সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৭ আশ্বিন ১৪৩৩
সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৭ আশ্বিন ১৪৩৩

প্রবন্ধ/বাংলা সাহিত্যে মহররম ও কারবালা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ৮ আগস্ট, ২০২৬, ১২:৩৩ পূর্বাহ্ণ
প্রবন্ধ/বাংলা সাহিত্যে মহররম ও কারবালা

নূরুজ্জামান দিশারী
হিজরি সনের সূচনা-মাস মুহাররম। এটি ইসলামের চারটি মহিমান্বিত ও সম্মানিত মাসের অন্যতম। ইতিহাসের দীর্ঘ পরিসরে এ মাস এক গভীর তাৎপর্য ও মর্মস্পর্শী স্মৃতির ভার বহন করে চলেছে। এর বুকে অঙ্কিত হয়েছে সত্য ও মিথ্যার চিরন্তন সংঘাতের এক জাজ্বল্যমান দলিল। ৬১ হিজরি সনের ১০ মহররম (১০ অক্টোবর ৬৮০ খ্রি.) ফোরাতের তীরে কারবালার প্রান্তরে সংঘটিত হয়েছিল এক হৃদয়বিদারক ট্র্যাজেডি। ক্ষমতার মোহে অন্ধ, নিষ্ঠুর ইয়াযীদ বাহিনীর নির্মম আঘাতে শাহাদাত বরণ করেন প্রিয়নবী মুহাম্মদ (সা.)-এর আদরের নাতি, জান্নাতের যুবকদের নেতা ইমাম হোসাইন (রা.)। তাঁর সঙ্গে ছিলেন তাঁর নিষ্ঠাবান ৭২ জন সঙ্গী- যারা অন্যায়ের কাছে মাথা নত না করে, সত্যের পতাকা সমুন্নত রাখতে নিজেদের জীবন উৎসর্গ করেছিলেন। এ বিয়োগান্ত ঘটনায় শোককাতর হয় না এমন মুসলমান নেই বললেই চলে। দল-মত, দেশ-ভাষা, বর্ণ, গোত্র, মাযহাব, তরিকা নির্বিশেষে সকল ঈমানদার মুসলমান- যাদের হৃদয়ে আল্লাহর রাসূল (সা.) ও তাঁর আহলে বাইতের প্রতি বিন্দুমাত্র ভালোবাসা রয়েছে, তার পক্ষে কারবালার এই বিয়োগান্ত দৃশ্য উপেক্ষা করা অসম্ভব।
কারবালার প্রান্তরে সংঘটিত সেই হৃদয়বিদারক ট্র্যাজেডি শুধু ইতিহাসের পৃষ্ঠায় সীমাবদ্ধ থাকেনি; বরং তা রূপ নিয়েছে কবিতায়, কাব্যে, পুঁথিতে, গদ্যে, সংগীতে- এক বিস্তৃত সাহিত্যধারায়। এই ঘটনাই পরবর্তীকালে বিশ্বের বিভিন্ন ভাষার সাহিত্যকে গভীরভাবে প্রভাবিত করে, আর বাংলাও তার ব্যতিক্রম নয়। বাংলায় মহররম বিষয়ক সাহিত্যচর্চার সূচনা মূলত মুসলিম শাসন প্রতিষ্ঠার পর। ১২০৪ খ্রিস্টাব্দে বখতিয়ার খলজির বাংলা বিজয়ের মধ্য দিয়ে যে নতুন সাংস্কৃতিক ধারা সূচিত হয়, তারই একটি গুরুত্বপূর্ণ ফল ছিল বাংলা ভাষার বিকাশ। মুসলিম শাসকরা বাংলা ভাষাকে রাজদরবারে মর্যাদা দেওয়ার ফলে এটি ধর্মীয় ও ঐতিহাসিক কাহিনীর ভাষা হিসেবে প্রতিষ্ঠা পায়। এই প্রেক্ষাপটেই কারবালার ঘটনা বাংলা সাহিত্যে প্রবেশ কওে এবং ধীরে ধীরে একটি স্বতন্ত্র সাহিত্যধারার জন্ম দেয়।
মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যে মহররমের প্রভাব সবচেয়ে সুস্পষ্টভাবে প্রতিফলিত হয়েছে পুঁথি সাহিত্যে। এই পুঁথিগুলোতে কারবালার ঘটনাকে কেন্দ্র করে রচিত হয়েছে জঙ্গনামা ও মর্সিয়া- যেখানে যুদ্ধ, বীরত্ব, শোক ও বিলাপ একত্রে মিশে এক অনন্য রস সৃষ্টি করেছে। ষোলো শতকের কবি শেখ ফয়জুল্লাহ হোসাইন (রা.)-এর স্ত্রী জয়নবের শোক ও বিলাপকে আশ্রয় করে লিখেন ‘জয়নবের চৌতিশা’। এটিকেই ধরা হয় ‘মহররমের’ ওপর রচিত প্রথম মর্সিয়া। কবি ফয়জুল্লাহর পথ ধরে কবি দৌলত উজির বাহরাম খান রচনা করেন ‘জঙ্গনামা’। কবি ‘লায়লী-মজনু’ কাব্যের জন্য খ্যাতি অর্জন করলেও তার প্রথম কাব্যগ্রন্থ হলো ‘ইমাম বিজয়’-যা রচিত হয়েছিল মহররমের বিষাদময় কাহিনীকে উপজীব্য করে।
মধ্যযুগের অন্যতম শক্তিশালী কবি সৈয়দ সুলতানও (আনু. ১৫৫০-১৬৪৮) মহররমের ঘটনাকে কেন্দ্র করে ‘মকতুল হোসেন’ লিখতে শুরু করেছিলেন। বার্ধক্যজনিত কারণে তিনি উক্ত কাজ সম্পন্ন করতে না পারলেও তার প্রিয় শিষ্য মুহাম্মদ খান (১৫৮০-১৬৫০) তা সম্পন্ন করেন। কবি মুহম্মদ খান জঙ্গনামার শ্রেষ্ঠ কবি হিসাবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে সক্ষম হন । তিনি ১১ পর্বে কারবালার যুদ্ধ, ঈমাম হোসাইনের শাহাদত, হোসাইন- পুত্র কাসেমের বীরত্ব, সখিনার বিলাপ প্রভৃতি বিষয়কে উপজীব্য করে রচনা করেন
‘মকতুল হোসেন’ । গ্রন্থটি মহররম মাসে চট্টগ্রাম অঞ্চলে সুর করে অধিক পরিমাণে পঠিত হতো। কাব্যরস সিক্ত গ্রন্থটি কোমল হৃদয় বাঙালি পাঠককে মুগ্ধ করেছিল। আঠারো শতকের আরেক পরিচিত কবি ফকীর গরীবুল্লাহও ‘মহররম সাহিত্য’ রচনা করেছিলেন। ফোরাত তীরের পানি সংকটের করুণ দৃশ্য তুলে ধরতে তিনি লিখেন, ‘ঘিরিয়া রাখিল কুফার পানি বন্ধ করে পানি পানি করে যত সব গেলো মরে।’
আঠারো শতকে কবি হায়াত মাহমুদ ‘জঙ্গনামা’ বা ‘মহরম’ পর্বে হযরত জিব্রাইলের জবানিতে রাসূল (সা.)-এর প্রিয় নাতির মৃত্যু দৃশ্য, বিষের পেয়ালা পানে হাসানের মৃত্যু, নববধূ সখিনার অকাল বৈধব্য, বিলাপ, হোসাইন (রা.)-এর নির্মম শিরচ্ছেদ করুণভাবে উপস্থাপন করেছেন। মূলত কাশেমের লড়াই নিয়ে রচিত তার ‘জঙ্গনামা’ মর্সিয়া সাহিত্যের এক সমৃদ্ধ রচনা। একই ধারায় আব্দুল হাকিম (১৬২০-১৬৯০) ‘কারবালা’, ইয়াকুব আলী (১৮শ শতক) ‘জঙ্গনামা’, জাফর (১৮শ শতক) ‘শহীদ-ই-কারবালা’ ও ‘সখিনার বিলাপ’, কবি হামিদ (১৮শ শতক) ‘সংগ্রাম হুসেন’, শেরবাজ চৌধুরি (১৮শ শতক) ‘কাশিমের লড়াই’ ও ‘ফাতিমার সুরতনামা’, মুহাম্মদ হামিদুল্লাহ খান (১৯শ শতকের প্রথমার্ধ) গুলজার-ই- শাহাদৎ’, ওয়াহিদ আলী (১৯শ শতকের প্রথমার্ধ) ‘বড় জঙ্গনামা’, জনাব আলী (১৯শ শতক) ‘শহিদ-ই-কারবালা’, মুহাম্মদ মুনসি (১৯শ শতক) ‘শহীদ-ই-কারবালা’, মুহাম্মদ ইসহাক উদ্দীন (২০শ শতক) ‘দাস্তান