বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬, ২৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬, ২৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

বল্লীতে আটক শিক্ষক গৌরাঙ্গকে মামলা দিয়ে কারাগারে

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ২০ মে, ২০২৬, ১১:৪০ অপরাহ্ণ
বল্লীতে আটক শিক্ষক গৌরাঙ্গকে মামলা দিয়ে কারাগারে

পত্রদূত রিপোর্ট: ধর্মীয় অনুভূতি নিয়ে মন্তব্য করার অভিযোগে সাতক্ষীরার বল্লী মুজিবুর রহমান মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের গণিত শিক্ষক গৌরাঙ্গ সরকারকে (৪৬) মারধর করে পুলিশে সোপর্দ করেছে স্থানীয় লোকজন। মঙ্গলবার দুপুরে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে এ ঘটনা ঘটে।

বুধবার ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে করা মামলায় তাঁকে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। গ্রেপ্তার হওয়া গৌরাঙ্গ সরকার সাতক্ষীরা সদর উপজেলার খেজুরডাঙি গ্রামের বাসিন্দা।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ১৭ মে নবম শ্রেণিতে ক্লাস নেওয়ার সময় শিক্ষক গৌরাঙ্গ সরকার ধর্মীয় বিষয়ে কিছু মন্তব্য করেন। ক্লাসের দুই-তিনজন শিক্ষার্থী বিষয়টি বাইরে গিয়ে স্থানীয় লোকজনকে জানালে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। এর জের ধরে মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে বহিরাগত কয়েকজন যুবক বিদ্যালয়ে ঢুকে শিক্ষক মিলনায়তনে গৌরাঙ্গ সরকারকে মারধর করেন। পরে দুপুরের দিকে বিদ্যালয়ে আরও লোক জড়ো হলে উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে শিক্ষকেরা গৌরাঙ্গ সরকারকে বহিরাগতদের সামনে ক্ষমা চাওয়ার পরামর্শ দেন। শিক্ষক ক্ষমা চাওয়ার একপর্যায়ে আবারও উত্তেজিত জনতা তাঁকে মারধর শুরু করে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাঁকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে।

এ ঘটনায় মঙ্গলবার রাতে সাতক্ষীরা সদর উপজেলার কাঁঠালতলা গ্রামের আব্দুর রউফ বাদী হয়ে ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের অভিযোগে একটি মামলা করেন।

তবে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, অন্য শিক্ষক ও অভিযুক্ত শিক্ষকের সঙ্গে কথা বলে ঘটনাটির ভিন্ন পিঠও জানা গেছে। বিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষক ও অভিভাবক জানান, ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক ও অন্য এক শিক্ষকের নেতৃত্বকে কেন্দ্র করে বিদ্যালয়ের শিক্ষক-কর্মচারীদের মধ্যে দুটি পক্ষ রয়েছে। তাঁদের অভ্যন্তরীণ বিরোধের জেরে এই ঘটনাকে বড় করা হয়ে থাকতে পারে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে নবম শ্রেণির ‘খ’ শাখার কয়েকজন শিক্ষার্থী জানায়, গত রোববার অংকের ক্লাস শেষে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও মুসলিমদের কোরবানি বন্ধের বিষয়ে কথা তুলেছিলেন গৌরাঙ্গ স্যার। একপর্যায়ে এক সহপাঠীর প্রশ্নের উত্তর দিতে গিয়ে তিনি নিজেকে জড়িয়ে ফেলেন। পরে দুই-তিনজন সহপাঠী বাইরে গিয়ে কথাটি বাড়িয়ে বলায় এই ভুল বোঝাবুঝি ও সোমবার থেকে বহিরাগতদের আনাগোনা শুরু হয়।

ক্রীড়া শিক্ষক আনোয়ার হোসেন জানান, গতকাল সকালে ১০-১২ জন বহিরাগত যুবক শিক্ষক মিলনায়তনে ঢুকে গৌরাঙ্গ সরকারকে চড়-থাপ্পড় মারেন। পরে পরিস্থিতি শান্ত করতে গৌরাঙ্গ সরকারকে কান ধরে ক্ষমা চাওয়ানো হয়। কিন্তু তিনি মাইকে প্রকৃত ঘটনা বলতে গেলে আবারও মারধর শুরু হয়। পরে স্থানীয় জামায়াত নেতা মিজানুর রহমান বিদ্যালয়ে আসেন এবং পরিস্থিতি বেগতিক দেখে পুলিশে খবর দেওয়া হয়।

আদালত চত্বরে অভিযুক্ত শিক্ষক গৌরাঙ্গ সরকার দাবি করেন, “আমি পশ্চিমবঙ্গে মুসলিমদের কোরবানি বন্ধের সিদ্ধান্তের সমালোচনা করে বলেছিলাম এতে দুই দেশের সম্পর্ক নষ্ট হচ্ছে। কিন্তু বিদ্যালয়েরই এক শিক্ষক কয়েকজন ছাত্রকে ব্যবহার করে আমার কথা ঘুরিয়ে বাইরে ছড়ান। গতকাল ভুল বোঝাবুঝি এড়াতে শিক্ষকদের কথায় আমি নিঃশর্ত ক্ষমাও চাই। কিন্তু এরপরও শুভ নামের এক যুবকের নেতৃত্বে আমাকে বেধড়ক মারধর করা হয়। বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের দলাদলির বলির পাঁঠা বানানো হয়েছে আমাকে।”

