বুধবার, ৮ জুলাই ২০২৬, ২৩ আষাঢ় ১৪৩৩
বুধবার, ৮ জুলাই ২০২৬, ২৩ আষাঢ় ১৪৩৩

সম্পাদকীয়/ প্রসঙ্গ: ভোমরা স্থলবন্দরে রাজস্ব ঘাটতি

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৯ জুলাই, ২০২৬, ১২:০৫ পূর্বাহ্ণ
সম্পাদকীয়/ প্রসঙ্গ: ভোমরা স্থলবন্দরে রাজস্ব ঘাটতি

সদ্য সমাপ্ত ২০২২৫-২৬ অর্থবছরে সাতক্ষীরার ভোমরা স্থলবন্দর কাস্টম হাউসে রাজস্ব আদায়ের যে চিত্র সামনে এসেছে, তা দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক ও বাণিজ্য পরিস্থিতির একটি উদ্বেগজনক প্রতিফলন। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) নির্ধারিত ২,০৬৪ কোটি ৮৯ লাখ টাকার সংশোধিত লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে আদায় হয়েছে মাত্র ১,১১৪ কোটি ১৯ লাখ টাকার কিছু বেশি। ফলে অর্থবছর শেষে ঘাটতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ৯৫০ কোটি ৬৯ লাখ টাকা। বিগত ২০২৪-২৫ অর্থবছরের তুলনায় রাজস্ব আদায় প্রায় অর্ধেকে নেমে আসার এই পরিসংখ্যান কেবল একটি বন্দরের ব্যর্থতা নয়, বরং তা আমাদের আমদানি-রপ্তানি খাতের সামগ্রিক স্থবিরতারই ইঙ্গিত দেয়।
কাস্টমস কর্তৃপক্ষের মতে—বৈশ্বিক মন্দা, দ্বিপক্ষীয় টানাপোড়েন, আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের ধীরগতি এবং শুল্কায়ন কাঠামোর পরিবর্তনের কারণে এই ঘাটতি তৈরি হয়েছে। অন্যদিকে, শুল্ক ফাঁকি রোধে কঠোর নজরদারির কারণে বড় বিপর্যয় এড়ানো গেছে বলে দাবি করা হলেও, বন্দরসংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী ও সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের বক্তব্য ভিন্ন এক বাস্তবতার দিকে আঙুল তোলে। ব্যবসায়ীদের মতে, ডলার সংকট, ব্যাংক ঋণের সুদের হার বৃদ্ধি এবং এলসি (ঋণপত্র) খোলায় তীব্র জটিলতার কারণে ব্যবসায়ীরা পুঁজি হারিয়ে কোণঠাসা হয়ে পড়েছেন। এর সঙ্গে রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা ও অভ্যন্তরীণ নানা সংকট যুক্ত হওয়ায় সামগ্রিক বাণিজ্য সক্ষমতা বড় চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে।
ভোমরা স্থলবন্দরটি ভৌগোলিক কারণে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের সাথে স্বল্প সময়ে ও সাশ্রয়ী খরচে বাণিজ্যের জন্য অত্যন্ত সম্ভাবনাময়। কিন্তু এই বহুমুখী সংকটের বৃত্তে ঘুরপাক খেয়ে বন্দরটির স্বাভাবিক গতি ব্যাহত হচ্ছে। যদি এলসি খোলার জটিলতা দূর করা না যায় এবং ডলার সংকটের টেকসই সমাধান না মেলে, তবে কেবল শুল্কায়ন কাঠামোর পরিবর্তন বা নজরদারি বাড়িয়ে রাজস্বের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন সম্ভব নয়। ব্যবসা সচল না থাকলে রাজস্ব আসবে কোথা থেকেÑএই সহজ সমীকরণটি নীতিনির্ধারকদের গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করতে হবে।
আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য এনবিআরের নির্দেশনা অনুযায়ী নতুন রাজস্ব আহরণ কৌশল নির্ধারণ করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন কাস্টম হাউসের কমিশনার। আমরা আশা করব, এই নতুন কৌশল যেন কেবল করের বোঝা বাড়ানোর মধ্যে সীমাবদ্ধ না থাকে। লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে প্রয়োজন একটি ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ তৈরি করা, এলসি প্রাপ্তি সহজ করা এবং দ্বিপক্ষীয় টানাপোড়েন নিরসনে কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার করা। ভোমরা বন্দরের বাণিজ্য খাতের গতি ফেরাতে এবং রাজস্ব খাতের এই বড় ধাক্কা সামলে উঠতে এখন প্রয়োজন সুনির্দিষ্ট, সমন্বিত ও কার্যকর দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা।

