মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬, ১৩ শ্রাবণ ১৪৩৩
মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬, ১৩ শ্রাবণ ১৪৩৩

চৈত্র সংক্রান্তি ও কৃষিজীবনের নারীর লোকায়ত সংস্কৃতি: গ্রামীণ বাংলার অন্তর্লীন উৎসবচেতনা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ১১ এপ্রিল, ২০২৬, ১১:৫৫ অপরাহ্ণ
চৈত্র সংক্রান্তি ও কৃষিজীবনের নারীর লোকায়ত সংস্কৃতি: গ্রামীণ বাংলার অন্তর্লীন উৎসবচেতনা

সচ্চিদানন্দ দে সদয়
চৈত্র সংক্রান্তি বাংলা বর্ষপঞ্জির শেষ দিন। এটি শুধু একটি ক্যালেন্ডারিক সমাপ্তি নয়, বরং গ্রামীণ বাংলার কৃষিনির্ভর জীবনের এক গভীর সাংস্কৃতিক উপলক্ষ। পুরোনো বছরের ক্লান্তি, অর্জন, ব্যর্থতা ও স্মৃতিকে বিদায় জানিয়ে নতুন বছরের সম্ভাবনাকে বরণ করার এক অনন্য সামাজিক আচার এই দিনকে ঘিরে গড়ে উঠেছে। বিশেষ করে কৃষিজীবী সমাজে, যেখানে প্রকৃতি ও জীবিকার সম্পর্ক অটুট, সেখানে চৈত্র সংক্রান্তি এক ধরনের মানসিক পুনর্জাগরণ। এই উৎসবের কেন্দ্রে রয়েছে কৃষিজীবনের নারী-যিনি ঘর, পরিবার, কৃষি এবং প্রকৃতির মধ্যে এক নীরব সেতুবন্ধন তৈরি করেন।বাংলা বছরের শেষ মাস চৈত্র। গ্রীষ্মের প্রচ- দাবদাহে প্রকৃতি যখন শুষ্ক ও রুক্ষ হয়ে ওঠে, তখন কৃষক সমাজ নতুন বর্ষার অপেক্ষায় থাকে। এই সময়েই চৈত্র সংক্রান্তি পালিত হয়, যা ঋতুচক্রের এক গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন চিহ্নিত করে। কৃষিজীবী মানুষের কাছে এই সময় মানে হলো-জমির প্রস্তুতি, বীজ সংরক্ষণ, এবং নতুন চাষের পরিকল্পনা। প্রকৃতির সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত এই সমাজে চৈত্র সংক্রান্তি তাই এক গভীর অর্থ বহন করে। চৈত্র সংক্রান্তির সবচেয়ে গভীর দিকটি হলো কৃষিজীবনের নারীর ভূমিকা। তারা শুধু গৃহিণী নন, বরং কৃষিভিত্তিক সমাজের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ। এই সময়ে নারীরা বিভিন্ন ব্রত পালন করেন, যা পরিবারের কল্যাণ, স্বামীর কৃষিকাজের সফলতা এবং সন্তানের সুস্থতার জন্য নিবেদিত। তাদের ব্রতকর্মের মধ্যে রয়েছে-নিরামিষ আহার, উপবাস, ঘর পরিষ্কার এবং বিশেষ শাক-সবজি সংগ্রহ। বিশেষভাবে ‘চৌদ্দ শাক’ আহারের ঐতিহ্য এই সংস্কৃতির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এই চৌদ্দ শাকের মধ্যে একটি অবশ্যই তিতা স্বাদের হতে হয়, যেমন গিমা শাক। বিশ্বাস করা হয়, এই শাক শরীরকে শুদ্ধ করে এবং প্রকৃতির সঙ্গে মানুষের ভারসাম্য বজায় রাখে। গ্রামীণ সমাজে চৈত্র সংক্রান্তি শুধু ধর্মীয় উৎসব নয়; এটি প্রকৃতি পর্যবেক্ষণের এক লোকজ পদ্ধতি। কুড়িয়ে পাওয়া শাক, বৃষ্টির পূর্বাভাস, গাছপালার অবস্থা-সবকিছুই ভবিষ্যৎ কৃষির ইঙ্গিত বহন করে বলে বিশ্বাস করা হয়। এই বিশ্বাস কৃষি সমাজকে প্রকৃতির প্রতি আরও সংবেদনশীল করে তোলে। প্রকৃতিকে শোষণ নয়, বরং সহাবস্থানের দৃষ্টিতে দেখা-এই দর্শনই চৈত্র সংক্রান্তির অন্তর্নিহিত শিক্ষা। চৈত্র সংক্রান্তির সঙ্গে যুক্ত গাজন ও চড়ক উৎসব গ্রামীণ বাংলার লোকসংস্কৃতির এক শক্তিশালী প্রকাশ। শিব ও গৌরী কেন্দ্রিক এই উৎসবে নৃত্য, কীর্তন এবং শোভাযাত্রা গ্রামজীবনে এক ভিন্নমাত্রা যোগ করে। চড়ক উৎসবে ভক্তদের আত্মত্যাগমূলক আচার-অনুষ্ঠান হলেও এর মূল উদ্দেশ্য ভক্তির প্রতীকী প্রকাশ। আধুনিক সময়ে অনেক ক্ষেত্রে এই আচার প্রতীকী রূপে সীমাবদ্ধ হলেও এর সাংস্কৃতিক গুরুত্ব অক্ষুণ্ন।
