শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬, ২৬ আশ্বিন ১৪৩৩
শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬, ২৬ আশ্বিন ১৪৩৩

এক জীবনের আলোছায়া—নকিপুরের নোনাজলে শিক্ষক কৃষ্ণানন্দের স্বপ্নযাত্রা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল, ২০২৬, ৯:৫০ পূর্বাহ্ণ
এক জীবনের আলোছায়া—নকিপুরের নোনাজলে শিক্ষক কৃষ্ণানন্দের স্বপ্নযাত্রা

এসএম শহীদুল ইসলাম : সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার সুন্দরবনের কোলে নকিপুর পাইলট মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের গেট দিয়ে ঢুকলেই এখন চোখে পড়ে সারি সারি দেবদারু গাছ। বাতাসে দুলছে আম-লিচুর মুকুল, কামরাঙা আর আমলকির ভারে নুয়ে পড়া ডালগুলো যেন এক একটি সফল গল্পের সাক্ষী। তবে এই বাগানের কারিগর আজ আর দাপ্তরিক চেয়ারে নেই। গত ১৫ মার্চ ২০২৪ তারিখে তিনি অবসর নিয়েছেন। কিন্তু ২১ এপ্রিল ২০২৬ থেকে শুরু হওয়া এসএসসি পরীক্ষার ডামাডোল যেন আবারও টেনে নিয়ে যাচ্ছে তাকে সেই চিরচেনা ব্ল্যাকবোর্ড আর চক-ডাস্টারের ঘ্রাণে।

বিদ্যালয়ের ঘণ্টাধ্বনি থেমে যায়, কিন্তু কিছু মানুষের জীবন থেকে শিক্ষা কখনো বিদায় নেয় না। শ্রেণিকক্ষের ব্ল্যাকবোর্ড, পরীক্ষার খাতা, বারান্দায় ছুটে চলা কিশোরীদের হাসি—সব মিলিয়ে যে জীবন, তারই এক নিবেদিত প্রতিচ্ছবি কৃষ্ণানন্দ মুখার্জি।

২০১০ সালের ২৬ জুলাই, নকিপুর পাইলট মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছিলেন তিনি। আর দীর্ঘ প্রায় দেড় দশক পর, ২০২৪ সালের ১৫ মার্চ অবসর নেন। এই সময়টুকু যেন তাঁর ব্যক্তিগত জীবনের নয়—পুরোটাই ছিল একটি প্রতিষ্ঠানকে ঘিরে স্বপ্ন বুননের গল্প।

তিনি বলেন, দায়িত্ব নেওয়ার পর নিজের কথা ভাবার অবকাশ ছিল না এক দিনের জন্যও। বিদ্যালয়ের শ্রীবৃদ্ধি, শিক্ষার মানোন্নয়ন, পরীক্ষাকেন্দ্র আধুনিকায়ন—প্রতিটি ধাপে ছিল তাঁর নিরলস পরিশ্রম। এসএসসি ও তৎকালীন জেএসসি পরীক্ষার কেন্দ্র নতুনভাবে গড়ে তোলার কাজ ছিল সবচেয়ে চ্যালেঞ্জিং। বহু প্রতিকূলতা পেরিয়ে সেই কেন্দ্র আজ একটি পরিপূর্ণ কাঠামো—যেখানে ২১ এপ্রিল থেকে শুরু হয়েছে ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষা।

বিদ্যালয়ের পরিকাঠামোতেও এসেছে আমূল পরিবর্তন। তাঁর হাত ধরেই নির্মিত হয়েছে পাঁচতলা আধুনিক ভবন। প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষায় এগিয়ে নিতে গড়ে তোলা হয়েছে আইসিটি সমৃদ্ধ পরিবেশ—৭টি স্মার্ট বোর্ড, ২১টি ল্যাপটপ, ৫টি ডেস্কটপ, রোবটিক কর্নার, ব্রডকাস্টিং সিস্টেম, সিসি ক্যামেরা—সব মিলিয়ে এক আধুনিক শিক্ষাঙ্গন।

শুধু পাঠ্যপুস্তকের ভেতরেই সীমাবদ্ধ থাকেনি এই বিদ্যালয়। সংগীত চর্চার জন্য হারমোনিয়াম, তবলা, স্কাউটসের জন্য ড্রামসেট—সহপাঠ্যক্রমিক কার্যক্রমেও ছিল সমান গুরুত্ব। জাতীয় দিবস কিংবা উপজেলা প্রশাসনের আয়োজিত প্রতিযোগিতায় বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা প্রায়ই অর্জন করেছে শ্রেষ্ঠত্ব।

