সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৪ আশ্বিন ১৪৩৩
সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৪ আশ্বিন ১৪৩৩

নিজ খরচে শিশুদের ‘মিড ডে মিল’ দিচ্ছেন প্রধান শিক্ষক

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১১:২৭ অপরাহ্ণ
নিজ খরচে শিশুদের ‘মিড ডে মিল’ দিচ্ছেন প্রধান শিক্ষক

পত্রদূত রিপোর্ট: পুষ্টিহীনতা দূর করা, নিয়মিত উপস্থিতি বৃদ্ধি ও ঝরে পড়া রোধ করতে সাতক্ষীরা শহরের দক্ষিণ কাটিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চলছে ‘মিড ডে মিল’ কার্যক্রম। ২০১৭ সাল থেকে শুরু হওয়া এই উদ্যোগের যাবতীয় খরচ বহন করা হয় বিদ্যালয়টির প্রধান শিক্ষকের পারিবারিক তহবিল থেকে।

রোববার দুপুরে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে শিক্ষার্থীদের মাঝে পুষ্টিকর খাবার পরিবেশন করা হয়। বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, এই কার্যক্রম চালুর আগে শিক্ষার্থীদের গড় উপস্থিতি ছিল ৬০ থেকে ৬৫ শতাংশ, যা বর্তমানে বেড়ে ৯০ শতাংশ ছাড়িয়েছে। বিদ্যালয়ে মোট ১৬০ জন শিক্ষার্থীর একটি বড় অংশ আর্থিকভাবে অসচ্ছল পরিবার থেকে আসা। মেন্যুতে ঘুরিয়ে-ফিরিয়ে খিচুড়ি, ডিম, মাংস, ফল ও পাউরুটি পরিবেশন করা হয়।

কার্যক্রমে সার্বিক সহযোগিতা করেন প্রধান শিক্ষক সানজিনা শাহনাজের ভাই খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সাবেক উপাধ্যক্ষ ডা. মেহেদী নেওয়াজ।

সহকারী শিক্ষকেরা জানান, পুষ্টিকর খাবার দেওয়ায় ক্লাসে শিক্ষার্থীদের মনোযোগ অনেক বেড়েছে। প্রধান শিক্ষক সানজিনা শাহনাজ বলেন, ‘শুধু খাবার দেওয়াই আমাদের লক্ষ্য নয়; শিশুরা যাতে সুস্থভাবে বেড়ে ওঠে এবং আনন্দের সঙ্গে বিদ্যালয়ে আসে, তা নিশ্চিত করতেই এই পদক্ষেপ।’

Ads small one

বিশ্ব কোডিং দিবস: ডিজিটাল যুগে নতুন সাক্ষরতার আহ্বান

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:২৬ অপরাহ্ণ
বিশ্ব কোডিং দিবস: ডিজিটাল যুগে নতুন সাক্ষরতার আহ্বান

সাকিবুর রহমান বাবলা

প্রযুক্তিনির্ভর বর্তমান বিশ্বে কোডিং আর কেবল কম্পিউটার বিজ্ঞানী বা সফটওয়্যার প্রকৌশলীদের বিষয় নয়; এটি ডিজিটাল সমাজে অংশগ্রহণের একটি গুরুত্বপূর্ণ দক্ষতা। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, রোবটিক্স, স্বয়ংক্রিয়তা, ক্লাউড কম্পিউটিং ও ডিজিটাল সেবার দ্রুত বিস্তারের বাস্তবতায় কোডিংকে নতুন ধরনের সাক্ষরতা হিসেবে গুরুত্ব দিচ্ছে জাতিসংঘের শিক্ষা, বিজ্ঞান ও সংস্কৃতি বিষয়ক সংস্থা-ইউনেস্কো। এই গুরুত্বকে সামনে রেখে প্রতিবছর ২৯ অক্টোবর বিশ্ব কোডিং দিবস পালিত হয়।

