শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৪ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৪ আশ্বিন ১৪৩৩

পেশায় করপোরেট, নেশায় ফিল্মমেকার, মুক্তি পেল তাদের স্বল্পদৈর্ঘ্য ১০ চলচ্চিত্র

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২ জুন, ২০২৬, ৯:০৪ পূর্বাহ্ণ
পেশায় করপোরেট, নেশায় ফিল্মমেকার, মুক্তি পেল তাদের স্বল্পদৈর্ঘ্য ১০ চলচ্চিত্র

একদল তরুণ নির্মাতার উদ্যোগে গড়ে ওঠা ইউটিউব প্ল্যাটফর্ম ফ্রেন্ডলি নেবারহুড ফিল্মমেকার্স (এফএনএফ)-এ একসাথে মুক্তি পেয়েছে ১০টি স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র।

কর্পোরেট চাকরির ব্যস্ততার মাঝেও সিনেমা বানানোর স্বপ্নকে ধরে রেখে এই প্ল্যাটফর্ম গড়ে তোলেন একদল তরুণ নির্মাতা। স্বল্প বাজেট ও সীমিত পরিসরে নির্মিত এসব চলচ্চিত্র গত বছর ৩০ মে এক বিশেষ প্রদর্শনীতে প্রদর্শিত হয়েছিল, যা দর্শকমহলে ইতিবাচক সাড়া ফেলেছিল।

সেই সাফল্যের এক বছর পূর্তিতে এবার চলচ্চিত্রগুলো ইউটিউবে সবার জন্য উন্মুক্ত করা হয়েছে। গত ২৭ মে ফেসবুক পোস্টের মাধ্যমে এফএনএফ জানায়, তাদের নির্মিত স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রগুলো অনলাইনে প্রকাশ করা হবে।

বর্তমানে এফএনএফ-এর ইউটিউব চ্যানেলে একসাথে দেখা যাচ্ছে ১০টি স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র। ভিন্ন ভিন্ন ঘরানার এই সিনেমাগুলো হলো— ‘হুদাই মিস’ (জাহিদুল হক অপু), ‘হামাংকুলাস’ (ইবনে নূর রাকিব), ‘সোলমেট’ (আদেল ইমাম অনুপ), ‘চা চাই’ (শেখ কোরাশানী), ‘তেলাপোকা’ (আল-আমিন হাসান নির্ঝর), ‘লোক’ (মাহমুদা সুলতানা রীমা), ‘ইন অ্যানাদার ওয়ার্ল্ড’ (কনক খন্দকার), ‘ফর সেল’ (ফজলে রাব্বি), ‘অন দ্যা কন্ট্রারি’ (ইমতিয়াজ হোসেন) এবং ‘ইশপাইট’ (আবীর ফেরদৌস মুখর)।

এফএনএফ-এর পক্ষ থেকে জাহিদুল হক অপু জানান, তাদের প্ল্যাটফর্মে প্রায় ২০ জন সদস্য কাজ করছেন। এর মধ্যে ১০ জন নির্মাণে যুক্ত ছিলেন এবং বাকিরা ক্যামেরার সামনে ও পেছনে কাজ করেছেন। এটি তাদের প্রথম সিজন, এবং দ্বিতীয় সিজনে নতুন নির্মাতাদের যুক্ত করার পরিকল্পনাও রয়েছে।

এফএনএফ-এর আরেক সদস্য শেখ কোরাশানী বলেন, তাদের লক্ষ্য ছিল স্বল্প বাজেটে সিনেমা নির্মাণ করা, যা প্রথম সিজনে তারা সফলভাবে করতে পেরেছেন। ভবিষ্যতে আরও প্রফেশনাল কাজ করার পরিকল্পনা রয়েছে।

এফএনএফ জানায়, ইউটিউবে মুক্তিপ্রাপ্ত এসব সিনেমা একে অপরের মতো নয়। এখানে রয়েছে ভিন্ন ভিন্ন ঘরানার পরীক্ষামূলক গল্প। এর মধ্যে ‘লোক’ সিনেমাটি লোকজ হরর ঘরানার, যা ইতোমধ্যে একাধিক আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে প্রদর্শিত হয়েছে। ‘সোলমেট’ নির্মিত হয়েছে একটি জুতার দৃষ্টিকোণ থেকে।

এছাড়া ‘হুদাই মিস’ সিনেমায় দেখা যায় এক কর্পোরেট চাকরিজীবী ও জ্বিনের অদ্ভুত গল্প। রোমান্টিক ধারার গল্প রয়েছে ‘ইশপাইট’-এ। অভিনেতা রিজভী রিজু অভিনয় করেছেন ‘ফর সেল’-এ, আর গীতিকার ও কণ্ঠশিল্পী আহমেদ হাসান সানি অভিনয় করেছেন ‘অন দ্যা কন্ট্রারি’ সিনেমায়।

