বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬, ১১ আষাঢ় ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬, ১১ আষাঢ় ১৪৩৩

দেবহাটায় ব্যতিক্রমী নাচ-গান ও পটচিত্রে সচেতনতার জাগরণ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল, ২০২৬, ৪:৩০ অপরাহ্ণ
দেবহাটায় ব্যতিক্রমী নাচ-গান ও পটচিত্রে সচেতনতার জাগরণ

পত্রদূত রিপোর্ট: সুর, রঙ আর গল্পে ভর করে জনসচেতনতার এক অনন্য মঞ্চ হয়ে উঠেছিল সাতক্ষীরার দেবহাটা উপজেলার পূর্বকুলিয়া। পটগান আর পটচিত্রের মেলবন্ধনে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, নিরাপদ পানি ও স্যানিটেশন বিষয়ে মানুষকে সচেতন করতে আয়োজনটি ছিল প্রাণবন্ত ও হৃদয়ছোঁয়া।

উপকূলীয় সাতক্ষীরা জেলায় জলবায়ু অভিযোজন ও টেকসই জীবিকায়ন কর্মসূচির অংশ হিসেবে কমিউনিটির নেতৃত্বে পূর্বকুলিয়ায় এই জনসচেতনতামূলক পটগান ও পটচিত্র প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয়। ব্যতিক্রমধর্মী এ আয়োজন বাস্তবায়ন করে বেসরকারি সংস্থা ‘আনন্দ’। সহযোগিতায় ছিল আন্তর্জাতিক সংস্থা বিএমজেড ও ডাবি¬উএইচএইচ।
অনুষ্ঠানের সাংস্কৃতিক পরিবেশনায় প্রাণ সঞ্চার করে সুশীলনের কালচার টিমের দক্ষ কর্মকর্তা ও সদস্যরা। নাচ, গান আর জীবন্ত পটচিত্রের মাধ্যমে তারা তুলে ধরেন বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, নিরাপদ পানি ও স্বাস্থ্যসম্মত স্যানিটেশনের গুরুত্ব। সহজ ভাষা আর লোকজ উপস্থাপনায় বার্তাগুলো দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে উপস্থিত দর্শকদের মাঝে।

অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে আনন্দের প্রশিক্ষণ কর্মকর্তা রুমন বড়–য়া বলেন, জনগণের অংশগ্রহণ ছাড়া টেকসই উন্নয়ন সম্ভব নয়। এ ধরনের সাংস্কৃতিক উদ্যোগ মানুষকে সচেতন করার পাশাপাশি তাদের সম্পৃক্ততাও বাড়ায়।
তিনি আরও বলেন, মানুষকে সচেতন করতে হলে তাদের হৃদয়ে পৌঁছাতে হয়। পটগান ও পটচিত্রের মতো লোকজ মাধ্যম সেই কাজটিই সহজভাবে করে—আনন্দের মধ্য দিয়ে মানুষ গুরুত্বপূর্ণ বার্তাগুলো গ্রহণ করে এবং নিজের জীবনে প্রয়োগ করতে আগ্রহী হয়।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সিনিয়র সাংবাদিক চ্যানেল টোয়েন্টিফোরের ডিস্ট্রিক্ট রিপোর্টার আমিনা বিলকিস ময়না।
প্রদর্শনী সফলভাবে বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন সুশীলনের কালচার টিমের সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ উজির হোসেন, কালচারাল টিম ম্যানেজার রিমা আক্তার, কালচারাল এনিমেটার লিজা পারভীন, মিউজিক সুপারভাইজার অনিমেষ বড়াল, কালচারাল অর্গানাইজার পবিত্র কুমার, লাবনী রায়, শেখর বৈরাগী ও সাথী বিশ্বাস।
আয়োজনে স্থানীয় শত শত নারী-পুরুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করেন। প্রাণবন্ত পরিবেশনা আর জীবন্ত বার্তায় মুগ্ধ দর্শকরা জানান, এমন উদ্যোগ তাদের সচেতনতার পাশাপাশি আনন্দও দিয়েছে।

