বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩

চৈত্র সংক্রান্তি ও কৃষিজীবনের নারীর লোকায়ত সংস্কৃতি: গ্রামীণ বাংলার অন্তর্লীন উৎসবচেতনা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ১১ এপ্রিল, ২০২৬, ১১:৫৫ অপরাহ্ণ
চৈত্র সংক্রান্তি ও কৃষিজীবনের নারীর লোকায়ত সংস্কৃতি: গ্রামীণ বাংলার অন্তর্লীন উৎসবচেতনা

সচ্চিদানন্দ দে সদয়
চৈত্র সংক্রান্তি বাংলা বর্ষপঞ্জির শেষ দিন। এটি শুধু একটি ক্যালেন্ডারিক সমাপ্তি নয়, বরং গ্রামীণ বাংলার কৃষিনির্ভর জীবনের এক গভীর সাংস্কৃতিক উপলক্ষ। পুরোনো বছরের ক্লান্তি, অর্জন, ব্যর্থতা ও স্মৃতিকে বিদায় জানিয়ে নতুন বছরের সম্ভাবনাকে বরণ করার এক অনন্য সামাজিক আচার এই দিনকে ঘিরে গড়ে উঠেছে। বিশেষ করে কৃষিজীবী সমাজে, যেখানে প্রকৃতি ও জীবিকার সম্পর্ক অটুট, সেখানে চৈত্র সংক্রান্তি এক ধরনের মানসিক পুনর্জাগরণ। এই উৎসবের কেন্দ্রে রয়েছে কৃষিজীবনের নারী-যিনি ঘর, পরিবার, কৃষি এবং প্রকৃতির মধ্যে এক নীরব সেতুবন্ধন তৈরি করেন।বাংলা বছরের শেষ মাস চৈত্র। গ্রীষ্মের প্রচ- দাবদাহে প্রকৃতি যখন শুষ্ক ও রুক্ষ হয়ে ওঠে, তখন কৃষক সমাজ নতুন বর্ষার অপেক্ষায় থাকে। এই সময়েই চৈত্র সংক্রান্তি পালিত হয়, যা ঋতুচক্রের এক গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন চিহ্নিত করে। কৃষিজীবী মানুষের কাছে এই সময় মানে হলো-জমির প্রস্তুতি, বীজ সংরক্ষণ, এবং নতুন চাষের পরিকল্পনা। প্রকৃতির সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত এই সমাজে চৈত্র সংক্রান্তি তাই এক গভীর অর্থ বহন করে। চৈত্র সংক্রান্তির সবচেয়ে গভীর দিকটি হলো কৃষিজীবনের নারীর ভূমিকা। তারা শুধু গৃহিণী নন, বরং কৃষিভিত্তিক সমাজের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ। এই সময়ে নারীরা বিভিন্ন ব্রত পালন করেন, যা পরিবারের কল্যাণ, স্বামীর কৃষিকাজের সফলতা এবং সন্তানের সুস্থতার জন্য নিবেদিত। তাদের ব্রতকর্মের মধ্যে রয়েছে-নিরামিষ আহার, উপবাস, ঘর পরিষ্কার এবং বিশেষ শাক-সবজি সংগ্রহ। বিশেষভাবে ‘চৌদ্দ শাক’ আহারের ঐতিহ্য এই সংস্কৃতির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এই চৌদ্দ শাকের মধ্যে একটি অবশ্যই তিতা স্বাদের হতে হয়, যেমন গিমা শাক। বিশ্বাস করা হয়, এই শাক শরীরকে শুদ্ধ করে এবং প্রকৃতির সঙ্গে মানুষের ভারসাম্য বজায় রাখে। গ্রামীণ সমাজে চৈত্র সংক্রান্তি শুধু ধর্মীয় উৎসব নয়; এটি প্রকৃতি পর্যবেক্ষণের এক লোকজ পদ্ধতি। কুড়িয়ে পাওয়া শাক, বৃষ্টির পূর্বাভাস, গাছপালার অবস্থা-সবকিছুই ভবিষ্যৎ কৃষির ইঙ্গিত বহন করে বলে বিশ্বাস করা হয়। এই বিশ্বাস কৃষি সমাজকে প্রকৃতির প্রতি আরও সংবেদনশীল করে তোলে। প্রকৃতিকে শোষণ নয়, বরং সহাবস্থানের দৃষ্টিতে দেখা-এই দর্শনই চৈত্র সংক্রান্তির অন্তর্নিহিত শিক্ষা। চৈত্র সংক্রান্তির সঙ্গে যুক্ত গাজন ও চড়ক উৎসব গ্রামীণ বাংলার লোকসংস্কৃতির এক শক্তিশালী প্রকাশ। শিব ও গৌরী কেন্দ্রিক এই উৎসবে নৃত্য, কীর্তন এবং শোভাযাত্রা গ্রামজীবনে এক ভিন্নমাত্রা যোগ করে। চড়ক উৎসবে ভক্তদের আত্মত্যাগমূলক আচার-অনুষ্ঠান হলেও এর মূল উদ্দেশ্য ভক্তির প্রতীকী প্রকাশ। আধুনিক সময়ে অনেক ক্ষেত্রে এই আচার প্রতীকী রূপে সীমাবদ্ধ হলেও এর সাংস্কৃতিক গুরুত্ব অক্ষুণ্ন।
