মঙ্গলবার, ১১ আগস্ট ২০২৬, ২৬ শ্রাবণ ১৪৩৩
মঙ্গলবার, ১১ আগস্ট ২০২৬, ২৬ শ্রাবণ ১৪৩৩

কলারোয়ায় গ্রাম আদালতের কার্যক্রম পরিদর্শন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১১ আগস্ট, ২০২৬, ১১:১৮ অপরাহ্ণ
কলারোয়ায় গ্রাম আদালতের কার্যক্রম পরিদর্শন

পত্রদূত ডেস্ক: সাতক্ষীরার কলারোয়ায় ‘গ্রাম আদালত সক্রিয়করণ (৩য় পর্যায়)’ প্রকল্পের কার্যক্রম পরিদর্শন করেছেন প্রকল্পটির খুলনা ও সাতক্ষীরা জেলার ডিস্ট্রিক্ট ম্যানেজার মো. হাফিজুর রহমান।
মঙ্গলবার সকালে কলারোয়া উপজেলার সোনাবাড়ীয়া, লাঙ্গলঝাড়া, যুগিখালী ও জয়নগর ইউনিয়ন পরিষদে গ্রাম আদালতের কার্যক্রম পরিদর্শন করেন তিনি।
পরিদর্শনকালে সোনাবাড়ীয়া ইউপির প্যানেল চেয়ারম্যান নাজমা খাতুন, প্রশাসনিক কর্মকর্তা তবিবুর রহমান; লাঙ্গলঝাড়া ইউপি প্রশাসক আবু মুসা, ইউপি সদস্য শাফিজুল ইসলাম, প্রশাসনিক কর্মকর্তা আবু সাইম; যুগিখালী ইউপির প্যানেল চেয়ারম্যান মফিজুল ইসলাম, প্রশাসনিক কর্মকর্তা সুফিয়ান এবং জয়নগর ইউপির প্রশাসনিক কর্মকর্তা হাবিবুর রহমানসহ বিভিন্ন ওয়ার্ডের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
পরিদর্শনকালে প্রকল্পের জেলা ব্যবস্থাপক ইউনিয়ন পরিষদগুলোতে গ্রাম আদালতের কার্যক্রম, বিভিন্ন ফরমের ব্যবহার, বিচারিক ক্ষমতা, এখতিয়ার, এজলাসের প্রয়োগ ও আদালত গঠনের প্রক্রিয়া নিয়ে আলোচনা করেন। এ সময় কলারোয়া উপজেলা কো-অর্ডিনেটর মোস্তাক আহমেদ ও শুক্লা মিশ্র উপস্থিত ছিলেন।

Ads small one

আশাশুনির রাউতাড়ায় জমি ও মৎস্য ঘের দখলের অভিযোগে মামলা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ১২ আগস্ট, ২০২৬, ১২:১৭ পূর্বাহ্ণ
আশাশুনির রাউতাড়ায় জমি ও মৎস্য ঘের দখলের অভিযোগে মামলা

আশাশুনি প্রতিনিধি: আশাশুনি উপজেলার রাউতাড়া মৌজায় পৈতৃক সূত্রে প্রাপ্ত জমি ও মৎস্য ঘের জবরদখলের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় সাতক্ষীরার জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে একটি সিআর মামলা (মামলা নং ২৮৬/২৬) দায়ের করা হয়েছে।
ভুক্তভোগী রাউতাড়া গ্রামের বাসিন্দা কালিদাশ পাড়ুই জানান, তাঁদের পূর্বপুরুষ রেকর্ডীয় ৫.৮৫ একর জমির মালিক ছিলেন। পৈতৃক ওয়ারেশ সূত্রে প্রাপ্ত জমি ও মৎস্য ঘের সম্প্রতি গোবিন্দ, মহেন্দ্র, তবেহীন্দ্র, রঞ্জন ও সুশান্ত জোরপূর্বক দখল করে নেন। পরবর্তীতে আদালতের আশ্রয় নেওয়া হলে অভিযুক্তরা আরও ক্ষিপ্ত হয়ে ঘের থেকে আনুমানিক ৫০ হাজার টাকার মাছ লুট করে নিয়ে যান।