বিশ্ব কোডিং দিবসের যাত্রা শুরু হয় সংযুক্ত আরব আমিরাতের উদ্যোগে। ২০২৩ সালে ইউনেস্কোর ৪২তম সাধারণ সম্মেলনে ২৯ অক্টোবরকে বিশ্ব কোডিং দিবস হিসেবে ঘোষণা করা হয় এবং ২০২৪ সালে প্রথমবার দিবসটি বিশ্বব্যাপী পালিত হয়। তাদের সিদ্ধান্তে বলা হয়েছে, অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও উদ্ভাবনে কোডিংয়ের গুরুত্ব বিবেচনায় সদস্যরাষ্ট্রগুলোকে জাতীয়, আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে এ দিবস উপলক্ষে কার্যক্রম আয়োজনের আহ্বান জানানো হয়েছে।

দিবসটির তারিখের সঙ্গে সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রযুক্তি-উন্নয়নের ইতিহাসও জড়িত। ২৯ অক্টোবর ১৯৯৯ তারিখে দুবাই ইন্টারনেট সিটি প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ আনুষ্ঠানিকভাবে উন্মোচিত হয়। পরবর্তীতে এটি মধ্যপ্রাচ্যের গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তি ও ব্যবসায়িক কেন্দ্র হিসেবে বিকশিত হয়।
কোডিং হলো কম্পিউটার বা ডিজিটাল যন্ত্রকে নির্দিষ্ট কাজ করানোর জন্য প্রোগ্রামিং ভাষায় নির্দেশনা লেখা। পাইথন, জাভা, জাভাস্ক্রিপ্টসহ বিভিন্ন ভাষার মাধ্যমে তৈরি কোডের ওপর নির্ভর করে পরিচালিত হয় ওয়েবসাইট, মোবাইল অ্যাপ, সফটওয়্যার, গেম, তথ্যব্যবস্থা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও অসংখ্য ডিজিটাল সেবা। এই কোডিং মানুষের যৌক্তিক চিন্তা, সৃজনশীলতা ও সমস্যা সমাধানের দক্ষতা বিকাশে সহায়তা করে। একটি জটিল সমস্যাকে ছোট ছোট ধাপে ভাগ করে সমাধান করার অভ্যাস শিক্ষা ও কর্মজীবনের নানা ক্ষেত্রেই কার্যকর। ইউনেস্কোও কোডিংকে কেবল প্রযুক্তিগত দক্ষতা নয়, বরং যুক্তি, সৃজনশীলতা ও সমস্যা সমাধানের ভাষা হিসেবে তুলে ধরেছে।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দ্রুত বিকাশ কোডিংয়ের গুরুত্বকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। এআই-ভিত্তিক বিভিন্ন টুল কোড লেখা, পরীক্ষা ও ত্রুটি শনাক্তকরণে সহায়তা করতে পারে। তবে কেবল এআইয়ের ওপর অন্ধনির্ভরতা নয়; বরং কোড কীভাবে কাজ করে, তার যুক্তি কী এবং এর ফলাফল নিরাপদ ও নৈতিক কিনা, তা বোঝার মৌলিক দক্ষতা অর্জন করাও জরুরি।

ইউনেস্কো বলছে, এআইয়ের যুগে কোডিং শেখা এআই সাক্ষরতা ও সমালোচনামূলক চিন্তার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। একই সঙ্গে কোডিং শিক্ষাকে যেন কেবল মুখস্থনির্ভর না রেখে সৃজনশীল, আন্তঃবিষয়ক ও নৈতিক শিক্ষার সঙ্গে যুক্ত করা হয়, সেই গুরুত্বও তুলে ধরা হয়েছে।
ডিজিটাল যুগের বড় চ্যালেঞ্জ হলো প্রযুক্তিগত বৈষম্য। উচ্চ আয়ের দেশগুলোর শিক্ষার্থীরা কম্পিউটার বিজ্ঞান শিক্ষার সুযোগ তুলনামূলক বেশি পেলেও নি¤œ আয়ের অনেক অঞ্চলে শিক্ষক, অবকাঠামো, প্রশিক্ষণ ও শিক্ষাসামগ্রীর ঘাটতি রয়েছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে লিঙ্গবৈষম্যÑঅনেক ক্ষেত্রে মেয়েরা কোডিং শেখার সুযোগ থেকে পিছিয়ে থাকে। তাই বিশ্ব কোডিং দিবসের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বার্তা হলোÑকোডিং শিক্ষা হতে হবে সবার জন্য সহজলভ্য, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও ন্যায়সংগত। স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী, বিশেষ করে সুবিধাবঞ্চিত ও প্রত্যন্ত অঞ্চলের শিশু-কিশোরদের জন্য প্রশিক্ষণ, উপযুক্ত শিক্ষক এবং প্রযুক্তিগত অবকাঠামো নিশ্চিত করা জরুরি।

