বুধবার, ২০ মে ২০২৬, ৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
বুধবার, ২০ মে ২০২৬, ৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

কোরবানির ঈদ ঘিরে জমে উঠেছে সাতক্ষীরার ‘গরুগ্রাম’, মিলছে বিশেষ সুবিধাও

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৯ মে, ২০২৬, ৩:৩৭ অপরাহ্ণ
কোরবানির ঈদ ঘিরে জমে উঠেছে সাতক্ষীরার ‘গরুগ্রাম’, মিলছে বিশেষ সুবিধাও

ইব্রাহিম খলিল: কোরবানির ঈদ সামনে রেখে জমে উঠেছে সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ভালুকা চাঁদপুর পশ্চিমপাড়া গ্রামের গরুর বাজার। বছরের অন্য সময় সাধারণ গ্রাম হলেও ঈদ এলেই এলাকাটি পরিচিতি পায় ‘গরুগ্রাম’ নামে। গ্রামের প্রায় প্রতিটি বাড়িতেই এখন চলছে কোরবানির গরু লালন-পালন ও বিক্রির ব্যস্ততা।

প্রতিদিন জেলার বিভিন্ন এলাকা ছাড়াও দূর-দূরান্ত থেকে ক্রেতারা আসছেন এই গ্রামে। পছন্দের গরু কিনে কেউ সঙ্গে নিয়ে যাচ্ছেন, আবার কেউ ঈদের আগের দিন কিংবা ঈদের সকাল পর্যন্ত খামারেই রেখে যাচ্ছেন। ক্রেতাদের জন্য গরুর খাবার ও দেখভালের দায়িত্বও নিচ্ছেন খামারিরা। এমন বিশেষ সুবিধার কারণে ক্রেতাদের আগ্রহও বাড়ছে এই গ্রামকে ঘিরে।

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, কৃষিকাজের পাশাপাশি বাড়তি আয়ের আশায় কয়েক বছর ধরে গরু পালন শুরু করেন গ্রামের বাসিন্দারা। ধীরে ধীরে প্রায় প্রতিটি বাড়িতেই গড়ে ওঠে ছোট-বড় খামার। বর্তমানে এই গ্রামে ১৫-২০টি থেকে শুরু করে ৪০টির বেশি গরুও রয়েছে অনেকের খামারে।

খামারি আলমগীর হোসেন বলেন, আমাদের গ্রামের বেশিরভাগ মানুষই এখন গরু পালন করেন। সারা বছর লালন-পালন করে ঈদের সময় গরু বিক্রি করি। এবার গরুর চাহিদাও ভালো। অনেক ক্রেতা আগেই এসে গরু পছন্দ করে রেখে যাচ্ছেন। ঈদের আগ পর্যন্ত আমরা গরুর খাবার ও দেখভালের দায়িত্ব নিচ্ছি।

স্থানীয় বাসিন্দা রফিকুল ইসলাম বলেন, আমাদের গ্রামের প্রায় সব বাড়িতেই গরু রয়েছে। কোরবানির সময় সব গরুই বিক্রি হয়ে যায়। এখানে ভালো গরু সাশ্রয়ী দামে পাওয়া যায় বলে দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ আসে। কেউ গরু কিনে ঠকে না।

আরেক বাসিন্দা মোজাহিদুল ইসলাম বলেন, ধান চাষ হওয়ায় গরুর খাবারের সংকট হয় না। মাঠের ঘাস ও বিচালি দিয়েই বেশিরভাগ গরু পালন করা হয়। অনেকেই ঘেরের ভেড়িতে আলাদা করে ঘাস চাষ করেন।

আট বছর ধরে গরু পালন করছেন খামারি মোহাম্মদ আবদুর রহমান। তিনি বলেন, “গরুর চাহিদা অনেক বেশি। আমার খামারে ছয়টি গরু ছিল, প্রতিটির দাম এক লাখ টাকার ওপরে। আরও গরু থাকলেও বিক্রি হয়ে যেত।

গরু কিনতে সাতক্ষীরা শহর থেকে আসা ক্রেতা মোহাম্মদ খলিলুর রহমান বলেন, গত বছরও এখান থেকে গরু কিনেছিলাম। বাজারের তুলনায় এখানে কম দামে ভালো গরু পাওয়া যায়। সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো, ঈদের দিন পর্যন্ত খামারেই গরু রেখে যাওয়ার সুযোগ আছে। খামারিরা খাবারের ব্যবস্থাও করেন।