প্রকৃতির ছোঁয়াও যেন জড়িয়ে আছে এই প্রতিষ্ঠানের প্রতিটি কোণে। বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে লাগানো আম, লিচু, কামরাঙ্গা, আমলকি, সুপারি ও নারিকেল গাছে এখন ফলের সমারোহ। সারি সারি দেবদারু গাছ শোভা বাড়িয়েছে শিক্ষাঙ্গনের। পাকা রাস্তা, সীমানা প্রাচীর ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন প্রতিষ্ঠানটিকে দিয়েছে পূর্ণতা।

এই অর্জনের স্বীকৃতিও এসেছে বারবার। জাতীয় শিক্ষা সপ্তাহে ছয়বার শ্রেষ্ঠ প্রতিষ্ঠান হিসেবে নির্বাচিত হয়েছে বিদ্যালয়টি। শিক্ষক-শিক্ষার্থী উভয়েই বিভিন্ন ক্ষেত্রে কৃতিত্ব অর্জন করেছেন। কৃষ্ণানন্দ মুখার্জি নিজেও একবার হয়েছেন শ্রেষ্ঠ প্রধান শিক্ষক।

তাঁর কর্মজীবন শুধু একটি প্রতিষ্ঠানে সীমাবদ্ধ নয়। ১৯৮৩ সালে কলবাড়ী নেকজানিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকতার মাধ্যমে যাত্রা শুরু। এরপর ২২ বছর নকিপুর সরকারি হরিচরণ পাইলট মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক ও সহকারী প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। দীর্ঘ ৩৫ বছর তিনি ছিলেন বিভিন্ন পাবলিক পরীক্ষার দায়িত্বে—কখনো কেন্দ্র সচিব, কখনো গুরুত্বপূর্ণ তত্ত্বাবধায়ক।

পেশাগত জীবনের পাশাপাশি সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডেও ছিলেন সক্রিয়। সাতক্ষীরা জেলা শিক্ষক-কর্মচারী কল্যাণ সমিতির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন এখনো। এছাড়া শ্যামনগর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতি, শিক্ষক-কর্মচারী কল্যাণ সমিতি ও স্কাউটসের কমিশনার হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন।

এই পথচলায় তিনি পেয়েছেন আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতার স্বাদও—থাইল্যান্ডে ১৩ দিনের স্টাডি ট্যুর এবং মালয়েশিয়ায় আইসিটি প্রশিক্ষণ তাঁর দৃষ্টিভঙ্গিকে করেছে আরও প্রসারিত।

 অবসর জীবনের নির্জনতায় দাঁড়িয়ে যখন আবার শুরু হয়েছে এসএসসি পরীক্ষা, তখন স্মৃতিরা যেন ফিরে আসে একে একে। পরীক্ষাকেন্দ্রের প্রতিটি ইট, প্রতিটি বেঞ্চ যেন তাঁর শ্রমের সাক্ষী হয়ে কথা বলে।

কৃষ্ণানন্দ মুখার্জির কণ্ঠে মিশে থাকে এক ধরনের নীরব আবেগ—

“সবকিছু এখন স্মৃতি। তবু মনে হয়, এই বিদ্যালয়টাই আমার জীবনের সবচেয়ে বড় পরিচয়।”

সময়ের স্রোতে অনেক কিছুই বদলে যায়। কিন্তু কিছু মানুষের শ্রম, নিষ্ঠা আর ভালোবাসা—একটি প্রতিষ্ঠানের দেয়ালে দেয়ালে অমলিন হয়ে থাকে চিরকাল।##

Ads small one

শাবনূরের অনুরোধে সিডনির রাস্তায় গান গাইলেন রবি চৌধুরী

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ১০ অক্টোবর, ২০২৬, ১:১০ পূর্বাহ্ণ
শাবনূরের অনুরোধে সিডনির রাস্তায় গান গাইলেন রবি চৌধুরী

দুই ভুবনের দুই বাসিন্দা রবি চৌধুরী ও শাবনূর। একজন গায়ক, অন্যজন অভিনেত্রী। তবে দুজনের মধ্যে রয়েছে বন্ধুত্ব। শুক্রবার (৯ অক্টোবর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাদের সেই বন্ধুত্বের দৃশ্য আবারও দেখা গেল। ফেসবুকের একটি ভিডিওতে দেখা যায়, সিডনির রাস্তায় গাড়ি চালাচ্ছেন অভিনেত্রী, পাশে বসে গান শোনাচ্ছিলেন গায়ক। পেছনের আসনে শাবনূরের একমাত্র ছেলে আইজান নেহান।

শাবনূর দীর্ঘদিন ধরেই অস্ট্রেলিয়ায় আছেন। এদিকে সম্প্রতি স্টেজ শোতে গাইতে সেখানে গেছেন রবি চৌধুরী। তার আসার খবরে শাবনূর আগেই থেকেই ঠিক করে রেখেছিলেন একসঙ্গে ঘুরবেন। শুক্রবার সেই পরিকল্পনা বাস্তবে রূপ নিলো। সিডনির বিভিন্ন মনোরম জায়গা রবিকে ঘুরিয়ে দেখালেন তিনি।

