মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬, ৬ শ্রাবণ ১৪৩৩
মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬, ৬ শ্রাবণ ১৪৩৩

বাংলার কৃষি-ই বাঙালির প্রাণ সঞ্চালিকা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৬ মে, ২০২৬, ১২:১১ পূর্বাহ্ণ
বাংলার কৃষি-ই বাঙালির প্রাণ সঞ্চালিকা

সুদয় কুমার মন্ডল

বাংলার কৃষি ই বাঙালির প্রাণ সঞ্চালিকা। জাতীয় অর্থনীতির চালিকা শক্তি। বহু প্রাচীনকাল থেকে অর্থাৎ সভ্যতার বিবর্ণ যুগ থেকে মানুষ বেঁচে থাকার তাগিদে আদিম যুগের মানুষ যখন গাছের ফল মূল পাতালতা খেয়ে জীবনধারণ করতো পাথরে পাথরে ঘষে আগুন জ্বালানো ও জীবন রক্ষায় পাথর দিয়ে অস্ত্র বানানোসহ নানা ধরনের আবিষ্কার প্রবণতা মানুষকে উৎসাহী ও উদ্যমী করে তোলে। কঠোর পরিশ্রমি মানুষ কালে কালে তাদের সফলতা ও সাফল্য অর্জন করে সভ্যতার পত্তন ঘটায়। উৎসাহ উদ্দীপনা মানুষের সংস্কারপন্থি করে তোলে। আবিষ্কারের বিপ্লব ও জীবনধারা পরিবর্তনের সুযোগ সুবিধা অর্জন স্বীয় মেধা ও প্রতিভার বিকাশ সাধনে উত্তরোত্তর প্রবৃদ্ধি সাধিত হয়।

মানুষ বেঁচে থাকার তাগিদে উৎপাদন মুখী হয়ে কৃষি ব্যবস্থার প্রচলন ও প্রসারণ ঘটায় তারা খাদ্য সামগ্রীসহ জীবন ধারণের সকল কার্যকলাপে প্রবৃত্ত হয়। নিজেদের অস্তিত্ব রক্ষায় তারা বদ্ধপরিকর ছিল। নানা প্রতিকূলতা ও সমস্যা সংকুল দিনগুলিতে মানুষ একতাবদ্ধ হয়ে সমাজ গঠন ও সংস্কৃতির প্রতি আকৃষ্ট হয়। ক্রমান্বয়ে মানুষ এ ব্যবস্থাকে সমৃদ্ধির দ্বারপ্রান্তে উপনীত করতে থাকে। কৃষি ব্যবস্থায় মানুষের মূল উপজীব্য, সাথে সাথে শিক্ষা ব্যবস্থাকে মানুষ অধিকতর গুরুত্ব আরোপ করে। সামাজিক প্রথা ও রীতিনীতি মানুষকে শৃঙ্খলা বদ্ধ ও কর্তব্য পরায়ন করে তোলে।

 

গড়ে উঠতে থাকে সভ্যতার প্রাচীনতম ঐতিহ্যবাহী অভাবনীয় স্তম্ভ। মানুষের প্রতিভার বিকাশ আদিম যুগের অসহায় মানুষকে প্রগতিশীল করে তোলে। মেধা ও প্রতিভার বিকাশ মানব কল্যাণের আশীর্বাদ। সৃষ্টির উষা লগ্নে মানুষ ছিল অরণ্যচারি যাযাবর মেধা ও প্রতিভার উন্মেষ সে কলঙ্ক থেকে মুক্ত করে। বিজ্ঞান দর্শন সমাজ সভ্যতা রাষ্ট্র সংস্কৃতি সৃজনশীলতা সবই মানুষের প্রতিভার ফসল। পূর্ব সুরীর অবদান উত্তরসূরীরীর রক্তে প্রবাহমান।

 

আবহমান কালের বঙ্গদেশ বিভিন্ন সময়ে বা যুগে যুগে বিভিন্ন শাসকের অধীনস্থ হলেও বিবর্তনের ধারাবাহিকতায় আজ এ দেশ স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্র বাংলাদেশ। সাগর বনানী নদী-নালা বিধৌত ৫৫ হাজার ৫২৬ বর্গ কিলোমিটারব্যাপী এদেশের অবস্থিতি। উর্বর পলল মৃত্তিকা সম্পন্ন এদেশের মাটি। সুজলা সুফলা শস্য শ্যামলা প্রকৃতির এক অপরূপ বন্ধন। পূর্ব পুরুষের এ মাটি আজ ও খাঁটি সোনার চাইতেও খাঁটি। এদেশের ভূমিজ সন্তানের অনাবিল সুখের আশ্রয়স্থল ও ঠিকানা। বাংলাদেশ কৃষি সমৃদ্ধি শালী দেশ। পৃথিবীর অপর কোন দেশের সাথে যার তুলনা মেলে না।