Ads small one

সাতক্ষীরা জেলা বাস শ্রমিক ইউনিয়নের ত্রি-বার্ষিক সাধারণ সভা ১১ জুলাই

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৯ জুলাই, ২০২৬, ১২:১৫ পূর্বাহ্ণ
সাতক্ষীরা জেলা বাস শ্রমিক ইউনিয়নের ত্রি-বার্ষিক সাধারণ সভা ১১ জুলাই

পত্রদূত রিপোর্ট: সাতক্ষীরা জেলা বাস, মিনিবাস, কোচ ও মাইক্রোবাস শ্রমিক ইউনিয়নের (রেজি: নং-৫৫০) ত্রি-বার্ষিক সাধারণ সভা আগামী ১১ জুলাই (শনিবার) কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালে অনুষ্ঠিত হবে। বুধবার (৮ জুলাই) জেলা বাস- মিনিবাস শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি মো. জাকির হোসেন টিটু ও সাধারণ সম্পাদক মো. জাহিদুর রহমান স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের অন্তর্ভুক্ত সাতক্ষীরা জেলা বাস, মিনিবাস, কোচ ও মাইক্রোবাস শ্রমিক ইউনিয়নের পরিচয়পত্রধারী সদস্যদের অংশগ্রহণে আগামী ১১ জুলাই সকাল ১০টায় সাতক্ষীরা কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালে সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত হবে। সভায় ইউনিয়নের সাংগঠনিক কার্যক্রম, ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা এবং সদস্যদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা হবে বলে জানা গেছে। ইউনিয়নের পক্ষ থেকে সকল পরিচয়পত্রধারী সদস্যকে নিজ নিজ পরিচয়পত্র সঙ্গে নিয়ে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সভাস্থলে উপস্থিত থাকার জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ জানানো হয়েছে।

 

কালিগঞ্জে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে বৃদ্ধের মৃত্যু

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৯ জুলাই, ২০২৬, ১২:০২ পূর্বাহ্ণ
কালিগঞ্জে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে বৃদ্ধের মৃত্যু

বিশেষ প্রতিনিধি: সাতক্ষীরার কালিগঞ্জে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে মোশাররফ হোসেন (৬০) নামে এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে বুধবার (৮জুলাই) সন্ধ্যা ৭টার দিকে উপজেলার নলতা ইউনিয়নের পাইকাড়া গ্রামে। নিহত মোশাররফ হোসেন পাইকাড়া গ্রামের মৃত ফেরাসতুল্লা গাজীর ছেলে।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, মোশাররফ হোসেন একটি পুরাতন টেবিল ফ্যান মিস্ত্রির নিকট থেকে মেরামত করে সন্ধ্যার পরে বাড়িতে নিয়ে মাল্টিপ্লাগে দেয়ার সময় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন। মোশাররফ হোসেনকে দ্রুত উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
কালিগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. শহিদুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। বিস্তারিত জেনে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

বায়নাপত্রের শর্ত ভেঙে জমি দখলের অভিযোগ, প্রশাসনের হস্তক্ষেপ দাবি

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ৮ জুলাই, ২০২৬, ১১:৫৯ অপরাহ্ণ
বায়নাপত্রের শর্ত ভেঙে জমি দখলের অভিযোগ, প্রশাসনের হস্তক্ষেপ দাবি

