বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬, ১০ আষাঢ় ১৪৩৩
বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬, ১০ আষাঢ় ১৪৩৩

পুরোনো ফোনের গতি বাড়াতে করণীয় সহজ ৩ কাজ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ১৯ এপ্রিল, ২০২৬, ৫:০০ অপরাহ্ণ
পুরোনো ফোনের গতি বাড়াতে করণীয় সহজ ৩ কাজ

নতুন ফোন হাতে নেওয়ার পর প্রথম কয়েক মাস কেমন রকেটের মতো চলে, তাই না? কিন্তু দিন যত যায়, ফোন যেন ততই বুড়িয়ে যেতে থাকে। একটা সময় এতটাই স্লো হয়ে যায় যে মনে হয়, এবার বুঝি ফোনটা পাল্টানোর সময় চলেই এল।
অবশ্যই, একটা সময় ফোন পাল্টাতেই হয়। বিশেষ করে যখন আপনার ফোনে আর নতুন সফটওয়্যার আপডেট আসে না বা সিকিউরিটি নিয়ে ঝুঁকি তৈরি হয়। তবে আপনি চাইলে বর্তমান ফোনটির আয়ু আরো বেশ কিছুদিন বাড়িয়ে নিতে পারেন।

নতুন ফোন কেনার পেছনে একগাদা টাকা খরচ করার আগে, নিচের এই সহজ উপায়গুলো আপনার পুরোনো ফোনে একবার প্রয়োগ করে দেখুন। হয়তো গতির পার্থক্য দেখে চমকে যাবেন। যেমন-

(১) অপ্রয়োজনীয় অ্যাপের জঞ্জাল কমান
আপনার ফোনে যখন অনেক বেশি অ্যাপ জমে যায়, তখন স্বাভাবিকভাবেই এর প্রভাব পড়ে ফোনের গতির ওপর। তাই যেসব অ্যাপ আপনি খুব একটা ব্যবহার করেন না, সেগুলো সরিয়ে ফেলাই বুদ্ধিমানের কাজ।

একবার সময় নিয়ে আপনার ফোনে থাকা অ্যাপগুলো দেখুন। খুঁজে বের করুন, কোন অ্যাপগুলো শুধু শুধু আপনার ফোনে ইনস্টল করা আছে। মনে রাখবেন, দরকার হলে এগুলো আপনি পরে আবার ইনস্টল করে নিতে পারবেন, অথবা ব্রাউজার দিয়ে এগুলোর ওয়েব ভার্সনও ব্যবহার করতে পারবেন।

অ্যান্ড্রয়েড ফোনে কোনো অ্যাপ আনইনস্টল করতে হলে হোমস্ক্রিন বা অ্যাপ ড্রয়ারে সেই অ্যাপের ওপর কিছুক্ষণ চেপে ধরুন। এরপর পপ-আপ মেনু থেকে ‘Uninstall’ লেখাটিতে ট্যাপ করুন। কিছু ফোনে অ্যাপটি চেপে ধরে ওপরের দিকে আনইনস্টল বাটনে টেনে নিয়ে যেতে হয়। আর আইফোন ব্যবহারকারীরা অ্যাপ লাইব্রেরিতে গিয়ে নির্দিষ্ট অ্যাপের ওপর চেপে ধরলে ‘Delete App’ অপশন পাবেন, সেটি ক্লিক করে অ্যাপ ডিলিট বা আনইনস্টল করতে পারবেন।

এ ছাড়া অনেক অ্যাপ আছে, যেগুলো আমরা ব্যবহার না করলেও ব্যাকগ্রাউন্ডে চলতে থাকে। এতে ফোনের গতি কমে যায়। আপনি চাইলে এগুলোও বন্ধ করে রাখতে পারেন। এটি বন্ধ করতে অ্যান্ড্রয়েড ফোনের Settings থেকে Apps > See all apps-এ দেখুন। এরপর নির্দিষ্ট একটি অ্যাপ বেছে নিয়ে ‘App battery usage’-এ ট্যাপ করুন। সেখানে ‘Allow background usage’ নামে একটি অপশন পাবেন, সেটি বন্ধ (off) করে দিন।

