বৃহস্পতিবার, ২১ মে ২০২৬, ৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ২১ মে ২০২৬, ৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

কোস্টগার্ডের কাছে সুন্দরবনের বনদস্যু ছোট সুমন বাহিনী অস্ত্রসহ আত্মসমর্পণ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২১ মে, ২০২৬, ৭:১৯ অপরাহ্ণ
কোস্টগার্ডের কাছে সুন্দরবনের বনদস্যু ছোট সুমন বাহিনী অস্ত্রসহ আত্মসমর্পণ

পত্রদূত রিপোর্ট: আবারো সুন্দরবনের বনদস্যু ছোট সুমন বাহিনী প্রধান সুমনসহ ৭ দস্যু ৫টি আগ্নেয়াস্ত্র ও ২৫ রাউন্ড তাঁজা গুলি জমা দিয়ে কোস্ট গার্ডের কাছে আত্মসমর্পণ করেছেন। বৃহস্পতিবার বেলা ১১টায় কোস্ট গার্ড পশ্চিম জোন সদর দপ্তর চত্বরে জোনাল কমান্ডার ক্যাপ্টেন মোহাম্মদ মেজবা উল ইসলামের কাছে অস্ত্র ও গুলি জমা দিয়ে আনুষ্ঠানিক আত্মসমর্পণ করেন এ দস্যু বাহিনী। এ সময় কোস্ট গার্ড, বিজিবি, পুলিশ, বনবিভাগ, র‌্যাব ও বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। এর আগে ২০১৮ সালেও র‌্যাবের কাছে আত্মসমর্পণ করেছিলেন ছোট সুমন বাহিনী।

কোস্ট গার্ড পশ্চিম জোন’র জোনাল কমান্ডার ক্যাপ্টেন মোহাম্মদ মেজবা উল ইসলাম জানান, সুন্দরবনের সকল বনদস্যু বাহিনী নির্মুলে কোস্ট গার্ডের নেতৃত্বে ‘অপারেশন রিস্টোর পিস ইন সুন্দরবন’ ও ‘অপারেশন ম্যানগ্রোভ শিল্ড’ নামে দুইটি বিশেষ অভিযান পরিচালিত হচ্ছে। এ অভিযানের প্রেক্ষিতে সুন্দরবনের বিভিন্ন দস্যু বাহিনী বর্তমানে ব্যাপকভাবে কোণঠাসা হয়ে পড়েছে। যার ফলে সুন্দরবনের বনদস্যু ছোট সুমন বাহিনীর প্রধান সুমন হাওলাদার ও তার সহযোগী সদস্যরা কোস্ট গার্ডের কাছে আত্মসমর্পণের সিদ্ধান্ত নেয়।

 

সিদ্ধান্ত অনুযায়ী গত ১৭ মে রাত ১১ টার দিকে মোংলার সুন্দরবনের নন্দবালা খাল সংলগ্ন এলাকায় কোস্ট গার্ডের কাছে বনদস্যু ছোট সুমন বাহিনীর প্রধান সুমন হাওলাদার ও তার সহযোগীসহ মোট ৭ জন দস্যু অস্ত্র ও গুলিসহ অনানুষ্ঠানিকভাবে কোস্ট গার্ডের কাছে আত্মসমর্পণ করেন। এ সময় তাদের কাছ থেকে ৩ টি দেশীয় একনলা বন্দুক, ২ টি দেশীয় পাইপগান, ২৫ রাউন্ড তাঁজা গুলি , ৩ রাউন্ড ফাঁকা গুলি গ্রহণ করা হয়। এরপর ২১ মে বৃহস্পতিবার সকালে কোস্ট গার্ড পশ্চিম জোন সদর দপ্তরের বনদস্যু ছোট সুমন বাহিনীর আনুষ্ঠানিক আত্মসমর্পণ সম্পন্ন হয়। এর আগে ২০১৮ সালেও ছোট সুমন বাহিনী র‌্যাবের কাছে আত্মসমর্পণ করেছিলো।