কবির ভাষায় বলতে হয়Ñ“এমন দেশটি কোথাও খুঁজে পাবে নাকো তুমি , সকল দেশের সেরা সে যে আমার জন্মভূমি”। মাটির সাথে নাড়ীর সম্পর্ক অতুলনীয় এক জন্মভূমি। আতিথিয়তা ও স্বজন প্রীতির বিরল দৃষ্টান্ত।
এদেশের প্রকৃতি কৃষি বান্ধব। ৮০% ভাগ মানুষ কৃষি নির্ভর। গোলা ভরা ধান, গোয়াল ভরা গরু, পুকুর ভরা মাছ পূর্বপুরুষের আমল থেকে স্বাচ্ছন্দ্য সুখের এ আবাসস্থল। অধিক ক্যালরি ও পুষ্টি সমৃদ্ধ খাদ্যের যথেষ্ট প্রাচুর্য বিদ্যমান। নাতিশীতোষ্ণ আবহাওয়া জীবন বান্ধব। ষড় ঋতুর এ দেশ। ভিন শক্তির শাসনামলে ও এদেশের কৃষি ব্যবস্থায় ব্যাপক উন্নয়ন সাধিত হয়েছিল। কৃষকদের ভাগ্যন্নয়ন অনেক রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব সংগ্রাম ও পৃষ্ঠপোষকতা করেছেন।

সেকেলে প্রথায় যেমন লাঙ্গল জোয়াল, মই হালের গরু দিয়ে চাষাবাদ করলেও সনাতনী প্রথায় কৃষকরা উৎপাদনমুখী ও সুখী সমৃদ্ধশীল জীবন যাপন করত। উৎপাদিত ফসল বিক্রি করে তারা আনুষঙ্গিক খরচ ও অন্যান্য চাহিদা পূরণ করত। সামাজিক প্রথা ও রীতিনীতি অধিকাংশ মানুষ মেনে চলত। বিশেষ করে বাংলার কৃষকরা চাষ মৌসুমের আগে থেকে তোড়জোড় বা কৃষি কাজে ব্যবহৃত যাবতীয় সরঞ্জাম যেমনÑলাঙ্গল জোয়াল মই হালের বলদ ধান ভেজানো ডোল, ঝুড়ি, কোদাল এমনকি বর্ষা মৌসুম অবধি স্থায়ীভাবে কাজের লোক বা মসুমী রেখে মহাজন বা আভিজাত্যশালীরা কৃষি কাজ করাতো।

 

যাদের হালের বলদ ঘাটতি থাকতো তারা অপার কৃষকের নিকট থেকে বোটায় বা ধান চুক্তিতে হালের বলদ সংগ্রহ করতো। এও একটা প্রথা ছিল। আবার অনেকে আষাঢ় মাসে গরুর হাটে যেয়ে হালের বলদ কিনেও আনতো। বিনিময়ে কুড়ি পালিতে এক সলা, আট সলায় এক বিশ ধান চুক্তিতে মসুমী খাটত। এরা চাষের আনুষঙ্গিক সমস্ত কাজকর্ম করে (বীজতলা থেকে জমি রোপন পর্যন্ত) তারপর হাট থেকে কিসেন বা মজুর হাট চুক্তি কিনে এনে জমি রোপন কর তো।

