বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯ আশ্বিন ১৪৩৩
বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯ আশ্বিন ১৪৩৩

চৈত্র সংক্রান্তি ও কৃষিজীবনের নারীর লোকায়ত সংস্কৃতি: গ্রামীণ বাংলার অন্তর্লীন উৎসবচেতনা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ১১ এপ্রিল, ২০২৬, ১১:৫৫ অপরাহ্ণ
চৈত্র সংক্রান্তি ও কৃষিজীবনের নারীর লোকায়ত সংস্কৃতি: গ্রামীণ বাংলার অন্তর্লীন উৎসবচেতনা

সচ্চিদানন্দ দে সদয়
চৈত্র সংক্রান্তি বাংলা বর্ষপঞ্জির শেষ দিন। এটি শুধু একটি ক্যালেন্ডারিক সমাপ্তি নয়, বরং গ্রামীণ বাংলার কৃষিনির্ভর জীবনের এক গভীর সাংস্কৃতিক উপলক্ষ। পুরোনো বছরের ক্লান্তি, অর্জন, ব্যর্থতা ও স্মৃতিকে বিদায় জানিয়ে নতুন বছরের সম্ভাবনাকে বরণ করার এক অনন্য সামাজিক আচার এই দিনকে ঘিরে গড়ে উঠেছে। বিশেষ করে কৃষিজীবী সমাজে, যেখানে প্রকৃতি ও জীবিকার সম্পর্ক অটুট, সেখানে চৈত্র সংক্রান্তি এক ধরনের মানসিক পুনর্জাগরণ। এই উৎসবের কেন্দ্রে রয়েছে কৃষিজীবনের নারী-যিনি ঘর, পরিবার, কৃষি এবং প্রকৃতির মধ্যে এক নীরব সেতুবন্ধন তৈরি করেন।বাংলা বছরের শেষ মাস চৈত্র। গ্রীষ্মের প্রচ- দাবদাহে প্রকৃতি যখন শুষ্ক ও রুক্ষ হয়ে ওঠে, তখন কৃষক সমাজ নতুন বর্ষার অপেক্ষায় থাকে। এই সময়েই চৈত্র সংক্রান্তি পালিত হয়, যা ঋতুচক্রের এক গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন চিহ্নিত করে। কৃষিজীবী মানুষের কাছে এই সময় মানে হলো-জমির প্রস্তুতি, বীজ সংরক্ষণ, এবং নতুন চাষের পরিকল্পনা। প্রকৃতির সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত এই সমাজে চৈত্র সংক্রান্তি তাই এক গভীর অর্থ বহন করে। চৈত্র সংক্রান্তির সবচেয়ে গভীর দিকটি হলো কৃষিজীবনের নারীর ভূমিকা। তারা শুধু গৃহিণী নন, বরং কৃষিভিত্তিক সমাজের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ। এই সময়ে নারীরা বিভিন্ন ব্রত পালন করেন, যা পরিবারের কল্যাণ, স্বামীর কৃষিকাজের সফলতা এবং সন্তানের সুস্থতার জন্য নিবেদিত। তাদের ব্রতকর্মের মধ্যে রয়েছে-নিরামিষ আহার, উপবাস, ঘর পরিষ্কার এবং বিশেষ শাক-সবজি সংগ্রহ। বিশেষভাবে ‘চৌদ্দ শাক’ আহারের ঐতিহ্য এই সংস্কৃতির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এই চৌদ্দ শাকের মধ্যে একটি অবশ্যই তিতা স্বাদের হতে হয়, যেমন গিমা শাক। বিশ্বাস করা হয়, এই শাক শরীরকে শুদ্ধ করে এবং প্রকৃতির সঙ্গে মানুষের ভারসাম্য বজায় রাখে। গ্রামীণ সমাজে চৈত্র সংক্রান্তি শুধু ধর্মীয় উৎসব নয়; এটি প্রকৃতি পর্যবেক্ষণের এক লোকজ পদ্ধতি। কুড়িয়ে পাওয়া শাক, বৃষ্টির পূর্বাভাস, গাছপালার অবস্থা-সবকিছুই ভবিষ্যৎ কৃষির ইঙ্গিত বহন করে বলে বিশ্বাস করা হয়। এই বিশ্বাস কৃষি সমাজকে প্রকৃতির প্রতি আরও সংবেদনশীল করে তোলে। প্রকৃতিকে শোষণ নয়, বরং সহাবস্থানের দৃষ্টিতে দেখা-এই দর্শনই চৈত্র সংক্রান্তির অন্তর্নিহিত শিক্ষা। চৈত্র সংক্রান্তির সঙ্গে যুক্ত গাজন ও চড়ক উৎসব গ্রামীণ বাংলার লোকসংস্কৃতির এক শক্তিশালী প্রকাশ। শিব ও গৌরী কেন্দ্রিক এই উৎসবে নৃত্য, কীর্তন এবং শোভাযাত্রা গ্রামজীবনে এক ভিন্নমাত্রা যোগ করে। চড়ক উৎসবে ভক্তদের আত্মত্যাগমূলক আচার-অনুষ্ঠান হলেও এর মূল উদ্দেশ্য ভক্তির প্রতীকী প্রকাশ। আধুনিক সময়ে অনেক ক্ষেত্রে এই আচার প্রতীকী রূপে সীমাবদ্ধ হলেও এর সাংস্কৃতিক গুরুত্ব অক্ষুণ্ন।