আত্মসমর্পণ করা ছোট সুমন বাহিনী প্রধান সুমন হাওলাদার বলেন, এর আগে ১ বছর ডাকাতি করে ২০১৮ সালে আত্মসমর্পণ করি। এরপর ব্যবসা বাণিজ্য করে চলছিলাম। কিন্ত বিগত ৫ আগস্টের পর হামলা, মামলা ও জেল-জুলুমের শিকার হই। তারপরও ইচ্ছা ছিলনা ডাকাতিতে নামার কিন্তু বাধ্য হয়ে নামতে হয়েছিল। এবারও বছরখানেক সময় ডাকাতির পর সুযোগ পেয়ে আত্মসমর্পণ করলাম। সরকার ও প্রশাসনের কাছে দাবী আমাদের মামলাগুলো যেন সহজ করে দেয়া হয়। আর আমরা নতুন করে যেন কোন হামলা, মামলা ও হয়রানীর শিকার না হই। আমরা যেন টুকটাক ব্যবসা বাণিজ্য করে বেচে থাকতে পারি।

অপর সহযোগী সদস্যরা বলেন, সারাক্ষণ প্রশাসনের ভয়ে থাকতে হতো। ছিল না ঠিকমতো নাওয়া-খাওয়া ও ঘুমও। যখন-তখন মৃত্যুর ভয় নিয়ে জীবনটাকে ঠোঁটের মাথায় নিয়ে চলতে হতো। কোস্টগার্ড সুযোগ দেওয়ায় আমরা আত্মসমর্পণ করলাম।

আত্মসমর্পণকারী দস্যু সুমন হাওলাদার (৩২), রবিউল মল্লিক (২৫), রফিক শেখ (২৯), সিদ্দিক হাওলাদার (৪০), গোলাম মল্লিক (৩৮), ইসমাইল খান (৩১) মোংলা ও মাহফুজ মল্লিক (৩৪) রামপালের বাসিন্দা।

কোস্ট গার্ডের এ কর্মকর্তা আরো বলেন, সরকারের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির আলোকে সুন্দরবনের সকল দস্যু বাহিনীকে দ্রুত আত্মসমর্পণের আহ্বান জানাচ্ছি। আত্মসমর্পণকারীদের পুনর্বাসনের সুযোগ দেওয়া হবে; অন্যথায় আরও কঠোর অবস্থানে যাবে কোস্ট গার্ড।

এদিকে কোস্ট গার্ডের নেতৃত্বে ‘অপারেশন রিস্টোর পিস ইন সুন্দরবন’ ও ‘অপারেশন ম্যানগ্রোভ শিল্ড’ নামক দুইটি পৃথক বিশেষ অভিযানের প্রেক্ষিতে গত ১২ ফেব্রুয়ারি থেকে অদ্যাবধি ২৬ টি দেশি-বিদেশি আগ্নেয়াস্ত্র, ১০ রাউন্ড তাঁজা গুলি, ১৭৮ রাউন্ড তাঁজা কার্তুজ, ২৫ রাউন্ড ফাঁকা কার্তুজ, ১৮৭ রাউন্ড এয়ারগান গুলি ও ২টি ওয়াকি-টকি উদ্ধার এবং ২১ জন বনদস্যুকে আটক করা হয়। এ সময় দস্যুদের হাতে জিম্মি থাকা মোট ২০ জনকে জীবিত উদ্ধার করে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সহায়তা প্রদান শেষে নিরাপদে তাদের পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

