নীরব প্রত্যাহার
জহুরুল হক জুলু
আমি আর কোনো বিচার চাই না,
শব্দের ধারালো অস্ত্রও নয়
শুধু তোমার ভেতরের আয়নাটা
তোমার দিকেই ফিরিয়ে দিলাম।
যেখানে তুমি নিজেকেই দেখবে
অচেনা, অপরিচিত, অস্বস্তিকর
যেখানে চোখ রাখতে চাইলেও
চোখ নামিয়ে নিতে ইচ্ছে করবে।
আমি সরে গেছি নিঃশব্দে,
আমার উষ্ণতার শেষ চিহ্নটুকুও তুলে নিয়েছি,
এখন যে শীতলতা তোমাকে ঘিরে আছে
তার উৎস আমার নয়।
তোমারই বোনা ফাঁকা সময়গুলো
আজ দেয়াল হয়ে দাঁড়িয়েছে,
তোমারই অস্বীকার করা সত্যগুলো
নিঃশব্দে শ্বাস নেয় পাশে।
বিশ্বাস কখনো চিৎকার করে না,
সে শুধু অপেক্ষা করে—
সঠিক মুহূর্তে
অস্থিরতা হয়ে ফিরে আসে।
তুমি যত দূরে পালাতে চাও,
ততই কাছে আসে সেই অনুভূতি,
যেন ভেতরের কোনো অদৃশ্য দরজা
নিজে থেকেই খুলে যাচ্ছে।
যা একদিন ছিল কোমল,
আজ তা হয়ে উঠেছে প্রশ্ন
নীরব, তবু তীক্ষ্ণ,
অমোঘ, তবু অস্বীকার করা যায় না।
আমি তোমার জন্য কিছু রাখিনি,
কোনো দন্ড, কোনো শব্দ, কোনো ঘোষণা
কারণ মানুষের ভেতরের শূন্যতাই
সবচেয়ে দীর্ঘস্থায়ী প্রতিধ্বনি।
তুমি চলবে,
মানুষের ভিড়ে মিশে যাবে,
হাসবে, কথা বলবে,
সবকিছু স্বাভাবিক মনে হবে।
তবু গভীর কোথাও
একটা চাপা ভার জমে থাকবে—
যা সরাতে পারবে না,
যা বুঝিয়ে বলতেও পারবে না।
সেটাই তোমার সঙ্গী,
সেটাই তোমার ছায়া,
যেখানেই যাবে
নীরবে সাথে যাবে।
আমি শুধু সরে দাঁড়িয়েছি—
বাকি পথ তুমি নিজেই তৈরি করো।






