বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬, ৩০ আশ্বিন ১৪৩৩
বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬, ৩০ আশ্বিন ১৪৩৩

এআই নিয়ে ভয় কতটা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:১৯ পূর্বাহ্ণ
এআই নিয়ে ভয় কতটা

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই মানুষের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে- বার বার গবেষকদের এমন কঠোর সতর্কবার্তার কারণে এই প্রযুক্তির নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ আরও জোরালো হয়েছে।

সম্প্রতি কিছু পূর্বাভাসে অত্যন্ত হতাশা প্রকাশ করে বলা হয়েছে, আগামী এক দশকের মধ্যে এআই পুরো মানবজাতিকে নিশ্চিহ্ন করে দিতে পারে, এমন সম্ভাবনা ১০ শতাংশেরও বেশি।

তবে এআই জগতের অন্যরা এসব পূর্বাভাসের বাস্তবতা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন। তারা বলছেন, বরং বড় উদ্বেগের বিষয় হলো, মানুষের বিরুদ্ধে মানুষ এআই ব্যবহার করতে পারে।

এই ধরনের প্রলয়সংকেতমূলক বার্তা আসছে এআই জগতের একটি অংশ থেকে, যাদের প্রায়ই ‘এআই ডুমার্স’ বলা হয়।

কিন্তু অনেকেরই বড় প্রশ্ন হলো, এই ‘ডুমার্স’রা ঠিক কীভাবে মনে করেন যে একটি এআই মানবজাতির অবসান ঘটাতে পারে।

গবেষকেরা যেসব সম্ভাব্য পরিস্থিতি কল্পনা করছেন, তার কয়েকটি বিবেচনা করেছেন সাইবার সংবাদদাতা জো টাইডি।

পরিস্থিতি এক: অবকাঠামোয় হ্যাক

প্রথম পরিস্থিতিটি সংক্ষেপে তুলে ধরেছিলেন জ্যাকব কক্সটন, যিনি আগে ওপেন এআই এবং পরে অ্যানথ্রপিক-এর গবেষক ছিলেন। চলতি মাসের শুরুতে তিনি বেশ নাটকীয়ভাবে পদত্যাগ করেন। তিনি মানবজাতির জন্য ঝুঁকির কথা বলে সতর্ক করেন এবং যুক্তি দেন যে এসব প্রতিষ্ঠান ‘মানুষের জীবন নিয়ে জুয়া খেলছে’।

তিনি বলেন, এআই-এ ‘অবিশ্বাস্য গতিতে অগ্রগতি’ হওয়ার ফলে যেসব বিষয় আগে বিজ্ঞান কল্পকাহিনির মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল, সেগুলো এখন বাস্তবে পরিণত হচ্ছে।

একটি ‘সুনির্দিষ্ট উদাহরণ’ হিসেবে তিনি বলেন, ‘এআই পৃথিবী যেসব গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর ওপর নির্ভর করে, সেগুলোতে হ্যাক করতে পারে।’

তার কল্পিত পরিস্থিতিতে একটি নিয়ন্ত্রণহীন এআই ব্যবস্থা ইন্টারনেট সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান ও বিদ্যুৎ গ্রিডের মতো নেটওয়ার্কে অনুপ্রবেশ করতে পারে।

যদি এআই এসব ব্যবস্থা বন্ধ করে দেয়, তাহলে বিদ্যুৎ, তাপ নিয়ন্ত্রণ, শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ বা ইন্টারনেট সংযোগ ছাড়া অগণিত বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হতে পারে।

আরও এগিয়ে গিয়ে কেউ কেউ এমনও বলেছেন যে, পারমাণবিক বিপর্যয়ও সম্ভব হতে পারে।

পরিস্থিতি দুই: এআইয়ের কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা

পরবর্তী পরিস্থিতিটি এসেছে বিস্তারিত ও প্রভাবশালী, তবে একই সঙ্গে অত্যন্ত অনুমাননির্ভর, গবেষণাপত্র ‘এআই ২০২৭’ থেকে। ২০২৫ সালের এপ্রিল মাসে একদল এআই গবেষক এটি প্রকাশ করেন।

এর সহলেখক থমাস লারসেন সম্প্রতি বলেন, প্রতিবেদন প্রকাশের পর থেকে প্রযুক্তির অগ্রগতি আরও দ্রুত হয়েছে। তিনি যে পরিস্থিতিকে সবচেয়ে বেশি ভয় পান, সেটির বর্ণনাও দেন।

