মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৪ ভাদ্র ১৪৩৩
মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৪ ভাদ্র ১৪৩৩

টাকার মলিন ময়লা চেহারা আর ভিন্ন দেশের মুদ্রা!

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৪:১২ অপরাহ্ণ
টাকার মলিন ময়লা চেহারা আর ভিন্ন দেশের মুদ্রা!

আল মুতাসিম বিল্লাহ সুমন

সেদিন সকালে সাতক্ষীরা শহরের লাবনী মোড় যাওয়ার জন্য ইজিবাইক থেকে নামার পর ইজিবাইক চালককে একটি পঞ্চাশ টাকার নোট দিলাম। তিনি ভাড়া কেটে আমাকে যে বিশ টাকার নোটটি ফেরত দিলেন, সেটি হাতে নিয়েই আমার মনটা বেশ খারাপ হয়ে গেল। নোটটির মাঝ বরাবর একটি বড় ছিদ্র, কিনারায় স্বচ্ছ কসটেপ লাগানো, আর সারা গায়ে ময়লার কালচে আস্তরণ। নোটটি থেকে এক ধরনের ভ্যাপসা গন্ধও আসছিল। আমি রিকশাচালককে বললাম, “এই ছেঁড়া টাকাটা তো কেউ নিতে চাইবে না, অন্য একটা নোট দেন।” তিনি মলিন হেসে বললেন, “আমার কাছেও তো কেউ একজন এই টাকাটাই দিছে। আমি গরিব মানুষ, এই ছেঁড়া টাকা নিয়ে কই যাব?”

তার কথা শুনে আমি আর কিছু বলতে পারলাম না। টাকাটা পকেটে রেখে দিলাম। কিন্তু সারা রাস্তা একটা বিষয়ই আমার মাথায় ঘুরপাক খাচ্ছিল, কেন আমাদের দেশের টাকার এমন করুণ অবস্থা? বাংলাদেশের কাগুজে মুদ্রা, বিশেষ করে ছোট মানের নোটগুলোর (যেমন: ২, ৫, ১০, ২০ এবং ৫০ টাকা) দিকে তাকালে মাঝে মাঝে খুব হতাশা কাজ করে। এই টাকাগুলো এত বেশি ময়লা, ছেঁড়া আর ফাটা থাকে যে, অনেক সময় এগুলো ব্যবহার করাই মুশকিল হয়ে পড়ে।

আজ আমি আপনাদের সাথে এই বিষয়টি নিয়েই বিস্তারিত কিছু কথা বলতে চাই। একজন সাধারণ নাগরিক হিসেবে আমার মনে হয়েছে, আমাদের দৈনন্দিন জীবনের এই পরিচিত সমস্যাটি নিয়ে আলোচনা হওয়া খুব প্রয়োজন।

আমাদের দেশের টাকার এই জরাজীর্ণ অবস্থার পেছনে কোনও একটি নির্দিষ্ট কারণ নেই, বরং আমাদের বেশ কিছু বদভ্যাস এবং অসচেতনতাই এর জন্য প্রধানত দায়ী। আমি যদি কারণগুলো একটু গুছিয়ে বলি, তবে বিষয়টি আরও স্পষ্ট হবে।

আমাদের দেশের সাধারণ মানুষের মধ্যে মানিব্যাগ বা ওয়ালেট ব্যবহারের প্রবণতা তুলনামূলক ভাবে কম। অনেকেই টাকা ভাঁজ করে শার্টের বুক পকেটে, প্যান্টের পকেটে বা লুঙ্গির গিঁটে রাখেন। বারবার এভাবে মুড়িয়ে বা কুঁচকে রাখার ফলে কাগুজে নোটের ফাইবার বা তন্তু খুব দ্রুত নষ্ট হয়ে যায়। একটা নতুন নোট বাজারে আসার কয়েক মাসের মধ্যেই মাঝখান থেকে ছিঁড়তে শুরু করে স্্েরফ এই বারবার ভাঁজ করার কারণে।