নির্মাতাদের আশা, এই উদ্যোগ নতুন নির্মাতাদের স্বল্প পরিসরেও গল্প বলার সাহস জোগাবে। ‘সিজন ওয়ান’ নাম থেকেই স্পষ্ট, এটি একটি শুরু মাত্র। খুব শিগগিরই আসতে পারে দ্বিতীয় সিজনের ঘোষণা।

Ads small one

পরিবেশ সুরক্ষা ও স্বাস্থ্য সচেতনতা বাড়াতে ব্যক্তিগত গাড়ি ব্যবহার কমাতে হবে

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১১:০৫ অপরাহ্ণ
পরিবেশ সুরক্ষা ও স্বাস্থ্য সচেতনতা বাড়াতে ব্যক্তিগত গাড়ি ব্যবহার কমাতে হবে

প্রকাশ ঘোষ বিধান

পরিবেশ সুরক্ষা ও স্বাস্থ্য সচেতনতা বাড়াতে ব্যক্তিগত গাড়ি ব্যবহার কমানো এখন সময়ের দাবি। ক্রমাগত ব্যক্তিগত গাড়ি বৃদ্ধির ফলে তীব্র যানজটের পাশাপাশি বায়ুদূষণও চরম মাত্রায় পৌঁছাচ্ছে। পরিবেশের এই বিপর্যয় ও নাগরিকদের স্বাস্থ্যঝুঁকি কমাতে ব্যক্তিগত গাড়ির ওপর নির্ভরতা কমিয়ে টেকসই বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহণ করা জরুরি।

সড়কে গাড়ির সংখ্যা কমলে কার্বন-ডাই-অক্সাইডসহ অন্যান্য ক্ষতিকর গ্রিনহাউস গ্যাসের নির্গমন উল্লেখযোগ্য হারে কমে। ঘন ঘন হর্ন ও গাড়ির কালো ধোঁয়া কমে যাওয়ায় শহরের বায়ুর মান উন্নত হয় এবং শব্দদূষণজনিত স্বাস্থ্য সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়া যায়। জীবাশ্ম জ্বালানির অপচয় রোধ হয়, যা দেশের সামগ্রিক অর্থনীতি ও জাতীয় জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সাহায্য করে।

পরিবেশ রক্ষা ও স্বাস্থ্য সচেতনতা বাড়াতে ব্যক্তিগত গাড়ির ব্যবহার কমানো অত্যন্ত জরুরি। বাসযোগ্য ও সুস্থ নগরী গড়তে ব্যক্তিগত গাড়ি নিয়ন্ত্রণ ও গণপরিবহণ বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। ব্যক্তিগত গাড়ি কমালে ক্ষতিকর কার্বন নিঃসরণ কমে এবং বায়ু পরিষ্কার থাকে। গাড়ির হর্ন ও ইঞ্জিন থেকে সৃষ্ট শব্দ দূষণ কমে। অল্প দূরত্বে হাঁটাচলা বা সাইকেল চালালে শারীরিক কসরত হয় এবং স্বাস্থ্য ভালো থাকে। সড়কে ব্যক্তিগত বাহন কমলে তীব্র যানজট কমে এবং যাতায়াত সহজ হয়।

২২ সেপ্টেম্বর বিশ্ব ব্যক্তিগত গাড়িমুক্ত দিবস। যা প্রতিবছর বিশ্বজুড়ে নাগরিকদের ব্যক্তিগত গাড়ি ব্যবহার না করে বরং সাইকেল, হাঁটা বা গণপরিবহন ব্যবহারে উৎসাহিত করতে পালিত হয়। পরিবেশ দূষণ হ্রাস, যানজট নিয়ন্ত্রণ এবং জ্বালানি সাশ্রয়ের লক্ষ্যে বিশ্বব্যাপী এই সচেতনতা তৈরি করা হয়। ৭০-এর দশকে ইউরোপে প্রথম এই ধারণার সূচনা হলেও, প্রাতিষ্ঠানিকভাবে ১৯৯৮ সালে ফ্রান্সে এটি জাতীয়ভাবে উদযাপিত হয়। পরবর্তীতে ২০০০ সালে ইউরোপীয় কমিশন এটিকে একটি স্বতন্ত্র দিবস হিসেবে স্বীকৃতি দেয় এবং এটি আন্তর্জাতিক রূপ পায়। বাংলাদেশে প্রথম ২০০৬ সাল থেকে বেসরকারি উদ্যোগে এই দিবসটি পালন করা শুরু হয়। পরবর্তীতে ২০১৬ সাল থেকে সরকারিভাবেসহ বিভিন্ন অংশীজনদের সাথে নিয়ে দিবসটি নিয়মিত উদযাপন করা হচ্ছে। পরিবেশবান্ধব ও টেকসই পরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তোলার জন্য এই দিবসটি একটি বড় অনুস্মারক হিসেবে কাজ করে।

