বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৮ ভাদ্র ১৪৩৩
বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৮ ভাদ্র ১৪৩৩

কলারোয়ায় বাঁশের ভাসমান সাঁকোয় নদী পারাপার, টেকসই সেতু নির্মাণের দাবি

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ৩০ আগস্ট, ২০২৬, ১১:১১ অপরাহ্ণ
কলারোয়ায় বাঁশের ভাসমান সাঁকোয় নদী পারাপার, টেকসই সেতু নির্মাণের দাবি

0-4024x1784-0-0-{}-0-12#bokehtype:0#;ts:90026443237000;appts:1787621659253;qlty:1;;illum:2 scene:0 humanIn:0;

শেখ জিল্লু, কলারোয়া: কলারোয়া উপজেলার কোঠাবাড়ি-রায়টাসহ চার ইউনিয়নের মানুষের যাতায়াতের একমাত্র মাধ্যম বেত্রবতী নদীর ওপর নির্মিত বাঁশের সাঁকো। দীর্ঘদিনেও এর স্থলে টেকসই কোনো ব্যবস্থা গড়ে ওঠেনি। নদীর ওপর একটি পাকা সেতু না থাকায় কোমলমতি শিক্ষার্থীসহ বিপুলসংখ্যক মানুষকে প্রতিদিনই অবর্ণনীয় দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। বর্তমানে স্থানীয়দের উদ্যোগে বাঁশের ভাসমান সাঁকো নির্মাণ করে নদী পারাপার চলছে।

বেত্রবতী নদীর তীরে অবস্থিত হেলাতলা ইউনিয়নের কোঠাবাড়ির পাশের শুভংকরকাটি ও হেলাতলা গ্রাম। নদীর অপর পাড়ে রয়েছে কুশোডাঙ্গা ইউনিয়নের রায়টা, কয়লা ইউনিয়নের আলাইপুর এবং রায়টার পূর্ব পাশে যুগিখালি ইউনিয়নের আগুনপুর (রাজনগর) গ্রাম। হেলাতলা, কুশোডাঙ্গা, কয়লা ও যুগিখালি—এই চার ইউনিয়নের মানুষের যোগাযোগের অন্যতম মাধ্যম কোঠাবাড়ি-রায়টার এই সাঁকো।

টেকসই পাকা সেতু না থাকায় এ জনপদের মানুষের দীর্ঘদিনের ভোগান্তি এখনো কাটেনি। বিশেষ করে শিক্ষার্থী, নারী, বয়স্ক ও সাধারণ পথচারীদের নদী পারাপারে প্রতিনিয়ত ঝুঁকি নিতে হচ্ছে। সম্প্রতি সরেজমিন ঘটনাস্থলে গিয়ে এমনই চিত্র দেখা গেছে।

স্থানীয়দের দীর্ঘদিনের দাবি, বেত্রবতী নদীর ওপর একটি টেকসই সেতু নির্মাণ করা হোক। কোঠাবাড়ি গ্রামের ঠিক বিপরীতে নদীতীরবর্তী কুশোডাঙ্গা ইউনিয়নের রায়টা গ্রাম। বেত্রবতী নদী এই দুই গ্রামকে বিভক্ত করে রেখেছে। স্থানীয়দের যোগাযোগের দুর্ভোগ লাঘবে ইউপি চেয়ারম্যান মোয়াজ্জেম হোসেন ও এলাকাবাসীর প্রচেষ্টায় বাঁশ দিয়ে নির্মাণ করা হয়েছে প্রায় ৭০ মিটার দীর্ঘ একটি অপ্রশস্ত ভাসমান সাঁকো।

প্রায় ৬০টি প্লাস্টিকের ড্রামের ওপর সাঁকোটির কাঠামো দাঁড় করানো হয়েছে। ড্রামগুলো সুনিপুণভাবে বাঁশের খুঁটি ও পাটাতনের সঙ্গে সংযুক্ত করে সাঁকোটির নির্মাণকাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। তবে এর ওপর দিয়ে চলাচলের সময় পুরো সাঁকোটিই দুলতে থাকে। ফলে মানুষকেও দুলতে দুলতেই নদী পার হতে হয়।

কোঠাবাড়ি গ্রামে সরেজমিনে দেখা যায়, সাঁকোটি এতটাই সংকীর্ণ যে এর ওপর দিয়ে একটি বাইসাইকেল সঙ্গে নিয়ে পার হওয়াও কঠিন। স্বাভাবিকভাবে হাঁটাচলার ক্ষেত্রেও পথচারীদের যথেষ্ট সতর্ক থাকতে হয়।

