মঙ্গলবার, ১১ আগস্ট ২০২৬, ২৬ শ্রাবণ ১৪৩৩
মঙ্গলবার, ১১ আগস্ট ২০২৬, ২৬ শ্রাবণ ১৪৩৩

চাঁদাবাজির মামলায় জামায়াত নেতা হাজী নজরুল ও সহযোগী কারাগারে

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ১০ আগস্ট, ২০২৬, ৭:১৫ অপরাহ্ণ
চাঁদাবাজির মামলায় জামায়াত নেতা হাজী নজরুল ও সহযোগী কারাগারে

পত্রদূত ডেস্ক: সাতক্ষীরার শ্যামনগরে জাইকার অর্থায়নে পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ নির্মাণ প্রকল্পে চাঁদাবাজি, হামলা ও কাজ বন্ধ করে দেওয়ার অভিযোগে করা মামলায় জামায়াত নেতা ও বুড়িগোয়ালিনী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হাজী মো. নজরুল ইসলাম এবং তার সহযোগী বিশ্বজিৎ মন্ডলকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত।

সোমবার (১০ আগস্ট) সাতক্ষীরার আদালতে হাজির হয়ে তারা জামিনের আবেদন করেন। শুনানি শেষে চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. সাইদুর রহমান তাদের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

মামলার বাদীপক্ষের আইনজীবী পবিত্র কুমার বলেন, বাদীপক্ষে অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর (এপিপি) সিরাজুল ইসলাম, আইনজীবী শেখ আবদুল খালেক ও নির্মল জোয়াদ্দার আদালতে শুনানি করেন। তারা আদালতে বলেন, আসামিরা সরকারি প্রকল্পের কাজে চাঁদাবাজির সঙ্গে জড়িত। তারা জামিনে বাইরে থাকলে সরকারি কাজ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে আদালত তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

এর আগে উচ্চ আদালত থেকে হাজী মো. নজরুল ইসলাম ও তার সহযোগী ছয় সপ্তাহের জামিনে ছিলেন। জামিনের মেয়াদ শেষে সোমবার তারা সাতক্ষীরার আদালতে হাজির হয়ে পুনরায় জামিনের আবেদন করেন। আদালত সেই আবেদন নামঞ্জুর করে তাদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

এদিকে, আদালত চত্বরে নজরুল ইসলামের ছবি নিতে গেলে সাংবাদিকদের ক্যামেরা ও মোবাইল ফোন ফেলে দেন তার ছোট ছেলে সাইফুল ইসলাম।

গত ২৫ মে রাতে শ্যামনগর থানায় জাইকার অর্থায়নে পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ নির্মাণ প্রকল্পে চাঁদাবাজি, হামলা ও কাজ বন্ধ করে দেওয়ার অভিযোগে মামলাটি করেন প্রকল্প বাস্তবায়নকারী প্রতিষ্ঠান আর-রাদ করপোরেশনের আইন কর্মকর্তা মো. জালাল উদ্দিন।

মামলায় প্রধান আসামি করা হয় বুড়িগোয়ালিনী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও শ্যামনগর উপজেলা জামায়াতের কর্মপরিষদ ও শুরা সদস্য হাজী মো. নজরুল ইসলামকে। মামলায় তার ছেলে আব্দুর রহমান, স্থানীয় বিশ্বজিৎ মন্ডলসহ আরও কয়েকজনের নাম উল্লেখ করা হয়। অজ্ঞাতনামা আরও ২০ থেকে ২৫ জনকে আসামি করা হয়।

মামলার এজাহার অনুযায়ী, শ্যামনগরের পূর্ব দুর্গাবাটি এলাকায় জাইকার অর্থায়নে পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা নিয়ন্ত্রণ বেড়িবাঁধ নির্মাণকাজ বাস্তবায়ন করছে ডিএল-উন্নয়ন (জেভি) ও ডকইয়ার্ড অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কস লিমিটেডের পক্ষে আর-রাদ করপোরেশন। অভিযোগ করা হয়, গত বছরের আগস্ট থেকে প্রকল্পসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের কাছে চাঁদা দাবি এবং কাজ বন্ধের জন্য চাপ দেওয়া হচ্ছিল।

এজাহারে আরও অভিযোগ করা হয়, চাঁদা না দেওয়ায় গত ১৪ এপ্রিল থেকে প্রকল্পের কাজ কার্যত বন্ধ হয়ে যায়। পরে গত ১৯ মে রাতে প্রকল্প এলাকায় গিয়ে হাজী নজরুল ইসলাম ১৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন এবং কাজ চালিয়ে গেলে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের হত্যার হুমকি দেন।