আর আইফোনে Settings-এ গিয়ে General > Background App Refresh-এ ট্যাপ করুন। এখানে ফোনে থাকা সব অ্যাপের তালিকা দেখতে পাবেন। যেসব অ্যাপ ব্যাকগ্রাউন্ডে চলার দরকার নেই, সেগুলোর পাশের সুইচটি বন্ধ করে দিন।

(২) স্টোরেজ বা মেমোরি ফাঁকা করুন
ফোনে যত বেশি জায়গা বা ফ্রি স্টোরেজ থাকবে, আপনার ফোনটি তত বেশি স্বস্তিতে থাকবে। স্বস্তি মানেই দ্রুতগতি। অপ্রয়োজনীয় অ্যাপ মুছে ফেললে কিছু জায়গা তো ফাঁকা হবেই, তবে চাইলে আপনি আরো গভীরে যেতে পারেন।

অ্যান্ড্রয়েড ফোনে ‘Files by Google’ নামের একটি বিল্ট-ইন অ্যাপ থাকে। এটি খুব সহজেই আপনার স্টোরেজ ফাঁকা করতে সাহায্য করবে। অ্যাপটি খুলে ওপরের বাঁ দিকের থ্রি ডটে ক্লিক করুন। এবার ‘Clean’ ট্যাবে ট্যাপ করুন। সেখানে ডুপ্লিকেট ফাইল, স্ক্রিনশট এবং ফোনে থাকা সবচেয়ে বড় সাইজের ফাইলগুলো ডিলিট করার বেশ কিছু চমৎকার পরামর্শ দেখতে পাবেন।

অন্যদিকে, আইফোন ব্যবহারকারীরা Settings থেকে General > iPhone Storage-এ গেলে দেখতে পাবেন ঠিক কোন কোন জায়গায় স্টোরেজ বেশি খরচ হয়েছে। এখানেই স্টোরেজ ফাঁকা করার কিছু দারুণ পরামর্শও দেওয়া থাকে। যেমন, ক্লাউডে অফলোড করে রাখা যায় এমন বড় বড় অ্যাপ ও ফাইলের তালিকা সেখানে পাবেন।

আপনি যদি স্যামসাং গ্যালাক্সি ফোন ব্যবহার করেন, তবে আপনার জন্য আরো একটি বিশেষ উপায় আছে। Settings থেকে Device care > Memory > RAM Plus-এ যান। এই ফিচারটি মূলত আপনার ফোনের কিছুটা স্টোরেজকে অস্থায়ী র‍্যাম বা মেমোরি হিসেবে ব্যবহার করে। আপনি যদি এটি বন্ধ করে দেন, তবে সেই স্টোরেজটুকু আবার ফাঁকা হিসেবে পাবেন।

(৩) ফুল ফ্যাক্টরি রিসেট
ওপরের কোনো কিছুতেই যদি কাজ না হয়, তবে এটি হলো সবচেয়ে চরম পদক্ষেপ। এই কাজটি আপনার ফোনটিকে ঠিক সেই অবস্থায় ফিরিয়ে নিয়ে যাবে, যখন আপনি প্রথমবার বাক্স থেকে এটি বের করেছিলেন। ফুল রিসেট করতে খুব বেশি সময় লাগে না। সত্যি বলতে, কয়েক বছর আগের তুলনায় এই প্রক্রিয়াটি এখন অনেক বেশি সহজ হয়ে গেছে।

রিসেট দিলে আপনার ফোনের সবকিছু মুছে যাবে। ফলে এক নিমেষেই আপনার ফোনে জমে থাকা সমস্ত অপ্রয়োজনীয় অ্যাপ দূর হয়ে যাবে এবং ফোন যতটা সম্ভব লোকাল স্টোরেজ ফিরে পাবে। আপনার ফোনটি একেবারে শূন্য থেকে নতুন করে যাত্রা শুরু করবে। গতির দিক থেকেও আপনি স্পষ্ট পরিবর্তন দেখতে পাবেন।

