কালিগঞ্জে সরকারি কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি, শিক্ষক ও সুশীলদের সাথে জেলা প্রশাসকের মতবিনিময়
সুন্দরবনাঞ্চল (শ্যামনগর) প্রতিনিধি: সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য রক্ষা ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে শ্যামনগরে শিক্ষার্থী ও পরিবেশকর্মীদের নিয়ে দিনব্যাপী এক প্রশিক্ষণ ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) ওয়াইল্ডটিমের আয়োজনে উপজেলার মুন্সিগঞ্জ টাইগার পয়েন্টে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। জিআইজেডের অর্থায়নে সুন্দরবনসংলগ্ন পাঁচটি মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও মাদ্রাসার আর্থ স্কাউট, আর্থমেন্টর এবং প্রতিষ্ঠান প্রধানেরা এতে অংশ নেন। অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বন বিভাগের সাতক্ষীরা রেঞ্জের মুন্সিগঞ্জ বন টহল ফাঁড়ির ইনচার্জ ফরেস্টার মো. জাহিদ হোসেন, উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. ইদ্রিস হোসেন ও ওয়াইল্ডটিমের সমন্বয়কারী মো. আবু জাফর। প্রশিক্ষণ পরিচালনা করেন ওয়াইল্ডটিমের প্রোগ্রাম অফিসার বায়েজিদ হোসেন ও আলী হুসাইন মুহাম্মদ।
দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ মূল্যায়ন শেষে সুন্দরবন মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের ছাত্রী জাকিয়া জামান ও পোড়াকাটলা দ্বীপায়ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ছাত্রী প্রিয়ংকা রানীকে ‘গোল্ডেন ব্যাজ’ প্রদান করা হয়। এ ছাড়া ১৪ জনকে ‘গোল্ড ব্যাজ’ এবং ২৬ জনকে ‘ব্রোঞ্জ ও সিলভার ব্যাজ’ দেওয়া হয়।
জিএম আমিনুল হক: সাতক্ষীরা জেলাজুড়ে গ্রাম থেকে শহর—সবত্রই মশার উপদ্রবে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে জনজীবন। বর্ষার মৌসুম শুরু হতেই ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব দেখা দেওয়ায় ছড়িয়ে পড়েছে আতঙ্ক। তবে মশা দমনে স্থানীয় প্রশাসন বা পৌরসভার দৃশ্যমান কোনো উদ্যোগ না থাকায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সাধারণ মানুষ।
সরেজমিনে দেখা গেছে, সাতক্ষীরা সদর, তালা, কলারোয়া, দেবহাটা, কালিগঞ্জ, আশাশুনি ও শ্যামনগর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ড্রেনের জমে থাকা পানি ও আবর্জনার কারণে মশার বংশবৃদ্ধি চরম আকার ধারণ করেছে। মশার কয়েল বা স্প্রে ব্যবহার করেও রেহাই মিলছে না।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি জ্বর ও শরীর ব্যথা নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। চলতি মাসে সদর উপজেলায় দুজন এবং তালায় একজনের ডেঙ্গু শনাক্ত হয়েছে। সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের একজন চিকিৎসক জানান, জমে থাকা পরিষ্কার পানিতে এডিস মশার জন্ম হয়। এ বিষয়ে গৃহস্থালি সচেতনতার পাশাপাশি ব্যাপক প্রচার দরকার।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, গত তিন মাসে পৌরসভা বা উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে মশা মারতে কোনো ওষুধ ছিটানো বা ফগিং করা হয়নি। কোথাও কোথাও লোকদেখানো ওষুধ দেওয়া হলেও কাজের কাজ কিছুই হচ্ছে না। পৌরসভার বাসিন্দা রফিকুল ইসলাম বলেন, নিয়মিত কর দেওয়ার পরও পৌরসভা থেকে মশা নিধনে কার্যকর সেবা মিলছে না।
এ বিষয়ে জেলা সিভিল সার্জন জানান, ডেঙ্গু মোকাবিলায় হাসপাতালগুলোকে সতর্ক ও প্রস্তুত রাখা হয়েছে। পাশাপাশি মশা নিধন কার্যক্রম জোরদার করতে পৌরসভা ও স্থানীয় সরকার বিভাগকে দাপ্তরিক চিঠি পাঠানো হয়েছে।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, কেবল ফগিং নয়, মশা দমনে ড্রেন পরিষ্কার ও নালা-নর্দমার জমা পানি নিষ্কাশন করা জরুরি। দ্রুত যৌথ অভিযান শুরু না করলে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সচেতন মহল।
সীমান্ত প্রতিনিধি: দেবহাটা উপজেলার কোমরপুর দক্ষিণ পাড়া ও ভাতশালা স্লুইসগেট সংলগ্ন মোড় থেকে ঢেবখালি মোড় পর্যন্ত এক কিলোমিটার রাস্তার বেহাল দশায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন তিন গ্রামের মানুষ। রাস্তাটির কাজ শেষ না করে ঠিকাদার চলে যাওয়ায় এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা আবু সেলিম, আইয়ুব আলী ও রমজান আলী জানান, শহরমুখী এই গুরুত্বপূর্ণ রাস্তাটি পাকাকরণের জন্য ২০২৫ সালে আধাকিলোমিটার অংশের বরাদ্দ দেওয়া হয়। কাজ পাওয়ার পর ঠিকাদার আনু মাস্টার রাস্তার দুই পাশে প্রায় দুই ফুট গভীর গর্ত খুঁড়ে মাটি ফেলে রেখে চলে যান। এরপর আর কাজ হয়নি। বর্ষা শুরু হতেই সেই গর্তে পানি ও হাঁটুসমান কাদা জমে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। ফলে স্কুলগামী শিক্ষার্থীদের যাতায়াত বন্ধের পাশাপাশি অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
স্থানীয় ইউপি সদস্য হীরা জানান, কাজ শেষ করার জন্য বারবার যোগাযোগ করা হলেও ঠিকাদার আনু মাস্টার গত এক বছর ধরে বালুসংকটের অজুহাত দেখাচ্ছেন।
এলাকাবাসীর দাবি, দায়িত্বহীনতা ও দুর্নীতির কারণে ঠিকাদার আনু মাস্টারের লাইসেন্স বাতিল করে তাঁকে শাস্তির আওতায় আনা হোক। একই সঙ্গে নতুন ঠিকাদার নিয়োগ করে রাস্তাটি দ্রুত চলাচলের উপযোগী করার জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ চেয়েছেন তাঁরা।