গ্রীষ্মের তপ্ত দুপুর শেষে বিকেলের সতেজ আবহাওয়ায় আয়োজন মানুষের মধ্যে শুধু বিনোদন নয় সৃষ্টি করেছে প্রয়োজনীয় সচেতনতা। লোকজ সংস্কৃতির শক্তিকে কাজে লাগিয়ে সচেতনতার এই ব্যতিক্রমী প্রয়াস যেন নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। পূর্বকুলিয়ার এ আয়োজন প্রমাণ করেছে সচেতনতা ছড়াতে শুধু বক্তব্য নয়, দরকার হৃদয় ছোঁয়া উপস্থাপন।

চ্যানেল টোয়েন্টিফোরের ডিস্ট্রিক্ট রিপোর্টার আমিনা বিলকিস ময়না বলেন, এ ধরনের সাংস্কৃতিক উদ্যোগ সত্যিই প্রশংসনীয়, কারণ এটি মানুষকে বিনোদনের মধ্য দিয়ে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দেয়। পটগান ও পটচিত্রের মাধ্যমে সচেতনতা ছড়িয়ে দেওয়ার এই প্রয়াস গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর জন্য খুবই কার্যকর। সবার বিশ্বাস, এমন উদ্যোগ নিয়মিত হলে সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আরও দৃশ্যমান হবে।

সুশীলনের কালচার টিমের সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ উজির হোসেন বলেন, সংস্কৃতি শুধু বিনোদনের মাধ্যম নয়, এটি পরিবর্তনের শক্তিশালী হাতিয়ার। আমরা চেষ্টা করেছি গান, গল্প আর চিত্রের মাধ্যমে এমনভাবে বার্তা পৌঁছাতে, যাতে মানুষ সহজেই বুঝতে পারে এবং নিজের অভ্যাসে ইতিবাচক পরিবর্তন আনে।

 

 

Ads small one

সিসিডিবি’র উদ্যোগে শ্যামনগরে সমমনা সংস্থাগুলোর কর্মশালা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন, ২০২৬, ১:২১ পূর্বাহ্ণ
সিসিডিবি’র উদ্যোগে শ্যামনগরে সমমনা সংস্থাগুলোর কর্মশালা

শ্যামনগর প্রতিনিধি: শ্যামনগরে সরকারি ও বেসরকারি সমমনা সংস্থাগুলোর অংশগ্রহণে সিসিআরসি ও আরবিএ বিষয়ক এক কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গত ২৪ জুন দুপুরে উপজেলা পরিষদ হলরুমে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা সিসিডিবি এই কর্মশালার আয়োজন করে।
কর্মশালার লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন সিসিডিবি’র উপজেলা সমন্বয়কারী স্টিভ রায় রূপন। সিসিডিবি’র রেজিলিয়েন্স বিল্ডিং ম্যানেজার সামিউল আলিম পাওয়ার পয়েন্ট প্রেজেন্টেশনের মাধ্যমে মূল বিষয়বস্তু তুলে ধরেন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইউএনও শামসুজ্জামান কনক। এ সময় উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) রাশেদ হোসাইন, মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা সারিদ বিন শফিক, সমাজসেবা কর্মকর্তা দেলোয়ার হোসেন ও স্থানীয় সংবাদকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

জমি বিরোধে গাছ কাটার অভিযোগ, দেবহাটায় আদালতে মামলা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন, ২০২৬, ১:১৮ পূর্বাহ্ণ
জমি বিরোধে গাছ কাটার অভিযোগ, দেবহাটায় আদালতে মামলা

দেবহাটা প্রতিনিধি: দেবহাটা উপজেলার বসন্তপুর গ্রামে জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে গাছপালা কেটে ফেলা এবং জোরপূর্বক জমি দখলের চেষ্টার অভিযোগে আদালতে মামলা দায়ের করা হয়েছে। বসন্তপুর গ্রামের বৈদ্যনাথ দাস বাদী হয়ে শংকর দাস ও দিপঙ্কর দাসসহ ৯ জনের বিরুদ্ধে সাতক্ষীরার বিজ্ঞ এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে এই মামলা (নং-৪০৬/২০২৬) দায়ের করেন।
মামলার এজাহার অনুযায়ী, বসন্তপুর মৌজার ৫৮ শতক পৈতৃক সম্পত্তির একটি রাস্তা নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিনের বিরোধ রয়েছে, যা নিয়ে আগেও একটি মামলা আদালতে বিচারাধীন আছে। বাদীর অভিযোগ, চলমান মামলার তোয়াক্কা না করে প্রতিপক্ষ জোরপূর্বক তাঁর জমিতে প্রবেশ করে বিভিন্ন গাছগাছালি কেটে সাবাড় করেছে এবং জমি দখলের চেষ্টা চালিয়েছে। বিবাদীদের আর্থিক ও সামাজিক প্রভাবের কারণে তাঁর পরিবার এখন চরম নিরাপত্তাহীনতা ও মানবেতর জীবনযাপন করছে উল্লেখ করে তিনি প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