চৈত্র সংক্রান্তির প্রস্তুতিতে নারীর ভূমিকা সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ। তারা সকাল থেকে ঘর পরিষ্কার, উঠান গোছানো, গোয়ালঘর পরিচ্ছন্ন করা এবং পশুপালনের কাজে সক্রিয় থাকেন। দুপুরের বিশেষ নিরামিষ ভোজ-ছাতু, চিড়া, দই, মুড়ি, খই, তিল ও নারিকেলের নাড়ু-সবকিছুর প্রস্তুতিও তাদের হাতেই সম্পন্ন হয়। এই শ্রম সাধারণত অদৃশ্য থেকে যায়, কিন্তু উৎসবের প্রাণশক্তি গড়ে তোলে এই নারীরাই। চৈত্র সংক্রান্তির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক অনুষঙ্গ হলো হালখাতা। পুরোনো হিসাব শেষ করে নতুন খাতা খোলার মাধ্যমে ব্যবসায়ীরা নতুন বছরের সূচনা করেন। এই সময়ে দোকান পরিষ্কার, মিষ্টি বিতরণ, এবং গ্রাহকদের আমন্ত্রণ জানানোর মাধ্যমে এক সামাজিক সম্পর্ক পুনর্গঠিত হয়। এটি শুধু অর্থনৈতিক প্রক্রিয়া নয়; এটি বিশ্বাস ও সম্পর্কের পুনর্নবীকরণ। চড়ক উৎসবের ইতিহাস বহু পুরোনো। কিছু লোককথা অনুযায়ী, ১৪৮৫ খ্রিস্টাব্দে রাজা সুন্দরানন্দ ঠাকুর এই উৎসবের প্রচলন করেন বলে বিশ্বাস করা হয়। তবে এর ঐতিহাসিক সত্যতা নিয়ে বিতর্ক রয়েছে। ১৮৬৫ সালে ব্রিটিশ সরকার কিছু কঠোর আচার নিষিদ্ধ করলেও লোকজ সংস্কৃতিতে এর উপস্থিতি এখনও রয়ে গেছে। এটি গ্রামীণ মানুষের ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক পরিচয়ের অংশ হয়ে আছে। চৈত্র সংক্রান্তি উপলক্ষে বসা মেলা গ্রামীণ সমাজের মিলনকেন্দ্র। এখানে বিভিন্ন বয়স, শ্রেণি ও পেশার মানুষ একত্রিত হন। এটি শুধু বিনোদন নয়; এটি সামাজিক যোগাযোগ ও সাংস্কৃতিক বিনিময়ের ক্ষেত্র। আগে এই মেলায় আত্মীয়-স্বজনদের আমন্ত্রণ জানানো হতো, নতুন পোশাক দেওয়া হতো এবং বিশেষ খাবারের আয়োজন করা হতো। আজও সেই ঐতিহ্যের কিছু অংশ টিকে আছে। শহুরে সংস্কৃতির প্রভাব গ্রামীণ চৈত্র সংক্রান্তিকেও পরিবর্তিত করেছে। অনেক আচার সংক্ষিপ্ত হয়েছে, কিছু রীতি প্রতীকী রূপ নিয়েছে। তবে মূল চেতনা-নবজীবনের আহ্বান ও প্রকৃতির প্রতি কৃতজ্ঞতা-এখনও অক্ষুণ্ন। এই পরিবর্তন একদিকে যেমন ঐতিহ্যের রূপান্তর, অন্যদিকে তেমনি সংস্কৃতির অভিযোজন। চৈত্র সংক্রান্তি কেবল একটি উৎসব নয়; এটি কৃষিজীবী মানুষের জীবনদর্শন। কৃষিজীবনের নারীর ব্রত, লোকবিশ্বাস, প্রকৃতির সঙ্গে সম্পর্ক এবং সামাজিক সংহতির এক অনন্য সমন্বয় এই উৎসব। এই সংস্কৃতি যতদিন বেঁচে থাকবে, ততদিন গ্রামীণ বাংলার শিকড়ও অটুট থাকবে। চৈত্র সংক্রান্তি তাই শুধু অতীতের স্মৃতি নয়-এটি ভবিষ্যতের সাংস্কৃতিক সম্ভাবনাও বটে। লেখক: সংবাদ কর্মী