এ সময় শাবনূরের অনুরোধে তার খুব পছন্দের গান ‘যেভাবেই তুমি সকাল দেখো’ গেয়ে শোনান রবি চৌধুরী। পরে গাড়ি থেকে নেমে শাবনূরের অনুরোধে গেয়ে ওঠেন ‘ভালোবাসি তোমাকে’ সিনেমার জনপ্রিয় গান ‘অনেক সাধনার পরে আমি পেলাম তোমার মন’।

শাবনূর ও রবি চৌধুরীর জন্মদিনও একই দিনে—১৭ ডিসেম্বর। এর আগে শাবনূর ঢাকায় এলে রবি চৌধুরীর বাসায় একসঙ্গে জন্মদিন উদযাপন করেছেন তারা। সময়ের সঙ্গে দুজনের জীবনের গতিপথ বদলেছে, বদলে গেছে ঠিকানাও; কিন্তু বন্ধুত্ব রয়ে গেছে আগের মতোই।

সামাজিক মাধ্যমে সিডনিতে কাটানো সময়ের ভিডিও প্রকাশ করে শাবনূর লিখেছেন, ‘সিডনিতে প্রিয় সংগীতশিল্পী রবি চৌধুরীকে কাছে পেয়ে ফিরে গেলাম ‘ভালোবাসি তোমাকে’ চলচ্চিত্রের সেই মধুর স্মৃতিতে। ছবিটির জনপ্রিয় গান ‘অনেক সাধনার পরে আমি পেলাম তোমার মন’, যার মূল শিল্পী ছিলেন খালিদ হাসান মিলু ও কনকচাঁপা।

প্রিয় রবি চৌধুরীর কণ্ঠে আজ সেই গানটির দুই লাইন শুনে নস্টালজিয়ায় ডুবে গেলাম। বাংলা আধুনিক গানের জনপ্রিয় এই শিল্পীর সঙ্গে সিডনিতে কাটানো সুন্দর মুহূর্তগুলো স্মরণীয় হয়ে থাকবে।’

ভালোবাসি তোমাকে ছবিটির পরিচালক মহম্মদ হান্নান আর গানটির গীতিকার ও সুরকার ছিলেন আহমেদ ইমতিয়াজ বুলবুল।

ভারতের ২৪৯ রান টপকে ওয়েস্ট ইন্ডিজের অবিশ্বাস্য জয়

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ১০ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:২৬ পূর্বাহ্ণ
ভারতের ২৪৯ রান টপকে ওয়েস্ট ইন্ডিজের অবিশ্বাস্য জয়

দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টিতে জয়ের জন্য প্রয়োজন ২৫০। এমন কঠিন লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুতেই জোড়া ধাক্কা খেয়েছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ। কিন্তু শাই হোপের দুর্দান্ত সেঞ্চুরি আর শেরফান রাদারফোর্ডের বিধ্বংসী ইনিংসে সব হিসাব পাল্টে দিলো ক্যারিবীয়রা। শুক্রবার রাঁচিতে ভারতকে ৬ উইকেটে হারিয়ে পাঁচ ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজে ১-১ সমতা ফিরিয়েছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে এটিই তাদের সর্বোচ্চ রান তাড়া করে জয়।

পুরুষদের আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে সফল রান তাড়ার তালিকায় অবশ্য এটি দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। ২০২৩ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ২৫৯ রান তাড়া করে জিতেছিল দক্ষিণ আফ্রিকা। এবার ভারতের ২৪৯ রান পেরিয়ে সেই তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে উঠে এলো ওয়েস্ট ইন্ডিজ।

বিশাল লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে প্রথম ওভারেই বিপাকে পড়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। পেসার মায়াঙ্ক যাদব পরপর দুই বলে ফেরান কামিল পুরান ও শিমরন হেটমায়ারকে। পরে ২৪ রান করা রোভম্যান পাওয়েলকেও ফিরিয়ে দেন তিনি।

এরপর ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেন হোপ ও রাদারফোর্ড। চতুর্থ উইকেটে ১২০ রানের ঝড়ো জুটি গড়ে ভারতীয় বোলারদের ওপর পাল্টা আক্রমণ চালান তারা।

৩৮ রানে থাকতে মায়াঙ্ক যাদবের সহজ ক্যাচে জীবন পান রাদারফোর্ড। জীবন পেয়ে পরে আরও ভয়ংকর হয়ে ওঠেন রাদারফোর্ড। মাত্র ৩৭ বলে ৮৪ রান করে দলকে জয়ের পথে এগিয়ে নেন তিনি। শেষ পর্যন্ত কুলদীপ যাদবের বলে আউট হন এই বাঁহাতি ব্যাটার। তার ইনিংসে ছিল ৭টি চার ও ৭টি ছয়।

