বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬, ১০ আষাঢ় ১৪৩৩
বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬, ১০ আষাঢ় ১৪৩৩

প্রফেসর মো. খায়রুল ইসলাম: সততা, নিষ্ঠা ও মানবসেবার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ১১ মে, ২০২৬, ৪:২৬ অপরাহ্ণ
প্রফেসর মো. খায়রুল ইসলাম: সততা, নিষ্ঠা ও মানবসেবার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত

আমানউল্লা আল হাদী

প্রফেসর মো. খায়রুল ইসলাম স্যার ছিলেন অত্যন্ত সৎ, নিষ্ঠাবান ও কর্তব্যপরায়ণ একজন অধ্যক্ষ। ১৯৯৩ সালে তাঁর হাত ধরেই আমার চাকরি জীবনের সূচনা। প্রায় সাত বছর তাঁর সান্নিধ্যে থেকে কাজের ধরণ, সততা, দায়িত্ববোধ ও চাকরির নিয়মকানুন শেখার বিরল সুযোগ আমার হয়েছিল। স্যার ছিলেন সময়নিষ্ঠার প্রতীক-সকলে তাঁকে “সকাল ৮:৩০-এর গাড়ি” বলেই চিনতেন। তাঁর শৃঙ্খলাবোধ আমাদের জন্য ছিল এক অনুকরণীয় উদাহরণ।

আমার জীবনের একটি স্মরণীয় ঘটনা-কলারোয়া কলেজে উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষায় তিনি বহিঃপরীক্ষক ছিলেন। আমাকে দেওয়া একটি লবণ (কেমিস্ট্রি নমুনা) আমি পরীক্ষা না করেই দেখে শনাক্ত করতে সক্ষম হই। স্যার আমাকে আন্তরিকভাবে প্রশংসা করেছিলেন। এমনকি কোনো প্রশ্নেও তিনি আমাকে থামাতে পারেননি। তবুও তাঁর কঠোর মূল্যায়নের কারণে আমি ২০-এর বেশি নম্বর পাইনি-যা তাঁর ন্যায়পরায়ণতারই প্রমাণ।

কর্মজীবনে তিনি আমাদের শুধু শিক্ষা দেননি, দেখিয়েছেন কিভাবে সৎ থাকতে হয়। অবসর জীবনে সাতক্ষীরা জেলায় তিনি ঘরে ঘরে গিয়ে “আঞ্জুমান মফিদুল ইসলাম” প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে অর্থ সংগ্রহ ও আজীবন সদস্য সংগ্রহ করেছেন। তাঁর উদ্যোগে শহরে জমিসহ একটি বড় স্থায়ী ভবন নির্মিত হয়েছে-যা অনেক জেলার জন্যই এখনো স্বপ্ন।

কলেজের শিক্ষক-কর্মচারীদের সঙ্গে তাঁর ছিল গভীর আন্তরিক সম্পর্ক। সাতক্ষীরা সরকারি কলেজ প্রাঙ্গণে আজও যে বড় বড় গাছগুলো দাঁড়িয়ে আছে-তার বেশিরভাগই তিনি নিজ বাড়িতে চারা উৎপাদন করে রোপণ করেছিলেন। এ কাজে মালি মেছের আলী ছিলেন তাঁর ঘনিষ্ঠ সহচর। ভৌত ও অবকাঠামোগত উন্নয়নে প্রফেসর রফিউদ্দীন স্যার তাঁর বিশ্বস্ত সহযোগী ছিলেন। কর্মজীবনের শেষ দিনে তিনি কলেজ তহবিলে ১৩ লক্ষ ৪১ হাজার টাকা জমা রেখে বিদায় নিয়েছিলেন-যা তাঁর সততা ও দায়িত্ববোধের এক অনন্য নজির।

নিঃসন্তান এই মহৎ মানুষটি আজ সকাল ৯টায় আমাদের ছেড়ে না ফেরার দেশে পাড়ি জমিয়েছেন। তাঁর কাছ থেকে যা শিখেছি, অবসর জীবনেও তা অনুসরণ করার চেষ্টা করি।

আল্লাহ রব্বুল আলামিন তাঁকে জান্নাতের সর্বোচ্চ মাকাম দান করুন। আমিন।

লেখক: প্রফেসর আমানউল্লা আল হাদী, সাতক্ষীরা সরকারী কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ।

 

 

 

Ads small one

সিসিডিবি’র উদ্যোগে শ্যামনগরে সমমনা সংস্থাগুলোর কর্মশালা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন, ২০২৬, ১:২১ পূর্বাহ্ণ
সিসিডিবি’র উদ্যোগে শ্যামনগরে সমমনা সংস্থাগুলোর কর্মশালা

শ্যামনগর প্রতিনিধি: শ্যামনগরে সরকারি ও বেসরকারি সমমনা সংস্থাগুলোর অংশগ্রহণে সিসিআরসি ও আরবিএ বিষয়ক এক কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গত ২৪ জুন দুপুরে উপজেলা পরিষদ হলরুমে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা সিসিডিবি এই কর্মশালার আয়োজন করে।
কর্মশালার লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন সিসিডিবি’র উপজেলা সমন্বয়কারী স্টিভ রায় রূপন। সিসিডিবি’র রেজিলিয়েন্স বিল্ডিং ম্যানেজার সামিউল আলিম পাওয়ার পয়েন্ট প্রেজেন্টেশনের মাধ্যমে মূল বিষয়বস্তু তুলে ধরেন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইউএনও শামসুজ্জামান কনক। এ সময় উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) রাশেদ হোসাইন, মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা সারিদ বিন শফিক, সমাজসেবা কর্মকর্তা দেলোয়ার হোসেন ও স্থানীয় সংবাদকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

