সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬, ২৮ আশ্বিন ১৪৩৩
সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬, ২৮ আশ্বিন ১৪৩৩

পাটকেলঘাটার সমাজসেবক আনন্দ মোহন সাধুর পরলোকগমন: সর্বস্তরের মানুষের মাঝে শোকের ছায়া

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:৩৭ পূর্বাহ্ণ
পাটকেলঘাটার সমাজসেবক আনন্দ মোহন সাধুর পরলোকগমন: সর্বস্তরের মানুষের মাঝে শোকের ছায়া

পাটকেলঘাটা প্রতিনিধি: পাটকেলঘাটার টাটা গ্রুপ কেয়ার কোম্পানির স্বত্বাধিকারী কেশব কুমার সাধুর শ্রদ্ধেয় বাবা ও বিশিষ্ট সমাজসেবক আনন্দ মোহন সাধু বার্ধক্যজনিত কারণে পরলোকগমন করেছেন। সোমবার সকাল সাড়ে সাতটায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৯২ বছর।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, আনন্দ মোহন সাধু দীর্ঘদিন ধরে বার্ধক্যজনিত নানা শারীরিক জটিলতায় ভুগছিলেন। রবিবার রাতে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়লে তাঁকে প্রথমে সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এবং পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সোমবার সকালে তিনি পরলোকগমন করেন। মৃত্যুকালে ৯২ বছর বয়স হলেও তিনি অত্যন্ত সজাগ স্মৃতিশক্তিসম্পন্ন ও একজন শ্রদ্ধাভাজন ব্যক্তি হিসেবে সর্বজনবিদিত ছিলেন। তিনি পাঁচ ছেলে ও পাঁচ মেয়ে রেখে গেছেন।

সোমবার দুপুর ১২টায় পাটকেলঘাটার কেশব লাল মহাশ্মশানে সর্বস্তরের মানুষের উপস্থিতিতে তাঁর শেষকৃত্যানুষ্ঠান ও অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া সম্পন্ন হয়। এদিকে আনন্দ মোহন সাধুর প্রয়াণে তাঁর পরিবার, আত্মীয়স্বজন, ব্যবসায়ী সমাজ ও স্থানীয় বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দসহ সর্বস্তরের মানুষের মাঝে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। তাঁর মৃত্যুর খবর পেয়ে পাটকেলঘাটা বাজারে মাইকিং করা হয়।

তাঁর প্রয়াণে তালা উপজেলা ক্লাব, পাটকেলঘাটা বাজার বণিক সমিতি এবং স্থানীয় বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক সংগঠনের পক্ষ থেকে মরহুমের বিদেহী আত্মার পরম শান্তি কামনা করা হয়েছে এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানানো হয়েছে।
শেষকৃত্যানুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন তালা উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি মৃণাল কান্তি রায়, সাবেক সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক শফিকুল ইসলাম, সাবেক যুগ্ম সম্পাদক ও সাবেক কুমিরা ইউপি চেয়ারম্যান শেখ গোলাম মোস্তফা, তালা উপজেলা প্রেসক্লাবের সাংগঠনিক সম্পাদক সাংবাদিক গোলাম রব্বানী, সরুলিয়া ইউনিয়ন যুবদলের সাংগঠনিক সম্পাদক শফিকুল ইসলাম, হাফিজুর রহমান হাফিজ, আব্দুল রকিব সরদার, চিকিৎসক মামুনুর রহমান, মোহাম্মদ মুজিবর সরদার, আইনজীবী হুমায়ুনসহ স্থানীয় ইউনিয়ন, থানা ও জেলাসহ বিভিন্ন এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তি ও সর্বস্তরের সাধারণ মানুষ।

Ads small one

সম্পাদকীয়/ সাতক্ষীরায় ডেঙ্গুর বাড়বাড়ন্ত: প্রয়োজন সমন্বিত ও বিজ্ঞানভিত্তিক উদ্যোগ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:৫৫ পূর্বাহ্ণ
সম্পাদকীয়/ সাতক্ষীরায় ডেঙ্গুর বাড়বাড়ন্ত: প্রয়োজন সমন্বিত ও বিজ্ঞানভিত্তিক উদ্যোগ