বাংলাদেশে তরুণদের মধ্যে প্রোগ্রামিং, সফটওয়্যার উন্নয়ন, ফ্রিল্যান্সিং, সাইবার নিরাপত্তা, ডেটা বিজ্ঞান ও এআই নিয়ে আগ্রহ বাড়ছে। দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, প্রশিক্ষণকেন্দ্র ও প্রযুক্তি খাতের বিভিন্ন উদ্যোগ ডিজিটাল দক্ষতা তৈরিতে ভূমিকা রাখছে। তবে বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় আরও এগিয়ে যেতে হলে শুধু প্রচলিত কোডিং শেখানো যথেষ্ট নয়; গবেষণা, উদ্ভাবন, এআই, সাইবার নিরাপত্তা, ডেটা বিজ্ঞান এবং পণ্যভিত্তিক প্রযুক্তি উন্নয়নে গুরুত্ব বাড়াতে হবে। একই সঙ্গে কোডিং শিক্ষায় নিরাপত্তা ও নৈতিকতা অন্তর্ভুক্ত করা প্রয়োজন। ব্যক্তিগত তথ্য সুরক্ষা, নিরাপদ সফটওয়্যার তৈরি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দায়িত্বশীল ব্যবহার এবং মেধাস্বত্বের প্রতি সম্মানÑডিজিটাল দক্ষতার অবিচ্ছেদ্য অংশ।

বিশ্ব কোডিং দিবস তাই নিছক একটি প্রযুক্তি উদযাপনের দিন নয়; এটি ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে প্রযুক্তির ভোক্তা থেকে প্রযুক্তির স্রষ্টা হিসেবে গড়ে তোলার আহ্বান। ডিজিটাল যুগে যে সমাজ তার শিশু-কিশোর ও তরুণদের যুক্তি, সৃজনশীলতা এবং প্রযুক্তিগত দক্ষতায় সমৃদ্ধ করতে পারবে, সেই সমাজই পরিবর্তনশীল বিশ্বে নতুন সম্ভাবনা তৈরি করতে সক্ষম হবে। ২৯ অক্টোবরের এই দিবস আমাদের মনে করিয়ে দেয়Ñকোডিং শেখা মানে শুধু কম্পিউটারকে নির্দেশ দেওয়া নয়; বরং যুক্তি দিয়ে ভাবা, সমস্যা সমাধান করা এবং ভবিষ্যৎ প্রযুক্তিকে দায়িত্বশীলভাবে নির্মাণ করার সক্ষমতা অর্জন করা।

 

বেকারত্ব: একটি মানসিক ব্যাধি ও উত্তরণ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:১৯ অপরাহ্ণ
বেকারত্ব: একটি মানসিক ব্যাধি ও উত্তরণ

শিরিন সিদ্দিকী

চাকরি সোনার হরিণ! আর আমাদের দেশের বর্তমান পরিস্থিতিতে তো কোনো বিশেষণেই বিশেষায়িত করার প্রশ্নই আসে না।

চাকরি মানে চাকরি। সরকারি চাকরিই আসল কথা।তা আপনি মাধ্যমিক পাস হোন আর মাস্টার্স ডিগ্রি অর্জনকারী হোন। একটা সরকারি চাকরিই যেন মানবজীবনের আরাধ্য চাওয়া। আর সোনার হরিণ সম এই অতীব মূল্যবান চাকরি জুটাতে গড় আয়ুর প্রায় অর্ধেক অংশ পার করে ফেলি আমরা। এখানে কোনো ভাবেই বিবেচ্য নয় যে আপনি কোন বিষয়ে অনার্স-মাস্টার্স শেষ করেছেন। সার্টিফিকেট অর্জনের আসল মাকসাদ চাকরি!