এদিকে আসন্ন ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে জেলায় কোরবানির পশুর পর্যাপ্ত প্রস্তুতির কথা জানিয়েছে জেলা প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর। দপ্তরের তথ্যমতে, সাতক্ষীরার ১২ হাজার ৮৯৪টি খামারে প্রস্তুত করা হয়েছে ৪৯ হাজারের বেশি গরু, ৪৪ হাজারের বেশি ছাগল এবং ৬ হাজারের বেশি ভেড়া। সব মিলিয়ে এবার জেলায় কোরবানির পশুর সংখ্যা চাহিদার তুলনায় প্রায় ১৮ হাজার বেশি থাকবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. এফ. এম. মান্নান কবীর বলেন, উদ্বৃত্ত পশু থাকলেও কোনো সংকটের আশঙ্কা নেই। সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে গরু প্রবেশ বন্ধে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। তিনি আরও জানান, গত বছরের তুলনায় এবার ২ থেকে ৩ শতাংশ বেশি পশু প্রস্তুত করা হয়েছে। স্থানীয় খামারিদের উৎপাদিত গরুর ওপর নির্ভরশীলতা বাড়ায় জেলার প্রাণিসম্পদ খাতে ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে বলেও জানান তিনি।

 

 

 

Ads small one

ডুমুরিয়ায় জৈব বালাইনাশক ব্যবহারের ওপর কৃষক কর্মশালা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২১ মে, ২০২৬, ২:১১ পূর্বাহ্ণ
ডুমুরিয়ায় জৈব বালাইনাশক ব্যবহারের ওপর কৃষক কর্মশালা

 

নিজস্ব প্রতিনিধি: পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় রাসায়নিক মুক্ত চাষাবাদের লক্ষ্যে খুলনার ডুমুরিয়ায় জৈব বালাইনাশক (বায়োপেস্টিসাইড) ব্যবহারের ওপর এক কৃষক কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার উপজেলার মালতিয়া ক্লাবে ব্র্যাক সিড অ্যান্ড অ্যাগ্রো এন্টারপ্রাইজ এই কর্মশালার আয়োজন করে।
কর্মশালায় নিরাপদ খাদ্য উৎপাদন, সমন্বিত বালাই ব্যবস্থাপনা (আইপিএম) এবং পরিবেশবান্ধব আধুনিক কৃষি প্রযুক্তির গুরুত্ব নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। এতে স্থানীয় কৃষি উদ্যোক্তা, খুচরা বিক্রেতা ও এলাকার প্রায় ৫০ জন কৃষক অংশ নেন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ও প্রধান প্রশিক্ষক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ব্র্যাক সিড অ্যান্ড অ্যাগ্রো এন্টারপ্রাইজ খুলনার আঞ্চলিক বিক্রয় ব্যবস্থাপক কৃষিবিদ মো. মোস্তাফিজুর রহমান। এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন প্রতিষ্ঠানের সাতক্ষীরার কারিগরি বিক্রয় কর্মকর্তা (টিএসও) রবিউল ইসলাম। কর্মশালা শেষে অংশগ্রহণকারী কৃষকদের আধুনিক পদ্ধতিতে চাষাবাদের পরামর্শ দেওয়ার পাশাপাশি তাঁদের মধ্যে বিনামূল্যে হাইব্রিড সবজি বীজ ও জৈব বালাইনাশক বিতরণ করা হয়।

 

ইউনিয়ন পর্যায়ে চার প্রতিযোগিতায় প্রথম পাতলা প্রাথমিকে পড়া বেদান্ত

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২১ মে, ২০২৬, ২:০৭ পূর্বাহ্ণ
ইউনিয়ন পর্যায়ে চার প্রতিযোগিতায় প্রথম পাতলা প্রাথমিকে পড়া বেদান্ত

 

