মঙ্গলবার, ২৬ মে ২০২৬, ১২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
মঙ্গলবার, ২৬ মে ২০২৬, ১২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

ঈদের খুশিতে গ্রামে, সন্তানের নিরাপত্তায় খেয়াল রাখুন এই ৩ বিষয়ে

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৬ মে, ২০২৬, ১১:৫৯ পূর্বাহ্ণ
ঈদের খুশিতে গ্রামে, সন্তানের নিরাপত্তায় খেয়াল রাখুন এই ৩ বিষয়ে

ঈদ মানেই শহর ছাড়ার তাড়া। ব্যাগ গোছানো, শেষ মুহূর্তের কেনাকাটা, তারপর দীর্ঘ যাত্রা শেষে গ্রামের বাড়ির উঠোনে পা রাখা। চারদিকে কদমফুলের গন্ধ, টিনের চালে বৃষ্টির শব্দ, আত্মীয়স্বজনের ভিড়; সব মিলিয়ে অন্যরকম এক আনন্দ।

তবে এই উৎসবের ভেতরেই শিশুদের জন্য লুকিয়ে থাকতে পারে কিছু নীরব ঝুঁকি। বিশেষ করে বর্ষাকালে গ্রামের পরিবেশ, অনিয়মিত জীবনযাপন আর ভিড়ভাট্টার মধ্যে একটু অসাবধানতাই বড় বিপদ ডেকে আনতে পারে। তাই ঈদের আনন্দের পাশাপাশি সন্তানের নিরাপত্তার দিকেও বাড়তি নজর দেওয়া জরুরি।

পানির আশপাশে এক মুহূর্তও নজরহীন নয়

বর্ষাকালে গ্রামের প্রায় সবখানেই পানি জমে থাকে। কোথাও পুকুর, কোথাও ডোবা, আবার কোথাও বাড়ির পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া নালা। শিশুদের কাছে এসব জায়গা খুব আকর্ষণীয়। খেলতে খেলতে কখন যে তারা পানির ধারে চলে যায়, অনেক সময় টেরই পাওয়া যায় না।

তাই শিশুকে একা উঠোনে বা বাড়ির বাইরে খেলতে না দেওয়াই ভালো। বিশেষ করে ছোট শিশুদের ক্ষেত্রে ‘দেখছি তো’ ভেবে নিশ্চিন্ত হওয়ার সুযোগ নেই। কারণ, দুর্ঘটনা ঘটতে সময় লাগে মাত্র কয়েক সেকেন্ড।

ঈদের আড্ডা, রান্নাবান্না বা অতিথি আপ্যায়নের ব্যস্ততার মধ্যেও পরিবারের একজন সদস্যকে শিশুদের দিকে নজর রাখার দায়িত্বে রাখা যেতে পারে। ছোট এই সতর্কতাই বড় দুর্ঘটনা ঠেকাতে পারে।

আত্মীয়বাড়ির ভিড়ে শিশুর রুটিন যেন হারিয়ে না যায়

ঈদে এক বাড়ি থেকে আরেক বাড়ি যাওয়া যেন উৎসবেরই অংশ। খালা–ফুপু–দাদুবাড়ি; সবখানেই শিশুকে নিয়ে ঘোরাঘুরি চলে। কিন্তু এই অনিয়মিত যাতায়াত অনেক সময় শিশুদের ক্লান্ত করে ফেলে।

অপরিচিত বা দূরের আত্মীয়দের কাছে দীর্ঘ সময় শিশুকে রেখে দিলে তার খাবার, ঘুম বা ওষুধের নিয়ম ভেঙে যেতে পারে। কেউ হয়তো আদর করে এমন খাবার দিচ্ছেন, যা শিশুর জন্য উপযোগী নয়। আবার অতিরিক্ত ভিড় বা শব্দে ছোট শিশুরা বিরক্ত বা অস্থিরও হয়ে উঠতে পারে।

তাই উৎসবের আনন্দের মধ্যেও শিশুর দৈনন্দিন অভ্যাসের দিকে খেয়াল রাখা জরুরি। সময়মতো খাওয়া, পর্যাপ্ত পানি পান ও বিশ্রাম নিশ্চিত করলে ঈদের ক্লান্তিও কম হবে।