সরকারি চাকরি। সম্প্রতি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নিয়াগ থেকে বঞ্চিত হয়েছেন চূড়ান্তভাবে সুপারিশপ্রাস্ত অনেক মেধাবী চাকরিপ্রার্থী। উচ্চ মাধ্যমিক পাসের পর পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি যুদ্ধ আর অনার্স-মাস্টার্স শেষ করে বেকার ট্যাগ ঘুচাতে চাকরি যুদ্ধ সমান গুরুত্ব বহন করে। একমাত্র তারাই বুঝতে পারবেন যারা এই যুদ্ধে পারিবারিকতা ও সামাজিকতা, বন্ধুমহল ও প্রিয়জন ভুলে এই পথের যোদ্ধা হিসেবে সময়,শ্রম ও মেধা দিয়ে যারপরনাই চেষ্টা করে দিনরাত এক করে ফেলে জীবনের পঁচিশ-তিরিশ বসন্ত নির্বাসিত তপস্বীর জীবন যাপন করেছেন।

সমস্যা নেই ফার্মেসি বিভাগের টপার হয়েও প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ পেলেন নাকি ইসলামী ইতিহাসের ছাত্র হয়ে ব্যাংক এর ক্যাশ ইন চার্জ হিসেবে নিয়োগ পেলেন।
ট্যাগ দরকার শুধু আপনি আর বেকার যুবকের তালিকায় নেই। আপনি এখন সরকারি চাকুরীজীবী।

ব্যস্! আপনার যোগ্যতা অনুযায়ী উপযুক্ত সম্মান, মর্যাদা ও ঠিকঠাক গ্রেডিং এর চেয়ারটাতে সমাসীন হয়েছেন কিনা এতো ব্যক্তি সচেতনতা দেখানোর মতো আদিখ্যেতা বাতুলতা মাত্র। দূর্লভ এ চাকরির বাজারে আপনিও সরকারি অনুদানভুক্ত চাকর! এই সংবাদটি নিশ্চিত করতে পারলেই পেটে ভাতে আপনি ছাপোষা কেরানি। একটা মানুষ জীবন আর কী চাই!
হায় আমার সোনার বাংলাদেশ!

আহা! আমরা সোনার দামাল বঙ্গসন্তান!
মাথার ঘাম পায়ে ফেলে, শরীরের রক্ত পানি করে, মগজের কোষে চাপাচাপি করে চাকরির রেসে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েও এনএসআই ভেরিফিকেশনের নামে কী ভয়ংকর ছলনাই না করলো! আমি সমব্যথী একজন মানুষ হিসেবে সত্যিই বুকে পাঁজরভাঙা কষ্ট অনুভব করছি।কারণ আমি নিজেও পাবলিকিয়ান হয়েও চাকরির প্রথম জীবন প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক হিসেবেই শুরু করেছিলাম। সে-ই অভিজ্ঞতার আলোকেই হৃদয়ের রক্তক্ষরণে হৃদক্রিয়া বন্ধের শ্বাসকষ্ট অনুভব করছি। অবশ্যই কোমলমতি শিশুদের সাথে শ্রেণিকক্ষে পাঠদান স্বর্গীয় আনন্দ অনুভব হতো তবে তা বেশিদিনের সুখ অনুভুতি নয়। যখন বুঝতে পারছিলাম আমার অর্জিত জ্ঞান নয় বরং ওদের খোরাকি মেটানোর প্রয়োজন মতো আমাকেই ওদের মতো হয়ে পড়াতে হচ্ছে। দারুন একটা মর্মপীড়ার আহত হতাম নিজের ভবিষ্যৎ বিবেচনায়। তখন আমার অর্জিত সার্টিফিকেটগুলোকে নিষ্প্রয়োজন বলেই বোধ করেছি। বলতে গেলে এতো এতো মেধাবী চাকরিপ্রার্থী নিজেদের প্রাতিষ্ঠানিক সনদের যোগ্য পদ ও পদবির জন্যে নয়; বরং অপেক্ষাকৃত অনেক অনেক নি¤œস্তরের (অবশ্যই ছোট করছি না) বলতে গ্রেড হীন (সদ্য গ্রেডিং ভুক্ত) কিছু অর্থের বিপরীতে লাখ লাখ মেধাবীর সাথে প্রতিযোগিতা করে লিখিত, মৌখিক পরীক্ষা ফেইস করে সুপারিশপ্রাপ্ত হচ্ছেন।