কাঁচাবাজার, মাছের বাজার বা মাংসের দোকানগুলোতে গেলে একটি সাধারণ দৃশ্য চোখে পড়ে। বিক্রেতারা মাছ বা মাংস কাটছেন, হাত রক্ত বা কাদায় মাখামাখি, আর সেই অবস্থাতেই তারা ক্রেতার কাছ থেকে টাকা নিচ্ছেন বা ভাংতি দিচ্ছেন। এই রক্ত, পানি এবং কাদা টাকার গায়ে লেগে যায়। এরপর সেই টাকা যখন অন্যের হাতে যায়, তখন সেটিতে আরও ধুলাবালি জমতে থাকে। ধীরে ধীরে নোটটি তার আসল রঙ হারিয়ে কালচে ও দুর্গন্ধযুক্ত হয়ে যায়।

এটি আমাদের দেশের আরেকটি অদ্ভুত এবং ক্ষতিকর বদভ্যাস। অনেক সময় দেখা যায় টাকার গায়ে কেউ নিজের নাম লিখে রেখেছেন, কেউ ফোন নম্বর লিখেছেন, আবার কেউবা কলম ঠিকমতো কালি দিচ্ছে কিনা তা পরীক্ষা করার জন্য টাকার ওপর হিজিবিজি দাগ কেটেছেন। ব্যাংকগুলোতেও অনেক সময় হিসাব মেলানোর সুবিধার জন্য টাকার বান্ডিলের ওপর সিল মারা হয় বা পেনসিল দিয়ে লেখা হয়। এই লেখালেখির কারণে নোটটি দ্রুত তার মান হারায়।

আগে ব্যাংক থেকে টাকার বান্ডিল দেওয়ার সময় মাঝখানে এমনভাবে স্টেপলারের পিন মারা হতো যে, পিন খুলতে গেলেই টাকা ছিঁড়ে যেত। যদিও বাংলাদেশ ব্যাংক বর্তমানে টাকায় পিন মারার ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে, তবুও এর রেশ এখনো পুরোপুরি কাটেনি। অনেক সময় পিনের ছিদ্র থাকা টাকাগুলো হাতবদল হতে হতে সেই ছিদ্র বড় হয়ে টাকা দুই টুকরো হয়ে যায়।

টাকা একটু ছিঁড়ে গেলেই আমরা তার ওপর আঠালো কসটেপ লাগিয়ে দিই। কিছুদিন পর কসটেপের নিচের আঠা কালো হয়ে যায় এবং পুরো নোটটি শক্ত হয়ে ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়ে।

আমাদের টাকার এই বেহাল দশার কথা ভাবতে গিয়ে আমার মনে হলো, উন্নত দেশগুলোর মুদ্রার অবস্থা কেমন সেটি জানা দরকার। আমরা যদি মার্কিন ডলার, ব্রিটিশ পাউন্ড বা ইউরোপের ইউরোর দিকে তাকাই, তাহলে আকাশ-পাতাল পার্থক্য দেখতে পাবো।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ডলার মূলত সাধারণ কাগজ দিয়ে তৈরি হয় না। এটি ৭৫ শতাংশ তুলা এবং ২৫ শতাংশ লিনেন-এর মিশ্রণে তৈরি। ফলে এটি সাধারণ কাগজের চেয়ে অনেক বেশি টেকসই হয়। পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, একটি এক ডলারের নোট ছিঁড়ে যাওয়ার আগে প্রায় ৪,০০০ বার ভাঁজ করা যায়। এছাড়া আমেরিকানদের মধ্যে মানিব্যাগ ব্যবহারের হার প্রায় শতভাগ। তারা নোটগুলো ভাঁজ না করে সোজা অবস্থায় মানিব্যাগে রাখেন। ফলে একটি নোট বছরের পর বছর নতুনের মতো থাকে।

