কলারোয়ায় শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাতবার্ষিকী পালিত
তালা প্রতিনিধি: তালার মাঝিয়াড়া-খড়েরডাঙ্গা বিলে ৬০ বিঘা আয়তনের মাছের ঘেরে বিষ প্রয়োগ করা হয়েছে। পূর্ব শত্রুতার জেরে প্রতিপক্ষরা শুক্রবার রাতে ঘেরে বিষ প্রয়োগ করে বলে অভিযোগে বলা হয়েছে। বিষাক্রান্ত হয়ে বিভিন্ন প্রজাতীর প্রায় ৩ লক্ষ টাকার মাছ মরে সাবাড় হয়েছে। এরআগে ওই প্রতিপক্ষ মাহাসিন, ইদ্রিস ও রাঙ্গা উক্ত ঘেরের বেড়িবাঁধ কেটে দিয়ে ঘের দখলের চেষ্টা করে বলে অভিযোগে বলা হয়েছে।
ঘের মালিক উপজেলার মাঝিয়াড়া গ্রামের গাজী কামরুল ইসলাম বলেন, মাঝিয়াড়া-খড়েরডাঙ্গা বিলের ৬০বিঘা জমি ৬ বছরের জন্য জমি মালিকদের কাছ থেকে স্ট্যাম্পে চুক্তি করে হারি নিয়ে সেখানে মাছের ঘের পরিচালনা করে আসছেন।
৬ বছরের মধ্যে ইতোমধ্যে ২ বছর শেষ হয়েছে। কিন্তু এই ঘের অবৈধভাবে জোর দখল নেবার জন্য একই এলাকার ইদ্রিস আলী মোড়ল, মহাসিন শেখ ও সুমন শেখ ওরফে রাঙ্গা দীর্ঘদিন ধরে নানান অপচেষ্টা করে আসছে। কিন্তু ঘের দখল করতে না পেরে প্রতিপক্ষরা ঘেরের ২স্থানে বেড়িবাঁধ কেটে দিয়ে লক্ষধিক টাকার ক্ষতিসাধন করে। এঘটনার বাঁধা দিলে মহাসিন গং নিরিহ ঘের মালিক গাজী কামরুল ইসলামকে নানান হুমকি প্রদান করে।
ভুক্তভোগী ঘের মালিক গাজী কামরুল ইসলাম বলেন, মহাসিন, রাঙ্গা ও ইদ্রিস মোড়ল ঘের দখলে ব্যর্থ হয়ে শুক্রবার রাতে ঘেরের ক্যানেলে বিষ প্রয়োগ করে। বিষে ক্যানেলে থাকা বিভিন্ন প্রজাতীর ৩লক্ষ টাকার মাছ মরে গেছে। এঘটনার প্রতিকার পেপে কামরুল ইসলাম তালা থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন।
এবিষয়ে তালা থানার ওসি (তদন্ত) সাখাওয়াত হোসেন বলেন, ঘটনার অভিযোগ পেয়েছি। ঘটনার তদন্ত করা হচ্ছে এবং তদন্ত শেষে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।
আসাদুজ্জামান সরদার: সাতক্ষীরার প্রত্যন্ত গ্রামীণ জনপদে ঘরে ঘরে পৌঁছে গেছে বিদ্যুৎ, আর তার হাত ধরে গ্রামীণ গৃহস্থালির অপরিহার্য অংশ হয়ে উঠেছে রেফ্রিজারেটর বা ফ্রিজ। বিশেষ করে ঈদুল আজহা বা কোরবানির ঈদে গ্রাম অঞ্চলেও ফ্রিজ কেনার ধুম পড়ে। তবে ফ্রিজ ব্যবহারের হার বাড়লেও, কোরবানির মাংস সঠিক নিয়মে সংরক্ষণের বিষয়ে গ্রামীণ মানুষের সচেতনতা কতটুকু-তা নিয়ে রয়ে গেছে বড় প্রশ্ন।
অনুসন্ধানে দেখা গেছে, মাংস ধুয়ে পানি ঝরানো, ছোট ছোট প্যাকেটে ভাগ করা কিংবা ফ্রিজের সঠিক তাপমাত্রা বজায় রাখার মতো অতি জরুরি নিয়মগুলো এখনও অনেকেরই অজানা।
