বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬, ৩ আষাঢ় ১৪৩৩
বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬, ৩ আষাঢ় ১৪৩৩

গাজীপুর মাদ্রাসায় অনলাইন জুয়া বিরোধী উদারতা’র সচেতনতামূলক কার্যক্রম

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ১৭ জুন, ২০২৬, ৬:৪১ অপরাহ্ণ
গাজীপুর মাদ্রাসায় অনলাইন জুয়া বিরোধী উদারতা’র সচেতনতামূলক কার্যক্রম

তরুণ প্রজন্মকে অনলাইন জুয়ার ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে সচেতন করা এবং নিরাপদ ডিজিটাল পরিবেশ গড়ে তোলার লক্ষ্যে স্বেচ্ছাসেবী যুব সংগঠন উদারতা যুব ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে আশাশুনির গাজীপুর কুড়িগ্রাম ইসলামিয়া সিদ্দিকিয়া আলিম মাদ্রাসায় এক সচেতনতামূলক কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়েছে।

 

বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬ দুপুর ১২ ঘটিকায় মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে শিক্ষার্থীদের মাঝে অনলাইন জুয়ার সামাজিক, অর্থনৈতিক ও মানসিক ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। একইসঙ্গে প্রযুক্তির ইতিবাচক ব্যবহার, নৈতিক মূল্যবোধের চর্চা এবং সচেতন নাগরিক হিসেবে গড়ে ওঠার গুরুত্ব তুলে ধরা হয়। উদারতা যুব ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক জুবায়ের আহম্মেদ-এর নির্দেশনায় এবং আল-আমিন ও আবু তাহের-এর তত্ত্বাবধানে আয়োজিত এ কার্যক্রমে সমগ্র সেশন পরিচালনা করেন সংগঠনের দেলোয়ার হোসেন।

আলোচনায় বক্তারা বলেন, বর্তমানে অনলাইন জুয়া তরুণ সমাজের জন্য একটি বড় সামাজিক হুমকিতে পরিণত হয়েছে। দ্রুত অর্থ উপার্জনের প্রলোভনে পড়ে অনেক শিক্ষার্থী ও যুবক এ ধরনের কার্যক্রমে জড়িয়ে নিজেদের ভবিষ্যৎকে ঝুঁকির মুখে ফেলছে। পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং সমাজের সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে এ বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধি করা জরুরি।

 

উদারতা যুব ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক জুবায়ের আহম্মেদ তাঁর বক্তব্যে বলেন, “তরুণদের মেধা ও সম্ভাবনা দেশের উন্নয়নের অন্যতম চালিকাশক্তি। অনলাইন জুয়ার মতো ক্ষতিকর আসক্তি থেকে দূরে থেকে শিক্ষা, দক্ষতা উন্নয়ন এবং মানবিক মূল্যবোধ চর্চার মাধ্যমে নিজেদের যোগ্য নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে হবে।” প্রধান সমন্বয়ক (সাংগঠনিক) আবু তাহের বলেন, অনলাইন জুয়ার বিরুদ্ধে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে। সচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের এ ধরনের ঝুঁকি থেকে রক্ষা করা সম্ভব।

 

শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নিয়মিত সচেতনতামূলক কার্যক্রম আয়োজন সময়ের দাবি। সেশন পরিচালনাকালে দেলোয়ার হোসেন তুলে ধরেন, “ডিজিটাল প্রযুক্তি আমাদের জন্য আশীর্বাদ, তবে এর অপব্যবহার ভয়াবহ পরিণতি ডেকে আনতে পারে। তাই প্রযুক্তিকে ইতিবাচক কাজে ব্যবহার করে দক্ষতা ও জ্ঞান অর্জনের দিকে মনোযোগী হওয়া প্রয়োজন।” আলোচনা শেষে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে বিষয়ভিত্তিক কুইজ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। কুইজে বিজয়ীদের উপজেলা বন বিভাগের সহযোগিতায় বিলুপ্তপ্রায় বিভিন্ন প্রজাতির গাছের চারা উপহার হিসেবে প্রদান করা হয়। আয়োজকরা জানান, পরিবেশ সংরক্ষণ, জীববৈচিত্র্য রক্ষা এবং জলবায়ু সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে এ ব্যতিক্রমী উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।

অনুষ্ঠানে মাদ্রাসার শিক্ষকবৃন্দ, শিক্ষার্থী এবং উদারতা যুব ফাউন্ডেশনের মহাইমিনুল, সুমাইয়া, সুমন জান্নাতি প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠান শেষে অংশগ্রহণকারী শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা এ ধরনের সচেতনতামূলক কার্যক্রমকে সময়োপযোগী ও প্রয়োজনীয় উল্লেখ করে ভবিষ্যতেও এ ধরনের উদ্যোগ অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান। উদারতা যুব ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, তরুণদের সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি, নিরাপদ ডিজিটাল সংস্কৃতি গড়ে তোলা এবং পরিবেশ সংরক্ষণে উদ্বুদ্ধ করতে ভবিষ্যতেও এ ধরনের কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। প্রেসবিজ্ঞপ্তি

