বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬, ২৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬, ২৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

কোরবানির ঈদ ঘিরে জমে উঠেছে সাতক্ষীরার ‘গরুগ্রাম’, মিলছে বিশেষ সুবিধাও

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৯ মে, ২০২৬, ৩:৩৭ অপরাহ্ণ
কোরবানির ঈদ ঘিরে জমে উঠেছে সাতক্ষীরার ‘গরুগ্রাম’, মিলছে বিশেষ সুবিধাও

ইব্রাহিম খলিল: কোরবানির ঈদ সামনে রেখে জমে উঠেছে সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ভালুকা চাঁদপুর পশ্চিমপাড়া গ্রামের গরুর বাজার। বছরের অন্য সময় সাধারণ গ্রাম হলেও ঈদ এলেই এলাকাটি পরিচিতি পায় ‘গরুগ্রাম’ নামে। গ্রামের প্রায় প্রতিটি বাড়িতেই এখন চলছে কোরবানির গরু লালন-পালন ও বিক্রির ব্যস্ততা।

প্রতিদিন জেলার বিভিন্ন এলাকা ছাড়াও দূর-দূরান্ত থেকে ক্রেতারা আসছেন এই গ্রামে। পছন্দের গরু কিনে কেউ সঙ্গে নিয়ে যাচ্ছেন, আবার কেউ ঈদের আগের দিন কিংবা ঈদের সকাল পর্যন্ত খামারেই রেখে যাচ্ছেন। ক্রেতাদের জন্য গরুর খাবার ও দেখভালের দায়িত্বও নিচ্ছেন খামারিরা। এমন বিশেষ সুবিধার কারণে ক্রেতাদের আগ্রহও বাড়ছে এই গ্রামকে ঘিরে।

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, কৃষিকাজের পাশাপাশি বাড়তি আয়ের আশায় কয়েক বছর ধরে গরু পালন শুরু করেন গ্রামের বাসিন্দারা। ধীরে ধীরে প্রায় প্রতিটি বাড়িতেই গড়ে ওঠে ছোট-বড় খামার। বর্তমানে এই গ্রামে ১৫-২০টি থেকে শুরু করে ৪০টির বেশি গরুও রয়েছে অনেকের খামারে।

খামারি আলমগীর হোসেন বলেন, আমাদের গ্রামের বেশিরভাগ মানুষই এখন গরু পালন করেন। সারা বছর লালন-পালন করে ঈদের সময় গরু বিক্রি করি। এবার গরুর চাহিদাও ভালো। অনেক ক্রেতা আগেই এসে গরু পছন্দ করে রেখে যাচ্ছেন। ঈদের আগ পর্যন্ত আমরা গরুর খাবার ও দেখভালের দায়িত্ব নিচ্ছি।

স্থানীয় বাসিন্দা রফিকুল ইসলাম বলেন, আমাদের গ্রামের প্রায় সব বাড়িতেই গরু রয়েছে। কোরবানির সময় সব গরুই বিক্রি হয়ে যায়। এখানে ভালো গরু সাশ্রয়ী দামে পাওয়া যায় বলে দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ আসে। কেউ গরু কিনে ঠকে না।

আরেক বাসিন্দা মোজাহিদুল ইসলাম বলেন, ধান চাষ হওয়ায় গরুর খাবারের সংকট হয় না। মাঠের ঘাস ও বিচালি দিয়েই বেশিরভাগ গরু পালন করা হয়। অনেকেই ঘেরের ভেড়িতে আলাদা করে ঘাস চাষ করেন।

আট বছর ধরে গরু পালন করছেন খামারি মোহাম্মদ আবদুর রহমান। তিনি বলেন, “গরুর চাহিদা অনেক বেশি। আমার খামারে ছয়টি গরু ছিল, প্রতিটির দাম এক লাখ টাকার ওপরে। আরও গরু থাকলেও বিক্রি হয়ে যেত।

গরু কিনতে সাতক্ষীরা শহর থেকে আসা ক্রেতা মোহাম্মদ খলিলুর রহমান বলেন, গত বছরও এখান থেকে গরু কিনেছিলাম। বাজারের তুলনায় এখানে কম দামে ভালো গরু পাওয়া যায়। সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো, ঈদের দিন পর্যন্ত খামারেই গরু রেখে যাওয়ার সুযোগ আছে। খামারিরা খাবারের ব্যবস্থাও করেন।