নিজস্ব প্রতিনিধি: জমির পুরো মূল্য পরিশোধ কিংবা রেজিস্ট্রি না করেই চুক্তিপত্রের (বায়নাপত্র) সুযোগ নিয়ে জমি দখলের অভিযোগ উঠেছে। মাত্র ১০০ টাকার নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে সই করে, জমির মালিকের অনুপস্থিতিতে জোরপূর্বক ঘরবাড়ি নির্মাণ শুরু করা হয়েছে বলে জানা গেছে। সাতক্ষীরা শহরের সুলতানপুর এলাকার বাসিন্দা ও সুলতান বড় বাজারের ব্যবসায়ী মো. জবেদ আলী এই অনিয়মের বিরুদ্ধে প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ চেয়েছেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, সদর উপজেলার রামচন্দ্রপুর মৌজায় জবেদ আলীর ১৪৭ শতক জমি রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে তিনি এই জমি প্লট আকারে বিক্রি করছেন। এই জমি থেকে একটি প্লট কেনার জন্য পুরাতন সাতক্ষীরা এলাকার আব্দুল শাহীন চুক্তি করেছিলেন। ৯ লাখ টাকা মূল্যের ওই প্লটের বিপরীতে ৩ লাখ টাকা অগ্রিম দিয়ে ১০০ টাকার নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে একটি অনিবন্ধিত বায়নাপত্র করা হয়। শর্ত ছিল, গত ১ ডিসেম্বর ২০২৫ বাকি ৬ লাখ টাকা পরিশোধ করে সাফ-কবালা দলিল রেজিস্ট্রি করে দেওয়া হবে। কিন্তু নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলেও আব্দুল শাহীন বাকি টাকা দেননি। কোনো প্রকার রেজিস্ট্রি ছাড়াই তিনি ওই জমিতে ঘর নির্মাণ শুরু করেছেন।
অনুরূপভাবে প্রতারণার শিকার হয়েছেন বলে জানান জবেদ আলী। একই মৌজার আরেকটি ৩ শতকের প্লট কেনার জন্য পুরাতন সাতক্ষীরার ভাঙাড়িপাড়া এলাকার আব্দুল হক চুক্তি করেছিলেন। ১০ লাখ টাকা মূল্যের জমির বিপরীতে গত বছরের ১২ মে ১০০ টাকার স্ট্যাম্পে ৬ লাখ টাকা অগ্রিম দিয়ে বায়নাপত্র করেন তিনি। শর্ত অনুযায়ী, গত বছরের ১১ নভেম্বরের মধ্যে বাকি ৪ লাখ টাকা পরিশোধ করে জমি রেজিস্ট্রি করে নেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু আব্দুল হকও বাকি টাকা না দিয়ে ক্ষমতার দাপটে জমিতে নির্মাণকাজ শুরু করেছেন।
ভুক্তভোগী জবেদ আলী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ব্যবসায়িক প্রয়োজনে তিনি কিছুদিন ঢাকায় ছিলেন। এই অনুপস্থিতির সুযোগ নিয়ে কোনো বৈধ নকশা বা অনুমোদন ছাড়াই জমিতে অবৈধভাবে নির্মাণকাজ শুরু করা হয়েছে। ঢাকা থেকে ফিরে এর প্রতিবাদ জানালে এবং কাজে বাধা দিতে গেলে উল্টো নানা রকম ভয়ভীতি ও হুমকি দেওয়া হচ্ছে। বর্তমানে তিনি ও তাঁর পরিবার চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।
জবেদ আলী আরও উল্লেখ করেন, ১০০ টাকার সাধারণ নন-জুডিশিয়াল বায়নাপত্র কোনোভাবেই জমির মালিকানা বা স্থাপনা নির্মাণের অধিকার দেয় না। আইনগত ভিত্তি ছাড়া এবং শর্ত লঙ্ঘন করে এই জমি দখল সম্পূর্ণ অবৈধ। ভূমিদস্যুতা রোধ ও নিজের সম্পত্তির অধিকার ফিরে পেতে তিনি সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসন ও পুলিশ সুপারসহ সংশ্লিষ্ট মহলের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।