অভিযুক্তদের অব্যাহত হুমকি ও জীবনের ঝুঁকিতে বর্তমানে তাঁরা বাড়ি থেকে বের হতে পারছেন না উল্লেখ করে ক্ষোভ জানান ভুক্তভোগীরা। এ ঘটনায় আশাশুনি থানায় গত ৭ আগস্ট ৩২৩ নম্বর একটি সাধারণ ডায়েরিও (জিডি) করা হয়েছে। ভুক্তভোগী পরিবারটি স্বাভাবিক জীবনযাপনের নিশ্চয়তা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসন ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থার হস্তক্ষেপ দাবি করেছে।

বিশ্ব হাতি দিবস: হাতিকে রক্ষা করা মানেই প্রকৃতি ও ভবিষ্যৎকে রক্ষা করা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ১২ আগস্ট, ২০২৬, ১২:১৬ পূর্বাহ্ণ
বিশ্ব হাতি দিবস: হাতিকে রক্ষা করা মানেই প্রকৃতি ও ভবিষ্যৎকে রক্ষা করা

সাকিবুর রহমান বাবলা
প্রতি বছর ১২ আগস্ট বিশ্বব্যাপী পালিত হয় বিশ্ব হাতি দিবস। বিশ্বের বৃহত্তম স্থলচর প্রাণী হাতির সংরক্ষণ, সুরক্ষা এবং তাদের আবাসস্থল রক্ষার গুরুত্ব সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে ২০১২ সাল থেকে এই আন্তর্জাতিক দিবসটি পালন করা হচ্ছে। ২০১১ সালে কানাডীয় চলচ্চিত্র নির্মাতা প্যাট্রিসিয়া সিমস, কানাজওয়েস্ট পিকচার্সের মাইকেল ক্লার্ক এবং থাইল্যান্ডভিত্তিক এলিফ্যান্ট রিইন্ট্রোডাকশন ফাউন্ডেশনের সেক্রেটারি-জেনারেল সিভাপোর্ন দরদারানন্দ এই উদ্যোগের ধারণা দেন। পরে ২০১২ সালের ১২ আগস্ট এটি আনুষ্ঠানিকভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়। বর্তমানে বিশ্বের শতাধিক বন্যপ্রাণী সংস্থা এবং অসংখ্য ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান দিবসটি পালন করে আসছে।
বিশ্ব হাতি দিবস কেবল একটি প্রাণীকে ঘিরে সচেতনতার দিন নয়; এটি প্রকৃতি, জীববৈচিত্র্য, জলবায়ু এবং মানুষের ভবিষ্যৎ নিয়ে ভাবনার একটি বৈশ্বিক উপলক্ষ। কারণ হাতি শুধু একটি বন্যপ্রাণী নয়, বরং একটি পূর্ণাঙ্গ বাস্তুতন্ত্রের গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি। বিজ্ঞানীরা হাতিকে “ইকোসিস্টেম ইঞ্জিনিয়ার” বা বাস্তুতন্ত্র নির্মাতা এবং “কী-স্টোন প্রজাতি” হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। অর্থাৎ, একটি বন বা প্রাকৃতিক পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় তাদের ভূমিকা এতটাই গুরুত্বপূর্ণ যে তাদের অনুপস্থিতি পুরো বাস্তুতন্ত্রকে বিপর্যস্ত করে দিতে পারে।
হাতির দৈনন্দিন জীবনযাপন প্রকৃতিকে নানা উপায়ে সমৃদ্ধ করে। তারা দীর্ঘ দূরত্ব অতিক্রম করে এবং ফল ও উদ্ভিদ খাওয়ার পর মলের মাধ্যমে অসংখ্য বীজ বিস্তার করে। এর ফলে নতুন বন সৃষ্টি হয় এবং উদ্ভিদের জিনগত বৈচিত্র্য বৃদ্ধি পায়। তাদের বিশাল দেহ ঘন ঝোপঝাড় ভেঙে বনভূমির মধ্যে চলাচলের পথ তৈরি করে, যা ছোট প্রাণীদের জন্য নিরাপদ চলাচলের সুযোগ সৃষ্টি করে। একই সঙ্গে সূর্যের আলো বনভূমির নিচের স্তরে পৌঁছাতে সাহায্য করে, ফলে নতুন উদ্ভিদ জন্মানোর পরিবেশ তৈরি হয়।