জীবাশ্ম জ্বালানি পুড়িয়ে ব্যক্তিগত গাড়ি চালানোর ফলে অতিরিক্ত মাত্রায় গ্রিনহাউস গ্যাস উৎপন্ন হয়, যা জলবায়ু পরিবর্তন ও বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধির অন্যতম প্রধান কারণ। ব্যক্তিগত গাড়ি থেকে নির্গত কার্বন ডাই-অক্সাইড, কার্বন মনোক্সাইড এবং অন্যান্য ক্ষতিকর ধোঁয়া বায়ুর গুণমান মারাত্মকভাবে নষ্ট করে। গাড়ি কমলে বাতাসে এসব বিষাক্ত গ্যাসের পরিমাণ কমে যায়।

অতিরিক্ত ব্যক্তিগত গাড়ি ব্যবহারের ফলে শহরের বায়ু দূষণ ও তীব্র যানজট সৃষ্টি হয়। এই দিনে নাগরিকদের ব্যক্তিগত গাড়ি বাদ দিয়ে পায়ে হেঁটে, সাইকেলে বা গণপরিবহনে যাতায়াতে উৎসাহিত করা হয়। পরিবেশবান্ধব গণপরিবহন এবং হাঁটা বা সাইকেল চালানোর সুবিধা ও প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি করা হয়।

ব্যক্তিগত গাড়ি রাস্তায় বেশি জায়গা দখল করে কিন্তু বহন করে কম যাত্রী। এর ফলে তীব্র যানজট সৃষ্টি হয়। গণপরিবহন বা হাঁটার অভ্যাস বাড়ালে সড়কের ওপর চাপ কমে। ছোট দূরত্বের পথগুলোতে ব্যক্তিগত গাড়ি বর্জন করে হাঁটা বা সাইকেল চালানোর অভ্যাস তৈরি করলে হৃদরোগ, স্থূলতা এবং ডায়াবেটিসের ঝুঁকি কমে। যানজট এবং উচ্চ হর্নের কারণে সৃষ্ট মানসিক চাপ ও বিষণ্ণতা থেকে নাগরিকরা মুক্তি পান।

বিশ্বের বহু দেশেই এবং অধিকাংশ রাজধানীতে গাড়িমুক্ত হাঁটার সড়ক যেমন আছে, তেমনি থাকে ফুটপাত। স্বল্প দূরত্বে হাঁটার সুযোগ নগরে চলাচলে স্বস্তি যেমন বাড়ায়, তেমনি তা স্বাস্থ্যকরও। আমাদের দেশে সড়ক অনুপাতে ফুটপাতের পরিমাণ খুবই কম। আবার যেটুকু আছে, সেটুকুও অবৈধ স্থাপনা ও ব্যবসার উদ্দেশ্যে ব্যবহার করার কারণে দখল করে রাখে। সে জন্য ফুটপাত ব্যবহার করা সম্ভব হয় না।

শহরের ফুটপাতগুলোকে দখলমুক্ত ও ছায়াযুক্ত করা এবং সাইকেল চলাচলের জন্য আলাদা লেনের ব্যবস্থা করা প্রয়োজন। শহরগুলোকে গাড়ির আধিপত্য থেকে মুক্ত করে মানুষের উপযোগী ও বাসযোগ্য করে তোলার তাগিদ দেওয়া হয়। মানুষের ব্যক্তিগত গাড়ির প্রতি ঝোঁক কমানোর জন্য নিরাপদ, আরামদায়ক ও সময়সাশ্রয়ী গণপরিবহন নিশ্চিত করা।

একটি বাসযোগ্য ও পরিবেশবান্ধব নগরী গড়ে তুলতে আমাদের প্রতিদিনের যাতায়াতে সচেতন হতে হবে। ছোট দূরত্বে ব্যক্তিগত গাড়ির বিকল্প খোঁজার মানসিকতা তৈরি করতে হবে। পরিবেশবান্ধব ও টেকসই নগর গড়তে ব্যক্তিগত গাড়ির বিকল্প হিসেবে মানসম্মত গণপরিবহন ব্যবস্থা এবং হেঁটে বা সাইকেলে চলাচলে উৎসাহিত করা প্রয়োজন।

একটি পরিচ্ছন্ন, দূষণমুক্ত ও সুস্থ ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য আমাদের প্রত্যেকেরই উচিত ব্যক্তিগত গাড়ির ওপর নির্ভরশীলতা কমিয়ে পরিবেশবান্ধব জীবনযাত্রায় অভ্যস্ত হওয়া। নগর রক্ষা, নিজের স্বাস্থ্য উন্নত করা এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি বাসযোগ্য পৃথিবী গড়ে তুলতে আমাদের এখনই ব্যক্তিগত গাড়ির বিলাসী ব্যবহার বর্জন করে দায়িত্বশীল আচরণ করতে হবে।

লেখক: সাংবাদিক ও কলামিস্ট

বাংলাদেশে ইতালীয়দের অবদান ও ঐতিহাসিক স্বীকৃতি

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১০:৫৮ অপরাহ্ণ
বাংলাদেশে ইতালীয়দের অবদান ও ঐতিহাসিক স্বীকৃতি

মানবতার নিঃশব্দ পদচারণা:

নিকোলাস বিশ্বাস

সীমানা, ভৌগোলিক দূরত্ব ও ধর্মীয় পরিচয়ের সংকীর্ণ গন্ডি অতিক্রম করে নিঃস্বার্থ মানবসেবায় নিজেদের জীবন উৎসর্গ করার ইতিহাস এ পৃথিবীতে বিরল নয়, তবে স্বাধীন বাংলাদেশে ইতালীয় মিশনারিদের দীর্ঘ কয়েক দশকের নীরব ত্যাগ ও আত্মনিবেদন সেই ইতিহাসকে এক অনন্য ও মহিমান্বিত উচ্চতায় উন্নীত করেছে। দক্ষিণবঙ্গের ঝোড়ো উপকূলীয় অঞ্চলের কুষ্ঠ ও যক্ষ্মারোগী থেকে শুরু করে উত্তরবঙ্গের সমতলের সাঁওতাল সম্প্রদায় কিংবা পার্বত্য চট্টগ্রামের দুর্গম পাহাড়ি উপত্যকার সুবিধাবঞ্চিত শিশু-এদেশের অবহেলিত, চরম শোষিত ও প্রান্তিক মানুষের পাশে এই ইতালীয় ধর্মযাজক ও সন্ন্যাসিনীরা দাঁড়িয়েছেন পরম মমতায় ও পরম অভিভাবকত্বে। সম্প্রতি ইতালীয় প্রজাতন্ত্রের মহামান্য প্রেসিডেন্ট সার্জিও মাত্তারেলা কর্তৃক দুই নিবেদিতপ্রাণ ইতালীয় মিশনারি- সিস্টার রবার্টা পিনিওনে এবং ফাদার পিয়েত্রো লুইজি লুপি -কে ইতালির অন্যতম সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় নাইট সম্মাননা’ (অর্ডার অব দ্য স্টার অব ইতালি) -তে ভূষিত করা কেবল তাঁদের ব্যক্তিসত্তার অনন্য মূল্যায়ন নয়; বরং এটি বাংলাদেশে তাঁদের যুগের পর যুগ ধরে চলা পালকীয়, চিকিৎসাসেবা ও আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের প্রতি এক ঐতিহাসিক স্বীকৃতি। এ স্বীকৃতি ক্যাথলিক মন্ডলীর সেবাকে নতুন মর্যাদায় অধিষ্ঠিত করেছে এবং বাংলাদেশে বসবাসরত সমগ্র ইতালীয় সম্প্রদায়ের জন্য বয়ে এনেছে এক অনন্য গৌরব। এটি ইতালির একটি অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ রাষ্ট্রীয় বেসামরিক সম্মাননা। বিদেশে ইতালির ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করা এবং অন্য দেশের সাথে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক উন্নয়নে অসামান্য অবদান রাখা ব্যক্তিদের এই ‘নাইট’ উপাধি দেওয়া হয়।

স্বাস্থ্যখাতে, বিশেষ করে দক্ষিণ বাংলাদেশের অবহেলিত চিকিৎসা ব্যবস্থায় সিস্টার রবার্টা পিনিওনের অবদান এক মহাকাব্যিক ও অবিশ্বাস্য দৃষ্টান্ত। ‘মিশনারি সিস্টার্স অব দি ইমাকুলেট’ (বাংলাদেশে এরা পিমে সিস্টার্স নামে পরিচিত) ক্যাথলিক সন্ন্যাসিনী সংঘের এই উৎসর্গীকৃতপ্রাণ পেশায় একজন দক্ষ চিকিৎসক। তিনি মূলত দক্ষিণবঙ্গের উপকূলীয়, দুর্গম ও সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীর চিকিৎসাসেবায় নিজেকে পুরোপুরি বিলিয়ে দিয়েছেন। খুলনা ধর্মপ্রদেশের অন্তর্গত ঐতিহাসিক ড্যামিয়েন হাসপাতালের প্রকল্প পরিচালক এবং একমাত্র সার্বক্ষণিক চিকিৎসক হিসেবে সিস্টার রবার্টা পিনিওন দীর্ঘ এক যুগেরও বেশি সময় ধরে নিরবচ্ছিন্নভাবে দায়িত্ব পালন করে চলেছেন। উল্লেখ্য যে, বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চলে কুষ্ঠ, যক্ষ্মা এবং এইচআইভি/এইডস আক্রান্ত চরম সামাজিক অবহেলা ও বৈষম্যের শিকার রোগীদের জন্য এই ড্যামিয়েন হাসপাতালটিই হলো একমাত্র বিশেষায়িত চিকিৎসাকেন্দ্র। সিস্টার রবার্টা এখানে ৩৩ শয্যার মূল হাসপাতালটি দক্ষতার সাথে পরিচালনার পাশাপাশি আরো ৩টি গ্রামীণ ক্লিনিক এবং ১৫টি যক্ষ্মা নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র তদারকি করেন। শুধু হাসপাতালের চার দেয়ালের মধ্যে নিজের সেবাকে সীমাবদ্ধ না রেখে, তিনি খুলনার ভয়াবহ ঘনবসতিপূর্ণ বস্তি এলাকাগুলোতে এবং অত্যন্ত দরিদ্র পরিবারগুলোর দরজায় দরজায় ঘুরে প্রাথমিক স্বাস্থ্য সচেতনতা বৃদ্ধি ও বিনামূল্যে মানসম্মত ওষুধ বিতরণের কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। সমাজে কুষ্ঠ ও যক্ষ্মা আক্রান্ত রোগীরা যেন সামাজিক কুসংস্কার, ছোঁয়াচে ভয় ও বৈষম্যের শিকার হয়ে পরিবারচ্যুত না হন, সেই লক্ষ্যে তাঁর নিরলস মানসিক ও সামাজিক সংগ্রাম চিকিৎসা খাতকে অতিক্রম করে এক মানবিক ও রূপান্তরকামী আন্দোলনে উন্নীত হয়েছে।

