শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ১০ কার্তিক ১৪৩৩
শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ১০ কার্তিক ১৪৩৩

চাঁদাবাজির মামলায় জামায়াত নেতা হাজী নজরুল ও সহযোগী কারাগারে

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ১০ আগস্ট, ২০২৬, ৭:১৫ অপরাহ্ণ
চাঁদাবাজির মামলায় জামায়াত নেতা হাজী নজরুল ও সহযোগী কারাগারে

পত্রদূত ডেস্ক: সাতক্ষীরার শ্যামনগরে জাইকার অর্থায়নে পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ নির্মাণ প্রকল্পে চাঁদাবাজি, হামলা ও কাজ বন্ধ করে দেওয়ার অভিযোগে করা মামলায় জামায়াত নেতা ও বুড়িগোয়ালিনী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হাজী মো. নজরুল ইসলাম এবং তার সহযোগী বিশ্বজিৎ মন্ডলকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত।

সোমবার (১০ আগস্ট) সাতক্ষীরার আদালতে হাজির হয়ে তারা জামিনের আবেদন করেন। শুনানি শেষে চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. সাইদুর রহমান তাদের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

মামলার বাদীপক্ষের আইনজীবী পবিত্র কুমার বলেন, বাদীপক্ষে অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর (এপিপি) সিরাজুল ইসলাম, আইনজীবী শেখ আবদুল খালেক ও নির্মল জোয়াদ্দার আদালতে শুনানি করেন। তারা আদালতে বলেন, আসামিরা সরকারি প্রকল্পের কাজে চাঁদাবাজির সঙ্গে জড়িত। তারা জামিনে বাইরে থাকলে সরকারি কাজ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে আদালত তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

এর আগে উচ্চ আদালত থেকে হাজী মো. নজরুল ইসলাম ও তার সহযোগী ছয় সপ্তাহের জামিনে ছিলেন। জামিনের মেয়াদ শেষে সোমবার তারা সাতক্ষীরার আদালতে হাজির হয়ে পুনরায় জামিনের আবেদন করেন। আদালত সেই আবেদন নামঞ্জুর করে তাদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

এদিকে, আদালত চত্বরে নজরুল ইসলামের ছবি নিতে গেলে সাংবাদিকদের ক্যামেরা ও মোবাইল ফোন ফেলে দেন তার ছোট ছেলে সাইফুল ইসলাম।

গত ২৫ মে রাতে শ্যামনগর থানায় জাইকার অর্থায়নে পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ নির্মাণ প্রকল্পে চাঁদাবাজি, হামলা ও কাজ বন্ধ করে দেওয়ার অভিযোগে মামলাটি করেন প্রকল্প বাস্তবায়নকারী প্রতিষ্ঠান আর-রাদ করপোরেশনের আইন কর্মকর্তা মো. জালাল উদ্দিন।

মামলায় প্রধান আসামি করা হয় বুড়িগোয়ালিনী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও শ্যামনগর উপজেলা জামায়াতের কর্মপরিষদ ও শুরা সদস্য হাজী মো. নজরুল ইসলামকে। মামলায় তার ছেলে আব্দুর রহমান, স্থানীয় বিশ্বজিৎ মন্ডলসহ আরও কয়েকজনের নাম উল্লেখ করা হয়। অজ্ঞাতনামা আরও ২০ থেকে ২৫ জনকে আসামি করা হয়।

মামলার এজাহার অনুযায়ী, শ্যামনগরের পূর্ব দুর্গাবাটি এলাকায় জাইকার অর্থায়নে পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা নিয়ন্ত্রণ বেড়িবাঁধ নির্মাণকাজ বাস্তবায়ন করছে ডিএল-উন্নয়ন (জেভি) ও ডকইয়ার্ড অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কস লিমিটেডের পক্ষে আর-রাদ করপোরেশন। অভিযোগ করা হয়, গত বছরের আগস্ট থেকে প্রকল্পসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের কাছে চাঁদা দাবি এবং কাজ বন্ধের জন্য চাপ দেওয়া হচ্ছিল।