খরার সময় হাতিরা মাটি খুঁড়ে পানির উৎস তৈরি করতে পারে, যা শুধু তাদের নয়, অসংখ্য প্রাণীর জীবনরক্ষার মাধ্যম হয়ে ওঠে। বনের মধ্যে তাদের তৈরি করা ফাঁকা স্থান নতুন চারাগাছের বৃদ্ধি ত্বরান্বিত করে এবং বনকে অতিরিক্ত ঘন হয়ে যাওয়া থেকে রক্ষা করে। হাতি হারিয়ে গেলে বহু উদ্ভিদের বীজ বিস্তার প্রক্রিয়া ব্যাহত হবে, বনভূমির গঠন পরিবর্তিত হবে এবং অসংখ্য প্রাণী তাদের আবাসস্থল হারাবে। তাই সংরক্ষণবিদদের ভাষায়, “হাতিকে রক্ষা করা মানে প্রথিবীকে রক্ষা করা।”
হাতির গুরুত্ব কেবল জীববৈচিত্র্যের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; এটি টেকসই উন্নয়নের সঙ্গেও গভীরভাবে সম্পর্কিত। জাতিসংঘের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্য ১৫ স্থলজ জীববৈচিত্র্য, বনভূমি ও বাস্তুতন্ত্র সংরক্ষণের ওপর গুরুত্ব দেয়। হাতি সংরক্ষণ সেই লক্ষ্য অর্জনের অন্যতম কার্যকর উপায়। বনভূমি ও প্রাকৃতিক আবাসস্থল রক্ষা, ভূমির অবক্ষয় রোধ এবং জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণের মাধ্যমে হাতি এসডিজি-১৫ বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
জলবায়ু পরিবর্তনের বিরুদ্ধেও হাতির অবদান উল্লেখযোগ্য। আফ্রিকার বৃষ্টিবনে হাতিরা দ্রুতবর্ধনশীল গাছপালা বেশি খাওয়ার ফলে ধীরগতিতে বেড়ে ওঠা শক্ত কাঠের গাছগুলো বিকশিত হওয়ার সুযোগ পায়। এসব গাছ দীর্ঘমেয়াদে অধিক পরিমাণ কার্বন শোষণ ও সংরক্ষণ করে। ফলে সুস্থ হাতির উপস্থিতি বনভূমির কার্বন ধারণক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে। এ কারণেই অনেক গবেষক হাতিকে “প্রকৃতির জলবায়ু রক্ষক” হিসেবে অভিহিত করেন।
তবে আজ বিশ্বজুড়ে হাতির অস্তিত্ব নানা কারণে হুমকির মুখে। বিশ্ব হাতি দিবসের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য হলো অবৈধ চোরাশিকার ও হাতির দাঁতের বাণিজ্য বন্ধ করা। আন্তর্জাতিক বাজারে হাতির দাঁতের চাহিদা এখনও বহু অঞ্চলে অব্যাহত রয়েছে। এর ফলে প্রতি বছর হাজার হাজার হাতি শিকারিদের হাতে প্রাণ হারায়। একই সঙ্গে বন্যপ্রাণী পাচারচক্রের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা জোরদার করা এবং কঠোর আইন প্রয়োগের দাবি বিশ্ব হাতি দিবসের অন্যতম বার্তা।