অন্যদিকে, শিক্ষা বিস্তার, সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের সুরক্ষা এবং ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর মানবাধিকার প্রতিষ্ঠায় ফাদার পিয়েত্রো লুইজি লুপি (যাঁকে এদেশের মানুষ ভালোবেসে ফাদার লুপি নামে ডাকেন) এক নীরব অথচ গভীর সামাজিক বিপ্লব ঘটিয়ে চলেছেন। ইতালীয় ক্যাথলিক সংঘ ‘জ্যভেরিয়ান ফাদার্স’ -এর সম্মানিত পুরোহিত এবং বাংলাদেশে এই সংঘের সাবেক আঞ্চলিক সুপিরিয়র হিসেবে তিনি দীর্ঘদিন নেতৃত্ব দিয়েছেন। এদেশের দরিদ্র, অসহায় ও জাতিগত সংখ্যালঘু মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠা ও তাঁদের শিক্ষার আলোয় আলোকিত করতে তাঁর অবদান চিরস্মরণীয়। বিশেষ করে সাতক্ষীরা ও খুলনা অঞ্চলের চরম অবহেলিত ও প্রান্তিক ‘দলিত’ সম্প্রদায়ের আর্থ-সামাজিক রূপান্তরে ফাদার লুপির দূরদর্শী ভূমিকা অসাধারণ। তাঁর নিরবচ্ছিন্ন উৎসাহ, দিকনির্দেশনা ও প্রত্যক্ষ সহায়তায় স্থানীয় দলিত যুবকরা উচ্চশিক্ষা অর্জনের সুযোগ পেয়েছেন এবং নিজেদের আইনি ও সামাজিক অধিকার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ‘দলিত’ নামক শক্তিশালী এনজিও গড়ে তুলতে সক্ষম হয়েছেন। কেবল গ্রামীণ প্রান্তিক জনগোষ্ঠীই নয়, ঢাকার তেজগাঁও রেলস্টেশন সংলগ্ন নোংরা ও বিপজ্জনক বস্তি এলাকার ছিন্নমূল শিশুরা যেন কঠোর শিশুশ্রম ও অপরাধের অন্ধকার জগতে না হারিয়ে শিক্ষার আলো পায়, তার জন্য তিনি সমন্বিত স্কুল ও ডে-কেয়ার সেন্টার পরিচালনা করেছেন। পাশাপাশি বান্দরবানের লামার মতো দুর্গম পাহাড়ি অঞ্চলের ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর শিশুদের শিক্ষাদানে তিনি নিজেকে যুক্ত রেখেছেন। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে কক্সবাজারে আশ্রয় নেওয়া অমানবিক পরিস্থিতির শিকার রোহিঙ্গা শরণার্থীদের খাদ্য, স্বাস্থ্য ও মানবিক সহায়তা সুনিশ্চিত করতে এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে তাঁদের আর্তপীড়িত কণ্ঠস্বর তুলে ধরতেও ফাদার লুপি নিবিড়ভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। অস্বচ্ছল শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষার জন্যেও তিনি আর্থিক সহায়তা প্রদান করেন।

বাংলাদেশে ইতালীয় মিশনারিদের এই নিঃস্বার্থ সেবা এবং প্রেমের ইতিহাস কেবল সাম্প্রতিক দশকগুলোর ঘটনাবলী নয়; এর রক্তের ও আত্মার শক্ত শেকড় প্রোথিত রয়েছে আমাদের ১৯৭১ সালের গৌরবময় মহান মুক্তিযুদ্ধে। পাকিস্তানি বাহিনীর পাশবিক বর্বরতা ও গণহত্যার মুখে জ্যভেরিয়ান এবং পিমে মিশনসমূহ -এর ইতালীয় পুরোহিতগণ নিজেদের গির্জা, মিশন ও আশ্রয়কেন্দ্রগুলোকে চরম প্রাণভয় উপেক্ষা করে এলাকার ভীত-সন্ত্র্যস্থ আপামর জনসাধারণের জন্য নিরাপদ আশ্রয়স্থানে পরিণত করেছিলেন। তাঁরা স্বাধীনতাকামী মানুষের পাশে পরম বন্ধুর মতো দাঁড়িয়েছিলেন। বিশেষভাবে ফাদার মারিনো রিগন আমাদের বানিয়ারচর ধর্মপল্লীতে আহত মুক্তিযোদ্ধাদের গোপন আশ্রয়ে রেখে চিকিৎসা দিয়েছেন ও নিরাপত্তা নিশ্চিৎ করেছেন। এই বীরত্বপূর্ণ মানবিক অবদান ও অকৃত্রিম বন্ধুত্বের ঐতিহাসিক স্বীকৃতিস্বরূপ ২০১২ সালে বাংলাদেশ সরকার জ্যভেরিয়ান মিশনারি ফাদার মারিনো রিগনকে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘মুক্তিযুদ্ধ মৈত্রী সম্মাননা’ প্রদান করে।

