শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৪ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৪ আশ্বিন ১৪৩৩

গান দিয়ে ঈদ জমালেন নুসরাত ফারিয়া

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ৩০ মে, ২০২৬, ১১:১৪ অপরাহ্ণ
গান দিয়ে ঈদ জমালেন নুসরাত ফারিয়া

তার সৌন্দর্য চোখে আরাম দেয়, কোমরের দুলুনি মনে ঢেউ তোলে। তবে এবার ঈদে তিনি ভক্তদের ঘায়েল করতে বেছে নিয়েছেন কণ্ঠ। বলছিলাম নুসরাত ফারিয়ার কথা। প্রকাশ করেছেন ‘লোকে বলে’ শিরোনামের একটি গান।
গানের কথা লিখেছেন তাহজিব এম বন্ধন এবং মিক্স-মাস্টার করেছেন অভিষেক ঘটক। সুর ও সংগীত করেছেন ফুয়াদ আল মুক্তাদির। এবার-ই প্রথম ফারিয়ার সঙ্গে সুরে বাঁধা পড়লেন তিনি।

প্রকাশিত মিউজিক ভিডিও দেখে এটা স্পষ্ট যে, শুধু কণ্ঠ দিয়েই ঝড় তোলেননি ফারিয়া। সৌন্দর্য দিয়েও করেছেন কুপোকাত। নেচে গেয়ে জমিয়ে তুলেছেন। একাধিক আকর্ষণীয় লুকে দেখা গেছে তাকে। কখনও রেড কার্পেট স্টাইলে ওয়ান-শোল্ডার পোশাকে, আবার কখনও উৎসবের আবহে লেহেঙ্গায় নিজেকে মেলে ধরেছেন।

গানটি প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নুসরাত ফারিয়া লিখেছেন, “ঈদ মুবারক”। মিউজিক ভিডিওটির কোরিওগ্রাফি ও নির্দেশনা দিয়েছেন ভারতের জনপ্রিয় নির্মাতা বাবা যাদব। মঙ্গলবার (২৭ মে) গানটি প্রকাশ পেয়েছে এসভিএফ–এর ইউটিউব চ্যানেলে।

২০১৮ সালে ‘পটাকা’র মাধ্যমে বাণিজ্যিক গানে আত্মপ্রকাশ করেন ফারিয়া। এরপর ২০২০, ২০২১ ও ২০২৩ সালে প্রকাশ পায় ‘আমি চাই থাকতে’, ‘হাবিবি’ও ‘বুঝি না তো তাই’। ভিন্ন ধাঁচের গানগুলো শ্রোতা-দর্শকের মন জয় করে। তারই ধারাবাহিকতায় প্রকাশ করলেন ‘লোকে বলে’।

Ads small one

যাত্রা থেকে চলচ্চিত্র

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১১:১২ অপরাহ্ণ
যাত্রা থেকে চলচ্চিত্র

এম শফিকুল ইসলাম

দুর্দান্ত প্রত্যাপে তাঁরা অভিনয় করতেন যাত্রা মঞ্চে জনপ্রিয়তাও পেয়েছিলেন যাত্রালোকে। পরে এক সময় এলেন চলচ্চিত্রে। এখানেও বেশ সুনাম কুড়ালেন। যদিও এমন শিল্পীর সংখ্যা খুব বেশি নয়। যার তারা থেকে চলচ্চিত্রে আসা কয়েকজন শিল্পীর কথা তুলে ধরছি আজকের সাহিত্য পাতার প্রকাশনীতে। যাত্রাশিল্পের অন্যতম প্রধান পৃষ্ঠপোষক ও যাত্রা গবেষক এম. এ মজিদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী অভিনেতা আনোয়ার হোসেন পঞ্চাশের দশকে জীবনে প্রথম যাত্রা মঞ্চে অভিনয় করেন ‘নবাব সিরাজউদ্দৌলা চরিত্র’। এ চরিত্রে অভিনয় করে এতটাই জনপ্রিয়তা লাভ করেন যে শেষ পর্যন্ত তিনি মুকুটহীন নবাব খ্যাতিতে ভূষিত হন। এরপর অসংখ্যবার তিনি নবাব চরিত্রে অভিনয় করে গেছেন। এছাড়াও আরও কয়েকটি যাত্রাপালায় অভিনয় করেন তিনি। পরে খান আতিউর রহমান পরিচালিত নবাব সিরাজউদ্দৌলা ছবিতে ‘নবাব চরিত্রে অভিনয় করে প্রশংসিত হয়েছেন।

 