বিশ্বের অনেক দেশ এখন কাগুজে নোটের বদলে পলিমার বা প্লাস্টিকের নোট ব্যবহার করছে। ১৯৮৮ সালে অস্ট্রেলিয়া প্রথম তাদের দেশে পলিমার নোট চালু করে। এরপর যুক্তরাজ্য, কানাডা, নিউজিল্যান্ডসহ বহু দেশ এই পথে হেঁটেছে। পলিমার নোটের সুবিধা হলো এটি পানিতে ভেজে না, সহজে ছেঁড়ে না এবং ময়লা হলে মুছে ফেলা যায়। যুক্তরাজ্যের ব্যাংক অব ইংল্যান্ড যখন পলিমার নোট চালু করে, তখন তারা দেখিয়েছিল যে এই নোটগুলো সাধারণ কাগজের নোটের চেয়ে অন্তত আড়াই গুণ বেশি টেকসই। আমাদের দেশেও ২০০০ সালের দিকে একবার ১০ টাকার পলিমার নোট চালু করা হয়েছিল, কিন্তু অজানা কারণে সেটি বেশিদিন টেকেনি এবং বাজার থেকে তুলে নেওয়া হয়।

জানলে অবাক হবেন, বিশ্বের অনেক দেশে তাদের মুদ্রার যতœ নেওয়া শুধু নাগরিক দায়িত্বই নয়, বরং এটি আইনের অংশ। আপনি চাইলেই অন্য কোনও দেশের মুদ্রার সাথে যথেচ্ছ আচরণ করতে পারবেন না।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আইন অনুযায়ী, সে দেশের মুদ্রাকে ইচ্ছাকৃত ভাবে কাটা, ছিঁড়ে ফেলা, লেখালেখি করা, ময়লা করা, বা যে কোনোভাবে বিকৃত করা সম্পূর্ণ বেআইনি। যদি কেউ এই আইন ভঙ্গ করে, তবে তাকে মোটা অঙ্কের জরিমানা এমনকি ৬ মাস পর্যন্ত কারাদন্ড ভোগ করতে হতে পারে।

তুরস্কেও তাদের মুদ্রা ‘লিরা’র অবমাননা বা ইচ্ছাকৃত ভাবে নষ্ট করাকে রাষ্ট্রীয় অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হয়, কারণ মুদ্রার গায়ে তাদের জাতির পিতা মোস্তফা কামাল আতাতুর্কের ছবি থাকে। ভারতেও রিজার্ভ ব্যাংক অব ইন্ডিয়া (আরবিআই) “ক্লিন নোট পলিসি” বা পরিচ্ছন্ন নোট নীতি গ্রহণ করেছে, যার অধীনে টাকার ওপর কিছু লেখা সম্পূর্ণ বেআইনি ঘোষণা করা হয়েছে।
দুঃখজনক হলেও সত্য, আমাদের দেশে এই ধরনের কড়া আইন বা তার সঠিক প্রয়োগ নেই। মুদ্রা যে একটি রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্বের প্রতীক, এই বোধটুকু আমাদের অনেকের মাঝেই অনুপস্থিত।
অনেকেই হয়তো ভাবছেন, টাকা একটু ময়লা হলে সমস্যা কী? এটি তো আর আমরা খাচ্ছি না! কিন্তু চিকিৎসাবিজ্ঞান বলছে ভিন্ন কথা।

ময়লা, স্যাঁতসেঁতে এবং ফাটা টাকা জীবাণুর এক বিশাল আস্তানা। নিউইয়র্ক বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি গবেষণায় দেখা গেছে, পুরনো কাগুজে নোটে প্রায় ৩,০০০ ধরণের ব্যাকটেরিয়া থাকতে পারে, যার মধ্যে ই. কোলাই এবং সালমোনেলার মতো মারাত্মক ব্যাকটেরিয়াও রয়েছে, যা ডায়রিয়া এবং ফুড পয়জনিংয়ের কারণ হতে পারে। আমাদের দেশে যক্ষ্মা বা চর্মরোগে আক্রান্ত কোনও ব্যক্তি যদি তার ব্যবহৃত ময়লা টাকা আরেকজনকে দেন, তবে সেই জীবাণু খুব সহজেই সুস্থ মানুষের দেহে প্রবেশ করতে পারে। বিশেষ করে শিশুরা অনেক সময় না বুঝে টাকা মুখে দিয়ে ফেলে, যা তাদের স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত হুমকিস্বরূপ।

