স্টার্টআপ, সায়েন্স প্রজেক্ট এবং ইনোভেশন আইডিয়া শোকেসিং প্রতিযোগিতা শুরু কাল
পত্রদূত রিপোর্ট: সেদ্ধ চালের গন্ধ, মাটির সোঁদা সুবাস আর ল্যাবরেটরির টেস্টটিউবÑসব মিলিয়ে ক্লাসরুমের চেনা গ-ি পেরিয়ে একদল কিশোর এখন বুঁদ হয়ে আছে ভবিষ্যতের বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্নে। সাতক্ষীরার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এখন টিফিনের আড্ডায় কিংবা ছুটির পরের অলস সময়েও চলছে তুমুল আলোচনা।
উদ্দেশ্য একটাইÑকেমন হবে ভবিষ্যতের ‘স্মার্ট কৃষি’? কীভাবে রাসায়নিক ছাড়া দীর্ঘদিন ভালো রাখা যাবে আমাদের ঘরের খাবার? অনেকেই সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিরোধে প্রযুক্তির সর্বোত্তম ব্যবহার কীভাবে করা যায়? কীভাবে রোবটের সাহায্যে দ্রুত পণ্য সরবরাহ করা যায়? কীভাবে যুদ্ধ হানাহানি বন্ধ করে শান্তি স্থাপন করা যায়? কীভাবে গ্রীন হাউজ ইফেক্ট থেকে পৃথিবীকে বাঁচানো যায়-এসব নানা আবিস্কারের নেশায় এখন ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছে ক্ষদে শিক্ষার্থীরা।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের উদ্যোগে সাতক্ষীরায় আয়োজন হতে যাচ্ছে “স্টার্টআপ, সায়েন্স প্রজেক্ট এবং ইনোভেশন আইডিয়া শোকেসিং” প্রতিযোগিতা। আর এই মেধা অন্বেষণের মঞ্চে নিজেদের সেরা উদ্ভাবন নিয়ে হাজির হতে দিন-রাত এক করে খাটছে বিভিন্ন স্কুলের একঝাঁক খুদে বিজ্ঞানী।
সাতক্ষীরা শহরের একটি বিদ্যালয়ের বিজ্ঞানাগারে গিয়ে দেখা যায়, টেবিলজুড়ে ছড়ানো নানা রকম প্রজেক্টের নকশা। দশম শ্রেণীর শিক্ষার্থী তৌসিফ মোস্তফা তাওসিফ, নবম শ্রেণীর আশেকুর রহমান আর অষ্টম শ্রেণীর খুদে সদস্য সাফওয়ান সিদ্দিকী বিনÑতিনজনের চোখেই নতুন কিছু করার দারুণ উত্তেজনা। তাদের এই স্বপ্নের পেছনে বাতিঘর হিসেবে কাজ করছেন বিদ্যালয়ের দুজন শিক্ষকÑমোহা. হুমায়ুন কবির এবং ইমরান হোসেন।
সাতক্ষীরার খুদে বিজ্ঞানীদের মূল লক্ষ্যÑ”স্মার্ট কৃষি ও খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ”। প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহারের মাধ্যমে কীভাবে কৃষকের শ্রম কমানো যায় এবং উৎপাদিত ফসল নষ্ট হওয়ার হাত থেকে রক্ষা করা যায়, তারই একটি দুর্দান্ত মডেল তৈরি করেছে এই তিন শিক্ষার্থী।
দশম শ্রেণীর শিক্ষার্থী তৌসিফ মোস্তফা বলে, “আমরা এমন একটি ব্যবস্থা নিয়ে কাজ করছি, যা সাধারণ কৃষকদের একদম সাশ্রয়ী মূল্যে আধুনিক প্রযুক্তির সুবিধা দেবে।”
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, “পারফরমেন্স বেজড গ্রান্টস ফর সেকেন্ডারি ইন্সটিটিউশন স্কিম”-এর আওতায় আগামী ১২জুন সকাল ৯টা থেকে স্থানীয় নবারুণ উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ে এই বিজ্ঞান মেলা ও প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হবে।
সাতক্ষীরা সদর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মো. আবুল হোসেন স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে জানানো হয়, মেলা প্রাঙ্গণে স্টল পরিদর্শনের জন্য প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে একজন বিজ্ঞান শিক্ষকের নেতৃত্বে ৯ম থেকে দ্বাদশ শ্রেণীর অন্তত ১০ জন শিক্ষার্থীকে উপস্থিত থাকার অনুরোধ করা হয়েছে।
প্রতিযোগিতার নিয়ম অনুযায়ী, ইতিমধ্যে প্রজেক্টের যাবতীয় বিবরণী ও দাপ্তরিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেছে দ্য পোল-স্টার পৌর হাইস্কুল কর্তৃপক্ষ। তবে স্কুলের দাপ্তরিক নথির চেয়েও এখন বড় হয়ে উঠেছে শিক্ষার্থীদের মেধার এই উন্মেষ।
বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ মনে করছে, এ ধরনের প্রতিযোগিতা কেবল একটি পুরস্কার জেতার লড়াই নয়, বরং শিক্ষার্থীদের ভেতরের সুপ্ত মেধা ও উদ্ভাবনী শক্তিকে জাগিয়ে তোলার মোক্ষম হাতিয়ার। আজকের এই ছোট ছোট আইডিয়াগুলোই হয়তো আগামী দিনের বাংলাদেশের কৃষি খাতের চেহারা বদলে দেবে।
সাতক্ষীরা সদর উপজেলার এই প্রদর্শনীতে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবন দিয়ে বিচারকদের মন জয় করতে পারবে কি না, তা সময়ই বলে দেবে। তবে নিজেরা নতুন কিছু তৈরি করতে পারার যে আনন্দ ও আত্মবিশ্বাস এই কিশোরদের চোখে-মুখে ফুটে উঠেছে, সেটাই এই আয়োজনের সবচেয়ে বড় সার্থকতা।
সাতক্ষীরা জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মো. আলমগীর কবীর দৈনিক পত্রদূতকে বলেনÑ সারা দেশের ন্যায় সাতক্ষীরা জেলার সাতটি উপজেলায় শুক্রবার (১২ জুন) শুরু হচ্ছে স্টার্টআপ, সায়েন্স প্রজেক্ট এবং ইনোভেশন আইডিয়া শোকেসিং প্রতিযোগিতা। সাতক্ষীরা শহরের নবারুণ বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের মাঠে সদর উপজেলা ও জেলা পর্যায়ের প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হবে। এ প্রতিযোগিতার সকল প্রস্তুতি ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। ১৮টি স্টল প্রস্তুত করা হয়েছে বলে জানা গেছে। কৃষি বিভাগের ৪জন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা এ প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীদের প্রজেক্ট পর্যবেক্ষণ করবেন।