হাঁচি-কাশির ভিড়ে স্বাস্থ্যঝুঁকিও মাথায় রাখুন

ঈদের সময় স্বাভাবিকভাবেই অনেক মানুষের সঙ্গে মেলামেশা হয়। তবে বর্তমানে কিছু এলাকায় হামসহ বিভিন্ন সংক্রামক রোগের খবর থাকায় শিশুদের স্বাস্থ্য নিয়ে বাড়তি সতর্ক থাকা দরকার।

শিশুর টিকা সম্পূর্ণ হয়েছে কি না, তা আগে থেকেই নিশ্চিত করুন। কারও জ্বর, কাশি বা ফুসকুড়ির মতো উপসর্গ থাকলে শিশুকে খুব কাছাকাছি না নেওয়াই ভালো।

ভ্রমণের সময় শিশুর জন্য প্রয়োজনীয় ওষুধ, পরিষ্কার পানি ও হাত পরিষ্কারের ব্যবস্থা সঙ্গে রাখুন। কারণ, ঈদের আনন্দের মাঝেও অসুস্থতা খুব দ্রুত পুরো পরিকল্পনা এলোমেলো করে দিতে পারে।

ঈদ মানেই বাঁধনহারা আনন্দ, এটাই সবার চাওয়া। আর সেই আনন্দটুকু অটুট রাখতে খুব বড় কিছু নয়, দরকার শুধু একটু সচেতনতা। শিশুরা যেন নিরাপদে খেলতে পারে, সুস্থ থাকে, আর ঈদের স্মৃতিগুলো যেন শুধু আনন্দেরই হয়; সেই চেষ্টাটুকুই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

Ads small one

আশাশুনিতে ইউএনও’র বাজার মনিটরিং ও মোবাইল কোর্টে ২ হাজার টাকা জরিমানা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৬ মে, ২০২৬, ৫:৪৩ অপরাহ্ণ
আশাশুনিতে ইউএনও’র বাজার মনিটরিং ও মোবাইল কোর্টে ২ হাজার টাকা জরিমানা

বিএম আলাউদ্দীন, আশাশুনি: পবিত্র ঈদ-উল আযহা উপলক্ষে বাজারের দ্রব্যমূল্য স্বাভাবিক রাখতে ও খাদ্যে ভেজাল প্রতিরোধে আশাশুনিতে বিভিন্ন বাজারে মনিটরিং অভিযান পরিচালনা করেছেন উপজেলা নির্বাহী অফিসারর শ্যামানন্দ কুন্ডু। মঙ্গলবার (২৬ মে) উপজেলার আশাশুনি সদর ও বুধহাটা বাজারসহ উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ হাট-বাজারে এ অভিযান পরিচালনা করেন।

অভিযান চলাকালে খাদ্যে ভেজাল প্রতিরোধ, ওজনে কারচুপি বন্ধ এবং দৃশ্যমান স্থানে মূল্য তালিকা টাঙিয়ে রাখার নির্দেশ দেন তিনি। সাথে সাথে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম যাচাই এবং ঈদকে কেন্দ্র করে কোনো ব্যবসায়ী যাতে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি বা অতিরিক্ত মূল্য আদায় করতে না পারে, সে বিষয়ে কঠোর সতর্কবার্তা দেন ইউএনও।

এসময় বুধহাটা বাজারে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯ অনুযায়ী সুভাষ ঘোষ নামে এক হোটেল ব্যবসায়ীকে ২ হাজার টাকা জরিমানা করেন।

এসময় উপজেলা নির্বাহী অফিসার শ্যামানন্দ কুন্ডু বলেন, “আসন্ন ঈদকে সামনে রেখে বাজার স্থিতিশীল রাখতে প্রশাসনের নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। সাধারণ মানুষের স্বার্থে দ্রব্যমূল্য সহনীয় রাখা ও ভেজালমুক্ত খাদ্য নিশ্চিত করতে প্রতিনিয়ত মোবাইল কোর্ট অভিযান অব্যাহত থাকবে।”

অভিযানকালে বাজার কমিটির নেতৃবৃন্দ ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

এবার শাখরা কোমরপুর বেইলি ব্রিজ ব্যক্তিগত উদ্যোগে সংস্কার

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৬ মে, ২০২৬, ৫:৩৪ অপরাহ্ণ
এবার শাখরা কোমরপুর বেইলি ব্রিজ ব্যক্তিগত উদ্যোগে সংস্কার