এছাড়া এর একটি বড় অর্থনৈতিক দিকও রয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংককে প্রতি বছর শত শত কোটি টাকা খরচ করে পুরনো, ছেঁড়া নোট পুড়িয়ে ফেলে নতুন নোট ছাপাতে হয়। এটি দেশের অর্থনীতির জন্য একটি বড় অপচয়। আমরা যদি একটু যতœশীল হয়ে আমাদের নোটগুলো ব্যবহার করি, তাহলে এই বিশাল অংকের সরকারি অর্থ বেঁচে যায়, যা দেশের অন্য কোনও উন্নয়নমূলক কাজে লাগানো সম্ভব।

এই সমস্যা থেকে মুক্তির উপায় কী? আমি মনে করি, সরকার এবং জনগণ উভয়কেই এখানে সমান দায়িত্ব পালন করতে হবে।

বাংলাদেশ ব্যাংককে “ক্লিন নোট পলিসি” আরও কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করতে হবে। টাকার গায়ে লেখা বা পিন মারা সম্পূর্ণরূপে বন্ধ করতে হবে এবং আইন ভঙ্গকারীদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে হবে। এছাড়া, ছোট মানের নোটগুলো (যেমন ১০, ২০, ৫০ টাকা) যা সবচেয়ে বেশি হাতবদল হয় এবং দ্রুত নষ্ট হয়, সেগুলোর জন্য উন্নতমানের কাগজ বা পুনরায় পলিমার নোট চালু করার কথা গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করা উচিত।

আমাদের সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন মানসিকতার পরিবর্তন। টাকা শুধু বিনিময়ের মাধ্যম নয়, এটি আমাদের স্বাধীন দেশের একটি প্রতীক। টাকার ওপর আমাদের জাতির পিতার ছবি থাকে, জাতীয় স্মৃতিসৌধ বা শহীদ মিনারের ছবি থাকে। একটি ছেঁড়া বা ময়লা টাকা দেশের ভাবমূর্তির সাথেও বেমানান। আমাদের উচিত ছোটবেলা থেকেই সন্তানদের শেখানো যে টাকাকে কীভাবে সম্মান করতে হয়।

সবাইকে মানিব্যাগ ব্যবহারের অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে। টাকা ভাঁজ করে বা দুমড়ে-মুচড়ে পকেটে রাখার অভ্যাস ত্যাগ করতে হবে। যারা কাঁচাবাজারে কাজ করেন, তাদের উচিত একটি শুকনো কাপড় বা তোয়ালে রাখা, যাতে ভেজা বা ময়লা হাতে সরাসরি টাকা ধরতে না হয়।
বর্তমানে আমাদের দেশে বিকাশ, নগদ, রকেট-এর মতো মোবাইল ফিনান্সিয়াল সার্ভিসেস ব্যাপক জনপ্রিয়তা পেয়েছে। ডেবিট ও ক্রেডিট কার্ডের ব্যবহারও বাড়ছে। আমরা যদি ছোটখাটো কেনাকাটায় কাগুজে নোটের পরিবর্তে ডিজিটাল পেমেন্টের অভ্যাস গড়ে তুলি, তবে কাগুজে নোটের ওপর চাপ অনেক কমে যাবে এবং টাকা দীর্ঘদিন পরিষ্কার থাকবে।