সাতক্ষীরা সদর, আশাশুনি ও শ্যামনগর উপজেলার কয়েকটি এলাকার গৃহিণীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, কোরবানির মাংস সংরক্ষণের ক্ষেত্রে সিংহভাগ মানুষই সনাতন পদ্ধতি ও নিজস্ব ধারণা খাটান।
সাতক্ষীরা সদরের ধুলিহর গ্রামের গৃহিণী রাবেয়া খাতুন বলেন, কোরবানির মাংস পাওয়ার পর তাড়াহুড়ো করে ধুয়েই ফ্রিজে রেখে দেই। পানি ঝরানোর অত সময় কই? আর বড় বড় পলিথিনে একবারে অনেক মাংস ঠাঁইলাই (গাদাগাদি করে) রেখে দিই, পরে রান্নার সময় বের করে কুড়ল (দা) দিয়ে কুপিয়ে ছাড়াতে হয়।
অনেক পরিবারে আবার মাংস না ধুয়েই রক্তসহ ফ্রিজে রেখে দেওয়ার প্রবণতা দেখা গেছে। খামারি ও সাধারণ গ্রামবাসীদের একাংশের ধারণা, ফ্রিজে রাখলে সব জীবাণু এমনিতেই মরে যায়, তাই বাড়তি নিয়মের প্রয়োজন নেই।
সাতক্ষীরা শহরের ওয়াল্টন শোরুম ম্যানেজার আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, এখন আর ফ্রিজ শুধু শহরের মানুষের বিলাসী পণ্য নয়। গ্রামের মানুষ, বিশেষ করে প্রবাসী পরিবার বা খামারিরা এখন নগদ টাকা বা কিস্তিতে দেদারসে ফ্রিজ কিনছেন। ঈদের আগে ডিপ ফ্রিজ এবং বড় ধারণক্ষমতার ফ্রিজের চাহিদা সবচেয়ে বেশি। তবে কাস্টমাররা ফ্রিজের স্থায়িত্ব বা বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের বিষয় জানতে চাইলেও, মাংস কীভাবে স্বাস্থ্যসম্মত উপায়ে রাখতে হবে সে বিষয়ে কোনও পরামর্শ জানতে চান না।
সঠিক নিয়মে মাংস সংরক্ষণ না করলে পুষ্টিগুণ নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হতে পারে বলে সতর্ক করছেন চিকিৎসকরা।
জেলা নিরাপদ খাদ্য অফিসার দীপংকর দত্ত বলেন,মাংস ফ্রিজে রাখার আগে অবশ্যই ভালো করে রক্ত ধুয়ে, সম্পূর্ণ পানি ঝরিয়ে নিতে হবে। ভেজা মাংস রাখলে ব্যাক্টেরিয়ার সংক্রমণ দ্রুত ছড়ায়। সবচেয়ে বড় ভুল হয় বড় বড় প্যাকেটে মাংস রাখা। মাংস রাখতে হবে ছোট ছোট প্যাকেটে, যেন একবার ফ্রিজ থেকে বের করলে পুরোটা রান্না করা যায়। বারবার বরফ গলানো এবং পুনরায় ফ্রিজিং করা মাংসের পুষ্টিগুণ সম্পূর্ণ নষ্ট করে দেয় এবং পেটের পীড়াসহ ফুড পয়জনিংয়ের কারণ হতে পারে।
তিনি আরও জানান, কোরবানির ঈদের সময় ফ্রিজে ধারণক্ষমতার অতিরিক্ত মাংস গাদাগাদি করে রাখা হয়। এতে ফ্রিজের ভেতরের বাতাস চলাচল ব্যাহত হয় এবং মাংসের ভেতরের অংশ কাঙ্ক্ষিত তাপমাত্রায় বা তার নিচে পৌঁছায় না। ফলে বাইরে থেকে ভালো মনে হলেও ভেতরে মাংস পচতে শুরু করে।
তিনি আরও বলেন, স্থানীয় গণমাধ্যম, স্বাস্থ্যকর্মী এবং মসজিদের ইমামদের মাধ্যমে যদি কোরবানির আগে মাংস সংরক্ষণের সঠিক নিয়মগুলো প্রচার করা যায়, তবেই ফ্রিজের আসল সুফল পাবে গ্রামীণ মানুষ।