এজাহারে আরও অভিযোগ করা হয়, চাঁদা না দেওয়ায় গত ১৪ এপ্রিল থেকে প্রকল্পের কাজ কার্যত বন্ধ হয়ে যায়। পরে গত ১৯ মে রাতে প্রকল্প এলাকায় গিয়ে হাজী নজরুল ইসলাম ১৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন এবং কাজ চালিয়ে গেলে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের হত্যার হুমকি দেন।

এরপর ২৩ মে দুপুরে হাজী নজরুল ইসলাম, তার ছেলে আব্দুর রহমানসহ কয়েকজন প্রকল্প এলাকায় গিয়ে প্রকৌশলী জাহিদ হাসানকে মারধর করেন বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়। তাকে বাধা দিতে গেলে কিউরিং ম্যান ফেরদৌসকেও মারধরের অভিযোগ রয়েছে। এ সময় প্রকৌশলী জাহিদের একটি অ্যাপল স্মার্টওয়াচ ও মানিব্যাগ নিয়ে যাওয়ার অভিযোগও করা হয়।

মামলার বাদীর দাবি, পুরো ঘটনা প্রকল্প এলাকার সিসিটিভি ক্যামেরায় ধারণ হয়েছে। হামলায় আহত জাহিদ হাসান ও ফেরদৌসকে শ্যামনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হয়।
তবে শুরু থেকেই এসব অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন হাজী মো. নজরুল ইসলাম। তার দাবি, তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ মিথ্যা, বানোয়াট ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। হামলার অভিযোগের সময় তিনি ইউনিয়ন পরিষদের বাজেট অধিবেশনে ছিলেন বলেও দাবি করেন তিনি।

প্রকল্পসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, বর্ষার আগে বাঁধ নির্মাণকাজ শেষ করা না গেলে উপকূলীয় বিস্তীর্ণ এলাকা ঝুঁকিতে পড়তে পারে। এ কারণে প্রকল্পটি নির্বিঘ্নে বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
আসামিপক্ষে আইনজীবী ছিলেন এড. সৈয়দ ইফতেখার আলী ও এড. আবু বক্কর।

 

Ads small one

এই শীতে

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ২৪ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:১৩ পূর্বাহ্ণ
এই শীতে

মকবুল মাহ্ফুজ
উলের সোয়েটার পরে আছে ওষুধের দোকান
নতুন বছরের ক্যালেন্ডারের গায়ে শীতের চাদর।

এই শীতে গাছেরা কুঁজো হয়ে আছে।
হাড় কাঁপানো শীত এ বছর
আগুনে সেঁকতে হচ্ছে হাত। পা রোজ।
কার যেন কবিতায় পড়েছিলাম
‘কথা বললেই শীত কম লাগে।’
ইস্, এরা যদি কথা বলতে পারত!

মিছামিছি লোভ দেখাচ্ছে
বাবুর আলী গোলদার
কিছু ইতর প্রাণী মলমূত্র ত্যাগ করছে,
দুর্গন্ধ নাকে আসছে।
নারী কী পুরুষ চেনা দায় হচ্ছে,

সর্বাঙ্গ ঢাকা আছে।
বিরতিহীন হাঁটছে,
এপাড়া-ওপাড়া যাচ্ছে।
ফিসফিসিয়ে বলছেÑ
অনন্তকাল সুখভোগের লোভ দেখাচ্ছে।
বাহ্! সুখ যেন ওদের হাতে,
মিছামিছি লোভ দেখাচ্ছে।
সরলমনা মানুষগুলো কি বুঝতে পারছে?