জমি বিরোধে গাছ কাটার অভিযোগ, দেবহাটায় আদালতে মামলা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন, ২০২৬, ১:১৮ পূর্বাহ্ণ
জমি বিরোধে গাছ কাটার অভিযোগ, দেবহাটায় আদালতে মামলা

দেবহাটা প্রতিনিধি: দেবহাটা উপজেলার বসন্তপুর গ্রামে জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে গাছপালা কেটে ফেলা এবং জোরপূর্বক জমি দখলের চেষ্টার অভিযোগে আদালতে মামলা দায়ের করা হয়েছে। বসন্তপুর গ্রামের বৈদ্যনাথ দাস বাদী হয়ে শংকর দাস ও দিপঙ্কর দাসসহ ৯ জনের বিরুদ্ধে সাতক্ষীরার বিজ্ঞ এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে এই মামলা (নং-৪০৬/২০২৬) দায়ের করেন।
মামলার এজাহার অনুযায়ী, বসন্তপুর মৌজার ৫৮ শতক পৈতৃক সম্পত্তির একটি রাস্তা নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিনের বিরোধ রয়েছে, যা নিয়ে আগেও একটি মামলা আদালতে বিচারাধীন আছে। বাদীর অভিযোগ, চলমান মামলার তোয়াক্কা না করে প্রতিপক্ষ জোরপূর্বক তাঁর জমিতে প্রবেশ করে বিভিন্ন গাছগাছালি কেটে সাবাড় করেছে এবং জমি দখলের চেষ্টা চালিয়েছে। বিবাদীদের আর্থিক ও সামাজিক প্রভাবের কারণে তাঁর পরিবার এখন চরম নিরাপত্তাহীনতা ও মানবেতর জীবনযাপন করছে উল্লেখ করে তিনি প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

 

উচ্ছেদ অভিযানে নিঃস্ব হওয়ার শঙ্কা: জেলা পরিষদ প্রশাসকের হস্তক্ষেপ চান কুলিয়াবাসী

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন, ২০২৬, ১:১৬ পূর্বাহ্ণ
উচ্ছেদ অভিযানে নিঃস্ব হওয়ার শঙ্কা: জেলা পরিষদ প্রশাসকের হস্তক্ষেপ চান কুলিয়াবাসী

কুলিয়া (দেবহাটা) প্রতিনিধি: সাতক্ষীরা-ভেটখালি মহাসড়ক উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় আলিপুর থেকে কুলিয়া বাজার পর্যন্ত অংশে সরকারি খাস জমিতে উচ্ছেদ অভিযান নিয়ে চরম উদ্বেগ তৈরি হয়েছে স্থানীয় বাসিন্দাদের মাঝে। সড়কের ‘অপ্রয়োজনীয় অংশ’ উচ্ছেদ না করে কেবল মূল কাজের জন্য যতটুকু প্রয়োজন, ততটুকু জমি ব্যবহারের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা। এ বিষয়ে গত ২৪ জুন জেলা পরিষদ প্রশাসকের কাছে একটি লিখিত স্মারকলিপি দিয়েছেন তাঁরা। আগামী ৮ ও ৯ জুলাই সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের পক্ষ থেকে মহাসড়কের দুই পাশের অবৈধ স্থাপনা অপসারণের জন্য বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে স্থানীয় সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ীরা সাতক্ষীরা জেলা পরিষদ প্রশাসক ও সাবেক সংসদ সদস্য হাবিবুল ইসলাম হাবিবের কার্যালয়ে গিয়ে তাঁর হাতে আবেদনপত্রটি তুলে দেন।
এ সময় কুলিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি হামিদুল হক শামীম, সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন বাবলু, কুলিয়া বাজার কমিটির সভাপতি রুহুল আমিন, সাধারণ সম্পাদক আবু হুরাইরা এবং সমাজসেবক মোজাম্মেল হোসেনসহ (মিনু ডাক্তার) এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। জেলা পরিষদ প্রশাসক ভুক্তভোগীদের বক্তব্য গুরুত্বসহকারে শোনেন এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে বাস্তবসম্মত সমাধানের আশ্বাস দেন।
স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়, এলাকার অর্থনৈতিক চালিকাশক্তি হিসেবে পরিচিত সাতক্ষীরা-ভেটখালি মহাসড়কের উন্নয়ন কাজকে স্থানীয়রা স্বাগত জানান। তবে সওজ-এর নকশা অনুযায়ী ঢালাওভাবে উচ্ছেদ করা হলে বহু ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী তাঁদের দোকান, পুঁজি ও জীবিকা হারিয়ে পুরোপুরি নিঃস্ব হয়ে পড়বেন। গ্রামীণ অর্থনীতি, মাছের শেড ও স্থানীয় বাজার ব্যবস্থা এতে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। এ ছাড়া সড়কের পাশে দীর্ঘদিন ধরে বসবাসকারী বহু ভূমিহীন পরিবার মাথা গোঁজার শেষ আশ্রয়টুকু হারানোর ঝুঁকিতে রয়েছে। মানবিক ও সামাজিক দিক বিবেচনা করে সড়ক উন্নয়নে যতটুকু জমি অপরিহার্য, ঠিক ততটুকু রেখে বাকি অংশ উচ্ছেদ না করার জোর দাবি জানানো হয়েছে।