এরপর ২৩ মে দুপুরে হাজী নজরুল ইসলাম, তার ছেলে আব্দুর রহমানসহ কয়েকজন প্রকল্প এলাকায় গিয়ে প্রকৌশলী জাহিদ হাসানকে মারধর করেন বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়। তাকে বাধা দিতে গেলে কিউরিং ম্যান ফেরদৌসকেও মারধরের অভিযোগ রয়েছে। এ সময় প্রকৌশলী জাহিদের একটি অ্যাপল স্মার্টওয়াচ ও মানিব্যাগ নিয়ে যাওয়ার অভিযোগও করা হয়।

মামলার বাদীর দাবি, পুরো ঘটনা প্রকল্প এলাকার সিসিটিভি ক্যামেরায় ধারণ হয়েছে। হামলায় আহত জাহিদ হাসান ও ফেরদৌসকে শ্যামনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হয়।
তবে শুরু থেকেই এসব অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন হাজী মো. নজরুল ইসলাম। তার দাবি, তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ মিথ্যা, বানোয়াট ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। হামলার অভিযোগের সময় তিনি ইউনিয়ন পরিষদের বাজেট অধিবেশনে ছিলেন বলেও দাবি করেন তিনি।

প্রকল্পসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, বর্ষার আগে বাঁধ নির্মাণকাজ শেষ করা না গেলে উপকূলীয় বিস্তীর্ণ এলাকা ঝুঁকিতে পড়তে পারে। এ কারণে প্রকল্পটি নির্বিঘ্নে বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
আসামিপক্ষে আইনজীবী ছিলেন এড. সৈয়দ ইফতেখার আলী ও এড. আবু বক্কর।

 

Ads small one

আশাশুনিতে মোটরসাইকেলসহ ভারতীয় শাড়ি ও চোরাকারবারি আটক

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ১২ আগস্ট, ২০২৬, ১২:২৩ পূর্বাহ্ণ
আশাশুনিতে মোটরসাইকেলসহ ভারতীয় শাড়ি ও চোরাকারবারি আটক

আশাশুনি প্রতিনিধি: আশাশুনিতে অভিযান চালিয়ে ৩০ পিস ভারতীয় শাড়ি ও একটি মোটরসাইকেলসহ এক চোরাকারবারিকে আটক করেছে পুলিশ। সোমবার রাতে আশাশুনি সদর থেকে মালামালসহ তাঁকে আটক করা হয়। মঙ্গলবার সকালে আসামিকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। আটক ব্যক্তির নাম রেজাউল ইসলাম। তিনি কালিগঞ্জ উপজেলার মৃত আনসার আলীর ছেলে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে আশাশুনি গ্রামস্থ চেয়ারম্যান বাড়ি মোড়ের (গাছতলা মোড়) বড়দলগামী রাস্তায় তল্লাশিচৌকি বসায় পুলিশ। এ সময় একটি লাল-কালো রঙের এক্স ব্লেড ১৬০ সিসি মোটরসাইকেল পৌঁছালে পুলিশ সেটিকে থামার সিগন্যাল দেয়। মোটরসাইকেল আরোহী পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে সঙ্গীয় ফোর্সের সহায়তায় তাঁকে আটক করা হয়।
পরে বস্তা তল্লাশি করে প্রায় ৪৬ হাজার ৮০০ টাকা মূল্যের ১২টি ভারতীয় বেনারসি, ২টি জর্জটে, ১০টি কাতান ও ৬টি সিল্কের শাড়ি জব্দ করা হয়। উদ্ধারকৃত মালপত্রসহ আনুমানিক দুই লাখ টাকা মূল্যের ব্যবহৃত মোটরসাইকেলটিও বাজেয়াপ্ত করে পুলিশ।

 

এক দলিলের সার্টিফাইড কপিতে দুই রকম তথ্য, সাব-রেজিস্ট্রারের শাস্তির আশ্বাস

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ১২ আগস্ট, ২০২৬, ১২:২১ পূর্বাহ্ণ
এক দলিলের সার্টিফাইড কপিতে দুই রকম তথ্য, সাব-রেজিস্ট্রারের শাস্তির আশ্বাস