তিনি বলেন, পরিস্থিতিটি এমন হতে পারে যে, ‘এআই নিজেকে বারবার উন্নত করছে এবং তা ক্রমে এমন এক এআইয়ে রূপ নিচ্ছে, যার হাতে বিপুল সংখ্যক রোবটের নিয়ন্ত্রণ থাকবে। অর্থনীতির অধিকাংশ প্রত্যক্ষ কাজ তখন এসব রোবট সম্পাদন করবে। কিন্তু সেটি মানুষের জন্য উপকারী নয়, বরং নিজের স্বার্থসিদ্ধি নিয়ে ব্যস্ত হচ্ছে। এরপর শেষ পর্যন্ত এটি একটি জীবাণু অস্ত্র ছড়িয়ে দিচ্ছে, যা অধিকাংশ মানুষকে হত্যা করবে। তারপর এটি নিজেই রোবটনির্ভর অর্থনীতি চালিয়ে যাবে এবং মানুষের আর প্রয়োজন থাকবে না।’

পরিস্থিতি তিন: একটি লক্ষ্যকে অগ্রাধিকার দেওয়া

আরেকটি পরিস্থিতিতে মানবজাতির সমাপ্তি ঘটে ভুলবশত।

তথাকথিত ‘পেপারক্লিপ ম্যাক্সিমাইজার হাইপোথিসিস’ দুই দশকেরও বেশি আগে কল্পনা করেছিলেন সুইডিশ দার্শনিক নিক বোস্ট্রম।

তিনি এটিকে একটি ‘চিন্তার পরীক্ষা’ হিসেবে বর্ণনা করেন, যেখানে একটি কাল্পনিক এআই ব্যবস্থার একমাত্র লক্ষ্য হলো যত বেশি সম্ভব কাগজের ক্লিপ তৈরি করা।

তিনি ব্যাখ্যা করেন, ‘এটি আমাদের ঘৃণা করে না বা মানুষের ওপর ক্ষুব্ধও নয়। কিন্তু এটিই তার একমাত্র লক্ষ্য। আর সেই লক্ষ্য অর্জনের পথে ক্ষমতা বৃদ্ধি বা আরও বুদ্ধিমান হয়ে ওঠার মতো কিছু সহায়ক উপ-লক্ষ্য তৈরি হতে পারে।’

‘এরপর ধারণাটি হলো, কাগজের ক্লিপ বা অন্য যেকোনো লক্ষ্য অনুসরণ করা যথেষ্ট শক্তিশালী কোনো সত্তার এমন উপলক্ষ থাকতে পারে, যা মানবজাতির ধ্বংস ডেকে আনতে পারে। কারণ তাকে থামানোর জন্য মানুষ না থাকলে সে আরও বেশি কাগজের ক্লিপ তৈরি করতে পারতো।’

প্রথমবার এই পরিস্থিতির বর্ণনা দেওয়ার দুই দশক পর বোস্ট্রম বলেন, এই ‘কার্টুনধর্মী’ কাহিনির উদ্দেশ্য ছিল দেখানো যে, কোনো অতিবুদ্ধিমান ব্যবস্থার মানবতার জন্য বিপজ্জনক হয়ে উঠতে নির্দিষ্ট শত্রুভাবাপন্ন লক্ষ্য থাকার প্রয়োজন হয় না।

তিনি বলেন, এখন তিনি এআই সম্পর্কে ‘দ্বিধাবিভক্ত’। এর সম্ভাব্য সুফল নিয়ে তিনি উচ্ছ্বসিত, তবে নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বিগ্ন।

পরিস্থিতি চার: অজানা

এআই নিরাপত্তা নিয়ে আরেকটি মতবাদ রয়েছে, যার মতে অতিবুদ্ধিমান এআই কীভাবে বা কেন মানুষকে হত্যা করতে পারে, তা অনুমান করার চেষ্টা করাই অর্থহীন।
সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি এক সাক্ষাৎকারে এই যুক্তি তুলে ধরেন আন্তর্জাতিক অলাভজনক সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল অ্যাসোসিয়েশান ফর সেইফ অ্যান্ড এথিক্যাল এআই-এর সভাপতি স্টুয়ার্ট রাসেল।

তিনি বলেন, ‘যদি আপনি কল্পনা করেন যে শিম্পাঞ্জিদের জিজ্ঞাসা করা হচ্ছে, ঠিক কীভাবে মানুষ তাদের বিলুপ্ত করে দেবে, তাহলে তাদের পক্ষে উত্তর দেওয়া খুবই কঠিন হবে। কারণ আমরা যা করি, তারা তা বোঝে না।’

‘আমরা নানা পরিস্থিতি কল্পনা করতে পারি… কিন্তু আমি মনে করি, আলোচনাটি এই ধারণার ওপর নির্ভর করতে হবে যে আমরা যখন মানুষের তুলনায় অনেক বেশি বুদ্ধিমান কিছু তৈরি করবো, তখন কী ঘটবে সে বিষয়ে আমাদের আর কোনো নিয়ন্ত্রণ থাকবে না।’

মাইক্রোসফট এআই-এর প্রধান মুস্তাফা সুলেইমানও সম্প্রতি এ বিতর্কে অংশ নেন। তিনি সতর্ক করেন, এমন এআই ব্যবস্থা তৈরি করা উচিত নয়, যা নিজেই লক্ষ্য নির্ধারণ করতে পারে, অর্থ উপার্জন করতে পারে এবং সম্পদের মালিক হতে পারে।