চৈত্র সংক্রান্তির প্রস্তুতিতে নারীর ভূমিকা সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ। তারা সকাল থেকে ঘর পরিষ্কার, উঠান গোছানো, গোয়ালঘর পরিচ্ছন্ন করা এবং পশুপালনের কাজে সক্রিয় থাকেন। দুপুরের বিশেষ নিরামিষ ভোজ-ছাতু, চিড়া, দই, মুড়ি, খই, তিল ও নারিকেলের নাড়ু-সবকিছুর প্রস্তুতিও তাদের হাতেই সম্পন্ন হয়। এই শ্রম সাধারণত অদৃশ্য থেকে যায়, কিন্তু উৎসবের প্রাণশক্তি গড়ে তোলে এই নারীরাই। চৈত্র সংক্রান্তির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক অনুষঙ্গ হলো হালখাতা। পুরোনো হিসাব শেষ করে নতুন খাতা খোলার মাধ্যমে ব্যবসায়ীরা নতুন বছরের সূচনা করেন। এই সময়ে দোকান পরিষ্কার, মিষ্টি বিতরণ, এবং গ্রাহকদের আমন্ত্রণ জানানোর মাধ্যমে এক সামাজিক সম্পর্ক পুনর্গঠিত হয়। এটি শুধু অর্থনৈতিক প্রক্রিয়া নয়; এটি বিশ্বাস ও সম্পর্কের পুনর্নবীকরণ। চড়ক উৎসবের ইতিহাস বহু পুরোনো। কিছু লোককথা অনুযায়ী, ১৪৮৫ খ্রিস্টাব্দে রাজা সুন্দরানন্দ ঠাকুর এই উৎসবের প্রচলন করেন বলে বিশ্বাস করা হয়। তবে এর ঐতিহাসিক সত্যতা নিয়ে বিতর্ক রয়েছে। ১৮৬৫ সালে ব্রিটিশ সরকার কিছু কঠোর আচার নিষিদ্ধ করলেও লোকজ সংস্কৃতিতে এর উপস্থিতি এখনও রয়ে গেছে। এটি গ্রামীণ মানুষের ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক পরিচয়ের অংশ হয়ে আছে। চৈত্র সংক্রান্তি উপলক্ষে বসা মেলা গ্রামীণ সমাজের মিলনকেন্দ্র। এখানে বিভিন্ন বয়স, শ্রেণি ও পেশার মানুষ একত্রিত হন। এটি শুধু বিনোদন নয়; এটি সামাজিক যোগাযোগ ও সাংস্কৃতিক বিনিময়ের ক্ষেত্র। আগে এই মেলায় আত্মীয়-স্বজনদের আমন্ত্রণ জানানো হতো, নতুন পোশাক দেওয়া হতো এবং বিশেষ খাবারের আয়োজন করা হতো। আজও সেই ঐতিহ্যের কিছু অংশ টিকে আছে। শহুরে সংস্কৃতির প্রভাব গ্রামীণ চৈত্র সংক্রান্তিকেও পরিবর্তিত করেছে। অনেক আচার সংক্ষিপ্ত হয়েছে, কিছু রীতি প্রতীকী রূপ নিয়েছে। তবে মূল চেতনা-নবজীবনের আহ্বান ও প্রকৃতির প্রতি কৃতজ্ঞতা-এখনও অক্ষুণ্ন। এই পরিবর্তন একদিকে যেমন ঐতিহ্যের রূপান্তর, অন্যদিকে তেমনি সংস্কৃতির অভিযোজন। চৈত্র সংক্রান্তি কেবল একটি উৎসব নয়; এটি কৃষিজীবী মানুষের জীবনদর্শন। কৃষিজীবনের নারীর ব্রত, লোকবিশ্বাস, প্রকৃতির সঙ্গে সম্পর্ক এবং সামাজিক সংহতির এক অনন্য সমন্বয় এই উৎসব। এই সংস্কৃতি যতদিন বেঁচে থাকবে, ততদিন গ্রামীণ বাংলার শিকড়ও অটুট থাকবে। চৈত্র সংক্রান্তি তাই শুধু অতীতের স্মৃতি নয়-এটি ভবিষ্যতের সাংস্কৃতিক সম্ভাবনাও বটে। লেখক: সংবাদ কর্মী

