শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬, ২৬ আশ্বিন ১৪৩৩
শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬, ২৬ আশ্বিন ১৪৩৩

কলমের দায়, সমাজের আয়না ও সাংবাদিকতার সংস্কার

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ৬ মে, ২০২৬, ৯:২৩ অপরাহ্ণ
কলমের দায়, সমাজের আয়না ও সাংবাদিকতার সংস্কার

শেখ সিদ্দিকুর রহমান

সভ্য সমাজে সাংবাদিকতা শুধু একটি পেশা নয়, এটি রাষ্ট্র, সমাজ ও মানুষের বিবেকের প্রতিচ্ছবি। একটি দেশের প্রশাসন, রাজনীতি, অর্থনীতি, সংস্কৃতি কিংবা সামাজিক বাস্তবতার প্রকৃত চিত্র সাধারণ মানুষের সামনে তুলে ধরেন সংবাদকর্মীরা। তাই সাংবাদিকদের বলা হয় সমাজের দর্পণ, রাষ্ট্রের অনানুষ্ঠানিক প্রহরী এবং গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভ। একজন প্রকৃত সাংবাদিক নিজের স্বার্থের চেয়ে সমাজ ও রাষ্ট্রের স্বার্থকে বড় করে দেখেন।

 

কোথাও দুর্নীতি, অন্যায়, অবহেলা কিংবা ক্ষমতার অপব্যবহার হলে একজন সংবাদকর্মী তার কলম ও ক্যামেরা দিয়ে সেই চিত্র জনগণের সামনে তুলে ধরেন। আবার কোনো অসহায় মানুষের কান্না, কৃষকের কষ্ট, শ্রমিকের অধিকার, শিক্ষার সংকট কিংবা জনদুর্ভোগের চিত্রও সাংবাদিকতার মাধ্যমেই রাষ্ট্রের উচ্চপর্যায়ে পৌঁছে যায়। “নিউজ” শব্দটি নিয়ে একটি জনপ্রিয় ব্যাখ্যা রয়েছে যে এটি উত্তর, দক্ষিণ, পূর্ব ও পশ্চিম—এই চার দিকের আদ্যক্ষর নিয়ে গঠিত। অর্থাৎ চারদিকের ঘটনা মানুষের সামনে তুলে ধরাই সংবাদ। সংবাদ মানে শুধু তথ্য নয়; সংবাদ মানে সত্য, দায়িত্ব ও জনস্বার্থ। একসময় সাংবাদিকতা ছিল সমাজসেবামূলক ও আদর্শভিত্তিক একটি মহান পেশা। তখন সংবাদকর্মীরা আর্থিক লাভের চেয়ে সত্য প্রকাশকে বড় করে দেখতেন। কিন্তু সময়ের পরিবর্তনের সাথে সাথে প্রযুক্তিগত অগ্রগতির পাশাপাশি ঢুকে পড়েছে কিছু অপসংস্কৃতিও।

 

বর্তমানে দেশে “হলুদ সাংবাদিকতা” ভয়াবহভাবে বিস্তার লাভ করেছে। টাকার বিনিময়ে অনেকে বিভিন্ন নামধারী অনলাইন পোর্টাল বা অখ্যাত প্রতিষ্ঠানের কার্ড সংগ্রহ করে নিজেদের সাংবাদিক পরিচয় দিচ্ছেন, যাদের অনেকেরই সংবাদ লেখার ন্যূনতম দক্ষতা কিংবা পেশাগত নৈতিকতা নেই। কেউ কেউ সাংবাদিকতার পরিচয় ব্যবহার করে চাঁদাবাজি, ভয়ভীতি প্রদর্শন ও অনৈতিক কর্মকা-ে জড়িয়ে পড়ছেন, যা প্রকৃত পেশাদার সাংবাদিকদের জন্য বিব্রতকর এবং গণমাধ্যমের প্রতি মানুষের আস্থাকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে।