১৯৫৯ সালে ঢাকা ইঞ্জিনিয়ারিং ইনস্টিটিউটে ননী দাস নির্দেশিত ‘এক টুকরো জমি’ নাটকে এবং ১৯৬১ সালে মহিউদ্দিন পরিচালিত ‘তোমার আমার’ ছবিতে প্রথম অভিনয় করেন এবং চলচ্চিত্রের অভিনয়ে থিতু হন। অভিনেত্রী আনোয়ারা প্রথম জীবনে কয়েকটি যাত্রাপালায় অভিনয় করলেও সংখ্যায় তা বেশি ছিল না। আনোয়ারা নবাব সিরাজউদ্দৌলা যাত্রা পালায় আলেয়ার চরিত্রে অভিনয় করেন এবং সুখ্যাতি পান। পরে খান আতিউর রহমান পরিচালিত নবাব সিরাজউদ্দৌলা ছবিতে আলেয়া চরিত্রে অভিনয় করেই প্রশংসিত হন। ১৯৬১ সালে আনোয়ারা ফজলুল হকের ‘আজান’ ছবির মাধ্যমে বড় পর্দায় অভিনয় করেন। অভিনেতা আমির সিরাজী সত্তরের দশক থেকে যাত্রাপালায় অভিনয়ের মাধ্যমে তার ক্যারিয়ার শুরু করেন।

 

চলচ্চিত্রের নতুন মুখের সন্ধানের বিজ্ঞাপন দেখে তিনি ১৯৮৪ সালে ঢাকায় আসেন এবং এই প্রতিযোগিতায় উত্তীর্ণ হয়ে চলচ্চিত্রে অভিনয় শুরু করেন। তার অভিনীত প্রথম সিনেমা ইবনে মিজানের ‘পাতাল বিজয়’। আমির সিরাজীর মুক্তিপ্রাপ্ত প্রথম সিনেমা মতিন রহমানের ‘রাধা কৃষ্ণ’। দীর্ঘ ক্যারিয়ারের সাত শতাধিক সিনেমায় অভিনয় করেছেন তিনি। শর্বরী দাসগুপ্ত একজন বলিষ্ঠ যার দ্বারা ও চলচ্চিত্র অভিনেত্রী। তাঁর প্রকৃত নাম রিনা রানি। ১৯৭০ সালে তিনি এ যাত্রা দল গীতাশ্রী অপেরায় অভিনয় জীবন শুরু করেন। পরবর্তীতে তিনি চলচ্চিত্রে অভিনয় শুরু করেন। তার অভিনীত চলচ্চিত্রগুলো হলো-কেয়ামত, মনে পড়ে তোমাকে, বাবা কেন চাকর প্রভৃতি।

 

চলচ্চিত্রে অভিনয়ের জন্য কর্মের স্বীকৃতি হিসেবে শর্বরী দাশগুপ্ত ২০১৭ সালের জিয়া গোল্ড মেডেল পদকে ভূষিত হয়েছেন। বাংলাদেশের স্বাধীনতার আগে অঞ্জু ঘোষ ব্রাক্ষণবাড়িয়ার ভোলানাথ অপেরার যাত্রার নৃত্য পরিবেশন করতেন ও গান গাইতেন। ১৯৮২ সালে এফ কবীর চৌধুরী পরিচালিত ‘সওদাগর’ সিনেমার মাধ্যমে অঞ্জুর চলচ্চিত্রে অভিষেক ঘটে। চলচ্চিত্রের অভিনয়ে তিনি ব্যাপক জনপ্রিয়তা পান। ১৯৯৬ সালে অঞ্জু কলকাতায় পাড়ি জামান। সেখানে চলচ্চিত্র ও যাত্রাপালায় নিয়মিত অভিনয় করেছেন তিনি। অভিনেতা সিরাজ হায়দার একাধারে একজন মঞ্চ যাত্রা ও চলচ্চিত্র অভিনেতা ছিলেন। ১৯৬২ সালে নবম শ্রেণীতে পরকালীন ‘টিপু সুলতান’ শিরোনামে নাটকে প্রথমবার অভিনয় করেন। আশির দশকের নারায়ণ ঘোষ মিতার ‘সুখের সংসার’ চলচ্চিত্রে অভিনয়ের মাধ্যমে বড়পর্দায় অভিষেক হয় সিরাজ হায়দারের।

 

চলচ্চিত্রের পাশাপাশি তিনি টেলিভিশন, মঞ্চ ও যাত্রাপালায় অভিনয় করেছেন। প্রখ্যাত যাত্রাশিল্পী অমলেন্দু বিশ্বাস এবং জ্যোৎনা বিশ্বাসের কন্যা অরুনা বিশ্বাস। তিনিও যাত্রাপালায় বাবা মার মতো অভিনয় করেন। এছাড়া মঞ্চ নাটকের ও তাঁর সফলতা ছিল। ১৯৮৬ সালের নায়করাজ রাজ্জাক পরিচালিত অরুনা বিশ্বাসের প্রথম সিনেমা ‘চাপা ডাঙ্গার বউ’। তার বিপরীতে ছিলেন বাপ্পারাজ। এরপর ‘দুর্নাম সম্মান ‘কৈফিয়ত, হাঙ্গর নদী গ্রেনেডসহ আরো বহু সিনেমায় অভিনয় করেন।

