রবিবার, ১০ মে ২০২৬, ২৭ বৈশাখ ১৪৩৩
রবিবার, ১০ মে ২০২৬, ২৭ বৈশাখ ১৪৩৩

পশ্চিমবঙ্গে বড় বিজয় বিজেপি’র

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৫ মে, ২০২৬, ১২:২৯ পূর্বাহ্ণ
পশ্চিমবঙ্গে বড় বিজয় বিজেপি’র

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য বিধানসভা নির্বাচনে ধারণার চেয়েও বড় জয় পেতে যাচ্ছে ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)। সোমবার রাত সাড়ে ৯টা পর্যন্ত পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, রাজ্যটিতে তারা দুই শতাধিক আসনে এগিয়ে রয়েছে। এর মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের লাগোয়া এই রাজ্যে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দেড় দশকের শাসনের অবসান ঘটতে যাচ্ছে। তার দল তৃণমূল কংগ্রেস শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত ৮১টি আসনে এগিয়ে রয়েছে।

২৯৪ আসনের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় গত ২৩ ও ২৯ এপ্রিল দুই দফায় ভোটগ্রহণ হয়। তাতে রেকর্ড ৯৩ শতাংশ ভোট পড়ে, যা পুরো ভারতেই নজিরবিহীন। অনিয়মের অভিযোগে দক্ষিণ ২৪ পরগনার ফলতা কেন্দ্রের ভোট বাতিল করে নির্বাচন কমিশন। ওই কেন্দ্রে ফের ভোট হবে ২১ মে। ফলে সোমবার প্রকাশ করা হবে ২৯৩ আসনের ফল।

৪৯ বছর পর কেন্দ্র ও রাজ্যে একই দলের সরকার
এদিকে ১৫ বছর পর বাংলার মসনদে এই পরিবর্তনের ফলে দীর্ঘ ৪৯ বছর পর পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতায় আসছে ‘ডাবল ইঞ্জিন সরকার’। অর্থাৎ, কেন্দ্র ও রাজ্যে একই দলের সরকার পাচ্ছে পশ্চিমবঙ্গ। ভারতের স্বাধীনতার পর থেকে সিদ্ধার্থ শঙ্কর রায়ের নেতৃত্বে গঠিত কংগ্রেস সরকার ১৯৭৭ পর্যন্ত ‘ডাবল ইঞ্জিন’ হিসেবে কার্যকরী ছিল। সিদ্ধার্থ শংকরের কংগ্রেস সরকারের পতনের পর যুক্তফ্রন্ট বামফ্রন্ট ও তৃণমূল কংগ্রেসের দীর্ঘমেয়াদী শাসন। দীর্ঘ ৪৯ বছর পর অবশেষে ডাবল ইঞ্জিন সরকার হিসেবে ক্ষমতায় এলো বিজেপি।

বেসরকারি ফলাফল
ভারতের নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, রাত পৌনে ১০টা নাগাদ বেসরকারি ফলাফলে বিজেপি ১৬৭টি আসনে বিজয়ী হয়েছে। অন্যদিকে তৃণমূল কংগ্রেস বিজয়ী হয়েছে ৫৯টি আসনে। যে ৬১টি আসনে ফলাফল ঘোষণা এখনো বাকি রয়েছে, সেগুলোর মধ্যে বিজেপি ৪১টি আর তৃণমূল কংগ্রেস ২০টি এগিয়ে রয়েছে। কংগ্রেস আর সিপিআই (এম) বিজয়ী হয়েছে দুইটি করে আসনে। অন্যদিকে অল ইন্ডিয়া সেক্যুলার ফ্রন্ট বিজয়ী হয়েছে একটি আসনে।

মোদি বললেন, পশ্চিমবঙ্গে পদ্ম ফুটেছে
ছাব্বিশে বাংলা দখলে মরিয়া ছিল বিজেপি। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি নির্বাচনী প্রচারে এসে বারবার বলেছিলেন, বাংলার মানুষ পরিবর্তন চায়। তারা কাজ চায়, সম্মান চায়। তাই এবার বাংলায় পদ্ম ফুটবেই। জনসভা থেকেই মোদি দাবি করেছিলেন, বাংলার কয়েকটি জেলায় একটি আসনও দখল করতে পারবে না তৃণমূল। সোমবার ফলাফল প্রকাশিত হতেই দেখা গেল, মোদির কথাই মিলে গেছে। বাংলার ৯টি জেলায় নিশ্চিহ্ন হয়ে গেল ঘাসফুল শিবির।

পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনে এখন পর্যন্ত পাওয়া ফল অনুযায়ী বিজেপি এগিয়ে রয়েছে। বিজেপির এই ফল নিয়ে একটি বার্তা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। এক্স হ্যান্ডেলে তিনি লিখেছেন, ‘পশ্চিমবঙ্গে পদ্ম ফুটেছে! ২০২৬ সালের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচন চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে। জনগণের শক্তির জয় হয়েছে এবং বিজেপির সুশাসনের রাজনীতি জয়ী হয়েছে।’

তিনি আরও লেখেন, ‘আমি পশ্চিমবঙ্গের প্রত্যেক ব্যক্তিকে প্রণাম জানাই। জনগণ বিজেপিকে এক অভূতপূর্ব রায় দিয়েছেন এবং আমি তাদের আশ্বাস দিচ্ছি যে, আমাদের দল পশ্চিমবঙ্গের মানুষের স্বপ্ন ও আকাঙ্ক্ষা পূরণের জন্য সম্ভাব্য সবকিছু করবে। আমরা এমন একটি সরকার দেব, যা সমাজের সকল স্তরের মানুষের সুযোগ ও মর্যাদা নিশ্চিত করবে।’

বিজেপির জয় অনৈতিক বলছে মমতা
এদিকে পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির বড় ব্যবধানে এগিয়ে থাকার পর মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বিজেপির বিরুদ্ধে ‘ভোট চুরির’ অভিযোগ তুলেছেন। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘বিজেপি ১০০টিরও বেশি আসন চুরি করেছে। বিজেপি জালিয়াতি করেছে। নির্বাচন কমিশন এখন বিজেপি কমিশনে পরিণত হয়েছে। আমরা বারবার এ নিয়ে অভিযোগ জানিয়েছি। কিন্তু কেউ শোনেনি।’

মমতা বলেন, ‘বিজেপির এই জয় অনৈতিক। প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর যোগসাজশে নির্বাচন কমিশন যা করেছে তা পুরোপুরি অনৈতিক। তারা জোরপূর্বক এসআইআর পরিচালনা করেছে। তারা অত্যাচার চালিয়েছে। তারা কাউন্টিং এজেন্টদের গ্রেপ্তার করেছে। আমরা লড়াই চালিয়ে যাব।’

বিজয় উল্লাস গেরুয়া কর্মীদের
এদিকে ভোটের ফলাফল প্রকাশ হতেই কলকাতা থেকে জেলা সর্বত্র বিজেপি কর্মীদের মধ্যে উচ্ছ্বাস ছড়িয়ে পড়েছে। বিজয় উল্লাসে মেতে ওঠেছেন গেরুয়া শিবিরের কর্মী-সমর্থকরা। দেড় দশক আগে হুগলির সিঙ্গুর থেকে উত্থান হয়েছিল তৃণমূলের। সেই সিঙ্গুরেই তৃণমূল দুর্গের পতন ঘটিয়ে উত্থান হল বিজেপির। এই জয়ে বুলডোজার নিয়ে অভিনবভাবে আনন্দে মাতলেন মালদহের বিজেপি কর্মী-সমর্থকরা। সেই সঙ্গে একাধিক ডিজে বাজনা এবং চলছে আবির খেলা। এমনকি দলটির রাজ্যসভার সংসদ সদস্যহর্ষবর্ধন শ্রিংলাকেও উচ্ছ্বাসে মেতে উঠতে দেখা যায়।

নন্দীগ্রাম আসনে জয়ী শুভেন্দু ,ভবানীপুরেও এগিয়ে
বিধানসভা নির্বাচনে ভবানীপুর আসনে প্রতিদ্বন্দ্বী তৃণমূল প্রধান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও বিজেপির নেতা শুভেন্দু অধিকারী। দক্ষিণ কলকতার সাখাওয়াত মেমোরিয়ালে এই আসনের ভোট গণনা চলছে। দিনের শুরুর দিকে গণনায় এগিয়ে ছিলেন মমতা। কিন্তু বিকেলে কমাতে থাকে ব্যবধান।

এই পরিস্থিতিতে গণনাকেন্দ্র ঘিরে তৃণমূল ও বিজেপির নেতাকর্মীদের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে মমতা ও শুভেন্দু দুজনই গণনাকেন্দ্রে হাজির হন। নিয়ম অনুযায়ী নির্বাচন কমিশন দুই প্রার্থীরই মোবাইল বাজেয়াপ্ত করে।