পূর্বের ধারণা ছিল যে লিখতে পড়তে জানলেই সাংবাদিক হওয়া যায়, কিন্তু বর্তমান বাস্তবতায় এটি একটি গভীর দক্ষতা ও জবাবদিহিতার পেশা। একজন সংবাদকর্মীর মধ্যে সত্যনিষ্ঠা, ভাষাজ্ঞান, পর্যবেক্ষণ ক্ষমতা ও আইনি জ্ঞান থাকা অত্যন্ত জরুরি। তাই সাংবাদিকতা পেশার জন্য একটি সুস্পষ্ট নীতিমালা এখন সময়ের দাবি। ন্যূনতম শিক্ষাগত যোগ্যতা ছাড়া সাংবাদিকতার পরিচয়পত্র প্রদান বন্ধ করা এবং জাতীয় পর্যায়ের গণমাধ্যমে কাজের ক্ষেত্রে স্নাতক ডিগ্রিকে অগ্রাধিকার দেওয়ার বিষয়ে আলোচনা প্রয়োজন।

 

একই সঙ্গে সাংবাদিকদের নিবন্ধন ও প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা থাকা জরুরি। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, জেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনের সমন্বয়ে একটি যাচাইকরণ ব্যবস্থা চালু করা যেতে পারে যাতে প্রকৃত সংবাদকর্মী ও অপসাংবাদিকদের পার্থক্য করা সহজ হয়। একটি জাতীয় সাংবাদিক নিবন্ধন বোর্ড গঠন করা এখন সময়ের প্রয়োজন। একজন সাংবাদিককে কেবল মানবসৃষ্ট প্রতিকূলতা নয়, বরং ভয়াবহ প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকি মাথায় নিয়ে কাজ করতে হয়।

 

ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস, বন্যা কিংবা মহামারীর মতো সংকটে যখন সাধারণ মানুষ নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে ছোটে, তখন সংবাদকর্মীরা জীবন বাজি রেখে দুর্যোগকবলিত এলাকায় ছুটে যান। উত্তাল সমুদ্রের ঢেউ কিংবা উপকূলের বিধ্বংসী বাতাসের মধ্যেও তারা সংবাদ সংগ্রহ করেন যাতে মানুষ আগাম সতর্কবার্তা পায় এবং জানমালের ক্ষয়ক্ষতি হ্রাস পায়। বিশেষ করে উপকূলীয় অঞ্চলে ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাসের সংবাদ প্রচার করতে গিয়ে অনেক সাংবাদিক শারীরিক জখম ও সম্পদ হারানোসহ নানা বিপদের সম্মুখীন হন।

প্রাকৃতিক দুর্যোগের পাশাপাশি সামাজিক ও রাজনৈতিক ঝুঁকিও কম নয়। দুর্নীতি, মাদক বা সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে লিখতে গিয়ে বহু সাংবাদিক হামলা ও মামলার শিকার হচ্ছেন। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৪ সালের আগস্ট থেকে ২০২৫ সালের নভেম্বর পর্যন্ত অন্তত ১,০৭৩ জন সংবাদকর্মী বিভিন্নভাবে হয়রানি ও নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। শুধু এক বছরেই প্রায় ৫০০ সাংবাদিকের বিরুদ্ধে মামলার ঘটনা ঘটেছে।

 

মানবাধিকার সংস্থাগুলোর প্রতিবেদনে উঠে এসেছে যে, সাংবাদিকতা এখন অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ পেশা হওয়া সত্ত্বেও প্রকৃত সংবাদকর্মীদের জন্য কার্যকর নিরাপত্তা কাঠামো বা ঝুঁকি ভাতার কোনো সুনির্দিষ্ট নীতিমালা নেই। একজন সাংবাদিক যখন ঝুঁকি নিয়ে কাজ করেন, তিনি পুরো সমাজের পক্ষ হয়েই সেই ঝুঁকি গ্রহণ করেন। তাই রাষ্ট্রের উচিত প্রকৃত ও নিবন্ধিত সাংবাদিকদের জন্য ঝুঁকি ভাতা, জীবনবীমা ও আইনি সহায়তা নিশ্চিত করা। সাংবাদিকতা কোনো ভয় প্রদর্শনের অস্ত্র নয়, এটি মানুষের অধিকার রক্ষার মাধ্যম।

 

