রবিবার, ১০ মে ২০২৬, ২৭ বৈশাখ ১৪৩৩
রবিবার, ১০ মে ২০২৬, ২৭ বৈশাখ ১৪৩৩

পানি বাণিজ্য ও জনস্বাস্থ্যের ঝুঁকি

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ৬ মে, ২০২৬, ৪:৫৫ অপরাহ্ণ
পানি বাণিজ্য ও জনস্বাস্থ্যের ঝুঁকি

সচ্চিদানন্দ দে সদয়

বাংলাদেশে পানির গল্প এখন আর কেবল নদী, খাল বা বৃষ্টির নয়; এটি ক্রমেই হয়ে উঠছে এক জটিল জনস্বাস্থ্য ও নীতিগত সংকটের প্রতিচ্ছবি। একদিকে নিরাপদ পানির তীব্র চাহিদা, অন্যদিকে নিয়ন্ত্রণহীন বাণিজ্যÑএই দুইয়ের সংঘাতে সারা দেশে তৈরি হয়েছে এক নীরব বিপদ, যা চোখে দেখা যায় না, কিন্তু শরীরে বহন করতে হয় বছরের পর বছর। শহর থেকে গ্রামÑসবখানেই এখন “বিশুদ্ধ পানি” নামের একটি বাজার গড়ে উঠেছে। প্লাস্টিকের জার, বোতল বা পাইপলাইনের মাধ্যমে সরবরাহ করা এই পানি অনেকের কাছে জীবনের অপরিহার্য অংশ। কিন্তু এই পানির গুণগত মান কতটা নিশ্চিতÑসে প্রশ্নের জবাব আজও অস্পষ্ট।

 

বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চলে লবণাক্ততা, উত্তরাঞ্চলে ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নেমে যাওয়া, এবং বিভিন্ন এলাকায় আর্সেনিক দূষণÑসব মিলিয়ে নিরাপদ পানির সংকট একটি দীর্ঘদিনের সমস্যা। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব। এই প্রেক্ষাপটে মানুষ বিকল্প খুঁজতে গিয়ে ঝুঁকছে বাণিজ্যিক পানির দিকে। ফলে রাজধানী ঢাকা থেকে শুরু করে জেলা-উপজেলা পর্যন্ত গড়ে উঠেছে হাজার হাজার পানি পরিশোধন প্লান্ট। কিন্তু এগুলোর একটি বড় অংশই নিয়মতান্ত্রিক কাঠামোর বাইরে পরিচালিত হচ্ছে।

 

বাংলাদেশে পানি পরিশোধন ও বাজারজাতকরণের জন্য নির্দিষ্ট নীতিমালা রয়েছে। বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন (বিএসটিআই) এবং জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর এই খাতের মান নিয়ন্ত্রণের দায়িত্বে। কিন্তু বাস্তবে দেখা যায়, অধিকাংশ ছোট ও মাঝারি পানির প্লান্ট কোনো অনুমোদন ছাড়াই ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। নিয়মিত পরিদর্শন, নমুনা পরীক্ষা বা লাইসেন্সিং কার্যক্রমÑসবই সীমিত এবং অনেক ক্ষেত্রে কাগজে-কলমে সীমাবদ্ধ। ফলে বাজারে “বিশুদ্ধ পানি” নামে যা বিক্রি হচ্ছে, তার একটি বড় অংশই অজানা মানের।

 

রিভার্স অসমোসিস (আরও) প্রযুক্তি এখন বাংলাদেশের পানি পরিশোধন খাতে সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত। এটি পানির ক্ষতিকর উপাদান দূর করতে সক্ষম হলেও এর একটি বড় সীমাবদ্ধতা হলোÑএটি প্রয়োজনীয় খনিজ উপাদানও সরিয়ে দেয়।ফলে আরও প্রযুক্তিতে পরিশোধিত পানি অনেক সময় “ডেড ওয়াটার”-এ পরিণত হয়, যেখানে শরীরের জন্য দরকারি ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম বা পটাশিয়ামের অভাব থাকে। দীর্ঘদিন এই পানি পান করলে শরীরে খনিজের ভারসাম্য নষ্ট হতে পারে। এছাড়া, ফিল্টার বা মেমব্রেন সময়মতো পরিবর্তন না করলে তা জীবাণুর উৎসে পরিণত হয়। ফলে বিশুদ্ধ করার বদলে পানি আরও দূষিত হয়ে পড়তে পারে।

 