শহিদ-ই-কারবালা’ রচনা করেন। এসব গ্রন্থাবলি মহররম মাসে পঠিত হতো এবং তা পাঠক-শ্রোতাদের মনে গভীর শোকাচ্ছ্বাস ও বেদনার সৃষ্টি করত। মহররমের সাহিত্যিক প্রভাব শুধু লিখিত কাব্যে সীমাবদ্ধ থাকেনি; এটি প্রবলভাবে প্রভাব ফেলে লোকসংস্কৃতিতেও। জারি গান, মর্সিয়া, পাঁচালি- এসবের মাধ্যমে গ্রামবাংলার মানুষ কারবালার শোককে নিজের জীবনের অংশ করে নেয়। জারি গানের সুরে, করুণ বিলাপে, নাটকীয় উপস্থাপনায় কারবালার কাহিনী এমনভাবে পরিবেশিত হতো যে, শ্রোতারা অশ্রুসিক্ত হয়ে পড়ত।
ইংরেজ আমলে বাংলা সাহিত্য প্রবেশ করে আধুনিক ধারায়। এ যুগেও ‘মহররম’কে কেন্দ্র করে মর্সিয়া সাহিত্য রচিত হতে থাকে সমান তালে। আবুল আলী মোহাম্মদ হামিদ আলীর কাসেম বধ কাব্য (১৯০৬) ও জয়নাল উদ্ধার (১৯০৯), মোহাম্মদ উদ্দীন আহমদের মোহররম কাব্য (১৯১২), মোহাম্মদ আব্দুল বারীর কারবালা (১৯১৩), কাজী আমিনুলের জঙ্গে কারবালা (১৯৪৫) ও মোহাম্মদ বরকতুল্লাহর কারবালার যুদ্ধ ও নবী বংশের ইতিবৃত্ত (১৯৫৭) বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। এসব রচনায় কবিদের মুনশিয়ানার পরিচয় মেলে। ঊনবিংশ শতকে এসে মহররম বিষয়ক সাহিত্য নতুন মোড় নেয় । এই সময়ের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সৃষ্টি বিষাদ সিন্ধু, যার রচয়িতা মীর মশাররফ হোসেন (১৮৪৮-১৯১২)। এই গ্রন্থে কারবালার ঘটনাকে গদ্যের শিল্পরীতিতে এমনভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে, যা বাংলা সাহিত্যে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করে। এর ভাষা, বর্ণনা, চরিত্র নির্মাণ- সবই এক ধ্রুপদী সৌন্দর্যে ভরপুর। তবে এই গ্রন্থের ঐতিহাসিক নির্ভুলতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন কায়কোবাদ (১৮৫৭-১৯৫১)। তিনি ‘মহরম শরীফ’ রচনা করে কারবালার ঘটনাকে আরও ইতিহাসসম্মতভাবে উপস্থাপনের চেষ্টা করেন। তাঁর কাব্যে আমরা দেখি ইতিহাসের প্রতি দায়বদ্ধতা ও সাহিত্যিক সংবেদনশীলতার এক সমন্বয়। কারবালাকে উপজীব্য করে অনল প্রবাহের কবি ইসমাইল হোসেন সিরাজী (১৮৮০- ১৯৩১) রচনা করেন ‘মহাশিক্ষা’ কাব্য। মহররমকে কেন্দ্র করে কবিতা লিখেছিলেন কবি শাহাদাৎ হোসেন (১৮৯৩-১৯৫৩) এবং পল্লীকবি জসীমউদ্দীনও (১৯০৩-১৯৭৬)। বিশ শতকে এসে মহররম বিষয়ক সাহিত্য এক নতুন চেতনার জন্ম দেয়, যার প্রধান রূপকার কাজী নজরুল ইসলাম। তিনি মহররমকে ঘিরে কবিতা ও গান রচনা করেছেন প্রচুর। তাঁর বিখ্যাত ‘মহররম’ কবিতা বাংলা সাহিত্যে এক অনন্য সংযোজন। কবিতার শুরুতে কবি লিখেন, নীল সিয়া আসমান, লালে লাল দুনিয়া ‘আম্মা! লা’ল তেরি খুন কিয়া