সারাদেশে ডেঙ্গু পরিস্থিতি এখন অত্যন্ত উদ্বেগজনক রূপ নিয়েছে। ঢাকার বাইরে বিভিন্ন জেলায় সংক্রমণ ও প্রাণহানির হার প্রতিদিন বাড়ছে। সীমান্তঘেঁষা জেলা সাতক্ষীরাতেও প্রতিদিন নতুন করে ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছেন। গত ২৪ ঘণ্টায় জেলায় আরও ২৪ জন ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন, যাদের বড় একটি অংশ কাজের বা পড়াশোনার জন্য পার্শ্ববর্তী জেলা খুলনায় অবস্থান করছিলেন। স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্যমতে, চলতি বছরে সাতক্ষীরায় আক্রান্তের সংখ্যা ৮০০ ছাড়িয়ে গেছে। সারাদেশে মৃত্যু প্রায় তিন শতাধিক এবং আক্রান্ত লাখ ছুঁইছুঁইÑযা ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে বিগত বছরগুলোর চরম ব্যর্থতা ও সামগ্রিক ব্যবস্থাপনা সংকটের কথাই মনে করিয়ে দেয়।

বিশেষজ্ঞরা দীর্ঘদিন ধরেই সতর্ক করে আসছেন যে জলবায়ু পরিবর্তনজনিত তাপমাত্রার তারতম্য, অনিয়মিত বৃষ্টিপাত ও অপরিকল্পিত নগরায়ণ এডিস মশার বংশবৃদ্ধির অনুকূল পরিবেশ তৈরি করেছে। বর্তমানে এডিস মশার বিস্তার কেবল রাজধানী বা বিভাগীয় শহরে সীমাবদ্ধ নেই; গ্রাম ও মফস্বলেও তা ছড়িয়ে পড়েছে। সাতক্ষীরা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ডেঙ্গু রোগীদের চিকিৎসায় হাসপাতালে শয্যা, প্রয়োজনীয় কিট ও ওষুধের সংকট এই মুহূর্তে না থাকলেও মূল সমস্যা রয়ে গেছে প্রতিরোধের জায়গায়। কেবল আক্রান্তদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করেই এ মহামারির মতো সংকট নিরসন সম্ভব নয়; প্রয়োজন এডিস মশার প্রজননক্ষেত্র নির্মূল করা।

প্রতি বছর ডেঙ্গুর মওসুমে রুটিনমাফিক কিছু স্প্রে ও মৌখিক প্রতিশ্রুতির ফুলঝুরি দেখা গেলেও দীর্ঘমেয়াদি ও বিজ্ঞানভিত্তিক কৌশলের ঘাটতি সুস্পষ্ট। ডেঙ্গু প্রতিরোধে প্রথমত স্থানীয় প্রশাসন ও কৌরসভাগুলোকে ডেঙ্গুপ্রবণ এলাকা চিহ্নিত করে কার্যকর মশক নিধন অভিযান চালাতে হবে। ব্যবহৃত কীটনাশকের মান, কার্যকারিতা ও সঠিক মাত্রা নিয়মিত মনিটর করা জরুরি, যাতে নি¤œমানের কীটনাশক ব্যবহারের মাধ্যমে অর্থ ও শ্রমের অপচয় না ঘটে।

দ্বিতীয়ত, ব্যক্তি ও প্রাতিষ্ঠানিক সচেতনতা বৃদ্ধি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এডিস মশা স্বচ্ছ জমাটবদ্ধ পানিতে বংশবৃদ্ধি করে এবং মূলত দিনের বেলায় কামড়ায়। ফলে নিজ নিজ ঘরবাড়ি, আঙিনা, অফিস, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও হাসপাতাল চত্বর পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার দায়িত্ব প্রতিটি নাগরিক ও প্রতিষ্ঠানের। কোথাও যেন পানি জমে না থাকে, সে বিষয়ে নাগরিকদের স্বতঃস্ফূর্তভাবে এগিয়ে আসতে হবে।

ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ কেবল একটি মওসুমি স্বাস্থ্য সমস্যা নয়, এটি একটি স্থায়ী জনস্বাস্থ্য চ্যালেঞ্জ। সময় এসেছে প্রথাগত মশক নিধন কার্যক্রমের বাইরে এসে বছরব্যাপী গবেষণা, মশার লার্ভা ধ্বংসের কার্যকর প্রযুক্তি এবং সামাজিক সচেতনতামূলক প্রচারণাকে সমন্বিত করার। সাতক্ষীরাসহ সারা দেশকে এডিস মুক্ত রাখতে এখনই সমন্বিত ও কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে; নতুবা ডেঙ্গুর এই রূপ আরও ভয়াবহ বিপর্যয় ডেকে আনবে।

বাঁশদহায় কাওনডাঙ্গা বাজারে রমজান আলীর মতবিনিময়

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:৫১ পূর্বাহ্ণ
বাঁশদহায় কাওনডাঙ্গা বাজারে রমজান আলীর মতবিনিময়

সংবাদদাতা: সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ১নম্বর বাঁশদহা ইউনিয়নের কাওনডাঙ্গা বাজারে সর্বস্তরের মানুষের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় ও মতবিনিময় করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী ও উপজেলা কর্মপরিষদ সদস্য মাওলানা রমজান আলী। সোমবার কাওনডাঙ্গা বাজারে তিনি স্থানীয় ব্যবসায়ী, গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও সাধারণ মানুষের সঙ্গে সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে কুশল বিনিময় করেন এবং তাঁদের খোঁজখবর নেন।

শারদীয় দুর্গাপূজা শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর করার লক্ষ্যে জেলা বিএনপি ও মন্দির কমিটির প্রস্তুতি সভা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:৪৯ পূর্বাহ্ণ
শারদীয় দুর্গাপূজা শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর করার লক্ষ্যে জেলা বিএনপি ও মন্দির কমিটির প্রস্তুতি সভা

নিজস্ব প্রতিনিধি: সনাতন ধর্মাবলম্বী সম্প্রদায়ের সর্ববৃহৎ ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে নিশ্চিতকরণের লক্ষ্যে সাতক্ষীরা জেলা বিএনপি ও মন্দির কমিটির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দের সঙ্গে এক প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সোমবার বিকেল সাড়ে চারটায় রয়েল কনভেনশন হলে সাতক্ষীরা জেলা বিএনপির আয়োজনে এই প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত হয়। সাতক্ষীরা জেলা বিএনপির আহ্বায়ক এইচ এম রহমতুল্লাহ পলাশের সভাপতিত্বে এবং সদস্য সচিব আবু জাহিদ ডাবলুর সঞ্চালনায় সভায় উপস্থিত ছিলেন সাতক্ষীরা জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আবুল হাসান হাদী, জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক ও সমন্বয়ক হাবিবুর রহমান হাবিব, সাতক্ষীরা জেলা হিন্দু বৌদ্ধ ও খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক বিশ্বনাথ ঘোষ, পুরাতন সাতক্ষীরা মায়ের বাড়ি মন্দির কমিটির সভাপতি আইনজীবী সোমনাথ ব্যানার্জি, নারকেলতলা মন্দির কমিটির সভাপতি গৌর পাল, বিএনপিসহ সব অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ এবং হিন্দু সম্প্রদায়ের বিভিন্ন মন্দির ও পূজা উদযাপন কমিটির নেতৃবৃন্দ।

সভায় আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজা শান্তিপূর্ণ, নিরাপদ ও নির্বিঘœভাবে উদ্যাপন নিশ্চিত করতে পারস্পরিক সম্প্রীতি, সাম্প্রদায়িক সৌহার্দ্য ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।