বাংলার কৃষি ব্যবস্থায় আবহমান কালের এই সংস্কৃতি বিরাজমান ছিল। বাংলার কৃষি বাঙালি সংস্কৃতিতে চির প্রবাহমান সংস্কৃতির এক ফল্গুধারা, বলিষ্ঠ প্রবাহ। বর্ষা ঋতুকে কেন্দ্র করে বাঙালি সংস্কৃতি জাগ্রত। বর্ষা বাংলার চাষিকুলের এক ফলিত আশীর্বাদ। এর ঋতুতে বাংলার কৃষক পরিবার আনন্দে মেতে ওঠে। সমৃদ্ধির ফসলে ভরে তুলবে এই প্রতিষ্ঠ এই প্রত্যাশায়। বর্ষায় বিলম্ব বা ঘাটতি হলে নারী-পুরুষ মিলে ঈশ্বরের আরাধনা করে ঈশ্বরের আরাধনা করে। আল্লাহ বা ভগবান ‘মেঘ দে পানি দে’। ধুলোয় পানি ঢেলে গড়াগড়ি বায়। প্লাবন ও জলোচ্ছ্বাসের হাত থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য যথোপযোগী ভূমি রক্ষা বাঁধ না থাকায় পাবলিক বাঁধ দেওয়ার রেওয়াজ বা প্রথা ছিল। ভূমি মালিকগণ বা জনসাধারণের মতে, ভূমি রক্ষা বাঁধ বা ছোট ছোট বেড়িবাঁধ নির্মাণ করে জনবসতি ও ফসলি জমি রক্ষা করতো।

 

অধিকাংশ সময় বিশেষ করে জোয়ারের সময় থালের ভাত ফেলে রেখে জনগণ এ কাজে সম্পৃক্ত হতো। সরকারিভাবে কোন উদ্যোগ না থাকলেও নিজেদের ভালো-মন্দ নিজেরাই একতা ও আবশ্যকতায় তা সম্পন্ন করে ফেলতো। একতাবদ্ধ ছিল তখনকার মানুষের সবচেয়ে বড় গুণ। শিল্প বিপ্লবের ফলে কৃষি ব্যবস্থা চরম অবনতি ঘটে। ইংরেজদের নীল চাষ দেশীয় কৃষকদের চরম হতাশার সৃষ্টি করেছিল। তথাপিও এ বাংলা আর কৃষিকে তারা ধ্বংস করতে পারেনি।

আধুনিক সভ্যতার যুগে নানা ঘাত প্রতিঘাতের মধ্য দিয়েও বাংলার কৃষি টিকে আছে। প্রযুক্তির যুগে কৃষি ব্যবস্থা টিকে থাকলেও আগের মত এখন আর কৃষকদের সুখ-শান্তি সুরক্ষা অনিশ্চিত। যা বাংলার কৃষক কুলের ভাগ্য বিড়ম্বনার সামিল। কৃষক কূলের উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হলে উৎপাদন ব্যাহত হয়। এক সময় মহাজনদের কাছে গরিব মধ্যবিত্ত কৃষকরা নিপীড়িত হয়েও তাদের অস্তিত্ব বিলীন হতে দেয়নি। তাদের কষ্টার্জিত ফসল ঋণের দায়ে মহাজনদের দিয়েও দেউলে হয়নি, তাদের যা সহায় সম্পদ ছিল তাতে উৎপাদন করে তারা টিকে ছিল। কিন্তু আজ বাংলার কৃষক কুল অসহায়। ভাগ্যের নির্মম পরিহাসে বিপর্যস্ত। রাষ্ট্রীয় সহানুভূতি ক্ষীণ।

 

অধিকার সুরক্ষা অনিশ্চিত। কৃষিতে নানা অন্তরায়। আভিজাত্য ও প্রভাবশালীরা জবর দখলে কৃষকদের যৎসামান্য কৃষি জমিতে লবণাক্ততা সৃষ্টি করে তাদের ভাতে মেরে দিচ্ছে। বাস্তব ভিটা পর্যন্ত কেড়ে নেচ্ছে। বাংলার কৃষি আজ বিপন্ন নানা প্রতিকূলতায়। দূর্জয় বাঙালির কত সাধনার ফল এদেশের মাটি স্বাধীনতার স্পর্শে হয়েছে খাঁটি এই সোনার বাংলায় কিন্তু বলা বাহুল্য ঘুচেনি মেহনতী গরিব কৃষকদের দুর্গতি। মাথার ঘাম পায়ে ফেলে রোদ্দুরে পুড়ে, বৃষ্টিতে ভিজে যে চাষা জাতির খাদ্য যোগায় তারা কেন অবহেলিত বঞ্চিত। ইতিপূর্বে উন্মুক্ত জনসাধারণের ব্যবহার্য খাসখালগুলোও প্রভাবশালীরা প্রভাব বিস্তার করে নিজেদের অধীনস্থ করে রেখেছে।

 

পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা বাধা গ্রস্ত। যার ফলশ্রুতিতে জলবদ্ধতা ফসলের ক্ষতি সহ বিরূপ প্রতিক্রিয়া ও নিরন্ন-দরিদ্র অসহায় কৃষককুলের আমিষ ঘাটতি অবশ্যম্ভাবী। এমতাবস্থায় কৃষি ব্যবস্থার চরম অবনতি। জাতির প্রাণসঞ্চারিকা অবরুদ্ধ দিনে দিনে বাংলার কৃষক কুল অসহায় হয়ে পড়ছে রাষ্ট্রীয় সহানুভূতি অপ্রতুল। কৃষকদের ভাগ্য পরিবর্তন না হলে দেশের উন্নয়ন পূর্ণতা প্রাপ্ত হয় না। কৃষি-ই কৃষি প্রধান দেশে মানুষের জীবিকা নির্বাহের অন্যতম অবলম্বন।

১৯৪৭ সালে ডমিনিয়ান ভাগ হওয়ার পর তৎকালীন সরকার সুজলা সুফলা শস্য শ্যামলা উর্বর ভূমির স্বার্থক উৎপাদন ও জন সুরক্ষায় লবণাক্ততা ও জলোচ্ছ্বাস প্লাবন নিরাময়ে উপকূলীয় রক্ষা বাঁধ নির্মাণ করে এ জনপদে মেহনতী মানুষ ও কৃষককূলের স্বার্থ সংরক্ষণ করে। ফলে গবাদি পশু হাঁস মুরগিও নানাবিধ ফসল উৎপন্ন করে অতি দরিদ্র মানুষও ভাগ্য পরিবর্তন করে। অথচ আজ সেই রক্ষা বাঁধ কেটে লবণাক্ততা সৃষ্টি করে প্রভাবশালীরা প্রাকৃতিক ভারসাম্য নষ্ট সহ গরিব মেহনতী মানুষের অবর্ণনীয় দুর্দশায় ফেলেছে। যার থেকে পরিত্রাণ অনিশ্চিত হয়ে পড়ছে।

 

কৃষকরা দেশের জনগণের খাদ্য যোগায় অথচ এই কৃষকরা আজ সভ্যতার করাল গ্রাসে নিপতিত। কবির ভাষায়,” সব সাধকের বড় সাধক আমার দেশের চাষা।” রৌদ্রে পুড়ে বৃষ্টিতে ভিজে চাষীকূল মানুষের খাদ্য যোগায়। অথচ অট্টালিকা বাসি তাদের কথা কখনো ভাবে না বরং তুচ্ছ তাচ্ছিল্য করে দূরে সরিয়ে দেয়। অথচ কত প্রখ্যাত কবি সাহিত্যিক নাট্যকার রাজনৈতিক প্রবক্তা বাংলার কৃষি ও কৃষকদের নিয়ে সংস্কৃতির অঙ্গন মাতিয়ে তুলেছেন। যা অনেকেই হিসাব রাখে।

 

বাংলার কৃষি-ই বাঙালি জীবন্ত সত্তা। যা বাঙালি সংস্কৃতিতে যথেষ্ট প্রভাব বিস্তার করে। বাঙালি ঐতিহ্য নির্ভর কৃষি। অপসংস্কৃতির বিষাক্ত ছোবলে শুদ্ধ সংস্কৃতি আক্রান্ত। অট্টালিকায় বাস করলেও কৃষকদের কুড়ে ঘরের নিবিড় শান্তি কত মাধুর্যময় ছিল। রাষ্ট্রীয় প্রজ্ঞাপনায় কৃষক ও কৃষি ব্যবস্থার সুরক্ষা ও উন্নয়ন একান্ত অনিবার্য। তবেই এই বাংলার ভাগ্যাহত কৃষককূল স্বস্তির প্রাণ সঞ্চালন ফিরে পাবেÑএই প্রত্যাশায়।

Ads small one

কেশবপুরে সীমানা বিরোধে স্কুল ভবন নির্মাণ: জমির মালিককে মারধরের অভিযোগ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ২২ জুলাই, ২০২৬, ১:০৭ পূর্বাহ্ণ
কেশবপুরে সীমানা বিরোধে স্কুল ভবন নির্মাণ: জমির মালিককে মারধরের অভিযোগ