 

আমি তোমার বন্ধু হতে চাই

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ২৪ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:১২ পূর্বাহ্ণ
আমি তোমার বন্ধু হতে চাই

জহুরুল হক জুলু
সকালের রোদের চিকমিক সোনা গায়ে মেখে
যে নতুন দিনের জন্ম দেয়,
আর সন্ধ্যার আকাশে
আবিরের রঙ ছড়িয়ে

অস্তাচলে রেখে যাওয়া শেষ স্বাক্ষরÑ
শিল্পীর তুলিতে আঁকা রঙিন স্বপ্নের মতো;
আমি তার বন্ধু হতে চাই।
শীতের ভোরে
ঘাসের ডগায় জেগে থাকা শিশিরকণা

টুপটাপ ঝরে পড়ে নীরবে,
যেন একান্ত আপন ভেবে
বেদনার ভাষা জানাতে চায়Ñ
হৃদয় নিংড়ানো স্বচ্ছ সে কথা;
আমি তার বন্ধু হতে চাই।
সৌন্দর্যের ডালি সাজিয়ে, সুগন্ধ বিলিয়ে
যে নীরবে পৌঁছে যায় হৃদয়ের মনিকোঠায়,

অবশেষে একদিন
ঝরে পড়ে নিঃশব্দে,
নিজেকে নিঃশেষ করে দিয়েÑ
আমি সেই ফুলটিকে ধরে রাখতে চাই
সযতেœ স্মৃতির পাতায়;
আমি তার বন্ধু হতে চাই।
ঘুম ভাঙে কিচিরমিচির ডাকে,

হৃদয়ে জাগে অচেনা আলোড়ন।
কেউ দূর নীল আকাশে ভেসে যায়,
খাদ্যের সন্ধানে ব্যস্ত উড়াল;
সন্ধ্যা নামলে আবার
কুলায় ফেরে তৃপ্ত হৃদয়ে।
তাদের এই সহজ জীবনযাত্রা
কার না মন কাড়ে?
আমি সেই পাখিদের বন্ধু হতে চাই।

সবুজ ফসলের মাঠ মনকে ভুলিয়ে দেয়,
আলো-ছায়ার লুকোচুরি খেলায়
বাতাস দোলে ছন্দে ছন্দে;
তার ঢেউ এসে আছড়ে পড়ে
আমার হৃদয়ের তীরে।
আমি তারও বন্ধু হতে চাই।
তুমিও তবে হাত বাড়াওÑ
দিগন্ত-বিস্তৃত উন্মুক্ত হাত।

এসো, আমরা বন্ধু হই

এই সৌন্দর্যের, এই জীবনের,

এই অনন্ত মমতার।

শীতল বাতাসের এক অনুরোধ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ২৪ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:১২ পূর্বাহ্ণ
শীতল বাতাসের এক অনুরোধ

শাহাবুদ্দীন
সবকিছুর বিনিময়ে তুমি ভালো থেকোÑ
যেমন ভোরের কুয়াশা তার অদৃশ্য আঙুল দিয়ে
ঘাসের ডগায় হেঁটে যায়,
শুধু নিঃশব্দে কিছু নরম আলো রেখে যায়।
আমি যত দিইÑ
শব্দ, সময়, স্মৃতি, অদৃশ্য আঙুলের স্পর্শÑ
সবই যেন মাটির নিচে সরে যায়;
কিন্তু তুমি ভালো থাকো,
এটাই আমার প্রার্থনা।
যেমন ঝড়ের পর একা পাতার ওপর
সন্ধ্যার আলো নেমে আসে,
তেমনি তোমার মুখে যেন
শান্তির নরম ছাপ থাকেÑ

যেখানে কেউ আহত হয় না, কেউ হারায় না।
আমি জানি, আমার দেওয়া সবকিছু
অদৃশ্য নদীর মতো বয়ে যাবে;
শুধু তুমি ভালো থেকো,
এই ভেবে নদীও থেমে যায়,
এক মুহূর্তের জন্য নিজেকে দাঁড় করায়।
তুমি ভালো থেকোÑ
যেমন হেমন্তের শেষে
শিশিরের নিচে একাকী ফুল;
শুধু নিজের উপস্থিতি দিয়ে
সমস্ত মাঠকে ভরিয়ে রাখে।
সবকিছুর বিনিময়ে,
যদি এই পৃথিবীর সমস্ত শব্দ,
সমস্ত নীরবতা, সমস্ত আকাশ
আমার হাতে এসে গলে যায়Ñ
তবু একটাই চাওয়া থাকবে:
তুমি ভালো থেকো,
যেমন নক্ষত্র নিজের আলো দিয়ে
রাত্রিকে আলোকিত রাখে,
অচল, অমোঘ, অদূর।