 

অরুনা বিশ্বাস অভিনেতা সুজনের প্রকৃত নাম পঙ্কজ বৈদ্য। তার জন্মস্থান চট্টগ্রাম। তিনি সত্তরের দশক থেকে চট্টগ্রামে যাত্রাপালা এবং মঞ্চ নাটকের জনপ্রিয়তার সঙ্গে অভিনয় করতেন। আশির দশকে তিনি চলচ্চিত্রে আসেন। প্রথমে পাশ্বচরিত্রে অভিনয় করতেন। নায়ক হিসাবে তার সবচেয়ে জনপ্রিয় চলচ্চিত্র হচ্ছে সিবি জামান পরিচালিত উজান ভাটি। তিনি প্রায় দুই ডজন চলচ্চিত্রে অভিনয় করেন। সম্প্রতি স্যাটেলাইট চ্যানেল সমূহের কল্যাণে বাংলাদেশের নাটক ও যাত্রার উন্নতির হাওয়া বইছে। নাটক যাত্রার ক্ষেত্র যথেষ্ট প্রসার লাভ করছে। সারাদেশে অসংখ্য নাট্যগোষ্ঠী ও যাত্রা অপেরা গড়ে উঠেছে নিয়মিত মঞ্চস্থ ও চিত্রিত হচ্ছে। রেডিও টিভিতে নাটক যাত্রাপালা প্রচারিত হচ্ছে। বাংলা একাডেমী প্রতিবছর নাট্যকার ও পালাকারকে পুরস্কৃত করছে।

 

এছাড়া শিল্পকলা একাডেমী নাট্য উৎসবের আয়োজন করছে। দিন দিন নাটক ও যাত্রার দর্শক সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে। তাই বর্তমান সময়ের নাট্যচর্চার আশিব্যঞ্জক অনুকূল পরিবেশ তৈরি হচ্ছে। বাংলার লোকনাট্য ও লোক যাত্রা পালা মানুষের বিবেক জাগ্রত করার এক অনন্য শক্তিশালী ভূমিকা পালন করছে।

লেখক : সাংবাদিক ও নাট্যকার

 

পরিবেশ সুরক্ষা ও স্বাস্থ্য সচেতনতা বাড়াতে ব্যক্তিগত গাড়ি ব্যবহার কমাতে হবে

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১১:০৫ অপরাহ্ণ
পরিবেশ সুরক্ষা ও স্বাস্থ্য সচেতনতা বাড়াতে ব্যক্তিগত গাড়ি ব্যবহার কমাতে হবে

প্রকাশ ঘোষ বিধান

পরিবেশ সুরক্ষা ও স্বাস্থ্য সচেতনতা বাড়াতে ব্যক্তিগত গাড়ি ব্যবহার কমানো এখন সময়ের দাবি। ক্রমাগত ব্যক্তিগত গাড়ি বৃদ্ধির ফলে তীব্র যানজটের পাশাপাশি বায়ুদূষণও চরম মাত্রায় পৌঁছাচ্ছে। পরিবেশের এই বিপর্যয় ও নাগরিকদের স্বাস্থ্যঝুঁকি কমাতে ব্যক্তিগত গাড়ির ওপর নির্ভরতা কমিয়ে টেকসই বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহণ করা জরুরি।

সড়কে গাড়ির সংখ্যা কমলে কার্বন-ডাই-অক্সাইডসহ অন্যান্য ক্ষতিকর গ্রিনহাউস গ্যাসের নির্গমন উল্লেখযোগ্য হারে কমে। ঘন ঘন হর্ন ও গাড়ির কালো ধোঁয়া কমে যাওয়ায় শহরের বায়ুর মান উন্নত হয় এবং শব্দদূষণজনিত স্বাস্থ্য সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়া যায়। জীবাশ্ম জ্বালানির অপচয় রোধ হয়, যা দেশের সামগ্রিক অর্থনীতি ও জাতীয় জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সাহায্য করে।