Ads small one

জামায়াতকে ভয় দেখিয়ে লাভ নেই’: সংসদ সদস্য মুহা. আব্দুল খালেক

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই, ২০২৬, ১:৩৯ পূর্বাহ্ণ
জামায়াতকে ভয় দেখিয়ে লাভ নেই’: সংসদ সদস্য মুহা. আব্দুল খালেক

সংবাদদাতা: সাতক্ষীরা-২ আসনের সংসদ সদস্য মুহাদ্দিস আব্দুল খালেক বলেছেন, অন্যায়ের কাছে সাতক্ষীরার মানুষ কখনো মাথা নত করেনি এবং ভয় দেখিয়েও তাঁদের দমানো যাবে না।

সোমবার (২৭ জুলাই) বিকেলে সাতক্ষীরা পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের আমতলা মোড়ে জুলাই শহীদদের স্মরণ, তাঁদের আত্মার মাগফিরাত কামনা ও নতুন বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয়ে আয়োজিত আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রার্থী আব্দুল্লাহ মোনার সভাপতিত্বে ও ওয়ার্ড জামায়াতের আমির মো. জিয়ারুল ইসলামের সঞ্চালনায় এতে বক্তব্য দেন জেলা জামায়াতের আমির উপাধ্যক্ষ শহিদুল ইসলাম মুকুল, নায়েবে আমির শেখ নূরুল হুদা, সেক্রেটারি মাওলানা আজিজুর রহমান, সহকারী সেক্রেটারি মাহবুবুল আলম ও পৌর জামায়াতের আমির মো. জাহিদুল ইসলামসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংসদ সদস্য আরও বলেন, জনগণের ভোটে নির্বাচিত প্রতিনিধি হিসেবে এলাকার কোনো অনিয়ম ও দুর্নীতির কাছে তিনি মাথা নত করবেন না। সম্প্রতি সংসদে সাতক্ষীরায় রেললাইন স্থাপন, সুন্দরবন টেক্সটাইল মিল পুনরায় চালু, পৌরসভার আধুনিকায়ন, জলাবদ্ধতা নিরসন এবং সড়ক কাঠামোর উন্নয়নের দাবি তুলে ধরা হয়েছে উল্লেখ করে তিনি ‘জুলাই সনদ’ দ্রুত বাস্তবায়নের তাগিদ দেন। অনুষ্ঠান শেষে শহীদদের আত্মার মাগফিরাত ও দেশের শান্তি কামনায় বিশেষ দোয়া করা হয়।

ভারি বৃষ্টিতে ভাঙা রাস্তা মেরামত ও পানি নিষ্কাশনে আনসার-ভিডিপি

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই, ২০২৬, ১২:২০ পূর্বাহ্ণ
ভারি বৃষ্টিতে ভাঙা রাস্তা মেরামত ও পানি নিষ্কাশনে আনসার-ভিডিপি

