বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬, ১১ আষাঢ় ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬, ১১ আষাঢ় ১৪৩৩

এফ গ্রুপে শীর্ষস্থানের দৌড়ে নেদারল্যান্ডস, জাপান ও সুইডেন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন, ২০২৬, ৭:১৭ অপরাহ্ণ
এফ গ্রুপে শীর্ষস্থানের দৌড়ে নেদারল্যান্ডস, জাপান ও সুইডেন

বিশ্বকাপে শেষ রাউন্ডের ম্যাচে কাল ভোরে একই সময়ে মাঠে নামছে এফ গ্রুপের চারটি দল। আর সেই গ্রুপ এখনও পুরোপুরি উন্মুক্ত। নেদারল্যান্ডস, জাপান এবং সুইডেন—তিন দলেরই শীর্ষস্থানে থেকে শেষ করার সুযোগ রয়েছে।

কানসাস সিটিতে কাল ভোর ৫টায় নেদারল্যান্ডস মুখোমুখি হবে দুর্বল তিউনিসিয়ার, যারা টানা দুটি ম্যাচে চার গোল হজম করে হেরেছে এবং প্রথম ম্যাচের পরই তাদের কোচকে বরখাস্ত করেছে।

সুইডেনের কাছে ৫-১ ব্যবধানে হারের পর সাবরি লামুশিকে বরখাস্ত করে হার্ভে রেনার্ডকে দায়িত্ব দেয় তারা। কিন্তু তার আগমনও তিউনিসিয়ার ভাগ্য বদলাতে পারেনি। জাপানের কাছে ৪-০ গোলে হেরে টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নিয়েছে।

আর্লিংটনে সুইডেনের বিপক্ষে ম্যাচের আগে জাপানের ও নেদারল্যান্ডসের উভয়ের পয়েন্ট চার। বিশ্বকাপের শুরুতে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স দেখালেও সুইডেন পরের ম্যাচে নেদারল্যান্ডসের কাছে ৫-১ গোলে বিধ্বস্ত হয়েছে।

এদিকে শতভাগ জয়ের রেকর্ড অক্ষুণ্ন রাখতে শেষ রাউন্ডের ম্যাচে আজ রাত ২টায় নামছে জার্মানি। কাল সকাল ৮টায় মাঠে নামছে অন্যতম আয়োজক যুক্তরাষ্ট্রও।

গ্রুপ ডিতে প্যারাগুয়ে ও অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে যুক্তরাষ্ট্র এক ম্যাচ হাতে রেখেই শীর্ষস্থান নিশ্চিত করেছে। লস অ্যাঞ্জেলেসে ইতোমধ্যে বিদায় নেওয়া তুরস্কের বিপক্ষে তারা সেই ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে চাইবে।

২০০২ সালের পর থেকে যুক্তরাষ্ট্র কোনো বিশ্বকাপের কোয়ার্টার-ফাইনালে পৌঁছাতে পারেনি। তবে এবারের শক্তিশালী সূচনা তাদের ঘরের মাটিতে অনেক দূর যাওয়ার আশা বাড়িয়েছে।

একই গ্রুপে কাল সকাল ৮টায় সান্তা ক্লারায় অস্ট্রেলিয়া ও প্যারাগুয়ে দ্বিতীয় স্থান নির্ধারণের লড়াইয়ে মুখোমুখি হবে। ড্র হলে গোল ব্যবধানের কারণে অস্ট্রেলিয়া সুবিধা পাবে, তবে সেটি সম্ভবত প্যারাগুয়েকেও পরবর্তী রাউন্ডে পাঠানোর জন্য যথেষ্ট হবে।

অন্যদিকে, জার্মানি কুরাসাও ও আইভরি কোস্টকে হারিয়ে গ্রুপ ই-এর শীর্ষস্থান নিশ্চিত করেছে। ফলে আগের দুই বিশ্বকাপে প্রথম রাউন্ডেই বিদায় নেওয়ার হতাশা তারা অনেকটাই পেছনে ফেলেছে। এবার তারা বড় লক্ষ্যে এমন এক ইকুয়েডর দলের মুখোমুখি হবে, যাদের টুর্নামেন্টে টিকে থাকতে হলে জয় ছাড়া উপায় নেই।

