সোমবার, ৮ জুন ২০২৬, ২৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
সোমবার, ৮ জুন ২০২৬, ২৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

চৈত্র সংক্রান্তি ও কৃষিজীবনের নারীর লোকায়ত সংস্কৃতি: গ্রামীণ বাংলার অন্তর্লীন উৎসবচেতনা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ১১ এপ্রিল, ২০২৬, ১১:৫৫ অপরাহ্ণ
চৈত্র সংক্রান্তি ও কৃষিজীবনের নারীর লোকায়ত সংস্কৃতি: গ্রামীণ বাংলার অন্তর্লীন উৎসবচেতনা

সচ্চিদানন্দ দে সদয়
চৈত্র সংক্রান্তি বাংলা বর্ষপঞ্জির শেষ দিন। এটি শুধু একটি ক্যালেন্ডারিক সমাপ্তি নয়, বরং গ্রামীণ বাংলার কৃষিনির্ভর জীবনের এক গভীর সাংস্কৃতিক উপলক্ষ। পুরোনো বছরের ক্লান্তি, অর্জন, ব্যর্থতা ও স্মৃতিকে বিদায় জানিয়ে নতুন বছরের সম্ভাবনাকে বরণ করার এক অনন্য সামাজিক আচার এই দিনকে ঘিরে গড়ে উঠেছে। বিশেষ করে কৃষিজীবী সমাজে, যেখানে প্রকৃতি ও জীবিকার সম্পর্ক অটুট, সেখানে চৈত্র সংক্রান্তি এক ধরনের মানসিক পুনর্জাগরণ। এই উৎসবের কেন্দ্রে রয়েছে কৃষিজীবনের নারী-যিনি ঘর, পরিবার, কৃষি এবং প্রকৃতির মধ্যে এক নীরব সেতুবন্ধন তৈরি করেন।বাংলা বছরের শেষ মাস চৈত্র। গ্রীষ্মের প্রচ- দাবদাহে প্রকৃতি যখন শুষ্ক ও রুক্ষ হয়ে ওঠে, তখন কৃষক সমাজ নতুন বর্ষার অপেক্ষায় থাকে। এই সময়েই চৈত্র সংক্রান্তি পালিত হয়, যা ঋতুচক্রের এক গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন চিহ্নিত করে। কৃষিজীবী মানুষের কাছে এই সময় মানে হলো-জমির প্রস্তুতি, বীজ সংরক্ষণ, এবং নতুন চাষের পরিকল্পনা। প্রকৃতির সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত এই সমাজে চৈত্র সংক্রান্তি তাই এক গভীর অর্থ বহন করে। চৈত্র সংক্রান্তির সবচেয়ে গভীর দিকটি হলো কৃষিজীবনের নারীর ভূমিকা। তারা শুধু গৃহিণী নন, বরং কৃষিভিত্তিক সমাজের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ। এই সময়ে নারীরা বিভিন্ন ব্রত পালন করেন, যা পরিবারের কল্যাণ, স্বামীর কৃষিকাজের সফলতা এবং সন্তানের সুস্থতার জন্য নিবেদিত। তাদের ব্রতকর্মের মধ্যে রয়েছে-নিরামিষ আহার, উপবাস, ঘর পরিষ্কার এবং বিশেষ শাক-সবজি সংগ্রহ। বিশেষভাবে ‘চৌদ্দ শাক’ আহারের ঐতিহ্য এই সংস্কৃতির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এই চৌদ্দ শাকের মধ্যে একটি অবশ্যই তিতা স্বাদের হতে হয়, যেমন গিমা শাক। বিশ্বাস করা হয়, এই শাক শরীরকে শুদ্ধ করে এবং প্রকৃতির সঙ্গে মানুষের ভারসাম্য বজায় রাখে। গ্রামীণ সমাজে চৈত্র সংক্রান্তি শুধু ধর্মীয় উৎসব নয়; এটি প্রকৃতি পর্যবেক্ষণের এক লোকজ পদ্ধতি। কুড়িয়ে পাওয়া শাক, বৃষ্টির পূর্বাভাস, গাছপালার অবস্থা-সবকিছুই ভবিষ্যৎ কৃষির ইঙ্গিত বহন করে বলে বিশ্বাস করা হয়। এই বিশ্বাস কৃষি সমাজকে প্রকৃতির প্রতি আরও সংবেদনশীল করে তোলে। প্রকৃতিকে শোষণ নয়, বরং সহাবস্থানের দৃষ্টিতে দেখা-এই দর্শনই চৈত্র সংক্রান্তির অন্তর্নিহিত শিক্ষা। চৈত্র সংক্রান্তির সঙ্গে যুক্ত গাজন ও চড়ক উৎসব গ্রামীণ বাংলার লোকসংস্কৃতির এক শক্তিশালী প্রকাশ। শিব ও গৌরী কেন্দ্রিক এই উৎসবে নৃত্য, কীর্তন এবং শোভাযাত্রা গ্রামজীবনে এক ভিন্নমাত্রা যোগ করে। চড়ক উৎসবে ভক্তদের আত্মত্যাগমূলক আচার-অনুষ্ঠান হলেও এর মূল উদ্দেশ্য ভক্তির প্রতীকী প্রকাশ। আধুনিক সময়ে অনেক ক্ষেত্রে এই আচার প্রতীকী রূপে সীমাবদ্ধ হলেও এর সাংস্কৃতিক গুরুত্ব অক্ষুণ্ন।