কেশবপুর (যশোর) প্রতিনিধি: যশোরের কেশবপুর উপজেলায় ভারি বৃষ্টিপাতের কারণে সাতবাড়িয়া ইউনিয়নের দত্তনগর গ্রামসহ বিভিন্ন স্থানে রাস্তা ভেঙে যায়। বিষয়টি গত শুক্রবার উপজেলা আনসার-ভিডিপি কর্মকর্তা মো. মিয়াজান আলীকে জানানো হলে তিনি তাৎক্ষণিকভাবে যশোর জেলা কমান্ড্যান্ট মাজহারুল ইসলাম ভূঁইয়াকে অবহিত করেন। জেলা কমান্ড্যান্টের পরামর্শে আনসার সদস্যদের স্বেচ্ছাশ্রমের মাধ্যমে রাস্তা মেরামতের উদ্যোগ নেওয়া হয়। সেই লক্ষ্যে সাতবাড়িয়া ইউনিয়নের দলনেতা তালিব হোসাইন ও ২ নম্বর সাগরদাঁড়ি ইউনিয়নের দলনেতা আলী হোসেন প্লাটুনভুক্ত ভিডিপি সদস্যদের সঙ্গে নিয়ে রাস্তা মেরামত ও পাইপ বসিয়ে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করেন।
এ সময় উপস্থিত থেকে সাধুবাদ জানান সাতবাড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান গাজী গোলাম মোস্তফা। আনসার-ভিডিপির এই স্বেচ্ছাশ্রম ও সামাজিক কাজের প্রশংসা করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। উপজেলা আনসার-ভিডিপি কর্মকর্তা মিয়াজান আলী জানান, যেকোনো প্রতিকূল পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষের পাশে থাকতে তাঁর দল ও সদস্যরা সবসময় প্রস্তুত রয়েছেন।

প্রান্তিক যুব সংঘের সভায় জলাবদ্ধতা নিরসনে মানববন্ধনের সিদ্ধান্ত

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই, ২০২৬, ১২:১৯ পূর্বাহ্ণ
প্রান্তিক যুব সংঘের সভায় জলাবদ্ধতা নিরসনে মানববন্ধনের সিদ্ধান্ত

পত্রদূত ডেস্ক: সাতক্ষীরার সামাজিক সংগঠন ‘প্রান্তিক যুব সংঘ’-এর জুলাই মাসের মাসিক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার (২৭ জুলাই) বিকেল সাড়ে তিনটায় সাতক্ষীরার প্রাণনাথ মাধ্যমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সংগঠনের সভাপতি হৃদয় ম-লের সভাপতিত্বে সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের ভ্রাম্যমাণ লাইব্রেরির সাতক্ষীরা ইউনিটের লাইব্রেরি ইনচার্জ মো. আতিকুজ্জামান। এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক নূরজাহান খাতুন, সাংগঠনিক সম্পাদক সাদিয়া আফরিন, বোর্ড সদস্য ও সাধারণ সদস্যরা।
সভার শুরুতে সংগঠনের চলমান কার্যক্রমের অগ্রগতি পর্যালোচনা এবং সাংগঠনিক ভিত্তি মজবুত করার বিষয়ে আলোচনা করা হয়। বক্তারা মানবিক ও দায়িত্বশীল সমাজ গঠনে তরুণদের সামাজিক ও পরিবেশবিষয়ক স্বেচ্ছাসেবামূলক কাজে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।
সভায় সাতক্ষীরা জেলার দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা সমস্যা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। বক্তারা জানান, দীর্ঘস্থায়ী জলাবদ্ধতা স্থানীয় জনজীবন, কৃষি, শিক্ষা ও পরিবেশের ওপর মারাত্মক প্রভাব ফেলছে। এই সমস্যা নিরসনে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণে শিগগিরই একটি মানববন্ধন কর্মসূচি আয়োজনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
জলাবদ্ধতা নিরসনের দাবির পাশাপাশি নারীদের দক্ষতা উন্নয়নমূলক প্রশিক্ষণ, তরুণদের নেতৃত্ব বিকাশ এবং অনলাইন নিরাপত্তা ও ডিজিটাল সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে বিভিন্ন উদ্যোগ বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় সভায়।