একই গ্রুপে আইভরি কোস্ট দ্বিতীয় হওয়ার পথে রয়েছে এবং তারা অভিষিক্ত কুরাসাওকে হারানোর লক্ষ্য নিয়ে নামবে।

Ads small one

মাদকবিরোধী দিবস : সাতক্ষীরার প্রান্তিক মরণোৎসব

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন, ২০২৬, ১১:০৫ অপরাহ্ণ
মাদকবিরোধী দিবস : সাতক্ষীরার প্রান্তিক মরণোৎসব

আখলাকুর রহমান

গাছের পাতায় আষাঢ়ের প্রথম মেঘের ছায়া নামার আগেই বিশ্বজুড়ে ঢাকঢোল পিটিয়ে পালিত হচ্ছে মাদকদ্রব্যের অপব্যবহার ও অবৈধ পাচারবিরোধী আন্তর্জাতিক দিবস। ১৯৮৭ সালে জাতিসংঘ নামের সেই মস্ত বড় বৈশ্বিক পর্ষদটি খাতা-কলমে প্রস্তাব পাস করে ২৬শে জুন তারিখটিকে ক্যালেন্ডারের পাতায় লাল দাগ দিয়ে চিহ্নিত করেছিল। এই উদযাপনের একটা ঐতিহাসিক গৌরবও আছে; চীনের কিং রাজবংশের আমলে লিন জেক্সু নামের এক অকুতোভয় ম্যান্ডারিন যখন ক্যান্টন বন্দরে ব্রিটিশ বণিকদের আনা জাহাজ জাহাজ আফিম পুড়িয়ে ছাই করে দিয়েছিলেন, সেই ঔপনিবেশিকতাবিরোধী প্রতিরোধকে সম্মান জানাতেই এই দিবসের পত্তন।

 

ইতিহাস আমাদের চোখে আঙুল দিয়ে দেখায় যে, মাদক কেবল মানুষের স্নায়ুতন্ত্রকে অবশ করে না, ওটা একটা গোটা সমাজ, রাষ্ট্র এবং তরতাজা প্রজন্মকে ভেতরে ভেতরে ফোঁকড় করে ফেলে। আজ এই দিবসের রাষ্ট্রীয় কাগুজে স্লোগানের পাশে দাঁড়িয়ে যখন আমাদের নিজেদের সীমান্তঘেঁষা জেলা সাতক্ষীরার দিকে তাকাই, তখন মেরুদ- বেয়ে এক তীব্র আতঙ্কের গ্রোত নেমে যায়।

আমাদের সাতক্ষীরার প্রত্যন্ত গ্রামীণ জনপদগুলোর বর্তমান চেহারা বড় রূঢ়, বড় নির্মম। যে গ্রামগুলো একসময় ফজরের আজানের পবিত্র সুর, মসজিদের মক্তবে শিশুদের সুমধুর কুরআন তেলাওয়াত, চ-ীম-পের আড্ডা আর জারি-সারির শান্ত স্নিগ্ধতায় এক পরম আত্মিক শান্তিতে বেঁচে থাকত, আজ সেখানে এক অদ্ভুত ও বিষাক্ত নৈঃশব্দ্য। ইসলামের যে অমোঘ শিক্ষা মানুষের আত্মশুদ্ধি নিশ্চিত করত, যুবসমাজকে দেখাত নৈতিকতার সরল পথ, সেই চিরন্তন মূল্যবোধকে আজ ভুলিয়ে দেওয়া হচ্ছে। পরিস্থিতি আজ এমন এক জঘন্য পর্যায়ে ঠেকেছে যে, গ্রামের পর গ্রাম মেপে প্রতি একশোটি বসতবাড়ি পার হতেই কোনো না কোনো ঝোপের আড়ালে, কিংবা ভাঙা চায়ের দোকানের পেছনে গাঁজা, ফেনসিডিল, ইয়াবা বা আইসের মতো মরণনেশার কেনাবেচা চোখে পড়ে।

 