ভোটগণনার একপর্যায়ের সন্ধ্যার পর শুভেন্দু মমতার চেয়ে বেশি ভোটে এগিয়ে যান। এ সময় মমতা ভোটকেন্দ্র থেকে বেরিয়ে যান। স্থানীয় সময় রাত পৌনে আটটায় শুভেন্দু তার প্রতিদ্বন্দ্বী মমতার চেয়ে ২৯৫৬ ভোটে এগিয়ে ছিলেন। ইতোমধ্যেই নন্দীগ্রাম আসন থেকে জয়ী হয়েছেন শুভেন্দু। তিনি হারিয়েছেন তৃণমূলের প্রার্থী পবিত্র করকে। ২০২৬ সালের নির্বাচনে এই দুইটি আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন শুভেন্দু।

মমতার গাড়ি লক্ষ্য করে ‘চোর’ স্লোগান
পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের ভোট গণনার দিন সাখাওয়াত মেমোরিয়াল স্কুলে গণনাকেন্দ্রে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পৌঁছালে উত্তেজনা তৈরি হয়। এসময় বিজেপির কর্মী-সমর্থকরা তার গাড়ি লক্ষ্য করে চোর চোর’ স্লোগান দেয়। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে তৃণমূল কর্মী-সমর্থকরা প্রতিবাদ করলে উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়।

মমতা ও শুভেন্দুর মোবাইল নিয়ে নিতে বলল কমিশন
সাখাওয়াতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও শুভেন্দু অধিকারীর মোবাইল ফোন নিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেয় কমিশন। মোবাইল নিয়ে গণনাকেন্দ্রে প্রবেশের অনুমতি নেই। সূত্র জানায়, তাদের দুই জনের কাছ থেকে মোবাইল ফোন কেড়ে নেওয়া হয়েছে। নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, যতক্ষণ তারা বের হবে না ততক্ষণ ভোট গণনা হবে না। পরে মমতা নিজেই গণনা কেন্দ্র থেকে বেরিয়ে যান। ফের শুরু হয় গণনা।

‘মানুষ যে রায় দেবে, সভ্য সমাজের উচিত তা মাথা পেতে নেওয়া’
ফলাফল নিয়ে বিকেলে বিকালে মুখ খোলেন মমতার ভাতিজা ও দলটির সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক ব্যানার্জি। তিনি বলেন, ‘মানুষ যে রায় দেবে, সভ্য সমাজের উচিত তা মাথা পেতে নেওয়া। এখনো গণনার অনেক সময় বাকি রয়েছে। আমি দলের কাউন্টিং এজেন্টদের বলবো তারা যেন গণনা কেন্দ্র ছেড়ে না বের হয়। তারা যেন ধৈর্য ধরে।’

পশ্চিমবঙ্গে এবার প্রায় ২ হাজার ৯০০ এর বেশি প্রার্থীর ভাগ্য পরীক্ষা হয়েছে। শুভেন্দু অধিকারী ছাড়াও বিজেপির জয়ী প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন- দিলীপ ঘোষ (খড়গপুর সদর), সাবেক কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী নিশীথ প্রামাণিক (মাথাভাঙ্গা), অগ্নিমিত্রা পাল (আসানসোল দক্ষিণ), স্বপন দাশগুপ্ত (রাসবিহারী), অভিনেত্রী রূপা গাঙ্গুলী (সোনারপুর দক্ষিণ), অভিনেতা রুদ্রনীল ঘোষ (শিবপুর), অভিনেতা হিরন্ময় চ্যাটার্জি (শ্যামপুর), আরজিকর হাসপাতালের নিহত তরুণী চিকিৎসকের মা রত্না দেবনাথ প্রমুখ।

অন্যদিকে তৃণমূলের যেসব প্রার্থীরা এগিয়ে আছেন তাদের মধ্যে রয়েছেন- মন্ত্রী শোভন দেব চট্টোপাধ্যায় (বালিগঞ্জ), মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম (কলকাতা বন্দর), মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস (টালিগঞ্জ), অভিনেত্রী নয়না বন্দ্যোপাধ্যায় (চৌরঙ্গী) প্রমুখ।