চৈত্র সংক্রান্তির প্রস্তুতিতে নারীর ভূমিকা সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ। তারা সকাল থেকে ঘর পরিষ্কার, উঠান গোছানো, গোয়ালঘর পরিচ্ছন্ন করা এবং পশুপালনের কাজে সক্রিয় থাকেন। দুপুরের বিশেষ নিরামিষ ভোজ-ছাতু, চিড়া, দই, মুড়ি, খই, তিল ও নারিকেলের নাড়ু-সবকিছুর প্রস্তুতিও তাদের হাতেই সম্পন্ন হয়। এই শ্রম সাধারণত অদৃশ্য থেকে যায়, কিন্তু উৎসবের প্রাণশক্তি গড়ে তোলে এই নারীরাই। চৈত্র সংক্রান্তির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক অনুষঙ্গ হলো হালখাতা। পুরোনো হিসাব শেষ করে নতুন খাতা খোলার মাধ্যমে ব্যবসায়ীরা নতুন বছরের সূচনা করেন। এই সময়ে দোকান পরিষ্কার, মিষ্টি বিতরণ, এবং গ্রাহকদের আমন্ত্রণ জানানোর মাধ্যমে এক সামাজিক সম্পর্ক পুনর্গঠিত হয়। এটি শুধু অর্থনৈতিক প্রক্রিয়া নয়; এটি বিশ্বাস ও সম্পর্কের পুনর্নবীকরণ। চড়ক উৎসবের ইতিহাস বহু পুরোনো। কিছু লোককথা অনুযায়ী, ১৪৮৫ খ্রিস্টাব্দে রাজা সুন্দরানন্দ ঠাকুর এই উৎসবের প্রচলন করেন বলে বিশ্বাস করা হয়। তবে এর ঐতিহাসিক সত্যতা নিয়ে বিতর্ক রয়েছে। ১৮৬৫ সালে ব্রিটিশ সরকার কিছু কঠোর আচার নিষিদ্ধ করলেও লোকজ সংস্কৃতিতে এর উপস্থিতি এখনও রয়ে গেছে। এটি গ্রামীণ মানুষের ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক পরিচয়ের অংশ হয়ে আছে। চৈত্র সংক্রান্তি উপলক্ষে বসা মেলা গ্রামীণ সমাজের মিলনকেন্দ্র। এখানে বিভিন্ন বয়স, শ্রেণি ও পেশার মানুষ একত্রিত হন। এটি শুধু বিনোদন নয়; এটি সামাজিক যোগাযোগ ও সাংস্কৃতিক বিনিময়ের ক্ষেত্র। আগে এই মেলায় আত্মীয়-স্বজনদের আমন্ত্রণ জানানো হতো, নতুন পোশাক দেওয়া হতো এবং বিশেষ খাবারের আয়োজন করা হতো। আজও সেই ঐতিহ্যের কিছু অংশ টিকে আছে। শহুরে সংস্কৃতির প্রভাব গ্রামীণ চৈত্র সংক্রান্তিকেও পরিবর্তিত করেছে। অনেক আচার সংক্ষিপ্ত হয়েছে, কিছু রীতি প্রতীকী রূপ নিয়েছে। তবে মূল চেতনা-নবজীবনের আহ্বান ও প্রকৃতির প্রতি কৃতজ্ঞতা-এখনও অক্ষুণ্ন। এই পরিবর্তন একদিকে যেমন ঐতিহ্যের রূপান্তর, অন্যদিকে তেমনি সংস্কৃতির অভিযোজন। চৈত্র সংক্রান্তি কেবল একটি উৎসব নয়; এটি কৃষিজীবী মানুষের জীবনদর্শন। কৃষিজীবনের নারীর ব্রত, লোকবিশ্বাস, প্রকৃতির সঙ্গে সম্পর্ক এবং সামাজিক সংহতির এক অনন্য সমন্বয় এই উৎসব। এই সংস্কৃতি যতদিন বেঁচে থাকবে, ততদিন গ্রামীণ বাংলার শিকড়ও অটুট থাকবে। চৈত্র সংক্রান্তি তাই শুধু অতীতের স্মৃতি নয়-এটি ভবিষ্যতের সাংস্কৃতিক সম্ভাবনাও বটে। লেখক: সংবাদ কর্মী