একটি দেশের মুদ্রা সে দেশের সভ্যতার আয়না। বিদেশ থেকে আসা কোনও পর্যটক যখন তার হাতে একটি পরিষ্কার, ঝকঝকে টাকা পান, তখন দেশের প্রতি তার এক ধরনের ইতিবাচক ধারণা তৈরি হয়। বিপরীতভাবে, কসটেপ লাগানো, দুর্গন্ধযুক্ত একটি ছেঁড়া টাকা আমাদের সম্পর্কে একটি নেতিবাচক বার্তাই দেয়।

আমি আশা করি, আমাদের সচেতনতা বৃদ্ধি পাবে। আমরা শিখব কীভাবে নিজের দেশের সম্পদের যতœ নিতে হয়। প্রতিদিন সকালে রিকশা ভাড়া বা চায়ের বিল দেওয়ার সময় যেন আমাদের কোনও ছেঁড়া বা ময়লা নোট নিয়ে বিতর্কে জড়াতে না হয়, সেই সুদিনের অপেক্ষায় রইলাম। আসুন, আজ থেকেই আমরা নিজের পকেটের টাকাটার যতœ নিতে শুরু করি। কারণ, পরিবর্তনটা শুরু হতে হবে আমার এবং আপনার হাত ধরেই।

লেখক: আল মুতাসিম বিল্লাহ সুমন, রাজার বাগান, সাতক্ষীরা।

Ads small one

আশাশুনিতে অহিদুল মোল্লার বিএনপিতে অনুপ্রেবেশের অভিযোগে মানববন্ধন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৬:৫৫ অপরাহ্ণ
আশাশুনিতে অহিদুল মোল্লার বিএনপিতে অনুপ্রেবেশের অভিযোগে মানববন্ধন

পত্রদূত ডেস্ক: সাতক্ষীরা আশাশুনিতে অহিদুল মোল্লার বিএনপিতে অনুপ্রবেশ ঠেকাতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। খাজরা ইউনিয়ন বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের আয়োজনে কাপসন্ডা বাজারে উক্ত মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়।

খাজরা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মোঃ বোরহান উদ্দিন বুলুর সভাপতিত্বে ও সদস্য সচিব মো. ইউনুছ আলীর সঞ্চালনায় মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন, উপজেলা মৎস্যজীবী দলের সিনিয়র সহ-সভাপতি সেলিম মোল্লা, খাজরা ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি আব্দুর সাত্তার গাজী, ৯ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শাহ জামাল, ৮ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি আব্দুল কাদের, ইউনিয়ন যুবদলের আহবায়ক মিজানুর রহমান, ৫ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি ইবাদুল গাজী ও ২ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি শামসুর রহমান প্রমুখ। কর্মসূচিতে এসময় বিএনপি ও তার অঙ্গ সহযোগি সংগঠনের বিপুল সংখ্যক নেতা-কর্মী উপস্থিত ছিলেন।

বক্তারা বলেন, গত ৫ সেপ্টেম্বর আশাশুনি উপজেলা বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে অহিদুল মোল্লা অংশগ্রহণ করেন। তারা দাবী করেন, উক্ত অহিদুল মোল্লা উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি এবং খাজরা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ও একাধিক মামলার আসামী।

 

বক্তারা আরো বলেন, বিএনপির কিছু সুবিধাবাদী নেতা তার কাছ থেকে সুবিধা নিয়ে তাকে দলে অনুপ্রবেশ করার চেষ্টা করছেন। কিন্তু দলের দুঃসময়ে ত্যাগী নেতাদের অবমূল্যায়ন করে এভাবে চিহ্নিত কোনো আওয়ামী লীগ নেতাকে বিএনপির মঞ্চে গ্রহণ করাকে তৃণমূল নেতাকর্মীরা কিছুতেই মেনে নেবে না। বক্তারা এসময় বিতর্কিত এই আওয়ামী লীগ নেতা অহিদুল মোল্লার গ্রেপ্তারের জোর দাবি জানান। একই সাথে তিনি যাতে কোনোভাবেই বিএনপিতে অনুপ্রবেশ করতে না পারেন, সে বিষয়ে বিএনপির উচ্চ পর্যায়ের নেতাদের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