তারপর আবার নিয়োগপত্র বেহাত হয়ে যাচ্ছে। আঙুল তুলছে রাষ্ট্রের দিকে।রাষ্ট্র সে অভিমান বুঝতে পারছে কি? না, পারছে না।আর পারবেও না।

প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগের যোগ্য শিক্ষক ততদিন পর্যন্তই ঠিকঠাক ছিল যতদিন পর্যন্ত ম্যাট্রিক পাস করেই কাক্সিক্ষত মেধাবী চাকরিপ্রার্থী রাষ্ট্র নিয়োগদান করতে পেরেছে। কারণ ম্যাট্রিকুলেশন পাশ দিয়ে তাঁরা মানুষ গড়ার কারিগর হিসেবেই সেবাদানের মাধ্যমে এ মহান পেশায় নিয়োজিত থেকেছেন। তখন এক সময় ছিল বটে। কিন্তু যেদিন থেকে একজন অনার্স-মাস্টার্স শেষ করা একজন চাকরিপ্রার্থী প্রাথমিক স্তরে নিয়োগপত্র হাতে নিয়ে বিদ্যালয়ে আসেন তিনি ঠিক কতটুকু ফলপ্রসূ ভূমিকা পালন করতে পারেন অ আ ক খ বর্ণ পরিচয় কিংবা গণিতের ধারাপাত আত্মস্থ করাতে। এসব উচ্চ ডিগ্রিধারী সহকারী শিক্ষক মূলত চাকরিই করতে আসেন মানুষ গড়ার ব্রত নিয়ে শিক্ষার্থীদের প্রস্তুত করার মতো সৎ মানসিকতার আদর্শ শিক্ষক হিসেবে নিজেকে নিয়োজিত রাখতে পারেন না।

 

প্রচুর উদাহরণ আছে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক হিসেবে চাকরিতে প্রবেশের ছয় মাস এক বছর না পেরোতেই বীতশ্রদ্ধ হয়ে নামেমাত্র মাসিক বেতন-ভাতা বৃদ্ধির দাবিতে আন্দোলন করে মরছে। আর বড় একটা অংশ আছেন যারা রীতিমতো আফসোস করে হাপিত্যেশ করছেন। ভুল সিদ্ধান্তের খেসারত হিসেবে চাকরি করে যাচ্ছেন মাত্র। তবে অবশ্যই হাতেগোনা দু’চারজন যাঁরা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক হিসেবে নিয়োগপ্রাপ্ত হয়ে সততার সাথে দায়িত্ব পালন করছেন না সে ধৃষ্টতা দেখানোর স্পর্ধা আমার নেই। তাঁদের জন্য আমার শ্রদ্ধা নিবেদন করছি।

 

আর সেই সাথে প্রশ্ন রাখছি রাষ্ট্রের কাছে একজন ফার্মেসি বিভাগের টপার শিক্ষার্থীকে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ দিয়ে তাঁর ছয় সাত বছরের মগজ গলানো অর্জিত জ্ঞান প্রাক প্রাথমিক শ্রেণি থেকে শুরু করে পঞ্চম শ্রেণিতে পড়ুয়া কোমলমতি শিশুদের ঠিক কোন বিশেষায়িত জ্ঞান অর্জনের পাথেয় হবে? আর ছোট্ট পরামর্শ হলো, যেসব মেধাবী চাকরিপ্রার্থীগণ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের চ্যালেঞ্জিং সাবজেক্টসমূহে সার্টিফিকেট অর্জনের পর নিজেদের যোগ্যতা বিচারের ভার রাষ্ট্রের ঘাড়ে চাপিয়ে দিয়ে সিমপ্যাথি কুড়ানোর মতো হালকা ব্যঙ্গর মোচড়ে খবরের শিরোনামে ভাইরাস ছড়াচ্ছেন তাদের ঘিলুটাকে ভাঙরির দোকানে ওজনে তুলে দিয়ে ঝুড়ি ভাজা খেতে পারেন। তবে, ইদানিং একটা আশার আলো দেখতে পাই, যখন দেখি প্রচুর সংখ্যক প্রতিষ্ঠিত চাকরিজীবী লাখ টাকার চাকরি ছেড়ে ভ্রাম্যমাণ খাবারের দোকান ফেরি করে আত্মনির্ভরশীল হচ্ছেন। শুধুমাত্র অন্যের অধীনে চাকরি করবেন না বলে।

