বুধবার, ৮ জুলাই ২০২৬, ২৩ আষাঢ় ১৪৩৩
বুধবার, ৮ জুলাই ২০২৬, ২৩ আষাঢ় ১৪৩৩

প্রসঙ্গ: আন্তর্জাতিক জরুরি কিট দিবস

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ৮ জুলাই, ২০২৬, ১০:১৯ অপরাহ্ণ
প্রসঙ্গ: আন্তর্জাতিক জরুরি কিট দিবস

সাকিবুর রহমান বাবলা

ঘূর্ণিঝড়, বন্যা, ভূমিকম্প বা অগ্নিকা-ের মতো দুর্যোগ মুহূর্তেই জনজীবন বিপর্যস্ত করে দেয়। ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়, দুর্যোগের সময় পূর্বপ্রস্তুতিই হলো সবচেয়ে কার্যকর সুরক্ষা। এই লক্ষ্যকে সামনে রেখে ৯ জুলাই পালিত হয় ‘আন্তর্জাতিক জরুরি কিট দিবস’। দিবসটির লক্ষ্য হলো ব্যক্তি, পরিবার ও সমাজকে দুর্যোগের আগেই প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি গ্রহণে উদ্বুদ্ধ করা।

জরুরি প্রস্তুতির ধারণাটি আধুনিক নয়। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ ও শীতল যুদ্ধের সময় পারমাণবিক হামলার আশঙ্কায় পরিবারগুলো জরুরি সরঞ্জাম প্রস্তুত রাখা শুরু করে, যা আজ আধুনিক দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার অবিচ্ছেদ্য অংশ। এই দিবসের অনুপ্রেরণায় রয়েছেন আমেরিকান রেড ক্রসের প্রতিষ্ঠাতা ক্লারা বার্টন, ১৮২১ সালে জন্মগ্রহণকারী এই অগ্রগামী মার্কিন নার্স মার্কিন গৃহযুদ্ধের সময় আহত ও অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে মানবতার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেন। তাঁর কর্ম ও দর্শন আধুনিক জরুরি সাড়া প্রদান ব্যবস্থার ভিত্তি নির্মাণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।

দুর্যোগ বিশেষজ্ঞদের মতে, বড় ধরনের দুর্যোগের পর প্রথম ৭২ ঘণ্টা সবচেয়ে সংকটপূর্ণ। এ সময় বিদ্যুৎ, বিশুদ্ধ পানি ও যোগাযোগ ব্যবস্থা অচল হয়ে পড়ে। তাই প্রতিটি পরিবারের অন্তত তিন দিন স্বনির্ভর থাকার মতো একটি ‘জরুরি কিট’ থাকা অপরিহার্য। একটি মৌলিক কিটে পর্যাপ্ত পানি (প্রতিজনে প্রতিদিন অন্তত এক গ্যালন), শুকনো খাবার, প্রাথমিক চিকিৎসার সরঞ্জাম, ওষুধ, টর্চ, রেডিও, পাওয়ার ব্যাংক, গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্রের কপি, নগদ অর্থ, বাঁশি ও স্বাস্থ্যবিধি সামগ্রী, অফলাইন ম্যাপ বা দুর্যোগকালীন জরুরি অ্যাপ থাকা প্রয়োজন।

বিশ্বের অনেক দেশে দুর্যোগ প্রস্তুতি এখন সামাজিক অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। জাপানে ছোটবেলা থেকেই শিশুদের ভূমিকম্প মোকাবিলার প্রশিক্ষণ দেওয়া হয় এবং ইউরোপের অনেক দেশ পরিবারভিত্তিক ৭২ ঘণ্টার জরুরি প্রস্তুতির ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেয়। স্কুল, কর্মক্ষেত্র ও কমিউনিটি পর্যায়ে নিয়মিত মহড়া পরিচালনার মাধ্যমে মানুষের মধ্যে আত্মবিশ্বাস ও সক্ষমতা গড়ে তোলা হচ্ছে।

ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে দুর্যোগের প্রস্তুতি ও জীবন রক্ষা একটি পবিত্র দায়িত্ব। ইসলামসহ সব ধর্মই সতর্কতা, দূরদর্শিতা ও পরিকল্পনার শিক্ষা দেয়। আল-কোরআনের আলোকে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার মূল শিক্ষা হলো—আগাম প্রস্তুতি, জীবন রক্ষা, ধৈর্য, মহান আল্লাহর ওপর ভরসা এবং পারস্পরিক সহযোগিতা। অর্থাৎ দুর্যোগের সময় আল্লাহর উপর ভরসা ও দোয়ার মধ্যে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি গ্রহণ, ঝুঁকি হ্রাস এবং বিপদগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানোও ইসলামের অবিচ্ছেদ্য অংশ।