এই নিয়ন্ত্রণহীন পানির বাজার সরাসরি কোনো তাৎক্ষণিক বিপর্যয় তৈরি না করলেও এর প্রভাব ধীরে ধীরে শরীরে জমা হয়। খনিজের ঘাটতি, ইলেক্ট্রোলাইট ভারসাম্যহীনতা, দীর্ঘমেয়াদি কিডনি সমস্যা, শিশুদের শারীরিক বিকাশে প্রভাব এসব ঝুঁকি এখনো অনেকাংশে অদৃশ্য, কারণ এগুলো তাৎক্ষণিকভাবে ধরা পড়ে না। কিন্তু জনস্বাস্থ্যের ওপর এর প্রভাব গভীর ও দীর্ঘস্থায়ী। বাংলাদেশের অধিকাংশ মানুষ এখনো পানির মান যাচাইয়ের বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি সম্পর্কে অবগত নন। তাদের কাছে স্বচ্ছ ও স্বাদে মিষ্টি পানি মানেই ভালো পানি।

 

এই ধারণা ব্যবসায়ীদের জন্য সহজ বাজার তৈরি করেছে। অন্যদিকে, বিকল্পের অভাবও একটি বড় কারণ। অনেক এলাকায় নিরাপদ নলকূপ বা পাইপলাইনের পানি না থাকায় মানুষ বাধ্য হয়ে বাজারজাত পানির ওপর নির্ভর করছে। প্রথমত, নিয়ন্ত্রক সংস্থার সক্ষমতার ঘাটতি রয়েছে। পর্যাপ্ত জনবল, প্রযুক্তি ও লজিস্টিক সুবিধা না থাকায় তারা কার্যকর তদারকি করতে পারছে না। দ্বিতীয়ত, লাইসেন্সিং ব্যবস্থা দুর্বল। অনেক প্রতিষ্ঠান কোনো নিবন্ধন ছাড়াই পরিচালিত হচ্ছে। তৃতীয়ত, সমন্বয়ের অভাব।

 

বিভিন্ন সংস্থা আলাদাভাবে কাজ করলেও একটি সমন্বিত কাঠামো নেই। চতুর্থত, জনসচেতনতা কার্যক্রম অপর্যাপ্ত। আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা: শেখার সুযোগ বিশ্বের অনেক দেশে বোতলজাত ও প্রক্রিয়াজাত পানির ক্ষেত্রে কঠোর নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা রয়েছে। নিয়মিত পরীক্ষার পাশাপাশি উৎপাদন প্রক্রিয়া, সংরক্ষণ এবং বিতরণÑসবকিছুই নজরদারির আওতায় থাকে। বাংলাদেশেও এই ধরনের কাঠামো আংশিকভাবে থাকলেও তার কার্যকর বাস্তবায়ন এখনো বড় চ্যালেঞ্জ। দেশের সব পানির প্লান্টকে একটি কেন্দ্রীয় ডাটাবেজের আওতায় আনতে হবে। নির্দিষ্ট সময় অন্তর পানির নমুনা সংগ্রহ ও পরীক্ষার ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।

 

আরও প্রযুক্তিতে পরিশোধিত পানিতে প্রয়োজনীয় খনিজ যোগ করা নিশ্চিত করতে হবে গণমাধ্যম, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও স্থানীয় প্রশাসনের মাধ্যমে সচেতনতা বাড়াতে হবে। বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ, উন্নত নলকূপ এবং পাইপলাইন পানি সরবরাহ বাড়াতে হবে। বাংলাদেশে পানি এখন এক অদ্ভুত দ্বৈত বাস্তবতার মুখোমুখিÑএকদিকে এটি মৌলিক অধিকার, অন্যদিকে এটি লাভজনক পণ্য। এই দ্বন্দ্বের মধ্যে পড়ে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে সাধারণ মানুষ।নিয়ন্ত্রণহীন বাজারের ওপর নির্ভর করে নিরাপদ পানি নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। এজন্য প্রয়োজন শক্তিশালী নীতিমালা, কার্যকর বাস্তবায়ন এবং সর্বোপরি রাজনৈতিক সদিচ্ছা। নইলে “বিশুদ্ধ পানি” নামের এই নীরব ব্যবসা একদিন বড় জনস্বাস্থ্য সংকটে রূপ নেবেÑযার মূল্য দিতে হবে পুরো জাতিকেই।