অন্য দলগুলির মধ্যে ভাঙ্গর আসনে জয়ী হয়েছেন- ‘ইন্ডিয়ান সেকুলার ফ্রন্ট’ (আইএসএফ) প্রার্থী পীরজাদা নওশাদ সিদ্দিকী। আম জনতা উন্নয়ন পার্টির চেয়ারম্যান হুমায়ুন কবীর (রেজিনগর) প্রমুখ।

পশ্চিমবঙ্গের পাশাপাশি আসামে ১২৬ টি আসনে, কেরালায় ১৪০ আসনে, তামিলনাড়ুতে ২৩৪ আসনে এবং পুদুচেরিতে ৩০ আসনের ফলাফলও ঘোষিত হয়েছে।

কেরালায় মোট আসন ১৪০। সেখানে সরকার গড়তে প্রয়োজন ৭১ আসন। এই রাজ্যটিতে কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন ইউনাইটেড ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (ইউডিএফ) ১০২ আসনে এগিয়ে রয়েছে। সিপিআইএম নেতৃত্বাধীন ক্ষমতাসীন জোট লেফট ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (এলডিএফ) ৩৫ আসনে এগিয়ে আছে, অন্যরা এগিয়ে আছে ৩ আসনে।

দক্ষিণ ভারতের রাজ্য তামিলনাড়ুতে মোট আসন ২৩৪। সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজন ১১৮ আসনে জয়। সেখানে দারুণ সাড়া জাগিয়েছে অভিনেতা বিজয়ের দল তামিলাগা ভেট্টরি কাঝাগাম (টিভিকে)। ১০৮ আসনে এগিয়ে আছে তারা। বর্তমান ক্ষমতাসীন দল দ্রাবিড়া মূনেত্রা কাঝাগাম (ডিএমকে) ৭৩ আসনে এগিয়ে আছে এবং অল ইন্ডিয়া দ্রাবিড়া মূনেত্রা কাঝাগাম (এআইএডিএমকে) ৫৩ আসনে এগিয়ে আছে। ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে তামিলনাড়ুর রাজনীতিতে বড় চমক দিয়ে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল টিভিকে। দুই বছরের মাথায় দক্ষিণী সুপারস্টার থালাপতি বিজয়ের দলের চমক।

এদিকে আসামে টানা তৃতীয়বারের জন্য সরকার গড়ার পথে বিজেপি। এ রাজ্যে ১২৬ আসনের মধ্যে ম্যাজিক ফিগার ৬৪। এর মধ্যে বিজেপি ১০২ আসনে এগিয়ে আছে, কংগ্রেস ১৯ আসনে এবং অন্যরা ৫ আসনে এগিয়ে আছে।

কেন্দ্রীয় শাসিত অঞ্চল পুদুচেরিতে মোট আসন ৩০টি। সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজন ১৬ আসন। এখানে বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএ জোট ২২ আসনে এগিয়ে আছে, কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন জোট ৬ আসনে এবং অন্যরা ১ টি মাত্র আসনে এগিয়ে আছে।

 

Ads small one

আশাশুনিতে মাদ্রাসার টাকা ও গয়না নিয়ে উধাও স্ত্রী, দিশেহারা স্বামী

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ১০ মে, ২০২৬, ১১:২৮ অপরাহ্ণ
আশাশুনিতে মাদ্রাসার টাকা ও গয়না নিয়ে উধাও স্ত্রী, দিশেহারা স্বামী

আশাশুনি প্রতিনিধি: আশাশুনি উপজেলার খরিয়াটি গ্রামে স্বামীর গচ্ছিত টাকা ও স্বর্ণালঙ্কার নিয়ে এক গৃহবধূর পালিয়ে যাওয়ার খবর পাওয়া গেছে। খরিয়াটি হাফিজিয়া কওমি মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা ও মুহতামিম মাওলানা আব্দুস সবুর সরদার এই ঘটনায় খুলনা সোনাডাঙ্গার আতিকুর রহমান খোকন ও নিজের স্ত্রী রেশমা খাতুনের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করেছেন।

