মঙ্গলবার, ৯ জুন ২০২৬, ২৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
মঙ্গলবার, ৯ জুন ২০২৬, ২৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

প্রসঙ্গ: কেশবপুরে শিক্ষকসংকটে প্রাথমিক শিক্ষা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল, ২০২৬, ১০:৩৬ অপরাহ্ণ
প্রসঙ্গ: কেশবপুরে শিক্ষকসংকটে প্রাথমিক শিক্ষা

একটি জাতির ভবিষ্যতের ভিত্তি রচিত হয় প্রাথমিক শিক্ষার মাধ্যমে। কিন্তু যশোরের কেশবপুর উপজেলার ১৫৮টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বর্তমান চিত্র আমাদের চরম হতাশ ও উদ্বিগ্ন করে। সেখানে প্রধান শিক্ষকসহ ৮৬টি শিক্ষকের পদ শূন্য থাকা কেবল প্রশাসনিক জটিলতা নয়, বরং ওই অঞ্চলের হাজার হাজার শিশুর শিক্ষার অধিকার হরণের শামিল।
উপজেলা শিক্ষা অফিসের তথ্য অনুযায়ী, ৩৪টি বিদ্যালয়ে কোনো স্থায়ী প্রধান শিক্ষক নেই। একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মূল চালিকাশক্তি হলেন তার প্রধান শিক্ষক। যখন জ্যেষ্ঠ সহকারী শিক্ষকদের ভারপ্রাপ্ত হিসেবে দাপ্তরিক কাজে ব্যস্ত থাকতে হয়, তখন তাঁর মূল কাজ অর্থাৎ পাঠদান ও তদারকিÑউভয়ই মুখ থুবড়ে পড়ে। এর ওপর আরও ৫২ জন সহকারী শিক্ষকের পদ শূন্য থাকায় অনেক বিদ্যালয়ে একজন শিক্ষককে একাধিক শ্রেণিতে পাঠদান করতে হচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে শিক্ষার মান বজায় রাখা কি আদৌ সম্ভব?
গ্রামাঞ্চলের প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলো মূলত সাধারণ ও নি¤œবিত্ত পরিবারের সন্তানদের একমাত্র ভরসা। সেখানে বছরের পর বছর শিক্ষকসংকট চলার অর্থ হলো গ্রাম ও শহরের শিক্ষার্থীদের মধ্যে বৈষম্যকে আরও উসকে দেওয়া। প্রধান শিক্ষকবিহীন স্কুলগুলোতে প্রশাসনিক স্থবিরতা যেমন বাড়ছে, তেমনি পাঠদানে ব্যাঘাত ঘটায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে ঝরে পড়ার আশঙ্কাও তৈরি হচ্ছে। অভিভাবকদের দুশ্চিন্তা কেবল অমূলক নয়, বরং এটি আমাদের রাষ্ট্রীয় অবহেলারই প্রতিফলন।
উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা জানিয়েছেন, অবসরজনিত কারণে পদগুলো শূন্য হয়েছে এবং তালিকা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে। কিন্তু প্রশ্ন হলো, শিক্ষক অবসর নেবেন—এটি একটি নিয়মিত প্রক্রিয়া। কেন আগে থেকেই বিকল্প জনবল বা নিয়োগের ব্যবস্থা রাখা হলো না? কেন বছরের পর বছর শিশুদের শিক্ষার ভবিষ্যৎকে অনিশ্চয়তার মধ্যে রাখা হবে? আমলাতান্ত্রিক জটিলতার দোহাই দিয়ে শিক্ষার মতো মৌলিক খাতকে অবহেলা করার সুযোগ নেই।
আমরা মনে করি, কেবল লিখিত চিঠি পাঠিয়ে দায়িত্ব শেষ করলে চলবে না। কেশবপুরের শিশুদের মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করতে জরুরি ভিত্তিতে এসব শূন্য পদে শিক্ষক নিয়োগ ও পদায়ন করতে হবে। বিশেষ করে যে ৩৪টি স্কুলে অভিভাবকহীনতা (প্রধান শিক্ষক নেই) চলছে, সেখানে দ্রুত নিয়োগ দেওয়া প্রয়োজন। মনে রাখতে হবে, প্রাথমিক শিক্ষায় এই বিনিয়োগহীনতা বা গাফিলতি আমাদের পুরো ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে পঙ্গু করে দিতে পারে। সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগ অবিলম্বে এই সংকটের সমাধানে কার্যকর পদক্ষেপ নেবেÑএটাই প্রত্যাশা।

