প্রধানমন্ত্রী ও বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রীকে অভিনন্দন জানিয়ে বিএনপি নেতৃবৃন্দের ফেসবুক পোস্ট
তীব্র লোডশেডিংয়ে অচল সাতক্ষীরা: গ্রামে ত্রাহি অবস্থা, হটাৎ পরিস্থিতির পরিবর্তন
সংবাদদাতা: কোনো এলাকাতেই স্বস্তি নেই; তীব্র তাপদাহ আর ঘন ঘন লোডশেডিংয়ে স্থবির হয়ে পড়েছে পুরো সাতক্ষীরা সদর উপজেলা। শহরের কাটিয়া, পলাশপোল, ইটাগাছা কিংবা সুলতানপুর-সবখানেই বিদ্যুতের একই দশা। অপরদিকে গ্রামীণ ফিডারগুলোর অবস্থা আরও শোচনীয়। ঝাউডাঙ্গা, বল্লী, ফিংড়ী, বাশদহা কিংবা কুশখালী ইউনিয়নে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে অর্ধেকর ও বেশি সময়ই বিদ্যুৎ থাকছে না। স্থানীয় বাসিন্দারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলছেন, এটি এখন আর সাধারণ বিভ্রাট নয়, এটি বিদ্যুতের ‘মহামারি’। তবে বুধবার দুপুরের পর থেকে সাতক্ষীরা শহর এলাকায় লোডশেডিং কমে আসে। এব্যাপারে প্রধানমন্ত্রী ও বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রীকে অভিনন্দন জানিয়ে জেলা বিএনপির নেতৃবৃন্দ একটি পোস্ট দেন।
সাতক্ষীরা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি ও ওজোপাডিকো মিলিয়ে পুরো জেলায় বর্তমানে বিদ্যুতের চাহিদা প্রায় ১৫০ মেগাওয়াট। এর বিপরীতে সরবরাহ মিলছে মাত্র ৯৫ মেগাওয়াট। প্রতিদিন প্রায় ৫৫ মেগাওয়াট ঘাটতি নিয়ে খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে চলছে সরবরাহ।
পৌর এলাকায় তাও কিছুটা বিদ্যুৎ পাওয়া গেলেও, সদরের গ্রামগুলোতে লোডশেডিংয়ের মাত্রা ১০ থেকে ১২ ঘণ্টা ছাড়িয়ে যাচ্ছে। রাতে কমপক্ষে ৮ থেকে ১০ বার বিদ্যুৎ আসা-যাওয়া করছে।
সাতক্ষীরা বিসিক শিল্পনগরী সূত্র জানায়, ৪২টি কারখানাসহ সদরের শত শত লেদ ও চালকলের উৎপাদন পুরোপুরি লাটে উঠেছে। বিদ্যুৎ না থাকায় শ্রমিকেরা অলস বসে থাকছেন, অথচ মালিকদের গুনতে হচ্ছে নিয়মিত বেতন।
দাবদাহের কারণে ফসলের মাঠ শুকিয়ে চৌচির হলেও বিদ্যুৎ সংকটে সেচ পাম্পগুলো চালানো যাচ্ছে না। এতে আমন ও রবি শস্যের আবাদ মারাত্মক ঝুঁকিতে পড়েছে।
রাতে বিদ্যুৎ না থাকায় শিক্ষার্থীদের বিশেষ করে পরীক্ষার্থীদের পড়াশোনা চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে। প্রচন্ড গরমে ভাইরাসজনিত রোগ ও চর্মরোগের প্রকোপ বাড়ায় সাতক্ষীরা সদর হাসপাতাল ও মেডিকেল কলেজে রোগীর ভিড় উপচে পড়ছে।
ক্ষুব্ধ গ্রাহক ও কর্তৃপক্ষের অসহায়ত্ব বিদ্যুতের এই ভয়াবহ সংকটের কারণে সাধারণ মানুষের মাঝে তীব্র ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। অনেক এলাকায় গ্রাহকেরা বিদ্যুৎ অফিসের কর্মকর্তাদের অবহেলাকে দায়ী করছেন। তবে বিদ্যুৎ বিভাগের দাবি, জাতীয় গ্রিড থেকে চাহিদা অনুযায়ী বরাদ্দ না পাওয়ায় তাদের কিছুই করার নেই। তীব্র গরমে ফ্যানের পাশাপাশি এসির ব্যবহার বৃদ্ধি পাওয়ায় লোড আরও বেড়েছে, যা বর্তমান সরবরাহ দিয়ে সামাল দেওয়া অসম্ভব হয়ে পড়েছে। সংবাদদাতা: মোঃ রবিউল ইসলাম
প্রধানমন্ত্রী ও বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রীকে অভিনন্দন
এদিকে বুধবার দুপুরের পর থেকে সাতক্ষীরা পৌর এলাকায় বিদ্যুৎ এর লোডশেডিং কমে যায়। এসম্পর্কে সামাজিক মাধ্যমে জেলা বিএনপির নেতৃবৃন্দের একটি পোস্ট ছড়িয়ে পড়ে। ঐ পোস্টে বলা হয়, “সাতক্ষীরা পৌরসভাসহ জেলায় বিদ্যুতের লোডশেডিংয়ে জনজীবন বিপর্যস্ত, অফিস আদালতে কার্যক্রম বিঘিœত হচ্ছে, এ বিষয়ে মাননীয় জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত মহোদয়ের সাথে কথা বলেন সাতক্ষীরা জেলা বিএনপির সদস্য সচিব আবু জাহিদ ডাবলু ও জেলা বিএনপির সদস্য মাসুম বিল্লাহ শাহীন।
পরবর্তীতে বিদ্যুৎ বিভাগ থেকে জেলা বিএনপির সদস্য সচিব আবু জাহিদ ডাবলুকে জানানো হয় পৌরসভায় বিদ্যুৎ বৃদ্ধি করা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে জেলার বিদ্যুতের মেগাওয়াট বৃদ্ধি করা হবে। সাতক্ষীরা ওজেপাডিকো নিবার্হী প্রকৌশলী সোয়াইব হোসেন জানান, সাতক্ষীরা পৌর এলাকায় অতিরিক্ত ২০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ বৃদ্ধি করা হয়েছে। সাতক্ষীরা পৌর এলাকার বাসিন্দারা অতিরিক্ত বিদ্যুৎ সুবিধা পাবে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রীকে সাতক্ষীরা পৌর এলাকার বাসিন্দারা ধন্যবাদ জানিয়েছেন।”