আরেকটি বড় সংকট হলো আবাসস্থল ধ্বংস। জনসংখ্যা বৃদ্ধি, বন উজাড়, সড়ক ও রেলপথ নির্মাণ এবং অপরিকল্পিত নগরায়ণের ফলে হাতিদের প্রাচীন চলাচলের পথ বা ‘এলিফ্যান্ট করিডোর’ ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। ফলে হাতিরা বাধ্য হয়ে লোকালয়ে প্রবেশ করছে এবং মানুষ-হাতি সংঘাত বাড়ছে। এ সংঘাতে একদিকে মানুষের প্রাণহানি ঘটছে, অন্যদিকে হাতিরাও হত্যা ও নির্যাতনের শিকার হচ্ছে।
বাংলাদেশে এই সংকট বিশেষভাবে দৃশ্যমান। আন্তর্জাতিক প্রকৃতি সংরক্ষণ সংঘ এবং বন বিভাগের ২০১৬ সালের জরিপ অনুযায়ী দেশে স্থায়ী বন্য হাতির সংখ্যা ছিল মাত্র ২৬৮টি। এছাড়া ভারত ও মিয়ানমার সীমান্ত দিয়ে প্রায় ৯৩টি আন্তসীমান্তীয় হাতি চলাচল করে এবং বন্দি হাতির সংখ্যা ছিল ৯৬টি। বিভাগভিত্তিক জরিপে চট্টগ্রাম দক্ষিণ বন বিভাগে ৬৫টি, কক্সবাজার দক্ষিণে ৬৩টি, কক্সবাজার উত্তরে ৫৪টি, লামায় ৩০টি, বান্দরবানে ১১টি, পার্বত্য চট্টগ্রাম দক্ষিণে ২৮টি এবং উত্তরে ১৭টি হাতির উপস্থিতি শনাক্ত করা হয়। মোট হাতির মধ্যে ৬৫টি পুরুষ, ১৭২টি স্ত্রী এবং ২৯টি শাবক ছিল।
দুঃখজনকভাবে ২০১৬ সালের পর দেশে আর কোনো পূর্ণাঙ্গ জাতীয় হাতি জরিপ পরিচালিত হয়নি। ফলে গত এক দশকে হাতির সংখ্যা কতটা বেড়েছে বা কমেছে, তার নির্ভরযোগ্য তথ্য নেই। অথচ বন বিভাগের তথ্য অনুযায়ী ২০১৬ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে অন্তত ১৪৬টি হাতির মৃত্যু হয়েছে, যার মধ্যে ২৬টি বৈদ্যুতিক ফাঁদে মারা যায়। গুলি, বিষপ্রয়োগ এবং বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হওয়াও মৃত্যুর বড় কারণ।
বাংলাদেশে হাতির প্রধান আবাসস্থল কক্সবাজার, চট্টগ্রাম, বান্দরবান, রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি, শেরপুর, নেত্রকোণা ও মৌলভীবাজার অঞ্চলে বিস্তৃত। কিন্তু এসব অঞ্চলের বহু গুরুত্বপূর্ণ করিডোর এখন সংকুচিত বা সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে গেছে। জরিপে বাংলাদেশে ১২টি প্রধান হাতি করিডোর শনাক্ত করেছিল, যার মধ্যে আটটি কক্সবাজার অঞ্চলে। রোহিঙ্গা শিবিরের সম্প্রসারণ, সড়ক নির্মাণ, কৃষি সম্প্রসারণ এবং বাউন্ডারি ওয়ালের কারণে অনেক করিডোর কার্যত অকার্যকর হয়ে পড়েছে। শেরপুর ও ময়মনসিংহ সীমান্ত অঞ্চলে কাঁটাতারের বেড়াও হাতির স্বাভাবিক চলাচলে বাধা সৃষ্টি করছে।
অতীতের দিকে তাকালে দেখা যায়, মানুষ ও হাতির সম্পর্ক একসময় ছিল পারস্পরিক নির্ভরতা, শ্রদ্ধা ও সহাবস্থানের। প্রাচীন সভ্যতায় হাতি ছিল শক্তি, জ্ঞান ও মর্যাদার প্রতীক। যুদ্ধক্ষেত্রে হস্তীবাহিনী ছিল সামরিক শক্তির অন্যতম ভিত্তি। দুর্গম বনাঞ্চল থেকে কাঠ পরিবহন, যোগাযোগ ও ভারী কাজেও হাতির ব্যবহার ছিল ব্যাপক। বিস্তীর্ণ বনভূমি থাকায় মানুষ ও হাতি নিজ নিজ পরিসরে শান্তিপূর্ণভাবে বসবাস করত।