কেশবপুর (যশোর) প্রতিনিধি: যশোরের কেশবপুর উপজেলার রেজাকাটি শহীদ জিয়াউর রহমান মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের বিরুদ্ধে ব্যক্তিমালিকানাধীন জমিতে জোরপূর্বক নতুন ভবন নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে। বাধা দেওয়ায় প্রধান শিক্ষক ও তাঁর সহযোগীর হাতে জমির মালিক দম্পতি লাঞ্ছিত ও মারধরের শিকার হয়েছেন বলে জানা গেছে।
এ ঘটনায় গত ২০ জুলাই (সোমবার) জমির মালিক ফিরোজা বেগম বাদী হয়ে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা জাহানারা বেগম ও সহকারী শিক্ষক কাকরকে অভিযুক্ত করে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, হাসানপুর ইউনিয়নের ৫০ নম্বর রেজাকাটি মৌজার ৩৭৫৪ নম্বর দলিল ও সংশ্লিষ্ট খতিয়ান সূত্রে ফিরোজা খাতুন ডাঙ্গা ও অন্যান্য শ্রেণিতে মোট ১৮.৩৮ শতক জমির মালিক হয়ে ভোগদখল করে আসছেন। জমিতে বিভিন্ন ফলের গাছগাছালিও রোপণ করেছিলেন তিনি। তবে প্রধান শিক্ষিকা স্কুলের আয়াকে দিয়ে গাছগুলো উপড়ে ফেলেন এবং উক্ত বিতর্কিত জমিতেই স্কুলের নতুন ভবনের কাজ শুরু করেন।
গত ২০ জুলাই সকালে ফিরোজা বেগম ও তাঁর স্বামী মো. আব্দুল হাদিস নির্মাণকাজে বাধা দেন এবং সরকারি আমিন দিয়ে জমি মেপে ভবন করার অনুরোধ জানান। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে অভিযুক্তরা আব্দুল হাদিসকে মারধর ও গলাধাক্কা দিয়ে তাড়িয়ে দেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।
মারধরের বিষয়টি অস্বীকার করে প্রধান শিক্ষিকা জাহানারা বেগম বলেন, মারামারির কোনো ঘটনা ঘটেনি। স্কুলে শ্রেণিকক্ষ নির্মাণের কাজ চলছে। ফিরোজা বেগমের জমি স্কুলের ভেতর রয়েছে কিনা তা তাঁর জানা নেই; সরকারিভাবে নকশা এলে জমি মেপে দেখা হবে।
যোগাযোগ করা হলে কেশবপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রেকসোনা খাতুন জানান, অভিযোগপত্রটি পাওয়া গেছে। বিষয়টি তদন্ত করে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

পাইকগাছায় শিক্ষকদের স্বাক্ষর জাল করে অর্থ আদায়ের মিথ্যা অভিযোগের প্রমাণ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ২২ জুলাই, ২০২৬, ১:০৪ পূর্বাহ্ণ
পাইকগাছায় শিক্ষকদের স্বাক্ষর জাল করে অর্থ আদায়ের মিথ্যা অভিযোগের প্রমাণ