সীমান্ত অঞ্চলের ভৌগোলিক দুর্বলতাকে পুঁজি করে একদল ফড়িয়া ও চোরাকারবারি এ দেশের চালিকাশক্তি যুবসমাজের মগজে এই বিষ ঢুকিয়ে দিচ্ছে। আমাদের স্থানীয় প্রশাসন মাঝেমধ্যে লোকদেখানো দুই-চারটে ঝটিকা অভিযান চালায়, কিছু চুনোপুঁটি ধরে বাহবা নেয়; কিন্তু এই লৌকিক তৎপরতা দিয়ে ব্যাধির আসল শেকড় উপড়ানো কোনোদিনই সম্ভব নয়। রাষ্ট্র ও প্রশাসন যদি সত্যি এই সর্বনাশা খেলা বন্ধ করতে চায়, তবে তাদের নজরদারি শহরকেন্দ্রিক শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত কক্ষ থেকে বের করে প্রান্তিক গ্রামের ধুলোবালিতে নামিয়ে আনতে হবে। মাদকের আসল গডফাদার ও পৃষ্ঠপোষকদের রাজনৈতিক বা সামাজিক ক্ষমতার ঠাট ঠুংরো কাচের মতো ভেঙে তাদের আইনের মুখোমুখি দাঁড় করানোই এখন প্রধান জরুরি কাজ।

আইনের লাঠি দিয়ে কোনোদিন মানুষের মনস্তত্ত্ব থেকে নেশার ভূত তাড়ানো যায়নি, যাবেও না। এর জন্য প্রয়োজন সমাজের একদম নিচ থেকে গড়ে ওঠা এক স্বতঃস্ফূর্ত ও গণমুখী প্রতিরোধ। ইসলামে নেশাজাতীয় সব দ্রব্যকে স্পষ্টাক্ষরে হারাম বা নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে, যা মানবজাতির বুদ্ধি ও আত্মাকে কলুষিত করে। এই ধর্মীয় অনুশাসন ও নৈতিকতার বোধকে আমাদের তরুণদের অন্তরে পুনরুজ্জীবিত করতে হবে। প্রতিটা গ্রামের তরুণদের নিজেদের তাগিদেই দলবদ্ধ হতে হবে, গড়ে তুলতে হবে খাঁটি মাদকবিরোধী যুব সংগঠন। এই যুবকরা কোনো করপোরেট এনজিওর অনুদানে চলবে না, তারা হবে নিজ নিজ মাটির অতন্দ্র প্রহরী; তারা চোখ কান খোলা রেখে প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তাকে চ্যালেঞ্জ করবে এবং যেখানেই এই বিষের কারবার দেখবে, যৌথ শক্তিতে রুখে দাঁড়াবে।

 

তরুণের এই বিপথগামিতা তো আসলে আমাদের বুর্জোয়া সমাজব্যবস্থারই এক চরম ব্যর্থতা; তাদের সুস্থ বিনোদন আর আধ্যাত্মিক বিকাশের জায়গা আমরা কেড়ে নিয়েছি। তাই প্রতিটি পাড়ায় খেলার মাঠগুলো উদ্ধার করা, ধর্মীয় ও নৈতিক শিক্ষার প্রসার ঘটানো, লাইব্রেরি আন্দোলনকে পুনরুজ্জীবিত করা এবং সুস্থ সাংস্কৃতিক চেতনার বিকাশ ঘটানো ছাড়া এই অন্ধ কুয়ো থেকে ফেরার আর কোনো রাস্তা খোলা নেই। এই আন্তর্জাতিক দিবস উপলক্ষে সাতক্ষীরার সাধারণ মানুষের মুখে কোনো ফাঁপা স্লোগান নয়, একমাত্র কঠিন সত্য উচ্চারিত হওয়া উচিত যে রাষ্ট্রের সৎ সদিচ্ছা, ইসলামের সুমহান নৈতিক আদর্শ আর যুবসমাজের দ্রোহের যুগলবন্দিতেই কেবল এই উর্বর মাটিকে আমরা মেকি সুখের মরণব্যাধি থেকে মুক্ত করতে পারি। লেখক: উদ্যোক্তা ও স্বপ্নদ্রষ্টা আসিফা

মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে সম্মিলিত প্রতিরোধের বিকল্প নেই

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন, ২০২৬, ১০:৫৮ অপরাহ্ণ
মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে সম্মিলিত প্রতিরোধের বিকল্প নেই