তিনি বলেন, এর অর্থ হবে ‘মূলত সিলিকনভিত্তিক একটি নতুন প্রজাতির বীজ বপন করা, যা মানবতাকে যতই গুরুত্ব দিক বা ভালোবাসুক না কেন, নিঃসন্দেহে সম্পদের জন্য আমাদের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করতে পারে।’

এসব কতটা বাস্তবসম্মত

সবকিছুই বেশ হতাশাবাদী এবং অনেকটা বিজ্ঞান কল্পকাহিনির মতো শোনায়।

কিন্তু এআই জগতে এমন একটি উল্লেখযোগ্য এবং ক্রমবর্ধমান উচ্চকণ্ঠ গোষ্ঠী রয়েছে, যারা মনে করে এই পরিস্থিতিগুলোর কিছু বা সবই বাস্তব সম্ভাবনা, যদিও সেগুলো অবশ্যম্ভাবী নয়।

সাম্প্রতিক উদ্বেগের পেছনে কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হচ্ছে ওপেন এআই, অ্যানথ্রপিক এবং মেটা-এর এআই এজেন্টগুলোকে ঘিরে সাম্প্রতিক কিছু নিয়ন্ত্রণহীন আচরণ এবং হ্যাকিংয়ের ঘটনা।

সাইবার নিরাপত্তা জগতের কেউ কেউ জোর দিয়ে বলছেন, মডেল নির্মাতাদের দায়িত্ব অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

যুক্তরাষ্ট্রের সাইবার কর্তৃপক্ষ সিআইএসএ-এর সাবেক প্রধান এবং বর্তমানে আন্তর্জাতিক সাইবার নিরাপত্তা সম্মেলন আয়োজনকারী আরএসএ কনফারেন্স-এর প্রধান নির্বাহী জেন ইস্টারলি বলেন, ‘এই যন্ত্রগুলো, নিরলস, অবিরাম লক্ষ্যপূরণে সচেষ্ট এবং অত্যন্ত সক্ষম যন্ত্রগুলো যা-ই করুক না কেন, তা তাদের নির্মাণপদ্ধতির ফল।’

তিনি বলেন, ‘মূল কথা হলো, আপনি যদি প্রযুক্তি নির্মাতা হন, তাহলে নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে আপনার সক্ষমতা নকশা, উন্নয়ন, পরীক্ষা এবং সরবরাহ করা উচিত।’

আবার এমনও অনেকে আছেন, যারা মনে করেন এআইয়ের ঝুঁকি গুরুত্বপূর্ণ হলেও তা মানবজাতির অবসান ঘটানোর পর্যায়ের নয়।

বিজ্ঞানী ও লেখক গ্যারি মার্কাস দীর্ঘদিন ধরে স্বচ্ছতা ও আইনি বিধিনিষেধ ছাড়া বড় এআই কোম্পানিগুলোর কার্যক্রমের সমালোচনা করে আসছেন। তবে তিনি মনে করেন না যে এই প্রযুক্তি মানুষকে নিশ্চিহ্ন করে দেবে।

তিনি বলেন, ‘এআই যদি সত্যিই মানবজাতির ওপর বড় ধরনের ক্ষতি চাপিয়ে দিতো, বা তা করতে চাইতোও, যা নিজেই বড় প্রশ্ন, তাহলে মানুষ পাল্টা প্রতিরোধ করতো।’

‘আমরা সব ডেটা সেন্টার ধ্বংস করে দিতাম এবং বিদ্যুৎকেন্দ্রে বোমা হামলা চালাতাম। তাই সম্পূর্ণ বিলুপ্তি, অর্থাৎ কেউই বেঁচে থাকবে না এবং কেউ পুনর্গঠনও করবে না, এমনটা আমি কল্পনা করতে পারি না।’

মার্কাস মনে করেন, বর্তমানে মানবজাতির বিলুপ্তির সম্ভাব্য পরিস্থিতি নিয়ে অতিরিক্ত মনোযোগ দেওয়া হচ্ছে, অথচ মানুষের বিরুদ্ধে মানুষ এআই ব্যবহার করে ভবিষ্যতে বড় ধরনের সাইবার হামলা চালাতে পারে, এমন তুলনামূলক বেশি সম্ভাব্য সমস্যার দিকে যথেষ্ট নজর দেওয়া হচ্ছে না।

প্রলয়সংকেতমূলক পরিস্থিতিগুলো বাস্তবসম্মত কি না, তা নিয়ে বিতর্ক চললেও ওপেন এআই, অ্যানথ্রপিক এবং মেটাসহ বিভিন্ন এআই প্রতিষ্ঠান এখন প্রকাশ্যে উন্নয়নকাজের গতি কমানো এবং নিরাপত্তাবিষয়ক গবেষণায় বেশি মনোযোগ দেওয়ার বিষয়টি আলোচনা করছে।