কোস্ট গার্ড কর্মকর্তা আরো বলেন, কোস্ট গার্ডের চলমান এ সকল কার্যকর অভিযানের ফলে স্থানীয় কিছু স্বার্থান্বেষী মহল ও অসাধু চক্র বাহিনীর ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন এবং অপরাধ দমন কার্যক্রমকে প্রশ্নবিদ্ধ করার উদ্দেশ্যে বিভিন্ন সময় বিভ্রান্তিকর ও ভিত্তিহীন তথ্য প্রচারের অপচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। তবে কোনো ধরনের অপপ্রচার বা বিভ্রান্তিমূলক প্রচারণাই কোস্ট গার্ডের চলমান অভিযানিক কার্যক্রম ও দস্যু দমন প্রচেষ্টাকে ব্যাহত করতে পারবে না। এ ব্যাপারে আপনাদের সকলের সহযোগিতা একান্ত কাম্য।

 

Ads small one

সম্পাদকীয়: প্রসঙ্গ: পণ্যের সঠিক মান ও পরিমাপ নিশ্চিত করা সময়ের দাবি

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২২ মে, ২০২৬, ১২:৩০ পূর্বাহ্ণ
সম্পাদকীয়: প্রসঙ্গ: পণ্যের সঠিক মান ও পরিমাপ নিশ্চিত করা সময়ের দাবি

পণ্যের সঠিক মান ও সঠিক ওজন বা পরিমাপ নিশ্চিত করা কোনো দয়া বা অনুকম্পা নয়, এটি ভোক্তার আইনগত ও মৌলিক অধিকার। সম্প্রতি খুলনায় বিশ্ব মেট্রোলজি দিবস উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় বিভাগীয় কমিশনার মো. আবদুল্লাহ হারুন যে বক্তব্য দিয়েছেন, তা দেশের বর্তমান বাজার পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে অত্যন্ত সময়োপযোগী ও তাৎপর্যপূর্ণ। তিনি যথার্থই বলেছেন, উৎপাদন থেকে বিপণনÑপ্রতিটি ধাপে পণ্যের সঠিক মান ও ওজন নিশ্চিত করে বাজারে ভোক্তার আস্থা অর্জন করতে হবে। একই সঙ্গে মানসম্মত পণ্য বুঝে পেতে ভোক্তাদেরও সচেতন হওয়ার কোনো বিকল্প নেই।
দুর্ভাগ্যবশত, আমাদের দেশের বাজার ব্যবস্থায় ভোক্তার এই ‘আস্থা’র জায়গাটি বারবার ধাক্কা খাচ্ছে। অসাধু ব্যবসায়ীদের একাংশের কারসাজিতে ওজন ও পরিমাপে কারচুপি এখন এক নিত্যদিনের ভোগান্তিতে পরিণত হয়েছে। ডিজিটাল স্কেল বা আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহারের আড়ালেও নানা কৌশলে ভোক্তাদের ঠকানোর প্রবণতা দেখা যায়। এর পাশাপাশি খাদ্যে ভেজাল ও নি¤œমানের পণ্য সরবরাহের মতো ঘটনা তো রয়েছেই। এই পরিস্থিতি শুধু সাধারণ ভোক্তার পকেটই কাটছে না, বরং পুরো বাজার ব্যবস্থার ওপর থেকে মানুষের বিশ্বাস ও আস্থা কমিয়ে দিচ্ছে।
এবারের বিশ্ব মেট্রোলজি দিবসের প্রতিপাদ্য ছিলÑ‘নীতি নির্ধারণ প্রক্রিয়ায় আস্থা নির্মাণে মেট্রোলজি’। এর মূল অন্তর্নিহিত অর্থই হলো সঠিক পরিমাপ বিজ্ঞান ও তার যথাযথ প্রয়োগের মাধ্যমে সমাজ ও রাষ্ট্রে একটি স্বচ্ছতা ও আস্থার পরিবেশ তৈরি করা। ব্যবসা-বাণিজ্যে সততা ও দায়িত্বশীলতা বজায় রাখা যেকোনো সভ্য সমাজের প্রধান শর্ত। একজন ব্যবসায়ী যখন ওজনে কম দেন বা নি¤œমানের পণ্য সরবরাহ করেন, তখন তিনি কেবল আইনই লঙ্ঘন করেন না, বরং ধর্মীয় ও নৈতিক মূল্যবোধকেও অবমাননা করেন।
তবে এই সংকটের সমাধান শুধু আইন প্রয়োগ বা ব্যবসায়ীদের সদিচ্ছার ওপর ছেড়ে দিলে চলবে না। এখানে বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন (বিএসটিআই) এবং জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের মতো রাষ্ট্রীয় সংস্থাগুলোর নিয়মিত ও কঠোর নজরদারি প্রয়োজন। বাজারে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান ও তদারকি আরও জোরদার করতে হবে, যেন অপরাধীরা পার পেয়ে না যায়।
একই সঙ্গে ভোক্তাদেরও নিজেদের অধিকার সম্পর্কে সচেতন হতে হবে। পণ্য কেনার সময় তার ওজন, মেয়াদোত্তীর্ণের তারিখ, বিএসটিআইয়ের লোগো এবং মোড়কজাতকরণের সঠিক নিয়ম দেখে নেওয়া প্রতিটি নাগরিকের দায়িত্ব। কোনো ক্ষেত্রে প্রতারিত হলে চুপ না থেকে যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ জানানোর সংস্কৃতি গড়ে তুলতে হবে।
আমরা বলতে চাই, একটি টেকসই ও আধুনিক অর্থনীতি গড়ে তুলতে হলে বাজারে সুশাসন ও ভোক্তার অধিকার রক্ষা করা জরুরি। সরকারের কঠোর তদারকি, ব্যবসায়ীদের সততা এবং সাধারণ ভোক্তার সচেতনতা—এই তিনের সমন্বয়েই কেবল একটি আদর্শ ও আস্থাশীল বাজার ব্যবস্থা গড়ে তোলা সম্ভব। আমরা আশা করি, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও অংশীজনেরা এই বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন।