সাকিবুর রহমান বাবলা

২৬ জুন ‘মাদকদ্রব্যের অপব্যবহার ও অবৈধ পাচারবিরোধী আন্তর্জাতিক দিবস’। এবারের প্রতিপাদ্য—“বিশ্ব মাদক সমস্যা: চলমান চ্যালেঞ্জ, নতুন প্রতিবন্ধকতা, উদ্ভাবনী সমাধান”। এই প্রতিপাদ্য আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয় যে, মাদকের বিরুদ্ধে বৈশ্বিক লড়াই এখনো শেষ হয়নি; বরং প্রযুক্তিনির্ভর নতুন চোরাচালান কৌশল, সিন্থেটিক মাদকের বিস্তার এবং তরুণদের ঝুঁকিপূর্ণ সম্পৃক্ততা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।

মাদক শুধু একজন ব্যক্তির জীবনকেই বিপর্যস্ত করে না; এটি একটি পরিবার, সমাজ এবং রাষ্ট্রের জন্যও মারাত্মক হুমকি। বিশ্বব্যাপী অবৈধ মাদক ব্যবসা প্রতিবছর শত শত বিলিয়ন ডলারের অর্থনৈতিক ক্ষতির কারণ হয়। অপরাধ, সহিংসতা, সন্ত্রাস, অর্থনীতি, কর্মক্ষমতা হ্রাস, স্বাস্থ্যব্যবস্থার ওপর অতিরিক্ত চাপ এবং সামাজিক অস্থিরতার সঙ্গে মাদকের প্রত্যক্ষ সম্পর্ক রয়েছে। ফলে এটি কেবল জনস্বাস্থ্যের সংকট নয়, জাতীয় ও অর্থনৈতিক নিরাপত্তা, সামাজিক স্থিতিশীলতা এবং টেকসই উন্নয়নের জন্যে বড় চ্যালেঞ্জ।

বাংলাদেশও এই সংকটের বাইরে নয়। বিশেষ করে সীমান্তবর্তী জেলা সাতক্ষীরা দীর্ঘদিন ধরে মাদক প্রবাহের ঝুঁকির মুখে রয়েছে। ভারতের সঙ্গে বিস্তৃত সীমান্ত এবং চোরাচালানকারীদের নানা গোপন কৌশলের কারণে এ অঞ্চলে মাদক ব্যবসার বিস্তার উদ্বেগজনক। ইয়াবা, গাঁজা, ফেনসিডিল, হেরোইনসহ বিভিন্ন মাদকের সহজলভ্যতা বহু পরিবারে অশান্তি সৃষ্টি করছে, শিক্ষাজীবন ও কর্মজীবনকে বিপর্যস্ত করছে এবং সামাজিক অবক্ষয়কে ত্বরান্বিত করছে।

তবে শুধু আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযান দিয়ে এই সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়। মাদকবিরোধী প্রচারণাকে পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান এবং সামাজিক সংগঠনের সমন্বিত আন্দোলনে রূপ দিতে হবে। ইসলামে মাদক ও সব ধরনের নেশাজাতীয় বস্তু কঠোরভাবে নিষিদ্ধ, কারণ এগুলো মানুষের বিবেক, নৈতিকতা এবং আত্মনিয়ন্ত্রণবোধকে ধ্বংস করে মস্তিষ্ক বিকৃতি করে। তাই ধর্মীয় মূল্যবোধ ও নৈতিক শিক্ষার চর্চা তরুণ প্রজন্মকে মাদকের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে দূরে রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে।

বাংলাদেশে মাদক নিয়ন্ত্রণে আইন রয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছে। তবে আইন প্রয়োগের পাশাপাশি পুনর্বাসন, চিকিৎসা এবং মানসিক সহায়তা কার্যক্রম আরও বিস্তৃত ও কার্যকর করা জরুরি। মাদকাসক্ত ব্যক্তিকে শুধু অপরাধী হিসেবে নয়, বরং চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের প্রয়োজন রয়েছে এমন একজন মানুষ হিসেবেও বিবেচনা করতে হবে। একই সঙ্গে সীমান্ত নজরদারি জোরদার করা, গোয়েন্দা তৎপরতা বৃদ্ধি, দ্রুত ও কার্যকর আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণ এবং প্রযুক্তিনির্ভর অপরাধ দমনে সক্ষমতা বাড়ানো অপরিহার্য।