মামলার বিবরণী অনুযায়ী, খুলনা সোনাডাঙ্গার আতিকুর রহমান খোকন পূর্ব পরিচয়ের সুবাদে আব্দুস সবুরের বাড়িতে যাতায়াত করতেন। গত ২৪ এপ্রিল সন্ধ্যায় আব্দুস সবুর বাড়িতে না থাকার সুযোগে রেশমা খাতুন দুই সন্তানকে ফেলে খোকনের সঙ্গে পালিয়ে যান। যাওয়ার সময় তিনি মাদ্রাসার সঞ্চয় তহবিলের নগদ ১ লাখ ৪৯ হাজার টাকা এবং ৩ ভরি ২ আনা স্বর্ণালঙ্কার নিয়ে গেছেন বলে মামলার আরজিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

বাদী আব্দুস সবুর জানান, রমজান ও ঈদুল ফিতর উপলক্ষে সংগৃহীত মাদ্রাসার টাকা ব্যাংক ছুটি থাকায় তিনি বাড়িতে রেখেছিলেন। স্ত্রী ও অর্থসম্পদ হারিয়ে এখন তিনি নিঃস্ব। মাদ্রাসার কার্যক্রম বন্ধ হয়ে গেছে এবং শিক্ষার্থীরা মাদ্রাসা ছেড়ে চলে গেছে। এক পুত্র ও এক কন্যা সন্তানকে নিয়ে তিনি এখন মানবেতর জীবন যাপন করছেন।

আদালতে সিআর ১৫৯/২৬ (আশাশুনি) নং মামলা দায়ের করার পর আসামিরা বাদীকে প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। সাতক্ষীরার বিজ্ঞ আমলী ০৮ নং আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে আশাশুনি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) তদন্তপূর্বক প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। বর্তমানে বাদী ও তার পরিবার চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন এবং প্রশাসনের সহযোগিতা কামনা করেছেন।

সম্পাদকীয়: প্রসঙ্গ: সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালের ডায়রিয়া ওয়ার্ড

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ১০ মে, ২০২৬, ১১:২০ অপরাহ্ণ
সম্পাদকীয়: প্রসঙ্গ: সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালের ডায়রিয়া ওয়ার্ড

সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালের ডায়রিয়া ওয়ার্ডের যে চিত্র সংবাদমাধ্যমে উঠে এসেছে, তাকে কেবল ‘অব্যবস্থাপনা’ বললে ভুল হবে; এটি জনস্বাস্থ্যের প্রতি চরম অবহেলার এক নিষ্ঠুর দলিল। পাঁচ শয্যার একটি ওয়ার্ডে যখন প্রতিদিন ৪০ থেকে ৪৫ জন রোগীকে চিকিৎসা নিতে হয়, তখন স্বাস্থ্যসেবার মান নিয়ে প্রশ্ন তোলাও নিরর্থক হয়ে পড়ে। সেখানে চিকিৎসা নয়, বরং এক মানবেতর পরিস্থিতির মোকাবিলা করতে হচ্ছে রোগী ও তাদের স্বজনদের।
একটি জেলা শহরের প্রধান সরকারি হাসপাতালে ডায়রিয়া ওয়ার্ডের এমন জরাজীর্ণ দশা মেনে নেওয়া কঠিন। ধারণক্ষমতার চেয়ে আট-নয় গুণ বেশি রোগী যেখানে গাদাগাদি করে চিকিৎসা নিচ্ছেন, সেখানে সাধারণ স্বাস্থ্যবিধি বজায় রাখাই অসম্ভব। তার ওপর শিশুদের সঙ্গে বয়স্কদের একই স্থানে রাখা হচ্ছে, যা আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞানের ‘ক্রস ইনফেকশন’ বা সংক্রমণের ঝুঁকিকে বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়। সুস্থ হতে এসে নতুন কোনো রোগ বাধিয়ে বাড়ি ফেরার এই শঙ্কা রোগীদের জন্য চরম উদ্বেগের।
হাসপাতালের পরিবেশ নিয়ে যে অভিযোগ উঠেছে, তা আরও ভয়াবহ। চারদিকে ময়লার স্তূপ আর উৎকট দুর্গন্ধের মধ্যে সুস্থ মানুষের পক্ষেই টিকে থাকা দায়, সেখানে রোগাক্রান্ত মানুষ কীভাবে আরোগ্য লাভ করবে? পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা হাসপাতালের মৌলিক দায়িত্বের মধ্যে পড়ে। জনবল সংকট বা স্থানাভাবের দোহাই দিয়ে এই নোংরা ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশকে জায়েজ করার কোনো সুযোগ নেই।
সাতক্ষীরা একটি দুর্যোগপ্রবণ এলাকা হওয়ায় এখানে মাঝে মাঝেই পানিবাহিত রোগের প্রকোপ দেখা দেয়। এটি জানা সত্ত্বেও কেন আগেভাগে ডায়রিয়া ওয়ার্ডের সক্ষমতা বাড়ানো হয়নি, সেই দায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এড়াতে পারে না।
আমরা সাতক্ষীরা-২ আসনের সংসদ সদস্য, জেলা প্রশাসক ও স্বাস্থ্য বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালের এই মানবিক সংকট নিরসনে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিন। কেবল শয্যা বাড়ানোই সমাধান নয়, একই সঙ্গে ওয়ার্ডের পরিবেশ উন্নত করা এবং শিশু ও বয়স্কদের জন্য পৃথক চিকিৎসার ব্যবস্থা করা জরুরি। ডায়রিয়ার প্রকোপ আরও বাড়ার আগেই যদি এই সমস্যার স্থায়ী সমাধান না হয়, তবে পরিস্থিতি যেকোনো সময় নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে। নাগরিকের ন্যূনতম সুচিকিৎসা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতাÑকর্তৃপক্ষ আশা করি এই সত্যটি ভুলে যাবে না।

