাচ হারতে হতে পারে। দাবায় কেবল নিজের চাল দিলেই চলে না, প্রতিপক্ষের পরবর্তী সম্ভাব্য চালগুলো কী হতে পারে তা আগে থেকেই অনুমান করতে হয়। তাই খেলোয়াড়কে দীর্ঘ সময় বোর্ডের দিকে সম্পূর্ণ মনোযোগ ধরে রাখতে হয়। মানুষের দূরদর্শিতা এবং চিন্তাভাবনার ক্ষমতাকে বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়।

দাবা বোর্ডের প্রতিটি পরিস্থিতি একেকটি জটিল সমস্যা। সীমিত সময়ের মধ্যে এবং মানসিক চাপের মুখে দাঁড়িয়ে সেরা সমাধানটি খুঁজে বের করতে হয়। এই অভ্যাস বাস্তব জীবনের কঠিন পরিস্থিতিতে দ্রুত এবং সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে শেখায়।
একটি দাবা ম্যাচ দীর্ঘসময় ধরে চলতে পারে এবং এতে হার-জিত দুটোই থাকে। এটি খেলোয়াড়দের ধৈর্য ধরতে এবং পরাজয় মেনে নিয়ে আবেগ নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে। এটি দৈনন্দিন জীবনেও কোনো কাজে গভীরভাবে মনোনিবেশ করার ক্ষমতা বাড়ায়।
ধৈর্য ও আবেগ নিয়ন্ত্রণদাবা খেলা হুট করে জেতা যায় না, এর জন্য প্রচুর ধৈর্যের প্রয়োজন। অনেক সময় প্রতিপক্ষের ফাঁদে পড়েও মাথা ঠান্ডা রেখে ম্যাচ ঘুরিয়ে দিতে হয়। এটি মানুষের আবেগ নিয়ন্ত্রণ এবং যেকোনো পরিস্থিতিতে ধৈর্যশীল থাকার মানসিকতা তৈরি করে।

দাবা খেলাকে কেবল একটি ইনডোর গেম বা বিনোদন হিসেবে দেখলে ভুল হবে, এটি মূলত মস্তিষ্কের একটি চমৎকার ব্যায়াম। নিয়মিত দাবা খেললে মানসিক ক্ষমতার বহুমুখী বিকাশ ঘটে এবং মন শাণিত হয়।

মস্তিষ্কের বাম অংশ যুক্তি ও গণিত নিয়ন্ত্রণ করে এবং ডান অংশ সৃজনশীলতা ও প্যাটার্ন চেনার কাজ করে। দাবা খেলার সময় খেলোয়াড়কে যেমন হিসাব-নিকাশ করতে হয়, তেমনি নতুন চালের পরিকল্পনা ও বোর্ডের রূপরেখা কল্পনা করতে হয়। ফলে মস্তিষ্কের উভয় অংশের সমন্বয় ঘটে।

গবেষণায় দেখা গেছে, দাবা খেললে মস্তিষ্কের কার্যকারী স্মৃতিশক্তি শক্তিশালী হয় এবং আলঝেইমার্স বা স্মৃতিভ্রমের মতো রোগ প্রতিরোধে এটি সাহায্য করে। নিয়মিত দাবা খেললে মস্তিষ্কের কার্যকারিতা, সমস্যা সমাধানের দক্ষতা ও একাগ্রতা বৃদ্ধি পায়। এটি মানুষের দূরদর্শিতা এবং দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা করার ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে।

লেখক: সাংবাদিক ও কলামিস্ট