তবে সাবধান! এই কাজে নামার আগে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি হলো ব্যাকআপ। রিসেট করার আগে নিশ্চিত হয়ে নিন, আপনার ফোনের সব দরকারি ছবি, ভিডিও এবং অন্যান্য ফাইল গুগল ড্রাইভ, আইক্লাউড বা অন্য কোথাও নিরাপদে ব্যাকআপ হিসেবে সেভ করা আছে কি না। একবার নয়, দরকার হলে দুবার চেক করে তারপর রিসেটের দিকে এগোবেন।

অ্যান্ড্রয়েডে রিসেটের ক্ষেত্রে Settings থেকে System > Reset options > Erase all data (factory reset)-এ যান এবং ‘Erase all data’ ক্লিক করুন। আর আইফোনের ক্ষেত্রে Settings থেকে General > Transfer or Reset iPhone > Erase All Content and Settings-এ গিয়ে ‘Continue’ চাপুন। ব্যস, কাজ হয়ে যাবে!

সূত্র: পপুলার সায়েন্স, বিজ্ঞানচিন্তা

Ads small one

সিসিডিবি’র উদ্যোগে শ্যামনগরে সমমনা সংস্থাগুলোর কর্মশালা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন, ২০২৬, ১:২১ পূর্বাহ্ণ
সিসিডিবি’র উদ্যোগে শ্যামনগরে সমমনা সংস্থাগুলোর কর্মশালা

শ্যামনগর প্রতিনিধি: শ্যামনগরে সরকারি ও বেসরকারি সমমনা সংস্থাগুলোর অংশগ্রহণে সিসিআরসি ও আরবিএ বিষয়ক এক কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গত ২৪ জুন দুপুরে উপজেলা পরিষদ হলরুমে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা সিসিডিবি এই কর্মশালার আয়োজন করে।
কর্মশালার লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন সিসিডিবি’র উপজেলা সমন্বয়কারী স্টিভ রায় রূপন। সিসিডিবি’র রেজিলিয়েন্স বিল্ডিং ম্যানেজার সামিউল আলিম পাওয়ার পয়েন্ট প্রেজেন্টেশনের মাধ্যমে মূল বিষয়বস্তু তুলে ধরেন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইউএনও শামসুজ্জামান কনক। এ সময় উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) রাশেদ হোসাইন, মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা সারিদ বিন শফিক, সমাজসেবা কর্মকর্তা দেলোয়ার হোসেন ও স্থানীয় সংবাদকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

জমি বিরোধে গাছ কাটার অভিযোগ, দেবহাটায় আদালতে মামলা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন, ২০২৬, ১:১৮ পূর্বাহ্ণ
জমি বিরোধে গাছ কাটার অভিযোগ, দেবহাটায় আদালতে মামলা

দেবহাটা প্রতিনিধি: দেবহাটা উপজেলার বসন্তপুর গ্রামে জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে গাছপালা কেটে ফেলা এবং জোরপূর্বক জমি দখলের চেষ্টার অভিযোগে আদালতে মামলা দায়ের করা হয়েছে। বসন্তপুর গ্রামের বৈদ্যনাথ দাস বাদী হয়ে শংকর দাস ও দিপঙ্কর দাসসহ ৯ জনের বিরুদ্ধে সাতক্ষীরার বিজ্ঞ এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে এই মামলা (নং-৪০৬/২০২৬) দায়ের করেন।
মামলার এজাহার অনুযায়ী, বসন্তপুর মৌজার ৫৮ শতক পৈতৃক সম্পত্তির একটি রাস্তা নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিনের বিরোধ রয়েছে, যা নিয়ে আগেও একটি মামলা আদালতে বিচারাধীন আছে। বাদীর অভিযোগ, চলমান মামলার তোয়াক্কা না করে প্রতিপক্ষ জোরপূর্বক তাঁর জমিতে প্রবেশ করে বিভিন্ন গাছগাছালি কেটে সাবাড় করেছে এবং জমি দখলের চেষ্টা চালিয়েছে। বিবাদীদের আর্থিক ও সামাজিক প্রভাবের কারণে তাঁর পরিবার এখন চরম নিরাপত্তাহীনতা ও মানবেতর জীবনযাপন করছে উল্লেখ করে তিনি প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