লারসেন বলেন, ‘এআই নিরাপত্তা অবশেষে যে গুরুত্ব পাওয়ার যোগ্য ছিল, তা পাচ্ছে দেখে আমি সত্যিই খুব খুশি।’

তিনি যোগ করেন, ‘আমি আশা করছি, এই বড় সামাজিক প্রতিক্রিয়া এমন একটি কার্যকর নীতিগত জবাব তৈরি করবে, যা সত্যিই ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করবে।’

তবে প্রকৃত আন্তর্জাতিক বিধিনিষেধ প্রতিষ্ঠা করতে হলে যুক্তরাষ্ট্র সরকারের পদক্ষেপ প্রয়োজন হবে। আর প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ব্যক্তিগতভাবে তিনি বিশ্বাস করেন এআই নিরাপত্তা নিয়ে ভয়-আশঙ্কা একটি ‘প্রতারণা’।

সূত্র: বিবিসি

 

Ads small one

দেবহাটায় ধর্ম অবমাননার অভিযোগে দু’দিনে তিনদফা গণপিটুনির পর মারা গেল শামীম

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ১৪ অক্টোবর, ২০২৬, ৫:২৭ অপরাহ্ণ
দেবহাটায় ধর্ম অবমাননার অভিযোগে দু’দিনে তিনদফা গণপিটুনির পর মারা গেল শামীম

পত্রদূত রিপোর্ট: ধর্মকে নিয়ে অবমাননাকর মন্তব্যের অভিযোগে সাতক্ষীরার দেবহাটার কুলিয়া এলাকায় ওয়াহিদুজ্জামান শামীম নামের এক ব্যক্তির বাড়ি ভাংচুর করে তিন দফায় গণপিটুনি দিয়ে হত্যা করেছে তৌহিদী জনতা। সোমবার সন্ধ্যায় প্রথম দফ, মঙ্গলবার সন্ধ্যার পূর্বে দ্বিতীয় দফা ও রাত ১০ টার দিকে তৃতীয় গণপিটুনির ঘটনা ঘটে।

আহত শামীমকে সখীপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক ওয়াহিদুজ্জামান সানা ওরফে শামীমকে মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১২ টার দিকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।

নিহত ওয়াহিদুজ্জামান সানা ওরফে শামীম সাতক্ষীরার দেবহাটা উপজেলার বড় শান্তা গ্রামের শামছুর রহমান সানার ছেলে।

নিহতের বড় ভাই আব্দুল জলিল জানান, সোমবার সন্ধ্যায় স্ত্রীর সাথে বচসায় জড়িয়ে পড়ে বিভিন্ন ধরণের গালিগালাজ করে তার মানসিক রোগাক্রান্ত ভাই ওয়াহিদুজ্জামান। এ সময় স্থানীয় একজন অডিও রেকডিং করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেয়। ওই অডিওতে মহানবীকে কটুক্তি সংক্রান্ত কথা আছে দাবি করে দেবহাটার হুজুর ফজলুল হক আমিনী ধর্মীয় ভাই ওয়াহিদুজ্জামান শামীমের বিরুদ্ধে অভিযোগ এনে ফেসবুকে লাইভ করে সোমবার সন্ধ্যায় জনতাকে জড়ো হওয়ার আহ্বান জানান। এর কিছুক্ষণ পর ক্ষুব্ধ কয়েকশত জনতা ওয়াহিদুজ্জামান এর বাড়ি ভাংচুর করে ও তাকে ঘর থেকে মারতে মারতে সুবর্ণাবাদ বাজারের জামায়ত অফিসের সামনে নিয়ে যায়। পরে সে মারাত্মক অসুস্থ অবস্থায় বাড়িতে এসে বিষপান করে। রাতে তাকে কুলিয়া এলাকায় গ্রাম্য চিকিৎসক সবুরের চেম্বারে নিয়ে ওয়াশ করানোর পর সুস্থ হয়ে ওঠে। রাত সাড়ে আটটার দিকে সবুরের চেম্বারের সামনে ফজলুল হক আমিনীসহ জড়ো হন বিক্ষুব্ধরা। সেখানে চিকিৎসাধীন থাকা শামীমকে বের করে গণপিটুনি দেয়। খবর পেয়ে পুলিশ তাকে উদ্ধার করে সখীপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে। রাত সাড়ে ১০ টার দিকে ফজলুল হক আমিনীর নেতৃত্বে এক হাজারের বেশি লোক তৌহিদী জনতার ব্যানার নিয়ে পারুলিয়া বাসস্টান্ড থেকে সখীপুর হাসপাতালে যেয়ে চিকিৎসাধীন ওয়াহেদুজ্জামানকে বাইরে এনে এলোপাতাড়ি পিটিয়ে মৃত ভেবে ফেলে রেখে চলে যায়। পরে পুলিশ এসে তাকে উদ্ধার করে রাত সাড়ে ১২ টার দিকে সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।