Ads small one

বিআরটিএ উদ্যোগে সাতক্ষীরায় পেশাজীবী গাড়িচালকদের প্রশিক্ষণ কর্মশালা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৭:১৩ অপরাহ্ণ
বিআরটিএ উদ্যোগে সাতক্ষীরায় পেশাজীবী গাড়িচালকদের প্রশিক্ষণ কর্মশালা

সংবাদদাতা: বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) সাতক্ষীরা সার্কেলের উদ্যোগে সড়ক দুর্ঘটনা রোধে পেশাজীবী গাড়িচালকদের দক্ষতা ও সচেতনতা বৃদ্ধিমূলক রিফ্রেশার প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬) সকালে সাতক্ষীরা শহরের অদূরে টেকনিক্যাল স্কুল এন্ড কলেজে এই কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়।

এই কর্মশালার মূল উদ্দেশ্য ছিল পেশাজীবী গাড়িচালকদের মধ্যে সড়ক নিরাপত্তা সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি করা। সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনের সহযোগিতায় অনুষ্ঠিত এই কর্মশালায় প্রধান প্রশিক্ষক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিআরটিএ খুলনা বিভাগীয় পরিচালক (অ:দা:) প্রকৌশলী তানভীর আহমেদ। তিনি সড়ক দুর্ঘটনা রোধ এবং সড়ক নিরাপত্তা বিষয়ক দিক নির্দেশনা প্রদান করেন।

প্রশিক্ষক হিসেবে আরও উপস্থিত ছিলেন বিআরটিএ সাতক্ষীরা সার্কেলের সহকারী পরিচালক ইঞ্জিনিয়ার মোহাম্মদ জমির হোসেন, পুলিশ পরিদর্শক (ট্রাফিক) মোঃ আরজু হোসেন, মোটরযান পরিদর্শক মোঃ ওমর ফারুক এবং উচ্চমান সহকারী মোঃ নাসির উদ্দিন।

প্রধান প্রশিক্ষক প্রকৌশলী তানভীর আহমেদ তার বক্তব্যে বলেন, “সড়কে গাড়িচালকদের সচেতনতা এবং দক্ষতা বৃদ্ধি অপরিহার্য। সড়ক দুর্ঘটনা রোধ ও সড়কের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে চালকদের নিয়মিত প্রশিক্ষণ গ্রহণৎ করার প্রয়োজনীয়তা রয়েছে।”

তিনি আরও বলেন, “পেশাজীবী গাড়িচালকদের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে চালকদের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি পেলে সড়ক দুর্ঘটনা অনেকাংশে কমে আসবে এবং এটি দেশের সড়ক পরিবহন ব্যবস্থাকে আরও নিরাপদ করে তুলবে।”

মোটরযান পরিদর্শক মোঃ ওমর ফারুক সমগ্র অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনায করেন। কর্মশালায় বিভিন্ন শ্রেণীর পেশাজীবী চালকগণ অংশ গ্রহণ করেন, যাদের মধ্যে অনেকেই কর্মশালা শেষে নিজেদের অভিজ্ঞতা এবং মতামত শেয়ার করেন।