লেখক: সংবাদ কর্মী

Ads small one

পাটকেলঘাটায় সরকারি জমি দখল করে ঘর নির্মাণ: উচ্ছেদ ও জরিমানা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ১০ মে, ২০২৬, ১১:৫০ অপরাহ্ণ
পাটকেলঘাটায় সরকারি জমি দখল করে ঘর নির্মাণ: উচ্ছেদ ও জরিমানা

এমএম জামান মনি, পাটকেলঘাটা: তালা উপজেলার পাটকেলঘাটা বাণিজ্যিক কেন্দ্রে সরকারি জমিতে অবৈধভাবে গড়ে তোলা একটি স্থাপনা উচ্ছেদ করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। রোববার (১০ মে) বিকেলে এই অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযান চলাকালে সরকারি আদেশ অমান্য করায় অভিযুক্তকে জরিমানাও করা হয়েছে।
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, তালা উপজেলার সরুলিয়া ইউনিয়নের পুটিয়াখালী মৌজার ১৪৯ দাগের ‘ক’ তপশিলভুক্ত সরকারি জমিতে অবৈধভাবে ঘর নির্মাণ করছিলেন স্থানীয় এক ব্যক্তি। সরকারি জমিতে স্থাপনা নির্মাণে আগে থেকেই নিষেধাজ্ঞা থাকলেও তা অমান্য করে নির্মাণকাজ চালিয়ে নেওয়া হয়। খবর পেয়ে সহকারী কমিশনার (ভূমি) সরেজমিন পরিদর্শন করে অবৈধ নির্মাণের প্রমাণ পান।
অভিযানে নেতৃত্ব দেন তালা উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রাহাত খান। পরিদর্শনকালে দেখা যায়, মাত্র এক শতক সরকারি জমি দখল করে স্থায়ী স্থাপনা গড়ে তোলা হয়েছে। সরকারি আদেশ অমান্য করার দায়ে দ-বিধি ১৮৬০-এর ১৮৮ ধারায় নির্মাণাধীন স্থাপনাটি উচ্ছেদ করা হয় এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে আর্থিক জরিমানা করা হয়।
অভিযান চলাকালে পাটকেলঘাটা থানা-পুলিশের একটি দল আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সহায়তা প্রদান করে। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রাহাত খান সাংবাদিকদের জানান, সরকারি সম্পত্তি রক্ষা ও অবৈধ দখলদারদের হাত থেকে জমি উদ্ধারে এ ধরনের অভিযান নিয়মিতভাবে পরিচালনা করা হবে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে, জনস্বার্থে কোনো অবৈধ দখলদারকে ছাড় দেওয়া হবে না।

কেশবপুরে জাল সনদ বিক্রির আস্তানা ‘পিটিএফ’ সিলগালা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ১০ মে, ২০২৬, ১১:৪৯ অপরাহ্ণ
কেশবপুরে জাল সনদ বিক্রির আস্তানা ‘পিটিএফ’ সিলগালা

এমএ রহমান, কেশবপুর (যশোর): যশোরের কেশবপুরে প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে জাল ডাক্তারি সনদ বিক্রি করে আসছিল ‘প্যারামেডিকেল অ্যান্ড টেকনোলজি ফাউন্ডেশন’ (পিটিএফ) নামের একটি প্রতিষ্ঠান। গতকাল রোববার (১০ মে) দুপুরে যশোর জেলা সিভিল সার্জন ডা. মো. মাসুদ রানা অভিযান চালিয়ে ভুয়া এই প্রতিষ্ঠানটি সিলগালা করে দিয়েছেন।
এর আগে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোছা. রেকসোনা খাতুন এই প্রতিষ্ঠানে অভিযান চালিয়েছিলেন। সে সময় জালিয়াতির অভিযোগে প্রতিষ্ঠানের কর্ণধার এ কে আজাদ ওরফে ইকতিয়ারকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে ১ লাখ টাকা জরিমানা করা হয় এবং প্রতিষ্ঠানটি বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়। কিন্তু সেই নির্দেশ উপেক্ষা করে লোকচক্ষুর অন্তরালে চক্রটি তাদের জাল সনদ বিক্রির বাণিজ্য অব্যাহত রাখে।
২০১৬ সালে খুলনার যৌথ মূলধনি কোম্পানি ও ফার্মসমূহের পরিদপ্তর (জয়েন্ট স্টক) থেকে নিবন্ধন নিয়ে কেশবপুর শহরের মাইকেল মোড়ে একটি ভাড়া বাসায় পিটিএফের ‘কেন্দ্রীয় হেড অফিস’ খোলেন আবুল কালাম আজাদ। এরপর ডিএমএফ, প্যাথলজি, আল্ট্রাসোনোগ্রাফিসহ ৫৬টি ট্রেডে সার্টিফিকেট দেওয়ার নামে ট্রেনিং সেন্টার শুরু করেন। আকর্ষণীয় লিফলেটের প্রলোভনে পড়ে বেকার যুবকরা এখানে আসতেন এবং কোর্সভেদে ৩৫ হাজার থেকে ৪৫ হাজার টাকার বিনিময়ে ভুয়া ডাক্তারি সনদ হাতিয়ে নিতেন।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানায়, স্বাস্থ্যবিষয়ক যেকোনো ট্রেনিং বা সনদ প্রদানের জন্য স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের (চিকিৎসা শিক্ষা ও স্বাস্থ্য জনশক্তি উন্নয়ন) অনুমোদন বাধ্যতামূলক। কিন্তু এ কে আজাদ জয়েন্ট স্টকের একটি সাধারণ নিবন্ধনকে পুঁজি করে গত ১১ বছর ধরে অবৈধভাবে এই ব্যবসা চালিয়ে আসছেন। সরকারি তদারকি না থাকায় জালিয়াতির মাধ্যমে তিনি বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।
যশোর জেলা সিভিল সার্জন ডা. মো. মাসুদ রানা বলেন, “পিটিএফ নামের ওই প্রতিষ্ঠানটি স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ভুয়া সনদ বিক্রি করছেÑএমন তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালানো হয়। অভিযানে তারা বৈধ কোনো কাগজপত্র দেখাতে ব্যর্থ হওয়ায় প্রতিষ্ঠানটি সিলগালা করে কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।”