কুরিয়ার জট ও চড়া ভাড়ার দিন শেষ: সাতক্ষীরার আম মাত্র ৫টাকায় পৌঁছে দিচ্ছে ডাক বিভাগ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২২ মে, ২০২৬, ১২:২৮ পূর্বাহ্ণ
কুরিয়ার জট ও চড়া ভাড়ার দিন শেষ: সাতক্ষীরার আম মাত্র ৫টাকায় পৌঁছে দিচ্ছে ডাক বিভাগ

আসাদুজ্জামান সরদার: চলছে মধুমাস জ্যৈষ্ঠের আমেজ। গাছপাকা সুস্বাদু গোবিন্দভোগ, হিমসাগর আর ল্যাংড়া আমের সুবাসে আমোদিত চারপাশ। দেশের গ-ি পেরিয়ে সাতক্ষীরার এই আমের সুখ্যাতি এখন বিশ্বজুড়ে। তবে প্রতি বছরই আমের এই ভরা মৌসুমে দূর-দূরান্তে থাকা প্রিয়জন কিংবা ক্রেতাদের কাছে আম পাঠাতে গিয়ে কুরিয়ার সার্ভিসের চড়া মাশুলের ধাক্কায় হিমশিম খেতে হতো সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ীদের। অনেক সময় আমের দামের চেয়ে কুরিয়ার ভাড়াই হয়ে যেত দ্বিগুণ।
সাধারণ মানুষ আর আম চাষিদের সেই চিরচেনা ভোগান্তি দূর করতে এবার অবিশ্বাস্য সাশ্রয়ী মূল্যে আম পরিবহনের এক দারুণ উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ ডাক বিভাগ। তাদের প্রযুক্তি-নির্ভর ‘স্পিড পোস্ট’ সার্ভিসের মাধ্যমে এখন নামমাত্র মূল্যে সাতক্ষীরার আম পৌঁছে যাচ্ছে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে। ডাক বিভাগের এই আধুনিক ও গতিশীল রূপান্তর এখন আম চাষি ও ব্যবসায়ীদের মুখে চওড়া হাসি ফুটিয়েছে।