পরিবেশ রক্ষা ও স্বাস্থ্য সচেতনতা বাড়াতে ব্যক্তিগত গাড়ির ব্যবহার কমানো অত্যন্ত জরুরি। বাসযোগ্য ও সুস্থ নগরী গড়তে ব্যক্তিগত গাড়ি নিয়ন্ত্রণ ও গণপরিবহণ বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। ব্যক্তিগত গাড়ি কমালে ক্ষতিকর কার্বন নিঃসরণ কমে এবং বায়ু পরিষ্কার থাকে। গাড়ির হর্ন ও ইঞ্জিন থেকে সৃষ্ট শব্দ দূষণ কমে। অল্প দূরত্বে হাঁটাচলা বা সাইকেল চালালে শারীরিক কসরত হয় এবং স্বাস্থ্য ভালো থাকে। সড়কে ব্যক্তিগত বাহন কমলে তীব্র যানজট কমে এবং যাতায়াত সহজ হয়।

২২ সেপ্টেম্বর বিশ্ব ব্যক্তিগত গাড়িমুক্ত দিবস। যা প্রতিবছর বিশ্বজুড়ে নাগরিকদের ব্যক্তিগত গাড়ি ব্যবহার না করে বরং সাইকেল, হাঁটা বা গণপরিবহন ব্যবহারে উৎসাহিত করতে পালিত হয়। পরিবেশ দূষণ হ্রাস, যানজট নিয়ন্ত্রণ এবং জ্বালানি সাশ্রয়ের লক্ষ্যে বিশ্বব্যাপী এই সচেতনতা তৈরি করা হয়। ৭০-এর দশকে ইউরোপে প্রথম এই ধারণার সূচনা হলেও, প্রাতিষ্ঠানিকভাবে ১৯৯৮ সালে ফ্রান্সে এটি জাতীয়ভাবে উদযাপিত হয়। পরবর্তীতে ২০০০ সালে ইউরোপীয় কমিশন এটিকে একটি স্বতন্ত্র দিবস হিসেবে স্বীকৃতি দেয় এবং এটি আন্তর্জাতিক রূপ পায়। বাংলাদেশে প্রথম ২০০৬ সাল থেকে বেসরকারি উদ্যোগে এই দিবসটি পালন করা শুরু হয়। পরবর্তীতে ২০১৬ সাল থেকে সরকারিভাবেসহ বিভিন্ন অংশীজনদের সাথে নিয়ে দিবসটি নিয়মিত উদযাপন করা হচ্ছে। পরিবেশবান্ধব ও টেকসই পরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তোলার জন্য এই দিবসটি একটি বড় অনুস্মারক হিসেবে কাজ করে।

জীবাশ্ম জ্বালানি পুড়িয়ে ব্যক্তিগত গাড়ি চালানোর ফলে অতিরিক্ত মাত্রায় গ্রিনহাউস গ্যাস উৎপন্ন হয়, যা জলবায়ু পরিবর্তন ও বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধির অন্যতম প্রধান কারণ। ব্যক্তিগত গাড়ি থেকে নির্গত কার্বন ডাই-অক্সাইড, কার্বন মনোক্সাইড এবং অন্যান্য ক্ষতিকর ধোঁয়া বায়ুর গুণমান মারাত্মকভাবে নষ্ট করে। গাড়ি কমলে বাতাসে এসব বিষাক্ত গ্যাসের পরিমাণ কমে যায়।

অতিরিক্ত ব্যক্তিগত গাড়ি ব্যবহারের ফলে শহরের বায়ু দূষণ ও তীব্র যানজট সৃষ্টি হয়। এই দিনে নাগরিকদের ব্যক্তিগত গাড়ি বাদ দিয়ে পায়ে হেঁটে, সাইকেলে বা গণপরিবহনে যাতায়াতে উৎসাহিত করা হয়। পরিবেশবান্ধব গণপরিবহন এবং হাঁটা বা সাইকেল চালানোর সুবিধা ও প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি করা হয়।

ব্যক্তিগত গাড়ি রাস্তায় বেশি জায়গা দখল করে কিন্তু বহন করে কম যাত্রী। এর ফলে তীব্র যানজট সৃষ্টি হয়। গণপরিবহন বা হাঁটার অভ্যাস বাড়ালে সড়কের ওপর চাপ কমে। ছোট দূরত্বের পথগুলোতে ব্যক্তিগত গাড়ি বর্জন করে হাঁটা বা সাইকেল চালানোর অভ্যাস তৈরি করলে হৃদরোগ, স্থূলতা এবং ডায়াবেটিসের ঝুঁকি কমে। যানজট এবং উচ্চ হর্নের কারণে সৃষ্ট মানসিক চাপ ও বিষণ্ণতা থেকে নাগরিকরা মুক্তি পান।