খুনিয়া!” কাঁদে কোন্ ক্রন্দসী কারবালা ফোরাতে সে কাঁদনে আসু আনে সীমারেরও ছোরাতে। তিনি কারবালার ঘটনাকে শুধু শোকের দৃষ্টিতে দেখেননি; বরং এটিকে অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের প্রতীক হিসেবে তুলে ধরেছেন। তিনি জ্বালাময়ী আখরে লিখেন, ফিরে এল আজ সেই মহররম মাহিনা,- ত্যাগ চাই মর্সিয়া ক্রন্দন চাহি না। উষ্ণীষ কোরানের, হাতে তেগ আরবীর দুনিয়াতে নত নয় মুসলিম কারো শির,- তবে শোন ঐ শোন বাজে কোথা দামামা। শমসের হাতে নাও, বাঁধো শিরে আমামা! এভাবে আগুরা ও মুহররমের প্রেক্ষাপটে অনেকেই লিখেছেন। এখনো তা চলমান আছে। বিচ্ছিন্ন ও বিক্ষিপ্তভাবে। বিশ শতকের পঞ্চাশ, ষাট, সত্তর, আশি ও নব্বই দশকের কবিরা অনেকেই আশুরা ও মুহররম নিয়ে কবিতা ও গান লিখেছেন। মর্সিয়া লিখেছেন ও লিখছেন অথবা আওরা, মোহররম, ইমাম হোসাইন, ফোরাত, কারবালা প্রান্তর, কে হোসাইন-কে ইয়াযীদ, ঘৃণিত সীমার ইত্যাদি মুহররম সম্পর্কিত শব্দাবলীকে উপমা-উৎপ্রেক্ষাতে হলেও বিভিন্ন কবিতার বিভিন্ন লাইন প্রসঙ্গে টেনে এনেছেন। কারবালা সংক্রান্ত স্বতন্ত্র কবিতার রচনা অথবা উপমা-উৎপ্রেক্ষায় মুহররমকেন্দ্রিক শব্দাবলিকে টেনে আনা এই সব কবির তালিকায় রয়েছেন ইসলামি রেনেসাঁর কবি ফররুখ আহমদ, সৈয়দ আলী আহসান, আল মাহমুদ, শামসুর রাহমান, আবদুস সাত্তার, মতিউর রহমান মল্লিক, আবদুল হাই শিকদার, গোলাম মোহাম্মদ, আসাদ বিন হাফিজ, আল মুজাহিদী, আসাদ চৌধুরী, মোশাররফ হোসেন খান, শাহাদাত হোসাইন, মাওলানা রুহুল আমিন খান, ফজল শাহাবুদ্দিন, মোহাম্মদ নূরুল হুদা, আ স ম বাবর আলী, মসউদ উশ শহীদ, জহুরুশ শহীদ, আবু নসরত রহমত উল্লাহ, ফারুক মাহমুদ, হোসেন মাহমুদ, মোহসিন হোসাইন, বুলবুল সরওয়ার, সৈয়দ মুসা রেজা, অধ্যাপক সিরাজুল হক, সোলায়মান আহসান, মুকুল চৌধুরী, আবদুল মুকিত চৌধুরী, মহিউদ্দিন আকবর, আমিন আল আসাদ, চৌধুরী গোলাম রব্বানী, আতিক হেলাল, মানসুর মুজাম্মিল, মোহাম্মদ আলী আকবর, এম. মনিরুল হক প্রমুখ।
বাংলা সাহিত্যে মহররম নিয়ে সপ্তদশ শতক থেকে শুরু করে বর্তমানকাল পর্যন্ত যত লেখা রচিত হয়েছে দ্বিতীয় এমন কোনো বিষয় নিয়ে এত লেখা ছাপা হয়েছে বলে আমার জানা নেই। মধ্যযুগের পুঁথি থেকে আধুনিক কবিতা পর্যন্ত এই ধারার বিস্তার প্রমাণ করে, কারবালা কেবল অতীতের ঘটনা নয়; এটি বর্তমানের চেতনা এবং ভবিষ্যতের প্রেরণা। মহররম আমাদের শেখায় সত্যের পক্ষে দাঁড়াতে, অন্যায়ের বিরুদ্ধে লড়তে, এবং মানবতার পথে অটল থাকতে। এই শিক্ষা যতদিন মানবসমাজে প্রাসঙ্গিক থাকবে, ততদিন বাংলা সাহিত্যে মহররমের এই প্রবাহও অবিরাম বহমান থাকবে।

