শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ১০ কার্তিক ১৪৩৩
শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ১০ কার্তিক ১৪৩৩

কালিগঞ্জে যৌথ বাহিনীর সাঁড়াশি অভিযান: ১৬৪৯ বোতল ফেন্সিডিলসহ আটক ২

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ২৫ এপ্রিল, ২০২৬, ৫:১১ অপরাহ্ণ
কালিগঞ্জে যৌথ বাহিনীর সাঁড়াশি অভিযান: ১৬৪৯ বোতল ফেন্সিডিলসহ আটক ২

নিজস্ব প্রতিনিধি: সাতক্ষীরার কালিগঞ্জে মাদকবিরোধী এক বড় ধরণের সাফল্য পেয়েছে যৌথ বাহিনী। দীর্ঘ সাড়ে আট ঘণ্টার এক শ্বাসরুদ্ধকর অভিযানে ১৬৪৯ বোতল ফেন্সিডিলসহ দুই মাদক কারবারিকে আটক করা হয়েছে।
শনিবার (২৫ এপ্রিল) দিবাগত রাত আনুমানিক ২টা থেকে অভিযানটি শুরু হয় এবং চলে রবিবার সকাল সাড়ে ১০টা পর্যন্ত। কালিগঞ্জ থানাধীন নলতা ইউনিয়নের খানজিয়া গ্রামের বিজিবি ক্যাম্প সংলগ্ন এলাকায় মাদকদ্রব্যের একটি বড় চালান মজুত রয়েছে এমন গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এই অভিযান পরিচালনা করা হয়।

অভিযানে নেতৃত্ব দেন র‌্যাবের কোম্পানী কমান্ডার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রেজাউল হক। অভিযানে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন-৬ (র‌্যাব-৬) সাতক্ষীরা ক্যাম্পের একটি চৌকস দল এবং পুলিশের সদস্যরা সমন্বিতভাবে অংশ নেন।

অভিযানে মাদক মজুত ও ব্যবসার সঙ্গে সরাসরি জড়িত থাকার অভিযোগে দুইজনকে আটক করা হয়েছে। তারা হলেন, ভাড়াসিমলা ইউনিয়নের খোরশেদ আলমের ছেলে ইমরান হোসেন (৩০) ও নলতা ইউনিয়নের পশ্চিম সেহেরা গ্রামের মৃত আলী আকবরের ছেলে কালাম হোসেন (৩৩) ।

জব্দকৃত ১৬৪৯ বোতল ফেন্সিডিল এবং আটককৃত আসামিদের পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়ার জন্য র‌্যাব-৬ সাতক্ষীরা ক্যাম্পে হস্তান্তর করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।

সীমান্তবর্তী এই এলাকায় মাদকের এত বড় চালান উদ্ধার হওয়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে স্বস্তি ফিরেছে।
পরবর্তীতে গ্রেপ্তারকৃত আসামিদ্বয়ের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে নিয়মিত মামলা রুজু পূর্বক উদ্ধারকৃত মাদক ও আসামিদ্বয়কে কালিগঞ্জ থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

র‌্যাবের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রেজাউল হক জানান, অবৈধ অস্ত্র, মাদকদ্রব্য ও চিহ্নিত সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তারে র‌্যাবের চলমান অভিযান অব্যাহত থাকবে।

Ads small one

বঙ্গোপসাগরে সুস্পষ্ট লঘুচাপ, ৫ দিন বজ্রসহ বৃষ্টির আভাস

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ২৪ অক্টোবর, ২০২৬, ৩:১২ অপরাহ্ণ
বঙ্গোপসাগরে সুস্পষ্ট লঘুচাপ, ৫ দিন বজ্রসহ বৃষ্টির আভাস

অনলাইন ডেস্ক: বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট লঘুচাপটি সুস্পষ্ট লঘুচাপে পরিণত হয়েছে। এর প্রভাবে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে আগামী পাঁচ দিন বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।

শনিবার (২৪ অক্টোবর) আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাসে বলা হয়, পূর্ব-মধ্য বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থানরত সুস্পষ্ট লঘুচাপটি আরও পশ্চিম-উত্তরপশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়ে ঘনীভূত হতে পারে।

শনিবার সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় চট্টগ্রাম বিভাগের দু-এক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। দেশের অন্যান্য অঞ্চলে আকাশ আংশিক মেঘলা থাকলেও আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকতে পারে। এ সময় দিন ও রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।

রোববারও দেশের আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকতে পারে। সোমবার চট্টগ্রাম বিভাগের দু-এক জায়গায় বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। ওই দিন তাপমাত্রা সামান্য বাড়তে পারে।

মঙ্গলবার খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের অনেক জায়গায় দমকা হাওয়াসহ বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। বুধবার রংপুর, রাজশাহী, ঢাকা, ময়মনসিংহ, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। বুধবার সারা দেশে দিন ও রাতের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে।

খুলনার তেরখাদায় যুবদল নেতা গুলিবিদ্ধ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ২৪ অক্টোবর, ২০২৬, ৩:০৬ অপরাহ্ণ
খুলনার তেরখাদায় যুবদল নেতা গুলিবিদ্ধ

পত্রদূত ডেস্ক:

খুলনার তেরখাদায় দুর্বৃত্তদের গুলিতে মো. রামীম বিশ্বাস (৩২) নামে এক যুবদল নেতা আহত হয়েছেন। শনিবার (২৪ অক্টোবর) বেলা ১১টার দিকে সেনেরবাজার-মধুপুর সড়কের পারহাজীগ্রামে ‘খান ব্রিকস’-এর কাছে আয়নাল মোল্লার বাড়ির সামনে এ ঘটনা ঘটে।