বিশ্বের বহু দেশেই এবং অধিকাংশ রাজধানীতে গাড়িমুক্ত হাঁটার সড়ক যেমন আছে, তেমনি থাকে ফুটপাত। স্বল্প দূরত্বে হাঁটার সুযোগ নগরে চলাচলে স্বস্তি যেমন বাড়ায়, তেমনি তা স্বাস্থ্যকরও। আমাদের দেশে সড়ক অনুপাতে ফুটপাতের পরিমাণ খুবই কম। আবার যেটুকু আছে, সেটুকুও অবৈধ স্থাপনা ও ব্যবসার উদ্দেশ্যে ব্যবহার করার কারণে দখল করে রাখে। সে জন্য ফুটপাত ব্যবহার করা সম্ভব হয় না।

শহরের ফুটপাতগুলোকে দখলমুক্ত ও ছায়াযুক্ত করা এবং সাইকেল চলাচলের জন্য আলাদা লেনের ব্যবস্থা করা প্রয়োজন। শহরগুলোকে গাড়ির আধিপত্য থেকে মুক্ত করে মানুষের উপযোগী ও বাসযোগ্য করে তোলার তাগিদ দেওয়া হয়। মানুষের ব্যক্তিগত গাড়ির প্রতি ঝোঁক কমানোর জন্য নিরাপদ, আরামদায়ক ও সময়সাশ্রয়ী গণপরিবহন নিশ্চিত করা।

একটি বাসযোগ্য ও পরিবেশবান্ধব নগরী গড়ে তুলতে আমাদের প্রতিদিনের যাতায়াতে সচেতন হতে হবে। ছোট দূরত্বে ব্যক্তিগত গাড়ির বিকল্প খোঁজার মানসিকতা তৈরি করতে হবে। পরিবেশবান্ধব ও টেকসই নগর গড়তে ব্যক্তিগত গাড়ির বিকল্প হিসেবে মানসম্মত গণপরিবহন ব্যবস্থা এবং হেঁটে বা সাইকেলে চলাচলে উৎসাহিত করা প্রয়োজন।

একটি পরিচ্ছন্ন, দূষণমুক্ত ও সুস্থ ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য আমাদের প্রত্যেকেরই উচিত ব্যক্তিগত গাড়ির ওপর নির্ভরশীলতা কমিয়ে পরিবেশবান্ধব জীবনযাত্রায় অভ্যস্ত হওয়া। নগর রক্ষা, নিজের স্বাস্থ্য উন্নত করা এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি বাসযোগ্য পৃথিবী গড়ে তুলতে আমাদের এখনই ব্যক্তিগত গাড়ির বিলাসী ব্যবহার বর্জন করে দায়িত্বশীল আচরণ করতে হবে।

লেখক: সাংবাদিক ও কলামিস্ট

বাংলাদেশে ইতালীয়দের অবদান ও ঐতিহাসিক স্বীকৃতি

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১০:৫৮ অপরাহ্ণ
বাংলাদেশে ইতালীয়দের অবদান ও ঐতিহাসিক স্বীকৃতি

মানবতার নিঃশব্দ পদচারণা:

নিকোলাস বিশ্বাস

সীমানা, ভৌগোলিক দূরত্ব ও ধর্মীয় পরিচয়ের সংকীর্ণ গন্ডি অতিক্রম করে নিঃস্বার্থ মানবসেবায় নিজেদের জীবন উৎসর্গ করার ইতিহাস এ পৃথিবীতে বিরল নয়, তবে স্বাধীন বাংলাদেশে ইতালীয় মিশনারিদের দীর্ঘ কয়েক দশকের নীরব ত্যাগ ও আত্মনিবেদন সেই ইতিহাসকে এক অনন্য ও মহিমান্বিত উচ্চতায় উন্নীত করেছে। দক্ষিণবঙ্গের ঝোড়ো উপকূলীয় অঞ্চলের কুষ্ঠ ও যক্ষ্মারোগী থেকে শুরু করে উত্তরবঙ্গের সমতলের সাঁওতাল সম্প্রদায় কিংবা পার্বত্য চট্টগ্রামের দুর্গম পাহাড়ি উপত্যকার সুবিধাবঞ্চিত শিশু-এদেশের অবহেলিত, চরম শোষিত ও প্রান্তিক মানুষের পাশে এই ইতালীয় ধর্মযাজক ও সন্ন্যাসিনীরা দাঁড়িয়েছেন পরম মমতায় ও পরম অভিভাবকত্বে। সম্প্রতি ইতালীয় প্রজাতন্ত্রের মহামান্য প্রেসিডেন্ট সার্জিও মাত্তারেলা কর্তৃক দুই নিবেদিতপ্রাণ ইতালীয় মিশনারি- সিস্টার রবার্টা পিনিওনে এবং ফাদার পিয়েত্রো লুইজি লুপি -কে ইতালির অন্যতম সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় নাইট সম্মাননা’ (অর্ডার অব দ্য স্টার অব ইতালি) -তে ভূষিত করা কেবল তাঁদের ব্যক্তিসত্তার অনন্য মূল্যায়ন নয়; বরং এটি বাংলাদেশে তাঁদের যুগের পর যুগ ধরে চলা পালকীয়, চিকিৎসাসেবা ও আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের প্রতি এক ঐতিহাসিক স্বীকৃতি। এ স্বীকৃতি ক্যাথলিক মন্ডলীর সেবাকে নতুন মর্যাদায় অধিষ্ঠিত করেছে এবং বাংলাদেশে বসবাসরত সমগ্র ইতালীয় সম্প্রদায়ের জন্য বয়ে এনেছে এক অনন্য গৌরব। এটি ইতালির একটি অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ রাষ্ট্রীয় বেসামরিক সম্মাননা। বিদেশে ইতালির ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করা এবং অন্য দেশের সাথে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক উন্নয়নে অসামান্য অবদান রাখা ব্যক্তিদের এই ‘নাইট’ উপাধি দেওয়া হয়।