মব সৃষ্টির মাধ্যমে আইন হাতে তুলে নিয়ে ভাইকে হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন আব্দুল জলিল। তার ভাইয়ের লাশ মাটি দিতে দেওয়া হবে না বলে হুমকি দেওয়া হচ্ছে।
ঘটনার বিষয়ে ফজলুল হক আমিনী বলেন, আল্লাহ্ রাসুল ও আমাদের ইসলাম ধর্ম নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য দীর্ঘ ৬ মাস ধরে করে আসছিল ওয়াহিদুজ্জামান। প্রতিবেশী বা তার সঙ্গে কেউ কথা বললে ইসলাম বিদ্বেষী কথাবার্তা বলতো। আজ তৌহিদী জনতা গণপিটুনি দিয়ে তাকে পৃথিবী থেকে বিদায় করে দিয়েছে।

নিহতের ছোট ভাই তাহসিভ রহমান সাগর জানান, আমরা পাঁচ ভাই, শামীম চতুর্থ। সে মাদরাসা থেকে কামেল পাশ। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অনার্স মাস্টার্স করেছে। দুটো সন্তান আছে। পারিবারিক সমস্যার কারণে মানসিক রোগী হয়ে গেছে। সুস্থ না, অসুস্থ মানুষ। সে মানসিক ভারসম্যহীন হওয়ার কারণপ ডাঃ ধীরাজ মোহনের কাছে চিকিৎসা নিচ্ছে। কখনো ভালো আবার কখনো খারাপ অস্বাভাবিক আচরণ ও কথাবার্তা বলে। ঔষধপত্র খাচ্ছে। সে যদি কিছু বলে থাকে তাহলে তাকে আইনে বিচার করতো, একটা মানুষকে এভাবে পিটিয়ে মেরে ফেললো? আমরা কিছুই করতে পারিনি। আমরা সামনে যেতে পারিনি গেলে আমাদেরও মারপিট করতো।

দেবহাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এসএম শাহীন জানান, ৯৯৯ এ ফোন পেয়ে সন্ধ্যার আগে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করি। পরে রাত ৯টার দিকে কয়েকশ বিক্ষুব্ধ জনতা মিছিল নিয়ে হাসপাতালে গিয়ে আবারো গণপিটুনি দেয়। আমরা যখন ঘটনাস্থলে পোঁছায় ততক্ষণে বিক্ষোভকারীরা ঘটনাস্থল ত্যাগ করেছে। পরে উদ্ধার করে সাতক্ষীরা মেডিকেলে পাঠালে সেখানকার চিকিৎসক মৃত ঘোষনা করেন।

 

বুধবর দুপুরে লাশের ময়নাতদন্তের জন্য সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
তিনি বলেন, বিক্ষুব্ধ শত শত মানুষ মব সৃষ্টি করেছে। ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হেনেছে এমন অভিযোগের কথা আমি বিক্ষুব্ধদের বলতে শুনেছি। কিন্তু সেটি কি অভিযোগ সেটি আমি এখনো সুনিদৃষ্ট জানতে পারিনি।

সুন্দরবনের ‘সুন্দরী’ কি হারিয়ে যাবে?

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ১৪ অক্টোবর, ২০২৬, ৩:৩১ অপরাহ্ণ
সুন্দরবনের ‘সুন্দরী’ কি হারিয়ে যাবে?

তারিক ইসলাম

‎‘সুন্দরবন’—নামটির সঙ্গে গভীর রক্তের টান যেন ‘সুন্দরী’ গাছের। যে বৃক্ষের সমৃদ্ধি আর বিশালতায় টিকে আছে বিশ্ব ঐতিহ্য সুন্দরবনের মূল সৌন্দর্য ও পরিচয়, সেই সুন্দরী গাছই আজ আক্রান্ত এক মরণব্যাধিতে। বনজুড়ে চলছে গাছগুলোর নীরব বিদায়ের করুণ সুর। কেবল পাতা আর ডালপালা শুকিয়ে যাওয়া নয়, মড়ক ছড়িয়ে পড়ছে মূল কাণ্ড পর্যন্ত। এর পাশাপাশি আশঙ্কাজনকভাবে কমছে নতুন চারা গজানোর হারও। সুন্দরবনের বাস্তুতন্ত্র যে বড় ধরনের পরিবেশগত পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, সুন্দরী গাছের এই অসুস্থতা তারই এক মারাত্মক বার্তা।

‎সম্প্রতি সুন্দরবনের পরিবেশ নিয়ে প্রকাশিত একটি সমীক্ষার ফলাফল পুরো দেশকে শঙ্কিত করে তুলেছে। ২০২৪–২৫ সালে পরিচালিত ‘সুন্দরবনের প্রতিবেশব্যবস্থার পরিবীক্ষণ’ শীর্ষক দুই বছর মেয়াদি সমীক্ষা অনুযায়ী, বনের প্রায় ৩৯ শতাংশ সুন্দরী গাছই এখন ‘আগামরা’ বা ‘টপ-ডাইং’ (Top-Dying) রোগে আক্রান্ত। সব মিলিয়ে আক্রান্ত গাছের আনুমানিক সংখ্যা দাঁড়ায় ১২ কোটি ৯৫ লাখ। সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো, এর মধ্যে দুই কোটিরও বেশি গাছ গুরুতরভাবে মরে যাওয়ার মুখোমুখি।