কলমের পবিত্রতা রক্ষায় কঠোর নীতিমালা এবং পেশাগত শুদ্ধি অভিযান এখন অপরিহার্য। কারণ একটি দায়িত্বশীল সাংবাদিকতাই পারে একটি স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্র নিশ্চিত করতে। প্রকৃত সংবাদকর্মীদের মর্যাদা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে রাষ্ট্র ও সংগঠনগুলোকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে, তবেই কলমের শক্তি সমাজকে সত্য ও ন্যায়ের আলোয় আলোকিত করতে পারবে।

তথ্যসূত্র:
১. ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) প্রতিবেদন।
২. আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক) বার্ষিক মানবাধিকার প্রতিবেদন ২০২৫।
৩. মানবাধিকার সংস্থা এইচআরএসএস মাসিক প্রতিবেদন।
৪. দ্য ডেইলি স্টার অনলাইন ও প্রিন্ট আর্কাইভ।
৫. বিভিন্ন জাতীয় দৈনিক ও গণমাধ্যম গবেষণা রিপোর্ট।

Ads small one

খুলনা জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে ডেঙ্গু প্রতিরোধে পরিচ্ছন্নতা অভিযান

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ১০ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:২৫ অপরাহ্ণ
খুলনা জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে ডেঙ্গু প্রতিরোধে পরিচ্ছন্নতা অভিযান

 

পত্রদূত ডেস্ক: দেশব্যাপী ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্নতা অভিযানের অংশ হিসেবে বিশেষ পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। খুলনা জেলা প্রশাসক হুরে জান্নাতের নেতৃত্বে জেলা প্রশাসনের সব কর্মকর্তা-কর্মচারী, জেলা রোভার স্কাউট, গার্ল গাইডস ও বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির সহযোগিতায় এই অভিযান পরিচালিত হয়।
অভিযানের অংশ হিসেবে খুলনা কালেক্টরেট প্রাঙ্গণসহ নগরীর রেলওয়ে মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়, ফাতিমা উচ্চ বিদ্যালয়, মেট্রো পুলিশ লাইনস স্কুল, ভিক্টোরিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ন্যাশনাল বয়েজ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, টুটপাড়া মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মিয়াপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং খানজাহান আলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম চালানো হয়।

সম্পাদকীয়/ উপকূলের লোনাজলে নতুন স্বপ্ন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ১০ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:২৪ অপরাহ্ণ
সম্পাদকীয়/ উপকূলের লোনাজলে নতুন স্বপ্ন

জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিকর প্রভাব ও বিশ্ব উষ্ণায়নের এই যুগে বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিম উপকূলীয় অঞ্চল ক্রমেই তীব্র সংকটের মুখোমুখি হচ্ছে। জমিতে লবণাক্ততার মাত্রা বৃদ্ধি, মিষ্টি পানির অভাব এবং ঘন ঘন প্রাকৃতিক দুর্যোগ উপকূলীয় এলাকার প্রথাগত কৃষিব্যবস্থাকে এক চরম হুমকির মুখে ঠেলে দিয়েছে। তবে সেই প্রতিকূলতা ও স্থবিরতাকে মেনে নিয়ে থমকে যাননি সাতক্ষীরার কৃষককুল। বরং বিজ্ঞানের উদ্ভাবন আর নিজেদের অমূল্য অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে তাঁরা প্রকৃতির এই বিরূপতার বিরুদ্ধে নতুন এক লড়াই গড়ে তুলেছেন। লোনা পানির মাছের ঘেরের অনাবাদি আইলে অসময়ে তরমুজ ও নানাবিধ সবজি ফলিয়ে তাঁরা জলবায়ু অভিযোজনের এক অনন্য নজির স্থাপন করেছেন।

