ট্রান্সফরমার চুরির ১৫ মাস, তীব্র গরমে ভুগছে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা
নিজস্ব প্রতিনিধি: কলারোয়া উপজেলার চেড়াঘাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ রয়েছে গত ১৫ মাস ধরে। বিদ্যালয়টির ট্রান্সফরমার চুরি হওয়ার পর থেকে নতুন কোনো ট্রান্সফরমার স্থাপন না করায় বিদ্যুৎহীন অবস্থায় রয়েছে পুরো প্রতিষ্ঠান। চলমান তীব্র গরমে শ্রেণিকক্ষে ফ্যান না চলায় চরম দুর্ভোগের মধ্যে পাঠগ্রহণ করতে হচ্ছে শতাধিক কোমলমতি শিক্ষার্থীকে।
বিদ্যালয় সূত্র জানায়, ২০২৫ সালের ২০ মার্চ বিদ্যালয়সংলগ্ন ১০ কেভিএ ক্ষমতার ট্রান্সফরমারটি চুরি হয়। এরপর থেকেই বিদ্যালয়ে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের পক্ষ থেকে নতুন ট্রান্সফরমার স্থাপনের জন্য প্রায় ৬৭ হাজার টাকা ব্যয়ের কথা জানানো হয়েছে। তবে একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পক্ষে এই বিপুল পরিমাণ অর্থ জোগাড় করা সম্ভব হয়নি।
বিদ্যুৎ না থাকায় গ্রীষ্মের প্রচ- দাবদাহে শ্রেণিকক্ষে বসে পড়ালেখা করা শিক্ষার্থীদের জন্য অত্যন্ত কষ্টসাধ্য হয়ে পড়েছে। গরমের কারণে অনেক সময় শিশুরা ক্লাসে মনোযোগ ধরে রাখতে পারছে না। দ্রুত বিদ্যুৎ সংযোগ পুনঃস্থাপনের জন্য গত ১৯ মে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে লিখিত আবেদন করেছেন চেড়াঘাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রওশন আরা।
এদিকে বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে দ্রুত বিদ্যুৎ সংযোগ চালুর জন্য জেলা প্রশাসকের (ডিসি) হস্তক্ষেপ কামনা করেছে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস। আজ বৃহস্পতিবার (১১ জুন) জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. রুহুল আমীন স্বাক্ষরিত এক পত্রে জেলা প্রশাসককে এই সমস্যার কথা জানানো হয়। পত্রে উল্লেখ করা হয়েছে, দীর্ঘদিন বিদ্যালয়টি বিদ্যুৎবিচ্ছিন্ন থাকায় শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা ও পাঠদান কার্যক্রম চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে। সেখানে দ্রুত বিদ্যুৎ সংযোগ চালুর প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা ও অভিভাবকদের মধ্যে রফিকুল ইসলাম ও সালমা খাতুন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, সরকারি বিদ্যালয়ের ট্রান্সফরমার চুরি হলে তার ক্ষতিপূরণের টাকা বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ কেন দেবে? শিক্ষার্থীদের কষ্টের কথা বিবেচনা করে সরকারিভাবেই দ্রুত ট্রান্সফরমার সরবরাহ করে বিদ্যুৎ সংযোগ চালু করা উচিত।
জানতে চাইলে বিদ্যুৎ বিভাগের একজন কর্মকর্তা জানান, ট্রান্সফরমার প্রতিস্থাপনের বিষয়ে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ও শিক্ষা বিভাগের সঙ্গে যোগাযোগ চলছে। প্রয়োজনীয় বরাদ্দ অথবা প্রশাসনিক কোনো নির্দেশনা পেলে দ্রুত সেখানে নতুন ট্রান্সফরমার স্থাপনের ব্যবস্থা নেওয়া হবে।












