বৃহস্পতিবার, ৯ জুলাই ২০২৬, ২৪ আষাঢ় ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ৯ জুলাই ২০২৬, ২৪ আষাঢ় ১৪৩৩

ঈদে সিনেমা মুক্তির হিড়িক, শঙ্কায় হল মালিকরা, দর্শক যাবে কোথায়?

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ২৪ মে, ২০২৬, ১১:০৯ অপরাহ্ণ
ঈদে সিনেমা মুক্তির হিড়িক, শঙ্কায় হল মালিকরা, দর্শক যাবে কোথায়?

এক ঈদে এত সিনেমা—ঢালিউডে এমন দৃশ্য অনেকদিন দেখা যায়নি। বড় তারকা, বড় বাজেট, আলোচিত গল্প আর জমজমাট প্রচারণা নিয়ে এবার ঈদুল আজহায় মুক্তির তালিকায় রয়েছে একের পর এক সিনেমা। দর্শকদের জন্য এটি যেমন উৎসবের খবর, তেমনি রয়েছে দ্বিধাও। পাশাপাশি চলচ্চিত্র ব্যবসার ভেতরে তৈরি হয়েছে বড় ধরনের অস্বস্তি।

কারণ, দেশের সীমিত সংখ্যক প্রেক্ষাগৃহে এতগুলো সিনেমা একসঙ্গে জায়গা পাবে কীভাবে—সেই প্রশ্ন এখন নির্মাতা, প্রযোজক, পরিবেশক থেকে শুরু করে হল মালিকদের মুখে মুখে। সবচেয়ে বড় প্রশ্ন, শেষ পর্যন্ত দর্শকই বা পছন্দের একাধিক চলচ্চিত্র কীভাবে দেখবে? ব্যস্ত জীবনে সময় করে উঠতে পারবেন তো?

ঈদকে কেন্দ্র করে মুক্তির তালিকায় রয়েছে— রকস্টার, মাসুদ রানা, রইদ, মালিক, নাকফুলের কাব্য, দ্য ইউনিভার্সিটি অব চানখাঁরপুল, পিনিক, তছনছ এবং বনলতা সেন।

বেশিরভাগ সিনেমাই বড় তারকা ও বড় বাজেটনির্ভর হওয়ায় মাল্টিপ্লেক্স ও সিঙ্গেল স্ক্রিন—দুই ধরনের হলেই তৈরি হয়েছে তীব্র চাপ। একই সময়ে এতগুলো সিনেমা মুক্তি পাওয়ায় স্ক্রিন ভাগ হয়ে যাচ্ছে, ফলে অনেক সিনেমাই প্রত্যাশিত শো পাচ্ছে না। বিশেষ করে সিনেপ্লেক্সগুলোতে বড় বাজেট ও তারকানির্ভর ছবিগুলো অগ্রাধিকার পেলে মাঝারি বাজেটের সিনেমাগুলো আরও বেশি চাপে পড়ছে।

এ বিষয়ে চলচ্চিত্র প্রদর্শক সমিতির সভাপতি আওলাদ হোসেন উজ্জল বলেন, “দর্শক যেটা ভালো মনে করেন, সেটাই দেখবেন। তাতে আমরা কোনো বাধা দেখি না। কিন্তু ঈদকেন্দ্রিক চলচ্চিত্র মুক্তির এই দৌড় ও প্রবণতা প্রযোজকদের ঝুঁকির কারণ। আমরাও হয়তো লাভবান হতাম যদি ঈদ ছাড়াও ভালো ভালো ছবিগুলো আসত। সারা বছরই তখন ব্যবসা থাকতো, হলও চাঙা হতো। প্রযোজকদের বলবো, এই প্রবণতা থেকে বেরিয়ে আসতে।”

দেশের সবচেয়ে বড় মাল্টিপ্লেক্স স্টার সিনেপ্লেক্স–এর প্রধান বিপণন কর্মকর্তা মেসবাহ উদ্দিন আহমেদ বলেন, “দীর্ঘমেয়াদে এটি ইন্ডাস্ট্রির জন্য খুবই খারাপ ফল বয়ে আনবে। সারাবছর দর্শক সিনেমা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। নতুন দর্শক তৈরি হচ্ছে না। হলমালিকরাও ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন।”

তিনি মনে করেন, প্রদর্শক সমিতি, প্রযোজক ও পরিবেশকদের মধ্যে জরুরি সমন্বয় প্রয়োজন। তার ভাষায়, “কোন সময় কোন ছবি মুক্তি পাবে, সেটি নির্ধারণ করা গেলে সবাই উপকৃত হবেন।”