সাতক্ষীরা প্রধান ডাকঘর সূত্রে জানা গেছে, এই বিশেষ সার্ভিসে আম বুকিংয়ের ক্ষেত্রে প্রথম কেজি মাত্র ১০ টাকা এবং পরবর্তী প্রতি কেজির জন্য নেওয়া হচ্ছে মাত্র ৫ টাকা। বেসরকারি কুরিয়ার সার্ভিসগুলো যেখানে প্রতি কেজিতে ১৩ থেকে ১৫ টাকা বা তারও বেশি চার্জ নিচ্ছে, সেখানে ডাক বিভাগের এই দর আমের বাজারে এক আমূল পরিবর্তন এনেছে। হিসেব অনুযায়ী, কোনো গ্রাহক ২০ কেজি আম পাঠালে ভ্যাট ও উৎস করসহ তার মোট খরচ পড়ছে মাত্র ১১৬ টাকা।
কম খরচের পাশাপাশি ডাক বিভাগের দ্রুততম ডেলিভারির বিষয়টিও নজর কেড়েছে ব্যবসায়ীদের। সকালে বুকিং করলে ওই দিন সন্ধ্যার মধ্যেই খুলনায় এবং সর্বোচ্চ ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ঢাকা শহরের গ্রাহকের হাতে আম পৌঁছে যাচ্ছে। আর চট্টগ্রাম, সিলেট বা বরিশালের মতো দূরবর্তী জেলাগুলোতে বুকিংয়ের এক থেকে দুই দিনের মধ্যে আম অক্ষত অবস্থায় মিলছে।
সাতক্ষীরা পোস্ট অফিসের পোস্টমাস্টার দেবাশীষ কর্মকার বলেন, “বাংলাদেশের বিভিন্ন প্রান্তে আম পাঠানোর সবচেয়ে উপযুক্ত ও নির্ভরযোগ্য মাধ্যম এখন ডাক বিভাগের ‘স্পিড পোস্ট’। আমাদের লক্ষ্য কম খরচে গ্রাহকের দোরগোড়ায় দ্রুত ও নিরাপদ সেবা নিশ্চিত করা।”
ঢাকা শহরের প্রায় সব গুরুত্বপূর্ণ জিপিও এবং সাব-পোস্ট অফিসের আওতায় এই আম ডেলিভারি দেওয়া হচ্ছে। গুলশান, বনানী, উত্তরা, মিরপুর, মোহাম্মদপুর, নিউমার্কেট, তেজগাঁও, খিলগাঁও, ওয়ারী, ঢাকা ক্যান্টনমেন্ট ও ঢাকা জিপিওসহ প্রধান প্রধান সবগুলো এলাকা রয়েছে এই সেবার আওতায়। বর্তমানে দেশের যেকোনো জেলা সদর এবং জেলা সদরের কাছাকাছি থাকা উপজেলা ডাকঘরগুলো থেকে এই সেবা মিলছে।
সাতক্ষীরা পৌরসভার আলিয়া মাদ্রাসা পাড়ার আম ব্যবসায়ী ইয়াকুব আলী বলেন, “সাতক্ষীরার আম সারদেশের মানুষের কাছে খুব প্রিয়। কিন্তু আগে ক্যারেট আর কুরিয়ার খরচ বেশি হওয়ায় ঢাকার মানুষকে অনেক বেশি দাম দিয়ে কিনে খেতে হতো। ডাক বিভাগের এই কম খরচের সেবার কথা শুনে আজ প্রথম এসেছি। আমাদের মতো ব্যবসায়ীদের জন্য এটি দারুণ এক সুযোগ।”
সাতক্ষীরা পোস্ট অফিসের হিসাবরক্ষক শ্যাম কুমার পাল জানান, আম ঠিকঠাক ও দ্রুত সময়ে পৌঁছানোর কারণে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে অত্যন্ত ইতিবাচক সাড়া পাওয়া যাচ্ছে। ডাক বিভাগের এই আধুনিক ও সাশ্রয়ী রূপান্তর মিডল-ম্যান বা মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য কমাবে এবং চাষি ও ভোক্তাদের সরাসরি যুক্ত করে আমের বাজারে এক নতুন দিগন্তের সূচনা করবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