Ads small one

তথ্যের সত্যতা নিশ্চিতকরণে সচেতনতা ও ফ্যাক্ট-চেকিং শীর্ষক সেমিনার

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ৮ জুন, ২০২৬, ৩:৪৫ অপরাহ্ণ
তথ্যের সত্যতা নিশ্চিতকরণে সচেতনতা ও ফ্যাক্ট-চেকিং শীর্ষক সেমিনার

খুলনা আঞ্চলিক তথ্য অফিস পিআইডি’র আয়োজনে ‘তথ্যের সত্যতা নিশ্চিতকরণে সচেতনতা ও ফ্যাক্ট-চেকিং’ শীর্ষক দিনব্যাপী সেমিনার আজ (সোমবার) চুয়াডাঙ্গা ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত হয়। সেমিনারে প্রধান অতিথি ছিলেন চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসক লুৎফুন নাহার।

সেমিনারে প্রধান অতিথি বলেন, আমরা তথ্য ভান্ডারের মধ্যে বসবাস করছি, যেখানে সব তথ্যের সত্যতা খালি চোখে যাচাই করা সম্ভব নয়। প্রত্যেক নাগরিক বুঝে হোক না বুঝে হোক প্রতিনিয়ত তথ্য শেয়ার করছেন। এতে অপতথ্যের অনিয়ন্ত্রিত ছড়াছড়ি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ সর্বত্র বৃদ্ধি পাচ্ছে। গুণগত শিক্ষার মতো গুণগত সংবাদ পরিবেশনও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ফ্যাক্ট চেকিং রাজনৈতিক নেতা, সরকারি দপ্তর ও সাংবাদিকদের কাজের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করে। ফলস্বরূপ প্রত্যেক ঘটনার গ্রহণযোগ্যতা যেমন বৃদ্ধি পায় তেমনি জনগণের তথ্য অধিকার নিশ্চিত হয়। তিনি সাংবাদিকদের কোন প্রতিবেদন তৈরির পূর্বে গভীরভাবে পর্যালোচনা করতে এবং সত্য প্রকাশে অবিচল থাকতে অনুরোধ করেন। আঞ্চলিক তথ্য অফিস খুলনার আয়োজনে তথ্যের সত্যতা নিশ্চিতকরণে সচেতনতা ও ফ্যাক্ট চেকিং সেমিনারটি অত্যন্ত সময়োপযোগী বলে তিনি সংশ্লিষ্টদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেন।

সেমিনারে মূলপ্রবন্ধ উপস্থাপন করেন খুলনা আঞ্চলিক তথ্য অফিসের সিনিয়র তথ্য অফিসার মো: মেহেদী হাসান। মূলপ্রবন্ধে অপতথ্যরোধে ফ্যাক্ট চেকিং এর গুরুত্ব তুলে ধরা এবং বিভিন্ন প্রয়োজনীয় টুলস সম্পর্কে ধারনা দেয়া হয়।