অন্যদিকে মাসুদ রানা চলচ্চিত্রের প্রযোজক ও পরিবেশক আব্দুল আজিজ মনে করছেন, একসঙ্গে এত সিনেমা মুক্তির পরিস্থিতি কোনোভাবেই সুস্থ প্রতিযোগিতা নয়। তবে নিজের সিনেমা ঈদে মুক্তি দেওয়ার সিদ্ধান্তকেই সঠিক বলে মনে করছেন তিনি।

তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই সুস্থ প্রতিযোগিতা না। কিন্তু ঈদ হচ্ছে সবচেয়ে বড় সিনেমা সিজন। সবাই চায় এই সময়ে দর্শকের কাছে পৌঁছাতে। সেই জায়গা থেকে আমরাও ‘মাসুদ রানা’ ঈদেই মুক্তি দিচ্ছি।”

তবে প্রতিযোগিতার বিষয়টি ভিন্নভাবে দেখছেন মালিক চলচ্চিত্রের পরিচালক সাইফ চন্দন। তার মতে, ঈদ ছাড়া অন্য সময়ে বড় সিনেমা মুক্তি দেওয়া কঠিন।

সাইফ চন্দন বলেন, “ঈদ ছাড়া কেন রিলিজ দিবো, কোথায় রিলিজ দিবো, কে দেখবে? এখানে কোনো প্রতিযোগিতা নেই। এখানে আমরা সবাই কলিগ। প্রতিটি নায়ক, নায়িকা, নির্মাতা, প্রযোজক—প্রত্যেকেই আপন।”

অন্যদিকে রইদ নির্মাতা মেজবাউর রহমান সুমন বলছেন, গত দুই বছরের রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে অনেক নির্মাতাই নিরাপদ সময়ের অপেক্ষায় ছিলেন।

তিনি বলেন, “দুই বছর রাজনৈতিক অস্থিরতা গেছে। কেউই আসলে চায় না এমন একটা টাইমে রিলিজ হয়ে গেল, যখন রাজনৈতিক অস্থিরতা বা অন্য কিছুর মাঝে পড়ে তার চলচ্চিত্রটি ঝুঁকির মধ্যে পড়ে যায়। উৎসবকে কেন্দ্র করে চলচ্চিত্র মুক্তিকে নেতিবাচকভাবে দেখছি না। আমাদের প্রযোজকও ইতিবাচকভাবেই দেখছেন পরিস্থিতি।”

তিনি আরও বলেন, “আমার আসলে কোনো উপায় ছিল না। আমি তিন মাস আগেও রিলিজ দিতে পারতাম না। আবার সামনে আসছে বিশ্বকাপ ফুটবল, তাই এই সময়টাই বেছে নিয়েছি।”

সিঙ্গেল স্ক্রিনের প্রতিনিধিত্ব করে মধুমিতা সিনেমা হল–এর মালিক ইফতেখার উদ্দিন নওশাদ বলেন, “এটা খুবই ব্যাড কালচার। একসঙ্গে এতগুলো ছবি ঈদে, ঈদের পর তো আমাদেরকে হলগুলো বন্ধ করে দিতে হবে। তখন কী করবো? কোনো ছবি থাকে না। সিনেমা ইন্ডাস্ট্রি এভাবে ধ্বংস হয়ে যাবে। আমরা ‘রকস্টার’ দিয়ে শুরু করছি। এরপর দর্শক রেসপন্স বুঝে অন্য সিনেমাগুলো হলে তুলবো।”

চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, নব্বইয়ের দশকে যখন একের পর এক চলচ্চিত্র মুক্তি পেত, তখন প্রযোজক, পরিবেশক, নির্মাতা ও হল মালিকদের প্রতিনিধিত্বে একটি রিলিজ কমিটি ছিল। সেই কমিটিই ইন্ডাস্ট্রির পরিস্থিতি বিবেচনায় চলচ্চিত্র মুক্তির অনুমতি ও সমন্বয় করতো। বর্তমানে কার্যকর এমন কোনো সমন্বয় কাঠামো নেই বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্টদের মতে, এখন সবচেয়ে জরুরি বিষয় হলো—সমন্বিত মুক্তি পরিকল্পনা। বছরে শুধু ঈদকেন্দ্রিক ব্যবসার দিকে না ঝুঁকে সারা বছরজুড়ে বড় ও মাঝারি বাজেটের সিনেমা ছড়িয়ে মুক্তি দেওয়া গেলে প্রেক্ষাগৃহও সচল থাকবে, দর্শকের আগ্রহও বাড়বে। একই সঙ্গে পুনরায় একটি কার্যকর রিলিজ কমিটি গঠন করে কোন সময়ে কোন ধরনের সিনেমা মুক্তি পাবে, তার পরিকল্পনা তৈরি করা গেলে অযাচিত প্রতিযোগিতা কমবে।