স্বাস্থ্যখাতে, বিশেষ করে দক্ষিণ বাংলাদেশের অবহেলিত চিকিৎসা ব্যবস্থায় সিস্টার রবার্টা পিনিওনের অবদান এক মহাকাব্যিক ও অবিশ্বাস্য দৃষ্টান্ত। ‘মিশনারি সিস্টার্স অব দি ইমাকুলেট’ (বাংলাদেশে এরা পিমে সিস্টার্স নামে পরিচিত) ক্যাথলিক সন্ন্যাসিনী সংঘের এই উৎসর্গীকৃতপ্রাণ পেশায় একজন দক্ষ চিকিৎসক। তিনি মূলত দক্ষিণবঙ্গের উপকূলীয়, দুর্গম ও সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীর চিকিৎসাসেবায় নিজেকে পুরোপুরি বিলিয়ে দিয়েছেন। খুলনা ধর্মপ্রদেশের অন্তর্গত ঐতিহাসিক ড্যামিয়েন হাসপাতালের প্রকল্প পরিচালক এবং একমাত্র সার্বক্ষণিক চিকিৎসক হিসেবে সিস্টার রবার্টা পিনিওন দীর্ঘ এক যুগেরও বেশি সময় ধরে নিরবচ্ছিন্নভাবে দায়িত্ব পালন করে চলেছেন। উল্লেখ্য যে, বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চলে কুষ্ঠ, যক্ষ্মা এবং এইচআইভি/এইডস আক্রান্ত চরম সামাজিক অবহেলা ও বৈষম্যের শিকার রোগীদের জন্য এই ড্যামিয়েন হাসপাতালটিই হলো একমাত্র বিশেষায়িত চিকিৎসাকেন্দ্র। সিস্টার রবার্টা এখানে ৩৩ শয্যার মূল হাসপাতালটি দক্ষতার সাথে পরিচালনার পাশাপাশি আরো ৩টি গ্রামীণ ক্লিনিক এবং ১৫টি যক্ষ্মা নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র তদারকি করেন। শুধু হাসপাতালের চার দেয়ালের মধ্যে নিজের সেবাকে সীমাবদ্ধ না রেখে, তিনি খুলনার ভয়াবহ ঘনবসতিপূর্ণ বস্তি এলাকাগুলোতে এবং অত্যন্ত দরিদ্র পরিবারগুলোর দরজায় দরজায় ঘুরে প্রাথমিক স্বাস্থ্য সচেতনতা বৃদ্ধি ও বিনামূল্যে মানসম্মত ওষুধ বিতরণের কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। সমাজে কুষ্ঠ ও যক্ষ্মা আক্রান্ত রোগীরা যেন সামাজিক কুসংস্কার, ছোঁয়াচে ভয় ও বৈষম্যের শিকার হয়ে পরিবারচ্যুত না হন, সেই লক্ষ্যে তাঁর নিরলস মানসিক ও সামাজিক সংগ্রাম চিকিৎসা খাতকে অতিক্রম করে এক মানবিক ও রূপান্তরকামী আন্দোলনে উন্নীত হয়েছে।