এই কর্মশালার মাধ্যমে সড়ক দুর্ঘটনা রোধে চালকদের ভূমিকা এবং তাদের দায়িত্ব সম্পর্কে সচেতনতা সৃষ্টি হয়েছে। বিআরটিএ আশা করছে যে এই ধরনের প্রশিক্ষণ কর্মশালা দেশের সড়ক নিরাপত্তা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

আইপি ইমপোর্ট পারমিট বাতিল: বেনাপোল বন্দর দিযে ভারতীয় ইলিশ আমদানি বন্ধ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৫:৪৭ অপরাহ্ণ
আইপি ইমপোর্ট পারমিট বাতিল: বেনাপোল বন্দর দিযে ভারতীয় ইলিশ আমদানি বন্ধ

এম এ রহিম, বেনাপোল (যশোর): আইপি বা এনওসি ইমপোর্ট পারমিট বাতিল করায় বেনাপোল স্থল বন্দর দিয়ে অনির্দিষ্টকালের জন্য ভারতীয় ইলিশ আমদানি বানিজ্য বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে গতকাল থেকে ভারতীয় কোন ইলিশের চালান বাংলাদেশে আসেনি বলে নিশ্চিত করেছেন বেনাপোল বন্দর মৎস্য পরিদর্শক আস ওয়াদুল আলম।

মৎস্য কর্মকর্তা জানান. মঙ্গলবার বংলাদেশ মৎস্য অধিদফতর ইলিশ আমদানির ১০৩টি অনাপত্তি সনদ বাতিলের সিদ্ধান্ত কার্যকর করেন। ফলে ভারত থেকে বাংলাদেশে ইলিশ আমদানি বন্ধ হয়ে গেছে।

মৎস্য অধিদফতরের ভারপ্রাপ্ত মহাপরিচালক ড. মো. খালেদ কনকের স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে গত ২২ সেপ্টেম্বর ১০৩টি অনাপত্তি সনদ বাতিল করা হয়। এরপর থেকেই ভারত থেকে ইলিশ আমদানির প্রক্রিয়া বন্ধ রয়েছে।

বেনাপোল আমদানি-রফতানিকারক সমিতির সাধারণ সম্পাদক জিয়াউর রহমান জিয়া জানান, ভারতীয কর্তৃপক্ষ ইলিশ রফতানিতে কোন নিষেধাজ্ঞা দেয়নি। তবে বাংলাদেশ মৎস্য অধিদফতরের একটি চিঠিতে অনেকগুলো অনাপত্তি সনদ বাতিল করা হয়েছে। এ সিদ্ধান্তে ইলিশ আমদানি বন্ধ রয়েছে। তবে অন্য সাদা মাছ আমদানি সচল থাকবে বলে জানান তিনি।

ইলিশ আমতানির সাথে সংশ্লিষ্টরা জানান, হঠাৎ করে আমদানি বন্ধ করায় বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েছেন তারা।

 

 

 

 

কয়রা উপকূলেও বাড়ছে ডেঙ্গু রোগী, ২০ দিনে হাসপাতালে ভর্তি ৩৮

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৫:৪০ অপরাহ্ণ
কয়রা উপকূলেও বাড়ছে ডেঙ্গু রোগী, ২০ দিনে হাসপাতালে ভর্তি ৩৮

জি এম রিয়াজুল আকবর, কয়রা (খুলনা): খুলনার সুন্দরবনবেষ্টিত কয়রা উপজেলায় বাড়ছে ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা। তাদের মধ্যে কয়েকজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য খুলনায় রেফার করা হয়। অন্যরা চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন।

হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, চলতি সেপ্টেম্বর মাসের প্রথম ২০ দিনে হাসপাতালে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ভর্তি হয়েছেন ৩৮ জন। তাদের মধ্যে ৩০ জন পুরুষ ও আটজন নারী। আক্রান্তদের মধ্যে পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশু রয়েছে দু’জন। গেল আগস্ট মাসে ১৯ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নেয়। মোট ৫৭ জন রোগীর মধ্যে ১০ জনের অবস্থার অবনতি হওয়ায় খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করা হয়। আর ৪৫ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে যায়। এছাড়া অনেকে হাসপাতালের জরুরি বিভাগ ও বহির্বিভাগ থেকে জ্বরসহ ডেঙ্গুর উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি ফিরে যান। উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে জ্বরে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যাও বাড়ছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।