 

বেকার থাকবেন না বলে তাঁরা বেকারত্ব “শব্দটিকে কেটে ছিঁড়ে একেবারে যাচ্ছেতাই কান্ড করে বসে আছেন। সরকারি বেসরকারি ব্যাংক কর্মকর্তা থেকে শুরু বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক পর্যন্তও আজকাল স্ট্রিট ফুড উদ্যোক্তা! আপনি হতাশবাদী সার্টিফিকেটধারী একজন উচ্চ শিক্ষিত বেকার। আপনার কাছে যদি সাবজেক্ট ম্যাটার না করে এবং চাকরি পাওয়াই শিক্ষাজীবনের আরাধ্য হয় তবে নিজের নামের আগে বেকার ‘বিশেষণটাকে আগে ঝেড়ে ফেলুন।

 

আমার তো মনে হয় বেকার ‘শব্দটাকেই অভিধান থেকে আগে তুলে দেয়া দরকার। বে কার অর্থ্যাৎ নেই কাজ যার।কাজ নেই এমন মানুষ হয় না কি আবার? প্রচুর সংখ্যক শিক্ষার্থী প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা শেষ করে চাকরি পাচ্ছি না বেকার ইত্যাদি সেøাগানে নিষ্কর্ম অলসভাবে মূল্যবান সময় নষ্ট করে যাচ্ছে। যদি আপনার প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা অর্জনের সাথে কর্মসংস্থানের খুব বেশি সাজুয্য না থেকে মানে চাকরি পাওয়াই আপনার একমাত্র লক্ষ্য হয় তবে আপনি আপনার বেকারত্বের অভিশপ্ত ট্যাগ থেকে নিজের উত্তরণ ঘটাতে পারেন। নিঃসন্দেহে বেকার ‘শব্দটি একটি মানসিক ব্যাধি। বাস্তবিক পক্ষে এ শব্দটির অস্তিত্ব মেটার করে না।

 

আজকাল শারীরিক প্রতিবন্ধকতা নিয়েও বহু শিক্ষিত ছেলেমেয়ে আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী হয়ে গেছে। আপনার মেধা-শ্রম-অধ্যবসায় দিয়ে নিজের যোগ্যতা নিজেই বুঝে নিন।রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে আঙুল তুলে ধৃষ্টতা প্রদর্শন কিংবা অভিমান দেখানোর মিনিমাম সময়টুকুও আত্মোন্নয়নে ও স্বাবলম্বী হওয়ার দক্ষতা অর্জনে কাজে লাগিয়ে নিজের প্রতি রহম করুন।

লেখক: সহকারী অধ্যাপক (বাংলা), নাংলা পি এস জে ফাযিল ডিগ্রি মাদ্রাসা, সুজনসাহা, তালা, সাতক্ষীরা

ভাঙে বেড়িবাঁধ, দায় কার?/সচ্চিদানন্দ দে সদয়

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৬:১৯ অপরাহ্ণ
ভাঙে বেড়িবাঁধ, দায় কার?/সচ্চিদানন্দ দে সদয়