বল্লী মুজিবুর রহমান মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক জামিলুর রহমান বলেন, ধর্ম অবমাননাকর কথা বলায় স্থানীয়রা ক্ষুব্ধ হয়েছিল। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে মঙ্গলবার দুপুরে তাঁকে পুলিশে সোপর্দ করা হয়।

সাতক্ষীরা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাসুদুর রহমান বলেন, ইচ্ছাকৃতভাবে ধর্ম ও ধর্মীয় জনগোষ্ঠীকে হেয় করার অভিযোগে আব্দুর রউফ নামের এক ব্যক্তি মামলাটি করেছেন। ওই মামলায় শিক্ষক গৌরাঙ্গ সরকারকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে বুধবার আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। ঘটনার তদন্ত চলছে।

 

 

 

 

 

 

 

Ads small one

জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের দুই নেতা গ্রেপ্তার

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ১২ জুন, ২০২৬, ১২:২৭ পূর্বাহ্ণ
জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের দুই নেতা গ্রেপ্তার

নিজস্ব প্রতিনিধি: সাতক্ষীরায় নিয়মিত একটি মামলার আসামি হিসেবে জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের দুই নেতাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার (১১ জুন) সাতক্ষীরা সদর থানা পুলিশ জেলা শহরের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাঁদের গ্রেপ্তার করে।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেনÑসাতক্ষীরা জেলা আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও শহরের সুলতানপুর এলাকার বাসিন্দা শেখ জাহাঙ্গীর কবির (৪৭) এবং জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সহসভাপতি ও ইটাগাছা এলাকার বাসিন্দা এস এম তুহিনুর রহমান (৩৬)।
সাতক্ষীরা সদর থানা-পুলিশ জানায়, জেলা পুলিশ সুপারের নির্দেশনায় এবং সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) নেতৃত্বে উপপরিদর্শক (এসআই) আব্দুল্লাহিল আরিফ নিশাত ও সমীর গাইনসহ পুলিশের একটি দল এই অভিযান পরিচালনা করে। গ্রেপ্তার হওয়া ওই দুই নেতার বিরুদ্ধে থানায় নিয়মিত মামলা রয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে গতকালই তাঁদের পুলিশ প্রহরায় আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে বলে থানা সূত্রে জানা গেছে।

সম্পাদকীয়/প্রসঙ্গ: বিপন্ন গ্রামীণ সড়ক ও স্থায়ী জলাবদ্ধতার শঙ্কা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ১২ জুন, ২০২৬, ১২:২৬ পূর্বাহ্ণ
সম্পাদকীয়/প্রসঙ্গ: বিপন্ন গ্রামীণ সড়ক ও স্থায়ী জলাবদ্ধতার শঙ্কা