কিন্তু আধুনিক যুগে সেই সম্পর্ক ক্রমেই সংঘাতের সম্পর্কে রূপ নিয়েছে। বনভূমি দখল, খাদ্য সংকট এবং করিডোর ধ্বংসের ফলে হাতিরা লোকালয়ে প্রবেশ করছে। অন্যদিকে হাতির দাঁতের বাণিজ্য এবং অর্থনৈতিক লোভ তাদের সবচেয়ে বড় শত্রুতে পরিণত করেছে মানুষকেই। বহু স্থানে পর্যটন, বিনোদন কিংবা বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে বন্দি হাতিদের ওপর এখনও নির্যাতন চালানো হয়।
এই সংকট মোকাবিলায় বাংলাদেশে সরকার ও বিভিন্ন সংস্থা কিছু গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে হাতির খাদ্যোপযোগী গাছের বাগান এবং বাঁশবাগান তৈরির প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। বনাঞ্চলে নতুন জলাধার খনন, মরিচ ও লেবুগাছের পরিবেশবান্ধব বেড়া নির্মাণ, হাতির চলাচলের পথ পুনরুদ্ধার এবং নতুন হাতি শুমারির পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে। ২০২৪ সালে উচ্চ আদালতের নির্দেশনার পর বন্দি হাতিদের পুনর্বাসনের লক্ষ্যে বিশেষ প্রকল্পও শুরু হয়েছে।
এছাড়া মাঠপর্যায়ে এলিফ্যান্ট রেসপন্স টিম গঠন, জিপিএস ট্র্যাকিং, ক্যামেরা ট্র্যাপিং এবং স্থানীয় জনগণকে সম্পৃক্ত করে সংঘাত নিরসনের উদ্যোগ গ্রহণ করা হচ্ছে। প্রতিবেশী দেশ ভারতের সঙ্গে আন্তসীমান্তীয় করিডোর পুনরুদ্ধার নিয়েও আলোচনা চলছে।
বিশ্ব হাতি দিবস আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয় যে, হাতির ভবিষ্যৎ কেবল একটি প্রাণীর ভবিষ্যৎ নয়; এটি বনভূমি, জীববৈচিত্র্য, জলবায়ু এবং মানবসমাজের ভবিষ্যতের সঙ্গেও ওতপ্রোতভাবে জড়িত। প্রকৃতির দীর্ঘ বিবর্তনের ইতিহাসে হাতি এক অনন্য স্থপতি, যাদের উপস্থিতি একটি সুস্থ পরিবেশের প্রতীক। তাদের হারিয়ে ফেলা মানে শুধু একটি প্রজাতিকে হারানো নয়, বরং একটি জটিল ও সমৃদ্ধ বাস্তুতন্ত্রের ভিত্তিকে দুর্বল করে দেওয়া।
তাই বিশ্ব হাতি দিবসের আহ্বান একটাইÑচোরাশিকার বন্ধ করতে হবে, করিডোর ও আবাসস্থল রক্ষা করতে হবে, মানুষ-হাতি সংঘাত কমাতে হবে এবং হাতির প্রতি দায়িত্বশীল আচরণ নিশ্চিত করতে হবে। কারণ হাতি বাঁচলে বন বাঁচবে, বন বাঁচলে জীববৈচিত্র্য বাঁচবে, আর জীববৈচিত্র্য বাঁচলে টিকে থাকবে আমাদের ভবিষ্যৎ প্রথিবী।

রাজনৈতিক সৌহার্দ্যে জেলা পরিষদ প্রশাসকের সঙ্গে জামায়াতের দুই এমপির মতবিনিময়

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ১২ আগস্ট, ২০২৬, ১২:১৩ পূর্বাহ্ণ
রাজনৈতিক সৌহার্দ্যে জেলা পরিষদ প্রশাসকের সঙ্গে জামায়াতের দুই এমপির মতবিনিময়