সরকারের দায়িত্ব নাগরিকদের জন্য একটি নিরাপদ ও সুস্থ সামাজিক পরিবেশ নিশ্চিত করা। অন্যদিকে জনগণের দায়িত্ব হলো মাদকবিরোধী সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলা। বিশেষ করে তরুণ ও যুবসমাজকে খেলাধুলা, ধর্মীয় ও সংস্কৃতি চর্চা, স্বেচ্ছাসেবামূলক কর্মকা-, স্বাস্থ্যশিক্ষা এবং সৃজনশীল কাজে সম্পৃক্ত করতে হবে। কারণ আজকের তরুণরাই আগামী দিনের বাংলাদেশ গড়ার প্রধান শক্তি।

মাদকের বিরুদ্ধে সংগ্রাম কেবল আইন প্রয়োগের বিষয় নয়; এটি সচেতনতা, মানবিকতা, নৈতিকতা এবং সামাজিক দায়বদ্ধতারও লড়াই। আন্তর্জাতিক দিবসটির মূল বার্তা— একটি মাদকমুক্ত সমাজ গঠনের জন্য রাষ্ট্র, পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় সংগঠন ও প্রতিষ্ঠান এবং নাগরিক সমাজকে অভিন্ন লক্ষ্য ও অঙ্গীকার নিয়ে একযোগে কাজ করতে হবে। সম্মিলিত প্রতিরোধই পারে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে মাদকের ভয়াবহতা থেকে রক্ষা করতে এবং একটি সুস্থ, নিরাপদ ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তুলতে।

সীমান্তে বিজিবির অভিযানে ১৪ লাখ টাকার চোরাচালানি পণ্য আটক

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন, ২০২৬, ১০:৫০ অপরাহ্ণ
সীমান্তে বিজিবির অভিযানে ১৪ লাখ টাকার চোরাচালানি পণ্য আটক

পত্রদূত ডেস্ক: সাতক্ষীরা ও কলারোয়া সীমান্তে বিশেষ অভিযান চালিয়ে ১৪ লাখ টাকার বেশি মূল্যের চোরাচালানি পণ্য জব্দ করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) দিনভর সীমান্তের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে এসব পণ্য জব্দ করা হয়।

বিজিবি সূত্র জানায়, সাতক্ষীরা ব্যাটালিয়নের (৩৩ বিজিবি) অধীনস্থ গাজীপুর, মাদরা, বৈকারী, পদ্মশাখরা ও কাকডাঙ্গা বিওপি এবং ঝাউডাঙ্গা বিশেষ ক্যাম্পের টহল দল এই অভিযান পরিচালনা করে। এ সময় ভারতীয় মোবাইল ফোনের যন্ত্রাংশ, ওষুধ, চিংড়ি মাছের রেণু পোনা ও আগরবাতি আটক করা হয়।

অভিযানের বিবরণ দিয়ে বিজিবি জানায়Ñ সাতক্ষীরা সদর থানার বেলতলা এলাকা থেকে ১ লাখ ৪০ হাজার টাকা মূল্যের ভারতীয় ওষুধ জব্দ করে। কলারোয়া থানার চাঁন্দা নামক স্থান থেকে ১ লাখ ৪০ হাজার টাকার ভারতীয় ওষুধ উদ্ধার করে। সাতক্ষীরা সদরের বৈকারী মোড় থেকে ৭ হাজার ২০০ টাকার ভারতীয় আগরবাতি জব্দ করে।

 

সীমান্তের শূন্য লাইনের ভেতরের হাড়দ্দহা জোড়া তালগাছ এলাকা থেকে ৫০ হাজার টাকা মূল্যের ভারতীয় চিংড়ির রেণু পোনা আটক করে। কলারোয়া থানার ভাদিয়ালী এলাকা থেকে ৮ লাখ ১০ হাজার টাকার মোবাইল ফোনের যন্ত্রাংশ জব্দ করে। সাতক্ষীরা সদরের কামারবাইসা এলাকা থেকে ২ লাখ ৫৫ হাজার টাকার মোবাইল ফোনের যন্ত্রাংশ উদ্ধার করে। জব্দকৃত চোরাচালানি মালের সর্বমোট মূল্য ১৪ লাখ ২ হাজার ২০০ টাকা।

বিজিবির কর্মকর্তারা জানান, চোরাকারবারিরা শুল্ক ফাঁকি দিয়ে অবৈধভাবে এসব পণ্য ভারত থেকে বাংলাদেশে পাচার করছিল। এ ধরনের চোরাচালানের ফলে দেশীয় শিল্প ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি সরকার বিপুল পরিমাণ রাজস্ব হারাচ্ছে।