বাজারে বেড়েছে চাল ও ডিমের দাম: নি¤œআয়ের মানুষের কষ্ট চরমে
এম শফিকুল ইসলাম: নিত্যপণ্যের দাম প্রতিদিনই বাড়ছে। কিন্তু সাধারণ মানুষের আয়ের তুলনায় ব্যয় অনেক বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে। কর্মসংস্থানের সুযোগ কমেছে আশঙ্কাজনক হারে। আয়ের সঙ্গে ব্যয়ের সংহতি না থাকায় ঋণের জালে জড়িয়ে পড়ছে অসংখ্য মানুষ। ঋণের ফাঁদে পড়ে অনেকে নিঃস্ব হচ্ছেন। মানুষের গরিবী হাল ক্ষুদ্র ঋণ ব্যবসায়ীদের লাভবান করলেও সাধারণ মানুষের বুকে বোবাকান্না ক্রমান্বয়ে বাড়ছে। মাত্র কয়েক বছর আগেও যেসব পরিবার সামান্য হলেও সঞ্চয় করত, এখন তাদের বেশিরভাগই সংসারের প্রয়োজন মেটাতে হিমশিম খাচ্ছে।
বাজারে চাল, ডাল, তেল, সবজি, মাছ, ডিম ও মাংসসহ প্রায় সব ধরনের পণ্যের দাম কয়েক গুণ বেড়েছে। বিশেষ করে দিনমজুর, শ্রমজীবী ও সীমিত আয়ের মানুষের জন্য সংসারের ব্যয় সামলানো এখন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। আয় না বাড়িয়ে নিত্যপণ্যের দাম বাড়ার এই প্রবণতা জনজীবনে গভীর উদ্বেগ তৈরি করেছে।
সরেজমিনে জানা যায়, সাতক্ষীরার বিভিন্ন বাজারে গত আট থেকে দশ দিনের ব্যবধানে সরু চালের দাম কেজিতে দুই থেকে চার টাকা এবং মাঝারি চালের দাম এক থেকে তিন টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। মিনিকেট চাল বিক্রি হচ্ছে কেজিপ্রতি ৭০ থেকে ৭৫ টাকায়। নাজিরশাইল চালের দাম মানভেদে ৬৫ টাকা থেকে ৭০ টাকা। অন্যদিকে এক সপ্তাহে দেশের বাজারে পেঁয়াজের দাম কেজিতে প্রায় ১০ টাকা বেড়ে ৬০ টাকায় উঠেছে। রসুনের দাম বেড়েছে ২০ থেকে ৩০ টাকা।
এক সপ্তাহের ব্যবধানে প্রতি ডজন ডিমের দাম বেড়েছে পাঁচ থেকে সাত টাকা। বর্তমানে লাল ডিমের ডজন ১৫০ টাকা থেকে ১৫৫ টাকা এবং ব্রয়লার মুরগির কেজি প্রায় ২০০ টাকা। এসব পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি বাজার ব্যবস্থাপনা ও সরবরাহ পরিস্থিতি নিয়ে নতুন প্রশ্ন তুলছে।
ব্যবসায়ীদের বক্তব্য, জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির কারণে পরিবহন ব্যয় বেড়েছে। প্রতি ট্রাকে পরিবহন খরচ দুই থেকে তিন হাজার টাকা বেড়ে যাওয়ায় চালের দামে এর প্রভাব পড়েছে। পাশাপাশি ধানের মূল্যবৃদ্ধি ও ভোজ্যতেলের সরবরাহ সংকটের কথাও জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। ভোক্তাদের অভিযোগ, পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধির অজুহাতে পাইকারি ও খুচরা বাজারে মূল্যবৃদ্ধি কতটা যৌক্তিক, তা যাচাই করা জরুরি। পাইকারি পর্যায়ে চালের দাম কেজিতে গড়ে প্রায় এক টাকা বাড়লেও খুচরা বাজারে দুই থেকে চার টাকা বৃদ্ধির অভিযোগ খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। চাল ব্যবসায়ী আদর আলী জানান, উৎপাদন, পরিবহন ও বিপণনের প্রতিটি স্তরে প্রকৃত ব্যয় ও মুনাফার হিসাব স্বচ্ছ না হলে বাজারের অস্থিরতার সুযোগে অতিরিক্ত মুনাফা করার প্রবণতা রোধ করা কঠিন।





