সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩
সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩

গণতন্ত্রের শক্তি জনগণের কণ্ঠে : ১৫ সেপ্টেম্বর আন্তর্জাতিক গণতন্ত্র দিবস

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৬:৫৮ অপরাহ্ণ
গণতন্ত্রের শক্তি জনগণের কণ্ঠে : ১৫ সেপ্টেম্বর আন্তর্জাতিক গণতন্ত্র দিবস

সাকিবুর রহমান বাবলা

গণতন্ত্র শুধু ভোট দেওয়ার নাম নয়; এটি মানুষের অধিকার, স্বাধীনতা, মর্যাদা, সমতা, মতপ্রকাশ এবং রাষ্ট্র পরিচালনায় অংশগ্রহণের অধিকার। যেখানে ভিন্নমতের প্রতি শ্রদ্ধা, আইনের শাসন ও সরকারের জবাবদিহি নিশ্চিত থাকে, সেখানেই গণতন্ত্র অর্থবহ হয়। তাই গণতন্ত্র কোনো এক দিনের বিষয় নয়; এটি প্রতিদিন চর্চা ও শক্তিশালী করার একটি চলমান প্রক্রিয়া। প্রতি বছর ১৫ সেপ্টেম্বর পালিত হয় আন্তর্জাতিক গণতন্ত্র দিবস। গণতন্ত্রের নীতি ও মূল্যবোধ তুলে ধরা এবং বিশ্বজুড়ে গণতন্ত্রের অবস্থা পর্যালোচনার সুযোগ তৈরি করতে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ ২০০৭ সালে এ/আরইএস/৬২/৭ প্রস্তাবের মাধ্যমে দিনটি ঘোষণা করে।

২০২৬ সালের আন্তর্জাতিক গণতন্ত্র দিবসে আলোচনাভিত্তিক গণতন্ত্র ও নাগরিক অংশগ্রহণের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে, যেখানে জাতিসংঘের মহাসচিব অ্যান্টোনিও গুতেরেসের ভাষায়-বিভেদ ও সংঘাতের বদলে সংলাপ ও সহযোগিতাই গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করার মূল ভিত্তি। যদিও জাতিসংঘ সনদে সরাসরি ‘গণতন্ত্র’ শব্দটি নেই, তবু মানবাধিকার, উন্নয়ন এবং শান্তি ও নিরাপত্তার সঙ্গে এর সম্পর্ক গভীর। ফলে রাষ্ট্রের সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় জনগণের কার্যকর কণ্ঠস্বর এবং বিশ্বজুড়ে ‘নাগরিক পরিষদ’-এর সফল অভিজ্ঞতা যুক্ত করাকে বিশেষ অগ্রাধিকার দেয়।

গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে জাতিসংঘ প্রতি বছর প্রায় ৬০টি দেশকে অবাধ নির্বাচন পরিচালনা, নির্বাচনী আইন সংস্কার, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা এবং ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণে সহায়তা প্রদান করে। পাশাপাশি সংকট-পরবর্তী সংবিধান প্রণয়ন ও সুশাসন পুনর্গঠনে ২০০৫ সালে প্রতিষ্ঠিত ‘জাতিসংঘ গণতন্ত্র তহবিল’ নাগরিক সংগঠনগুলোর গণতান্ত্রিক উদ্যোগে অর্থায়ন করছে এবং ‘জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি’ বিশ্বের ১৭০টিরও বেশি দেশে আইনের শাসন, জবাবদিহি ও নাগরিক অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে কাজ করে যাচ্ছে।

গণতন্ত্রের ইতিহাসের শিকড় প্রাচীন গ্রিসে। এথেন্সের রাজনীতিবিদ ও আইনপ্রণেতা ক্লেইস্থিনিসকে প্রাচীন বা প্রত্যক্ষ গণতন্ত্রের অন্যতম জনক বলা হয়। খ্রিস্টপূর্ব ৫০৮-৫০৭ অব্দে তাঁর সংস্কারের মাধ্যমে এথেন্সে জনগণের রাজনৈতিক অংশগ্রহণের নতুন ভিত্তি তৈরি হয়। তিনি বংশ ও গোত্রভিত্তিক পুরোনো ক্ষমতার কাঠামো দুর্বল করে এথেন্সকে ১০টি ভৌগোলিক উপজাতিতে ভাগ করেন। পাঁচশ সদস্যের পরিষদ (বুলে)-এর মাধ্যমে সাধারণ নাগরিকদের রাষ্ট্র পরিচালনায় অংশ নেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়। কোনো নেতা অতিরিক্ত শক্তিশালী হয়ে স্বৈরাচারী হয়ে উঠতে না পারেন, সে জন্য নির্বাসন প্রথা চালু করা হয়। তাঁর রাজনৈতিক চিন্তার সঙ্গে যুক্ত ‘আইসোনোমিয়া’ ধারণায় আইনের চোখে সমতার গুরুত্ব প্রতিফলিত হয়।

