বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬, ২৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬, ২৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

পরিত্যাক্ত অ্যালুমিনিয়াম নিয়ে যাওয়ার পথে ফকিরহাটে ট্রাকসহ ডাকাতি

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ৮ মে, ২০২৬, ২:১৫ অপরাহ্ণ
পরিত্যাক্ত অ্যালুমিনিয়াম নিয়ে যাওয়ার পথে ফকিরহাটে ট্রাকসহ ডাকাতি

ফকিরহাট (বাগেরহাট) প্রতিনিধি: বাগেরহাটের রামপাল তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে ক্রয় করা সাড়ে ১৩ লাখ টাকার পরিত্যাক্ত অ্যালুমিনিয়াম ট্রাকযোগে চটগ্র্রাম নিয়ে যাওয়ার পথে ফকিরহাট উপজেলার সুকদাড়া এলাকায় ডাকাতির ঘটনাটি ঘটে। শুক্রবার (৮ মে) ভোররাতে পুলিশ বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে মূলঘর একটি পরিত্যাক্ত ইটভাটা থেকে ট্রাকসহ মালামাল উদ্ধার করে। এসময় পুলিশ দুইজনকে গ্রেপ্তার করে।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন, উপজেলার পাগলা উত্তরপাড়া এলাকার মো: জয়নাল আবেদিন (৩৮) এবং নলধা গ্রামের মো: জুয়েল শিকদার (৩২)।

পুলিশ জানান, রামপাল এলাকার মনিরুল ইসলাম, কামরুল শেখ ও শামিম হাসান তিন পার্টনার মিলে রামপাল তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে সাড়ে ১৩ লাখ টাকার পরিত্যাক্ত অ্যালুমিনিয়াম ক্রয় করেন।

বৃহস্পতিবার (৭ মে) সন্ধ্যায় ক্রয় করা মালামাল বিআরটিসির একটি ভাড়ায় চালিত ট্রাকে তুলে চটগ্র্রামের উদ্দেশ্যে রওনা দেন। এরপর রামপাল জিরো পয়েন্ট ও সোনাতোনিয়া বাসন্ট্যান্ডে স্থানীয় জনতা তাদের ট্রাকের গতিরোধ করেন। এসময় ট্রাকে থাকা মালামাল যাচাই-বাছাই করে দেখেন সেখানে তামা বা অবৈধ্য কোন মালামাল আছে কিনা। অবৈধ্য মালামাল না থাকায় ট্রাকটি ছেড়ে দেয়।

যাচাই-বাছাই শেষে এদিন রাত ১ টার দিকে ট্রাকটি পুনরায় গন্তব্যের উদ্দেশ্যে রওনা দিলে ফকিরহাট উপজেলার সুকদাড়া এলাকায় এসে পৌছালে সেখানে ১৫/১৬ জনের একটি সংঘবদ্ধ ডাকাতদল ওই ট্রাকের গতিরোধ করে। এসময় ট্রাক চালক ও ট্রাকে থাকা লোকজনকে ভয়ভীতি দেখিয়ে মালামালসহ ট্রাকটি নিয়ে পালিয়ে যায়।

খবর পেয়ে ফকিরহাট মডেল থানা পুলিশ বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে রাত সাড়ে ৪টার দিকে উপজেলা মূলঘর একটি পরিত্যাক্ত ইটভাটা থেকে মালামালসহ ট্রাকটি উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসেন। এসময় ঘটনার সাথে জড়িত দুইজনকে পুলিশ গ্রেপ্তার করে।

এ ব্যাপারে রামপালের গৌরম্ভা গ্রামের শহিদুল ইসলামের ছেলে মনিরুল ইসলাম বাদি হয়ে ৮ জনের নাম উল্লেখসহ আরো অজ্ঞাতনামা ১৬ জনকে আসামী করে ফকিরহাট থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেছেন।

ফকিরহাট মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো: সাইফুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ডাকাতির ঘটনার খবর পেয়ে তাৎক্ষণিক বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে ট্রাক ও মালামাল উদ্ধার করা হয়েছে। ঘটনার সাথে জড়িত দুইজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অন্য আসামীদের গ্রেপ্তার অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এ ঘটনায় থানায় মামলা প্রক্রিয়াধিন। গ্রেপ্তারকৃত আসামীদের বাগেরহাট বিজ্ঞ আদালতের মাধ্যমে জেলা হাজতে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে।

 