যশোরের কেশবপুর উপজেলায় মৎস্য ঘের নীতিমালা অমান্য করে সরকারি রাস্তা ও পানি নিষ্কাশনের পথ বন্ধ করে মাছ চাষের যে চিত্র সামনে এসেছে, তা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই উপজেলায় ৪ হাজার ৬৫৮টি মৎস্য ঘেরের একটি বড় অংশই গড়ে উঠেছে সরকারি আইন ও পরিবেশগত বিধিমালাকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে। অনেক প্রভাবশালী ঘের মালিক সরকারি পাকা ও কাঁচা সড়কগুলোকে তাঁদের ঘেরের বেড়িবাঁধ হিসেবে ব্যবহার করছেন। এর ফলে শত কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত শতাধিক গ্রামীণ যোগাযোগ ব্যবস্থা যেমন ধ্বংসের মুখে পড়েছে, তেমনি সরকারি খাল ও পানি নিষ্কাশনের স্বাভাবিক পথ বন্ধ হয়ে যাওয়ার কারণে বিস্তীর্ণ অঞ্চলে স্থায়ী জলাবদ্ধতার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
অভিযোগ রয়েছে, নব্বইয়ের দশক থেকে স্থানীয় কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তি বিল, খাল ও নদীর অববাহিকা দখল করে মাছ চাষ শুরু করেন। সময়ের সাথে সাথে এই প্রবণতা গ্রামীণ সড়কের বুক পর্যন্ত এসে ঠেকেছে। গণমাধ্যম জানাচ্ছে, যশোর-সাতক্ষীরা মহাসড়কের একাংশসহ কেশবপুরের বহু গুরুত্বপূর্ণ পাকা ও কাঁচা রাস্তার শোল্ডার ও পিচের অংশ ঘেরের পানির কারণে ধসে যাচ্ছে। ফলে যানবাহন ও জনসাধারনের চলাচলের সাধারণ পথগুলো এখন বিপজ্জনক মৃত্যুফাঁদে পরিণত হয়েছে। সরকারি বিধি অনুযায়ী, যেকোনো সড়ক থেকে নির্দিষ্ট দূরত্ব বজায় রেখে পৃথক বাঁধ নির্মাণ করে মাছ চাষ করার স্পষ্ট বাধ্যবাধকতা থাকলেও মাঠপর্যায়ে তার কোনো প্রতিফলন নেই।
এর চেয়েও বড় সংকট তৈরি হয়েছে পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা পুরোপুরি অচল করে দেওয়ায়। প্রাকৃতিকভাবে গড়ে ওঠা খাল ও কালভার্টের মুখ বন্ধ করে ব্যক্তিগত মৎস্য ঘের তৈরি করায় বৃষ্টির পানি নামার পথ অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছে। ফলে কাদার বিল, মহাদেবপুর বিল, পাঁচপোতার বিলসহ ওই অঞ্চলের অন্তত এক ডজন বিশাল বিলের স্বাভাবিক পরিবেশ এখন হুমকির মুখে। এই পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হলে কেবল যোগাযোগ ব্যবস্থারই ক্ষতি হবে না, বরং কৃষি উৎপাদন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হবে এবং বিল এলাকার হাজার হাজার নি¤œআয়ের মানুষ ও মৎস্যজীবী দীর্ঘমেয়াদি জীবিকা সংকটে পড়বেন।
উপজেলা প্রশাসন ও স্থানীয় মৎস্য বিভাগ মাঝে মাঝে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা ও সচেতনতামূলক সভা করলেও তা প্রভাবশালী ঘের মালিকদের থামাতে পারছে না। নামমাত্র জরিমানা বা সাময়িক নিষেধাজ্ঞা এই কাঠামোগত ক্ষতি রোধে কোনো স্থায়ী সমাধান আনছে না। সরকারি সম্পদ ধ্বংস এবং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা জিম্মি করে মুষ্টিমেয় কিছু মানুষের এই অতি-মুনাফালোভী বৈরী আচরণ কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।
আমরা মনে করি, গ্রামীণ অর্থনীতি ও পরিবেশ রক্ষা করতে হলে মৎস্য ঘের নীতিমালার কঠোর ও আপসহীন বাস্তবায়ন জরুরি। যেসব ঘের মালিক সরকারি রাস্তা বাঁধ হিসেবে ব্যবহার করছেন এবং খালের স্বাভাবিক প্রবাহ বন্ধ করেছেন, তাঁদের বিরুদ্ধে কেবল জরিমানা নয়, বরং ফৌজদারি আইনে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে হবে। একই সাথে অবৈধভাবে দখলকৃত খাল ও কালভার্টের মুখ অবিলম্বে উন্মুক্ত করে পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা স্বাভাবিক করতে হবে। গ্রামীণ অবকাঠামো ও জনস্বার্থকে জলাঞ্জলি দিয়ে কোনো বাণিজ্যিক উন্নয়ন টেকসই হতে পারে নাÑসংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ বিষয়টি অনুধাবন করে দ্রুত স্থায়ী পদক্ষেপ নেবেন, এটাই আমাদের প্রত্যাশা।

 

আশাশুনিতে প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রধান শিক্ষকদের সমন্বয় সভা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ১২ জুন, ২০২৬, ১২:২২ পূর্বাহ্ণ
আশাশুনিতে প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রধান শিক্ষকদের সমন্বয় সভা

আশাশুনি প্রতিনিধি: আশাশুনি উপজেলার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকদের অংশ গ্রহণে ক্লাস্টারভিত্তিক মাসিক সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১১ জুন) বেলা ১১টায় উপজেলার মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও ইউআরসি ট্রেনিং সেন্টারে ৪টি ক্লাস্টারের এই পৃথক পৃথক সভা অনুষ্ঠিত হয়।
উপজেলা শিক্ষা অফিসার স্বপন কুমার বর্মনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সভায় উপজেলার ১০৯টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকেরা অংশ নেন। সভায় আলোচনায় অংশ নেন সহকারী উপজেলা শিক্ষা অফিসার মোস্তাফিজুর রহমান, ঝংকর ঢালী, সোহাগ আলম ও আশেকুজ্জামান।
আশাশুনি সদর, শ্রীউলা, চম্পাখালী ও বুধহাটা ক্লাস্টারের শিক্ষকদের নিয়ে আয়োজিত এই সভায় হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে শিক্ষকদের হাজিরা নিশ্চিতকরণ, শিক্ষার্থীদের মৌলিক সাক্ষরতা ও শিক্ষার মান উন্নয়ন, চলমান বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজের তদারকি, জুন ক্লোজিংয়ের বিবিধ ভাউচার জমা এবং বিদ্যালয়গুলোতে ব্যবস্থাপনা কমিটি (এসএমসি) গঠনের সার্বিক পরিস্থিতিসহ বিভিন্ন দাপ্তরিক বিষয়ে আলোচনা করা হয়।