আধুনিক প্রতিনিধিত্বমূলক গণতন্ত্রের দার্শনিক ভিত্তি নির্মাণে জন লক-এর অবদানও অসামান্য। তাঁর সামাজিক চুক্তি মতবাদে মানুষের জীবন, স্বাধীনতা ও সম্পত্তির প্রাকৃতিক অধিকার, জনগণের সম্মতি এবং সীমিত ও জবাবদিহিমূলক সরকারের ধারণা বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। অর্থাৎ, ক্লেইস্থিনিস জনগণের প্রত্যক্ষ রাজনৈতিক অংশগ্রহণের পথকে শক্তিশালী করেছিলেন, আর জন লক আধুনিক গণতন্ত্রের দার্শনিক কাঠামোকে আরও সুসংহত করেছিলেন।

ব্রিটিশ প্রতিষ্ঠান দ্য ইকোনমিস্ট ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের ডেমোক্রেসি ইনডেক্স বিশ্বজুড়ে গণতন্ত্রের স্থিতি মূল্যায়নে দেশগুলোকে পূর্ণাঙ্গ গণতন্ত্র, ত্রুটিপূর্ণ গণতন্ত্র, মিশ্র শাসনব্যবস্থা এবং স্বৈরতান্ত্রিক-এই চারটি শ্রেণিতে ভাগ করে। নাগরিক অংশগ্রহণ, স্বাধীন গণমাধ্যম, আইনি কাঠামো, দুর্নীতিবিরোধী ব্যবস্থা ও প্রাতিষ্ঠানিক স্বচ্ছতার সুবাদে এই সূচকে নরওয়ে, নিউজিল্যান্ড ও ডেনমার্ক শীর্ষ স্থানে রয়েছে; বিপরীতে ২০২১ সালের নির্বাচিত সরকারের পতন, সামরিক অভ্যুত্থান ও দীর্ঘমেয়াদি একনায়কতন্ত্রের কারণে আফগানিস্তান, মিয়ানমার ও উত্তর কোরিয়া সর্বনিম্ন সারিতে অবস্থান করছে।

ঞ্জতবে গণতন্ত্র পরিমাপের ক্ষেত্রে কেবল ইআইইউ-ই একমাত্র মানদন্ড নয়; উদাহরণস্বরূপ, ‘ভি-ডেম ডেমোক্রেসি রিপোর্ট’-এর পরিমাপ অনুযায়ী ডেনমার্ক শীর্ষে থাকলেও তলানিতে রয়েছে ইরিত্রিয়া। তাই কোনো রাষ্ট্রের প্রকৃত গণতান্ত্রিক বাস্তবতা ও গতিপ্রকৃতি মূল্যায়নে একটি একক সূচকের ওপর নির্ভর না করে একাধিক বৈশ্বিক সূচক, প্রাতিষ্ঠানিক পর্যালোচনা ও মাঠপর্যায়ের বাস্তব পরিস্থিতিকে সার্বিকভাবে বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন।

আন্তর্জাতিক গণতন্ত্র দিবস বাংলাদেশের জন্য আত্মপর্যালোচনারও একটি গুরুত্বপূর্ণ উপলক্ষ।
ইআইইউ-এর সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশের অবস্থান ১০০তম, স্কোর ১০-এর মধ্যে ৪.৪৪ এবং দেশটি মিশ্র শাসনব্যবস্থা শ্রেণিতে রয়েছে। আগের ৭৫তম অবস্থান থেকে ২৫ ধাপ পতনের কথাও সেখানে উল্লেখ করা হয়েছে। যা নির্বাচন, রাজনৈতিক অংশগ্রহণ, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, স্বাধীন প্রতিষ্ঠান, আইনের শাসন ও নাগরিক অধিকার নিয়ে নতুন করে ভাবার সুযোগ তৈরি করেছে। এই পরিসংখ্যান হতাশার নয়; বরং গণতন্ত্রকে আরও শক্তিশালী ও অংশগ্রহণমূলক করার পথ খুঁজে বের করার একটি গুরুত্বপূর্ণ আহ্বান।