 

উচ্ছেদ অভিযানে নিঃস্ব হওয়ার শঙ্কা: জেলা পরিষদ প্রশাসকের হস্তক্ষেপ চান কুলিয়াবাসী

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন, ২০২৬, ১:১৬ পূর্বাহ্ণ
উচ্ছেদ অভিযানে নিঃস্ব হওয়ার শঙ্কা: জেলা পরিষদ প্রশাসকের হস্তক্ষেপ চান কুলিয়াবাসী

কুলিয়া (দেবহাটা) প্রতিনিধি: সাতক্ষীরা-ভেটখালি মহাসড়ক উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় আলিপুর থেকে কুলিয়া বাজার পর্যন্ত অংশে সরকারি খাস জমিতে উচ্ছেদ অভিযান নিয়ে চরম উদ্বেগ তৈরি হয়েছে স্থানীয় বাসিন্দাদের মাঝে। সড়কের ‘অপ্রয়োজনীয় অংশ’ উচ্ছেদ না করে কেবল মূল কাজের জন্য যতটুকু প্রয়োজন, ততটুকু জমি ব্যবহারের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা। এ বিষয়ে গত ২৪ জুন জেলা পরিষদ প্রশাসকের কাছে একটি লিখিত স্মারকলিপি দিয়েছেন তাঁরা। আগামী ৮ ও ৯ জুলাই সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের পক্ষ থেকে মহাসড়কের দুই পাশের অবৈধ স্থাপনা অপসারণের জন্য বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে স্থানীয় সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ীরা সাতক্ষীরা জেলা পরিষদ প্রশাসক ও সাবেক সংসদ সদস্য হাবিবুল ইসলাম হাবিবের কার্যালয়ে গিয়ে তাঁর হাতে আবেদনপত্রটি তুলে দেন।
এ সময় কুলিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি হামিদুল হক শামীম, সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন বাবলু, কুলিয়া বাজার কমিটির সভাপতি রুহুল আমিন, সাধারণ সম্পাদক আবু হুরাইরা এবং সমাজসেবক মোজাম্মেল হোসেনসহ (মিনু ডাক্তার) এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। জেলা পরিষদ প্রশাসক ভুক্তভোগীদের বক্তব্য গুরুত্বসহকারে শোনেন এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে বাস্তবসম্মত সমাধানের আশ্বাস দেন।
স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়, এলাকার অর্থনৈতিক চালিকাশক্তি হিসেবে পরিচিত সাতক্ষীরা-ভেটখালি মহাসড়কের উন্নয়ন কাজকে স্থানীয়রা স্বাগত জানান। তবে সওজ-এর নকশা অনুযায়ী ঢালাওভাবে উচ্ছেদ করা হলে বহু ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী তাঁদের দোকান, পুঁজি ও জীবিকা হারিয়ে পুরোপুরি নিঃস্ব হয়ে পড়বেন। গ্রামীণ অর্থনীতি, মাছের শেড ও স্থানীয় বাজার ব্যবস্থা এতে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। এ ছাড়া সড়কের পাশে দীর্ঘদিন ধরে বসবাসকারী বহু ভূমিহীন পরিবার মাথা গোঁজার শেষ আশ্রয়টুকু হারানোর ঝুঁকিতে রয়েছে। মানবিক ও সামাজিক দিক বিবেচনা করে সড়ক উন্নয়নে যতটুকু জমি অপরিহার্য, ঠিক ততটুকু রেখে বাকি অংশ উচ্ছেদ না করার জোর দাবি জানানো হয়েছে।