চৈত্র সংক্রান্তির প্রস্তুতিতে নারীর ভূমিকা সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ। তারা সকাল থেকে ঘর পরিষ্কার, উঠান গোছানো, গোয়ালঘর পরিচ্ছন্ন করা এবং পশুপালনের কাজে সক্রিয় থাকেন। দুপুরের বিশেষ নিরামিষ ভোজ-ছাতু, চিড়া, দই, মুড়ি, খই, তিল ও নারিকেলের নাড়ু-সবকিছুর প্রস্তুতিও তাদের হাতেই সম্পন্ন হয়। এই শ্রম সাধারণত অদৃশ্য থেকে যায়, কিন্তু উৎসবের প্রাণশক্তি গড়ে তোলে এই নারীরাই। চৈত্র সংক্রান্তির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক অনুষঙ্গ হলো হালখাতা। পুরোনো হিসাব শেষ করে নতুন খাতা খোলার মাধ্যমে ব্যবসায়ীরা নতুন বছরের সূচনা করেন। এই সময়ে দোকান পরিষ্কার, মিষ্টি বিতরণ, এবং গ্রাহকদের আমন্ত্রণ জানানোর মাধ্যমে এক সামাজিক সম্পর্ক পুনর্গঠিত হয়। এটি শুধু অর্থনৈতিক প্রক্রিয়া নয়; এটি বিশ্বাস ও সম্পর্কের পুনর্নবীকরণ। চড়ক উৎসবের ইতিহাস বহু পুরোনো। কিছু লোককথা অনুযায়ী, ১৪৮৫ খ্রিস্টাব্দে রাজা সুন্দরানন্দ ঠাকুর এই উৎসবের প্রচলন করেন বলে বিশ্বাস করা হয়। তবে এর ঐতিহাসিক সত্যতা নিয়ে বিতর্ক রয়েছে। ১৮৬৫ সালে ব্রিটিশ সরকার কিছু কঠোর আচার নিষিদ্ধ করলেও লোকজ সংস্কৃতিতে এর উপস্থিতি এখনও রয়ে গেছে। এটি গ্রামীণ মানুষের ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক পরিচয়ের অংশ হয়ে আছে। চৈত্র সংক্রান্তি উপলক্ষে বসা মেলা গ্রামীণ সমাজের মিলনকেন্দ্র। এখানে বিভিন্ন বয়স, শ্রেণি ও পেশার মানুষ একত্রিত হন। এটি শুধু বিনোদন নয়; এটি সামাজিক যোগাযোগ ও সাংস্কৃতিক বিনিময়ের ক্ষেত্র। আগে এই মেলায় আত্মীয়-স্বজনদের আমন্ত্রণ জানানো হতো, নতুন পোশাক দেওয়া হতো এবং বিশেষ খাবারের আয়োজন করা হতো। আজও সেই ঐতিহ্যের কিছু অংশ টিকে আছে। শহুরে সংস্কৃতির প্রভাব গ্রামীণ চৈত্র সংক্রান্তিকেও পরিবর্তিত করেছে। অনেক আচার সংক্ষিপ্ত হয়েছে, কিছু রীতি প্রতীকী রূপ নিয়েছে। তবে মূল চেতনা-নবজীবনের আহ্বান ও প্রকৃতির প্রতি কৃতজ্ঞতা-এখনও অক্ষুণ্ন। এই পরিবর্তন একদিকে যেমন ঐতিহ্যের রূপান্তর, অন্যদিকে তেমনি সংস্কৃতির অভিযোজন। চৈত্র সংক্রান্তি কেবল একটি উৎসব নয়; এটি কৃষিজীবী মানুষের জীবনদর্শন। কৃষিজীবনের নারীর ব্রত, লোকবিশ্বাস, প্রকৃতির সঙ্গে সম্পর্ক এবং সামাজিক সংহতির এক অনন্য সমন্বয় এই উৎসব। এই সংস্কৃতি যতদিন বেঁচে থাকবে, ততদিন গ্রামীণ বাংলার শিকড়ও অটুট থাকবে। চৈত্র সংক্রান্তি তাই শুধু অতীতের স্মৃতি নয়-এটি ভবিষ্যতের সাংস্কৃতিক সম্ভাবনাও বটে। লেখক: সংবাদ কর্মী