স্থানীয়রা জানান, ২০২৪ সালের অক্টোবরে বেত্রবতী নদীর ওপর স্থাপিত বাঁশের সাঁকোটি ভেঙে যায়। এরপর ড্রাম দিয়ে ভেলা তৈরি করে মানুষ নদী পারাপার হতে থাকেন। পরবর্তীতে স্থানীয়দের প্রাণান্ত প্রচেষ্টা এবং হেলাতলা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোয়াজ্জেম হোসেনের সহায়তায় নদীর ওপর আবারও ভাসমান বাঁশের সাঁকো স্থাপন করা সম্ভব হয়।

ইউপি চেয়ারম্যান মোয়াজ্জেম হোসেন জানান, তাঁর ভাই শিল্পপতি ইমাম হোসেন সাঁকো নির্মাণকাজে আর্থিক সহায়তা করেছেন। তিনি বলেন, সাঁকোটি স্থাপিত হওয়ায় অন্ততপক্ষে দুই পাড়ের মানুষ হেঁটে নদী পারাপার হতে পারছেন। কোমলমতি শিক্ষার্থীরাও তাদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যেতে পারছে।

চেয়ারম্যান মোয়াজ্জেম হোসেন আরও বলেন, ২০০৩ সালে প্রথমবার চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ার পর থেকে গত ২৩ বছর ধরে তিনি এখানে মানুষের পারাপারের জন্য বাঁশের সাঁকো তৈরি করিয়ে দিয়ে আসছেন। সর্বশেষ ২০২৪ সালের অক্টোবরে ড্রামের ওপর বাঁশের সাঁকোটি নির্মাণ করে দেন তিনি। সেটি বর্তমানে সচল রয়েছে। তবে এখানে একটি টেকসই পাকা সেতু নির্মাণ করা গেলে মানুষের দীর্ঘদিনের নদী পারাপারের দুর্ভোগ স্থায়ীভাবে লাঘব হতো।

হেলাতলা-কোঠাবাড়ি গ্রামের ইউপি সদস্য আমিরুল ইসলাম বলেন, কোঠাবাড়ি গ্রামের মানুষ প্রতি শনি ও মঙ্গলবার রায়টা বাজারের সাপ্তাহিক হাটে যান। এছাড়া সপ্তাহের অন্যান্য দিনও নানা প্রয়োজনে তাঁদের রায়টা বাজারে যেতে হয়। কোঠাবাড়ি গ্রামে কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান না থাকায় শিক্ষার্থীদের হেলাতলা অথবা রায়টায় যেতে হয়। এ কারণে কোঠাবাড়ি-রায়টার সংযোগ সাঁকোটি তাঁদের নদী পারাপারের একমাত্র মাধ্যম হয়ে দাঁড়িয়েছে।

এ বিষয়ে কলারোয়া উপজেলা সহকারী প্রকৌশলী মোশাররফ হোসেন জানান, এখানে সেতু নির্মাণের জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তর ১০ কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়েছিল। কিন্তু রায়টা পাড়ের সংযোগ সড়কের জন্য জমি অধিগ্রহণে জটিলতা দেখা দেওয়ায় সেই প্রকল্প বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়নি।
তিনি আরও জানান, ইউপি চেয়ারম্যান মোয়াজ্জেম হোসেনের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে এবার সংযোগস্থলের সামান্য দিক পরিবর্তন করে সেতু নির্মাণের জন্য নতুন করে প্রস্তাবনা পাঠানো হয়েছে। তবে এখনো সেটির অনুমোদন মেলেনি। ফলে সেতু নির্মাণের বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া দীর্ঘায়িত হচ্ছে।

স্থানীয়দের মতে, বেত্রবতী নদীর ওপর একটি টেকসই সেতু নির্মাণ করা গেলে দুই তীরের মানুষের জীবনযাত্রায় আমূল পরিবর্তন আসবে। উন্মোচিত হবে এ জনপদের যোগাযোগের নতুন দিগন্ত। শিক্ষা, চিকিৎসা, ব্যবসা-বাণিজ্যসহ মানুষের দৈনন্দিন চলাচল আরও সহজ ও নিরাপদ হবে।
ড্রাম দিয়ে তৈরি ভাসমান বাঁশের সাঁকোটি দূর থেকে দেখলে হয়তো মনোরম মনে হতে পারে। কিন্তু বাস্তবে এটি কোনোভাবেই টেকসই ও স্থায়ী ব্যবস্থা নয়। তাই সাময়িক এই পারাপারের ব্যবস্থা নয়, বেত্রবতীর ওপর একটি স্থায়ী ও টেকসই পাকা সেতু নির্মাণই এখন এলাকাবাসীর দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা।

Ads small one

সাংবাদিক ফারজানা রুপা অসুস্থ, কারাগার থেকে বিএমইউতে ভর্তি

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১:৫৭ পূর্বাহ্ণ
সাংবাদিক ফারজানা রুপা অসুস্থ, কারাগার থেকে বিএমইউতে ভর্তি