তা না হলে, এক ঈদে যতই সিনেমার জোয়ার আসুক না কেন, বছরের বাকি সময়জুড়ে খালি হল আর লোকসানের চক্র থেকেই বের হতে পারবে না দেশের চলচ্চিত্র শিল্প।

Ads small one

চট্টগ্রাম বিভাগে বন্যা ও পাহাড় ধসে প্রাণহানি ৩০

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৯ জুলাই, ২০২৬, ৫:৪০ অপরাহ্ণ
চট্টগ্রাম বিভাগে বন্যা ও পাহাড় ধসে প্রাণহানি ৩০

চট্টগ্রাম বিভাগে গত পাঁচ দিনের অতিবৃষ্টি, পাহাড়ি ঢল ও পাহাড় ধসে এ পর্যন্ত ৩০ জনের মৃত্যুর তথ্য দিয়েছে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়। মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দুর্গত এলাকার মানুষের জন্য সরকারের পক্ষ থেকে নগদ অর্থ, চাল ও শিশু খাদ্যসহ জরুরি ত্রাণ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় চট্টগ্রাম বিভাগের ক্ষয়ক্ষতি এবং জেলা প্রশাসনের নেওয়া পদক্ষেপসংবলিত সর্বশেষ প্রতিবেদন প্রকাশ করে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, সবচেয়ে বেশি প্রাণহানি হয়েছে পর্যটন জেলা কক্সবাজারে। সেখানে ১৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া চট্টগ্রাম ও বান্দরবানে ৫ জন করে এবং রাঙ্গামাটিতে ১ জনের মৃত্যু হয়েছে। খাগড়াছড়িতে এখন পর্যন্ত কোনো প্রাণহানির খবর পাওয়া যায়নি।

বন্যা ও পাহাড় ধসের ঝুঁকিতে থাকা মানুষের জন্য পাঁচ জেলায় মোট ১ হাজার ৪২৭টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে। এর মধ্যে চট্টগ্রামে ৪১১টি আশ্রয়কেন্দ্রে ৮ হাজার ৩৪০ জন, রাঙ্গামাটিতে ২১টি আশ্রয়কেন্দ্রে ১ হাজার ২০৬ জন, খাগড়াছড়িতে ১৩৫টি আশ্রয়কেন্দ্রে ১ হাজার ৭৫৫ জন এবং বান্দরবানে ২২০টি আশ্রয়কেন্দ্রে ২ হাজার ১৭৩ জন আশ্রয় নিয়েছেন।

তবে কক্সবাজারে ৬৪০টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত থাকলেও বর্তমানে সেখানে কোনো আশ্রিত ব্যক্তি নেই। দুর্গতদের সহায়তায় ৭ ও ৯ জুলাই দুই দফায় বিশেষ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে মন্ত্রণালয়।

৭ জুলাই চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান—প্রতিটি জেলার জন্য ১০ লাখ টাকা করে মোট ৫০ লাখ টাকা নগদ এবং ২০০ মেট্রিক টন করে মোট ১ হাজার মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়। পরে ৯ জুলাই শিশুদের জন্য বিশেষ সহায়তা হিসেবে চট্টগ্রামে ২৫ লাখ টাকা, কক্সবাজারে ২০ লাখ টাকা এবং রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবানে ১০ লাখ টাকা করে মোট ৭৫ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। একই দিনে চট্টগ্রামে ৩০০ মেট্রিক টন, কক্সবাজারে ২৫০ মেট্রিক টন এবং বাকি তিন জেলায় ২০০ মেট্রিক টন করে মোট ১ হাজার ১৫০ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়।

গত কয়েকদিনের টানা বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে চট্টগ্রাম বিভাগের পাঁচ জেলার বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়েছে। বিভিন্ন স্থানে পাহাড়ধসে প্রাণহানির পাশাপাশি বহু পরিবার ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবিলায় জেলা প্রশাসন বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