Ads small one

সাতক্ষীরায় মব সৃষ্টি করে শিক্ষককে পিটিয়ে জখম, ক্লাসে শ্লীলতাহানির প্রমান মেলেনি

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৯ জুন, ২০২৬, ৫:৫২ অপরাহ্ণ
সাতক্ষীরায় মব সৃষ্টি করে শিক্ষককে পিটিয়ে জখম, ক্লাসে শ্লীলতাহানির প্রমান মেলেনি

পত্রদূত রিপোর্ট: সপ্তম শ্রেণীতে অংকের ক্লাস চলাকালে এক ছাত্রীর শ্লীলতাহানির অভিযোগে এক শিক্ষককে শ্রেণীকক্ষে চপেটাঘাত ও দ্বিতীয় দফায় শিক্ষকদের কক্ষে লোহার রড দিয়ে পিটিয়ে জখম করা হয়েছে। মব সৃষ্টিকারিদের হাত থেকে জীবন বাঁচাতে থানায় টেলিফোন করে ওই শিক্ষককে পুলিশে সোপর্দ করা হয়েছে। সোমবার সকাল ১০টা থেকে দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ৩৮ নং ইন্দিরা মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে।

সরেজমিনে মঙ্গলবার সকালে সদর উপজেলার ইন্দিরা গ্রামে গেলে ইন্দিরা মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণীর এক ছাত্রীর অভিভাবক এক চা বিক্রেতা জানান, ঈদের ছুটির পর গত রবিবার ইন্দিরা মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষা কার্যক্রম শুরু হয়। দুপুর ১২টার দিকে সপ্তম শ্রেণীর অংকের ক্লাস নিচ্ছিলেন শিক্ষক মোস্তাফিজুর রহমান। একটি অংক বোর্ডে করতে দেন তিনি। অংক করে শিক্ষকের টেবিলে জমা দেয় শিক্ষার্থীরা।

 

তার মেয়ের খাতা তিনবার বলার পর বেঞ্চে এসে ফেরৎ দেওয়ার সময় ওই শিক্ষক তার মেয়ের শ্লীলতাহানি করে। বিষয়টি সোমবার বিকেল সোয়া তিনটায় বাড়িতে এসে তার মাকে অবহিত করলে তিনি জানতে পারেন। বিষয়টি তিনি স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের অবহিত করেন। সোমবার সকাল পৌনে নয়টার দিকে বাড়ির পাশের রাস্তা দিয়ে যাওয়ার সময় বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আজগার আলী সরদারকে অবহিত করেন। কিন্তু প্রধান শিক্ষক বিষয়টি নিয়ে কোন গুরুত্ব না দেওয়ায় স্থানীয়দের সাথে নিয়ে সকাল ১০টার দিকে তিনি ওই বিদ্যালয়ে যান তিনি।

 

সপ্তম শ্রেণীর ক্লাস নেওয়ার সময় ওই শিক্ষককে তিনি কয়েকটি চড় মারেন। পরে স্থানীয়রা শিক্ষক রুমে ঢুকে ওই শিক্ষক মোস্তাফিজুর রহমানকে ভারী জিনিস দিয়ে মাথা ফাটিয়ে দেয়। পরে স্থানীয় লোকজন ও শিক্ষকম-লী ওই শিক্ষক মোস্তাফিজুর রহমানকে পুলিশের হাতে তুলে দেয়। তবে বিষয়টি স্থানীয় আগরদাঁড়ি ইউপি চেয়ারম্যান কবীর হোসেন মিলন দায়িত্ব নেওয়ায় তিনি থানায় কোন লিখিত অভিযোগ করেননি। তবে ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে গত বছর পঞ্চম শ্রেণীর এক ছাত্রীকে শ্লীলতাহানি করার পর ওই শিক্ষার্থীর পিতা চলতি বছরে তার মেয়েকে পাশর্^বর্তী আবাদেরহাট বালিকা বিদ্যালয়ে ভর্তি করিয়েছেন বলে অভিযোগ করেন তিনি। তার ছোট মেয়ে ওই বিদ্যালয়ের দ্বিতীয় শ্রেণীর ছাত্রী। তার কোন সমস্যা না হলে বড় মেয়েকে আজ বা কালের মধ্যে অন্যত্র ভর্তি করাবেন। তবে তার মেয়ের সাথে কথা বলতে চাইলে আপত্তি করেন তিনি।