খুলনা আঞ্চলিক তথ্য অফিসের উপপ্রধান তথ্য অফিসার এ এস এম কবীরের সভাপতিত্বে সেমিনারে চুয়াডাঙ্গা জেলা তথ্য অফিসার শিল্পী মন্ডল, চুয়াডাঙ্গা প্রেসক্লাবের সভাপতি নাজমুল হক স্বপন, জেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি এ্যাড. মানিক আকবার-সহ অন্যান্য গণমাধ্যমকর্মীরা বক্তব্য রাখেন। সেমিনারটি সঞ্চালনা করেন সহকারী তথ্য অফিসার মোঃ রমজান আলী।

সেমিনারে চুয়াডাঙ্গার ৩৫ জন প্রিন্ট, ইলেক্ট্রনিক ও অনলাইন মিডিয়ার কর্মীরা অংশ নেন। তথ্যবিবরণী

ওয়েটার তত্ত্বের দেশে ক্যারিয়ারের মৃত্যু

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ৮ জুন, ২০২৬, ৩:৩৯ অপরাহ্ণ
ওয়েটার তত্ত্বের দেশে ক্যারিয়ারের মৃত্যু

মো: মামুন হাসান

বাংলাদেশে একজন শিক্ষার্থী যদি বলে সে ডাক্তার হতে চায়, আমরা তাকে বাহবা দিই। ইঞ্জিনিয়ার হতে চাইলে গর্ব করি। বিসিএসের প্রস্তুতি নিলে আত্মীয়স্বজন পর্যন্ত তাকে নিয়ে স্বপ্ন দেখতে শুরু করে। কিন্তু একই শিক্ষার্থী যদি বলে সে ট্যুরিজম এন্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগে পড়তে চায়, তখন অনেকের মুখে একটাই প্রশ্ন শোনা যায় “হোটেলে চাকরি করবে নাকি?”

এই প্রশ্নটি শুধু একটি প্রশ্ন নয়; এটি আমাদের সমাজের দীর্ঘদিনের অজ্ঞতা, সংকীর্ণতা এবং পেশাগত বৈষম্যের প্রতিচ্ছবি। অবাক লাগে, যে সমাজ বিদেশে গিয়ে পাঁচতারকা হোটেলের সেবা দেখে মুগ্ধ হয়, সেই সমাজ নিজের দেশে হসপিটালিটি পেশাজীবীদের সম্মান দিতে কৃপণতা করে। যে অভিভাবক সন্তানকে বিদেশে পাঠিয়ে আন্তর্জাতিক হোটেলে চাকরি পেলে গর্ব করেন, তিনিই দেশে একই বিষয়ে পড়াশোনা করতে চাইলে নিরুৎসাহিত করেন।এর চেয়ে বড় আত্মবিরোধিতা আর কী হতে পারে?

বাস্তবতা হলো, বাংলাদেশের অন্যতম অবহেলিত অথচ সম্ভাবনাময় শিক্ষাখাত ট্যুরিজম এন্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট। এই অবহেলার কারণ দক্ষতার অভাব নয়, সুযোগের অভাবও নয়; মূল সমস্যা আমাদের মানসিকতায়। আমরা এখনো মনে করি সাদা অ্যাপ্রোন পরলে সম্মান আছে, টাই পরে অফিসে বসলে মর্যাদা আছে, কিন্তু অতিথি ব্যবস্থাপনা, হোটেল পরিচালনা বা পর্যটন শিল্পে কাজ করলে সম্মান কমে যায়। অথচ বিশ্বের উন্নত দেশগুলো বহু আগেই এই সংকীর্ণ চিন্তা থেকে বেরিয়ে এসেছে।

