রবিবার, ২৪ মে ২০২৬, ১০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
রবিবার, ২৪ মে ২০২৬, ১০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

চলে গেলেন রণাঙ্গনের বীর মুক্তিযোদ্ধা আতিয়ার রহমান গদাই

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ২৪ মে, ২০২৬, ৯:৫০ অপরাহ্ণ
চলে গেলেন রণাঙ্গনের বীর মুক্তিযোদ্ধা আতিয়ার রহমান গদাই

নিজস্ব প্রতিনিধি: মহান মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম বীর সেনানী ও পাক বাহিনীর বিরুদ্ধে সম্মুখ যুদ্ধের দুঃসাহসী নায়ক আতিয়ার রহমান গদাই আর নেই। রবিবার সকাল ছয়টার দিকে সাতক্ষীরার দেবহাটা উপজেলার পারুলিয়াস্থ নিজস্ব বাসভবনে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। গত কয়েক মাস ধরে তিনি বার্ধক্যজনিত ও শারীরিক অসুস্থতায় ভুগছিলেন।

 

মৃত্যুকালে তিনি তিন ছেলেসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। তাঁর বড় ছেলে তাহজ্জত হোসেন হিরু একজন ব্যাংক কর্মকর্তা, মেজো ছেলে সাহাদাৎ হোসেন হিরু বিসিএস ক্যাডার (আনসার ব্যাটালিয়ন কমান্ডার) এবং ছোট ছেলে মিথুন একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত আছেন। বাদ আসর জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় তাঁর দাফন সম্পন্ন হয়।

পারিবারিক ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, পারুলিয়ার মৃত এজাহার আলী সরদারের কনিষ্ঠ পুত্র আতিয়ার রহমান এলাকায় ‘গদাই’ নামে সমধিক পরিচিত ছিলেন। সব ধরনের বিতর্কের ঊর্ধ্বে থাকা এই মানুষটি আজীবন সাধারণ জীবনযাপন করেছেন এবং দানশীলতার জন্য সুপরিচিত ছিলেন। তরুণ বয়স থেকেই অভাবী ও অসহায় মানুষকে আর্থিক ও খাদ্য সহায়তা দেওয়া ছিল তাঁর মানবিক স্বভাব।

তাঁর মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় সর্বস্তরের মানুষের মাঝে শোকের ছায়া নেমে আসে। রণাঙ্গনের সহযোদ্ধা ও দেবহাটা উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার আব্দুল বারী মোল্ল্যা গভীর শোক প্রকাশ করে বলেন, “গদাই চাচা ছিলেন অসীম সাহসী ও দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ এক বজ্রকঠিন ব্যক্তিত্ব। ১৯৭১ সালে দেশের টানে কাউকে না জানিয়ে আমাদের নিয়ে তিনি সীমান্ত পাড়ি দেন এবং ভারতের বিহার, দেরাদুন ও হাবলঙে প্রশিক্ষণ নেন। সাতক্ষীরা ও দেবহাটার একাধিক সম্মুখ যুদ্ধে তিনি জীবনপণ লড়েছেন। একবার যুদ্ধের মাঠে গুলি ফুরিয়ে গেলে তিনি এক পাকিস্তানি সেনাকে অস্ত্রসহ জাপটে ধরে বন্দি করেছিলেন। তাঁর এই বীরত্ব বহু মুক্তিযোদ্ধার প্রাণ বাঁচিয়েছিল।”

দেশ স্বাধীন হওয়ার পর আতিয়ার রহমান গদাই জাসদের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত হন। তিনি বীর উত্তম মেজর জলিল, আ স ম আবদুর রব এবং তাত্ত্বিক নেতা সিরাজুল আলম খানের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ ছিলেন। সাতক্ষীরায় ক্যাপ্টেন শাহজাহান মাস্টারের সহযোগী হিসেবে জাসদ গঠনে তিনি অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন এবং সমাজতান্ত্রিক ভাবধারায় উদ্বুদ্ধ হন।

 

রাজনৈতিক কারণে একাত্তর-পরবর্তী বিভিন্ন সরকারের সময়ে তিনি নানাভাবে রাজনৈতিক নিপীড়নের শিকারও হয়েছিলেন। এই বীর মুক্তিযোদ্ধার প্রয়াণে স্থানীয় সামাজিক, রাজনৈতিক ও বীর মুক্তিযোদ্ধা সংগঠনগুলো গভীর শোক প্রকাশ করেছে এবং তাঁর শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছে।

 