ভৌগোলিক অবস্থান ও অধিক ঘনবসতির কারণে বাংলাদেশ বিশ্বের অন্যতম দুর্যোগপ্রবণ দেশ। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে এখানে ঘূর্ণিঝড়, বন্যা, বজ্রপাত ও অগ্নিকা-ের মতো দুর্যোগের ঝুঁকি ক্রমাগত বাড়ছে। উপকূলীয় ও নদীবিধৌত অঞ্চলের মানুষের জন্য পরিবারভিত্তিক জীবনরক্ষাকারী প্রস্তুতি তাই অত্যন্ত জরুরি।

বাংলাদেশে দুর্যোগ মোকাবিলায় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স, আবহাওয়া অধিদপ্তর, ঘূর্ণিঝড় প্রস্তুতি কর্মসূচি এবং রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটিসহ অনেক স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক সংস্থা নিরলস কাজ করে যাচ্ছে। পাশাপাশি, জরুরি প্রস্তুতি সামগ্রী এবং আধুনিক প্রযুক্তি উদ্ভাবনে বিশ্বব্যাপী গবেষণাপ্রতিষ্ঠানসমূহ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা এখন আর শুধু সরকারি উদ্যোগ নয়; এটি নাগরিক, প্রতিষ্ঠান ও সম্প্রদায়ভিত্তিক অংশীদারত্বের একটি সমন্বিত প্রক্রিয়া।

আমাদের করণীয় অত্যন্ত স্পষ্ট: প্রতিটি পরিবারে জরুরি কিট রাখা, বছরে অন্তত দুইবার তা পরীক্ষা ও নবায়ন করা, শিশু, প্রবীণ ও প্রতিবন্ধীদের বিশেষ চাহিদা বিবেচনায় রাখা এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে প্রশিক্ষণ ও মহড়ার ব্যবস্থা করা। একই সঙ্গে নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্র, বিকল্প পথ এবং জরুরি যোগাযোগব্যবস্থা সম্পর্কে আগাম ধারণা রাখতে হবে। মনে রাখতে হবে, দুর্যোগকে পুরোপুরি ঠেকানো না গেলেও সচেতনতা ও প্রস্তুতির মাধ্যমে ক্ষয়ক্ষতি অনেক কমিয়ে আনা সম্ভব। আজকের সিদ্ধান্ত হোকÑপ্রতিটি ঘরে একটি জরুরি কিট এবং প্রতিটি নাগরিকের মধ্যে দুর্যোগ-সচেতন মানসিকতা গড়ে তোলা।

 

Ads small one

সাতক্ষীরা জেলা বাস শ্রমিক ইউনিয়নের ত্রি-বার্ষিক সাধারণ সভা ১১ জুলাই

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৯ জুলাই, ২০২৬, ১২:১৫ পূর্বাহ্ণ
সাতক্ষীরা জেলা বাস শ্রমিক ইউনিয়নের ত্রি-বার্ষিক সাধারণ সভা ১১ জুলাই

পত্রদূত রিপোর্ট: সাতক্ষীরা জেলা বাস, মিনিবাস, কোচ ও মাইক্রোবাস শ্রমিক ইউনিয়নের (রেজি: নং-৫৫০) ত্রি-বার্ষিক সাধারণ সভা আগামী ১১ জুলাই (শনিবার) কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালে অনুষ্ঠিত হবে। বুধবার (৮ জুলাই) জেলা বাস- মিনিবাস শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি মো. জাকির হোসেন টিটু ও সাধারণ সম্পাদক মো. জাহিদুর রহমান স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের অন্তর্ভুক্ত সাতক্ষীরা জেলা বাস, মিনিবাস, কোচ ও মাইক্রোবাস শ্রমিক ইউনিয়নের পরিচয়পত্রধারী সদস্যদের অংশগ্রহণে আগামী ১১ জুলাই সকাল ১০টায় সাতক্ষীরা কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালে সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত হবে। সভায় ইউনিয়নের সাংগঠনিক কার্যক্রম, ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা এবং সদস্যদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা হবে বলে জানা গেছে। ইউনিয়নের পক্ষ থেকে সকল পরিচয়পত্রধারী সদস্যকে নিজ নিজ পরিচয়পত্র সঙ্গে নিয়ে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সভাস্থলে উপস্থিত থাকার জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ জানানো হয়েছে।

 

সম্পাদকীয়/ প্রসঙ্গ: ভোমরা স্থলবন্দরে রাজস্ব ঘাটতি

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৯ জুলাই, ২০২৬, ১২:০৫ পূর্বাহ্ণ
সম্পাদকীয়/ প্রসঙ্গ: ভোমরা স্থলবন্দরে রাজস্ব ঘাটতি