মণিরামপুরে আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবস উপলক্ষে র‍্যালি ও আলোচনা সভা 

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৬:৩৮ অপরাহ্ণ
মণিরামপুরে আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবস উপলক্ষে র‍্যালি ও আলোচনা সভা 
মনিরামপুর (যশোর) প্রতিনিধি: সাক্ষরতা অর্জন করি, উন্নত জীবন গড়ি”—এমন প্রত্যয়কে সামনে রেখে যশোরের মণিরামপুরে আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবস-২০২৬ উপলক্ষে বর্ণাঢ্য র‍্যালি ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টায় উপজেলা পরিষদ চত্বর থেকে একটি বর্ণাঢ্য র‍্যালি বের হয়। র‍্যালিতে উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা-কর্মচারী, উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা কার্যক্রমের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা, শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশগ্রহণ করেন। র‍্যালিটি উপজেলা পরিষদ চত্বরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে।
পরে সকাল সাড়ে ১০ টায় উপজেলা পরিষদ কনফারেন্স রুমে  আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, একটি দেশের সামগ্রিক উন্নয়নের জন্য শতভাগ সাক্ষরতা নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শিক্ষার সুযোগ থেকে বঞ্চিত জনগোষ্ঠীকে সাক্ষরতার আওতায় এনে দক্ষ ও সচেতন মানবসম্পদ হিসেবে গড়ে তুলতে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে।
অনুষ্ঠানে মণিরামপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার সম্রাট হোসেন, উপজেলা জামায়াতের আমীর অধ্যাপক ফজলুল হক, উপজেলা বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি মফিজুর রহমান, বিএনপি নেতা সন্তোষস্বর সহ উপজেলা প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে সাক্ষরতার গুরুত্ব, শিক্ষার প্রসার এবং নিরক্ষরতা দূরীকরণে সবাইকে আরও সক্রিয় ভূমিকা রাখার আহ্বান জানানো হয়।

সাতক্ষীরায় অ্যাডভান্স ও ভেটেরিনারি সার্টিফিকেট কোর্সের পরীক্ষা শুরু

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৬:০৭ অপরাহ্ণ
সাতক্ষীরায় অ্যাডভান্স ও ভেটেরিনারি সার্টিফিকেট কোর্সের পরীক্ষা শুরু

সংবাদদাতা: সাতক্ষীরায় বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে ১ বছর মেয়াদী অ্যাডভান্স সার্টিফিকেট ইন ফাইন আর্টস, কম্পিউটার টেকনোলজি ও ফিজিক্যাল এডুকেশন কোর্সের জানুয়ারি-ডিসেম্বর ২০২৬ সেশনের প্রথম পর্ব ও ভেটেরিনারি জুলায়-জুন ২০২৫-২০২৬ সেশনে দ্বিতীয় পর্বের সমাপনী পরীক্ষা শুরু হয়েছে।

মঙ্গলবার (০৮ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টায় সাতক্ষীরা টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজ কেন্দ্রে পরীক্ষাটি শুরু হয়। এ কেন্দ্রে মোট ৩৪৮ জন শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করছে।

কেন্দ্র সচিব ফেরদাউস আরেফিন জানান, সকাল থেকেই সুন্দর ও শান্ত পরিবেশে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। পরীক্ষার সকল কার্যক্রম বোর্ডের নির্ধারিত নীতিমালা অনুযায়ী পরিচালিত হচ্ছে।

সাতক্ষীরা ক্রিয়েটিভ ট্রেনিং এন্ড ভেটেরিনারি ইন্সটিটিউটের পরিচালক ফিরোজ আহম্মেদ বলেন, আমার সব শিক্ষার্থী যথাযথ প্রস্তুতি নিয়ে পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে। আশা করছি তারা ভালো ফলাফল করবে।