জয়নগর (কলারোয়া) প্রতিনিধি: কলারোয়া সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে নিবন্ধিত একটি কোবালা দলিলের দুটি সার্টিফাইড কপিতে জমির পরিমাণে গরমিল ও ভিন্ন তথ্য দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। জানা গেছে, মানিকনগর গ্রামের আব্দুর রহমান তার পৈতৃক জমির (দলিল নং ৩৪৮৩/২৫) ২.৮৩ শতক ও ৪.৮০ শতকসহ মোট ৭.৬৩ শতক জমি আরিফুল ইসলাম ও মেহেদী হাসানের কাছে বিক্রি করেন। পরবর্তীতে ক্রেতার পক্ষ থেকে এক মোহরারের সহকারী মোনজেল হোসেনের মাধ্যমে তোলা সার্টিফাইড কপিতে জমির মোট পরিমাণ ৮.২৩ শতক হিসেবে উল্লেখ করা হয়। এই গরমিল দেখে দাতা আব্দুর রহমান পুনরায় সাব-রেজিস্ট্রি অফিস থেকে অপর একটি সার্টিফাইড কপি তোলেন—যেখানে সঠিক ৭.৬৩ শতক জমি উল্লেখ ছিল।
দুটি সার্টিফাইড কপির তথ্য ভিন্ন হওয়ার বিষয়টি গত ৪ আগস্ট স্থানীয় সালিসী প্রতিনিধি ও কলারোয়া মোহরার সমিতির নেতারা কলারোয়া সাব-রেজিস্ট্রার মিন্টু চক্রবর্তীর নজরে আনেন। রেকর্ড যাচাই শেষে সাব-রেজিস্ট্রার নিশ্চিত করেন যে আসল দলিলে হস্তান্তরিত জমির পরিমাণ ৭.৬৩ শতকই ছিল।
সাব-রেজিস্ট্রার জানান, মোহরারের সহকারী নকলনবীশদের সঙ্গে যোগসাজশ করে এই জালিয়াতির কাজ করেছেন। এ সংক্রান্ত নথিপত্র পর্যালোচনা করে ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ও দাপ্তরিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

হাতি সুরক্ষায় বনের অবক্ষয় রোধ করা প্রয়োজন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ১২ আগস্ট, ২০২৬, ১২:২১ পূর্বাহ্ণ
হাতি সুরক্ষায় বনের অবক্ষয় রোধ করা প্রয়োজন