‎পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সহযোগী প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর এনভায়রনমেন্টাল অ্যান্ড জিওগ্রাফিক ইনফরমেশন সার্ভিসেস (সিইজিআইএস) ও আরণ্যক ফাউন্ডেশনের যৌথ পরিচালনায় এবং শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক অধ্যাপক স্বপন কুমার সরকারসহ বিশেষজ্ঞ দলের গবেষণায় এই ভয়াল চিত্র উঠে এসেছে।

‎সুন্দরবনের প্রায় ৪০ শতাংশ প্রধান বৃক্ষ যখন একযোগে রোগাক্রান্ত হয়, তখন এটি কেবল একটি নির্দিষ্ট উদ্ভিদের সমস্যা থাকে না; পুরো বনের অস্তিত্বকেই হুমকির মুখে ফেলে দেয়। গবেষকেরা দীর্ঘদিন ধরে বলে আসছেন, উজান থেকে আসা মিষ্টি পানির প্রবাহ হ্রাস, জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে সমুদ্রের নোনা পানির অনাকাঙ্ক্ষিত অনুপ্রবেশ এবং মাটির লবণাক্ততা বৃদ্ধি—এসব মিলেই সুন্দরী গাছের জীবনীশক্তি শুষে নিচ্ছে। সুন্দরবনের মিষ্টি পানি ও মৃদু লবণাক্ত পরিবেশের ভারসাম্য বজায় না থাকায় মাটির বায়ুসঞ্চালন কমছে, যা গাছগুলোর গোড়া ও কাণ্ডকে ধীরে ধীরে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দিচ্ছে। তার ওপর ঘন ঘন ঘূর্ণিঝড় ও পলি জমার কারণে বন নিজের প্রাকৃতিক পুনরুৎপাদন ক্ষমতা হারাচ্ছে।

‎

‎সুন্দরবন কেবল নান্দনিক সৌন্দর্যের আধার নয়, এটি বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের কোটি মানুষের জীবন ও সম্পদের প্রাকৃতিক সুরক্ষাবর্ম। প্রলয়ংকরী ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাসের থাবা থেকে বছরের পর বছর বুক দিয়ে বাংলাদেশকে আড়াল করে রেখেছে এই ম্যানগ্রোভ বন। আর সেই বনের মূল কাঠামোর অন্যতম স্তম্ভ সুন্দরী গাছ যদি একে একে উজাড় হয়ে যায়, তবে গোটা উপকূলীয় প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং রয়্যাল বেঙ্গল টাইগারসহ দুর্লভ জীববৈচিত্র্য মারাত্মক ঝুঁকিতে পড়বে।

‎

‎সুন্দরবনের এই নীরব আর্তনাদ আর উপেক্ষা করার সময় নেই। সময় এসেছে সুনির্দিষ্ট ও জরুরি পদক্ষেপ নেওয়ার:

‎

‎১. মিষ্টি পানির প্রবাহ পুনরুদ্ধার: উজান থেকে সুন্দরবনমুখী নদ-নদীগুলোতে মিষ্টি পানির স্বাভাবিক প্রবাহ ফিরিয়ে আনতে আন্তঅঞ্চলীয় ও জাতীয় পানিসম্পদ নীতিতে বিশেষ জোর দিতে হবে।

‎

‎২.পলি নিরসন ও নদী-খাল খনন: বনের অভ্যন্তরীণ যে নদ-নদী ও খালগুলো পলি ভরাট হয়ে মিষ্টি ও নোনা পানির ভারসাম্য নষ্ট করছে, সেগুলো পরিবেশবান্ধব উপায়ে পুনঃখননের উদ্যোগ নিতে হবে।

‎

‎৩.রোগ প্রতিরোধে জোরালো গবেষণা: আগামরা রোগের সঠিক জীবাণু বা অণুজীব শনাক্ত করে তা থেকে সুন্দরী গাছকে রক্ষায় বন অধিদপ্তর এবং বিজ্ঞানীদের সমন্বিত গবেষণা বাড়ানো প্রয়োজন।

‎

‎৪.সুরক্ষিত অঞ্চল ঘোষণা ও নজরদারি: বনের যেসব এলাকায় রোগের প্রাদুর্ভাব বেশি, সেগুলোকে বিশেষ নজরদারির আওতায় এনে নতুন চারা উৎপাদন ও বৃদ্ধির পরিবেশ তৈরি করতে হবে।