তবে এক প্রান্ত আগলে রেখে রান তোলার গতি ঠিকই ধরে রাখেন হোপ। রোমারিও শেফার্ডকে সঙ্গে নিয়ে দলকে জয়ের বন্দরে পৌঁছে দেন তিনি। ৪৫ বলে ১০২ রানে অপরাজিত থাকেন হোপ। তার ইনিংসে ভর করেই ৯ বল হাতে রেখে লক্ষ্যে পৌঁছে যায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ। হোপের ইনিংসে ছিল ৬টি চার ও ৯টি ছয়।

এর আগে স্যামসনের ৪১ বলে ৮২ রানের ইনিংসে ৫ উইকেটে ২৪৯ রান তুলেছিল ভারত। ইনিংসের শুরুতে অভিষেক শর্মা ও স্যামসনের আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ে মাত্র চার ওভারের কম সময়ে ৪২ রান তুলে ফেলে স্বাগতিকরা।

তবে সেই ঝড়ো শুরু থামান রোস্টন চেজ। অভিষেককে (২০) ফেরানোর পর ৪৩ রান করা ঈশান কিষান ও শিবম দুবেকেও (৭) আউট করেন তিনি। শামার স্প্রিঙ্গারের শিকার হন স্যামসন (৮২)।

শেষ দিকে আবারও রান তোলার গতি বাড়ায় ভারত। শ্রেয়াস আইয়ার ও তিলক বর্মা মাত্র ৩২ বলে ৮৩ রানের জুটি গড়েন। আইয়ার ১৮ বলে করেন ৪০ রান। ইনিংসের শেষ ওভারের আগের বলে আউট হন তিনি। তাতে ভারতের সংগ্রহ দাঁড়ায় ৫ উইকেটে ২৪৯ রান। তিলক ১৮ বলে ৪৪ রানে অপরাজিত থাকেন। ক্যারিবীয়দের হয়ে ২৪ রানে ৩ উইকেট নেন রোস্টন চেজ। ৬৪ রানে দুটি নেন শামার স্প্রিঙ্গার।

সিরিজের তৃতীয় টি-টোয়েন্টি হবে রবিবার।

শান্তিতে নোবেলজয়ী নাভি পিল্লাইকে ‘কট্টর বর্ণবাদী ও দুর্নীতিগ্রস্ত’ বলে মন্তব্য নেতানিয়াহুর

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ১০ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:২২ পূর্বাহ্ণ
শান্তিতে নোবেলজয়ী নাভি পিল্লাইকে ‘কট্টর বর্ণবাদী ও দুর্নীতিগ্রস্ত’ বলে মন্তব্য নেতানিয়াহুর

চলতি বছরের নোবেল শান্তি পুরস্কার বিজয়ী আন্তর্জাতিক আইনের প্রখ্যাত প্রবক্তা ও দক্ষিণ আফ্রিকার সাবেক বিচারপতি নাভি পিল্লাইকে ‘কট্টর বর্ণবাদী’ ও ‘দুর্নীতিগ্রস্ত কৌঁসুলি’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর কার্যালয়। ইসরায়েল গাজায় গণহত্যা চালাচ্ছে, পিল্লাইয়ের এমন মন্তব্যের জের ধরে এ প্রতিক্রিয়া জানায় দেশটি।

শুক্রবার পিল্লাইয়ের নোবেল বিজয়ের ঘোষণার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে নেতানিয়াহুর কার্যালয় জানায়, নোবেল প্রাইজ কমিটি তাদের নৈতিক দিকনির্দেশনা হারিয়ে ফেলেছে। তারা এমন একজন কট্টর বর্ণবাদীকে তাদের সর্বোচ্চ সম্মান প্রদান করেছে, যিনি একমাত্র ইহুদি রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে কুৎসা রটনা ও অপপ্রচার চালিয়ে ক্যারিয়ার গড়েছেন।

একই সঙ্গে পিল্লাই ইহুদিদের প্রতি বিদ্বেষ ও কুৎসা রটাতে উসকানি দিয়েছেন বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।

জাতিসংঘের অধীনে গঠিত ইন্ডিপেন্ডেন্ট ইন্টারন্যাশনাল কমিশন অব ইনকোয়ারি অন দ্য অকুপাইড প্যালেনস্টাইন টেরিটরি-এর প্রধান হিসেবে নেতৃত্ব দেন ৮৫ বছর বয়সী নাভি পিল্লাই। অবশ্য এই কমিশনটি জাতিসংঘের মূল প্রতিনিধি হিসেবে সরাসরি কথা বলে না। তবে গত বছর এক প্রতিবেদনে কমিশনটি উল্লেখ করে যে, ইসরায়েল গাজায় গণহত্যা সংঘটিত করছে।

সূত্র: এএফপি