মঙ্গলবার, ৪ আগস্ট ২০২৬, ১৯ শ্রাবণ ১৪৩৩
মঙ্গলবার, ৪ আগস্ট ২০২৬, ১৯ শ্রাবণ ১৪৩৩

চব্বিশের জুলাই বিপ্লব: একাত্তরের অসমাপ্ত আকাক্সক্ষার তাত্ত্বিক পুনরুত্থান

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ৫ আগস্ট, ২০২৬, ১:১১ পূর্বাহ্ণ
চব্বিশের জুলাই বিপ্লব: একাত্তরের অসমাপ্ত আকাক্সক্ষার তাত্ত্বিক পুনরুত্থান

এড. সৈয়দ ইফতেখার আলী
২০২৪ সালের জুলাই বিপ্লব বাংলাদেশের রাজনৈতিক সমাজতাত্ত্বিক ইতিহাসে একটি অভূতপূর্ব এবং কাঠামোগত রূপান্তরকারী ঘটনা। এই অভ্যুত্থান কেবল একটি সরকারের পতন ছিল না, বরং এটি ছিল দীর্ঘ দেড় দশক ধরে গড়ে ওঠা একটি হাইব্রিড মাফিয়া রেজিম এর বিরুদ্ধে জনগণের পুঞ্জীভূত ক্ষোভের চূড়ান্ত বহিঃপ্রকাশ। রাষ্ট্রের আইন প্রয়োগকারী সংস্থা ও তৎকালীন শাসকদলের ক্যাডার বাহিনী কর্তৃক সাধারণ নাগরিকদের ওপর দীর্ঘদিনের নিপীড়ন, ভোটাধিকার হরণ এবং একাধিপত্যবাদী ‘হেজেমনি’ সমাজকে একটি গভীর রাজনৈতিক সংকটের দিকে ঠেলে দিয়েছিল। জেনারেশন জেড শিক্ষার্থীদের নেতৃত্বে শুরু হওয়া কোটা সংস্কার আন্দোলনটি দ্রুতই রাষ্ট্রের দমন যন্ত্রগুলোর সহিংসতার মুখে একটি পূর্ণাঙ্গ ফ্যাসিবাদের পতন আন্দোলনের রূপ নেয়। এই বিপ্লবের মূল চালিকাশক্তি ছিল মেধার অবমূল্যায়ন ও প্রাতিষ্ঠানিক বৈষম্যের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিরোধ এবং নাগরিক হিসেবে নিজেদের হারানো মানবিক মর্যাদা ও স্বাধীন মতপ্রকাশের অধিকার পুনরুদ্ধার করা।
এই আন্দোলনের মাস মোবিলাইজেশন বা সামাজিক গতিশীলতার চরিত্রটি ছিল সম্পূর্ণ সর্বজনীন এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক। তরুণ শিক্ষার্থীরা যখন রাজপথে নৈতিক প্রতিরোধের দেয়াল গড়ে তোলে, তখন তা সমাজের প্রতিটি স্তরের মানুষকে আলোড়িত করে। রিকশাচালক, তৈরি পোশাক শ্রমিক, মধ্যবিত্ত অভিভাবক, শিক্ষক থেকে শুরু করে আপামর জনতা দলমতের ঊর্ধ্বে উঠে ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে এক কাতারে শামিল হয়, যা ‘ইনক্লুসিভ সোশ্যাল মুভমেন্ট থিওরি’ বা অন্তর্ভুক্তিমূলক সামাজিক আন্দোলন তত্ত্বের একটি ক্ল্যাসিক্যাল উদাহরণ। রাষ্ট্রীয় হিংস্রতার মুখেও সাধারণ মানুষের এই অদম্য প্রতিরোধ মূলত রাষ্ট্রের সাথে নাগরিকের যে সামাজিক চুক্তি থাকার কথা, তার চরম লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে একটি স্বতঃস্ফূর্ত বিদ্রোহ ছিল। চব্বিশের এই তরুণ সমাজ প্রমাণ করেছে যে, বন্দুকের নল বা ভয়ের সংস্কৃতি দিয়ে একটি সচেতন জনসমষ্টির গণতান্ত্রিক আকাঙ্ক্ষাকে চিরতরে দমন করে রাখা অসম্ভব।