এদিকে মঙ্গলবার সপ্তম শ্রেণীর তামিম হোসেনসহ তিনজন শিক্ষার্থীর সঙ্গে কথা বলার একপর্যায়ে তারা এ প্রতিবেদককে জানায়, রবিবার ক্লাসে তারা তাদের সহপাঠীর সাথে মোস্তাফিজ স্যারের কোন খারাপ আচরণ করতে দেখেননি। তবে সোমবার তাদের এক সহপাঠীর বাবা ক্লাস চলাকালিন সময়ে স্যারকে মারপিট করেছে।
আগরদাঁড়ি ইউপি চেয়ারম্যান কবীর হোসেন মিলন জানান, বিষয়টি দূঃখজনক। শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের সম্মান বিদ্যালয়ের পরিবেশ ভাল রাখার জন্য সকলের সঙ্গে পরামর্শ করেই কোন ধরণের মামলা করা হচ্ছে না।
মুঠোফোনে মঙ্গলবার শিক্ষক মোস্তাফিজুর রহমানের সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করলেও তাকে পাওয়া যায়নি। তবে তার স্ত্রী কাশেমপুরের এক মাদ্রাসা শিক্ষক তার স্বামীর বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ অস্বীকার করে প্রশাসনের কাছে ন্যয় বিচার প্রার্থনা করেছেন।

ইন্দিরা মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আজগার আলী সরদার বলেন, প্রাথমিক বিভাগে প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেণী পর্যন্ত তার বিদ্যালয়ে ৩৯০ জন ও ষষ্ঠ থেকে ৮ম শ্রেণী পর্যন্ত ৫০ জন শিক্ষার্থ রয়েছে। সপ্তম শ্রেণীর শিক্ষার্থীর সংখ্যা- ২২ জন। কোন শিক্ষক বা শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে কোন অনিয়ম বা অভিযোগ থাকলে তাকে অথবা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা বা জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে অভিযোগ দেওয়ার নিয়ম রয়েছে।

 

রবিবারের ঘটনা সম্পর্কে সোমবার সকালে তাকে অবহিত করা হলে তিনি ওই শিক্ষার্থীর বাবাকে বিদ্যালয়ে আসতে বলেন। সকাল ১০টার দিকে ওই শিক্ষার্থীর বাবাসহ শতাধিক লোক বিদ্যালয়ে ঢুকে পড়লে তিনি তার অফিস কক্ষের বারান্দার দরজা লাগিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করে ব্যর্থ হন। একপর্যায়ে ওই শিক্ষার্থীর বাবা শ্রেণীকক্ষে যেয়ে শিক্ষক মোস্তাফিজুর রহমানকে কয়েকটি চড় মারেন। পরে ওই শিক্ষক শিক্ষকরুমে এলে বহিরাগতদের মধ্যে একজন লোহার রড দিয়ে তার মাথা ফাটিয়ে দেয়।

 

বিষয়টি স্থানীয় জনপ্রতিনিধিসহ বিদ্যালয় পরিচালনা পরিষদের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি সদর সহকারি প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সোহাগ হোসেন, সদর প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোঃ আসাদুজ্জামান ও থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোঃ আসাদুজ্জামানকে অবহিত করা হয়। মব থেকে জীবন বাঁচাতে দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে শিক্ষক মোস্তাফিজুর রহমানকে পুলিশে সোপর্দ করা হয়। তবে এ সময় ওই বিদ্যালয়ের ১৭জন শিক্ষককের চোখে ও মুখে আতঙ্কের ছাপ দেখা যায়। ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকসহ কয়েকজন শিক্ষক জানান, তারা তাদের সহকর্মীকে নিরাপত্তা দিতে পারেননি। তবে মব থেকে জীবন বাঁচাতে তাকে পুলিশে দিয়েছেন। হতাশার সুরে তারা বলেন, সূযোগ পেলে দ্রুত এ বিদ্যালয় থেকে অন্যত্র বদলী হয়ে যাবেন।

ওই শিক্ষার্থীর চাচা ইন্দিরা মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নৈশপ্রহরী জানান, ওই শিক্ষার্থী তার আপর ভাইঝি। অথচ তাকেও ঘটনার দিনে বিষয়টি অবহিত করেনি তার ভাই।

তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন শিক্ষক ও স্থানীয় গ্রামবাসি জানান, বর্তমানে শিক্ষকদের বিরুদ্ধে ছাত্রীদের যৌন হয়রানির ঘটনা ক্রমশঃ বাড়ছে। তবে দিনদুপুরে পাঠদান চলাকালে শ্লীলতাহানির অভিযোগ মানতে কষ্ট হয়। স্থানীয়ভাবে যে পরিমান বিকল্প শিক্ষা প্রতিষ্ঠান তৈরি হচ্ছে তাতে প্রাথমিক ও মাধ্যমিকে শিক্ষার্থী কমে যাচ্ছে। দুই বছর আগে এ বিদ্যালয়ে ৫২০ জন শিক্ষার্থ থাকলেও এখন কমে দাঁড়িয়েছে ৪৪০ এ। বিদ্যালয়ে শিক্ষকদের হাতে শিক্ষার্থীরা নিরাপদ নয় এমন ঘটনা ঘটাতে পারলে পরিকল্পনা অনুযায়ি অনেক অভিভাবক ওই বিদ্যালয় থেকে সন্তানদের নিয়ে নিকটস্ত মাদ্রসায় বা বিদ্যালয়ে ভর্তি করাবে। যাহা ওই বিদ্যালয়ের জন্য একটা অশনি সংকেত হিসেবে দেখা দেবে।

সাতক্ষীরা সদর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোঃ আসাদুজ্জামান জানান, কোন শিক্ষকের বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলে তা তাকেসহ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে লিখিতভাবে জানানো পারতেন ওই শিক্ষার্থীর অভিভাবক। কিন্তু তা না করে মব সৃষ্টির মাধ্যমে শ্রেণীকক্ষে বা শিক্ষকরুমে নির্যাতন ন্যয় বচার পরিপন্থি। এতে শিক্ষার পরিবেশ নষ্ট হবে। শিক্ষক মোস্তাফিজুরকে তিন দিনের ছুটি নিয়ে চিকিৎসা নিতে বলা হয়েছে। তাকে দ্রুত অন্যত্র বদলী করিয়ে ঘটনার তদন্ত করা হবে। তদন্ত প্রতিবেদন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে পাঠানো হবে। তাদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ি ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সাতক্ষীরা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোঃ মাসদুর রহমান বলেন, লিখিত অভিযোগ না পাওয়ায় ওই শিক্ষককে সোমবার সন্ধ্যায় সদর উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তার জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয়।

 

দেবহাটায় পুলিশের অভিযানে চোরাই গরু উদ্ধার, আটক ১, থানায় মামলা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৯ জুন, ২০২৬, ৫:৪৫ অপরাহ্ণ
দেবহাটায় পুলিশের অভিযানে চোরাই গরু উদ্ধার, আটক ১, থানায় মামলা

Oplus_131072

দেবহাটা প্রতিনিধি: সাতক্ষীরার দেবহাটা উপজেলায় পুলিশের অভিযানে চোরাই একটি গরু উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং অপর এক আসামিকে ধরতে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

জানা গেছে, উপজেলার দেবীশহর গ্রামের মৃত মোহর আলীর ছেলে আব্দুর সাত্তার গাজী (৬৫) গত ৫ জুন সকাল ৭টার দিকে দেবীশহর মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের পশ্চিম পাশে ময়নাতলা বিলের মাঠে তার তিনটি গরু ঘাস খাওয়ানোর জন্য বেঁধে রেখে বাড়িতে যান। পরে সকাল ১০টার দিকে মাঠে গিয়ে তিনি দেখতে পান, তিনটির মধ্যে দুটি গরু বিলে বাঁধা থাকলেও একটি কালো রঙের এঁড়ে গরু নিখোঁজ রয়েছে।

এ ঘটনায় আব্দুর সাত্তার গাজী বাদী হয়ে দেবহাটা থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ অভিযান চালিয়ে রামনাথপুর (মাঝিপাড়া) গ্রামের রবিন ঘোষের ছেলে অনিল ঘোষ (২৪)-এর বাড়ি থেকে চোরাই গরুটি উদ্ধার করে। এ সময় অপর অভিযুক্ত জগন্নাথপুর গ্রামের রাশেদ সরদারের ছেলে মাসুদ সরদার (৪০) পালিয়ে যায়।

পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে অনিল ঘোষকে গ্রেপ্তার করে এবং উদ্ধারকৃত গরুটি মালিকের কাছে ফেরত দেয়।
দেবহাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল আলিম জানান, অভিযোগ পাওয়ার পরপরই পুলিশ দ্রুত অভিযান পরিচালনা করে চোরাই গরুটি উদ্ধার এবং একজনকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়েছে। পলাতক অপর আসামিকে গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

কলারোয়ায় উপকূলীয় দুর্যোগ ও ভূমিরূপ মানচিত্রায়নে জিএসবি

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৯ জুন, ২০২৬, ৫:০৭ অপরাহ্ণ
কলারোয়ায় উপকূলীয় দুর্যোগ ও ভূমিরূপ মানচিত্রায়নে জিএসবি