গণতন্ত্রের ইতিহাসে কোনো একজন নেতাকে এককভাবে সর্বশ্রেষ্ঠ বলা কঠিন। বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন নেতা গণতন্ত্রের সংকটে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। নেলসন ম্যান্ডেলা ২৭ বছর কারাবাসের পরও প্রতিশোধের বদলে ক্ষমা ও পুনর্মিলনের পথে দক্ষিণ আফ্রিকায় বর্ণবাদী অ্যাপারথাইড-এর অবসান ও বহুবর্ণের গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় নেতৃত্ব দেন। আব্রাহাম লিংকন গৃহযুদ্ধের সংকটে ইউনিয়ন রক্ষা ও দাসপ্রথা বিলোপের মাধ্যমে সমঅধিকারকে গণতন্ত্রের কেন্দ্রে আনেন। মহাত্মা গান্ধী অহিংসা ও সত্যাগ্রহের মাধ্যমে শান্তিপূর্ণ গণআন্দোলনের শক্তি দেখান। আর দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় উইনস্টন চার্চিল নাৎসি ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে ব্রিটেনের নেতৃত্ব দিয়ে ইউরোপের গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।

গণতন্ত্রের অবক্ষয়ের জন্য কোনো একক নেতাকে সর্বত্র দায়ী করা যায় না। তবে বৈশ্বিক রাজনৈতিক বিশ্লেষণে ভøাদিমির পুতিন, ভিক্টর অরবান, রেজেপ তাইয়েপ এরদোয়ান ও নিকোলাস মাদুরোর নাম প্রায়ই উঠে আসে। রাশিয়ায় বিরোধী রাজনীতি ও গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান দুর্বল করার অভিযোগে পুতিন, হাঙ্গেরিতে গণমাধ্যম ও বিচার বিভাগের স্বাধীনতায় রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে অরবান এবং তুরস্কে ২০১৬ সালের ব্যর্থ অভ্যুত্থানের পর ক্ষমতা কেন্দ্রীভূত করার অভিযোগে এরদোয়ান সমালোচিত। অন্যদিকে, নির্বাচন, বিরোধী রাজনীতি ও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান নিয়ে দীর্ঘ সংকটের কারণে মাদুরোর সরকারও আন্তর্জাতিক সমালোচনার মুখে পড়েছে।

তবে গণতন্ত্রের অবক্ষয় কেবল কোনো ব্যক্তির কারণে হয় না। প্রাতিষ্ঠানিক দুর্বলতা, দুর্নীতি, রাজনৈতিক অসহিষ্ণুতা, ক্ষমতার কেন্দ্রীকরণ, অপতথ্য, সামাজিক বিভাজন এবং ভূ-রাজনৈতিক স্বার্থও গণতন্ত্রকে দুর্বল করে। অন্যদিকে, গণতন্ত্রের মূল চালিকাশক্তি জনগণ। তাই গণতন্ত্র রক্ষার দায়িত্ব শুধু সরকার, রাজনৈতিক দল বা রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের নয়-প্রত্যেক নাগরিকের।

সৎ ও যোগ্য প্রার্থীকে ভোট দেওয়া, ভিন্নমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকা, আইন ও সংবিধান মেনে চলা, সরকারের কর্মকান্ড সম্পর্কে সচেতন থাকা এবং প্রয়োজন হলে শান্তিপূর্ণ ও গঠনমূলকভাবে জবাবদিহি দাবি করা নাগরিকের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। পাশাপাশি মানবাধিকার, সুশাসন ও স্বাধীন প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতি সমর্থন, সামাজিক কর্মকান্ডে অংশগ্রহণ, নারী ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর অংশগ্রহণকে উৎসাহিত করা এবং গুজব ও অপতথ্য থেকে দূরে থাকাও জরুরি। কারণ গণতন্ত্র শুধু ব্যালট বাক্সে জন্ম নেয় না। পরিবার, বিদ্যালয়, সমাজ, গণমাধ্যম, রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান এবং রাষ্ট্রের প্রতিটি স্তরে এর চর্চা করতে হয়।