২০ সেপ্টেম্বর সরেজমিন হাসপাতালে যেয়ে দেখা যায়, বিদ্যুৎ না থাকায় গরমে হাত-পা ব্যবহার করছে রোগীর স্বজনরা। বারান্দায় ও কেবিনের সামনে কয়েকজন রোগীর দেখা মেলে।
রোগীর স্বজনদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, শহরে কাজকর্মের সঙ্গে যুক্ত অনেকেই ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে কয়রায় ফিরে চিকিৎসা নিচ্ছেন। পাশাপাশি কয়রায় স্থায়ীভাবে বসবাসকারীরাও ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হচ্ছেন। হাসপাতালে যেয়ে পাঁচজন রোগীর দেখা মেলে। ওইদিন একজনকে খুলনায় রেফার্ড করা হয়।

হাসপাতালে ভর্তি মদিনাবাদ গ্রামের শাহিন বলেন, ‘বাড়িতে থেকেই কাজকর্ম করি। পাঁচ দিন ধরে জ্বরে ভুগছি। প্রথমে গ্রাম্য চিকিৎসকের কাছ থেকে চিকিৎসা নিয়েছি। পরে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছি। এখানে শয্যা সংকট থাকায় ফ্লোরে থাকতে হচ্ছে। প্রায় সময় বিদ্যুৎ থাকে না। গরমে খুব কষ্ট হচ্ছে। এর মধ্যে প্লাটিলেটও কমে যাচ্ছে।’

সোহেল নামে এক রোগীর পিতা বলেন, হাসপাতালে প্রায় সময় বিদ্যুৎ থাকে না। খাওয়ার পানিরও ব্যবস্থা নেই। বাইরে থেকে পানি কিনে খেতে হচ্ছে। ডেঙ্গু পরীক্ষা ছাড়া অন্যান্য পরীক্ষা করাতে বাইরে যেতে হচ্ছে। তাঁর প্লাটিলেট ৪৯ হাজারে নেমে গেছে বলেও জানান তিনি। দিনমজুরের কাজ করা ওই রোগী আক্ষেপ করে জানান, বাইরে থেকে বিভিন্ন পরীক্ষা ও পানি কেনার খরচ জোগাড় করতে তাঁকে হিমশিম খেতে হচ্ছে।

কালনা গ্রামের মাসুরার ভাষ্য, সাড়ে চার বছরের শিশুকে নিয়ে দুইদিন আগে ভর্তি হয়েছি। শরীরে ১০৫ জ্বর; বাথরুম হচ্ছে। শিশু বিশেষজ্ঞ না থাকায় ঠিকমতো চিকিৎসা পাচ্ছি না। পরীক্ষা বাইরে থেকে করতে হচ্ছে।

এদিকে, হাসপাতালের ৩১ শয্যার মূল ভবন নির্মাণের কাজ কয়েক বছর বন্ধ রয়েছে। ঠিকাদার পালিয়ে যাওয়ার পরে পুনরায় টেন্ডার হয়েছে। তবে এখনো কাজ শুরু হয়নি।

কয়রা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. রেজাউল করিম বলেন, ‘হাসপাতালে ডেঙ্গু রোগীদের জন্য পুরুষ ও নারী রোগীদের আলাদা শয্যা নির্ধারিত রয়েছে। জ্বরের রোগীদের পরীক্ষার জন্য ঘঝ১ টেস্টের কিট রয়েছে এবং বিনামূল্যে পরীক্ষা করা হচ্ছে। আইভি স্যালাইনও পর্যাপ্ত পরিমাণে রয়েছে।”

তিনি আরো জানান, ৩১ শয্যার মূল ভবন নির্মাণাধীন রয়েছে। ১৯ শয্যার ভবনে কার্যক্রম চালাতে হিমসিম খাচ্ছেন। আর প্যাথলজিস্ট না থাকায় বাইরে থেকে রোগীদের অন্যান্য পরীক্ষা করা লাগছে।