আশাশুনিতে মাদ্রাসার টাকা ও গয়না নিয়ে উধাও স্ত্রী, দিশেহারা স্বামী

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ১০ মে, ২০২৬, ১১:২৮ অপরাহ্ণ
আশাশুনিতে মাদ্রাসার টাকা ও গয়না নিয়ে উধাও স্ত্রী, দিশেহারা স্বামী

আশাশুনি প্রতিনিধি: আশাশুনি উপজেলার খরিয়াটি গ্রামে স্বামীর গচ্ছিত টাকা ও স্বর্ণালঙ্কার নিয়ে এক গৃহবধূর পালিয়ে যাওয়ার খবর পাওয়া গেছে। খরিয়াটি হাফিজিয়া কওমি মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা ও মুহতামিম মাওলানা আব্দুস সবুর সরদার এই ঘটনায় খুলনা সোনাডাঙ্গার আতিকুর রহমান খোকন ও নিজের স্ত্রী রেশমা খাতুনের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করেছেন।

মামলার বিবরণী অনুযায়ী, খুলনা সোনাডাঙ্গার আতিকুর রহমান খোকন পূর্ব পরিচয়ের সুবাদে আব্দুস সবুরের বাড়িতে যাতায়াত করতেন। গত ২৪ এপ্রিল সন্ধ্যায় আব্দুস সবুর বাড়িতে না থাকার সুযোগে রেশমা খাতুন দুই সন্তানকে ফেলে খোকনের সঙ্গে পালিয়ে যান। যাওয়ার সময় তিনি মাদ্রাসার সঞ্চয় তহবিলের নগদ ১ লাখ ৪৯ হাজার টাকা এবং ৩ ভরি ২ আনা স্বর্ণালঙ্কার নিয়ে গেছেন বলে মামলার আরজিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

বাদী আব্দুস সবুর জানান, রমজান ও ঈদুল ফিতর উপলক্ষে সংগৃহীত মাদ্রাসার টাকা ব্যাংক ছুটি থাকায় তিনি বাড়িতে রেখেছিলেন। স্ত্রী ও অর্থসম্পদ হারিয়ে এখন তিনি নিঃস্ব। মাদ্রাসার কার্যক্রম বন্ধ হয়ে গেছে এবং শিক্ষার্থীরা মাদ্রাসা ছেড়ে চলে গেছে। এক পুত্র ও এক কন্যা সন্তানকে নিয়ে তিনি এখন মানবেতর জীবন যাপন করছেন।

আদালতে সিআর ১৫৯/২৬ (আশাশুনি) নং মামলা দায়ের করার পর আসামিরা বাদীকে প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। সাতক্ষীরার বিজ্ঞ আমলী ০৮ নং আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে আশাশুনি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) তদন্তপূর্বক প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। বর্তমানে বাদী ও তার পরিবার চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন এবং প্রশাসনের সহযোগিতা কামনা করেছেন।