 

নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস টুর্নামেন্ট: জেলা ক্রিকেটে ছেলে ও মেয়ে দুই বিভাগেই চ্যাম্পিয়ন শ্যামনগর

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ১০ মে, ২০২৬, ১১:১৪ অপরাহ্ণ
নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস টুর্নামেন্ট: জেলা ক্রিকেটে ছেলে ও মেয়ে দুই বিভাগেই চ্যাম্পিয়ন শ্যামনগর

সুন্দরবনাঞ্চল (শ্যামনগর) প্রতিনিধি: সাতক্ষীরায় অনুষ্ঠিত ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস টুর্নামেন্ট’-এ ক্রিকেটে দাপট দেখিয়েছে শ্যামনগর উপজেলা। রোববার (১০ মে) জেলা স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ফাইনালে বালক ও বালিকাÑউভয় বিভাগেই চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করেছে তারা।
ক্রিকেটের বালক বিভাগের চূড়ান্ত লড়াইয়ে শ্যামনগর বালক দল সাতক্ষীরা পৌরসভা দলকে পরাজিত করে। অন্যদিকে, বালিকা বিভাগের ফাইনালে আশাশুনি উপজেলা দলকে হারিয়ে শিরোপা জেতে শ্যামনগরের মেয়েরা। শুধু ক্রিকেট নয়, এর আগে ফুটবল মাঠেও সফল ছিল শ্যামনগরের মেয়েরা। ফুটবলের ফাইনালে তারা কালিগঞ্জ উপজেলা দলকে ২-১ গোলে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল।
টুর্নামেন্টের অন্যান্য ইভেন্টেও শ্যামনগরের জয়জয়কার দেখা গেছে। দলটির উল্লেখযোগ্য অর্জনগুলো হলোÑ ব্যাডমিন্টনে বালিকা বিভাগ একক ও দ্বৈতÑউভয় ইভেন্টে চ্যাম্পিয়ন। তায়কোয়ান্দো প্রতিযোগিতাতেও শিরোপা ঘরে তুলেছে তারা। ক্যারাতে ইভেন্টে শ্যামনগর রানার্সআপ হওয়ার কৃতিত্ব দেখিয়েছে।

 

রোববার বিকেলে বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক মিজ্ কাউসার আজিজ। এ সময় উপস্থিত ছিলেন শ্যামনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শামসুজ্জাহান কনকসহ বিভিন্ন উপজেলার শরীরচর্চা শিক্ষক ও ক্রীড়াপ্রেমীরা।
শ্যামনগর উপজেলার এই অভাবনীয় সাফল্যে উপজেলা ক্রীড়া সংস্থা, শ্যামনগর উপজেলা প্রেসক্লাব, ফুটবল রেফারী সমিতি ও ফুটবল একাডেমিসহ বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন খেলোয়াড়দের অভিনন্দন জানিয়েছে।
ইউএনও শামসুজ্জাহান কনক এক প্রতিক্রিয়ায় বলেন, “শ্যামনগরের ছেলে-মেয়েরা ক্রীড়াঙ্গনে যে সাফল্য দেখিয়েছে, তা পুরো উপজেলার জন্য গর্বের। এই ধারা অব্যাহত রাখতে সব ধরনের সহযোগিতা করা হবে।”