বিপজ্জনক ভবনে বিচারকাজ: পাইকগাছা চৌকি আদালতের সার্বিক সংস্কার জরুরি
সম্পাদকীয়
খুলনার পাইকগাছা চৌকি আদালত ভবনের বর্তমান অবস্থা অত্যন্ত নাজুক ও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। সম্প্রতি রাতের আঁধারে আদালতের সিএসআই (কোর্ট সাব-ইনস্পেক্টর) কক্ষের ছাদের একটি বড় অংশ ধসে পড়ে। সৌভাগ্যবশত ঘটনাটি রাতে ঘটায় বড় ধরনের প্রাণহানি থেকে রক্ষা পাওয়া গেছে। তবে কাঠামোগতভাবে চরম জরাজীর্ণ এই ভবনে প্রতিদিন বিচারক, আইনজীবী, আদালত কর্মকর্তা-কর্মচারী, পুলিশ সদস্য এবং শত শত বিচারপ্রার্থী জীবনের ঝুঁকি নিয়ে যাতায়াত করছেন।
১৯৮৩ সালে প্রতিষ্ঠার পর চার দশকের বেশি সময় পার হলেও ভবনটির যথাযথ সংস্কার ও রক্ষণাবেক্ষণের অভাব প্রকট। দেয়াল ও ছাদে বড় ধরনের ফাটল, পলেস্তারা খসে পড়া এবং বর্ষা মৌসুমে ছাদের ওপর পলিথিন ও ত্রিপল টাঙিয়ে দাপ্তরিক কাজ চালানোর ঘটনা কেবল বিচার ব্যবস্থার প্রশাসনিক কাঠামোর দৈন্যই প্রকাশ করে না, বরং এটি যেকোনো মুহূর্তে বড় ধরনের মানবিক বিপর্যয়ের ইঙ্গিত দেয়।
রাষ্ট্রের অন্যতম প্রধান অঙ্গ বিচার বিভাগের স্থানীয় কার্যালয়টি যদি নিজেই নিরাপত্তাহীনতায় ভোগে, তবে সেখানে আসা সাধারণ মানুষ ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গের কাজের পরিবেশ চরমভাবে বিঘিœত হয়। দুর্ঘটনাকবলিত কক্ষের মতো অন্যান্য অংশও যে যেকোনো সময় ভেঙে পড়বে নাÑতার কোনো নিশ্চয়তা নেই। প্রতিটি সরকারি ভবনের নিরাপত্তা ও কাঠামোগত সক্ষমতা যাচাই একটি ধারাবাহিক প্রক্রিয়া হওয়া উচিত, কিন্তু পাইকগাছা আদালতের ক্ষেত্রে তার চরম অবহেলা পরিলক্ষিত হচ্ছে।
যেকোনো সম্ভাব্য দুর্ঘটনা প্রতিরোধে এবং মানুষের জীবনের নিরাপত্তা রক্ষার্থে এখন অবিলম্বে পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উচিত অনতিবিলম্বে পুরো ভবনটির প্রকৌশলগত মূল্যায়ন ও পরীক্ষা সম্পন্ন করা। যদি বিদ্যমান কাঠামোটি সংস্কারের উপযোগী হয়, তবে দ্রুততার সঙ্গে এর সংস্কারকাজ সম্পন্ন করতে হবে। আর ভবনটি সম্পূর্ণরূপে ব্যবহারের অনুপযোগী ঘোষিত হলে, অবিলম্বে নতুন ও আধুনিক আদালত ভবন নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া আবশ্যক। একটি সুরক্ষিত ও যথোপযুক্ত কাজের পরিবেশ নিশ্চিত করা বিচারপ্রার্থী ও আদালতÑসংশ্লিষ্ট সবার মৌলিক অধিকার।