পাইকগাছা (খুলনা) প্রতিনিধি: খুলনার পাইকগাছায় প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকদের ১০ম গ্রেড পাইয়ে দেওয়ার নাম করে টাকা আদায়ের যে অভিযোগ উঠেছিল, তা ভুয়া এবং স্বাক্ষর জালের মাধ্যমে করা হয়েছে বলে তদন্তে উঠে এসেছে। সোমবার (২০ জুলাই) বিকেল পর্যন্ত উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তার কার্যালয়ে শেষ ধাপের তদন্ত শেষে এ তথ্য জানা যায়।
জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার নির্দেশে তেরখাদা উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা এম এম মতিয়ার রহমান ও খুলনা সদর থানা সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা মো. নজরুল ইসলাম এই অভিযোগের ওপর তদন্ত চালান। এতে উপজেলার ৩৪ জন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হাজির হয়ে নিজেদের বক্তব্য লিখিত ও মৌখিকভাবে জমা দেন।
অভিযোগে দাবি করা হয়েছিল, ১০ম গ্রেড বাস্তবায়নের রিট মামলার খরচ বাবদ শিক্ষক সমিতির সভাপতি রবীন্দ্রনাথ রায়, সাধারণ সম্পাদক নুরুজ্জামান ও সহকারী শিক্ষক আবদুল আলীম মিলে শিক্ষকদের কাছ থেকে ৬ হাজার ২০০ টাকা করে আদায় করেছেন। তবে অভিযোগের মূল ভিত্তি নিয়েই বিতর্ক তৈরি হয়।
তদন্তে হাজির হয়ে অভিযোগকারী হিসেবে নাম থাকা সহকারী শিক্ষক হাফিজুল ইসলাম স্পষ্টভাবে জানান, তিনি এমন কোনো কাগজে সই করেননি; তাঁর স্বাক্ষর জাল করা হয়েছে। অন্যদিকে ফোনে যোগাযোগের পর অপর অভিযোগকারী সুভাষ চন্দ্র মন্ডলও একই কথা জানিয়ে বলন, মধুখালী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বাবুল আক্তার তাঁর সই জাল করেছেন।
অবশ্য বাবুল আক্তার জানান, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের অনুমতি নিয়েই অন্য প্রধান শিক্ষক মিজানুর রহমান কাগজে স্বাক্ষর করেছিলেন। এ বক্তব্যের পরই সেখানে উপস্থিত অন্যান্য শিক্ষকরা তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন এবং স্বাক্ষর জালিয়াতদের কঠোর শাস্তির দাবি জানান।
পাইকগাছা প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক নুরুজ্জামান বলেন, ১০ম গ্রেড নিয়ে কোনো প্রকার আর্থিক লেনদেন হয়নি। শিক্ষক সংগঠনকে হেয় করতে একদল শিক্ষক জালিয়াতির আশ্রয় নিয়েছেন। পুরো বিষয়টি নিরপেক্ষভাবে পর্যালোচনার মাধ্যমে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন তদন্ত কর্মকর্তারা।

আশাশুনিতে জলবায়ু পরিবর্তন ও দুর্যোগের ঝুঁকি হ্রাসে সমন্বয় সভা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ২২ জুলাই, ২০২৬, ১:০২ পূর্বাহ্ণ
আশাশুনিতে জলবায়ু পরিবর্তন ও দুর্যোগের ঝুঁকি হ্রাসে সমন্বয় সভা

আশাশুনি প্রতিনিধি: উপকূলীয় জেলা সাতক্ষীরার আশাশুনিতে প্রাকৃতিক দুর্যোগের আগাম সতর্কতা, ঝুঁকি হ্রাস ও জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় সরকারি কর্মকর্তা ও বিভিন্ন উন্নয়ন সহযোগীদের নিয়ে সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার (২১ জুলাই) সকাল ১১টায় আশাশুনি উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

মুসলিম এইড ইউকে বাংলাদেশ ফিল্ড অফিসের আর্থিক সহায়তায় এবং ইকো সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশনের (ইএসডিও) ‘আইসিআরডিসিভি-৩’ প্রকল্পের আওতায় এ সভার আয়োজন করা হয়। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শ্যামানন্দ কুন্ডু।
ইএসডিওর প্রকল্প ব্যবস্থাপক মো. শামসুল হক মৃধার সঞ্চালনায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির সদস্য ও সাবেক আহ্বায়ক সম হেদায়েতুল ইসলাম, উপজেলা জামায়াতের আমীর আবু মুসা তারিকুজ্জামান তুষার, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. নিতীশ চন্দ্র গোলদার, কৃষি কর্মকর্তা আব্দুস সোবহান, প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. আমিরুল ইসলাম, প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা স্বপন কুমার বর্মণ, এবং সহকারী প্রকৌশলী মো. মনিরুজ্জামান মনির।
এ ছাড়া সভায় মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা মো. সাইদুল ইসলাম, যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা সঞ্জীব কুমার দাস, বন বিভাগের কর্মকর্তা মো. রিজাউল করিম, আশাশুনি প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মো. আকাশ হোসেন, ইউপি চেয়ারম্যান হাজী আবু দাউদ ঢালী ও আবু বক্কর সিদ্দিকসহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সিপিপি দলের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
উপকূলীয় অঞ্চলে ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস, দীর্ঘস্থায়ী জলাবদ্ধতা, নদীভাঙন ও লবণাক্ততা বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে আগাম সতর্কবার্তা পৌঁছানো এবং টেকসই অভিযোজন কৌশলের ওপর জোর দেন বক্তারা। দুর্যোগ পূর্ববর্তী প্রস্তুতি গ্রহণ ও ঝুঁকি হ্রাসে সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে সমন্বিত উদ্যোগ অব্যাহত রাখার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন অংশগ্রহণকারীরা।