Ads small one

আত্মহত্যায় প্ররোচনা: এমপি গাজী নজরুল ৪ ও স্ত্রী ১ দিনের রিমান্ডে

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৪:০২ অপরাহ্ণ
আত্মহত্যায় প্ররোচনা: এমপি গাজী নজরুল ৪ ও স্ত্রী ১ দিনের রিমান্ডে

অনলাইন ডেস্ক: দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়মকে আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলায় জামায়াতে ইসলামীর বিতর্কিত সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামকে চার দিনের এবং তার প্রথম স্ত্রী মাকছুদা বেগমকে একদিনে রিমান্ডে পেয়েছে পুলিশ।

 

সোমবার বিকালে শুনানি নিয়ে এ আদেশ দেন ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ এহসানুল ইসলাম।

 

প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই রফিকুল ইসলাম এ আদেশ হওয়ার কথা জানিয়েছেন।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা শেরেবাংলা নগর থানার এসআই মো. শামসুজ্জোহা সরকার তাদের সাত দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন। দুপুর ২টা ২২ মিনিটের দিকে একটি মাইক্রোবাসে করে শেরেবাংলা নগর থানা পুলিশ আসামিদের আদালতে নিয়ে আসে। তাদের ঢাকার সিএমএম আদালতের হাজতখানায় রাখা হয়। শুনানিকালে তাদের এজলাসে তোলা হয়।

 

পাঁচ কারণ দেখিয়ে তাদের রিমান্ড আবেদন করা হয়, যার মধ্যে রয়েছে—

 

> মরিয়ম গলায় ফাঁস দিয়ে মারা যাওয়ার সময় আসামিরা বাসায় ছিল। আত্মহত্যায় তাদের প্ররোচনা আছে কি না;

> তারা ভুক্তভোগীকে আত্মহত্যায় প্ররোচনা, উস্কানি, মানসিক চাপ, ভয়-ভীতিপ্রদর্শন বা অন্য কোনোভাবে আত্মহত্যায় ধাবিত করেছেন কি না;

 

> পলাতক আসামি ওবায়দুর রহমানের ভূমিকা সম্পর্কে জিজ্ঞাসাবাদ এবং তার অবস্থান শনাক্তসহ গ্রেপ্তার;

 

> অচেনা আসামি জড়িত আছে কি না তা শনাক্তসহ গ্রেপ্তার;

 

>মামলার মূল রহস্য উদঘাটন।

 

রাষ্ট্রপক্ষে ঢাকা মহানগর পাবলিক প্রসিকিউটর ওমর ফারুক ফারুকী রিমান্ড আবেদনের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরেন। আসামিদের পক্ষে আইনজীবী মাহবুবুর রহমান রিমান্ড আবেদন বাতিল করে জামিনের আর্জি জানান।

 

উভয়পক্ষের শুনানি নিয়ে আদালত রিমান্ড মঞ্জুর করে।

 

রোববার সন্ধ্যায় সংসদ ভবনের উল্টোদিকের ন্যাম ভবনের একটি ফ্ল্যাট থেকে গাজী নজরুলের দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়মের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এরপর রাতে সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম ও তার প্রথম স্ত্রী মাকছুদাকে হেফাজতে নেয় পুলিশ।

 