১৫ সেপ্টেম্বর তাই শুধু একটি আন্তর্জাতিক দিবস নয়; এটি নিজেদের কাছে ফিরে তাকানোর দিন। আমরা কি ভিন্নমতের মানুষের কথা শুনি? আমরা কি সত্য তথ্য যাচাই করি? আমরা কি অন্যায়ের বিরুদ্ধে শান্তিপূর্ণভাবে কথা বলি? আমরা কি রাষ্ট্র ও প্রতিষ্ঠানের কাছে জবাবদিহি চাই? মনে রাখতে হবে, গণতন্ত্র কোনো ব্যক্তি, দল বা সরকারের সম্পত্তি নয়-গণতন্ত্র জনগণের। বিভেদের পরিবর্তে সংলাপ, সংঘাতের পরিবর্তে সহযোগিতা এবং নীরবতার পরিবর্তে দায়িত্বশীল নাগরিক অংশগ্রহণই গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে পারে।

আজকের বিশ্বে যখন অপতথ্য, সামাজিক বিভাজন, রাজনৈতিক অসহিষ্ণুতা ও কর্তৃত্ববাদ গণতন্ত্রের সামনে নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে, তখন প্রয়োজন আরও বেশি সংলাপ, আরও বেশি অংশগ্রহণ, আরও শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান এবং আরও সচেতন নাগরিক। শেষ পর্যন্ত জনগণের সচেতন কণ্ঠস্বরই গণতন্ত্রের সবচেয়ে শক্তিশালী প্রহরী।

Ads small one

১২ নভেম্বর থেকে শুরু হতে পারে ইউপি নির্বাচন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১০:০৭ অপরাহ্ণ
১২ নভেম্বর থেকে শুরু হতে পারে ইউপি নির্বাচন

আজহারুল ইসলাম সাদী

সাত ধাপে ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে বলে তথ্য প্রকাশ করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এর মধ্যে প্রথম ধাপের নির্বাচনের সম্ভাব্য তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে ২০২৬ সালের ১২ নভেম্বর। এর মধ্য দিয়েই দেশে নতুন করে শুরু হতে যাচ্ছে স্থানীয় সরকার নির্বাচন।
রাজধানীর আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে নির্বাচন কমিশনার আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

ইসির দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, প্রথম ধাপের ভোট ১২ নভেম্বর, দ্বিতীয় ধাপ ১৩ ডিসেম্বর, তৃতীয় ধাপ ৩০ ডিসেম্বর, চতুর্থ ধাপ ২০২৭ সালের ১৭ জানুয়ারি, পঞ্চম ধাপ ৪ ফেব্রুয়ারি, ষষ্ঠ ধাপ ২২ এপ্রিল এবং সপ্তম ধাপের ভোট ২৭ মে অনুষ্ঠিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

ভোট গ্রহণে শৃঙ্খলা বজায় রাখা ও ভোটারদের বিভ্রান্তি এড়াতে এবার উপজেলাভিত্তিক নির্বাচনের পরিকল্পনা করা হয়েছে। অর্থাৎ, একটি উপজেলার সব ইউনিয়নে একই দিনে ভোট হবে। তবে মোট কতটি ধাপে ভোট শেষ করা হবে (সম্ভাব্য ৫ বা ৬ ধাপ), তা নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনো প্রক্রিয়াধীন। এ ছাড়া আসন্ন নির্বাচনে পোস্টারসহ পরিবেশবিরোধী প্রচারসামগ্রী ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা এবং কিছু নতুন নিয়ম যুক্ত হচ্ছে।

সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের লক্ষ্যে প্রতিটি কেন্দ্রে সিসি ক্যামেরা, বডি-ওর্ন ক্যামেরা এবং ড্রোন ব্যবহারের পরিকল্পনা রয়েছে বলে নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের জানিয়েছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দীন।

দেশের সাড়ে চার হাজার ইউনিয়ন পরিষদের মধ্যে প্রথম দফায় নির্বাচন উপযোগী এলাকাগুলোকে রাখা হচ্ছে। এ লক্ষ্যে সেপ্টেম্বর মাসেই তফসিল ঘোষণার ইচ্ছা প্রকাশ করেছে কমিশন। এ বিষয়ে বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের সঙ্গে ইসির চার সদস্যের প্রতিনিধিদলের সৌজন্য সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

ইসির পরিকল্পনা অনুযায়ী, পর্যায়ক্রমে দেশের ১৩টি সিটি করপোরেশন, ৩৩০টি পৌরসভা, ৫০০টি উপজেলা ও সাড়ে ৪ হাজার ইউনিয়ন পরিষদে ভোট গ্রহণ করা হবে।