এদিকে আসন্ন ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে জেলায় কোরবানির পশুর পর্যাপ্ত প্রস্তুতির কথা জানিয়েছে জেলা প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর। দপ্তরের তথ্যমতে, সাতক্ষীরার ১২ হাজার ৮৯৪টি খামারে প্রস্তুত করা হয়েছে ৪৯ হাজারের বেশি গরু, ৪৪ হাজারের বেশি ছাগল এবং ৬ হাজারের বেশি ভেড়া। সব মিলিয়ে এবার জেলায় কোরবানির পশুর সংখ্যা চাহিদার তুলনায় প্রায় ১৮ হাজার বেশি থাকবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. এফ. এম. মান্নান কবীর বলেন, উদ্বৃত্ত পশু থাকলেও কোনো সংকটের আশঙ্কা নেই। সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে গরু প্রবেশ বন্ধে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। তিনি আরও জানান, গত বছরের তুলনায় এবার ২ থেকে ৩ শতাংশ বেশি পশু প্রস্তুত করা হয়েছে। স্থানীয় খামারিদের উৎপাদিত গরুর ওপর নির্ভরশীলতা বাড়ায় জেলার প্রাণিসম্পদ খাতে ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে বলেও জানান তিনি।

 

 

 

Ads small one

জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের দুই নেতা গ্রেপ্তার

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ১২ জুন, ২০২৬, ১২:২৭ পূর্বাহ্ণ
জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের দুই নেতা গ্রেপ্তার

নিজস্ব প্রতিনিধি: সাতক্ষীরায় নিয়মিত একটি মামলার আসামি হিসেবে জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের দুই নেতাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার (১১ জুন) সাতক্ষীরা সদর থানা পুলিশ জেলা শহরের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাঁদের গ্রেপ্তার করে।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেনÑসাতক্ষীরা জেলা আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও শহরের সুলতানপুর এলাকার বাসিন্দা শেখ জাহাঙ্গীর কবির (৪৭) এবং জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সহসভাপতি ও ইটাগাছা এলাকার বাসিন্দা এস এম তুহিনুর রহমান (৩৬)।
সাতক্ষীরা সদর থানা-পুলিশ জানায়, জেলা পুলিশ সুপারের নির্দেশনায় এবং সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) নেতৃত্বে উপপরিদর্শক (এসআই) আব্দুল্লাহিল আরিফ নিশাত ও সমীর গাইনসহ পুলিশের একটি দল এই অভিযান পরিচালনা করে। গ্রেপ্তার হওয়া ওই দুই নেতার বিরুদ্ধে থানায় নিয়মিত মামলা রয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে গতকালই তাঁদের পুলিশ প্রহরায় আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে বলে থানা সূত্রে জানা গেছে।

সম্পাদকীয়/প্রসঙ্গ: বিপন্ন গ্রামীণ সড়ক ও স্থায়ী জলাবদ্ধতার শঙ্কা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ১২ জুন, ২০২৬, ১২:২৬ পূর্বাহ্ণ
সম্পাদকীয়/প্রসঙ্গ: বিপন্ন গ্রামীণ সড়ক ও স্থায়ী জলাবদ্ধতার শঙ্কা