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির আমন্ত্রণে চার দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে ভারতে পৌঁছেছেন মিয়ানমারের প্রেসিডেন্ট ইউ মিন অং হ্লাইং। শনিবার (৩০ মে) তিনি বিহারের বুদ্ধগয়ায় পৌঁছালে তাকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানানো হয়। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল এই সফরকে স্বাগত জানিয়ে মিয়ানমারের সঙ্গে ভারতের সভ্যতাগত ও আধ্যাত্মিক সম্পর্কের বিষয়টি তুলে ধরেছেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে রণধীর জয়সওয়াল বৌদ্ধ ধর্মের অন্যতম প্রধান কেন্দ্র বুদ্ধগয়ায় মিয়ানমারের প্রেসিডেন্টের আগমনের কথা উল্লেখ করেন। বিমানবন্দরে তাকে স্বাগত জানান বিহারের রাজ্যপাল লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) সৈয়দ আতা হাসনাইন।
এক্সের ওই পোস্টে বলা হয়, মিয়ানমারের প্রেসিডেন্ট ইউ মিন অং হ্লাইংকে বুদ্ধগয়ায় উষ্ণ স্বাগত। বিমানবন্দরে মাননীয় রাজ্যপাল লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) সৈয়দ আতা হাসনাইন তাকে অভ্যর্থনা জানিয়েছেন। পোস্টে আরও উল্লেখ করা হয়, এই সফর আমাদের দুটি দেশের মধ্যকার দৃঢ় আধ্যাত্মিক, ঐতিহাসিক ও জনগণের সাথে জনগণের সম্পর্ক এবং চলমান সহযোগিতার গভীরতাকে প্রতিফলিত করে।
ভারতে পৌঁছানোর পরপরই প্রেসিডেন্ট মিন অং হ্লাইং বৌদ্ধদের পবিত্র তীর্থস্থান এবং ইউনেস্কো স্বীকৃত বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থান ‘মহাবোধি মন্দির’ পরিদর্শন করেন।
৩০ মে থেকে ২ জুন পর্যন্ত স্থায়ী এই সফরটি বর্তমান প্রেসিডেন্ট হিসেবে মিন অং হ্লাইংয়ের প্রথম ভারত সফর। এই সফরে তার সঙ্গে ক্যাবিনেট মন্ত্রী, সরকারের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা এবং শীর্ষস্থানীয় ব্যবসায়ী নেতাদের সমন্বয়ে গঠিত একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল রয়েছে।
সূচি অনুযায়ী, আগামী ১ জুন নয়াদিল্লিতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে আনুষ্ঠানিক দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে বসবেন প্রেসিডেন্ট মিন অং হ্লাইং। সেখানে দুই দেশের ঐতিহাসিক সম্পর্ক পর্যালোচনার পাশাপাশি তিনি একটি বিশেষ বিজনেস ফোরামে অংশ নেবেন। আগামী ২ জুন ভারতের বাণিজ্যিক রাজধানী মুম্বাইয়ে ভারী শিল্প সংক্রান্ত আলোচনা, ব্যবসায়িক বৈঠক এবং বিভিন্ন স্থান পরিদর্শনের মধ্য দিয়ে তাঁর এই গুরুত্বপূর্ণ সফরটি শেষ হবে।
সূত্র: উইয়ন নিউজ