সুইজারল্যান্ডের মতো দেশে হোটেল ম্যানেজমেন্ট একটি এলিট শিক্ষা হিসেবে বিবেচিত হয়। বিশ্বের অনেক রাষ্ট্রপ্রধান, ব্যবসায়ী এবং বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ কর্মকর্তারাও হসপিটালিটি বিষয়ে প্রশিক্ষণ নিয়েছেন। কারণ এই শিক্ষা মানুষকে শুধু হোটেল পরিচালনা নয়, নেতৃত্ব, যোগাযোগ, সংকট মোকাবিলা এবং মানুষকে বোঝার দক্ষতা শেখায়। কিন্তু বাংলাদেশে এখনো অনেক শিক্ষার্থী আত্মীয়স্বজনের কটূক্তির ভয়ে এই বিষয়ে ভর্তি হতে সাহস পায় না। আরেকটি প্রশ্ন আমাদের বিবেককে নাড়া দেওয়া উচিত। দেশের বড় বড় পাঁচতারকা হোটেলগুলোতে বিদেশি শেফ, বিদেশি কনসালট্যান্ট, বিদেশি ম্যানেজার কেন কাজ করেন? তারা কি আমাদের চেয়ে বেশি মেধাবী? অবশ্যই নয়। তাদের বড় শক্তি হলো তারা এমন সমাজ থেকে এসেছে, যেখানে দক্ষতাকে সম্মান করা হয়। আর আমরা এখনো ডিগ্রির নাম দেখে সম্মান দিই, দক্ষতার মূল্য নয়। ফলে প্রতি বছর কোটি কোটি টাকার বৈদেশিক মুদ্রা বিদেশে চলে যাচ্ছে।

 

যে পদগুলোতে বাংলাদেশের তরুণরা কাজ করতে পারত, সেগুলোতে বিদেশিরা নিয়োগ পাচ্ছে। আমরা একদিকে বেকারত্বের অভিযোগ করছি, অন্যদিকে কর্মসংস্থানের একটি বিশাল ক্ষেত্রকে অবজ্ঞা করছি। এটা কি আত্মঘাতী নয়? আরও দুঃখজনক হলো, দেশের অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ট্যুরিজম এন্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিষয়ে পড়াশোনার সুযোগ থাকলেও সে বিষয়ে সচেতনতা তৈরির উদ্যোগ খুবই সীমিত। ক্যারিয়ার গাইডেন্সে এই খাতের আলোচনা প্রায় অনুপস্থিত। যেন এটি কোনো গুরুত্বপূর্ণ পেশাই নয়, কিন্তু বাস্তবতা সম্পূর্ণ উল্টো।

বিশ্ব অর্থনীতিতে পর্যটন ও আতিথেয়তা শিল্প এখন অন্যতম বৃহৎ নিয়োগদাতা খাত। দুবাই, সিঙ্গাপুর, মালদ্বীপ, থাইল্যান্ড কিংবা তুরস্কের অর্থনীতির দিকে তাকালেই বোঝা যায় কীভাবে পর্যটন ও হসপিটালিটি লাখ লাখ মানুষের জীবন বদলে দিয়েছে।

বাংলাদেশের রয়েছে কক্সবাজার, সুন্দরবন, সেন্ট মার্টিন, পাহাড়ি অঞ্চল, প্রতœতাত্ত্বিক ঐতিহ্য এবং সমৃদ্ধ সংস্কৃতি। কিন্তু প্রশ্ন হলো, আমরা কি সেই সম্ভাবনা কাজে লাগানোর জন্য প্রয়োজনীয় মানবসম্পদ তৈরি করছি? উত্তর খুব সুখকর নয়। আমরা এখনো এমন এক সমাজে বাস করি, যেখানে অনেক মানুষ মনে করেন হোটেল ম্যানেজমেন্ট মানে ট্রে হাতে অতিথির সামনে দাঁড়িয়ে থাকা। অথচ তারা জানেন না, সেই হোটেলের ব্যবস্থাপক শত কোটি টাকার সম্পদ পরিচালনা করেন, শত শত কর্মীর নেতৃত্ব দেন এবং একটি আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডের সুনাম রক্ষার দায়িত্ব পালন করেন। সমস্যা আসলে পেশার নয়; সমস্যা আমাদের দৃষ্টিভঙ্গির।

আমরা সন্তানদের শেখাই “মানুষ কী বলবে”। কিন্তু শেখাই না “তুমি কী হতে চাও”। আমরা মর্যাদা খুঁজি পেশার নামে, দক্ষতায় নয়। ফলাফল হলো, অনেক তরুণ নিজের আগ্রহের জায়গা ছেড়ে সামাজিক চাপের কাছে হার মানে। কেউ হয়তো ভালো হসপিটালিটি ম্যানেজার হতে পারত, কেউ আন্তর্জাতিক মানের শেফ, কেউ পর্যটন উদ্যোক্তা। কিন্তু সমাজের ভ্রুকুটির কারণে তারা অন্য পথে চলে যায়।

