সম্পাদকীয়: সাবাশ সাতক্ষীরা!
খুলনার সবুজ মাঠে সাতক্ষীরার প্রাথমিক বিদ্যালয়ের খুদে ফুটবলাররা বালক ও বালিকাÑউভয় বিভাগে যেভাবে বিভাগীয় শ্রেষ্ঠত্বের ‘জোড়া মুকুট’ ছিনিয়ে এনেছে, তা এককথায় অভূতপূর্ব। একই সঙ্গে দুই বিভাগে কোনো একক জেলার এমন জোড়া সাফল্য কেবল ক্রীড়াশৈলীর জয় নয়, এটি তৃণমূলের একাগ্রতা ও অন্তহীন স্বপ্নের এক অনন্য দলিল। এই ঐতিহাসিক বিজয়ের মাহেন্দ্রক্ষণে আমাদের অবলীলায় বলতে হয়Ñসাবাশ সাতক্ষীরা!
খুলনা বিভাগীয় প্রাথমিক বিদ্যালয় গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্টে সাতক্ষীরার কালীগঞ্জের গণেশপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং শ্যামনগরের পূর্ব মীরগাঙ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের খুদে খেলোয়াড়দের মাঠের পারফরম্যান্স ছিল চোখে পড়ার মতো। ছেলেরা যেখানে গতির ঝড়ে প্রতিপক্ষকে ৩-০ গোলে উড়িয়ে দিয়েছে, সেখানে মেয়েরা দেখিয়েছে নিখুঁত পরিকল্পনা ও ইস্পাতকঠিন রক্ষণভাগের দেওয়াল। বিশেষ করে পূর্ব মীরগাঙের বালিকাদের টানা তিনবার জেলা চ্যাম্পিয়ন ও দ্বিতীয়বারের মতো বিভাগীয় শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন প্রমাণ করে, এই সাফল্য কোনো আকস্মিক ঘটনা নয়; বরং বছরের পর বছর ধরে চলা কঠোর সাধনা ও নিয়মানুবর্তিতার ফসল।
একটি সমাজের সুস্থ মানসিক বিকাশ ও শৃঙ্খলা গঠনে মাঠের খেলাধুলার কোনো বিকল্প নেই। বর্তমান সময়ে যখন কিশোর ও তরুণ প্রজন্ম মোবাইল আসক্তি, মাদকের করাল গ্রাস কিংবা নানাবিধ অপরাধমূলক কর্মকা-ে জড়িয়ে পড়ছে, তখন এই খুদে ফুটবলাররা দেখাল কীভাবে মাঠের সবুজ ঘাসকে জীবনের ক্যানভাস বানিয়ে স্বপ্ন বোনা যায়। এই শিশুদের চোখে যে আত্মবিশ্বাস, তা কেবল ফুটবল মাঠেই সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং আগামী দিনে তাদের যোগ্য নাগরিক ও নেতৃত্ব দেওয়ার গুণাবলি তৈরিতে ভূমিকা রাখবে।
তবে এই রূপকথার পেছনের কারিগরদের অবদানও খাটো করে দেখার সুযোগ নেই। অজপাড়াগাঁয়ের এই প্রতিভাদের চিনে নেওয়া, তাদের সঠিক দিকনির্দেশনা দেওয়া এবং নানা সীমাবদ্ধতার মধ্যেও মাঠের লড়াইয়ের জন্য প্রস্তুত করার পেছনে স্থানীয় শিক্ষক, কর্মকর্তা এবং অভিভাবকদের যে ত্যাগ ও নিষ্ঠা ছিল, তা প্রশংসার দাবিদার।
বিভাগীয় গ-ি পেরিয়ে এবার এই খুদে চ্যাম্পিয়নদের সামনে লক্ষ্য জাতীয় পর্যায়। আমরা মনে করি, এই খুদে ফুটবলাররাই দেশের ফুটবলের ভবিষ্যৎ কা-ারি। তাদের এই জয়যাত্রাকে টিকিয়ে রাখতে এবং আরও বড় মঞ্চের জন্য প্রস্তুত করতে এখন থেকেই দীর্ঘমেয়াদি ও সুপরিকল্পিত পরিচর্যা প্রয়োজন। সরকারি ও প্রশাসনিক পৃষ্ঠপোষকতার পাশাপাশি স্থানীয় ক্রীড়া সংগঠকদেরও এগিয়ে আসতে হবে।
সাতক্ষীরার এই খুদে ফুটবলাররা প্রমাণ করেছে, সুযোগ ও সঠিক দিকনির্দেশনা পেলে আমাদের প্রান্তিক অঞ্চলের শিশুরাও ইতিহাস গড়তে পারে। বিজয়ী সব খুদে ফুটবলার, তাদের নেপথ্যের কারিগর শিক্ষকবৃন্দ এবং আনন্দিত সাতক্ষীলাবাসীকে আমাদের আন্তরিক অভিনন্দন। এই জয়যাত্রা অব্যাহত থাকুক।