Ads small one

প্রতাপনগরে পিবিআই পরিচয় দিয়ে নারী নির্যাতন ও লুটের অভিযোগ, গ্রামবাসীর মানববন্ধন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১১:৩১ অপরাহ্ণ
প্রতাপনগরে পিবিআই পরিচয় দিয়ে নারী নির্যাতন ও লুটের অভিযোগ, গ্রামবাসীর মানববন্ধন

আশাশুনি প্রতিনিধি: আশাশুনি উপজেলার প্রতাপনগরে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) কর্মকর্তা পরিচয়ে এক গৃহবধূকে হাতকড়া পরিয়ে নির্যাতন, বাড়ি ভাঙচুর ও টাকা-স্বর্ণালংকার লুটের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনার প্রতিবাদে এবং জড়িতদের শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

আশাশুনির প্রতাপনগর ইউনিয়নের দিঘলারআইট গ্রামে সড়কের ওপর এই মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।

ভুক্তভোগী গৃহবধূ অভিযোগ করেন, বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর কয়েকজন ব্যক্তি নিজেদের পিবিআই কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে তাঁর হাতে হাতকড়া পরিয়ে টেনে-হিঁচড়ে বাড়িতে নিয়ে যান। সেখানে অস্ত্রের মুখে ভয় দেখিয়ে মারধর করা হয় এবং হাতুড়ি দিয়ে ট্রাঙ্ক ভেঙে সঞ্চিত নগদ টাকা, মোবাইল ফোন ও অলংকার ছিনিয়ে নেওয়া হয়।

স্থানীয় ইউপি সদস্য ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পোশাক বা পরিচয় দিয়ে এভাবে তা-ব চালানো অত্যন্ত উদ্বেগজনক। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বের করে কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানান তাঁরা।

নম্বর বন্ধ থাকায় অভিযুক্ত পরিচয়দানকারী ব্যক্তিদের বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি। বিষয়টি খতিয়ে দেখার আশ্বাস দিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন।

সীমান্তে বিজিবির অভিযান, ৬৩ হাজার টাকার চোরাচালানি পণ্য উদ্ধার

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১১:২৮ অপরাহ্ণ
সীমান্তে বিজিবির অভিযান, ৬৩ হাজার টাকার চোরাচালানি পণ্য উদ্ধার

নিজস্ব প্রতিনিধি: সাতক্ষীরা ও কলারোয়ার সীমান্ত এলাকায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে ৬২ হাজার ৯০০ টাকা মূল্যের মাদক ও চোরাচালানি মালামাল জব্দ করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে আনা ভারতীয় জিরা, শাড়ি, মদ ও ফেন্সিডিলজাতীয় ‘ফেন্সিডিল/ডেক্সপোটেন’ সিরাপ এসব চালানের মধ্যে রয়েছে।

সাতক্ষীরা ব্যাটালিয়ন (৩৩ বিজিবি) জানায়, ব্যাটালিয়নের অধীনস্থ বৈকারী, কাকডাঙ্গা ও মাদরা বিওপির টহল দল দায়িত্বপূর্ণ সীমান্তে এই অভিযান পরিচালনা করে।