ফাদার মারিনো রিগন ছিলেন এদেশের ইতালীয় মিশনারিদের মধ্যে এক উজ্জ্বলতম নক্ষত্র। দীর্ঘ ৬০ বছরেরও বেশি সময় ধরে বাংলাদেশে অবস্থান করে তিনি শিক্ষা বিস্তার ও মানবসেবার পাশাপাশি বাংলা সাহিত্য ও সংস্কৃতিকে ভালোবেসেছিলেন আপন হৃদয়ে। বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং কবি জসীমউদ্দীনের বিখ্যাত সাহিত্যকর্ম ইতালি ভাষায় অনুবাদ করে তিনি বিশ্ব দরবারে বাঙলা সাহিত্যকে নতুন করে তুলে ধরেছিলেন। এ অসামান্য অবদানের জন্য ২০০৯ সালে বাংলাদেশ সরকার তাঁকে অনন্য সম্মানসূচক নাগরিকত্ব প্রদান করে। ২০১৭ সালে তিনি ইতালিতে মৃত্যুবরণ করলেও, তাঁর শেষ ইচ্ছা ছিল এই প্রিয় বাংলার মাটিতেই শায়িত হওয়ার। সেই আকুল ইচ্ছাকে সম্মান জানিয়ে ২০১৮ সালে বাংলাদেশ সরকারের বিশেষ ও ঐতিহাসিক উদ্যোগে তাঁর মরদেহ ইতালির রোম থেকে মোংলার শেলাবুনিয়া গ্রামে নিয়ে আসা হয়। সেখানে বাংলাদেশ পুলিশের একটি চৌকস দল তাঁকে গার্ড অব অনার প্রদান করে এবং সম্পূর্ণ রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় তাঁকে সমাহিত করা হয়।

এ ছাড়া উত্তরাঞ্চলের সাঁওতাল ও অন্যান্য ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর মানুষের আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন, ভূমি অধিকার ও শিক্ষার প্রসারে ফাদার পাওলো চিচেরি সহ বহু ইতালীয় পিমে মিশনারির ঐতিহাসিক ভূমিকা স্থানীয় প্রশাসন ও জাতীয় পর্যায়ে সবসময় ভূয়সী প্রশংসা লাভ করেছে। এই মহান ত্যাগের বার্তা শুধু সেবার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, এটি মূলত ধর্মীয় সম্প্রীতি ও মানবিক মেলবন্ধনের এক পরম শিক্ষা। বাংলাদেশের প্রথম কার্ডিনাল প্যাট্রিক ডি’রোজারিও সিএসসি যথার্থই মন্তব্য করেছেন যে, বিভিন্ন ধর্মের মানুষের মধ্যে পারস্পরিক অনাস্থা ও ভুল ধারণা দূর করতে খ্রিস্টানদের সম্প্রীতির সেতু হিসেবে কাজ করা অপরিহার্য। আন্তধর্মীয় সংলাপ ও প্রত্যক্ষ ভালোবাসার মাধ্যমে গড়ে ওঠা এই মানবিক সম্পর্কই সমাজকে সুন্দর ও শান্তিময় করে তুলতে পারে।

বর্তমানে বিশ্বজুড়ে যখন বৈশ্বিক মেরুকরণ, অর্থনৈতিক স্বার্থপরতা ও বর্ণবাদী অসহিষ্ণুতা বিস্তার লাভ করছে, ঠিক সেই সময়ে দাঁড়িয়ে এই ইতালীয় মিশনারিদের আত্মত্যাগী জীবন আমাদের নতুন করে শেখায় যে- প্রকৃত মানবধর্ম কোনো ভৌগোলিক সীমানা, জাতীয়তা বা প্রাতিষ্ঠানিক পরিচয়ে সীমাবদ্ধ থাকে না। সিস্টার রবার্টা ও ফাদার লুপির মতো দূরদর্শী সাধকেরা এদেশের স্বাস্থ্য ও সামাজিক রূপান্তর সূচকে যে নীরব অবদান রেখে চলছেন, তা বাংলাদেশ ও ইতালির মধ্যে দ্বিপাক্ষিক ও কূটনৈতিক সম্পর্কের মূল শক্তিস্বরূপ। এ সম্পর্ক কেবল ব্যবসা-বাণিজ্য বা রাজনীতির ওপর ভিত্তি করে গঠিত নয়, বরং এটি গঠিত হয়েছে রক্তের, মমতার ও নিঃস্বার্থ ভালোবাসার এক ইস্পাতকঠিন ভিতের ওপর। বাংলাদেশের এই নিভৃত আলো ছড়ানো বিদেশি বন্ধুদের প্রতি রাষ্ট্র, সমাজ ও এদেশের প্রতিটি সচেতন নাগরিকের বিনম্র শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা জানানো আমাদের নৈতিক দায়িত্ব।