নিজস্ব প্রতিনিধি: এলাকাবাসীর ঈদ আনন্দ নির্বিঘœ করতে শাখরা কোমরপুর বেইলি ব্রিজ এর উপরের নষ্ট হওয়া অংশ ব্যক্তিগত উদ্যোগে সংস্কার করে দিচ্ছেন দেবহাটা উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আল ফেরদাউস আলফা। মঙ্গলবার সকালে তিনি নিজে উপস্থিত থেকে ব্রিজটির সংস্কার কাজ শুরু করেন।

ইতোমধ্যে ব্রিজটি সংস্কারের জন্য প্রায় ৬ লাখ ৫০ হাজার টাকা সরকারিভাবে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। একমাসের অধিক সময় পূর্বে জেলা বিএনপির নেতৃবৃন্দ উক্ত সংস্কার কাজের উদ্বোধন করেন। দ্রুত সময়ের মধ্যে সেই কাজ শুরু হবে বলে এলাকাবাসীর প্রত্যাশা। তবে, তার পূর্বেই আসন্ন ঈদুল আযহাকে সামনে রেখে যাতে কাউকে ভোগান্তিতে না পড়তে হয় সেজন্য আপাতত ব্রিজটি চলাচলের উপযোগী করে দিচ্ছেন।

পাটকেলঘাটায় জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে তিনজনকে কুপিয়ে জখম

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৬ মে, ২০২৬, ৫:১৭ অপরাহ্ণ
পাটকেলঘাটায় জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে তিনজনকে কুপিয়ে জখম

সংবাদদাতা: সাতক্ষীরার পাটকেলঘাটা থানায় জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে প্রতিপক্ষের হামলায় গুরুতর আহত হয়েছেন তিনজন। সোমবার (২৫ মে) দুপুর ৩টার দিকে রাঢ়ীপাড়ায় এ ঘটনা ঘটে। আহতরা হলেন, মৃত. আব্বাস আলী সরদারের ছেলে বৃদ্ধ আবুল হোসেন সরদার (৭০), তার স্ত্রী রিজিয়া বেগম (৫৫) ও ছেলে আমিনুর রহমান (৩০)। তারা বর্তমানে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে ।

আবুল হোসেনের ছেলে আসাদুজ্জামান বলেন, তার বাবা গত বছর বাড়িব পাশে ২০ শতক জমি ক্রয় করেছেন। জমি ক্রয়ের পর জমি তাদের দাবি করে একই এলাকার আবুল হোসেন গাজী, আবুল খায়ের গাজী ও তার ছেলে আসাদুল্লাহ্ আল গালীব গং জোরপূর্বক জমিটা দখল করার চেষ্টা করে আসছিল। এরই জের ধরে গতকাল সোমবার (২৫ মে) দুপুরে আবুল হোসেন, খায়ের গাজী, গালীবসহ ১০-১৫ জন রাম দা, চাইনিজ কুড়াল নিয়ে আমাদের বাড়িতে এসে অতর্কিত হামলা চালায়। ওই সময় তারা বাবা, মা ও ভাইকে কুপিয়ে রেখে পালিয়ে যায়। পরে স্থানীয়রা উদ্ধার করে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে ভর্তি করে।

আসাদুজ্জামান অভিযোগ করেন, এ ঘটনার পর থেকে প্রতিপক্ষ নাটক সাজিয়ে তাদের মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করার চেষ্টা চালাচ্ছে। তার দাবী কোন এক রাজনৈতিক মহলের চাপে পড়ে প্রশাসন তাদের বিরুদ্ধে মামলা নিতে বাধ্য হচ্ছে।

তবে এ বিষয়ে অভিযুক্ত আবুল হোসেন গাজী, আবুল খায়ের গাজী ও আসাদুল্লাহর সাথে বার বার যোগাযোগের চেস্টা করলেও তারা মুঠো ফোনটি রিসিভ করেননি।

পাটকেলঘাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাফিকুল ইসলাম বলেন, উভয় পক্ষের মধ্যে মারামারির ঘটনা ঘটেছে বলে শুনেছি। দুপক্ষ থেকে পৃথক পৃথক দুটি মামলার প্রস্তুতি চলছে।