চুনা এলাকায় ম্যানগ্রোভ বনায়ন সম্প্রসারণের আগ্রহ প্রকাশ স্থানীয় জনগোষ্ঠীর
পত্রদূত ডেস্ক: উপকূলীয় এলাকার চুনা ম্যানগ্রোভ বনায়নকে অন্যান্য কার্যকর এলাকা ভিত্তিক সংরক্ষণ ব্যবস্থা (ওইসিএম) হিসেবে সম্ভাব্য স্বীকৃতির প্রক্রিয়ায় স্থানীয় জনগোষ্ঠীর মতামত ও সম্মতি গ্রহণের লক্ষ্যে সাতক্ষীরার শ্যামনগরে চুনা-ম্যানগ্রোভ বনয়ান বিষয়ে গণশুনানি (ওইসিএম) অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার সকাল ১০ টায় উপজেলা পরিষদ সম্মেলন কক্ষে গণশুনানিতে চুনা ম্যানগ্রোভকে (ওইসিএম) হিসেবে স্বীকৃতির উদ্যোগকে স্থানীয় জনগণ সম্মতি প্রদান করেন।
বিফরআরএল প্রকল্পের আওতায় আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে চুনা ম্যানগ্রোভের জীববৈচিত্র্য, ব্যবস্থাপনা, স্থানীয় জনগোষ্ঠীর সম্পৃক্ততা এবং ওইসিএম হিসেবে স্বীকৃতির সম্ভাব্য প্রক্রিয়া নিয়ে আলোচনা করা হয়। সুইডেন দূতাবাস ঢাকা বাংলাদেশের অর্থায়নে, সিএনআরএস-এর নেতৃত্বে আইইউসিএন, বেলা, নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটি, সিডিও ও প্রেরণা-এর অংশীদারত্বে বিফরআরএল প্রকল্পের আওতায় শ্যামনগর উপজেলার বুড়িগোয়ালিনী ইউনিয়নের কলবাড়ি গ্রামের চুনা নদীর চরে ম্যানগ্রোভ গড়ে তোলা হয়েছে।
ওইসিএম হিসেবে সম্ভাব্য স্বীকৃতির ক্ষেত্রে স্থানীয় জনগোষ্ঠীর মতামত ও সম্মতি গুরুত্বপূর্ণ হওয়ায় অনুষ্ঠানের গণশুনানি পর্বে চুনা ম্যানগ্রোভ ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্য ও স্থানীয় সুবিধাভোগীদের মতামত নেওয়া হয়। আলোচনার পর উপস্থিত সদস্যরা হাত তুলে সম্মতি প্রকাশ করেন এবং চুনা ম্যানগ্রোভ সংরক্ষণ ও ব্যবস্থাপনার উদ্যোগের প্রতি আগ্রহ জানান। তারা শুধু বর্তমান বনায়ন এলাকা নয়, ভবিষ্যতে আরও এলাকায় ম্যানগ্রোভ বনায়ন ও সংরক্ষণ কার্যক্রম সম্প্রসারণের প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।
আইইউসিএন-এর প্রোগ্রাম অফিসার মো. তারেক আজিজ এর সঞ্চালনায় গণশুনানিতে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার শামসুজ্জাহান কনক। বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন, সুন্দরবনের পশ্চিম বন বিভাগের সাতক্ষীরা রেঞ্জের সহকারী বন সংরক্ষক (এসিএফ) মোঃ শাহিনুর ইসলাম।
এসময় আরও বক্তব্য রাখেন, আইইউসিএন-এর প্রিপোর্টিং অফিসার মেহজাবিন মৌ, শ্যামনগর পানি উন্নয়ন বোর্ডের এসও ফরিদুল ইসলাম, সামাজিক নবায়ন কর্মকর্তা আছাউর রহমান, সিডিওর পরিচালক গাজী ইমরান, মেম্বর আব্দুল রউফ, সিনআরএস-এর সাইট অফিসার তৌহিদ হাসান প্রমুখ।
আলোচনায় জানানো হয়, চুনা ম্যানগ্রোভ এলাকায় সুন্দরীসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ প্রজাতির গাছের উপস্থিতি রয়েছে। একই সঙ্গে এলাকাটি সুন্দরবনের বৃহত্তর ম্যানগ্রোভ বাস্তুতন্ত্র-এর সঙ্গে বাস্তুতান্ত্রিক সংযোগ-এর দিক থেকেও গুরুত্বপূর্ণ। স্থানীয় জনগোষ্ঠীর অংশগ্রহণে গঠিত চুনা-ম্যানগ্রোভ ব্যবস্থাপনা কমিটি নিয়মিতভাবে বনায়ন এলাকা পর্যবেক্ষণ ও ব্যবস্থাপনায় ভূমিকা রাখছে।
স্থানীয় অংশীজনরা বলেন, এ ধরনের উদ্যোগ ম্যানগ্রোভ ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণের পাশাপাশি স্থানীয় মানুষের জন্য দীর্ঘমেয়াদি পরিবেশগত ও জীবিকাগত সুবিধা তৈরি করতে পারে। বিশেষ করে স্থানীয় পর্যায়ে বন ও প্রাকৃতিক সম্পদের সংরক্ষণ শক্তিশালী হলে সুন্দরবনের ওপর জীবিকা ও প্রাকৃতিক সম্পদের জন্য অতিরিক্ত নির্ভরশীলতা কমানোর সুযোগ তৈরি হতে পারে।