সাধারণত দুই মাস সময় রেখে তফসিল ঘোষণার বাধ্যবাধকতা উল্লেখ করে সিইসি বলেন, সেপ্টেম্বর বা অক্টোবরে সময়সূচি ঘোষণা করা হলে কিছু নির্বাচন চলতি বছরের শেষে এবং কিছু আগামী বছরে অনুষ্ঠিত হবে। সময়সূচি ঘোষণার পর গড়ে দুই মাসের মতো সময় হাতে রাখা হয়।

রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সাক্ষাতের সময় কমিশনকে স্বাধীনভাবে কাজ করার পূর্ণ আশ্বাসের কথা জানিয়েছেন সিইসি। বর্তমানে আইনি সংস্কারের কাজ চলছে এবং আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। যেসব ইউপির মেয়াদ শেষ পর্যায়ে রয়েছে, সেগুলোর ভোট চলতি বছরের মধ্যেই শুরুর তাগিদ রয়েছে। একই সঙ্গে ৯০ দিনের মধ্যে ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচন সম্পন্ন করার বাধ্যবাধকতাও রয়েছে।

নির্বাচনের সময় নির্ধারণে প্রাকৃতিক দুর্যোগ, দুর্গাপূজা, পরীক্ষা এবং পরবর্তী সময়ে শীতকাল, রমজান ও বর্ষার মতো আনুষঙ্গিক বিষয়গুলো বিবেচনায় রাখা হচ্ছে। বিশেষ করে পাহাড়ি এলাকায় ভোটের জন্য শুষ্ক মৌসুমকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে ইসি। সেই সঙ্গে জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) সেবা সহজীকরণ ও জালিয়াতি রোধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। লেখক: সংবাদকর্মী ও কলামিস্ট

হঠাৎ এমন বিষণ্ণ দীপা খন্দকার, কী ঘটেছে তার জীবনে

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৮:৩১ অপরাহ্ণ
হঠাৎ এমন বিষণ্ণ দীপা খন্দকার, কী ঘটেছে তার জীবনে

চোখেমুখে ক্লান্তি, অথচ সেই ক্লান্তির আড়ালে লুকিয়ে আছে গভীর কোনও গল্প। পরনে সাদামাটা শাড়ি, এলোমেলো চুল আর বিষণ্ন দৃষ্টিতে যেন একরাশ না-বলা কথা। এমনই এক আবহে দেখা মিলেছে অভিনেত্রী দীপা খন্দকারের।

রবিবার (১৩ সেপ্টেম্বর) সামাজিক যোগযোগমাধ্যমে দীপা নিজেই তার এমন একটি ছবি প্রকাশ করেছেন।

অভিনেত্রী জানালেন এটি তার নতুন নাটকের একটি স্থিরচিত্র। সোমবার ((১৪ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১২টায় সিনেমাওয়ালা এন্টারটেইনমেন্ট ইউটিউব চ্যানেলে এসেছে তার অভিনীত মিনি সিরিজ ‘কর্মফল’। এ সিরিজে এমনই একটি চরিত্রে তিনি অভিনয় করেছেন। এটি পরিচালনা করেছেন মাহিন খান।

সাম্প্রতিক সময়ে পারিবারিক গল্পের নাটকের প্রতি দর্শকের আগ্রহ বেড়েছে। এদিকে পারিবারিক গল্পের নাটক মানেই দীপার উপস্থিতি।

তার ভাষ্য, ‘আমি ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই পারিবারিক গল্পের নাটকগুলোকে প্রাধান্য দিয়ে আসছি। মাঝে আমাদের নাটক কিছুটা এখান থেকে সরে আসে। এখন অনেক নির্মাতা আবার পারিবারিক গল্পের নাটক নির্মাণ করছেন। দর্শক সেগুলে দারুণভাবে দেখছেনও। এ নাটকও আশা করি দর্শকের ভালো লাগবে। নাটকের প্রতিটি চরিত্রে তারা নিজেদের খুঁজে পাবে।’

‘খাঁচার ভিতর অচিন পাখি’ থেকে ‘নিন্দার কাঁটা’—ফরিদা পারভীনের ১০ গান‘খাঁচার ভিতর অচিন পাখি’ থেকে ‘নিন্দার কাঁটা’—ফরিদা পারভীনের ১০ গান
‘কর্মফল’সিরিজে আরও অভিনয় করেছেন দিলারা জামান, ইরফান সাজ্জাদ, আ.খ.ম হাসান ও মনিরা মিঠুসহ অনেকে