 

উচ্ছেদ অভিযানে নিঃস্ব হওয়ার শঙ্কা: জেলা পরিষদ প্রশাসকের হস্তক্ষেপ চান কুলিয়াবাসী

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন, ২০২৬, ১:১৬ পূর্বাহ্ণ
উচ্ছেদ অভিযানে নিঃস্ব হওয়ার শঙ্কা: জেলা পরিষদ প্রশাসকের হস্তক্ষেপ চান কুলিয়াবাসী

কুলিয়া (দেবহাটা) প্রতিনিধি: সাতক্ষীরা-ভেটখালি মহাসড়ক উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় আলিপুর থেকে কুলিয়া বাজার পর্যন্ত অংশে সরকারি খাস জমিতে উচ্ছেদ অভিযান নিয়ে চরম উদ্বেগ তৈরি হয়েছে স্থানীয় বাসিন্দাদের মাঝে। সড়কের ‘অপ্রয়োজনীয় অংশ’ উচ্ছেদ না করে কেবল মূল কাজের জন্য যতটুকু প্রয়োজন, ততটুকু জমি ব্যবহারের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা। এ বিষয়ে গত ২৪ জুন জেলা পরিষদ প্রশাসকের কাছে একটি লিখিত স্মারকলিপি দিয়েছেন তাঁরা। আগামী ৮ ও ৯ জুলাই সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের পক্ষ থেকে মহাসড়কের দুই পাশের অবৈধ স্থাপনা অপসারণের জন্য বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে স্থানীয় সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ীরা সাতক্ষীরা জেলা পরিষদ প্রশাসক ও সাবেক সংসদ সদস্য হাবিবুল ইসলাম হাবিবের কার্যালয়ে গিয়ে তাঁর হাতে আবেদনপত্রটি তুলে দেন।
এ সময় কুলিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি হামিদুল হক শামীম, সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন বাবলু, কুলিয়া বাজার কমিটির সভাপতি রুহুল আমিন, সাধারণ সম্পাদক আবু হুরাইরা এবং সমাজসেবক মোজাম্মেল হোসেনসহ (মিনু ডাক্তার) এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। জেলা পরিষদ প্রশাসক ভুক্তভোগীদের বক্তব্য গুরুত্বসহকারে শোনেন এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে বাস্তবসম্মত সমাধানের আশ্বাস দেন।
স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়, এলাকার অর্থনৈতিক চালিকাশক্তি হিসেবে পরিচিত সাতক্ষীরা-ভেটখালি মহাসড়কের উন্নয়ন কাজকে স্থানীয়রা স্বাগত জানান। তবে সওজ-এর নকশা অনুযায়ী ঢালাওভাবে উচ্ছেদ করা হলে বহু ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী তাঁদের দোকান, পুঁজি ও জীবিকা হারিয়ে পুরোপুরি নিঃস্ব হয়ে পড়বেন। গ্রামীণ অর্থনীতি, মাছের শেড ও স্থানীয় বাজার ব্যবস্থা এতে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। এ ছাড়া সড়কের পাশে দীর্ঘদিন ধরে বসবাসকারী বহু ভূমিহীন পরিবার মাথা গোঁজার শেষ আশ্রয়টুকু হারানোর ঝুঁকিতে রয়েছে। মানবিক ও সামাজিক দিক বিবেচনা করে সড়ক উন্নয়নে যতটুকু জমি অপরিহার্য, ঠিক ততটুকু রেখে বাকি অংশ উচ্ছেদ না করার জোর দাবি জানানো হয়েছে।