এছাড়া পাহাড়ের পাদদেশ ও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাসকারীদের দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিতে নিয়মিত মাইকিং ও সচেতনতামূলক কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। পাশাপাশি আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে অবস্থান নেওয়া দুর্গত মানুষের জন্য সুপেয় পানি, উন্নত স্যানিটেশন, শিশু খাদ্য এবং তিন বেলা খাবারের ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে বলেও প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

খালের মাঝে ৩৩ লাখ টাকার সেতু, সংযোগ সড়ক না থাকায় ৫ গ্রামের মানুষের দুর্ভোগ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৯ জুলাই, ২০২৬, ৫:৩২ অপরাহ্ণ
খালের মাঝে ৩৩ লাখ টাকার সেতু, সংযোগ সড়ক না থাকায় ৫ গ্রামের মানুষের দুর্ভোগ

Oplus_131072

নিজস্ব প্রতিনিধি: সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার রমজাননগর ইউনিয়নের টেংরাখালী এলাকায় প্রায় ৩৩ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত একটি পাকা সেতু এখন এলাকাবাসীর কাছে যেন ‘খালের মাঝখানের দ্বীপ’। সেতুর মূল কাঠামোর নির্মাণকাজ শেষ হয়েছে প্রায় এক মাস আগে। কিন্তু এখনো দুই পাশে সংযোগ সড়ক (অ্যাপ্রোচ রোড) নির্মাণ না হওয়ায় সেটি কোনো কাজেই আসছে না। ফলে টেংরাখালীসহ আশপাশের পাঁচ গ্রামের হাজারো মানুষ এবং স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থীরা প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে একটি নড়বড়ে কাঠের সাঁকো দিয়ে চলাচল করতে বাধ্য হচ্ছেন।

​স্থানীয়দের অভিযোগ, সেতু নির্মাণে নানা অনিয়ম করা হয়েছে। এমনকি সংযোগ সড়কের জন্য নির্ধারিত স্থান থেকে মাটি কেটে বাইরে বিক্রি করে দিয়েছে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। এতে স্থানীয়দের দুর্ভোগ আরও বেড়েছে।

​উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার (পিআইও) কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের অর্থায়নে টেংরাখালী গ্রামের দাউদ গাজীর বাড়ির সামনে সীমানার খালের ওপর সেতুটি নির্মাণ করা হয়। প্রায় ৩৩ লাখ টাকা ব্যয়ে প্রকল্পটির কাজ বাস্তবায়ন করে ‘আরিফ এন্টারপ্রাইজ’ নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান।

​এলাকাবাসীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, প্রায় এক মাস আগে সেতুর মূল ঢালাই ও নির্মাণকাজ শেষ করে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান চলে যায়। কিন্তু দুই পাশে মাটি ভরাট করে সংযোগ সড়ক তৈরি না করায় সেতুতে ওঠানামার কোনো সুযোগ নেই। ফলে টেংরাখালী, পার্শ্বেখালী, মিরগাং, কালিঞ্চী ও ঠাকুরঘেরী গ্রামের মানুষ এখনো পুরোনো ও ঝুঁকিপূর্ণ কাঠের সাঁকো ব্যবহার করতে বাধ্য হচ্ছেন। এতে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়ছেন শিক্ষার্থী, বৃদ্ধ ও রোগীরা।

​স্থানীয়দের অভিযোগ, সেতু নির্মাণের সময় সংযোগ সড়কের জন্য নির্ধারিত স্থান থেকে স্কেভেটর (ভেকু) দিয়ে বিপুল পরিমাণ মাটি কেটে বাইরে বিক্রি করে দিয়েছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। অপরিকল্পিতভাবে মাটি কাটার কারণে সড়কের দুই পাশে গভীর খাদের সৃষ্টি হয়েছে। এতে সংযোগ সড়ক নির্মাণের জন্য প্রয়োজনীয় মাটির সংকট তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে খাদের কারণে আশপাশের কয়েকটি বসতবাড়িও ধসে পড়ার ঝুঁকিতে রয়েছে।

​ক্ষতিগ্রস্ত স্থানীয় বাসিন্দা মোহাম্মদ গাজী অভিযোগ করে বলেন, “সেতু হয়েছে ঠিকই, কিন্তু আমাদের ওঠানামার কোনো রাস্তা নেই। উল্টো ঠিকাদার মাটি কাটতে গিয়ে আমার বসতঘর খালের মধ্যে ভেঙে পড়েছে। পিআইও অফিসে বিষয়টি জানিয়েও কোনো প্রতিকার পাইনি।”