বৈকারী বিওপির বিশেষ আভিযানিক দল সীমান্ত পিলার ৭/৬৫-এস থেকে আনুমানিক ১০০ গজ বাংলাদেশের অভ্যন্তরে সাতক্ষীরা সদর থানার ভাদিয়ালি এলাকা থেকে ৬,৪০০ টাকা মূল্যের ভারতীয় কাশির সিরাপ আটক করে। অপরদিকে কাকডাঙ্গা বিওপির দুটি দল সীমান্ত পিলার ১৩/৩-এস এর ৪ ও ৫ আরবি থেকে প্রায় ২০০ গজ ভেতরে কলারোয়া থানার কেড়াগাছি এলাকা থেকে ১১,৫০০ টাকা মূল্যের ভারতীয় জিরা ও মদ উদ্ধার করে।

এ ছাড়া মাদরা বিওপির অপর একটি দল সীমান্ত পিলার ১৩/৩-এস এর ৮ আরবি থেকে ২০০ গজ অভ্যন্তরে কলারোয়ার ভাদিয়ালি এলাকা থেকে ৪৫,০০০ টাকা মূল্যের ভারতীয় শাড়ি জব্দ করে। বিজিবি সূত্রে জানা গেছে, চোরাকারবারিরা রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে এসব মালামাল অবৈধভাবে ভারত থেকে বাংলাদেশে পাচার করছিল।

ভুল নম্বরে চলে যাওয়া টাকা উদ্ধার করে মালিককে দিল শ্যামনগর থানা পুলিশ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১১:২৫ অপরাহ্ণ
ভুল নম্বরে চলে যাওয়া টাকা উদ্ধার করে মালিককে দিল শ্যামনগর থানা পুলিশ

শ্যামনগর প্রতিনিধি: শ্যামনগর উপজেলার পদ্মপুকুর ইউনিয়নের নুর আলম নামে এক ব্যক্তির বিকাশ অ্যাকাউন্ট থেকে ভুল নম্বরে চলে যাওয়া ৯ হাজার ৬০০ টাকা তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় উদ্ধার করে বৃহস্পতিবার বেলা ১২টার সময় প্রকৃত মালিকের কাছে ফিরিয়ে দিয়েছে শ্যামনগর থানা পুলিশ।

জানা যায়, সম্প্রতি নুর আলম ভুলবশত ৯ হাজার ৬০০ টাকা অন্য একটি বিকাশ নম্বরে পাঠিয়ে দেন। বিষয়টি বুঝতে পেরে তিনি শ্যামনগর থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। পরে শ্যামনগর থানার অফিসার ইনচার্জের (ওসি) নির্দেশনায় এএসআই জাফর তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় লেনদেনের সূত্র অনুসন্ধান শুরু করেন।

অনুসন্ধানে জানা যায়, ভুল নম্বরে পাঠানো ওই টাকা কিশোরগঞ্জের ভৈরব থানা এলাকার একটি নম্বরে চলে গেছে। পরবর্তীতে ভৈরব থানা পুলিশের সহযোগিতা ও প্রযুক্তিগত তথ্যের ভিত্তিতে ৯ হাজার ৬০০ টাকা উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারকৃত টাকা শ্যামনগর থানার অফিসার ইনচার্জের মাধ্যমে নুর আলমের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

নুর আলম বলেন, এত দ্রুত সময়ের মধ্যে টাকা উদ্ধার করে শ্যামনগর থানার ওসি টাকা বুঝিয়ে দিয়েছেন। এটা একটা দৃষ্টান্ত স্থাপন হয়েছে শ্যামনগর থানা পুলিশকে অসংখ্য ধন্যবাদ।
এ বিষয়ে শ্যামনগর থানার অফিসার ইনচার্জ জানিয়েছে, সাধারণ ডায়রির অভিযোগের ভিত্তিতে ভুল লেনদেনের অর্থ উদ্ধারে আইনগত প্রক্রিয়া ও তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় অর্থ উদ্ধার করে প্রকৃত মালিককে দেয়া হয়েছে।