একসময় চৈত্র-বৈশাখ মাসে যখন উপকূলের মাটিতে লবণাক্ততার পরাকাষ্ঠা থাকত, তখন ঘেরের আশপাশের আইলগুলো পতিত হিসেবেই পড়ে থাকত। কিন্তু বর্তমান চিত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, সাতক্ষীরা জেলায় অসময়ের তরমুজ চাষ প্রায় ১৪১ হেক্টর জমিতে বিস্তৃত হয়েছেÑযা গত মৌসুমের চেয়ে বহুগুণ বেশি। ঘেরের পানিতে সাঁতার কাটছে মাছ আর ওপরের আইল বা মাচায় শোভা পাচ্ছে সুপ্রিম হানি, ব্ল্যাক বেবি, তৃপ্তির মতো প্রজাতি ও আধুনিক প্রযুক্তিতে ফলানো রকমারি সবজি। দেবহাটা কিংবা তালার প্রান্তিক কৃষকদের এই সফলতা কেবল ব্যক্তিগত আয়ের নতুন উৎস তৈরি করেনি, বরং স্থানীয় অর্থনীতি ও পুষ্টি নিরাপত্তায় এক দারুণ প্রভাব ফেলছে। লক্ষণীয় বিষয় হলো, এই নতুন কৃষিধারায় ঘরের নারীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ এবং স্থানীয় দিনমজুরদের জন্য নতুন কর্মসংস্থানের ক্ষেত্র তৈরি হওয়া নিঃসন্দেহে গ্রামীণ অর্থনীতির এক আশাব্যঞ্জক দিক।

তবে কৃষকদের এই বিস্ময়কর সাফল্যকে কোনোভাবেই চিরস্থায়ী ধরে নিয়ে নিশ্চিন্ত থাকার সুযোগ নেই। এই সম্ভাবনাময় উদ্যোগটির সামনে এখনো কয়েকটি বড় চ্যালেঞ্জ স্পষ্ট। এর মধ্যে প্রধান সংকট হলো সেচের উপযোগী মিষ্টি পানির তীব্র অভাব, আকস্মিক প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও অনিয়মিত বৃষ্টিপাত। চারা টিকিয়ে রাখতে কিংবা ফলন ভালো রাখতে কৃষকদের যে অতিরিক্ত শ্রম ও খরচ মেটাতে হয়, তা অনেক সময় তাঁদের জন্য বড় বোঝা হয়ে দাঁড়ায়।

উপকূলীয় কৃষকদের এই ব্যক্তিগত ও আঞ্চলিক উদ্যোগকে জাতীয় পর্যায়ে একটি টেকসই কৃষিমডেল হিসেবে রূপ দিতে হলে সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে জোরদার কৌশলগত পরিকল্পনা প্রয়োজন। প্রথমত, সেচসুবিধা নিশ্চিত করার জন্য বৃষ্টিসংরক্ষণ প্রযুক্তি ও উপকূলীয় পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনায় স্থায়ী সমাধান বের করতে হবে। দ্বিতীয়ত, জলবায়ুসহিষ্ণু ও লবণাক্ততাসহিষ্ণু বীজের সহজলভ্যতা বাড়ানোর পাশাপাশি মাঠপর্যায়ে আধুনিক কৃষিতথ্যের তদারকি আরও জোরদার করা জরুরি।

সাতক্ষীরার লোনা পানির ঘেরে কৃষকদের হাত ধরে তরমুজের যে মৃদু হাসি ফুটে উঠেছে, তা কেবল একটি ফসলের ফলন নয়Ñতা প্রতিকূল প্রকৃতিকে জয় করে বেঁচে থাকার এক বলিষ্ঠ প্রতীক। সরকারি সঠিক দৃষ্টিভঙ্গি, কার্যকর নীতিমালা এবং নিরবচ্ছিন্ন সহায়তার সুযোগ পেলে উপকূলীয় এলাকার এই সবুজ বিপ্লব দেশের সার্বিক কৃষিখাত ও খাদ্য নিরাপত্তায় যুগান্তকারী ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবে।

 

রাতে পুলিশ সদস্যদের একা চলাচল না করতে নির্দেশ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ১০ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:১৮ অপরাহ্ণ
রাতে পুলিশ সদস্যদের একা চলাচল না করতে নির্দেশ

রাতে পুলিশ সদস্যদের একা চলাচল না করতে নির্দেশ দিয়েছে জেলা পুলিশ। শুক্রবার (৯ অক্টোবর) রাতে জেলা পুলিশের বিশেষ শাখার (ডিএসবি) পুলিশ সুপার স্বাক্ষরিত এক দাফতরিক চিঠিতে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়। খুলনা নগরে ছিনতাইকারীদের ধারালো অস্ত্রের আঘাতে এক পুলিশ পরিদর্শক গুরুতর আহত হওয়ার পর এ নির্দেশনা এসেছে।