 

 

Ads small one

অবহেলিত কালিগঞ্জ-রতনপুর-নূরনগর-শ্যামনগর সড়ক ও অন্তহীন জনদুর্ভোগ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ১৭ জুন, ২০২৬, ১০:১০ অপরাহ্ণ
অবহেলিত কালিগঞ্জ-রতনপুর-নূরনগর-শ্যামনগর সড়ক ও অন্তহীন জনদুর্ভোগ

সম্পাদকীয়

সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ ও শ্যামনগর উপজেলার সংযোগ রক্ষাকারী অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কালিগঞ্জ-রতনপুর-নূরনগর-শ্যামনগর সড়কটির বর্তমান বেহাল দশা কেবল জনদুর্ভোগেরই কারণ নয়, বরং গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়নের ক্ষেত্রে এক চরম উদাসীনতার স্মারক হয়ে দাঁড়িয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে এই সড়কের বিভিন্ন অংশের কার্পেটিং উঠে গিয়ে সৃষ্টি হয়েছে ছোট-বড় অসংখ্য গর্তের। ফলে প্রতিদিন চরম ঝুঁকি ও আতঙ্ক নিয়ে চলাচল করছেন হাজার হাজার যাত্রী, শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষ। একটি জনগুরুত্বপূর্ণ সড়কের এই কঙ্কালসার দশা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।

এই সড়কটির ভৌগোলিক ও অর্থনৈতিক গুরুত্ব অপরিসীম। কালিগঞ্জ উপজেলার মথুরেশপুর, রতনপুর ও ধলবাড়িয়া এবং শ্যামনগর উপজেলার নূরনগর, সদর, কৈখালী ও রমজাননগর ইউনিয়নের লাখো মানুষ জেলা শহরসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে যাতায়াতের জন্য এই পথটি ব্যবহার করেন। উপকূলীয় অঞ্চলের অর্থনৈতিক গতিশীলতা ও জরুরি স্বাস্থ্যসেবা পাওয়ার ক্ষেত্রেও এই সড়কটি অন্যতম প্রধান মাধ্যম। অথচ বাস্তব চিত্র হলো, সড়কের কোথাও হয়তো কিছুটা সংস্কার হয়েছে, আবার বড় অংশ জুড়েই রয়ে গেছে ভাঙাচোরা আর মরণফাঁদ। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে যখন এই গর্তগুলো পানিতে তলিয়ে যায়, তখন সড়কটি কার্যত চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ে; আশঙ্কাজনকভাবে বাড়ে ছোট-বড় দুর্ঘটনা।

সবচেয়ে দুঃখজনক বিষয় হলো, জনপ্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উদাসীনতা। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, নির্বাচনের আগে সাতক্ষীরা-৩ ও সাতক্ষীরা-৪ আসনের প্রার্থীরা এই সড়ক দিয়েই যাতায়াত করেছেন এবং দ্রুত সংস্কারের প্রতিশ্রুতিও দিয়েছিলেন। কিন্তু নির্বাচনের পর দীর্ঘ সময় পার হয়ে গেলেও সেই আশ্বাসের কোনো বাস্তবায়ন দৃশ্যমান হয়নি। দুই আসনের জনপ্রতিনিধি একই ঘরানার হওয়া সত্ত্বেও সমন্বিত ও কার্যকর কোনো উদ্যোগ না নেওয়া স্থানীয় জনগণকে চরমভাবে হতাশ ও ক্ষুব্ধ করেছে। দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ না থাকায় দুই উপজেলার সীমান্ত এলাকার মানুষ আজ নিজেদের অবহেলিত ও প্রান্তিক মনে করছেন।

একটি দেশের টেকসই উন্নয়ন তখনই সম্ভব, যখন তার প্রত্যন্ত অঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থা সচল ও নিরাপদ থাকে। জোড়াতালির সংস্কার বা সাময়িক মেরামতের নামে সরকারি অর্থের অপচয় আমরা আর দেখতে চাই না। কালিগঞ্জ-শ্যামনগর সড়কটির ক্ষতিগ্রস্ত অংশগুলোর দ্রুত টেকসই ও দীর্ঘমেয়াদি সংস্কার প্রয়োজন। জনদুর্ভোগ লাঘব এবং জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) ও সংশ্লিষ্ট দুই আসনের জনপ্রতিনিধিরা দ্রুত কার্যকর সমন্বিত পদক্ষেপ নেবেনÑএটাই আমাদের প্রত্যাশা।

 

 

 

 

 

 

 

ঘৃণাত্মক বক্তব্য প্রতিরোধ; সুনাগরিকের দায়িত্ব

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ১৭ জুন, ২০২৬, ১০:০৫ অপরাহ্ণ
ঘৃণাত্মক বক্তব্য প্রতিরোধ; সুনাগরিকের দায়িত্ব