সাংবাদিক ফারজানা রুপা অসুস্থ হয়ে বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএমইউ) ভর্তি হয়েছেন। তিনি বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

মুন্সীগঞ্জ জেলা কারাগারের জেল সুপার মো. জান্নাত-উল ফরহাদ বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, রবিবার সন্ধ্যায় শারীরিক অসুস্থতা দেখা দেওয়ায় ফারজানা রুপাকে বিএমইউতে ভর্তি করা হয়। তিনি সেখানে চিকিৎসাধীন আছেন।

২০২৪ সালের ২১ আগস্ট হযরত শাহজালাল বিমানবন্দর থেকে শাকিল আহমেদ ও ফারজানা রুপাকে আটক করা হয়। পরদিন ২২ আগস্ট উত্তরা পূর্ব থানার ফজলুল করিম হত্যা মামলায় তাদের চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত। পরে তাদের জুলাই আন্দোলন সংক্রান্ত বিভিন্ন মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে একাধিকবার রিমান্ডে পাঠানো হয়।

সবশেষ ফারজানা রুপা ও আরেক সাংবাদিক মোজাম্মেল হক বাবুকে শাপলা চত্বর হত্যা মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়েছে।

 

অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে বিদ্যুৎমন্ত্রী

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১:৫৬ পূর্বাহ্ণ
অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে বিদ্যুৎমন্ত্রী

অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু। মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ১০টার দিকে রাজধানীর ইব্রাহিম কার্ডিয়াক হাসপাতালে ভর্তি করা হয় তাকে।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মন্ত্রীর ব্যক্তিগত সহকারী আবদুল্লা আল কায়েস। তিনি জানান, গত কয়েক দিন ধরেই জ্বরে ভুগছিলেন তিনি। পরে চিকিৎসকদের পরামর্শে শারীরিক পরীক্ষার ও সুচিকিৎসার জন্য তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

বর্তমানে তিনি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে রয়েছেন। চিকিৎসকদের ধারণা তিনি ফুসফুসের ইনফেকশনে আক্রান্ত হয়েছেন। তবে পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর বিস্তারিত জানা যাবে।

এদিকে তার অসুস্থতায় আশু রোগ মুক্তি কামনায় আগামীকাল বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) সিরাজগঞ্জ জেলার সব উপজেলা, থানা, পৌরসভা, ইউনিয়ন ও ওয়ার্ডের সব মসজিদ, মন্দির, গির্জা ও প্যাগোডায় দোয়া প্রার্থনার কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে। স্ব স্ব এলাকার বিএনপির নেতারা এ কর্মসূচি বাস্তবায়নের দায়িত্ব পালন করবেন বলে জানিয়েছেন সিরাজগঞ্জ জেলা বিএনপির দফতর সম্পাদক তানভীর মাহমুদ পলাশ।

আশাশুনিতে ৭৫৫ জন নিম্ন আয়ের মানুষকে স্বল্পমূল্যে নিত্যপণ্য প্রদান

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:৪৪ পূর্বাহ্ণ
আশাশুনিতে ৭৫৫ জন নিম্ন আয়ের মানুষকে স্বল্পমূল্যে নিত্যপণ্য প্রদান

বিএম আলাউদ্দীন, আশাশুনি: আশাশুনি উপজেলার কাদাকাটিতে ৭৫৫ জন নি¤œআয়ের মানুষের মাঝে সরকার অনুমোদিত স্বল্পমূল্যের নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য বিতরণ করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টায় দরগাপুর ইউনিয়নের খরিয়াটি মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে এ পণ্য বিতরণ করা হয়। ‘প্রাণের আলো ফাউন্ডেশন’ ও ‘ডেইলী সেবা বাংলাদেশ’-এর যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ফাউন্ডেশনের ডিলার রিলেশন অফিসার রাসালে আহমেদ, দরগাপুর ইউনিয়ন বিএনপির সম্পাদক মোহাম্মাদ হাফিজুল ইসলাম, খরিয়াটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক চিত্তরঞ্জনসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।
বিতরণকৃত প্যাকেজে সয়াবিন তেল, ডাল, আটা, লবণ, সরিষার তেল, ডিটারজেন্ট, সাবান ও ডিশ ওয়াশ অন্তর্ভুক্ত ছিল। প্রতিটি প্যাকেজের মূল্য নির্ধারণ করা হয় ৬৩০ টাকা। পর্যায়ক্রমে জেলার সব ইউনিয়নে এই কার্যক্রম পরিচালিত হবে বলে জানানো হয়েছে।