Ads small one

জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের দুই নেতা গ্রেপ্তার

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ১২ জুন, ২০২৬, ১২:২৭ পূর্বাহ্ণ
জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের দুই নেতা গ্রেপ্তার

নিজস্ব প্রতিনিধি: সাতক্ষীরায় নিয়মিত একটি মামলার আসামি হিসেবে জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের দুই নেতাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার (১১ জুন) সাতক্ষীরা সদর থানা পুলিশ জেলা শহরের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাঁদের গ্রেপ্তার করে।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেনÑসাতক্ষীরা জেলা আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও শহরের সুলতানপুর এলাকার বাসিন্দা শেখ জাহাঙ্গীর কবির (৪৭) এবং জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সহসভাপতি ও ইটাগাছা এলাকার বাসিন্দা এস এম তুহিনুর রহমান (৩৬)।
সাতক্ষীরা সদর থানা-পুলিশ জানায়, জেলা পুলিশ সুপারের নির্দেশনায় এবং সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) নেতৃত্বে উপপরিদর্শক (এসআই) আব্দুল্লাহিল আরিফ নিশাত ও সমীর গাইনসহ পুলিশের একটি দল এই অভিযান পরিচালনা করে। গ্রেপ্তার হওয়া ওই দুই নেতার বিরুদ্ধে থানায় নিয়মিত মামলা রয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে গতকালই তাঁদের পুলিশ প্রহরায় আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে বলে থানা সূত্রে জানা গেছে।

সম্পাদকীয়/প্রসঙ্গ: বিপন্ন গ্রামীণ সড়ক ও স্থায়ী জলাবদ্ধতার শঙ্কা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ১২ জুন, ২০২৬, ১২:২৬ পূর্বাহ্ণ
সম্পাদকীয়/প্রসঙ্গ: বিপন্ন গ্রামীণ সড়ক ও স্থায়ী জলাবদ্ধতার শঙ্কা

