ক্লাসে নেই আট দিন: সাতক্ষীরা পিটিআইয়ে দুই শিক্ষকের নিবন্ধন বাতিল
পত্রদূত ডেস্ক: শিক্ষকতার উৎকর্ষ বাড়াতে প্রশিক্ষণের বিকল্প নেই। কিন্তু সেই প্রশিক্ষণ নিতে এসেই যেন ‘ছুটি’ কাটালেন দুই শিক্ষক। ফলস্বরূপ, সাতক্ষীরা প্রাইমারি টিচার্স ট্রেনিং ইনস্টিটিউট (পিটিআই) থেকে তাঁদের নিবন্ধন বাতিল করা হয়েছে। সাতক্ষীরা পিটিআই সূত্রে জানা গেছে, ২০২৬ শিক্ষাবর্ষের পরিমার্জিত ডিপিএড (বিটিপিটি) কোর্সে অংশ নিয়েছিলেন দুই শিক্ষক— রুমা রায় ও দীপা বিশ্বাস। রুমা রায় আশাশুনির পূর্ব কাদাকাটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এবং দীপা বিশ্বাস তালা উপজেলার সরাইল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে কর্মরত।
নিয়ম অনুযায়ী প্রশিক্ষণে নিয়মিত উপস্থিতি বাধ্যতামূলক হলেও তাঁরা গত ২৯ মার্চ থেকে ৫ এপ্রিল পর্যন্ত টানা আট কর্মদিবস অনুপস্থিত ছিলেন। কোনো প্রকার পূর্বানুমতি ছাড়াই এই দীর্ঘ অনুপস্থিতিকে গুরুতর শৃঙ্খলাভঙ্গ হিসেবে দেখছে কর্তৃপক্ষ।
পিটিআই সুপারিনটেনডেন্ট মো. গোলাম মোস্তফা স্বাক্ষরিত অফিস আদেশে জানানো হয়, ‘পরিমার্জিত ডিপিএড বাস্তবায়ন ও মূল্যায়ন নির্দেশিকা ২০২৩’-এর ১৮.১ উপধারা অনুযায়ী তাঁদের নিবন্ধন বাতিল করা হয়েছে। শুধু নিবন্ধন বাতিলই নয়, দায়িত্ব অবহেলার দায়ে তাঁদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে সুপারিশ করা হয়েছে।
সাতক্ষীরা পিটিআই কর্তৃপক্ষ জানায়Ñ“প্রশিক্ষণে নিয়মশৃঙ্খলা বজায় রাখা অপরিহার্য। নির্দেশিকা অনুযায়ী অননুমোদিত অনুপস্থিতির কোনো সুযোগ নেই।”
যদিও এই প্রশিক্ষণের জন্য তাঁরা কোনো সরকারি ভাতা গ্রহণ করেননি, তবে প্রশাসনিক শাস্তির খড়গ ঠিকই ঝুলছে তাঁদের ওপর। জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মো. রুহুল আমীন জানিয়েছেন, বিষয়টি গুরুত্বের সাথে পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পেশাগত উন্নয়নের এই সুযোগ হেলায় হারানো এবং কর্মক্ষেত্রে অনুপস্থিত থাকার বিষয়টি স্থানীয় শিক্ষা অঙ্গনে বেশ আলোচনার জন্ম দিয়েছে।