সদ্য সমাপ্ত ২০২২৫-২৬ অর্থবছরে সাতক্ষীরার ভোমরা স্থলবন্দর কাস্টম হাউসে রাজস্ব আদায়ের যে চিত্র সামনে এসেছে, তা দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক ও বাণিজ্য পরিস্থিতির একটি উদ্বেগজনক প্রতিফলন। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) নির্ধারিত ২,০৬৪ কোটি ৮৯ লাখ টাকার সংশোধিত লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে আদায় হয়েছে মাত্র ১,১১৪ কোটি ১৯ লাখ টাকার কিছু বেশি। ফলে অর্থবছর শেষে ঘাটতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ৯৫০ কোটি ৬৯ লাখ টাকা। বিগত ২০২৪-২৫ অর্থবছরের তুলনায় রাজস্ব আদায় প্রায় অর্ধেকে নেমে আসার এই পরিসংখ্যান কেবল একটি বন্দরের ব্যর্থতা নয়, বরং তা আমাদের আমদানি-রপ্তানি খাতের সামগ্রিক স্থবিরতারই ইঙ্গিত দেয়।
কাস্টমস কর্তৃপক্ষের মতে—বৈশ্বিক মন্দা, দ্বিপক্ষীয় টানাপোড়েন, আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের ধীরগতি এবং শুল্কায়ন কাঠামোর পরিবর্তনের কারণে এই ঘাটতি তৈরি হয়েছে। অন্যদিকে, শুল্ক ফাঁকি রোধে কঠোর নজরদারির কারণে বড় বিপর্যয় এড়ানো গেছে বলে দাবি করা হলেও, বন্দরসংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী ও সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের বক্তব্য ভিন্ন এক বাস্তবতার দিকে আঙুল তোলে। ব্যবসায়ীদের মতে, ডলার সংকট, ব্যাংক ঋণের সুদের হার বৃদ্ধি এবং এলসি (ঋণপত্র) খোলায় তীব্র জটিলতার কারণে ব্যবসায়ীরা পুঁজি হারিয়ে কোণঠাসা হয়ে পড়েছেন। এর সঙ্গে রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা ও অভ্যন্তরীণ নানা সংকট যুক্ত হওয়ায় সামগ্রিক বাণিজ্য সক্ষমতা বড় চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে।
ভোমরা স্থলবন্দরটি ভৌগোলিক কারণে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের সাথে স্বল্প সময়ে ও সাশ্রয়ী খরচে বাণিজ্যের জন্য অত্যন্ত সম্ভাবনাময়। কিন্তু এই বহুমুখী সংকটের বৃত্তে ঘুরপাক খেয়ে বন্দরটির স্বাভাবিক গতি ব্যাহত হচ্ছে। যদি এলসি খোলার জটিলতা দূর করা না যায় এবং ডলার সংকটের টেকসই সমাধান না মেলে, তবে কেবল শুল্কায়ন কাঠামোর পরিবর্তন বা নজরদারি বাড়িয়ে রাজস্বের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন সম্ভব নয়। ব্যবসা সচল না থাকলে রাজস্ব আসবে কোথা থেকেÑএই সহজ সমীকরণটি নীতিনির্ধারকদের গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করতে হবে।
আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য এনবিআরের নির্দেশনা অনুযায়ী নতুন রাজস্ব আহরণ কৌশল নির্ধারণ করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন কাস্টম হাউসের কমিশনার। আমরা আশা করব, এই নতুন কৌশল যেন কেবল করের বোঝা বাড়ানোর মধ্যে সীমাবদ্ধ না থাকে। লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে প্রয়োজন একটি ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ তৈরি করা, এলসি প্রাপ্তি সহজ করা এবং দ্বিপক্ষীয় টানাপোড়েন নিরসনে কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার করা। ভোমরা বন্দরের বাণিজ্য খাতের গতি ফেরাতে এবং রাজস্ব খাতের এই বড় ধাক্কা সামলে উঠতে এখন প্রয়োজন সুনির্দিষ্ট, সমন্বিত ও কার্যকর দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা।

কালিগঞ্জে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে বৃদ্ধের মৃত্যু

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৯ জুলাই, ২০২৬, ১২:০২ পূর্বাহ্ণ
কালিগঞ্জে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে বৃদ্ধের মৃত্যু

বিশেষ প্রতিনিধি: সাতক্ষীরার কালিগঞ্জে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে মোশাররফ হোসেন (৬০) নামে এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে বুধবার (৮জুলাই) সন্ধ্যা ৭টার দিকে উপজেলার নলতা ইউনিয়নের পাইকাড়া গ্রামে। নিহত মোশাররফ হোসেন পাইকাড়া গ্রামের মৃত ফেরাসতুল্লা গাজীর ছেলে।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, মোশাররফ হোসেন একটি পুরাতন টেবিল ফ্যান মিস্ত্রির নিকট থেকে মেরামত করে সন্ধ্যার পরে বাড়িতে নিয়ে মাল্টিপ্লাগে দেয়ার সময় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন। মোশাররফ হোসেনকে দ্রুত উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
কালিগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. শহিদুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। বিস্তারিত জেনে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।