নির্দেশনাপত্রে বলা হয়েছে, চলমান আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও সাম্প্রতিক বিভিন্ন ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে জেলার রূপসা, তেরখাদা, দিঘলিয়া ও বটিয়াঘাটা থানা এলাকায় বিশেষ অভিযান চলছে। সম্প্রতি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের ওপর সন্ত্রাসী হামলার ঘটনাও পরিলক্ষিত হচ্ছে। সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় বিশেষ অভিযানসহ অন্য দায়িত্বে নিয়োজিত পুলিশ সদস্যদের ব্যক্তিগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে রাতে একা চলাচল না করার নির্দেশ দেওয়া হলো। এ বিষয়ে ইউনিট ইনচার্জদের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।

চিঠির অনুলিপি জেলা পুলিশের সংশ্লিষ্ট সব দফতর ও থানায় পাঠানো হয়েছে।

এ বিষয়ে খুলনার পুলিশ সুপার (এসপি) সরকার ওমর ফারুক জানান, গত বৃহস্পতিবার গভীর রাতে রূপসা থানায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা শেষে ফেরি পার হয়ে ফেরার পথে এক পুলিশ পরিদর্শক ছিনতাইকারীদের ধারালো অস্ত্রের আঘাতে গুরুতর জখম হন। তিনি রিকশায় করে বাসায় ফিরছিলেন। তার কাছে দুটি মোবাইল ফোন ও একটি ওয়ালেট ছিল। খুলনা কলেজিয়েট গার্লস স্কুলের সামনে তিনি ছিনতাইকারীদের কবলে পড়েন। হয়তো এ সময় তিনি প্রতিরোধের চেষ্টা করেছিলেন। তিনি সাদাপোশাকে ছিলেন। মুমূর্ষু অবস্থায় তাকে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। তিনি এখনও ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

এসপি বলেন, ওই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার পর জেলা পুলিশের প্রতিটি সদস্যের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে রাতে একা চলাচলের ওপর এ নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। দায়িত্ব শেষে কোনও সদস্য যেন ছিনতাইকারীদের কবলে না পড়েন, সে জন্যই এ সতর্কতা।

এ নির্দেশনার কারণে নিরাপত্তাহীনতার বার্তা যাচ্ছে কি না, জানতে চাইলে সরকার ওমর ফারুক বলেন, ‘আসলে এটা আমাদের অভ্যন্তরীণ একটা চিঠি। চিঠিতে তো বিস্তারিত লেখা যায় না। যাতে কোনও পুলিশ সদস্য ছিনতাইকারীর কবলে না পড়েন, সে জন্যই মূলত এই চিঠি দেওয়া।’

উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে খুলনা নগরের খানজাহান আলী রোডে খুলনা কলেজিয়েট স্কুলের সামনে পুলিশ পরিদর্শক শাহ আলম (৪৩) ছিনতাইকারীদের হামলার শিকার হন। পুলিশ সূত্রে জানা যায়, রূপসা উপজেলায় বিশেষ অভিযান শেষে তিনি রিকশায় করে নগরে যাচ্ছিলেন। কলেজিয়েট স্কুলের সামনে তিন ছিনতাইকারী তার গতিরোধ করে টাকা ও মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেয়। বাধা দিলে ছিনতাইকারীরা ধারালো চাপাতি দিয়ে তার দুই হাতের কবজিতে কোপ দেয়। পরে পুলিশ তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেয়। অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকায় পাঠানো হয়।

এর আগে গত মঙ্গলবার রাত থেকে অপরাধী গ্রেফতার ও অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারের লক্ষ্যে খুলনা জেলা পুলিশ বিশেষ অভিযান শুরু করে। গত সোমবার রূপসায় ছেলে জয় ঢালীকে হত্যার দেড় মাস পর তার বাবা আক্তার ঢালীকে গুলি করে হত্যা এবং দিঘলিয়ার ফরমাইশখানা এলাকায় চায়ের দোকানে এক ব্যক্তিকে গুলি করে হত্যার ঘটনার পরই পুলিশ বিশেষ অভিযান শুরু করে।