সংবাদদাতা: সাতক্ষীরার কলারোয়ায় ভূমিরূপের বৈশিষ্ট্য বিশ্লেষণ এবং আনুষঙ্গিক উপকূলবর্তী প্রাকৃতিক দুর্যোগ নিরূপণের লক্ষ্যে বিশেষ উপকূলীয় ভূতাত্ত্বিক ও ভূ-প্রাকৃতিক মানচিত্রায়ন কর্মসূচি শুরু করেছে বাংলাদেশ ভূতাত্ত্বিক জরিপ অধিদপ্তর (জিএসবি)।

 

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ এই গুরুত্বপূর্ণ সরকারি সংস্থার একটি উচ্চপর্যায়ের বিশেষজ্ঞ দল বর্তমানে কলারোয়া এলাকায় মাঠপর্যায়ে তথ্য ও উপাত্ত সংগ্রহের কাজ পরিচালনা করছেন। সংশ্লিষ্ট সরকারি সূত্র জানায়, ২০২৩-২০২৪ অর্থবছরের বার্ষিক বহিরঙ্গন কর্মসূচির আওতায় “সাতক্ষীরা জেলার অন্তর্গত কলারোয়া উপজেলার ভূমিরূপের বৈশিষ্ট্য এবং আনুষঙ্গিক উপকূলবর্তী দুর্যোগ নির্ধারণের লক্ষ্যে উপকূলীয় ভূতাত্ত্বিক ও ভূ-প্রাকৃতিক মানচিত্রায়ন” শীর্ষক এই প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

 

গত ১৩ মে ২০২৬ থেকে শুরু হওয়া এই বিশেষ মাঠ জরিপ কার্যক্রম আগামী ১১ জুন ২০২৬ পর্যন্ত অথবা প্রকৃত যাত্রার তারিখ হতে পরবর্তী ৩০ দিনব্যাপী চলমান থাকবে। বিজ্ঞানসম্মত এই ভূতাত্ত্বিক জরিপ ও গবেষণার মূল লক্ষ্য হলো কলারোয়া অঞ্চলের মাটির গঠন, ভূ-প্রকৃতি এবং উপকূলীয় প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকিগুলো নিরূপণ করা। এর মাধ্যমে ভবিষ্যতে এই অঞ্চলের টেকসই অবকাঠামো নির্মাণ, পরিবেশ সুরক্ষা, মাটির টেকসই ব্যবহার এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলায় গুরুত্বপূর্ণ বৈজ্ঞানিক ডাটা বা তথ্য-উপাত্ত পাওয়া যাবে, যা দীর্ঘমেয়াদী সরকারি উন্নয়ন পরিকল্পনায় বড় ভূমিকা রাখবে।

 

অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, মাঠপর্যায়ে নিয়োজিত জিএসবির বিশেষজ্ঞ দলে নেতৃত্ব দিচ্ছেন এবং সরাসরি যুক্ত আছেন তিন বিশিষ্ট বিজ্ঞানী ও কর্মকর্তা। তারা হলেন ড. মো: বজলুর রশীদ, উপ-পরিচালক (ভূতত্ত্ব), মো: রুবেল শেখ, উপ-পরিচালক (ভূতত্ত্ব), অনিত আহমেদ, সহকারী পরিচালক (ভূতত্ত্ব)।

 

বিশেষজ্ঞ এই দলটির মাঠপর্যায়ে অবস্থানকালীন সময়ে সার্বিক প্রশাসনিক সহযোগিতা, তথ্য-উপাত্ত সরবরাহ, আবাসন ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য জিএসবির পরিচালক (ভূতত্ত্ব) মোহাম্মদ আশরাফুল কামাল স্বাক্ষরিত এক পত্রে সাতক্ষীরার জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার এবং কলারোয়ার উপজেলা প্রশাসনকে নির্দেশনাক্রমে অনুরোধ জানানো হয়েছে।

 

কলারোয়া উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় মাটির প্রকৃতি পরীক্ষা ও স্থানীয় ভৌগোলিক পরিবেশের ওপর তথ্য সংগ্রহের কাজ বর্তমানে দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলছে। পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তনের এই যুগে এই ধরণের বৈজ্ঞানিক উদ্যোগকে কলারোয়ার সচেতন মহল অত্যন্ত সময়োপযোগী ও প্রশংসনীয় বলে সাধুবাদ জানিয়েছেন।