তালায় ২৩ বিঘা সরকারি জমি ব্যক্তিমালিকানায় রেকর্ড করার অভিযোগ
নিজস্ব প্রতিনিধি: সাতক্ষীরার তালা উপজেলার নগরঘাটা ইউনিয়নে অর্থের বিনিময়ে ৭.৫৬ একর (প্রায় ২৩ বিঘা) সরকারি খাস সম্পত্তি খন্দকার রেজোয়ান হোসেন নামের এক ব্যক্তির নামে রেকর্ড করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। তালা উপজেলা সেটেলমেন্ট অফিসার মো. আব্দুর রশিদ ও খুলনা জোনাল সেটেলমেন্ট অফিসের কিছু কর্মচারীর যোগসাজশে এই জালিয়াতি হয়েছে বলে স্থানীয়দের অভিযোগ। বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর এলাকায় তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, নগরঘাটা মৌজার ১৫ নম্বর জেএল-এর ৩৩৪২ (বিআরএস) খতিয়ানের ১০টি দাগে মোট ৭.৫৬ একর সরকারি খাস জমি রয়েছে। লস্করপাড়ার মৃত খন্দকার ইয়াকুব আলীর ছেলে খন্দকার রেজোয়ান হোসেন ভুয়া কাগজপত্র তৈরি করে চলতি বিআরএস জরিপে এই বিশাল সম্পত্তি নিজ নামে করিয়ে নিয়েছেন। আগামী ১৭ জুন এই খতিয়ানের চূড়ান্ত প্রিন্ট পর্চা প্রকাশিত হওয়ার কথা রয়েছে।
নগরঘাটা ইউনিয়ন ভূমি অফিসের রেজিস্টার-২ ও ভলিউম বই পর্যালোচনা করে দেখা যায়, বিআরএস ১৩০৪১, ১২৫১৪ ও ১৩১৩৫ দাগসহ সংশ্লিষ্ট অন্য দাগগুলোর মূল এসএ রেকর্ড স্পষ্টত সরকারি খাস খতিয়ানভুক্ত। দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তি কোনো বৈধ কাগজপত্র ছাড়াই এই জমি ভোগদখল করে আসছিলেন।
জালিয়াতির বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ শুরু হলে অভিযুক্ত খন্দকার রেজোয়ান হোসেন স্থানীয় এক নেতার মাধ্যমে এই প্রতিবেদককে সংবাদ প্রকাশ না করার জন্য অর্থের প্রস্তাব দেন।
এদিকে তালা উপজেলা সেটেলমেন্ট অফিসার মো. আব্দুর রশিদ জালিয়াতির অভিযোগ এড়িয়ে গিয়ে দাবি করেন, তাঁর আগের কর্মকর্তা এই কাজ করে গেছেন। তবে আগের কর্মকর্তার কাজ হওয়া সত্ত্বেও তিনি কেন পুনরায় নোটিশ দিয়ে রেজোয়ান হোসেনকে ডেকেছিলেন এবং কোন নথির ভিত্তিতে সরকারি জমি ব্যক্তিনামে বহাল রাখলেন—এসব প্রশ্নের কোনো সদুত্তর তিনি দিতে পারেননি। এ ছাড়া সপ্তাহে একদিন তালায় অফিস করার নিয়ম থাকলেও গত ছয় মাস ধরে তিনি কর্মস্থলে অনুপস্থিত রয়েছেন বলে নিজেই স্বীকার করেছেন।
নগরঘাটা ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা সুরাইয়া পারভীন জানান, এক ব্যক্তি বিআরএস খতিয়ানের একটি কপি তদন্তের জন্য তাঁর কাছে দিয়ে গেছেন। জমিটি যেহেতু সরকারের, তাই ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তালা উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) রাহাত খান জানান, জমির প্রয়োজনীয় তথ্য ও প্রমাণ হাতে পেলে এবং সরকারি সম্পত্তি ব্যক্তিনামে রেকর্ড হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হলে মামলা করে জমি সরকারের নিয়ন্ত্রণে নেওয়া হবে।
খুলনা জোনাল সেটেলমেন্ট অফিসের চার্জ অফিসার (সিনিয়র সহকারী সচিব) শুভ্রা দাস জানান, চূড়ান্ত প্রকাশনা বের হওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। তবে বিষয়টি খতিয়ে দেখে সরকারি সম্পত্তি রক্ষায় দ্রুত আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।