সচ্চিদানন্দ দে সদয়

বেড়িবাঁধ ভাঙার আগে সতর্কবার্তা থাকে। কোথাও মাটি সরে যায়, কোথাও ফাটল ধরে, কোথাও নদীর স্রোত বাঁধের পাড় কামড়ে ধরে। স্থানীয় মানুষ বিষয়টি জানান, জনপ্রতিনিধিরা অবহিত হন, সংবাদও প্রকাশিত হয়। কিন্তু সংস্কারের কাজ শুরু হয় না। তারপর একদিন জোয়ার আসে, বাঁধ ভাঙে, পানি ঢোকে। শুরু হয় প্রশাসনের দৌড়ঝাঁপ। এটাই কি আমাদের উপকূল ব্যবস্থাপনার নিয়ম? সাতক্ষীরার আশাশুনিতে এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে বেশি দূর যেতে হয় না। বুধহাটা বাজার, শ্মশানঘাট তেঁতুলতলা, প্রতাপনগর, বড়দল, আনুলিয়া কিংবা খাজরার বাঁধের দিকে তাকালেই চিত্রটি স্পষ্ট হয়। বুধহাটা শুধু একটি বাজার নয়। দীর্ঘদিনের এই বাণিজ্যকেন্দ্রের সঙ্গে আশপাশের বহু গ্রামের মানুষের জীবন-জীবিকা জড়িত। অথচ বেতনা নদীর ভাঙন এখন বাজারটির অস্তিত্বকেই প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে। চলতি বছরের এপ্রিলে বুধহাটা বাজার সংলগ্ন বাঁধে ভয়াবহ ভাঙন দেখা দেয়। কয়েক দিনে প্রায় ১৫ থেকে ২০ হাত বাঁধ নদীগর্ভে বিলীন হয়। স্থানীয়দের অভিযোগ, অপরিকল্পিত নদীখননের কারণে স্রোতের চাপ বাজারমুখী হয়েছে।

 

জুলাইয়ে বুধহাটা ও নওয়াপাড়া এলাকায় পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হওয়ার খবর আসে। সেখানে ২০০ থেকে ৩০০ হাত বাঁধের নিচের অংশ নদীতে চলে যাওয়ার পাশাপাশি প্রায় ১০০ হাত মূল বাঁধে বড় ফাটল দেখা দেয়। এতে বুধহাটা, ফিংড়ী, ব্রহ্মরাজপুর ও ধুলিহরসহ আশপাশের বহু গ্রাম, ফসলি জমি ও মৎস্যঘের প্লাবনের ঝুঁকিতে পড়ে। বৈরামপুরেও বেতনা নদীর ভাঙন দীর্ঘদিন ধরে বাঁধকে দুর্বল করে তুলছে। সেখানে কয়েক মাসে প্রায় ১৫০ থেকে ২০০ ফুট চর নদীতে বিলীন হয়েছে এবং ভাঙন বাঁধসংলগ্ন সড়কের কাছাকাছি চলে এসেছে। এটি শুধু আশাশুনির সমস্যা নয়; পুরো সাতক্ষীরার উপকূলীয় বাস্তবতা একই। চলতি বছরের মে মাসে আশাশুনি ও শ্যামনগরের অন্তত ৪০টি স্থানে বেড়িবাঁধ তীব্র ভাঙনের ঝুঁকিতে থাকার তথ্য প্রকাশিত হয়েছে। আশাশুনির মরিচ্চাপ নদীর তেঁতুলিয়া সেতু এলাকাও ছিল সেই ঝুঁকির তালিকায়।

 

গত বছর আনুলিয়ার বিছট গ্রামের কাছে খোলপেটুয়া নদীর বাঁধের প্রায় ১৫০ ফুট অংশ ভেঙে প্রায় ১০টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছিল। চলতি বছর বড়দল ও খাজরা এলাকায় খোলপেটুয়া নদীর বাঁধে বড় ধরনের ফাটল দেখা দিলে প্রায় ২০টি গ্রাম এবং হাজার হাজার বিঘা ফসলি জমি ও মৎস্যঘের প্লাবনের আশঙ্কা তৈরি হয়। আর সর্বশেষ প্রতাপনগরের শ্রীপুর-কুড়িকাহুনিয়া এলাকায় কপোতাক্ষ নদের বাঁধ ভাঙার ঘটনা আবারও সেই পুরোনো বাস্তবতাকে সামনে এনেছে। স্থানীয় মানুষের হিসাবে ভাঙন প্রায় ১৫০ ফুট হলেও পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রাথমিক হিসাবে তা ৬০ থেকে৭০ ফুট। বাঁধ রক্ষায় শতাধিক মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে কোদাল-ঝুড়ি নিয়ে কাজে নেমেছেন। অথচ এলাকাবাসীর ভাষ্য, ঝুঁকির কথা আগেই জানানো হয়েছিল। প্রশ্ন হচ্ছে, প্রতিবার মানুষ নিজেরাই কেন বাঁধ রক্ষায় নামবেন?