সাকিবুর রহমান বাবলা

প্রতিবছর ১৮ জুন পালিত হয় ঘৃণাত্মক বক্তব্য প্রতিরোধের আন্তর্জাতিক দিবস। বর্তমান বিশ্বে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, জনসভা, সেমিনার কিংবা বিভিন্ন জনসমাগমস্থলে মতপ্রকাশের স্বাধীনতার পাশাপাশি দায়িত্বশীল আচরণের প্রয়োজনীয়তা আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় বেশি। কারণ ঘৃণাত্মক বক্তব্য ব্যক্তি, গোষ্ঠী ও সমাজের মধ্যে বিভাজন, বৈরিতা এবং সহিংসতার পরিবেশ সৃষ্টি করতে পারে।

একজন সুনাগরিক হিসেবে আমাদের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব হলো তথ্য যাচাই ছাড়া কোনো উসকানিমূলক, বিদ্বেষমূলক বা বিভ্রান্তিকর বক্তব্য প্রচার না করা। অনলাইনে কোনো পোস্ট, ছবি বা ভিডিও শেয়ার করার আগে এর সত্যতা যাচাই করা জরুরি। একই সঙ্গে ধর্ম, বর্ণ, ভাষা, লিঙ্গ, পেশা বা রাজনৈতিক মতাদর্শের ভিত্তিতে কাউকে হেয় করে এমন মন্তব্য থেকে বিরত থাকতে হবে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঘৃণাত্মক কনটেন্ট দেখলে তা ছড়িয়ে না দিয়ে সংশ্লিষ্ট প্ল্যাটফর্মে রিপোর্ট করা ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থার দৃষ্টি আকর্ষণ করা এবং সচেতনতামূলক ইতিবাচক বার্তা প্রচার করা নাগরিক দায়িত্বের অংশ। জনসভা, সেমিনার ও সামাজিক অনুষ্ঠানে ভিন্নমতকে সম্মান করা, সংলাপ ও সহনশীলতার চর্চা করা এবং পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ জাগ্রত করা প্রয়োজন।

পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সামাজিক বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান, গণমাধ্যম ও নাগরিক সমাজের সম্মিলিত উদ্যোগে সহমর্মিতা, মানবিক মূল্যবোধ ও বৈচিত্র্যের প্রতি শ্রদ্ধা গড়ে তোলা সম্ভব। ঘৃণা নয়, যুক্তি; বিদ্বেষ নয়, মানবতা—এই চেতনা ধারণ করলেই একটি শান্তিপূর্ণ, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও ন্যায়ভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হবে।

ঘৃণাত্মক বক্তব্য প্রতিরোধ কেবল আইনের বিষয় নয়; এটি সচেতন নাগরিকত্বেরও পরীক্ষা, ধর্মীয় অনুশাসন বাস্তবায়ন। তাই আসুন, আমরা সবাই দায়িত্বশীল আচরণের মাধ্যমে সম্মান, সম্প্রীতি ও মানবিকতার সংস্কৃতি গড়ে তুলি।

 

 

 

 

 

 

 

আশাশুনিতে জেলা প্রশাসকের মতবিনিময় সভা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ১৭ জুন, ২০২৬, ১০:০১ অপরাহ্ণ
আশাশুনিতে জেলা প্রশাসকের মতবিনিময় সভা

আশাশুনি প্রতিনিধি: সাতক্ষীরার আশাশুনিতে উপজেলা পরিষদের কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি ও গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা করেছেন জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মিজ কাউসার আজিজ। বুধবার (১৭ জুন) দুপুরে উপজেলা পরিষদ সভা কক্ষে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) শ্যামানন্দ কুন্ডুর সভাপতিত্বে সভায় উপজেলার বিভিন্ন সমস্যা ও সম্ভাবনার কথা তুলে ধরে বক্তব্য দেন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শামীম আহমদ খান, উপজেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক হেদায়েতুল ইসলাম, জামায়াতের নায়েবে আমীর নুরুল আফছার মোর্তজা, আমীর আবু মুছা তারিকুজ্জামান তুষার, বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব মশিউল হুদা তুহিন ও জাকির হোসেন বাবু, যুবদলের সদস্য সচিব আবু জাহিদ সোহাগ এবং প্রেস ক্লাব সভাপতি এস কে হাসান।

এ ছাড়া সভায় উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও সরকারি কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। সভায় জেলা প্রশাসক সবার বক্তব্য মনোযোগ দিয়ে শোনেন এবং আশাশুনি উপজেলার সার্বিক উন্নয়ন ও জনদুর্ভোগ নিরসনে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন।

এর আগে জেলা প্রশাসক মিজ কাউসার আজিজ আশাশুনি মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ে বাল্যবিয়ে, মাদক, ইভটিজিং ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধ বিষয়ক একটি ছাত্রী সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দেন। পরে তিনি বুধহাটা ইউনিয়ন পরিষদ, ইউনিয়ন ভূমি অফিস ও আশাশুনি থানা পরিদর্শন করেন।