‎

‎সুন্দরবন ছাড়া আমাদের মানচিত্রের এক বিরাট অংশকে কল্পনা করা যায় না, আর সুন্দরী গাছ ছাড়া সুন্দরবনের অস্তিত্ব অসম্পূর্ণ। ১২ কোটি ৯৫ লাখ সুন্দরী গাছের রোগাক্রান্ত হওয়া কোনো সাধারণ পরিসংখ্যান নয়, এটি আমাদের প্রকৃতির বিপন্নতার স্পষ্ট সতর্কবার্তা। এখনই যদি কার্যকর ও বিজ্ঞানভিত্তিক সিদ্ধান্ত না নেওয়া হয়, তবে হয়তো মানচিত্রে ‘সুন্দরবন’ নামটি থেকে যাবে, কিন্তু হারিয়ে যাবে তার আসল রূপকার—আমাদের ‘সুন্দরী’।

‎লেখক : তারিক ইসলাম, ‎সভাপতি, সাতক্ষীরা বোটানিক্যাল সোসাইটি।

ডিসেম্বরে খুলনায় চালু হচ্ছে বর্জ্য রিসাইক্লিং প্লান্ট

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ১৪ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:২৭ অপরাহ্ণ
ডিসেম্বরে খুলনায় চালু হচ্ছে বর্জ্য রিসাইক্লিং প্লান্ট
পত্রদূত ডেস্ক: খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলার সলুয়ায় দেশের প্রথম বর্জ্য রিসাইকেল প্ল্যান্টের পাইরোলাইসিস প্রযুক্তির পরীক্ষামূলক প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। গত ৩ অক্টোবর এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয় এবং ফলাফল সন্তোষজনক বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা। ফলে সবঠিক থাকলে ডিসেম্বরে প্রকল্পটির কার্যক্রম সম্পূর্ণরূপে চালু হবে।
প্রকল্পটি চালু হলে একইসঙ্গে মিলবে সার, তেল, গ্যাস ও বিদ্যুৎ। এটি পরিচালনার জন্য দেশের স্বনামধন্য বেসরকারি একটি কোম্পানির সঙ্গে আলোচনা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
খুলনা সিটি কর্পোরেশন প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা আনিসুর রহমান বলেন, প্রকল্পটি এলজিইডি এবং কেসিসির যৌথ সমন্বয়ে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে ফাস্ট ট্রায়াল দেওয়া হয়েছে, এটি চলমান থাকবে।
তিনি বলেন, এটি চালাবে প্রফেশনাল প্রাইভেট অপারেটর। ইতোমধ্যে কোম্পানি নিযুক্ত করা হয়েছে। এটি থেকে সার, জ্বালানি তেল ও বায়োগ্যাসের মাধ্যমে বিদ্যুৎ উৎপাদন হবে। উৎপাদিত বিদ্যুৎ, প্লান্টের চাহিদা মেটাতে সহায়তা করবে। আশা করছি, আগামী ডিসেম্বরে চালু করা সম্ভব হবে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সলিড ওয়েস্ট ম্যানেজমেন্ট প্লান্টের কম্পোস্ট ও পাইরোলাইসিস প্লান্টের যন্ত্রকৌশল ম্যাটারিয়ালস এ্যান্ড ম্যাটালোজিক্যাল ও ইলেকট্রিক্যাল বিষয়ে কারিগরি সহায়তার জন্য বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি গবেষণা ইনস্টিটিউটের অভিজ্ঞ পাঁচ প্রকৌশলীকে নিয়ে গঠিত হয়েছে একটি টিম। টিমের সদস্যরা প্রযুক্তির পরীক্ষামূলক কার্যক্রম সরজমিনে পর্যবেক্ষণে গত ১ অক্টোবর খুলনায় আসেন। ৩ অক্টোবর সন্ধ্যায় পরীক্ষা শেষে তারা ঢাকায় ফিরে যান।
টিমের সদস্যরা হলেন বাংলাদেশ শিল্প কারিগরি সহায়তা কেন্দ্রের (বিটাক) প্রাক্তন মহাপরিচালক ড. ইনসানুল করিম, প্রাক্তন সিনিয়র প্রকৌশলী একেএম শামসুল হুদা, প্রাক্তন নির্বাহী প্রকৌশলী, সানইয়ার্ড গ্রুপ বর্তমানে ন্যাশনাল কেমিক্যাল ম্যানুফাকচারিং কোঃ লিঃ-এর ডিএমডি প্রকৌশলী মোঃ আব্দুল জব্বার, প্রাক্তন সিনিয়র প্রকৌশলী মোঃ আশরাফ উদ্দিন, বাংলাদেশ বিজ্ঞান ও শিল্প গবেষণা পরিষদের (বিসিএসআইআর) প্রাক্তন চিফ সাইন্টিফিক অফিসার ও ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির প্রফেসর ড. মোঃ আব্দুল গফুর। প্রতিনিধি দলের চারজন বুয়েট এবং বাকি একজন চুয়েটের প্রাক্তন শিক্ষার্থী। যারা সবাই শিল্প প্রতিষ্ঠানের প্লান্ট মেশিনারি ডিজাইনার।