 

রাষ্ট্রের দায়িত্ব কোথায়? আশাশুনির মানুষ দুর্যোগের সঙ্গে লড়াই করতে অভ্যস্ত। কিন্তু মানুষের সহনশীলতাকে প্রশাসনিক নিষ্ক্রিয়তার বিকল্প বানানো যায় না। বাঁধ ভাঙার পর জিওব্যাগ ফেলা, মাটি ফেলা, বাঁশের পাইলিং করাÑএসব জরুরি ব্যবস্থা হতে পারে; কিন্তু এগুলো স্থায়ী সমাধান নয়। আরও বড় প্রশ্ন নদী ব্যবস্থাপনা নিয়ে। কোথাও নদী খনন হচ্ছে, কোথাও স্রোতের গতিপথ বদলাচ্ছে, কোথাও তীর থেকে মাটি সরে যাচ্ছে। এসব কাজের সঙ্গে বাঁধের নিরাপত্তার সম্পর্ক বিবেচনা না করলে এক জায়গা রক্ষা করতে গিয়ে অন্য জায়গা ঝুঁকিতে পড়তে পারে। তাই নদী ও বাঁধকে আলাদা করে দেখার সুযোগ নেই।

 

এখন আর প্রশ্ন হওয়া উচিত নয়Ñবাঁধ ভাঙলে কীভাবে সামলানো হবে? প্রশ্ন হওয়া উচিতÑবাঁধ যাতে না ভাঙে, তার জন্য আজ কী করা হচ্ছে? পানি উন্নয়ন বোর্ডকে জরুরি ভিত্তিতে ঝুঁকিপূর্ণ বাঁধগুলোর কারিগরি জরিপ করতে হবে। বাঁধের উচ্চতা, প্রস্থ, মাটির গুণমান, ফাটল, নদীর স্রোত ও তীরভাঙনের গতিপ্রকৃতি বিবেচনায় নিয়ে একটি ঝুঁকি-মানচিত্র তৈরি করা প্রয়োজন। এরপর অগ্রাধিকার ভিত্তিতে স্থায়ী সংস্কার করতে হবে। বুধহাটা বাজার ও শ্মশানঘাট তেঁতুলতলার মতো জন বসতিপূর্ণ এলাকায় সাময়িক জোড়াতালির বদলে প্রয়োজন অনুযায়ী স্থায়ী তীর সংরক্ষণ ও বাঁধ শক্তিশালী করতে হবে।

 

নদীখনন বা অন্য কোনো উন্নয়নকাজের আগে তার প্রভাব বাঁধ ও নদীর স্বাভাবিক প্রবাহের ওপর কী পড়বে, সেটিও কারিগরি সমীক্ষায় নিশ্চিত করা দরকার। একই সঙ্গে বাঁধ নির্মাণ ও সংস্কারে কাজের মান, অর্থ ব্যয় এবং ঠিকাদারি ব্যবস্থায় জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে। বর্ষা ও দুর্যোগ মৌসুমের আগে প্রতিবছর বাঁধের ‘স্বাস্থ্য পরীক্ষা’ বাধ্যতামূলক করা যেতে পারে। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় আগেই জিওব্যাগ, বালুর বস্তা ও প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম মজুত রাখতে হবে। সবশেষে প্রয়োজন জবাবদিহি।

 

একই বাঁধ বারবার ভাঙবে, বারবার সরকারি অর্থে সংস্কার হবে, আবার ভাঙবেÑএই চক্র চলতে পারে না। কোনো প্রকল্প ব্যর্থ হলে তার কারণ খুঁজতে হবে এবং দায়িত্বে অবহেলা থাকলে ব্যবস্থা নিতে হবে। বাঁধ ভাঙার পর দৌড়ঝাঁপ নয়Ñভাঙার আগেই পরিকল্পনা, অর্থায়ন, কাজ ও জবাবদিহি নিশ্চিত হোক। কারণ একটি বেড়িবাঁধ শুধু মাটি ও বালুর স্তূপ নয়; এর ওপারে রয়েছে মানুষের ঘরবাড়ি, কৃষিজমি, মৎস্যঘের, বাজার ও জীবিকা। বাঁধ রক্ষার সাফল্য জিওব্যাগের সংখ্যায় নয়, কতটি পরিবারকে প্লাবনের হাত থেকে রক্ষা করা গেলÑতার হিসাবেই মাপা উচিত।

লেখক: সংবাদকর্মী