Ads small one

প্রাথমিক শিক্ষা পদকে শ্যামনগরের শ্রেষ্ঠ প্রধান শিক্ষক বাবুলাল, শ্রেষ্ঠ স্কুল খ্যাগড়াদানা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ২৫ মে, ২০২৬, ১:০৩ পূর্বাহ্ণ
প্রাথমিক শিক্ষা পদকে শ্যামনগরের শ্রেষ্ঠ প্রধান শিক্ষক বাবুলাল, শ্রেষ্ঠ স্কুল খ্যাগড়াদানা

সুন্দরবনাঞ্চল (শ্যামনগর) প্রতিনিধি: চলতি বছরের প্রাথমিক শিক্ষা পদক প্রতিযোগিতায় শ্যামনগর উপজেলায় শ্রেষ্ঠ প্রধান শিক্ষক (পুরুষ) নির্বাচিত হয়েছেন ১৪ নম্বর চিংড়াখালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বাবুলাল মিস্ত্রী। একই সাথে উপজেলার শ্রেষ্ঠ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় হিসেবে নির্বাচিত হয়েছে ৯১ নম্বর খ্যাগড়াদানা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়।
উপজেলা শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, ২০২৬ সালের প্রাথমিক শিক্ষা পদকের তালিকায় অন্যান্য ক্যাটাগরিতে নির্বাচিতরা হলেনÑশ্রেষ্ঠ সহকারী শিক্ষক (পুরুষ) মো. আমিনুর রহমান (১৩ নং হায়বাতপুর মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়), শ্রেষ্ঠ সহকারী শিক্ষক (মহিলা) নাসরিন আক্তার (৯১ নং খ্যাগড়াদানা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়)।
এছাড়া শ্রেষ্ঠ সহকারী উপজেলা শিক্ষা অফিসার মো. শাহীন হোসেন, শ্রেষ্ঠ কাব শিক্ষক (পুরুষ) মো. সুমন আহমেদ, শ্রেষ্ঠ কাব শিক্ষক (মহিলা) সেলিনা খাতুন এবং শ্রেষ্ঠ কর্মচারী হিসেবে মো. খায়রুল আলম নির্বাচিত হয়েছেন। উপজেলা শিক্ষা অফিসার এনামুল হক জানান, সরকারি নিয়মানুযায়ী গঠিত কমিটির চূড়ান্ত যাচাই-বাছাই শেষে এই তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে।

আইলার ১৬ বছর: লোনা পানি আর স্বজন হারানোর ক্ষত আজও শুকায়নি উপকূলে

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ২৫ মে, ২০২৬, ১২:৫৯ পূর্বাহ্ণ
আইলার ১৬ বছর: লোনা পানি আর স্বজন হারানোর ক্ষত আজও শুকায়নি উপকূলে

নাজমুল শাহাদাৎ (জাকির): আজ ভয়াল ২৫ মে। ২০০৯ সালের এই দিনে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিম উপকূলে আঘাত হেনেছিল শতাব্দীর অন্যতম প্রলয়ঙ্করী ঘূর্ণিঝড় ‘আইলা’। দেখতে দেখতে দীর্ঘ ১৬টি বছর পার হয়ে গেলেও সাতক্ষীরার শ্যামনগর ও আশাশুনির জীর্ণ বেড়িবাঁধ আর লোনা পানির গ্রাসে থাকা লাখো মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন ঘটেনি। লোনা পানির আগ্রাসন, সুপেয় পানির তীব্র সংকট আর স্বজন হারানোর ক্ষত নিয়ে এখনো মানবেতর জীবনযাপন করছেন উপকূলীয় এই জনপদের বাসিন্দারা।

২০০৯ সালের ২৫ মে আইলার প্রভাবে ১৪-১৫ ফুট উচ্চতার আকস্মিক জলোচ্ছ্বাসে মুহূর্তেই ল-ভ- হয়ে গিয়েছিল সাতক্ষীরার উপকূল। ভেসে গিয়েছিল মানুষ, গবাদিপশু আর ঘরবাড়ি। সরকারি হিসাব অনুযায়ী, সে সময় সাতক্ষীরায় ৭৩ জন নিহত, দুই শতাধিক আহত এবং প্রায় ৬ লাখ মানুষ আশ্রয়হীন হয়ে পড়েছিল। ১৬ বছর পর সরকারি নথির সেই পরিসংখ্যানের হিসাব মিললেও, উপকূলের মানুষের প্রাত্যহিক জীবনের বাস্তব চিত্রটা বদলায়নি একটুও।