নিকোলাস বিশ্বাস একজন মিডিয়া ফ্রিল্যান্সার এবং জাতিসংঘ জনসংখ্যা তহবিল মিডিয়া অ্যাওয়ার্ডপ্রাপ্ত লেখক

জবেহ ও কুরবানীর নামে মরা গরু খাচ্ছেন না তো?

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১০:৫৪ অপরাহ্ণ
জবেহ ও কুরবানীর নামে মরা গরু খাচ্ছেন না তো?

কামারুজ্জামান

“তোমাদের জন্য হারাম করা হয়েছে মৃত প্রাণী, প্রবাহিত রক্ত, শূকরের গোস্ত এবং যা আল্লাহ ছাড়া অন্য কারো নামে জবেহ করা হয়েছে”Ñ সূরা মায়েদা, আয়াত নং ৩। একই ধারাবাহিকতা বজায় রেখে একই কথা বলা হয়েছে সূরা বাক্বারার ১৭৩, আনয়া’মের ১৪৫ ও নাহালের ১১৫ নং আয়াতে। অর্থাৎ একই কথা আল্লাহ কুরআনে চার জায়গায় চারবার বলেছেন। তাহলে এর গুরুত্ব কত বেশী!! এখানে প্রথম তিনটি মানবদেহের জন্য এবং শেষেরটা মানবাত্মা বা ঈমানের জন্য ক্ষতিকর ও ধ্বংসাত্মক এবং ধারাবাহিকতা বিচারে অনুমেয়, আল্লাহর কাছে মৃত প্রাণী সবচে’ খারাপ, অতঃপর প্রবাহিত রক্ত শূকরের গোস্তের চেয়েও খারাপ। হাঁ, প্রবাহিত রক্ত শূকরের গোস্তের চেয়েও খারাপ।

 

এই রক্তকেই আমরা প্রবাহিত হতে না দিয়ে গোস্তের মধ্যে আটকে রেখে প্রতিনিয়ত খাচ্ছি। আমরা প্রকৃতপক্ষে জবাই ও কুরবানীর নামে ব্রেন-স্ট্রোক ও শকে মরা পশুর গোস্ত খাচ্ছি। কিভাবে?
জবেহ সহী হওয়ার জন্য চারটি রগ কাটতে হয়Ñ খাদ্যনালী, শ্বাসনালী ও দুটি রক্তনালী। ভুলক্রমে তিনটি কাটা হলেও জবেহ হয়ে যাবে, শুদ্ধ হবে। কিন্তু তিনটি কাজ কখনোই করা যাবে না, হারাম ও কঠোরভাবে নিষেধ। (১) মেরুরজ্জু, শাহরগ বা স্পাইনাল কর্ডে আঘাত করা বা ছুরির খোঁচা মারা যাবে না। (২) জবেহ হওয়ার সাথে সাথে পশুর হাত-পায়ের বাঁধন খুলে দিতে হবে, যাতে পেশী-শিথিল অবস্থায় পড়ে থাকে ও ছটফট করতে পারে। (৩) মৃত্যু নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত হাত-পায়ের নলা কাটা বা চামড়া ছাড়ানো শুরু করা যাবে না। কারণ মরার আগ পর্যন্ত প্রাণী ব্যথা পায়। মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা নয়।

প্রথমটি করলে পশু জবাইয়ের চাইতে বেশী কষ্ট পায়। কারণ মেরুরজ্জুই অনুভূতি গ্রহণের প্রধান মাধ্যম। তাই জবাইয়ের ৩/৫ মিনিট পর ওখানে ছুরির খোঁচা দিলে বেহুঁশ হয়ে থাকা পশুও লাফিয়ে ওঠে। ৫/৭ মিনিটের মধ্যে পশু মরে না, কোষও মরে না। মস্তিষ্কে রক্ত সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় অজ্ঞান হয়ে থাকে। ঐ সময় কৃত্রিমভাবে রক্ত সরবরাহ শুরু করলে বিজ্ঞানমতে আবার জেগে উঠবে। পশু মারা যাওয়ার কথা আরো কিছুক্ষণ পর। কিন্তু ঐ সময় মেরুরজ্জুতে ছুরির খোঁচা দিলে পশু কেঁপে উঠে মারা যায়। অতএব এই মৃত্যু জবাইয়ের কারণে নয়, ব্রেন-স্ট্রোক ও শকের কারণে।

 