রাতেই আত্মহত্যার প্ররোচনার অভিযোগে সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম, তার স্ত্রী মাকছুদা ইসলাম ও নিহতের মামা ওবায়দুর রহমানের বিরুদ্ধে মামলা করেন মরিয়মের বাবা এস এম মাসুম বিল্লাহ।

 

এ মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে এদিন দুপুরে শেরেবাংলা নগর থানা থেকে দুই আসামিকে আদালতে নেওয়া হয়।

 

গত ২০ জুলাই রাতে ঢাকার মগবাজারের একটি হোটেলে মরিয়মের সঙ্গে এমপি নজরুলের অন্তরঙ্গ মুহূর্তের ভিডিও ফেইসবুকে ছড়িয়ে পড়ে। এ বিষয়ে প্রথমে জামায়াতের নেতাকর্মীরা এটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে তৈরি বলে দাবি করেন।

 

পরে সংসদ সদস্য নজরুল ইসলাম ফেইসবুকে পোস্টে ওই তরুণীকে দ্বিতীয় স্ত্রী বলে দাবি করেন। সাংগঠনিক তদন্তে তার নৈতিক স্খলন প্রমাণিত হওয়ার কথা জানিয়ে ২২ জুলাই গাজী নজরুলকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেয় জামায়াতে ইসলামী। বিরোধী দল এ সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে পরে স্পিকার ও নির্বাচন কমিশনকে চিঠি দেয়।

সাতক্ষীরায় প্রথম কমিউনিটি পুলিশ কাবাডি চ্যাম্পিয়নশিপের উদ্বোধন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৩:৪৪ অপরাহ্ণ
সাতক্ষীরায় প্রথম কমিউনিটি পুলিশ কাবাডি চ্যাম্পিয়নশিপের উদ্বোধন

সংবাদদাতা: সাতক্ষীরায় প্রথমবারের মতো কমিউনিটি পুলিশ কাবাডি চ্যাম্পিয়নশিপের উদ্বোধন হয়েছে। সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টায় সাতক্ষীরা জেলা স্টেডিয়ামে জেলা পুলিশের আয়োজনে এ প্রতিযোগিতার উদ্বোধন করা হয়।

 

প্রতিযোগিতার উদ্বোধন করেন পুলিশ সুপার আবু সালেহ মো. আশরাফুল। বক্তব্য রাখেন জেলা ক্রীড়া সংস্থার সদস্যসচিব ও জেলা বিএনপির সদস্যসচিব আবু জাহিদ ডাবলু, বাংলাদেশ রেফারিজ কমিটির জেলা ফুটবল রেফারিজ অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক তৈয়ব হাসান শামসুজ্জামান।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মিথুন সরকার, জেলা ক্রীড়া অফিসার মো. মাহবুবুর রহমান, জেলা পুলিশের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা, ক্রীড়া সংগঠক, রেফারি ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

প্রতিযোগিতায় জেলার বিভিন্ন থানার বালক ও বালিকা দল অংশ নেয়। উদ্বোধনী দিনে সাতক্ষীরা সদর থানা ও তালা থানার দলের মধ্যকার খেলার মাধ্যমে প্রতিযোগিতার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়।

মামলায় গ্রেফতার হলেন গাজী নজরুল, এমপি পদ থাকবে কি

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৩:৪৩ অপরাহ্ণ
মামলায় গ্রেফতার হলেন গাজী নজরুল, এমপি পদ থাকবে কি

দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়ম খাতুনের আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলায় সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামকে গ্রেফতার দেখানো হয়েছে। আজ স্পিকারকে জানিয়ে মরিয়মের বাবার করা মামলায় তাকে গ্রেফতার দেখায় পুলিশ।

এরই মধ্যে জামায়াতে ইসলামী থেকে বহিষ্কৃত এই সংসদ সদস্যের পদ থাকবে কি না, তা নিয়েও নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। তবে দল থেকে বহিষ্কার হওয়ার কারণে সংসদ সদস্য পদ স্বয়ংক্রিয়ভাবে শূন্য হবে—এমন সরাসরি বিধান সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদে নেই।

সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, কোনও ব্যক্তি রাজনৈতিক দলের মনোনয়নে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পর ওই দল থেকে পদত্যাগ করলে অথবা সংসদে দলের বিরুদ্ধে ভোট দিলে তার আসন শূন্য হবে। সেখানে দল থেকে বহিষ্কারের কথা উল্লেখ নেই। ফলে দল থেকে বহিষ্কারের করার পরও তার সংসদ সদস্য পদ টিকে আছে।

অন্যদিকে, সংবিধানের ৬৬ অনুচ্ছেদে সংসদ সদস্য হওয়ার যোগ্যতা ও অযোগ্যতার বিষয়গুলো নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে কোনও ব্যক্তি নৈতিক স্খলনজনিত ফৌজদারি অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হয়ে অন্তত দুই বছরের কারাদণ্ডে দণ্ডিত হলে নির্দিষ্ট শর্তে তিনি সংসদ সদস্য হওয়ার অযোগ্য বিবেচিত হবেন।

যদিও শুধু মামলা হওয়া বা গ্রেফতার হওয়া সংসদ সদস্য পদ হারানোর সমার্থক নয়। আদালতে দণ্ডিত হওয়ার মতো বিষয় থাকলে তখন সংবিধানের ৬৬ অনুচ্ছেদের অযোগ্যতার বিধান প্রাসঙ্গিক।

গাজী নজরুলের ক্ষেত্রে এর আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ব্যক্তিগত মুহূর্তের ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর জামায়াতে ইসলামী সাংগঠনিক তদন্ত করে তাকে দল থেকে বহিষ্কার করে। দলটি জানিয়েছিল, তদন্তে তার ‘নৈতিক স্খলন’ প্রমাণিত হয়েছে। পরে তার সংসদ সদস্য পদ বাতিলের দাবি জানিয়ে নির্বাচন কমিশনে চিঠিও দেয় জামায়াত। তবে জাতীয় সংসদ থেকে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে নির্বাচন কমিশনকে কোন চিঠি দেওয়া হয়নি।

অন্যদিকে, দলীয় তদন্তে ‘নৈতিক স্খলন’ প্রমাণিত হওয়ার বিষয়টি নিজে থেকে সংবিধানের ৬৬ অনুচ্ছেদের অধীনে সংসদ সদস্য পদ বাতিলের কারণ হয়ে যায় না। কারণ ওই অনুচ্ছেদে নৈতিক স্খলনজনিত ফৌজদারি অপরাধে আদালতের দণ্ডের কথা বলা হয়েছে।

সংবিধানের ৬৬(৪) অনুযায়ী, কোনও সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পর তিনি ৬৬(২)-এর কোনও অযোগ্যতায় পড়েছেন কি না বা ৭০ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী তার আসন শূন্য হয়েছে কি না—এ নিয়ে বিরোধ দেখা দিলে বিষয়টি নির্বাচন কমিশনে নিষ্পত্তির জন্য পাঠানোর বিধান রয়েছে। কমিশনের সিদ্ধান্তই এ বিষয়ে চূড়ান্ত। তবে জাতীয় সংসদ থেকে বিষয়টি নিষ্পত্তির জন্য নির্বাচন কমিশনের শিশু পাঠানো হয়নি।

ফলে গাজী নজরুলের ক্ষেত্রে এখন দুটি বিষয় আলাদাভাবে সামনে এসেছে। একদিকে দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়মের মৃত্যুর ঘটনায় আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলায় তার বিরুদ্ধে ফৌজদারি আইনি প্রক্রিয়া চলছে; অন্যদিকে জামায়াত থেকে বহিষ্কারের পর তার সংসদ সদস্য পদ বহাল থাকবে কি না, তা নিয়ে সাংবিধানিক ও নির্বাচনি প্রশ্ন রয়েছে।

পুলিশ এরই মধ্যে জানিয়েছে, মামলায় গাজী নজরুলকে গ্রেফতার দেখানোর বিষয়ে প্রয়োজনীয় নিয়ম-কানুন অনুসরণ করা হচ্ছে এবং স্পিকারকে চিঠি দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

এদিকে মামলায় গাজী নজরুল ও তার প্রথম স্ত্রী মাকছুদা বেগমকে আসামি করা হয়েছে। মরিয়মের বাবা মো. মাসুম বিল্লাহ বাদী হয়ে শেরেবাংলা নগর থানায় আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে মামলাটি করেন।