শ্যামনগরের দ্বীপ ইউনিয়ন গাবুরার ৯ নম্বর সোরা গ্রামের মাজেদ শেখের পরিবারের কাছে আইলার স্মৃতি আজও এক জীবন্ত নরক। জলোচ্ছ্বাসের তোড়ে নৌকাডুবিতে তিনি তিন মেয়ে ও গর্ভবতী পুত্রবধূসহ পরিবারের ছয়জনকে হারান। চারজনের মরদেহ উদ্ধার করা সম্ভব হলেও, দুজনের খোঁজ আর কোনোদিন মেলেনি। স্বজন হারানোর সেই ধাক্কা আজও কাটিয়ে উঠতে পারেননি মাজেদ শেখ ও তাঁর স্ত্রী আমেনা খাতুন। একটি জীর্ণ খড়ের কুঁড়েঘরে কাটছে তাঁদের জীবন। সামান্য বৃষ্টিতেই ঘরের ভেতর পানি জমে কাদার সৃষ্টি হয়। পুনর্বাসন আর স্বাস্থ্যকর স্যানিটেশনের সরকারি-বেসরকারি শত প্রতিশ্রুতি থমকে গেছে তাঁদের মাত্র এক ফুট উঁচু, তালপাতার বেড়া দিয়ে তৈরি ব্যবহারের একমাত্র টয়লেটের কাছেই।

একই এলাকার সালমা খাতুনের গল্পটি আরও মর্মস্পর্শী। জলোচ্ছ্বাস শুরু হলে পরিবারের ১৯ জনকে নিয়ে নৌকায় উঠেছিলেন তাঁরা। কিন্তু মাঝনদীতে প্রচ- স্রোতে নৌকাটি উল্টে গেলে মুহূর্তেই প্রাণ হারান পরিবারের ১১ জন। প্রচ- স্রোতের মধ্যে পিঠে বড় মেয়ে আর কোলে দুধের শিশুকে নিয়ে টানা তিন ঘণ্টা পানিতে ভেসেছিলেন সালমা। বড় মেয়েকে বাঁচাতে পারলেও তাঁর চোখের সামনে লোনা পানি আর ঠান্ডায় নিথর হয়ে যায় কোলের শিশুটি। ১৬ বছর পরও মে মাস এলেই সেই নদী, স্রোত আর সন্তানের শেষ মুহূর্তের আকুতি তাড়া করে ফেরে সালমাকে।

আইলা-পরবর্তী দিনগুলোর স্মৃতি আজও এই জনপদের মানুষকে শিউরে তোলে। চারিদিকে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে ছিল লাশ। অনেকের শরীর এতটাই পচে গিয়েছিল যে শেষ গোসলটুকু পর্যন্ত করানো সম্ভব হয়নি। বস্তায় ভরে, বাঁশের খুঁটির সঙ্গে বেঁধে কাদার ভেতরেই দাফন করা হয়েছিল অনেককে।

১৬ বছর পার হলেও এই জনপদের মানুষ পুরোপুরি ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি। স্থানীয় সংকটের পাশাপাশি এখন বড় হয়ে উঠেছে জলবায়ু পরিবর্তনের দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব। লবণপানির দীর্ঘস্থায়ী উপস্থিতিতে নষ্ট হয়ে গেছে বিস্তীর্ণ কৃষিজমি, কমেছে কর্মসংস্থান এবং তীব্র আকার ধারণ করেছে সুপেয় পানির সংকট।

প্রতি বছরই টেকসই বাঁধের নামে কোটি কোটি টাকার বাজেট ও বরাদ্দ থাকলেও উপকূলের মানুষের ভাগ্য বদলানোর মতো স্থায়ী কোনো সমাধান এখনো মাঠপর্যায়ে দৃশ্যমান হয়নি। তবে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) বলছে, উপকূলজুড়ে জলবায়ু সহনশীল ও স্থায়ী বেড়িবাঁধ নির্মাণের কাজ চলছে।

সাতক্ষীরা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আশরাফুল আলম জানান, দীর্ঘ সময় পর এবার গাবুরাতে স্থায়ী বেড়িবাঁধ নির্মাণের কাজ মাঠপর্যায়ে চলমান রয়েছে। তবে বছরের পর বছর ধরে চলা এই ধীরগতির উন্নয়ন উপকূলের মানুষের লোনা পানির আতঙ্ক পুরোপুরি দূর করতে পারছে না। আইলার দীর্ঘ ১৬ বছর পেরিয়ে গেলেও মাজেদ শেখের নিখোঁজ সন্তানদের শেষ দাফনটুকু করতে না পারার আফসোস কিংবা সালমা খাতুনদের বুকের ভেতর জমে থাকা দীর্ঘশ্বাস আজও মুছতে পারেনি কোনো উদ্যোগ। উপকূলাবাসীর একটাই দাবি—ত্রাণ বা অনুদান নয়, তাঁরা বাঁচতে চান একটি স্থায়ী ও টেকসই বেড়িবাঁধের নিরাপত্তা নিয়ে।