অন্যদিকে, শিক্ষা বিস্তার, সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের সুরক্ষা এবং ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর মানবাধিকার প্রতিষ্ঠায় ফাদার পিয়েত্রো লুইজি লুপি (যাঁকে এদেশের মানুষ ভালোবেসে ফাদার লুপি নামে ডাকেন) এক নীরব অথচ গভীর সামাজিক বিপ্লব ঘটিয়ে চলেছেন। ইতালীয় ক্যাথলিক সংঘ ‘জ্যভেরিয়ান ফাদার্স’ -এর সম্মানিত পুরোহিত এবং বাংলাদেশে এই সংঘের সাবেক আঞ্চলিক সুপিরিয়র হিসেবে তিনি দীর্ঘদিন নেতৃত্ব দিয়েছেন। এদেশের দরিদ্র, অসহায় ও জাতিগত সংখ্যালঘু মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠা ও তাঁদের শিক্ষার আলোয় আলোকিত করতে তাঁর অবদান চিরস্মরণীয়। বিশেষ করে সাতক্ষীরা ও খুলনা অঞ্চলের চরম অবহেলিত ও প্রান্তিক ‘দলিত’ সম্প্রদায়ের আর্থ-সামাজিক রূপান্তরে ফাদার লুপির দূরদর্শী ভূমিকা অসাধারণ। তাঁর নিরবচ্ছিন্ন উৎসাহ, দিকনির্দেশনা ও প্রত্যক্ষ সহায়তায় স্থানীয় দলিত যুবকরা উচ্চশিক্ষা অর্জনের সুযোগ পেয়েছেন এবং নিজেদের আইনি ও সামাজিক অধিকার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ‘দলিত’ নামক শক্তিশালী এনজিও গড়ে তুলতে সক্ষম হয়েছেন। কেবল গ্রামীণ প্রান্তিক জনগোষ্ঠীই নয়, ঢাকার তেজগাঁও রেলস্টেশন সংলগ্ন নোংরা ও বিপজ্জনক বস্তি এলাকার ছিন্নমূল শিশুরা যেন কঠোর শিশুশ্রম ও অপরাধের অন্ধকার জগতে না হারিয়ে শিক্ষার আলো পায়, তার জন্য তিনি সমন্বিত স্কুল ও ডে-কেয়ার সেন্টার পরিচালনা করেছেন। পাশাপাশি বান্দরবানের লামার মতো দুর্গম পাহাড়ি অঞ্চলের ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর শিশুদের শিক্ষাদানে তিনি নিজেকে যুক্ত রেখেছেন। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে কক্সবাজারে আশ্রয় নেওয়া অমানবিক পরিস্থিতির শিকার রোহিঙ্গা শরণার্থীদের খাদ্য, স্বাস্থ্য ও মানবিক সহায়তা সুনিশ্চিত করতে এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে তাঁদের আর্তপীড়িত কণ্ঠস্বর তুলে ধরতেও ফাদার লুপি নিবিড়ভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। অস্বচ্ছল শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষার জন্যেও তিনি আর্থিক সহায়তা প্রদান করেন।

বাংলাদেশে ইতালীয় মিশনারিদের এই নিঃস্বার্থ সেবা এবং প্রেমের ইতিহাস কেবল সাম্প্রতিক দশকগুলোর ঘটনাবলী নয়; এর রক্তের ও আত্মার শক্ত শেকড় প্রোথিত রয়েছে আমাদের ১৯৭১ সালের গৌরবময় মহান মুক্তিযুদ্ধে। পাকিস্তানি বাহিনীর পাশবিক বর্বরতা ও গণহত্যার মুখে জ্যভেরিয়ান এবং পিমে মিশনসমূহ -এর ইতালীয় পুরোহিতগণ নিজেদের গির্জা, মিশন ও আশ্রয়কেন্দ্রগুলোকে চরম প্রাণভয় উপেক্ষা করে এলাকার ভীত-সন্ত্র্যস্থ আপামর জনসাধারণের জন্য নিরাপদ আশ্রয়স্থানে পরিণত করেছিলেন। তাঁরা স্বাধীনতাকামী মানুষের পাশে পরম বন্ধুর মতো দাঁড়িয়েছিলেন। বিশেষভাবে ফাদার মারিনো রিগন আমাদের বানিয়ারচর ধর্মপল্লীতে আহত মুক্তিযোদ্ধাদের গোপন আশ্রয়ে রেখে চিকিৎসা দিয়েছেন ও নিরাপত্তা নিশ্চিৎ করেছেন। এই বীরত্বপূর্ণ মানবিক অবদান ও অকৃত্রিম বন্ধুত্বের ঐতিহাসিক স্বীকৃতিস্বরূপ ২০১২ সালে বাংলাদেশ সরকার জ্যভেরিয়ান মিশনারি ফাদার মারিনো রিগনকে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘মুক্তিযুদ্ধ মৈত্রী সম্মাননা’ প্রদান করে।