বাংলাদেশ যদি সত্যিই দক্ষতা নির্ভর অর্থনীতি গড়তে চায়, তাহলে এই মানসিকতা বদলাতেই হবে। আজ প্রয়োজন একটি সামাজিক আন্দোলনের। এমন একটি আন্দোলন, যা বলবে সব পেশার মর্যাদা সমান নয়, কিন্তু সব সম্মানজনক পেশার মর্যাদা থাকা উচিত। আর হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট নিঃসন্দেহে একটি সম্মানজনক, আধুনিক এবং আন্তর্জাতিক পেশা।

প্রশ্ন একটাই আর কতদিন আমরা অজ্ঞতার কারণে একটি সম্ভাবনাময় খাতকে অবহেলা করব? আর কতদিন আমরা বিদেশি দক্ষ জনবল আমদানি করব, অথচ নিজের দেশের তরুণদের স্বপ্নকে তুচ্ছজ্ঞান করব? আর কতদিন আমরা পেশাকে নয়, পেশার নামকে সম্মান দেব? সম্ভবত সময় এসেছে আয়নায় নিজেদের দেখার। কারণ হোটেল ম্যানেজমেন্টের সংকট আসলে এই খাতের নয়; সংকট আমাদের সামাজিক মানসিকতার। আর এই মানসিকতার পরিবর্তন না হলে আমরা শুধু একটি শিক্ষাবিষয়কে নয়, বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ অর্থনীতির একটি বড় সম্ভাবনাকেও হারাতে থাকব।

লেখক: মো: মামুন হাসান, ইনস্ট্রাক্টর (টেক) ও বিভাগীয় প্রধান, ট্যুরিজম এন্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগ, সাতক্ষীরা সরকারি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট।

 

 

শার্শা প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি আসাদুজ্জামান আসাদকে হয়রানিমূলক গ্রেপ্তার

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ৮ জুন, ২০২৬, ৩:২৯ অপরাহ্ণ
শার্শা প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি আসাদুজ্জামান আসাদকে হয়রানিমূলক গ্রেপ্তার

এম এ রহিম, বেনাপোল (যশোর): যশোরের শার্শা প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক বিডিনিউজ২৪ডটকম এর বেনাপোল প্রতিনিধি আসাদুজ্জামান আসাদকে হয়রানিমূলক গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তার আটকের প্রতিবাদে মুক্তির দাবীতে শার্শা থানার সামনে অবস্থান নিয়েছেন গণমাধ্যম কর্মীরা। নিঃস্বর্ত মুক্তি চান তারা।

বেনাপোল প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক বকুল মাহবুব জানান, সোমবার গভীর রাতে যশোরের শার্শা জামতলার নিজবাড়ী থেকে সুনির্দিষ্ট কোন অভিযোগ ছাড়াই যশোর ডিবি পুলিশ পরিচয়ে গ্রেপ্তার করা হয় সিনিয়র সাংবাদিক আসাদকে। সিসি ক্যামেরা খুলে নিয়ে যাওয়া হয়। বেদম মারপিট করে আহত করা হয় সাংবাদিকের ভাগ্নে কলেজ পড়ুয়া শিক্ষার্থী তরঙ্গকে। পরে পরিবারের কাছ থেকে মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয় তাকে।

সাংবাদিককে আটকের প্রতিবাদে সোমবার সকাল থেকে থানার সামনে অবস্থান নিয়েছে বিভিন্ন এলাকার সাংবাদিকেরা। নিঃস্বর্ত মুক্তি চান তারা। থানায় আটক রাখা হয়েছে তাকে।
এসব বিষয়ে জানার চেষ্টা করলে ফোন রিসিভ করেন নি শার্শা থানার ওসি।

সাংবাদিক জামাল হোসেন ও মনির হোসেন জানান, নির্বাচিত সরকারের সময় একজন সিনিয়র সাংবাদিককে এভাবে হয়রানিমূলক আটক স্বাধীন সাংবাদিকতার উপর হস্তক্ষেপ। সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণœ হয়। তার মুক্তির দাবী জানান তারা।

সাংবাদিকের হয়রানিমুলক গ্রেপ্তারের নিন্দা ও প্রতিবাদসহ মুক্তির দাবী জানান যশোরসহ বিভিন্ন এলাকার গণমাধ্যম কর্মীরা।