মানদেব প্রণালিতে হুথিদের নিয়ন্ত্রণ, জ্বালানি তেল আমদানিতে বাড়ছে ঝুঁকি

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৮:২২ অপরাহ্ণ
মানদেব প্রণালিতে হুথিদের নিয়ন্ত্রণ, জ্বালানি তেল আমদানিতে বাড়ছে ঝুঁকি

অনলাইন ডেস্ক: ইয়েমেনের বিদ্রোহী সশস্ত্র গোষ্ঠী হুথিদের নিয়ন্ত্রণে যাওয়ায় সৌদি আরব থেকে বাংলাদেশে জ্বালানি তেল আনার গুরুত্বপূর্ণ বিকল্প নৌপথ বাব আল-মানদেব প্রণালিতে ঝুঁকি বেড়েছে। এতে জ্বালানি তেল আমদানিতে সময় ও খরচ বাড়ার পাশাপাশি সরবরাহ ব্যবস্থায় অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে। তবে এর প্রভাব দেশের বাজারে জ্বালানি তেলের দামে এখনই পড়ছে না বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। কারণ সেপ্টেম্বর মাসের জন্য সরকার আগেই জ্বালানি তেলের দাম অপরিবর্তিত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তবে বাব আল-মানদেব নৌপথে হুথিদের নিয়ন্ত্রণের সময় দীর্ঘ হলে সংকট সৃষ্টি হতে পারে।

আন্তর্জাতিক রয়টার্সের খবরে বলা হচ্ছে, সম্প্রতি জাতিসংঘের ইয়েমেন বিষয়ক বিশেষ দূত হ্যান্স গ্রুন্ডবার্গ গত ১০ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের বৈঠকে জানান, মোখায় হুথিদের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার ফলে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রণালির প্রবেশপথে তাদের সরাসরি উপস্থিতি তৈরি হয়েছে। ফলে লোহিত সাগর ও আশপাশের নৌপথে জাহাজ চলাচলের ঝুঁকি আরও বেড়েছে।

এদিকে বাংলাদেশে গ্যাস সংকটের কারণে বিদ্যুৎ উৎপাদনে তরল জ্বালানির ব্যবহার বৃদ্ধির চেষ্টা করছে সরকার। প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত সংসদে জানান, তেলভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র চালাতে আরও ৬ হাজার কোটি টাকা দেওয়া হচ্ছে। ঠিক এই সময়ে এমন পরিস্থিতি আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের এই মূল্যবৃদ্ধি বাংলাদেশের জন্য আরও ব্যয়বহুল হয়ে উঠতে পারে। ফলে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ শুধু বৈশ্বিক তেলের বাজারেই নয়, বাংলাদেশের জ্বালানি নিরাপত্তা ও অর্থনীতিতেও নতুন চাপ তৈরি করতে পারে। যদিও এখনই তা ভোক্তার কাঁধে বর্তাবে বলে মনে করা হচ্ছে না।

প্রসঙ্গত, সেপ্টেম্বর মাসে প্রতি লিটার ডিজেল ১১৫ টাকা, অকটেন ১৪৫ টাকা, পেট্রোল ১৪০ টাকা ও কেরোসিন ১৩৫ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। ১ সেপ্টেম্বর থেকে এই দাম কার্যকর হয়েছে। এর আগে জুন, জুলাই ও আগস্ট মাসেও একই দাম বহাল রাখা হয়েছিল। সেপ্টেম্বরেও দাম অপরিবর্তিত থাকায় টানা চতুর্থ মাসে ডিজেল, কেরোসিন, পেট্রোল ও অকটেনের দাম বাড়ানো বা কমানো হয়নি।

লোহিত সাগরের প্রবেশমুখে ইয়েমেন ও জিবুতির মাঝখানে সরু জলপথ বাব আল-মানদেব প্রণালি। হরমুজের পর তেল পরিবহনে বিকল্প জলপথ হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছিল কিন্তু গত শুক্রবার বাব আল-মানদেব প্রণালির পূর্ণাঙ্গ নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে হুথিরা। তারা বন্দরনগর মোখা দখল করেছে।