দেবহাটার কুলিয়া বাজারে মাদকের বিস্তার, বাড়ছে চুরি ও আতঙ্ক

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ২৫ মে, ২০২৬, ১২:৫৮ পূর্বাহ্ণ
দেবহাটার কুলিয়া বাজারে মাদকের বিস্তার, বাড়ছে চুরি ও আতঙ্ক

 

কুলিয়া (দেবহাটা) প্রতিনিধি: দেবহাটা উপজেলার কুলিয়া বাজার ও এর আশপাশের এলাকাগুলোতে মাদক বেচাকেনা ও মাদকসেবীদের দাপট আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। মাদকের টাকা জোগাড় করতে গিয়ে এলাকায় দিন-রাত সমানতালে ঘটছে চুরির ঘটনা। এতে স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের মাঝে তীব্র ক্ষোভ ও আতঙ্ক বিরাজ করছে।
স্থানীয় বাসিন্দা ও ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, কুলিয়া বাজারকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে একটি চিহ্নিত মাদক সিন্ডিকেট সক্রিয় রয়েছে। সেখানে দিন-রাত অবাধে চলছে মাদক কেনাবেচা ও সেবন। উঠতি বয়সের যুবকসহ বিভিন্ন বয়সী মানুষ এই মরণনেশায় আসক্ত হয়ে পড়ছে। আর এই নেশার টাকা জোগাড় করতে মাদকসেবীরা চুরিকে পেশা হিসেবে বেছে নিয়েছে।
ব্যবসায়ীরা জানান, কুলিয়া বাজার এলাকায় এখন কোনো কিছুই নিরাপদ নয়। সুযোগ পেলেই দোকানের তালা ভেঙে, বাসাবাড়ির জানালা গলিয়ে মোবাইল ফোন, নগদ টাকা, বাইসাইকেল, দোকানের মালামাল, এমনকি গৃহপালিত পশু ও গাছের ফল পর্যন্ত চুরি হয়ে যাচ্ছে। রাতের আঁধারে তো বটেই, দিনের বেলাতেও মানুষ একটু অসতর্ক হলেই চুরির ঘটনা ঘটছে। বিশেষ করে দুপুরের দিকে দোকান বন্ধ থাকার সময় পাহারাদার না থাকায় চুরির উপদ্রব বেশি হয়।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, বাজার কমিটির নির্দেশ অমান্য করে মধ্যরাত পর্যন্ত কিছু দোকানপাট খোলা রাখার সুযোগে এই অপরাধী চক্রটি বাজারে অবাধে বিচরণ করে। দিনের বেলা কুলিয়া মৎস্য শেড বন্ধ হওয়ার পর রাতে সেখানে বসে মোবাইল জুয়া ও মাদকের আসর। এছাড়া বাজারের শহীদ মিনারের পাশের পরিত্যক্ত দোকান, দোতলা মার্কেটের আন্ডারগ্রাউন্ডের পরিত্যক্ত স্থান, চার রাস্তার মোড়ের যাত্রী ছাউনি এবং কুলিয়া ব্রিজের নিচের অংশকে মাদক চক্রটি নিয়মিত আড্ডাখানা হিসেবে ব্যবহার করছে।
বাজারে নৈশপ্রহরী থাকলেও এই চক্রের সদস্যদের উগ্রতার কাছে তারা অসহায়। প্রায়ই নৈশপ্রহরীদের সঙ্গে এই চক্রের সদস্যদের বাকবিত-ায় লিপ্ত হতে দেখা যায়। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক স্থানীয় বাসিন্দা জানান, অপরাধীরা স্থানীয় হওয়ায় এবং তাদের হুমকি-ধমকির ভয়ে কেউ মুখ খোলার সাহস পান না। ফলে অনেকেই আর্থিক ক্ষতি সহ্য করেও নীরব থাকছেন।
স্থানীয় সচেতন মহল ও ব্যবসায়ীদের মতে, এলাকায় মাদক ব্যবসা পুরোপুরি বন্ধ করা না গেলে এই চুরির সিন্ডিকেট ভাঙা সম্ভব নয়। তাঁরা অবিলম্বে কুলিয়া বাজার ও আশপাশের এলাকায় পুলিশি টহল জোরদার করার দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে মাদকের মূল আস্তানাগুলোতে দ্রুত অভিযান চালিয়ে অপরাধীদের আইনের আওতায় আনতে সাতক্ষীরা জেলা পুলিশ ও দেবহাটা থানা প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।