পত্রদূত ডেস্ক: সাতক্ষীরায় জেলা পরিষদের প্রশাসক হাবিবুল ইসলাম হাবিবের সঙ্গে জামায়াতে ইসলামীর দুই সংসদ সদস্য মুহা. ইজ্জতউল্লাহ ও মুহাদ্দিস আব্দুল খালেকের এক সৌহার্দ্যপূর্ণ সাক্ষাৎ ও মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
মঙ্গলবার সকালে সাতক্ষীরা জেলা পরিষদ কার্যালয়ে এই সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়। এতে রাজনৈতিক মতপার্থক্যের বাইরে গিয়ে পারস্পরিক সম্মান ও সহযোগিতার একটি ইতিবাচক বার্তা ফুটে ওঠে। বৈঠকে জেলার সার্বিক উন্নয়ন ও জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।
সাতক্ষীরার রাজনৈতিক অঙ্গনে বিভিন্ন দল ও মতের মানুষের মধ্যে পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ ও সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখার বিষয়ে সাধারণ মানুষের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা রয়েছে। বিশেষ করে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, উন্নয়ন, যোগাযোগব্যবস্থা ও নাগরিক সুবিধা নিশ্চিত করতে রাজনৈতিক বিভাজনের ঊর্ধ্ব উঠে সম্মিলিত উদ্যোগকে গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
জেলা পরিষদ প্রশাসকের সঙ্গে জামায়াতের দুই এমপির এই সাক্ষাৎকে রাজনৈতিক সৌহার্দ্যের একটি ইতিবাচক দৃষ্টান্ত হিসেবে দেখছেন স্থানীয়রা। তারা মনে করছেন, রাজনৈতিক পরিচয় ও আদর্শ ভিন্ন হলেও জনস্বার্থে একসাথে কাজ করার মানসিকতা থাকলে জেলার সার্বিক উন্নয়নে কার্যকর ভূমিকা রাখা সম্ভব।
উল্লেখ্য, ২০২৬ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সাতক্ষীরা-১ (তালা-কলারোয়া) আসনে বিএনপির প্রার্থী হাবিবুল ইসলাম হাবিব ও জামায়াত মনোনীত প্রার্থী অধ্যক্ষ ইজ্জতউল্লাহ প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। এতে জামায়াত প্রার্থী ১৮ হাজার ভোটের ব্যবধানে জয়লাভ করেন। সম্প্রতি কলারোয়ায় একটি সড়ক সংস্কার কাজের উদ্বোধনকে কেন্দ্র করে স্থানীয় বিএনপি ও জামায়াতের কর্মসূচির মুখোমুখি অবস্থানে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। পরে পুলিশ প্রশাসনের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।
এরই প্রেক্ষিতে রাজনৈতিক সদিচ্ছা থেকেই সাতক্ষীরা-২ আসনের সংসদ সদস্য মুহাদ্দিস আব্দুল খালেকের নেতৃত্বে এই সৌজন্য সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়। সভায় তালা-কলারোয়ার সংসদ সদস্য অধ্যক্ষ ইজ্জতউল্লাহ এবং জেলা পরিষদের নির্বাহী কর্মকর্তা এসএম মাহফুজুর রহমান উপস্থিত ছিলেন।