প্রকাশ ঘোষ বিধান
প্রথিবীর স্থলপ্রাণীদের মধ্যে সর্ববৃহৎ প্রাণী হাতি। তবে ক্রমাগত আবসস্থল ধ্বংস, খাদ্যাভাব এবং মানুষের সাথে দ্বন্ধে দিন দিন হাতির সংখ্যা কমছে। প্রকৃতির বড় বন্ধু হাতি হুমকির মুখে। প্রকৃতির এ বন্ধুকে সঙ্কটাপন্ন প্রাণী হিসাবেও চিহ্নিত করা হয়েছে। সারা বিশ্বে এশিয়ার হাতির সংখ্যা ৩৫ থেকে ৪০ হাজার দাবি করা হলেও বাংলাদেশে এ সংখ্যা ২শত এর বেশি হবে না। হাতি বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, মানুষের হানা ও প্রকৃতিতে খাদ্য সংকটের কারণে হাতির সংখ্যা দিন দিন কমছে।
১২ আগস্ট বিশ্ব হাতি দিবস। হাতি সংরক্ষণের জন্য জনসচেতনতা তৈরি করতে প্রতি বছর ১২ আগস্ট পালন করা হয় বিশ্ব হাতি দিবস। বাংলাদেশের বন বিভাগ সহ বিভিন্ন সংগঠন দিবসটি পালন করে থাকে। এই দিবসের মূল উদ্দেশ্য জনসচেতনতা তৈরি করা। প্রথিবীতে দুই প্রজাতির হাতি আছে। এশিয়ান হাতি ও আফ্রিকান হাতি। যদিও শারিরীকভাবে দেখতে প্রায় একই রকম, তবুও এদের মধ্যে জৈবিক পার্থক্য রয়েছে। এশিয়ান হাতি সাধারণত লম্বায় ৬ থেকে ১১ ফুট হয়ে থাকে আর আফ্রিকান হাতির ৬ থেকে ১৩ ফুট। এশিয়ান হাতির ওজন ২ থেকে ৫ টন আর আফ্রিকান হাতির ওজন ২ থেকে ৭ টন। এশিয়ান হাতির কান ছোট আর আফ্রিকান হাতির কান বড়। এশিয়ান হাতির বুকের হাড় ২০ জোড়া আর আফ্রিকান হাতির বুকের হাড় ২১ জোড়া। আফ্রিকান হাতির স্ত্রী-পুরুষ উভয় হাতির প্রলম্বিত দাঁত আছে আর এশিয়ান হাতির ক্ষেত্রে শুধু পুরুষের দাঁত আছে। হাতি প্রায় ৬০ থেকে ৭০ বছর বাঁচে।
বাংলাদেশের স্থায়ী বন্য হাতির আবাসস্থল হচ্ছে-চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, বান্দরবন, রাঙ্গামাটি ও খাগড়াছড়ি। এর মধ্যে চট্টগ্রামের চন্দনাইনা, বাঁশখালী, পটিয়া ও রাঙ্গুনিয়া। কক্সবাজারের কাসিয়াখালি, রামু, উখিয়া ও টেকনাফ। বান্দরবনের লামা ও আলিকদম। রাঙ্গামাটির কাউখালি, কাপ্তাই ও লংদু এবং খাড়গাছড়িসহ দেশের ১১টি বন বিভাগে এদের বিচারণ করতে দেখা যায়। ড. রেজা খানের জরিপ অনুযায়ী ১৯৮০ সালে বাংলাদেশে ৩৮০টি বন্য হাতি ছিল। ২০০০ সালে ওয়ার্ড ওয়াইল্ড লাইফ ফান্ডের গবেষণা অনুযায়ী ২৩৯টি। সর্বশেষ ২০০৪ সালে আইইউসিএনের জরিপে পাওয়া যায় ২২৭টি হাতি। উল্লেখিত পরিসংখ্যান থেকে বোঝাযায় বাংলাদেশে হাতি সংখ্যা দিন দিন কমছে। আর অভিবাসি হাতির সংখ্যা ৮৪ থেকে ১০০টি।
৯টি কারণে বাংলাদেশে হাতি কমছে। আইইউসিএনের গবেষণা প্রতিবেদনে উল্লেখিত কারণের মধ্যে অন্যতম হচ্ছে বনাঞ্চল নিচিহ্ন হয়ে যাওয়া, খাদ্যা সংকট, চলাচলের পথ রুদ্ধ হয়ে যাওয়া, যত্রতত্র জনবসতি গড়ে ওঠা এবং চোরাশিকারী নিষ্ঠুরতা সহ আরো কয়েকটি কারণ রয়েছে। বাংলাদেশ, চিন, ভারত, ভূটান ও ইন্দোনেশিয়ায় এশিয়ান হাতির দেখা মেলে। বর্তমানে ৩৫ থেকে ৪০ হাজার এশিয়ান হাতি এবং ৩৫ থেকে ৪০ লাখ আফ্রিকান হাতি রয়েছে। কিন্তু ১শত বছর আগে আফ্রিকান হাতির মোট সংখ্যা ছিল এক কোটির উপরে। গত ১০ বছরে ৬২ ভাগ হাতি কমেছে। বন উজাড় ও হাতির দাঁতের জন্য শিকারীদের হাতে নিহত হওয়ায় হাতি কমার অন্যতম কারণ। আন্তর্জাতিক প্রকৃতি সংরক্ষণ ইউনিয়ান ২০১২ সালে প্রকাশিত তথ্য মতে ২০০৩ থেকে ২০১২ সাল এই ১০ বছরে মানুষের হাতে ৪৭টি হাতির মৃত্যু হয়েছে।
মানুষ নানা কারণে বনজঙ্গল উজাড় করছে। আবাদি জমি বাড়াতে বন ধ্বংস করা হচ্ছে। মানুষ জীবন জীবিকার জন্য বনের উপর অনেকাংশে নির্ভরশীল হয়ে পড়াতে বন্য প্রাণীর উপর বিরূপ প্রভাব পড়েছে। মানুষ ও হাতির মধ্য চলামান বিরোধ নিরসনে হাতির আবাসস্থল বন-জঙ্গল উজাড় করা বন্ধ করতে হবে। বনে হাতির আবাসস্থলে নিরুপদ্রব বিচারণ এবং খাদ্য সংকট নিরসন করতে পারলে হাতির সুরক্ষা অনেকাংশে সম্ভব হবে। এছাড়াও জনসচেতনতা রাখতে পারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা।
বন উজাড় হওয়ার কারণে হাতিরা তাদের প্রাকৃতিক আবাসস্থল হারাচ্ছে। বনের সীমানা রক্ষা করলে হাতিরা নিরাপদে থাকতে পারে। একটি পূর্ণবয়স্ক হাতির প্রতিদিন প্রচুর খাবার ও পানির প্রয়োজন হয়। বনের অবক্ষয় রোধ করলে হাতিরা বনের ভেতরেই পর্যাপ্ত বাঁশ, কলাগাছ ও প্রাকৃতিক জলাশয় পাবে। বন কমে যাওয়ায় হাতিরা খাবারের সন্ধানে লোকালয়ে চলে আসে। এর ফলে ফসল নষ্ট হয় এবং মানুষ ও হাতি উভয়েরই প্রাণহানি ঘটে। বনের ঘনত্ব বাড়ালে এই সংঘাত কমে আসবে। হাতিরা এক বন থেকে অন্য বনে যাতায়াতের জন্য নির্দিষ্ট পথ বা করিডোর ব্যবহার করে। বনের অবক্ষয় রোধ করে এই করিডোরগুলো সুরক্ষিত রাখা জরুরি।
বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ আইন কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করা এবং হাতি শিকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়া। বনের অবক্ষয় রোধ শুধুমাত্র হাতি নয়, বরং পুরো জীববৈচিত্র্য এবং পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষার জন্য অপরিহার্য। লেখক: সাংবাদিক ও কলামিস্ট