শ্যামনগরে একটি পরিবারকে দেশান্তর ও প্রাণনাশের হুমকি, থমথমে পরিস্থিতি

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২২ মে, ২০২৬, ১২:২৭ পূর্বাহ্ণ
শ্যামনগরে একটি পরিবারকে দেশান্তর ও প্রাণনাশের হুমকি, থমথমে পরিস্থিতি

 

শ্যামনগর প্রতিনিধি: সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার মুন্সিগঞ্জে একটি পরিবারের সদস্য ও সংবাদকর্মীকে দেশান্তর করার হুমকি, প্রাণনাশ এবং মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর ভয় দেখিয়ে মোটা অঙ্কের চাঁদা দাবি করার অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগী ওই যুবকের নাম পরিতোষ কুমার বৈদ্য। উপজেলার সেন্ট্রাল কালিনগর গ্রামের শহিদুল ইসলামের ছেলে মাসুমের বিরুদ্ধে গত এক সপ্তাহ ধরে মোবাইল ফোন, হোয়াটসঅ্যাপ ও মেসেঞ্জারে এই অনবরত হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
ভুক্তভোগী ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বুড়িগোয়ালিনী ইউনিয়নের আড়পাঙ্গাসিয়া গ্রামের এক প্রতিবন্ধী শিক্ষকের মেয়ের সঙ্গে ‘মাসুম কম্পিউটার অ্যান্ড ফটোস্ট্যাট’ দোকানের মালিক মাসুমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। এর জের ধরে কিছুদিন আগে গভীর রাতে ওই মেয়েটিকে তুলে নিয়ে আসার চেষ্টা করলে এলাকাবাসী মাসুমকে হাতেনাতে ধরে পুলিশে সোপর্দ করে। পরদিন স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম ও গণ্যমান্য ব্যক্তিদের মধ্যস্থতায় মুচলেকা নিয়ে মাসুমকে তার পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
পরিতোষ কুমার বৈদ্য জানান, ভুক্তভোগী পরিবারটি তার আত্মীয় হওয়ায় তিনি মানবিক কারণে তাদের আইনি ও সামাজিক সহযোগিতা করেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে মাসুম তার কাছে ৪০ হাজার টাকা ও একটি অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল ফোন দাবি করে। এই অনৈতিক দাবি পূরণ করতে অস্বীকৃতি জানালে মাসুম তাকে দেশছাড়া করার হুমকি দেয় এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অশালীন ভাষায় বার্তা পাঠাতে শুরু করে। নিরাপত্তার স্বার্থে পরিতোষ শ্যামনগর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করলেও মাসুমের হুমকি থামেনি।
অভিযুক্ত মাসুম জানায়Ñ“মেসেঞ্জার ও হোয়াটসঅ্যাপের যেসব স্ক্রিনশট ও রেকর্ডের কথা বলা হচ্ছে, সেগুলো আমার আইডি নয়। আমার বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন।”
এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে অবিলম্বে অভিযুক্ত মাসুমকে গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন বাংলাদেশ হিন্দু পরিষদ শ্যামনগর শাখার আহ্বায়ক অনাথ ম-ল। আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, ডিজিটাল মাধ্যমে এভাবে হুমকি ও মানহানিকর বক্তব্য দেওয়া সাইবার নিরাপত্তা আইন ও দ-বিধির ফৌজদারি ধারা অনুযায়ী কঠোর শাস্তিযোগ্য অপরাধ।
শ্যামনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. খালেদুর রহমান বলেন, “সংবাদকর্মী পরিতোষ বৈদ্যের জিডির পরিপ্রেক্ষিতে পুলিশ প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। এরপরও যদি তাকে নতুন করে কোনো হুমকি দেওয়া হয়ে থাকে, তবে লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”