গত চার মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে উঠেছে অপরিশোধিত তেলের দাম। গত এক সপ্তাহে ব্রেন্ট ও ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েটের (ডব্লিউটিআই) দাম বেড়েছে প্রায় ১৩ শতাংশ। জুলাইয়ের মাঝামাঝির পর এক সপ্তাহে এখন তেলের দামের সবচেয়ে বড় উত্থান লক্ষ করা যাচ্ছে। রবিবার (১৩ সেপ্টেম্বর) আন্তর্জাতিক বাজারে ব্যারেলপ্রতি ১০৪ ডলারে বিক্রি হচ্ছে।

জ্বালানি সংশ্লিষ্টরা জানান, সৌদি আরব থেকে বাংলাদেশে জ্বালানি তেল আনার ক্ষেত্রে বাব আল-মানদেব গুরুত্বপূর্ণ বিকল্প পথ হয়ে উঠেছিল। সম্প্রতি নিরাপত্তাঝুঁকি এড়াতে বাংলাদেশগামী একটি জ্বালানি তেলবাহী ট্যাংকারকে এই প্রণালি এড়িয়ে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে হয়েছে। এতে যেখানে বাব আল-মানদেব হয়ে বাংলাদেশে আসতে প্রায় ১৬ দিন লাগতো, সেখানে ঘুরপথে সময় লেগেছে প্রায় ৫০ দিন। এভাবে একটি ট্যাংকারে বাড়তি ব্যয় হতে পারে ৪০ লাখ ডলার পর্যন্ত বলে জানিয়েছে জাহাজের সংশ্লিষ্টরা।

বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, মধ্যপ্রাচ্য থেকে বাংলাদেশে জ্বালানি তেল আমদানির প্রধান নৌপথগুলোর একটি হরমুজ প্রণালি। ইরান যুদ্ধের কারণে ওই পথে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হচ্ছিল। এ পরিস্থিতিতে সৌদি আরবের ইয়ানবু বন্দর থেকে লোহিত সাগর ও বাব আল-মানদেব হয়ে বাংলাদেশে তেল আনার পথটি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছিল। এখন বাব আল-মানদেবেও নিরাপত্তা ঝুঁকি বাড়ায় জ্বালানি তেল আমদানিতে নতুন করে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

তবে এই পরিস্থিতির কারণে দেশের বাজারে জ্বালানি তেলের দাম সামনে বাড়বে কিনা, তা এখনই নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। আন্তর্জাতিক বাজারের দাম, আমদানি ব্যয় ও দেশের বাজার পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে স্বয়ংক্রিয় মূল্য নির্ধারণ পদ্ধতির আওতায় প্রতি মাসে জ্বালানি তেলের দাম সমন্বয় করে সরকার।

তবে বাব আল-মানদেবের নিরাপত্তাঝুঁকি দীর্ঘায়িত হলে জ্বালানি তেল আমদানির সময় ও ব্যয় কতটা বাড়বে এবং এর প্রভাব শেষ পর্যন্ত দেশের বাজারে পড়বে কিনা, তা নির্ভর করবে আন্তর্জাতিক বাজার পরিস্থিতি ও আমদানির পরবর্তী ব্যয়ের ওপর।

জ্বালানি বিশেষজ্ঞ ম. তামিম বলেন, এর ফলে বাংলাদেশসহ সারা বিশ্বে জ্বালানি তেলের সরবরাহ কমে যাবে। ফলে সংকট আরও ঘনীভূত হবে। অন্যদিকে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম এমনিতেই ১০০ ডলারের উপরে উঠে গেছে। এই দাম আরও বৃদ্ধির শঙ্কা তৈরি হলো। বিশেষ করে ডিজেলের দাম বাড়তে পারে। তিনি বলেন, এখনই আমেরিকায় গ্যালনপ্রতি ডিজেলের দাম ছয় ডলার ছাড়িয়েছে, যা সর্বোচ্চ। এটি আরও বৃদ্ধি পেতে পারে।

আন্তর্জাতিক তেলের বাজার নিয়ে কাজ করে আসা অয়েল ডটকম তাদের এক খবরে জানিয়েছে, চলতি বছরের মার্চের শুরুর দিকে ১১৯ দশমিক ৪৮ ডলারে পৌঁছেছিল তেলের দাম। বর্তমান সংঘাত আরও বিস্তৃত হলে ব্যারেলপ্রতি ১২০ ডলারের কাছাকাছি আবার চলে যেতে পারে তেলের দাম।