বন্ধকী সম্পত্তি পানির দরে নিলামের অভিযোগ, পুনঃনিলামের দাবি
নিজস্ব প্রতিনিধি: সাতক্ষীরায় বন্ধকী সম্পত্তি নিলাম প্রক্রিয়ায় অনিয়ম, দরদাতাদের ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং বাজারমূল্যের চেয়ে অস্বাভাবিক কম দামে বিক্রির চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংকের (এসআইবিএল) পাটকেলঘাটা শাখার একটি নিলাম প্রক্রিয়া নিয়ে ভুক্তভোগী গ্রাহক শেখ শহিদুল ইসলাম পুনঃনিলামের দাবি জানিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত আবেদন করেছেন। ভুক্তভোগীর অভিযোগ, তাঁর একমাত্র বসতভিটাটি পরিকল্পিতভাবে প্রকৃত মূল্যের চার ভাগের এক ভাগ দামে এক ব্যক্তির হাতে তুলে দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে।
লিখিত অভিযোগ ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, পাটকেলঘাটা থানার রাজেন্দ্রপুর মৌজার ১৫৭ দাগের ১৬ শতাংশ জমি ও তার ওপর নির্মিত তিনতলা ভবনটি সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংকে বন্ধক ছিল। ব্যাংকের পাওনা আদায়ের লক্ষে গত ১ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে দুটি পত্রিকায় নিলাম বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। ৪ মে ছিল দরপত্র জমা দেওয়ার শেষ দিন।
শহিদুল ইসলামের দাবি, নিলামের দিন মো. মনিরুজ্জামান নামে এক প্রভাবশালী দরদাতা পরিকল্পিতভাবে অন্য আগ্রহী ব্যক্তিদের দরপত্র জমা দিতে বাধা দেন এবং ভয়ভীতি দেখিয়ে নিরুৎসাহিত করেন। ফলে অন্তত দুই-তিনজন আগ্রহ দেখালেও শেষ পর্যন্ত কেউ দরপত্র জমা দিতে পারেননি। একমাত্র দরদাতা হিসেবে মো. মনিরুজ্জামান ১ কোটি ৯০ লাখ টাকা দর প্রস্তাব করেন।
শেখ শহিদুল ইসলাম জানান, সাড়ে ৬ শতাংশ জায়গার ওপর তাঁর নিজস্ব অর্থায়নে নির্মিত একটি সুদৃশ্য তিনতলা ভবন রয়েছে। বর্তমান বাজারমূল্যে জমি ও ভবনের দাম অন্তত ৬ থেকে ৭ কোটি টাকা। অথচ মাত্র ১ কোটি ৯০ লাখ টাকায় এটি হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে।
ব্যাংকের পাওনা ১ কোটি ৪০ লাখ ৫৭ হাজার ৪১ টাকা পরিশোধের জন্য তাঁকে মাত্র সাত দিনের সময় দেওয়া হয়েছে। শহিদুল ইসলাম বলেন, ”ব্যাংকের দেওয়া চিঠিতে কোনো স্মারক নম্বর নেই। মাত্র সাত দিনের সময় দেওয়া হয়েছে যা সম্পূর্ণ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। আমার দুই সন্তান বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ছে, আমি বর্তমানে কর্মহীন। এই বাড়িটিই আমার শেষ সম্বল।”
আবেদনে তিনি মানবিক দিক বিবেচনা করে বর্তমান নিলাম প্রক্রিয়া বাতিল করে পুনরায় স্বচ্ছ ও প্রতিযোগিতামূলক নিলাম বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের দাবি জানান। তিনি আশা প্রকাশ করেন, ন্যায্য মূল্যে সম্পত্তি বিক্রি হলে ব্যাংকের ঋণ পরিশোধের পরও অবশিষ্ট অর্থ দিয়ে তিনি ও তাঁর পরিবার মাথা গোঁজার ঠাঁই খুঁজে নিতে পারবেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে সংশ্লিষ্ট ব্যাংক কর্তৃপক্ষ জানায়, নিয়ম মেনেই নিলামের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। তবে অনিয়মের লিখিত অভিযোগ খতিয়ে দেখে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।