প্রতিনিধি দলের সদস্যরা কার্যক্রমের ফলাফল পর্যালোচনা করে মতামত প্রকল্প পরিচালককে অবহিত করবেন বলে জানিয়েছেন প্রকল্প ম্যানেজার প্রকৌশলী পিন্টু মন্ডল। তিনি বলেন, প্রকল্পের পরীক্ষামূলক কার্যক্রম সরজমিনে পর্যবেক্ষণের জন্য বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি গবেষণা ইনস্টিটিউটের প্রতিনিধি দল এসেছিলেন। তারা ২/৩ দিন এখানে ছিলেন। তাদের ক্লান্তির কারণে ৩৬ ঘণ্টা পাইরোলাইসিস করা হয়নি।
পাইরোলাইসিসের প্রসেস অনুযায়ী ৬ ঘণ্টা পর তেল আসা শুরুর ২/৩ ঘণ্টা মেশিন চালানোর পর বন্ধ করা হয়। এ সময়ের মধ্যে পলিথিন এবং প্লাস্টিক রিসাইক্লিংয়ের মাধ্যমে পাইরোলাইসিস প্রযুক্তির মাধ্যমে উৎপাদিত জ্বালানি তেলের মধ্য থেকে ১০ লিটার তেল পরীক্ষার জন্য স্যারেরা ঢাকায় নিয়ে গেছেন। সেখানে তারা নিজেদের মধ্যে পর্যালোচনা করে মিটিং করে মতামত প্রকল্পের পরিচালক স্যারকে জানাবেন। প্রকল্পের পরীক্ষামূলক ফলাফল সফল হয়েছে বলা যায়।
এর আগে গত ১ অক্টোবর পরীক্ষামূলক কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন কেসিসি প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু। এরপর মেশিনারিজ সম্পূর্ণ সেট আপের পর শনিবার সকালে পরীক্ষামূলকভাবে এ প্রযুক্তির কার্যক্রম শুরু হয়। শেষ হয় সন্ধ্যায়।
বিগত ২০২৩ সালের জানুয়ারিতে শলুয়া বাজার-সংলগ্ন ১৭ একর জমিতে প্রকল্পটির কার্যক্রম শুরু হয়। খুলনা সিটি কর্পোরেশন (কেসিসি) ও স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) যৌথভাবে প্রকল্পটির উদ্যোক্তা। দ্বিতীয় নগর অঞ্চল উন্নয়ন প্রকল্প (সিআরডিপি-২)’র আওতায় এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক (এডিবি) ও বাংলাদেশ সরকার যৌথভাবে এটিতে অর্থায়ন করেছে। প্রকল্পটির মোট ব্যয় ৫৩ কোটি টাকা। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মাহবুব ব্রাদার্স প্রাইভেট লিমিটেড কাজটি বাস্তবায়ন করছে।
প্রকল্প সূত্রে জানা গেছে, তিন ধরনের বর্জ্য থেকে তিন ধরনের পণ্য উৎপাদন হবে। গৃহস্থালির পচনশীল বর্জ্য থেকে তৈরি হবে জৈব সার, পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর পলিথিন ও প্লাস্টিক রিসাইকেল করে উৎপাদন করা হবে জ্বালানি তেল এবং কাঁচাবাজার থেকে সংগৃহীত বর্জ্য থেকে তৈরি বায়োগ্যাস দিয়ে উৎপাদন করা হবে বিদ্যুৎ। অত্যাধুনিক পাইরোলাইসিস প্রযুক্তি ব্যবহারে বায়ু দূষণের কোনো শঙ্কা নেই বলে জানিয়েছেন প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা।
সংশ্লিষ্টরা জানান, প্রকল্পটি চালু হলে প্রতিদিন ২০ টন জৈব সার, ৪ হাজার ৮০০ লিটার জ্বালানি তেল এবং উৎপাদিত বায়োগ্যাস থেকে সাড়ে ৪০০ কিলোওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করা সম্ভব হবে। উৎপাদিত তেল ও বিদ্যুৎ প্ল্যান্টের নিজস্ব চাহিদা মিটিয়ে অন্যত্র সরবরাহ করা হবে। প্রতি ব্যাচ বর্জ্য প্রক্রিয়াকরণে সময় লাগবে এক সপ্তাহ।
খুলনা সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু বলেন, ডুমুরিয়া উপজেলার সলুয়ায় স্থাপিত বর্জ্য রিসাইক্লিং প্লান্ট আগামী ডিসেম্বরে চালু হচ্ছে। একইসঙ্গে বটিয়াঘাটা উপজেলার মাথাভাঙ্গায় আরও একটি বর্জ্য রিসাইক্লিং প্লান্ট চালুর অপেক্ষায় রয়েছে। একই সঙ্গে রাজবাঁধ ট্রেন্সিং গ্রাউন্ডে মেডিকেল বর্জ্য শোধনাগার প্লান্টও শিগগিরই চালু হচ্ছে। এই তিনটি রিসাইক্লিং প্লান্ট চালু হলে মহানগরীর বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় নতুন দ্বার উন্মোচিত হবে।