চব্বিশের এই ঐতিহাসিক বিপ্লবের গভীর রাজনৈতিক ও আদর্শিক শিকড় সন্ধান করতে গেলে আমাদের অনিবার্যভাবে ফিরে যেতে হয় ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের মূল স্পিরিটের কাছে। ২০২৪ সালের জুলাই বিপ্লব কোনো বিচ্ছিন্ন ঐতিহাসিক ঘটনা নয়, বরং এটি ১৯৭১ সালের অসমাপ্ত গণতান্ত্রিক ও মানবিক মর্যাদা প্রতিষ্ঠার আন্দোলনেরই একটি ঐতিহাসিক ধারাবাহিকতা। ১৯৭১ সালের স্বাধীনতার ঘোষণাপত্রে তিনটি মূল নীতি ঘোষণা করা হয়েছিল—সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক ন্যায়বিচার। তৎকালীন পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী পূর্ব পাকিস্তানের জনগণের ওপর যে চরম অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক ও চাকরি ক্ষেত্রে বৈষম্য চাপিয়ে দিয়েছিল, তার বিরুদ্ধে লড়াই করেই বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছিল। কিন্তু দুঃখজনকভাবে, স্বাধীনতার পরবর্তী দশকগুলোতে এবং বিশেষ করে বিগত ১৫ বছরে, সেই স্বাধীনতার চেতনাকেই রাজনৈতিক হাতিয়ার বানিয়ে দেশে একটি নতুন ধরনের ফ্যাসিবাদের জন্ম দেওয়া হয়েছিল, যেখানে সাধারণ নাগরিকেরা আবার বৈষম্য ও বঞ্চনার শিকার হয়।
ফলে, ২০২৪ সালের জুলাই বিপ্লবের সাথে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের আকাঙ্ক্ষার মিলটি অত্যন্ত প্রাতিষ্ঠানিক ও তাত্ত্বিক। একাত্তরে বাঙালি জাতি যেভাবে একটি ঔপনিবেশিক মানসিকতাসম্পন্ন সামরিক জান্তার বিরুদ্ধে নিজেদের ভোটাধিকার ও আত্মনিয়ন্ত্রণাধিকারের জন্য লড়াই করেছিল, চব্বিশের ছাত্র-জনতাও ঠিক একইভাবে একটি স্বৈরাচারী ব্যবস্থার অবসান ঘটিয়ে জনগণের রাজনৈতিক কর্তৃত্ব ও ভোটাধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠার জন্য লড়াই করেছে। উভয় আন্দোলনেই ছাত্র ও তরুণ সমাজ রাজনৈতিক ভ্যানগার্ড হিসেবে কাজ করেছে এবং সাধারণ মানুষকে স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে রাস্তায় নেমে আসার নৈতিক শক্তি জুগিয়েছে। একাত্তরে যা ছিল ভৌগোলিক ও সার্বভৌম স্বাধীনতা অর্জনের লড়াই, চব্বিশে এসে তা রূপ নিয়েছে রাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ ফ্যাসিজম থেকে মুক্তি এবং রাষ্ট্র পুনর্গঠনের লড়াইয়ে। চব্বিশের জুলাই বিপ্লব একাত্তরের সেই মূল স্পিরিট—অর্থাৎ প্রকৃত সাম্য ও ন্যায়বিচারের আদর্শ দিয়েই একাত্তরের চেতনাকে অপব্যবহার করে প্রতিষ্ঠিত ফ্যাসিজমের পতন ঘটিয়েছে এবং রাষ্ট্রকে জনগণের সামগ্রিক কল্যাণের একটি প্রকৃত গণতান্ত্রিক কাঠামো হিসেবে পুনর্র্নিমাণের নতুন পথ দেখিয়েছে। এ সুযোগকে আর হারানো যাবে না। এখনই সময় তারেক রহমানের সুযোগ্য নেতৃত্বে মহান জুলাই ও স্বাধীনতার সাম্য, সামাজিক মর্যাদা ও ন্যায়বিচারের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে সকল ফ্যাসিস্ট, স্বাধীনতা বিরোধী ও মৌলবাদী শক্তির বিরুদ্ধে জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করে সামনে এগিয়ে যাওয়ার। লেখক: এড. সৈয়দ ইফতেখার আলী, সাবেক আহ্বায়ক, সাতক্ষীরা জেলা বিএনপি

 

Ads small one

ঢাকায় নির্মাণাধীন ভবন থেকে পড়ে সাতক্ষীরার এক ব্যক্তির মৃত্যু

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ৫ আগস্ট, ২০২৬, ১২:২৭ পূর্বাহ্ণ
ঢাকায় নির্মাণাধীন ভবন থেকে পড়ে সাতক্ষীরার এক ব্যক্তির মৃত্যু

 