আর আমরা জবাইকৃত পশুর গোস্ত খাচ্ছি না, খাচ্ছি অপঘাতে-মরা প্রাণীর গোস্ত (প্রকারান্তরে কুরআনে বর্ণিত ১ নং হারামটা)! পরন্তু খোঁচা মারার সাথে সাথে মস্তিষ্ক থেকে দেহের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়, মুহূর্তে দেহ নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়ে এবং রক্ত প্রবাহিত হয়ে বের না হয়ে মাংসের মধ্যে জমাট বেঁধে রন্ধ্রে রন্ধ্রে আটকে যায়, ঠিক যেভাবে ফাঁসিতে, আঘাতে বা পানিতে-ডুবে মরা লাশ কাটলে আর রক্ত বের হয় না। অথচ তার শরীরে রক্ত ছিল। এই জন্য ব্যক্তিগত পর্যায়ে সঠিকভাবে কুরবানী করা পশুর গোস্ত সাধারণত সাদাটে ও হাঁসাটে হয়, কিন্তু কসাইয়ের দোকানের গোস্ত হয় টকটকে লাল। পাবলিক গরু কেটে লাভ করতে না পারলেও কসাইরা ঠিকই লাভ বের করে আনে।

 

প্রথমত, ওদের হাতে যাদু আছে, কী করে গোস্তের সাথে হাড়-ছড় কুপিয়ে দিতে হয়, খুব ভাল জানে। দ্বিতীয়ত, একটা গরুতে অন্যূন বার লিটার রক্ত গোস্তের মধ্যে আটকে দিতে পারলে দশ হাজার টাকা নগদ লাভ। অতিলোভী এই চেঙ্গিস কসাইরা সবচে’ ভয়ঙ্কর যে কাজটি করে, জবাই করার সাথে সাথে বুকের চামড়া ফেড়ে ফেলে চোখা ছুরির আগা দিয়ে হৃদপি- খুঁচিয়ে দেয়। এতে হৃদপি- বিকল হয়ে রক্ত পাম্প করতে পারে না এবং মাংসে রক্ত প্রায় পুরোটাই থেকে যায়।

এই আটকে-থাকা (প্রবাহিত) রক্তে থাকে প্রচুর পরিমাণে টক্সিন, ইউরিয়া ও বিপাকীয় জৈবরাসায়নিক বর্জ্য, যা প্রাথমিকভাবে বদহজম ও এলার্জির কারণ হয় এবং পরে ডেকে আনে প্রাণঘাতী মারাত্মক রোগ। এই কারণে অনেকেই বলে, কুরবানীর গোস্ত খেলে সমস্যা হয় না, কিন্তু দোকানের গোস্ত খেলেই সমস্যা হয়। বিশেষ করে গরুর গোস্ত। আসলে গরুর গোস্ত মানুষের জন্য ক্ষতিকর হলে নাবী মুহাম্মাদ (সঃ)-এর শারীয়া’ অবশ্যই একে অন্তত মাকরূহ ঘোষণা করত, পূর্ণ হালাল করত না।

গরুর দেহে প্রতি কেজি বডি ওয়েটের জন্য ৫৫<মিলি রক্ত থাকে। রক্ত ও রক্তে-থাকা ব্যাকটেরিয়া গোস্তের দ্রুত পচন ঘটায়।

উল্লিখিত দ্বিতীয় কাজটি করলে রক্ত সহজভাবে বের হয়ে যাবে। অপরপক্ষে জবেহর পরও হাত-পা বেঁধে রাখা পিশাচের কাজ এবং এমনটি করলে পেশী খিঁচ ধরে ওয়ার্কিং অবস্থায় থাকে। তখন সব রক্ত বের হয় না। এরপর তৃতীয় কাজটি করলে যে স্নায়ুগুলো কাটা পড়বে, সেগুলো দেহের যতটুকু অংশ নিয়ন্ত্রণ করত, সেসব অংশের রক্তও আর বের হবে না। এছাড়া আরো একটি কাজ ঃ পশু ঝুলিয়ে চামড়া ছাড়ানো উত্তম (সম্ভব হলে ভারী পশুর ক্ষেত্রেও)। এতে অবশিষ্ট রক্তটুকু বের হয়ে যাবে।

গভীরভাবে বোঝার বিষয় এই যে, সূরা মায়েদার ৩ নং আয়াতে আরো হারাম করা হয়েছে *গলা চিপে মারা জন্তু, *প্রহারে মরা জন্তু, *উঁচু থেকে পড়ে মরা জন্তু, *অন্য প্রাণীর শিঙের আঘাতে মরা জন্তু এবং *যে জন্তুকে হিংস্্রস্্র প্রাণী খেয়েছে এবং জবেহ করে নেওয়া হয়নি। এখানে লক্ষণীয় এমন জন্তু, যার দেহ থেকে রক্ত প্রবাহিত না হয়ে মারা পড়েছে। ‘প্রবাহিত রক্ত’!

আসুন, আমরা মরা গরুর সাথে প্রবাহিত রক্ত খাওয়ার বিরুদ্ধে সোচ্চার হই! নিজেরা বাঁচি, দেশবাসীকে বাঁচাই! লেখক: কামারুজ্জামান, রতেœশ্বরপুর, দেবহাটা