​রমজাননগর ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য আব্দুল হামিদ লাল্টু বলেন, “সেতুটির সংযোগ সড়ক না থাকায় মানুষের দুর্ভোগের বিষয়টি সত্য। আমি নিজে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তাকে (পিআইও) বিষয়টি জানিয়েছি। তারা দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন।”

​জানতে চাইলে শ্যামনগর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) মিরাজ হোসেন বলেন, “ঠিকাদারকে দ্রুত সংযোগ সড়ক নির্মাণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বর্ষা ও বৃষ্টির কারণে কাজ কিছুটা ব্যাহত হচ্ছে। বৃষ্টি কমলেই সংযোগ সড়কের কাজ শুরু করা হবে।”

​তবে স্থানীয়দের দাবি, বৃষ্টি কোনো অজুহাত হতে পারে না। সংযোগ সড়কের জায়গা থেকে মাটি কেটে বিক্রি করে দেওয়ার বিষয়টি তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা। একই সঙ্গে দ্রুত সেতুটিকে চলাচলের উপযোগী করে জনগণের ভোগান্তি দূর করতে প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ভুক্তভোগী এলাকাবাসী।##

৯.৭.২৬

সাতক্ষীরায় শিশু ও যুবদের সুরক্ষায় কমিউনিটি নেতৃবৃন্দের সাথে মতবিনিময় সভা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৯ জুলাই, ২০২৬, ৫:১৫ অপরাহ্ণ
সাতক্ষীরায় শিশু ও যুবদের সুরক্ষায় কমিউনিটি নেতৃবৃন্দের সাথে মতবিনিময় সভা

নিজস্ব প্রতিনিধি: শিশু ও যুবদের জন্য মত প্রকাশের স্বাধীনতা ও কমিউনিটি ভিত্তিক নিরাপদ ডিজিটাল পরিবেশ তৈরিতে কমিউনিটি ভিত্তিক শিশু সুরক্ষায় সংশ্লিষ্ট নেতৃবৃন্দের সাথে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের অর্থায়নে এবং বেসরকারী সংস্থা ব্রেকিং দ্য সাইলেন্স এর আয়োজনে বৃহস্পতিবার সকাল ১০টায় শহরের অদূরে এল্লারচর চিংড়ি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের কনফারেন্স রুমে উক্ত মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সাতক্ষীরা সরকারি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ প্রফেসর আব্দুল হামিদের সভাপতিত্বে সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন, জেলা মহিলা ও শিশু বিষয়ক অধিদপ্তরের প্রোগ্রাম অফিসার ফাতেমা-তুজ-জোহরা।
মতবিনিময় সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন, সখিপুর কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ প্রফেসর পবিত্র মোহন দাস, সিনিয়র সাংবাদিক কল্যাণ ব্যানার্জি প্রমুখ। সভায় এসময় গণ্যমাধ্যম কর্র্মী, সিএসও প্রতিনিধি, শিশু সুরক্ষা কমিটির সদস্য, স্কুল-কলেজের শিক্ষক, মসজিদের ইমামসহ কমিউনিটির বিভিন্ন স্তরের ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। মতবিনিময় সভায় প্রজেক্টারের মাধ্যমে প্রোগ্রাম সেশন পরিচালনা করেন, ব্রেকিং দ্য সাইলেন্স এর প্রতিনিধি নূর জামান ও মনির হোসেন। সমগ্র অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন, আফরোজা সুলতানা ও আব্দুল মান্নাণ।
মতবিনিময় সভায় বক্তরা বলেন, শিশু ও তরুণ প্রজন্মের সার্বিক সুরক্ষা এবং ডিজিটাল মাধ্যমে তাদের নিরাপদ বিচরণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। বর্তমান সময়ে প্রযুক্তির ভিড়ে শিশুরা যাতে কোনো ধরনের সাইবার ঝুঁকি বা অনাকাঙ্খিত পরিবেশের শিকার না হয়, তার জন্য একটি শক্তিশালী কমিউনিটি ভিত্তিক সুরক্ষা বলয় গড়ে তোলার আহ্বান জানানো হয়। একই সাথে, তাদের নিজস্ব মতামত প্রকাশের স্বাধীনতা অক্ষুন্ন রাখার ব্যাপারেও আলোচনা করা হয়।