নিজস্ব প্রতিনিধি: জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা পদকÑ২০২৬ প্রতিযোগিতায় ইউনিয়ন পর্যায়ে দারুণ সাফল্য পেয়েছে পাতলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মেধাবী শিক্ষার্থী বেদান্ত বাবু। সে চিত্রাংকন প্রতিযোগিতার পাশাপাশি বাংলা, ইংরেজি ও সাধারণ জ্ঞান কুইজÑসব কটিতেই প্রথম স্থান অর্জন করেছে।
বুধবার ইন্দুহাঁটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ইউনিয়ন পর্যায়ের এই প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। প্রতিযোগিতায় চারটি বিষয়ে প্রথম হয়ে অনন্য কৃতিত্বের স্বাক্ষর রাখে বেদান্ত।
বেদান্ত বাবুর এই অসাধারণ সাফল্যে পাতলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়জুড়ে এখন আনন্দের পরিবেশ বিরাজ করছে। বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক সোনালী বসুসহ সহকারী শিক্ষক সরস্বতী বিশ্বাস, শাহানাজ পারভীন, মিনা বালা, অনিমা গাইন ও অনুপ বালা তার এই অর্জনে গভীর সন্তোষ প্রকাশ করেছেন।
অনুষ্ঠান শেষে বিজয়ী বেদান্ত বাবুর হাতে পুরস্কার তুলে দেন ইন্দুহাঁটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বিপুল কুমার রায়। এ সময় সহকারী শিক্ষক মিহির পাটারী, রাজীব সিকদার, আরতী বিশ্বাস ও জীবনানন্দ বিশ্বাস উপস্থিত থেকে তাকে আন্তরিক অভিনন্দন জানান।
বেদান্ত বাবুর বাবা-মা ও শিক্ষকেরা জানিয়েছেন, ইউনিয়ন পর্যায়ের এই সাফল্য পেরিয়ে সে যেন সামনের উপজেলা ও জেলা পর্যায়ের প্রতিযোগিতাগুলোতেও এই ধারা বজায় রাখতে পারে, সে জন্য তারা সবার আশীর্বাদ ও সহযোগিতা কামনা করেছেন।

দেবহাটায় তুচ্ছ ঘটনায় গৃহবধূকে মারধর

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২১ মে, ২০২৬, ২:০৬ পূর্বাহ্ণ
দেবহাটায় তুচ্ছ ঘটনায় গৃহবধূকে মারধর

নিজস্ব প্রতিনিধি: দেবহাটা উপজেলার কুলিয়া ইউনিয়নের টিকেট শেখপাড়া গ্রামে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এক গৃহবধূকে বেধড়ক মারধর ও কানের দুল ছিঁড়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে। গতকাল বুধবার বিকেল পাঁচটার দিকে এ হামলার ঘটনা ঘটে।
হামলায় গুরুতর আহত ওই গৃহবধূর নাম শামীমা আক্তার। তাকে উদ্ধার করে দেবহাটা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা ও আহতের পরিবার সূত্রে জানা যায়, পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে দুস্থদের মাঝে ভিজিএফের চাল বিতরণকে কেন্দ্র করে বুধবার সকাল ১১টার দিকে কুলিয়া ইউনিয়ন পরিষদে টিকেট গ্রামের মফিজুল ইসলামের স্ত্রী আশুরা খাতুনের সঙ্গে শামীমা আক্তারের কথা-কাটাকাটি হয়। সে সময় উপস্থিত লোকজনের মধ্যস্থতায় পরিস্থিতি শান্ত হলে উভয় পক্ষ বাড়ি ফিরে যায়।
আহত শামীমার স্বামী ও মাদ্রাসা শিক্ষক ফরহাদ গাইন অভিযোগ করে বলেন, “বিকেল পাঁচটার দিকে আমার স্ত্রী বাড়ি থেকে বের হয়ে সামনের রাস্তায় এলে পূর্ব শত্রুতার জেরে প্রতিপক্ষরা তার ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। রহমত শেখের ছেলে সালামত হোসেন (বাবু), তার স্ত্রী খুকুমণি এবং মফিজুলের স্ত্রী আশুরা খাতুনসহ কয়েকজন মিলে শামীমাকে এলোপাতাড়ি মারধর শুরু করে।”
ফরহাদ গাইন আরও অভিযোগ করেন, “মারধরের একপর্যায়ে হামলাকারীরা শামীমার দুই কান টেনে ছিঁড়ে স্বর্ণের দুল এবং গলার চেইন ছিনিয়ে নিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। পরে প্রতিবেশীরা তাকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেন।”
এ বিষয়ে দেবহাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল আলিম জানান, “ঘটনাটি শুনেছি। তবে এ সংক্রান্ত কোনো লিখিত অভিযোগ এখনো থানায় জমা পড়েনি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”