ফাদার মারিনো রিগন ছিলেন এদেশের ইতালীয় মিশনারিদের মধ্যে এক উজ্জ্বলতম নক্ষত্র। দীর্ঘ ৬০ বছরেরও বেশি সময় ধরে বাংলাদেশে অবস্থান করে তিনি শিক্ষা বিস্তার ও মানবসেবার পাশাপাশি বাংলা সাহিত্য ও সংস্কৃতিকে ভালোবেসেছিলেন আপন হৃদয়ে। বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং কবি জসীমউদ্দীনের বিখ্যাত সাহিত্যকর্ম ইতালি ভাষায় অনুবাদ করে তিনি বিশ্ব দরবারে বাঙলা সাহিত্যকে নতুন করে তুলে ধরেছিলেন। এ অসামান্য অবদানের জন্য ২০০৯ সালে বাংলাদেশ সরকার তাঁকে অনন্য সম্মানসূচক নাগরিকত্ব প্রদান করে। ২০১৭ সালে তিনি ইতালিতে মৃত্যুবরণ করলেও, তাঁর শেষ ইচ্ছা ছিল এই প্রিয় বাংলার মাটিতেই শায়িত হওয়ার। সেই আকুল ইচ্ছাকে সম্মান জানিয়ে ২০১৮ সালে বাংলাদেশ সরকারের বিশেষ ও ঐতিহাসিক উদ্যোগে তাঁর মরদেহ ইতালির রোম থেকে মোংলার শেলাবুনিয়া গ্রামে নিয়ে আসা হয়। সেখানে বাংলাদেশ পুলিশের একটি চৌকস দল তাঁকে গার্ড অব অনার প্রদান করে এবং সম্পূর্ণ রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় তাঁকে সমাহিত করা হয়।

এ ছাড়া উত্তরাঞ্চলের সাঁওতাল ও অন্যান্য ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর মানুষের আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন, ভূমি অধিকার ও শিক্ষার প্রসারে ফাদার পাওলো চিচেরি সহ বহু ইতালীয় পিমে মিশনারির ঐতিহাসিক ভূমিকা স্থানীয় প্রশাসন ও জাতীয় পর্যায়ে সবসময় ভূয়সী প্রশংসা লাভ করেছে। এই মহান ত্যাগের বার্তা শুধু সেবার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, এটি মূলত ধর্মীয় সম্প্রীতি ও মানবিক মেলবন্ধনের এক পরম শিক্ষা। বাংলাদেশের প্রথম কার্ডিনাল প্যাট্রিক ডি’রোজারিও সিএসসি যথার্থই মন্তব্য করেছেন যে, বিভিন্ন ধর্মের মানুষের মধ্যে পারস্পরিক অনাস্থা ও ভুল ধারণা দূর করতে খ্রিস্টানদের সম্প্রীতির সেতু হিসেবে কাজ করা অপরিহার্য। আন্তধর্মীয় সংলাপ ও প্রত্যক্ষ ভালোবাসার মাধ্যমে গড়ে ওঠা এই মানবিক সম্পর্কই সমাজকে সুন্দর ও শান্তিময় করে তুলতে পারে।

বর্তমানে বিশ্বজুড়ে যখন বৈশ্বিক মেরুকরণ, অর্থনৈতিক স্বার্থপরতা ও বর্ণবাদী অসহিষ্ণুতা বিস্তার লাভ করছে, ঠিক সেই সময়ে দাঁড়িয়ে এই ইতালীয় মিশনারিদের আত্মত্যাগী জীবন আমাদের নতুন করে শেখায় যে- প্রকৃত মানবধর্ম কোনো ভৌগোলিক সীমানা, জাতীয়তা বা প্রাতিষ্ঠানিক পরিচয়ে সীমাবদ্ধ থাকে না। সিস্টার রবার্টা ও ফাদার লুপির মতো দূরদর্শী সাধকেরা এদেশের স্বাস্থ্য ও সামাজিক রূপান্তর সূচকে যে নীরব অবদান রেখে চলছেন, তা বাংলাদেশ ও ইতালির মধ্যে দ্বিপাক্ষিক ও কূটনৈতিক সম্পর্কের মূল শক্তিস্বরূপ। এ সম্পর্ক কেবল ব্যবসা-বাণিজ্য বা রাজনীতির ওপর ভিত্তি করে গঠিত নয়, বরং এটি গঠিত হয়েছে রক্তের, মমতার ও নিঃস্বার্থ ভালোবাসার এক ইস্পাতকঠিন ভিতের ওপর। বাংলাদেশের এই নিভৃত আলো ছড়ানো বিদেশি বন্ধুদের প্রতি রাষ্ট্র, সমাজ ও এদেশের প্রতিটি সচেতন নাগরিকের বিনম্র শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা জানানো আমাদের নৈতিক দায়িত্ব।

নিকোলাস বিশ্বাস একজন মিডিয়া ফ্রিল্যান্সার এবং জাতিসংঘ জনসংখ্যা তহবিল মিডিয়া অ্যাওয়ার্ডপ্রাপ্ত লেখক