পত্রদূত রিপোর্ট: রাজধানী ঢাকায় একটি নির্মাণাধীন ভবনের তিনতলা থেকে নিচে পড়ে মো. মোজাফফর হোসেন (৪৮) নামের এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত মোজাফফর হোসেন সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ফিংড়ি ইউনিয়নের গোবরদাড়ি গ্রামের আব্দুল ওয়াদুদের (ওয়াদুদ আমিন) ছেলে।
পারিবারিক ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বুধবার (৫ আগস্ট) সকাল ১০টায় সাতক্ষীরার গোবরদাড়ি গ্রামে নিহতের নিজ বাসভবনে তাঁর জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। মোজাফফর হোসেনের এমন আকস্মিক মৃত্যুতে পরিবার, আত্মীয়স্বজন ও এলাকাবাসীর মধ্যে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

 

 

 

 

 

 

আশাশুনিতে জন্মাষ্টমী পালনে পূজা উদযাপন ফ্রন্টের প্রস্তুতি সভা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ৫ আগস্ট, ২০২৬, ১২:২৬ পূর্বাহ্ণ
আশাশুনিতে জন্মাষ্টমী পালনে পূজা উদযাপন ফ্রন্টের প্রস্তুতি সভা

আশাশুনি প্রতিনিধি: বাংলাদেশ পূজা উদযাপন ফ্রন্ট আশাশুনি উপজেলা শাখার আয়োজনে ২০২৬ সালের শ্রীকৃষ্ণের জন্মাষ্টমী পালন উপলক্ষে প্রস্তুতিমূলক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) আশাশুনি বাজার কালীমন্দিরে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
পূজা উদযাপন ফ্রন্টের উপজেলা সভাপতি তুষার কান্তি ঘোষের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক প্রীতিষ রায়ের সঞ্চালনায় সভায় সংগঠনের বিভিন্ন ইউনিয়নের দায়িত্বশীল নেতারা অংশ নেন।
সবাই ঐক্যবদ্ধভাবে আগামী জন্মাষ্টমীতে শোভাযাত্রা ও সদর পরিষদ প্রাঙ্গণে আলোচনা সভা আয়োজনের সিদ্ধান্ত নেন। পাশাপাশি আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজা শান্তিপূর্ণ ও আনন্দমুখর পরিবেশে উদযাপনের জন্য প্রাথমিক প্রস্তুতিমূলক বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হয়।

শ্যামনগরে ৩২টি জব্দকৃত চায়না দুয়ারি জাল পুড়িয়ে ধ্বংস

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ৫ আগস্ট, ২০২৬, ১২:২১ পূর্বাহ্ণ
শ্যামনগরে ৩২টি জব্দকৃত চায়না দুয়ারি জাল পুড়িয়ে ধ্বংস

সুন্দরবনাঞ্চল (শ্যামনগর) প্রতিনিধি: শ্যামনগর উপজেলার বিভিন্ন খাল ও বিলে অভিযান চালিয়ে ৩২টি নিষিদ্ধ চায়না দুয়ারি জাল জব্দ করেছে উপজেলা মৎস্য দপ্তর। মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) বিকেলে জব্দকৃত এসব জাল ধুমঘাট আদর্শ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সামনে জনসম্মুখে আগুনে পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়।

মঙ্গলবার বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে উপজেলার ঈশ্বরীপুর ইউনিয়নের ধূমঘাট শীলতলা বিল, মঠেরচক বিল ও সংলগ্ন খালে এ বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়।

শ্যামনগর সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. তৌহিদ হাসানের নির্দেশনায় অভিযানে নেতৃত্ব দেন মৎস্য অফিসের ফিল্ড অ্যাসিস্ট্যান্ট মো. মুজিবর রহমান, বিশ্বজিৎ ম-ল ও সুকুমার। এ সময় স্থানীয় ইউপির গ্রাম পুলিশ, গ্রীন কোয়ালিশন, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবী অ্যাসোসিয়েশনের সদস্য ও স্থানীয় এলাকাবাসী অভিযানে সার্বিক সহায়তা করেন।
সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. তৌহিদ হাসান জানান, চায়না দুয়ারি জাল সম্পূর্ণরূপে নিষিদ্ধ। এ ধরনের অতিসূক্ষ্ম জাল ব্যবহারের ফলে দেশীয় মাছের প্রজনন ও জলজ জীববৈচিত্র্য চরম ক্ষতির মুখে পড়ছে। দেশীয় মাছের বংশবৃদ্ধি ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে শ্যামনগরের সব এলাকায় নিষিদ্ধ জালের বিরুদ্ধে এমন অভিযান অব্যাহত থাকবে।