যশোরের কেশবপুর উপজেলায় মৎস্য ঘের নীতিমালা অমান্য করে সরকারি রাস্তা ও পানি নিষ্কাশনের পথ বন্ধ করে মাছ চাষের যে চিত্র সামনে এসেছে, তা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই উপজেলায় ৪ হাজার ৬৫৮টি মৎস্য ঘেরের একটি বড় অংশই গড়ে উঠেছে সরকারি আইন ও পরিবেশগত বিধিমালাকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে। অনেক প্রভাবশালী ঘের মালিক সরকারি পাকা ও কাঁচা সড়কগুলোকে তাঁদের ঘেরের বেড়িবাঁধ হিসেবে ব্যবহার করছেন। এর ফলে শত কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত শতাধিক গ্রামীণ যোগাযোগ ব্যবস্থা যেমন ধ্বংসের মুখে পড়েছে, তেমনি সরকারি খাল ও পানি নিষ্কাশনের স্বাভাবিক পথ বন্ধ হয়ে যাওয়ার কারণে বিস্তীর্ণ অঞ্চলে স্থায়ী জলাবদ্ধতার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
অভিযোগ রয়েছে, নব্বইয়ের দশক থেকে স্থানীয় কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তি বিল, খাল ও নদীর অববাহিকা দখল করে মাছ চাষ শুরু করেন। সময়ের সাথে সাথে এই প্রবণতা গ্রামীণ সড়কের বুক পর্যন্ত এসে ঠেকেছে। গণমাধ্যম জানাচ্ছে, যশোর-সাতক্ষীরা মহাসড়কের একাংশসহ কেশবপুরের বহু গুরুত্বপূর্ণ পাকা ও কাঁচা রাস্তার শোল্ডার ও পিচের অংশ ঘেরের পানির কারণে ধসে যাচ্ছে। ফলে যানবাহন ও জনসাধারনের চলাচলের সাধারণ পথগুলো এখন বিপজ্জনক মৃত্যুফাঁদে পরিণত হয়েছে। সরকারি বিধি অনুযায়ী, যেকোনো সড়ক থেকে নির্দিষ্ট দূরত্ব বজায় রেখে পৃথক বাঁধ নির্মাণ করে মাছ চাষ করার স্পষ্ট বাধ্যবাধকতা থাকলেও মাঠপর্যায়ে তার কোনো প্রতিফলন নেই।
এর চেয়েও বড় সংকট তৈরি হয়েছে পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা পুরোপুরি অচল করে দেওয়ায়। প্রাকৃতিকভাবে গড়ে ওঠা খাল ও কালভার্টের মুখ বন্ধ করে ব্যক্তিগত মৎস্য ঘের তৈরি করায় বৃষ্টির পানি নামার পথ অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছে। ফলে কাদার বিল, মহাদেবপুর বিল, পাঁচপোতার বিলসহ ওই অঞ্চলের অন্তত এক ডজন বিশাল বিলের স্বাভাবিক পরিবেশ এখন হুমকির মুখে। এই পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হলে কেবল যোগাযোগ ব্যবস্থারই ক্ষতি হবে না, বরং কৃষি উৎপাদন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হবে এবং বিল এলাকার হাজার হাজার নি¤œআয়ের মানুষ ও মৎস্যজীবী দীর্ঘমেয়াদি জীবিকা সংকটে পড়বেন।
উপজেলা প্রশাসন ও স্থানীয় মৎস্য বিভাগ মাঝে মাঝে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা ও সচেতনতামূলক সভা করলেও তা প্রভাবশালী ঘের মালিকদের থামাতে পারছে না। নামমাত্র জরিমানা বা সাময়িক নিষেধাজ্ঞা এই কাঠামোগত ক্ষতি রোধে কোনো স্থায়ী সমাধান আনছে না। সরকারি সম্পদ ধ্বংস এবং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা জিম্মি করে মুষ্টিমেয় কিছু মানুষের এই অতি-মুনাফালোভী বৈরী আচরণ কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।
আমরা মনে করি, গ্রামীণ অর্থনীতি ও পরিবেশ রক্ষা করতে হলে মৎস্য ঘের নীতিমালার কঠোর ও আপসহীন বাস্তবায়ন জরুরি। যেসব ঘের মালিক সরকারি রাস্তা বাঁধ হিসেবে ব্যবহার করছেন এবং খালের স্বাভাবিক প্রবাহ বন্ধ করেছেন, তাঁদের বিরুদ্ধে কেবল জরিমানা নয়, বরং ফৌজদারি আইনে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে হবে। একই সাথে অবৈধভাবে দখলকৃত খাল ও কালভার্টের মুখ অবিলম্বে উন্মুক্ত করে পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা স্বাভাবিক করতে হবে। গ্রামীণ অবকাঠামো ও জনস্বার্থকে জলাঞ্জলি দিয়ে কোনো বাণিজ্যিক উন্নয়ন টেকসই হতে পারে নাÑসংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ বিষয়টি অনুধাবন করে দ্রুত স্থায়ী পদক্ষেপ নেবেন, এটাই আমাদের প্রত্যাশা।

 

আশাশুনিতে প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রধান শিক্ষকদের সমন্বয় সভা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ১২ জুন, ২০২৬, ১২:২২ পূর্বাহ্ণ
আশাশুনিতে প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রধান শিক্ষকদের সমন্বয় সভা

আশাশুনি প্রতিনিধি: আশাশুনি উপজেলার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকদের অংশ গ্রহণে ক্লাস্টারভিত্তিক মাসিক সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১১ জুন) বেলা ১১টায় উপজেলার মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও ইউআরসি ট্রেনিং সেন্টারে ৪টি ক্লাস্টারের এই পৃথক পৃথক সভা অনুষ্ঠিত হয়।
উপজেলা শিক্ষা অফিসার স্বপন কুমার বর্মনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সভায় উপজেলার ১০৯টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকেরা অংশ নেন। সভায় আলোচনায় অংশ নেন সহকারী উপজেলা শিক্ষা অফিসার মোস্তাফিজুর রহমান, ঝংকর ঢালী, সোহাগ আলম ও আশেকুজ্জামান।
আশাশুনি সদর, শ্রীউলা, চম্পাখালী ও বুধহাটা ক্লাস্টারের শিক্ষকদের নিয়ে আয়োজিত এই সভায় হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে শিক্ষকদের হাজিরা নিশ্চিতকরণ, শিক্ষার্থীদের মৌলিক সাক্ষরতা ও শিক্ষার মান উন্নয়ন, চলমান বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজের তদারকি, জুন ক্লোজিংয়ের বিবিধ ভাউচার জমা এবং বিদ্যালয়গুলোতে ব্যবস্থাপনা কমিটি (এসএমসি) গঠনের সার্বিক পরিস্থিতিসহ বিভিন্ন দাপ্তরিক বিষয়ে আলোচনা করা হয়।