যশোরের কেশবপুর উপজেলায় মৎস্য ঘের নীতিমালা অমান্য করে সরকারি রাস্তা ও পানি নিষ্কাশনের পথ বন্ধ করে মাছ চাষের যে চিত্র সামনে এসেছে, তা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই উপজেলায় ৪ হাজার ৬৫৮টি মৎস্য ঘেরের একটি বড় অংশই গড়ে উঠেছে সরকারি আইন ও পরিবেশগত বিধিমালাকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে। অনেক প্রভাবশালী ঘের মালিক সরকারি পাকা ও কাঁচা সড়কগুলোকে তাঁদের ঘেরের বেড়িবাঁধ হিসেবে ব্যবহার করছেন। এর ফলে শত কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত শতাধিক গ্রামীণ যোগাযোগ ব্যবস্থা যেমন ধ্বংসের মুখে পড়েছে, তেমনি সরকারি খাল ও পানি নিষ্কাশনের স্বাভাবিক পথ বন্ধ হয়ে যাওয়ার কারণে বিস্তীর্ণ অঞ্চলে স্থায়ী জলাবদ্ধতার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
অভিযোগ রয়েছে, নব্বইয়ের দশক থেকে স্থানীয় কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তি বিল, খাল ও নদীর অববাহিকা দখল করে মাছ চাষ শুরু করেন। সময়ের সাথে সাথে এই প্রবণতা গ্রামীণ সড়কের বুক পর্যন্ত এসে ঠেকেছে। গণমাধ্যম জানাচ্ছে, যশোর-সাতক্ষীরা মহাসড়কের একাংশসহ কেশবপুরের বহু গুরুত্বপূর্ণ পাকা ও কাঁচা রাস্তার শোল্ডার ও পিচের অংশ ঘেরের পানির কারণে ধসে যাচ্ছে। ফলে যানবাহন ও জনসাধারনের চলাচলের সাধারণ পথগুলো এখন বিপজ্জনক মৃত্যুফাঁদে পরিণত হয়েছে। সরকারি বিধি অনুযায়ী, যেকোনো সড়ক থেকে নির্দিষ্ট দূরত্ব বজায় রেখে পৃথক বাঁধ নির্মাণ করে মাছ চাষ করার স্পষ্ট বাধ্যবাধকতা থাকলেও মাঠপর্যায়ে তার কোনো প্রতিফলন নেই।
এর চেয়েও বড় সংকট তৈরি হয়েছে পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা পুরোপুরি অচল করে দেওয়ায়। প্রাকৃতিকভাবে গড়ে ওঠা খাল ও কালভার্টের মুখ বন্ধ করে ব্যক্তিগত মৎস্য ঘের তৈরি করায় বৃষ্টির পানি নামার পথ অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছে। ফলে কাদার বিল, মহাদেবপুর বিল, পাঁচপোতার বিলসহ ওই অঞ্চলের অন্তত এক ডজন বিশাল বিলের স্বাভাবিক পরিবেশ এখন হুমকির মুখে। এই পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হলে কেবল যোগাযোগ ব্যবস্থারই ক্ষতি হবে না, বরং কৃষি উৎপাদন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হবে এবং বিল এলাকার হাজার হাজার নি¤œআয়ের মানুষ ও মৎস্যজীবী দীর্ঘমেয়াদি জীবিকা সংকটে পড়বেন।
উপজেলা প্রশাসন ও স্থানীয় মৎস্য বিভাগ মাঝে মাঝে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা ও সচেতনতামূলক সভা করলেও তা প্রভাবশালী ঘের মালিকদের থামাতে পারছে না। নামমাত্র জরিমানা বা সাময়িক নিষেধাজ্ঞা এই কাঠামোগত ক্ষতি রোধে কোনো স্থায়ী সমাধান আনছে না। সরকারি সম্পদ ধ্বংস এবং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা জিম্মি করে মুষ্টিমেয় কিছু মানুষের এই অতি-মুনাফালোভী বৈরী আচরণ কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।
আমরা মনে করি, গ্রামীণ অর্থনীতি ও পরিবেশ রক্ষা করতে হলে মৎস্য ঘের নীতিমালার কঠোর ও আপসহীন বাস্তবায়ন জরুরি। যেসব ঘের মালিক সরকারি রাস্তা বাঁধ হিসেবে ব্যবহার করছেন এবং খালের স্বাভাবিক প্রবাহ বন্ধ করেছেন, তাঁদের বিরুদ্ধে কেবল জরিমানা নয়, বরং ফৌজদারি আইনে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে হবে। একই সাথে অবৈধভাবে দখলকৃত খাল ও কালভার্টের মুখ অবিলম্বে উন্মুক্ত করে পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা স্বাভাবিক করতে হবে। গ্রামীণ অবকাঠামো ও জনস্বার্থকে জলাঞ্জলি দিয়ে কোনো বাণিজ্যিক উন্নয়ন টেকসই হতে পারে নাÑসংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ বিষয়টি অনুধাবন করে দ্রুত স্থায়ী পদক্ষেপ নেবেন, এটাই আমাদের প্রত্যাশা।

 

আশাশুনিতে প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রধান শিক্ষকদের সমন্বয় সভা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ১২ জুন, ২০২৬, ১২:২২ পূর্বাহ্ণ
আশাশুনিতে প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রধান শিক্ষকদের সমন্বয় সভা

আশাশুনি প্রতিনিধি: আশাশুনি উপজেলার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকদের অংশ গ্রহণে ক্লাস্টারভিত্তিক মাসিক সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১১ জুন) বেলা ১১টায় উপজেলার মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও ইউআরসি ট্রেনিং সেন্টারে ৪টি ক্লাস্টারের এই পৃথক পৃথক সভা অনুষ্ঠিত হয়।
উপজেলা শিক্ষা অফিসার স্বপন কুমার বর্মনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সভায় উপজেলার ১০৯টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকেরা অংশ নেন। সভায় আলোচনায় অংশ নেন সহকারী উপজেলা শিক্ষা অফিসার মোস্তাফিজুর রহমান, ঝংকর ঢালী, সোহাগ আলম ও আশেকুজ্জামান।
আশাশুনি সদর, শ্রীউলা, চম্পাখালী ও বুধহাটা ক্লাস্টারের শিক্ষকদের নিয়ে আয়োজিত এই সভায় হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে শিক্ষকদের হাজিরা নিশ্চিতকরণ, শিক্ষার্থীদের মৌলিক সাক্ষরতা ও শিক্ষার মান উন্নয়ন, চলমান বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজের তদারকি, জুন ক্লোজিংয়ের বিবিধ ভাউচার জমা এবং বিদ্যালয়গুলোতে ব্যবস্থাপনা কমিটি (এসএমসি) গঠনের সার্বিক পরিস্থিতিসহ বিভিন্ন দাপ্তরিক বিষয়ে আলোচনা করা হয়।