রামীম বিশ্বাস পারহাজীগ্রামের হাবিবুর রহমানের ছেলে। তিনি তেরখাদা উপজেলার ৬ নম্বর মধুপুর ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের সভাপতি।

জেলা পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, শনিবার সকালে রামীম ওই স্থানে একটি ভ্যানে অবস্থান করছিলেন। এ সময় মোটরসাইকেলে করে আসা অজ্ঞাতপরিচয় দুর্বৃত্তরা পেছন থেকে তাঁকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। এতে তাঁর পাঁজরে গুলি লাগে এবং তিনি গুরুতর আহত হন।

পরে স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় তাঁকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

ঘটনার খবর পেয়ে তেরখাদা থানা-পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে এবং আলামত সংগ্রহ করে। খুলনা জেলা পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার রহস্য উদ্‌ঘাটন ও জড়িতদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে। পাশাপাশি ওই এলাকায় পুলিশের নজরদারি জোরদার করা হয়েছে।

পাইকগাছায় পলিথিনের জীর্ণ ঘরে মানবেতর জীবনযাপন সাকাত দম্পতির

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ২৪ অক্টোবর, ২০২৬, ২:৫৬ অপরাহ্ণ
পাইকগাছায় পলিথিনের জীর্ণ ঘরে মানবেতর জীবনযাপন সাকাত দম্পতির

পলাশ কর্মকার, কপিলমুনি (পাইকগাছা): দারিদ্র্যের সঙ্গে যুদ্ধ যেন থামছেই না। জীবনের পড়ন্ত বেলায় এসে অনেকটাই ক্লান্ত খুলনার পাইকগাছা উপজেলার কপিলমুনি ইউনিয়নের সিলেমানপুর গ্রামের ৭০ বছর বয়সী বৃদ্ধ মো. সাকাত মোড়ল। অসুস্থ স্ত্রীকে নিয়ে তিনি বসবাস করছেন জরাজীর্ণ একটি ঘরে। ঘরটির একাংশ ইতোমধ্যে ভেঙে পড়েছে। বাকি অংশও যেকোনো মুহূর্তে ধসে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

ঘরের চালের কোথাও ভাঙা টিন, কোথাও মাটির টালি, আবার কোথাও পলিথিন দিয়ে ঢেকে রাখা হয়েছে। মাটির দেয়াল জরাজীর্ণ, ভরসা বলতে বাঁশের খুঁটি আর পলিথিনের বেড়া। দূর থেকে দেখলে মনে হয়, এটি পরিত্যক্ত কোনো ঝুপড়ি। অথচ এই ঘরেই স্ত্রী আনোয়ারা বেগমকে নিয়ে মানবেতর জীবন কাটাচ্ছেন সাকাত মোড়ল।

ছেলেমেয়েদের বিয়ে দিয়েছেন তিনি। বর্তমানে শ্বাসকষ্টে আক্রান্ত স্ত্রীকে নিয়ে অভাব-অনটনের মধ্যে দিন কাটছে তাঁর। স্থায়ী আয়ের কোনো উৎস নেই। বয়স্ক ভাতা ছাড়া সরকারি কোনো সহায়তাও পান না। জমি বলতে আছে মাত্র দুই শতক, যার ওপর দাঁড়িয়ে আছে তাঁদের জীর্ণ ঘরটি।

বৃষ্টি থেকে রক্ষা পেতে ঘরের চাল পলিথিন দিয়ে ঢেকে রেখেছেন সাকাত মোড়ল। তারপরও বৃষ্টি বা বন্যা হলে ঘরের ভেতর পানি ঢুকে কাদা হয়ে যায়। তখন সেখানে থাকা সম্ভব হয় না; আশ্রয় নিতে হয় প্রতিবেশীদের ঘরে। এমনকি ঘরে থাকার মতো একটি খাটও নেই। মেঝেতে পলিথিন বিছিয়ে রাত কাটান এই বৃদ্ধ দম্পতি।

এত কষ্টের মধ্যেও সাকাত মোড়লের স্বপ্ন, তাঁদের একটি নিরাপদ ঘর হবে। ঝড়-বৃষ্টি এলেও অন্তত অন্যের কাছে আশ্রয় চাইতে হবে না।

সাকাত মোড়ল বলেন, “সরকারের দেওয়া বয়স্ক ভাতা ছাড়া আর কোনো সরকারি সুযোগ-সুবিধা পাই না। প্রতিবেশীদের কেউ খাবার দেন, কেউ টাকা-পয়সা দিয়ে সাহায্য করেন। বৃষ্টির সময় তাঁদের ঘরেও আশ্রয় নিতে হয়। বলা যায়, তাঁদের দয়াতেই টিকে আছি। মানুষের সাহায্যে দুমুঠো ভাত জোটে। কেউ সাহায্য না করলে না খেয়েও থাকতে হয়। থাকার জায়গাটুকু ছাড়া আর কোনো সম্বল নেই। সরকার অনেককে ঘর দিয়েছে। আমাকেও একটি ঘর দিলে অন্তত মাথা গোঁজার ঠাঁই হতো।”

স্থানীয় বাসিন্দা ফরিদ গাজী বলেন, “স্থানীয় প্রশাসন, মানবিক সংগঠন ও সমাজের বিত্তবানদের কাছে অনুরোধ, তাঁরা যেন এই অসহায় বৃদ্ধ দম্পতির পাশে দাঁড়ান। তাঁদের একটি নিরাপদ ঘর তৈরি করে দেওয়া গেলে অন্তত শান্তিতে বসবাস করতে পারবেন।”